নেটওয়ার্ক টপোলজি

বাস, রিং, স্টার, ট্রি, মেশ ও হাইব্রিড নেটওয়ার্ক টপোলজির গঠন, সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা। এইচএসসি আইসিটি অধ্যায় ২।

শেখা শুরু করুন

নেটওয়ার্ক টপোলজি (Network Topology) - অধ্যায় ২

  1. অধ্যায় ২: কমিউনিকেশন সিস্টেম ও নেটওয়ার্কিং
  2. ক্লাসরুমের বসার ব্যবস্থা বনাম নেটওয়ার্ক
  3. নেটওয়ার্ক টপোলজি কী?
  4. টপোলজির প্রকারভেদ
  5. ১। বাস টপোলজি (Bus Topology)
  6. বাস টপোলজির সুবিধা ও অসুবিধা
  7. ২। রিং টপোলজি (Ring Topology)
  8. রিং টপোলজির সুবিধা ও অসুবিধা
  9. ৩। স্টার টপোলজি (Star Topology)
  10. স্টার টপোলজির সুবিধা ও অসুবিধা
  11. ৪। ট্রি টপোলজি (Tree Topology)
  12. ট্রি টপোলজির সুবিধা ও অসুবিধা
  13. ৫। মেশ টপোলজি (Mesh Topology)
  14. মেশ টপোলজির সুবিধা ও অসুবিধা
  15. ৬। হাইব্রিড টপোলজি (Hybrid Topology)
  16. কোন টপোলজিটি বেছে নেব?
  17. চলো নিজেকে যাচাই করি (কুইজ)
  18. সারসংক্ষেপ: যা শিখলাম

অধ্যায় ২: কমিউনিকেশন সিস্টেম ও নেটওয়ার্কিং

এই লেকচার শেষে আমরা-

১। নেটওয়ার্ক টপোলজির ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব।
২। বিভিন্ন প্রকার টপোলজির (বাস, রিং, স্টার, ট্রি, মেশ, হাইব্রিড) গঠন ও কার্যপ্রণালী বর্ণনা করতে পারব।
৩। প্রতিটি টপোলজির সুবিধা ও অসুবিধা তুলনা করতে পারব।
৪। নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত টপোলজি নির্বাচন করতে পারব।

সুপ্রিয় শিক্ষার্থীরা, আসসালামু আলাইকুম! এইচএসসি আইসিটি ক্লাসে তোমাদের স্বাগতম। আমি তোমাদের ইন্সট্রাক্টর। আজকে আমরা কমিউনিকেশন সিস্টেম ও নেটওয়ার্কিং অধ্যায়ের খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ইন্টারেস্টিং একটি টপিক নিয়ে আলোচনা করব, আর তা হলো—নেটওয়ার্ক টপোলজি। এই লেকচারটি শেষ করার পর তোমরা নেটওয়ার্ক টপোলজি কী তা বুঝতে পারবে, বিভিন্ন ধরনের টপোলজি যেমন—বাস, রিং, স্টার, ট্রি, মেশ এবং হাইব্রিড টপোলজির গঠন ও কাজ ব্যাখ্যা করতে পারবে। সেই সাথে কোন টপোলজিটি কোথায় ব্যবহার করা উচিত এবং এদের সুবিধা-অসুবিধাগুলোও তোমরা তুলনা করতে পারবে। চলো তাহলে, শুরু করা যাক!

ক্লাসরুমের বসার ব্যবস্থা বনাম নেটওয়ার্ক

চিন্তা করে দেখো:
* আমরা যদি গোল হয়ে বসি, সবার সাথে কথা বলা সহজ।
* যদি সারিবদ্ধভাবে বসি, পেছনের জন শিক্ষকের কথা কম শোনে।
* নেটওয়ার্কের কম্পিউটারগুলো সাজানোর পদ্ধতিই হলো টপোলজি।

মূল বিষয়:
* শারীরিক বিন্যাস (Physical Layout)
* যোগাযোগের সুবিধা/অসুবিধা

শুরুতেই একটা দৃশ্য কল্পনা করো। ধরো, ক্লাসরুমে আমরা যদি গোল হয়ে বসি, তাহলে একে অপরের মুখ দেখা এবং কথা বলা কত সহজ, তাই না? আবার যদি আমরা লম্বা সারিতে বা রো-তে বসি, তখন পেছনের বেঞ্চের বন্ধুটি হয়তো সামনের জনের কারণে বোর্ড ঠিকমতো দেখতে পায় না বা কথা শুনতে পায় না। ঠিক একইভাবে, অনেকগুলো কম্পিউটার যখন আমরা একসাথে জুড়ে দিই, তখন তাদের ফিজিক্যালি বা জ্যামিতিক ভাবে কীভাবে সাজাচ্ছি—তার ওপর ভিত্তি করে তাদের পারফরম্যান্স নির্ভর করে। কম্পিউটারগুলোর এই সাজানোর পদ্ধতি বা নকশাকেই আমরা বলি নেটওয়ার্ক টপোলজি।

নেটওয়ার্ক টপোলজি কী?

সংজ্ঞা: নেটওয়ার্কভুক্ত কম্পিউটারগুলোর ভৌত সংযোগ বিন্যাস (Physical Layout) বা কাঠামোকে নেটওয়ার্ক টপোলজি বলে।

সহজ কথায়:
* কম্পিউটারগুলো একে অপরের সাথে কীভাবে তার বা তরঙ্গের মাধ্যমে যুক্ত আছে।
* ডাটা চলাচলের পথের নকশা।

উদাহরণ: শহরের রাস্তাঘাটের ম্যাপের মতো, যা ঠিক করে দেয় কোন গাড়ি কোন পথে যাবে।

বইয়ের ভাষায় যদি বলি, একটি নেটওয়ার্কের অন্তর্গত কম্পিউটারগুলো বা ডিভাইসগুলো একে অপরের সাথে কীভাবে সংযুক্ত থাকে, তার জ্যামিতিক বিন্যাস বা ফিজিক্যাল লে-আউটকেই নেটওয়ার্ক টপোলজি বলে। ব্যাপারটা আরেকটু সহজ করি। মনে করো একটা শহরের ম্যাপ। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার জন্য যেমন বিভিন্ন রাস্তা থাকে, ঠিক তেমনি নেটওয়ার্কের মধ্যে ডাটা প্যাকেটগুলো কোন পথে চলাচল করবে, তা ঠিক করে দেয় এই টপোলজি। অর্থাৎ, টপোলজি হলো নেটওয়ার্কের রাস্তাঘাটের নকশা।

টপোলজির প্রকারভেদ

নেটওয়ার্ক টপোলজি প্রধানত ৬ প্রকার।

আমরা সাধারণত ৬ ধরনের নেটওয়ার্ক টপোলজি দেখতে পাই। স্লাইডে তোমরা ছবিগুলো দেখতে পাচ্ছ। নামগুলো হলো—বাস টপোলজি, রিং টপোলজি, স্টার টপোলজি, ট্রি টপোলজি, মেশ টপোলজি এবং হাইব্রিড টপোলজি। নামগুলো শুনলেই কিন্তু এদের আকৃতি সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়। যেমন রিং টপোলজি নিশ্চয়ই গোল হবে, স্টার টপোলজি তারার মতো হবে। চলো, এখন আমরা একে একে প্রতিটি টপোলজি সম্পর্কে বিস্তারিত জানব।

১। বাস টপোলজি (Bus Topology)

গঠন:
* একটি মূল তার বা ব্যাকবোন (Backbone) থাকে।
* নেটওয়ার্কের সকল কম্পিউটার এই ব্যাকবোনের সাথে যুক্ত থাকে।
* তারের দুই প্রান্তে দুটি টার্মিনেটর (Terminator) থাকে।

কার্যপ্রণালী:
* প্রেরক কম্পিউটার ডাটা পাঠালে তা ব্যাকবোন দিয়ে সবার কাছে যায়।
* যার উদ্দেশ্যে পাঠানো, শুধু সেই গ্রহণ করে; বাকিরা উপেক্ষা করে।

সবার প্রথমে আসি বাস টপোলজিতে। এর গঠন খুবই সরল। এখানে একটা মূল মোটা তার থাকে, যাকে আমরা বলি 'ব্যাকবোন ক্যাবল'। এই ব্যাকবোনটাই হলো মেইন লাইন, অনেকটা আমাদের হাইওয়ে রোডের মতো। সব কম্পিউটার বা নোড এই লাইনের সাথে যুক্ত থাকে। লাইনের দুই মাথায় থাকে 'টার্মিনেটর', যা সিগন্যালকে শুষে নেয় যাতে তা ফিরে এসে জ্যাম না বাধান। যখন কেউ ডাটা পাঠায়, সেটা লাইনের সব কম্পিউটারের কাছে পৌঁছে যায়, কিন্তু যার জন্য পাঠানো হয়েছে শুধু সেই রিসিভ করে।

বাস টপোলজির সুবিধা ও অসুবিধা

সুবিধা:
* খরচ খুব কম, কারণ তার বা ক্যাবল কম লাগে।
* ছোট নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য খুব সহজ ও উপযোগী।
* কোনো একটি কম্পিউটার নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্কের ক্ষতি হয় না।
* নতুন কম্পিউটার যোগ করা সহজ।

বাস টপোলজির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটা খুবই সস্তা। অল্প তারেই কাজ চলে, সেটআপ করাও সহজ। ছোট অফিস বা ল্যাবের জন্য এটা ভালো। আর মজার ব্যাপার হলো, তোমার পিসি নষ্ট হয়ে গেলেও নেটওয়ার্কের বাকিদের কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু সমস্যা হলো, যদি ওই মেইন ব্যাকবোন তারটা ছিঁড়ে যায় বা নষ্ট হয়—ব্যাস! পুরো নেটওয়ার্ক ডাউন। আর যখন অনেকগুলো কম্পিউটার একসাথে ডাটা পাঠাতে চায়, তখন জ্যাম লেগে যায়, যাকে আমরা বলি ডাটা কলিশন। তখন স্পিড অনেক কমে যায়।

২। রিং টপোলজি (Ring Topology)

গঠন:
* প্রতিটি কম্পিউটার তার দুপাশের দুটি কম্পিউটারের সাথে যুক্ত হয়ে বৃত্তাকার লুপ তৈরি করে।
* এতে কোনো শুরু বা শেষ প্রান্ত নেই।
* ডাটা একমুখী (Unidirectional) বা দ্বিমুখী হতে পারে, তবে সাধারণত একমুখী হয়।

কার্যপ্রণালী:
* টোকেন পাসিং (Token Passing) পদ্ধতিতে ডাটা ঘুরে ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছায়।
* প্রতিটি কম্পিউটার সিগন্যালকে অ্যামপ্লিফাই (Amplify) করে পরেরটিতে পাঠায়।

এবার চলো দেখি রিং টপোলজি। নাম শুনেই বুঝছ, এটা দেখতে আংটির মতো গোল। এখানে প্রতিটি কম্পিউটার তার পাশের দুটির সাথে যুক্ত থাকে, এভাবে একটা ক্লোজড লুপ তৈরি হয়। এখানে ডাটা রিলে রেসের মতো ঘুরে ঘুরে যায়। একে বলা হয় 'টোকেন পাসিং'। ধরো, তুমি ১ নম্বর কম্পিউটার থেকে ৪ নম্বরে ডাটা পাঠাবে। ডাটা প্রথমে ২-এ যাবে, তারপর ৩-এ, এবং শেষে ৪-এ পৌঁছাবে। মাঝখানের কম্পিউটারগুলো রিপিটর হিসেবে কাজ করে সিগন্যালকে শক্তিশালী করে দেয়।

রিং টপোলজির সুবিধা ও অসুবিধা

সুবিধা:
* কেন্দ্রীয় কোনো সার্ভার বা ডিভাইসের (Hub) প্রয়োজন নেই।
* নেটওয়ার্কে কম্পিউটারের সংখ্যা বাড়লেও পারফরম্যান্স বাস টপোলজির মতো অতটা কমে না।
* সকল কম্পিউটারের অধিকার সমান।

রিং টপোলজির সুবিধা হলো এখানে কোনো বস নেই—মানে কোনো সেন্ট্রাল সার্ভার বা হাব লাগে না। খরচ বাঁচে। কিন্তু এর ঝুঁকি অনেক বেশি। ভাবো তো, যদি রিংয়ের মাঝখানের একটা কম্পিউটার নষ্ট হয়ে যায়? পুরো সার্কিট ভেঙে যাবে এবং নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়বে! এটাই এর প্রধান দুর্বলতা। এছাড়া নতুন কম্পিউটার যোগ করতে গেলেও পুরো সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কাজ করতে হয়, যা বেশ ঝামেলাপূর্ণ।

৩। স্টার টপোলজি (Star Topology)

গঠন:
* সকল কম্পিউটার একটি কেন্দ্রীয় ডিভাইসের (Hub বা Switch) সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে।
* দেখতে তারার মতো মনে হয়।
* বর্তমানে এটিই সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত টপোলজি।

কার্যপ্রণালী:
* প্রেরক কম্পিউটার প্রথমে হাবে ডাটা পাঠায়।
* হাব সেই ডাটা নির্দিষ্ট প্রাপক কম্পিউটারে পাঠিয়ে দেয়।

এখন আমরা যে টপোলজিটি দেখব, সেটিই বাস্তবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়—স্টার টপোলজি। তোমাদের স্কুল-কলেজের ল্যাব বা অফিসের নেটওয়ার্কগুলো সাধারণত এরকমই হয়। এখানে মাঝখানে একটা কেন্দ্রীয় ডিভাইস থাকে, যাকে আমরা বলি হাব বা সুইচ। বাকি সব কম্পিউটার তারার মতো চারপাশ থেকে সেই হাবের সাথে আলাদা তার দিয়ে যুক্ত থাকে। কেউ কাউকে ডাটা পাঠাতে চাইলে প্রথমে তা হাবে যায়, হাব সেটা প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেয়।

স্টার টপোলজির সুবিধা ও অসুবিধা

সুবিধা:
* একটি কম্পিউটার নষ্ট হলে বাকি নেটওয়ার্ক সচল থাকে।
* খুব সহজেই সমস্যা বা ত্রুটি বের করা যায়।
* ডাটা কলিশন হয় না (যদি ইন্টেলিজেন্ট সুইচ ব্যবহার করা হয়)।
* নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং সহজ।

স্টার টপোলজির সবচেয়ে বড় স্বস্তি হলো, তোমার পাশের বন্ধুর কম্পিউটার নষ্ট হয়ে গেলেও তোমার নেটওয়ার্কে কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ সবার লাইন আলাদা। কোনো সমস্যা হলে সহজেই বোঝা যায় কোন তারে বা কোন পিসিতে সমস্যা। তবে সাবধান! যদি মাঝখানের ওই হাব বা সুইচটা নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে কিন্তু পুরো সিস্টেম বন্ধ হয়ে যাবে। আর হ্যাঁ, যেহেতু সবার জন্য আলাদা তার লাগে, তাই এতে ক্যাবল খরচটা একটু বেশি হয়।

৪। ট্রি টপোলজি (Tree Topology)

গঠন:
* দেখতে গাছের উল্টো কাঠামোর মতো।
* একটি মূল রুট (Root) সার্ভার থাকে।
* এটি মূলত অনেকগুলো স্টার টপোলজির সমষ্টি
* স্তরভিত্তিক বা হায়ারার্কিক্যাল (Hierarchical) বিন্যাস থাকে।

ব্যবহার: বড় অফিস ভবন বা একাধিক ফ্লোর বিশিষ্ট নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত হয়।

ট্রি টপোলজিকে তোমরা বলতে পারো স্টার টপোলজির সম্প্রসারিত রূপ। এটা দেখতে উল্টো করে রাখা গাছের মতো। গাছের যেমন শেকড় বা রুট থাকে, এখানেও একটা রুট সার্ভার থাকে। তার নিচে থাকে কিছু সাব-সার্ভার বা হাব, আর তার সাথে যুক্ত থাকে কম্পিউটারগুলো। অর্থাৎ, অনেকগুলো স্টার টপোলজিকে যখন স্তরে স্তরে সাজানো হয়, তখন তা ট্রি টপোলজি হয়ে যায়। বড় বহুতল ভবনে বা ক্যাম্পাসে নেটওয়ার্ক তৈরি করতে এটা খুব কাজে লাগে।

ট্রি টপোলজির সুবিধা ও অসুবিধা

সুবিধা:
* শাখা-প্রশাখা বাড়িয়ে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা খুব সহজ।
* অফিস ব্যবস্থাপনার (Department-wise) জন্য খুব উপযোগী।
* ত্রুটি শনাক্ত ও সংশোধন করা সহজ।

অসুবিধা:
* রুট সার্ভার নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক অচল।
* গঠন বেশ জটিল।
* প্রচুর ক্যাবল ও হার্ডওয়্যার প্রয়োজন হয়।

ট্রি টপোলজির সুবিধা হলো, তুমি চাইলেই নতুন শাখা বা ব্রাঞ্চ যোগ করে নেটওয়ার্ক বড় করতে পারো। অফিসের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট—যেমন অ্যাকাউন্টিং, এইচআর—আলাদা আলাদা ব্রাঞ্চে ভাগ করে দিলে ম্যানেজ করা সহজ হয়। তবে এর গঠন বেশ জটিল। আর মেইন সার্ভার বা রুট নোড যদি নষ্ট হয়, তবে পুরো গাছের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। কনফিগারেশন করাটাও একটু সময়সাপেক্ষ।

৫। মেশ টপোলজি (Mesh Topology)

গঠন:
* প্রতিটি কম্পিউটার নেটওয়ার্কের অন্য সকল কম্পিউটারের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে।
* একে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট (Point-to-Point) সংযোগ বলে।

তারের হিসাব:
যদি কম্পিউটারের সংখ্যা $n$ হয়, তবে তারের সংখ্যা হবে:
$$ \text{তারের সংখ্যা} = \frac{n(n-1)}{2} $$

উদাহরণ: ৬টি কম্পিউটারের জন্য তার লাগবে $\frac{6(5)}{2} = 15$টি।

মেশ টপোলজি হলো নেটওয়ার্কের সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং কিন্তু জটিল গঠন। এখানে প্রত্যেকটা কম্পিউটার একে অপরের সাথে আলাদা আলাদা তার দিয়ে সরাসরি যুক্ত থাকে। মানে, কারো ভায়া হয়ে যেতে হয় না। ভাবো তো, ক্লাসে যদি তোমরা ৫ জন থাকো, আর প্রত্যেকে প্রত্যেকের সাথে আলাদা সুতো দিয়ে বাধা থাকো, তাহলে কেমন জালের মতো হবে! এটাই মেশ। এখানে তারের সংখ্যা বের করার একটা সূত্র আছে: এন ইনটু এন মাইনাস ওয়ান, ভাগ দুই। অর্থাৎ ৬টি কম্পিউটার থাকলে ১৫টি আলাদা তার লাগবে!

মেশ টপোলজির সুবিধা ও অসুবিধা

সুবিধা:
* সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য (Reliable) টপোলজি।
* একটি বা দুটি লাইন নষ্ট হলেও বিকল্প পথে ডাটা যেতে পারে।
* ডাটা ট্রান্সমিশন অত্যন্ত দ্রুত ও নিরাপদ (Security বেশি)।
* প্রাইভেসি বজায় থাকে।

অসুবিধা:
* প্রচুর পরিমাণে তার লাগে, তাই এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল
* ইনস্টলেশন ও কনফিগারেশন খুবই জটিল।
* সাধারণ কাজে ব্যবহার করা হয় না।

মেশ টপোলজির সবচেয়ে বড় গুণ হলো এর নিরাপত্তা এবং নির্ভরযোগ্যতা। একটা বা দুটো তার ছিঁড়লেও ডাটা অন্য পথ দিয়ে ঠিকই পৌঁছে যাবে। হ্যাক করাও কঠিন কারণ ডেডিকেটেড লাইন থাকে। মিলিটারী বা ব্যাংকের সার্ভারের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এটা ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সাধারণ অফিসে এটা কেউ ব্যবহার করে না, কারণ এত তার কেনা এবং ম্যানেজ করা খুবই খরচসাপেক্ষ এবং কঠিন।

৬। হাইব্রিড টপোলজি (Hybrid Topology)

গঠন:
* একাধিক ভিন্ন ধরণের টপোলজির সংমিশ্রণ।
* যেমন: স্টার + বাস + রিং।
* বড় প্রতিষ্ঠানে বা ইন্টারনেটে এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।

বৈশিষ্ট্য:
* এটি নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম মেনে চলে না, প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজাইন করা হয়।
* ইন্টারনেট হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাইব্রিড নেটওয়ার্ক।

হাইব্রিড মানেই হলো সংকর বা মিশ্রণ। বাস্তবে আমরা যখন বড় কোনো নেটওয়ার্ক তৈরি করি, তখন শুধু একটা টপোলজি দিয়ে কাজ চলে না। হয়তো একটা ফ্লোরে স্টার টপোলজি, আরেক ফ্লোরে বাস, আর দুটো বিল্ডিংয়ের মাঝে রিং—এভাবে মিলিয়ে মিশিয়ে তৈরি হয় হাইব্রিড টপোলজি। ইন্টারনেট নিজেই একটা বিশাল হাইব্রিড টপোলজি। এর সুবিধা হলো, তুমি তোমার প্রয়োজন আর বাজেট অনুযায়ী নেটওয়ার্ক ডিজাইন করতে পারো।

কোন টপোলজিটি বেছে নেব?

সঠিক টপোলজি নির্বাচনের জন্য নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে:

পরিস্থিতি / চাহিদা উপযুক্ত টপোলজি
ছোট অফিস ও কম বাজেট বাস (Bus)
নির্ভরযোগ্যতা ও সহজ রক্ষণাবেক্ষণ স্টার (Star) - (সর্বোত্তম)
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডাটা ও নিরাপত্তা মেশ (Mesh)
বহুতল ভবন বা বড় অফিস ট্রি (Tree)
বিভিন্ন শাখার সংযোগ হাইব্রিড (Hybrid)

তাহলে এখন প্রশ্ন হলো, তুমি তোমার অফিসের জন্য কোনটা বেছে নেবে? যদি বাজেট খুব কম হয় এবং অফিস ছোট হয়, তবে বাস টপোলজি চলতে পারে। কিন্তু যদি চাও শান্তি—মানে সহজে নষ্ট হবে না এবং নষ্ট হলেও ঠিক করা সহজ, তবে চোখ বন্ধ করে স্টার টপোলজি বেছে নাও। বর্তমান যুগে স্টার টপোলজিই স্ট্যান্ডার্ড। আর যদি টাকা কোনো সমস্যা না হয় কিন্তু ডাটা কিছুতেই হারানো যাবে না, তবে মেশ টপোলজি। বাস্তব জীবনে আমরা স্টারের ব্যবহারই বেশি দেখি।

চলো নিজেকে যাচাই করি (কুইজ)

প্রশ্ন ১: কোন টপোলজিতে ব্যাকবোন (Backbone) ক্যাবল অপরিহার্য?
(ক) স্টার
(খ) বাস
(গ) রিং
(ঘ) মেশ

প্রশ্ন ২: হাব (Hub) বা সুইচ ব্যবহৃত হয় কোন টপোলজিতে?
উত্তর: স্টার টপোলজি

প্রশ্ন ৩: ৬টি কম্পিউটারের মেশ টপোলজিতে কয়টি তার লাগবে?
সমাধান: $\frac{6(6-1)}{2} = \frac{30}{2} = 15$টি।

এবার তোমাদের পালা। ভিডিওটা পজ করে উত্তরগুলো ভাবো। ১ নম্বর প্রশ্ন: কোন টপোলজিতে ব্যাকবোন থাকে? মনে আছে তো মূল রাস্তার কথা? হ্যাঁ, উত্তর হলো 'বাস টপোলজি'। ২ নম্বর: হাব বা সুইচ কোথায় থাকে? ঠিক ধরেছ, তারার মতো দেখতে 'স্টার টপোলজিতে'। আর ৩ নম্বর অংকটা দেখো—৬টি পিসির মেশ টপোলজিতে কয়টি তার লাগবে? সূত্রে ফেলো—৬ গুণ ৫ ভাগ ২, অর্থাৎ ১৫টি। তোমরা যারা পেরেছ, তোমাদের অভিনন্দন!

সারসংক্ষেপ: যা শিখলাম

আজকের ক্লাসের মূল বিষয়গুলো:
* টপোলজি হলো নেটওয়ার্কের ভৌত কাঠামো।
* স্টার টপোলজি সবচেয়ে জনপ্রিয়, নির্ভরযোগ্য ও রক্ষণাবেক্ষণ সহজ।
* মেশ টপোলজি সবচেয়ে নিরাপদ ও দ্রুত, কিন্তু ব্যয়বহুল।
* বাস ও রিং টপোলজি এখন কম ব্যবহৃত হয়।
* ট্রি টপোলজি বড় নেটওয়ার্ক ও হায়ারার্কির জন্য ভালো।

পরবর্তী ক্লাসে: আমরা জানব 'ক্লাউড কম্পিউটিং' সম্পর্কে।

আজকে আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখলাম। মনে রাখবে, নেটওয়ার্ক বানাতে গেলে সঠিক টপোলজি নির্বাচন করা খুব জরুরি। স্টার টপোলজিটা ভালো করে বুঝলে ভবিষ্যতে অনেক কাজে আসবে। যদি কোথাও বুঝতে সমস্যা হয়, ভিডিওটি আবার দেখো বা কমেন্ট সেকশনে জানাও। পরের ক্লাসে আমরা ক্লাউড কম্পিউটিং নিয়ে কথা বলব। ততক্ষণ সবাই ভালো থেকো, সুস্থ থেকো। আল্লাহ হাফেজ!

নেটওয়ার্ক টপোলজি: গঠন, প্রকারভেদ ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ

পড়তে প্রায় 15 মিনিট

লেকচারের ক্লাসরুমের উদাহরণটি মনে আছে? যেখানে বসার বিন্যাস এবং চলাচলের পথ যোগাযোগের সুবিধা বা অসুবিধা ঠিক করে দেয়। ঠিক একইভাবে, কম্পিউটার নেটওয়ার্কিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিভাইসগুলো একে অপরের সাথে কীভাবে সংযুক্ত থাকবে, তার একটি নির্দিষ্ট নকশা বা 'আর্কিটেকচারাল প্ল্যান' থাকে। এই নকশাই নির্ধারণ করে নেটওয়ার্কটি কত দ্রুত কাজ করবে, খরচ কেমন হবে এবং কোনো সমস্যা হলে তা সমাধান করা কতটা সহজ হবে।

এই অধ্যায়ে আমরা নেটওয়ার্ক টপোলজি সম্পর্কে বিস্তারিত জানব। এটি এইচএসসি আইসিটি পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি টপিক, কারণ এখান থেকে প্রায়শই সৃজনশীল প্রশ্ন (CQ) এবং বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ) আসে।

নেটওয়ার্ক টপোলজি: ধারণা ও গুরুত্ব

সহজ কথায়, একটি নেটওয়ার্কের ফিজিক্যাল লেআউট বা ভৌত গঠনই হলো টপোলজি। তবে পরীক্ষার খাতায় লেখার জন্য একটি ফরমাল সংজ্ঞার প্রয়োজন।

সংজ্ঞা (Definition): নেটওয়ার্কভুক্ত কম্পিউটার বা ডিভাইসগুলো ভৌতভাবে (Physically) বা লজিক্যালি (Logically) একে অপরের সাথে কীভাবে সংযুক্ত থাকবে, তার জ্যামিতিক বিন্যাস বা নকশাকে নেটওয়ার্ক টপোলজি (Network Topology) বলে।

নেটওয়ার্ক টপোলজি কেন গুরুত্বপূর্ণ? কারণ সঠিক টপোলজি নির্বাচন না করলে নেটওয়ার্কের ডাটা ট্রান্সমিশন স্পিড কমে যেতে পারে, খরচ বেড়ে যেতে পারে এবং রক্ষণাবেক্ষণ জটিল হতে পারে। মূলত ৬ ধরনের টপোলজি নিয়ে আমরা আলোচনা করব: বাস, রিং, স্টার, ট্রি, হাইব্রিড এবং মেশ টপোলজি।


১. বাস টপোলজি (Bus Topology): সহজ কিন্তু ধীরগতির

বাস টপোলজি হলো সবচেয়ে সহজ এবং সাশ্রয়ী নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় একটি মূল তার বা ক্যাবল থাকে, যাকে ব্যাকবোন (Backbone) বলা হয়। নেটওয়ার্কের সকল কম্পিউটার বা নোড এই ব্যাকবোন ক্যাবলের সাথে যুক্ত থাকে।

বাস টপোলজির চিত্র: একটি মূল ব্যাকবোন তারের সাথে একাধিক কম্পিউটার সংযুক্ত এবং দুই প্রান্তে টার্মিনেটর

গঠন ও কার্যপ্রণালী

বাস টপোলজিতে একটি কম্পিউটার যখন ডাটা পাঠায়, তখন সেই ডাটা সিগন্যাল আকারে মূল তার বা ব্যাকবোন দিয়ে উভয় দিকে প্রবাহিত হয়। প্রতিটি কম্পিউটারের নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড (NIC) সেই সিগন্যালটি পরীক্ষা করে। যদি প্রাপকের ঠিকানার সাথে সিগন্যালের ঠিকানা মিলে যায়, তবে কম্পিউটারটি সেই ডাটা গ্রহণ করে। অন্যথায়, সিগন্যালটি অগ্রাহ্য করে।

গুরুত্বপূর্ণ উপাদানসমূহ:
- ব্যাকবোন ক্যাবল (Backbone Cable): এটিই মূল ডাটা চলাচলের পথ। সাধারণত কো-এক্সিয়াল ক্যাবল (Co-axial Cable) ব্যবহার করা হয়।
- টার্মিনেটর (Terminator): ব্যাকবোনের দুই প্রান্তে দুটি বিশেষ রোধক লাগানো থাকে, যাকে টার্মিনেটর বলে। এর কাজ হলো সিগন্যাল লাইনের শেষ প্রান্তে পৌঁছালে তা শোষণ (absorb) করে নেওয়া, যাতে সিগন্যালটি পুনরায় ফিরে এসে (reflection) ডাটা চলাচলে বাধার সৃষ্টি না করে।
- ড্রপ লাইন ও টি-কানেক্টর: কম্পিউটারগুলো মূল ক্যাবলের সাথে 'ড্রপ লাইন' এবং 'টি-কানেক্টর' (T-connector) এর মাধ্যমে যুক্ত থাকে।

সুবিধা ও অসুবিধা

বাস টপোলজি ছোট পরিসরের নেটওয়ার্কের জন্য উপযোগী কারণ এটি তৈরি করা সহজ এবং খরচ খুব কম। তবে এর বড় সমস্যা হলো ডাটা কলিশন (Data Collision)। যেহেতু একটাই রাস্তা (ব্যাকবোন), তাই একসাথে একাধিক কম্পিউটার ডাটা পাঠালে সিগন্যালগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ বা কলিশন হয়, ফলে নেটওয়ার্কের গতি কমে যায়।

পরীক্ষার টিপস (Exam Tip): উদ্দীপকে যদি 'একমাত্র তার', 'সিঙ্গেল লাইন', 'ব্যাকবোন' বা 'পরপর সংযুক্ত' শব্দগুলো থাকে এবং বলা হয় যে মূল লাইন নষ্ট হলে পুরো সিস্টেম অচল, তবে সেটি নির্দ্বিধায় বাস টপোলজি


২. রিং টপোলজি (Ring Topology): বৃত্তাকার ডাটা প্রবাহ

রিং টপোলজিতে প্রতিটি কম্পিউটার তার দুই পাশের দুটি কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত থাকে এবং এভাবে সংযোগগুলো মিলে একটি বৃত্তাকার বা রিং আকৃতি তৈরি করে। এখানে কোনো শুরু বা শেষ প্রান্ত থাকে না এবং কোনো টার্মিনেটরের প্রয়োজন হয় না।

টোকেন পাসিং (Token Passing) মেকানিজম

রিং টপোলজিতে ডাটা সাধারণত একমুখী (Unidirectional) হয়ে প্রবাহিত হয় (ঘড়ির কাঁটার দিকে বা বিপরীত দিকে)। ডাটা সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য এখানে 'টোকেন পাসিং' পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

টোকেন (Token): এটি একটি ক্ষুদ্র ডাটা প্যাকেট বা বিশেষ বিট প্যাটার্ন যা নেটওয়ার্কের এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ঘুরে বেড়ায়। যে কম্পিউটারের কাছে এই ফ্রি টোকেনটি থাকে, কেবল সেই মুহূর্তের জন্য ডাটা পাঠানোর অনুমতি পায়।

এই টোকেন ব্যবস্থার কারণে রিং টপোলজিতে ডাটা কলিশন বা সংঘর্ষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। প্রতিটি কম্পিউটার এখানে একটি রিপিটার (Repeater) হিসেবে কাজ করে, অর্থাৎ সিগন্যাল দুর্বল হয়ে গেলে সেটিকে আবার শক্তিশালী করে পরের কম্পিউটারে পাঠিয়ে দেয়।

অসুবিধা

রিং টপোলজির প্রধান সমস্যা হলো, যদি মাঝখানের একটি কম্পিউটার বা সংযোগ নষ্ট হয়ে যায়, তবে পুরো নেটওয়ার্কটিই অচল হয়ে পড়ে। এছাড়া নতুন কম্পিউটার যোগ করা বা সরিয়ে নেওয়া বেশ জটিল।


৩. স্টার টপোলজি (Star Topology): সবচেয়ে জনপ্রিয় সমাধান

বর্তমানে বাসা-বাড়ি, অফিস বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমরা সচরাচর যে নেটওয়ার্ক দেখি, তা হলো স্টার টপোলজি। এই টপোলজিতে সব কম্পিউটার একটি কেন্দ্রীয় ডিভাইসের সাথে পৃথক পৃথক তারের মাধ্যমে যুক্ত থাকে।

স্টার টপোলজির চিত্র: কেন্দ্রে একটি সুইচ বা হাব এবং তার চারপাশে কম্পিউটারগুলো সংযুক্ত

হাব বনাম সুইচ: কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ

স্টার টপোলজির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে একটি হাব (Hub) অথবা সুইচ (Switch)। যদিও উভয়ই সংযোগকারী ডিভাইস, কিন্তু পরীক্ষার জন্য এদের পার্থক্য বোঝা জরুরি।

  • হাব (Hub): এটি একটি 'বোকা' ডিভাইস। হাবের কাছে কোনো ডাটা আসলে সে সেটি নেটওয়ার্কের সকল পোর্টে পাঠিয়ে দেয় (Broadcasting)। এতে নিরাপত্তা কমে এবং অপ্রয়োজনীয় ট্রাফিক বাড়ে।
  • সুইচ (Switch): এটি একটি 'বুদ্ধিমান' ডিভাইস। সুইচ প্রাপকের ম্যাক অ্যাড্রেস (MAC Address) পড়ে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কম্পিউটারেই ডাটা পাঠায় (Unicasting)। ফলে ডাটা কলিশন হয় না এবং স্পিড বেশি পাওয়া যায়।

স্টার টপোলজির সুবিধা:
- একটি কম্পিউটার নষ্ট হলে বাকি নেটওয়ার্কের ওপর কোনো প্রভাব পড়ে না।
- নতুন কম্পিউটার যোগ করা বা বাদ দেওয়া খুব সহজ।
- ট্রাবলশুটিং বা সমস্যা শনাক্ত করা সবচেয়ে সহজ।

সতর্কতা: স্টার টপোলজির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো এর 'কেন্দ্রীয় ডিভাইস'। যদি হাব বা সুইচটি নষ্ট হয়ে যায়, তবে পুরো নেটওয়ার্কটিই অচল হয়ে পড়বে। একে বলা হয় 'Single Point of Failure'।


৪. ট্রি ও হাইব্রিড টপোলজি: বৃহদাকার নেটওয়ার্কের গঠন

ট্রি টপোলজি (Tree Topology)

ট্রি টপোলজি মূলত স্টার টপোলজিরই একটি সম্প্রসারিত রূপ। এখানে কম্পিউটারগুলো গাছের শাখা-প্রশাখার মতো বিন্যস্ত থাকে। একে অনেক সময় 'Star of Stars' বলা হয়।

এই টপোলজিতে একটি রুট নোড (Root Node) বা সার্ভার থাকে। এর অধীনে বিভিন্ন স্তরে (Layer) অন্যান্য কম্পিউটার বা হাব যুক্ত থাকে। এখানে প্যারেন্ট-চাইল্ড (Parent-Child) সম্পর্ক বিদ্যমান। অর্থাৎ, উপরের স্তরের ডিভাইসটি প্যারেন্ট এবং তার নিচের স্তরের ডিভাইসটি চাইল্ড হিসেবে গণ্য হয়। বড় অফিস বা বহুতল ভবনে নেটওয়ার্কিংয়ের জন্য এটি খুবই উপযোগী।

হাইব্রিড টপোলজি (Hybrid Topology)

যখন ভিন্ন ভিন্ন ধরনের একাধিক টপোলজি (যেমন: স্টার, রিং, বাস) একসাথে যুক্ত করে একটি বড় নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়, তখন তাকে হাইব্রিড টপোলজি বলে।

যেমন: একটি ব্যাংকের হেড অফিসে হয়তো স্টার টপোলজি ব্যবহার করা হচ্ছে, কিন্তু তাদের শাখা অফিসগুলোতে বাস টপোলজি আছে। এখন এই দুই অফিসকে অপটিক্যাল ফাইবার দিয়ে রিং আকারে যুক্ত করলে যে জটিল নেটওয়ার্ক তৈরি হবে, সেটাই হাইব্রিড টপোলজি। এর সুবিধা হলো, প্রয়োজন অনুযায়ী নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা যায় এবং এক অংশ নষ্ট হলে অন্য অংশে প্রভাব পড়ে না।


৫. মেশ টপোলজি (Mesh Topology): নির্ভরযোগ্যতার প্রতীক

মেশ টপোলজিতে নেটওয়ার্কের প্রতিটি কম্পিউটার অন্য প্রতিটি কম্পিউটারের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে। একে বলা হয় পূর্ণ মেশ (Full Mesh)। আর যদি কিছু কম্পিউটার সবার সাথে এবং কিছু কম্পিউটার শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় কয়েকটির সাথে যুক্ত থাকে, তবে তাকে বলে আংশিক মেশ (Partial Mesh)

মেশ টপোলজির চিত্র: ৫টি কম্পিউটারের প্রতিটি একে অপরের সাথে সরাসরি তার দ্বারা সংযুক্ত

গাণিতিক সূত্র ও প্রয়োগ

মেশ টপোলজির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর তারের সংখ্যা। যেহেতু সবার সাথে সবার সরাসরি সংযোগ, তাই এতে প্রচুর তারের প্রয়োজন হয়। তারের সংখ্যা বের করার একটি সূত্র আছে যা পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।

$$C = \frac{n(n-1)}{2}$$

এখানে,
- $n$ = কম্পিউটারের (নোড) সংখ্যা
- $C$ = তারের (ক্যাবল) সংখ্যা

উদাহরণ (Example):
একটি অফিসে ১০টি কম্পিউটার মেশ টপোলজিতে যুক্ত করতে চাইলে মোট কতটি তারের প্রয়োজন হবে?

সমাধান:
এখানে, কম্পিউটারের সংখ্যা $n = 10$
সূত্র অনুযায়ী তারের সংখ্যা,
$$C = \frac{10(10-1)}{2}$$
$$C = \frac{10 \times 9}{2}$$
$$C = \frac{90}{2} = 45$$

সুতরাং, ৪৫টি তারের প্রয়োজন হবে।

কেন ব্যবহার করবেন?

মেশ টপোলজি সবচেয়ে ব্যয়বহুল এবং ইন্সটলেশন জটিল। তবুও ব্যাংক, সামরিক বাহিনী বা স্পেস স্টেশনের মতো জায়গায় এটি ব্যবহার করা হয়। কারণ এতে ডাটা সিকিউরিটি এবং Reliability (নির্ভরযোগ্যতা) সবচেয়ে বেশি। একটি বা দুটি লাইন কাটা পড়লেও ডাটা বিকল্প পথে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে।


তুলনামূলক বিশ্লেষণ: কোনটি সেরা?

পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে, "উদ্দীপকের আলোকে কোন টপোলজিটি সুবিধাজনক?"। এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য নিচের ছকটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

বৈশিষ্ট্য বাস (Bus) রিং (Ring) স্টার (Star) মেশ (Mesh)
খরচ সবচেয়ে কম কম মাঝারি (হাব/সুইচের জন্য) সবচেয়ে বেশি
গঠন সরল বৃত্তাকার কেন্দ্রমুখী জটিল জালের মতো
ডাটা নিরাপত্তা কম কম বেশি (সুইচ থাকলে) সর্বোচ্চ
নির্ভরযোগ্যতা কম কম বেশি সর্বোচ্চ
গতি ধীর (ট্রাফিক বাড়লে) ধীর (নোড বাড়লে) দ্রুত অত্যন্ত দ্রুত
প্রয়োগ ছোট ল্যাব পুরনো নেটওয়ার্ক অফিস, বাসা, স্কুল ব্যাংক, মিলিটারি

পরীক্ষা প্রস্তুতি ও উদ্দীপক সমাধান কৌশল

সৃজনশীল প্রশ্নের উদ্দীপক (Stem) পড়ে টপোলজি চেনার কিছু 'কি-ওয়ার্ড' বা শর্টকাট নিচে দেওয়া হলো:

টপোলজি চেনার শর্টকাট টেকনিক:
- বাস: মেরুদণ্ড, ব্যাকবোন, একমাত্র তার, সিঙ্গেল লাইন, দুই প্রান্তে রোধক।
- রিং: বৃত্তাকার, লুপ, টোকেন, চক্রাকার, একমুখী প্রবাহ।
- স্টার: কেন্দ্রীয় ডিভাইস, হাব, সুইচ, কেন্দ্র থেকে চারদিকে ছড়ানো।
- ট্রি: শাখা-প্রশাখা, রুট, প্যারেন্ট-চাইল্ড, হায়ারার্কিক্যাল, স্তরে বিন্যস্ত।
- মেশ: জালের ন্যায়, সবার সাথে সবার সংযোগ, রিডানডেন্সি, অতিরিক্ত তার।

পরীক্ষার টিপস (Exam Tip):
যদি প্রশ্ন করা হয় "কোনটি বেশি সুবিধাজনক?", তবে সাধারণত স্টার টপোলজি উত্তর হয় (খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণের বিবেচনায়)। আর যদি প্রশ্ন হয় "কোনটি সবচেয়ে নিরাপদ ও দ্রুত?", তবে উত্তর হবে মেশ টপোলজি। উত্তর লেখার সময় অবশ্যই খরচ, গতি এবং রক্ষণাবেক্ষণের তুলনা করে যুক্তি দেখাবে।


পরিভাষা (Glossary)

শব্দ (Term) সংজ্ঞা (Definition)
নোড (Node) নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত প্রতিটি ডিভাইস বা কম্পিউটারকে নোড বলে।
ব্যাকবোন (Backbone) বাস টপোলজির মূল তার, যার মধ্য দিয়ে ডাটা প্রবাহিত হয় এবং সকল কম্পিউটার যুক্ত থাকে।
টার্মিনেটর (Terminator) বাস টপোলজির তারের দুই প্রান্তে লাগানো রোধক যা সিগন্যাল শোষণ করে এবং প্রতিফলন রোধ করে।
টোকেন (Token) রিং টপোলজিতে ব্যবহৃত ক্ষুদ্র ডাটা প্যাকেট যা ডাটা ট্রান্সমিশনের অনুমতি বহন করে।
পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট (P2P) দুটি ডিভাইসের মধ্যে সরাসরি ডেডিকেটেড সংযোগ ব্যবস্থা।
ব্রডকাস্টিং (Broadcasting) নেটওয়ার্কের একটি নোড থেকে ডাটা পাঠালে তা সকলের কাছে পৌঁছে যাওয়া (যেমন: হাবে ঘটে)।

অনুশীলনের প্রশ্ন

সৃজনশীল প্রশ্ন

সৃজনশীল প্রশ্ন ১

'এক্স' কোম্পানির অফিসে ১০টি কম্পিউটার একটি মাত্র মূল তারের (Backbone Cable) সাথে যুক্ত। হঠাৎ মূল তারটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পুরো নেটওয়ার্ক অচল হয়ে গেল। অন্যদিকে, পাশের 'ওয়াই' কোম্পানির রুমে একটি কেন্দ্রীয় ডিভাইসের (Central Device) সাথে সব কম্পিউটার যুক্ত। সেখানে একটি কম্পিউটার নষ্ট হলেও বাকিগুলো সচল থাকে।

ক) নেটওয়ার্ক টপোলজি কী?
খ) মেশ টপোলজি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য কেন?
গ) 'এক্স' কোম্পানির অফিসে ব্যবহৃত টপোলজিটি ব্যাখ্যা কর।
ঘ) 'ওয়াই' কোম্পানির টপোলজিটি 'এক্স' কোম্পানির টপোলজির চেয়ে সুবিধাজনক—বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

(ক) নেটওয়ার্কভুক্ত কম্পিউটারগুলো ক্যাবলের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যুক্ত থাকার জ্যামিতিক বিন্যাস বা গঠনকেই নেটওয়ার্ক টপোলজি বলে।

(খ) মেশ টপোলজিতে প্রতিটি কম্পিউটার বা নোড অন্য সব নোডের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে (Point-to-Point)। ফলে একটি সংযোগ নষ্ট হলেও বিকল্প পথে ডেটা আদান-প্রদান করা সম্ভব হয়। এ কারণেই মেশ টপোলজিকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বা ফল্ট টলারেন্ট (Fault Tolerant) টপোলজি বলা হয়।

(গ) উদ্দীপকে 'এক্স' কোম্পানির অফিসে ব্যবহৃত টপোলজিটি হলো বাস টপোলজি (Bus Topology)
বাস টপোলজিতে একটি মূল তার বা ব্যাকবোন ক্যাবলের সাথে সব ওয়ার্কস্টেশন বা কম্পিউটার যুক্ত থাকে। উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১০টি কম্পিউটার একটি মাত্র মূল তারের সাথে যুক্ত এবং মূল তারটি নষ্ট হওয়ায় পুরো নেটওয়ার্ক অচল হয়ে গেছে—যা বাস টপোলজির প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই টপোলজিতে তথ্যের প্রবাহ উভয়মুখী হতে পারে না এবং ব্যাকবোন নষ্ট হলে সম্পূর্ণ সিস্টেম অচল হয়ে পড়ে। এটি ছোট পরিসরে এবং কম খরচে স্থাপনের জন্য উপযোগী।

(ঘ) উদ্দীপকে 'ওয়াই' কোম্পানির টপোলজিটি হলো স্টার টপোলজি (Star Topology), যা 'এক্স' কোম্পানির বাস টপোলজির চেয়ে বেশি সুবিধাজনক। নিচে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:

  1. কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা: স্টার টপোলজিতে একটি কেন্দ্রীয় হাব বা সুইচের মাধ্যমে পুরো নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রিত হয়, যা সমস্যা শনাক্তকরণ ও সমাধান সহজ করে। কিন্তু বাস টপোলজিতে কোনো কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকে না।
  2. নির্ভরযোগ্যতা: স্টার টপোলজিতে একটি কম্পিউটার নষ্ট হলে বাকি নেটওয়ার্ক সচল থাকে। উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ওয়াই' কোম্পানিতে একটি পিসি নষ্ট হলেও বাকিগুলো চলছে। অপরদিকে বাস টপোলজিতে মূল ব্যাকবোন নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক অচল হয়ে যায়, যেমনটি 'এক্স' কোম্পানিতে ঘটেছে।
  3. ডেটা কলিশন: স্টার টপোলজিতে সুইচের ব্যবহারের ফলে ডেটা কলিশন বা সংঘর্ষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বাস টপোলজিতে ডেটা চলাচলের সময় ট্রাফিক বা কলিশন বেশি হয়।
  4. সম্প্রসারণ: স্টার টপোলজিতে নতুন কম্পিউটার যোগ করা খুব সহজ এবং এতে নেটওয়ার্কের কাজে বিঘ্ন ঘটে না। বাস টপোলজিতে নতুন নোড যুক্ত করতে হলে মূল ক্যাবলে সংযোগ দিতে হয় যা জটিল হতে পারে।

পরিশেষে বলা যায়, কর্মদক্ষতা, ট্রাবলশূটিং সুবিধা এবং নির্ভরযোগ্যতার বিচারে 'ওয়াই' কোম্পানির স্টার টপোলজি 'এক্স' কোম্পানির বাস টপোলজির চেয়ে অনেক বেশি সুবিধাজনক।


সৃজনশীল প্রশ্ন ২

একটি ল্যাবে কম্পিউটারগুলো বৃত্তাকারে একে অপরের সাথে যুক্ত। ডেটা একদিকে প্রবাহিত হয়। একটি কম্পিউটার নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায়। ল্যাব ইনচার্জ সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি এই ব্যবস্থা পরিবর্তন করে এমন একটি টপোলজি স্থাপন করবেন যেখানে অনেকগুলো স্টার টপোলজিকে একত্রে যুক্ত করা যাবে।

নেটওয়ার্ক টপোলজি

ক) হাইব্রিড টপোলজি কী?
খ) ট্রি টপোলজিকে 'স্টার অফ স্টারস' বলা হয় কেন?
গ) উদ্দীপকে ল্যাবের বর্তমান টপোলজিটি ব্যাখ্যা কর।
ঘ) ল্যাব ইনচার্জের পরিকল্পিত টপোলজিটি ল্যাবের বর্তমান টপোলজির চেয়ে উন্নত কি না? মতামত দাও।

উত্তর

(ক) ভিন্ন ধরনের একাধিক টপোলজি (যেমন: স্টার, রিং, বাস ইত্যাদি) সমন্বয়ে গঠিত নেটওয়ার্ক টপোলজিকে হাইব্রিড টপোলজি বলে।

(খ) ট্রি টপোলজির গঠন অনেকটা গাছের মতো, যেখানে একটি মূল বা রুট সার্ভারের সাথে অন্যান্য স্তরের কম্পিউটারগুলো যুক্ত থাকে। প্রকৃতপক্ষে ট্রি টপোলজি হলো একাধিক স্টার টপোলজির সমষ্টি। এতে বিভিন্ন স্তরে হাব বা সুইচের মাধ্যমে কম্পিউটারগুলো যুক্ত থাকে, যা দেখতে অনেকগুলো স্টার টপোলজির সংযোগের মতো মনে হয়। এজন্য একে 'স্টার অফ স্টারস' (Star of Stars) বলা হয়।

(গ) উদ্দীপকে ল্যাবের বর্তমান টপোলজিটি হলো রিং টপোলজি (Ring Topology)
রিং টপোলজিতে প্রতিটি কম্পিউটার তার দুই পাশের কম্পিউটারের সাথে যুক্ত হয়ে একটি বৃত্তাকার পথ তৈরি করে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে কম্পিউটারগুলো বৃত্তাকারে যুক্ত এবং ডেটা একদিকে প্রবাহিত হয়। এছাড়া একটি কম্পিউটার নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি রিং টপোলজির অন্যতম প্রধান অসুবিধা। এই টপোলজিতে কোনো কেন্দ্রীয় কম্পিউটার থাকে না এবং প্রতিটি কম্পিউটার রিপিটার হিসেবে কাজ করে সিগন্যালকে পরবর্তী কম্পিউটারে পাঠিয়ে দেয়।

(ঘ) ল্যাব ইনচার্জের পরিকল্পিত টপোলজিটি হলো ট্রি টপোলজি (Tree Topology), যা ল্যাবের বর্তমান রিং টপোলজির চেয়ে উন্নত। নিচে আমার মতামত বিশ্লেষণ করা হলো:

  1. গঠন ও নিয়ন্ত্রণ: রিং টপোলজিতে প্রতিটি নোড নেটওয়ার্কের অংশ এবং এক নোড অচল হলে পুরো নেটওয়ার্ক অচল হয়। অন্যদিকে, ট্রি টপোলজি হায়ারার্কিক্যাল বা স্তরভিত্তিক হওয়ায় এটি নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা সহজ। রুট সার্ভার থেকে শাখা-প্রশাখার মতো এটি বিস্তৃত হয়।
  2. ত্রুটি শনাক্তকরণ: রিং টপোলজিতে কোথায় সমস্যা হয়েছে তা খুঁজে বের করা বেশ কঠিন। কিন্তু ট্রি টপোলজিতে প্রতিটি শাখা বা নোড আলাদাভাবে চেক করা যায়, ফলে ত্রুটি শনাক্তকরণ ও সমাধান (Troubleshooting) অনেক সহজ।
  3. সম্প্রসারণ সুবিধা: রিং টপোলজিতে নতুন কম্পিউটার যোগ করলে নেটওয়ার্কের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয় এবং জটিলতা বাড়ে। ট্রি টপোলজিতে নতুন শাখা বা নোড যুক্ত করা খুবই সহজ এবং এতে মূল নেটওয়ার্কে কোনো প্রভাব পড়ে না।
  4. নির্ভরযোগ্যতা: রিং টপোলজির চেয়ে ট্রি টপোলজি বেশি নির্ভরযোগ্য। ট্রি টপোলজির কোনো একটি ওয়ার্কস্টেশন বা শাখা নষ্ট হলেও পুরো সিস্টেম অচল হয় না (যদি না রুট সার্ভার বা মূল সংযোগ নষ্ট হয়)।

উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ল্যাব ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে এবং নেটওয়ার্কের স্থায়িত্ব বাড়াতে ইনচার্জের রিং টপোলজি পরিবর্তন করে ট্রি টপোলজি স্থাপনের সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত যৌক্তিক ও উন্নত।

এমসিকিউ

১। কোনটি বাস টপোলজির প্রধান উপাদান?

ক) টোকেন
খ) হাব
গ) ব্যাকবোন ক্যাবল
ঘ) রাউটার

সঠিক উত্তর: গ) ব্যাকবোন ক্যাবল

ব্যাখ্যা: বাস টপোলজিতে একটি মূল তার বা ব্যাকবোন ক্যাবলের সাথে সব ওয়ার্কস্টেশন বা কম্পিউটার যুক্ত থাকে। ব্যাকবোন নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক অচল হয়ে যায়।


২। কোন টপোলজিতে টার্মিনেটর ব্যবহার করা হয়?

ক) রিং
খ) বাস
গ) স্টার
ঘ) মেশ

সঠিক উত্তর: খ) বাস

ব্যাখ্যা: বাস টপোলজির দুই প্রান্তে সিগন্যাল শোষণের জন্য টার্মিনেটর (Terminator) ব্যবহার করা হয়। এটি সিগন্যাল রিফ্লেকশন রোধ করে।


৩। সবচেয়ে কম ক্যাবল প্রয়োজন হয় কোন টপোলজিতে?

ক) মেশ
খ) স্টার
গ) রিং
ঘ) বাস

সঠিক উত্তর: ঘ) বাস

ব্যাখ্যা: বাস টপোলজিতে একটি মাত্র মূল তারের সাথে সব নোড যুক্ত থাকে বলে এতে ক্যাবলের পরিমাণ সবচেয়ে কম লাগে। এটি স্থাপন করাও সহজ ও সাশ্রয়ী।


৪। বাস টপোলজির অসুবিধা কোনটি?

ক) হাব বা সুইচ লাগে না
খ) ইনস্টলেশন খরচ বেশি
গ) ডেটা কলিশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে
ঘ) নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত

সঠিক উত্তর: গ) ডেটা কলিশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে

ব্যাখ্যা: বাস টপোলজিতে একই সময়ে একাধিক কম্পিউটার ডেটা পাঠাতে চাইলে সংঘর্ষ বা ডেটা কলিশন (Data Collision) হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এতে নেটওয়ার্কের গতি কমে যায়।


৫। কোন টপোলজিতে ডেটা প্রবাহের দিক একমুখী?

ক) বাস
খ) রিং
গ) স্টার
ঘ) মেশ

সঠিক উত্তর: খ) রিং

ব্যাখ্যা: রিং টপোলজিতে প্রতিটি কম্পিউটার তার পরবর্তী কম্পিউটারে ডেটা পাঠায় এবং ডেটা প্রবাহ সাধারণত একমুখী (Unidirectional) হয়। তবে দ্বিমুখীও হতে পারে।


৬। রিং টপোলজিতে প্রতিটি কম্পিউটার কী হিসেবে কাজ করে?

ক) সার্ভার
খ) ক্লায়েন্ট
গ) রিপিটার
ঘ) রাউটার

সঠিক উত্তর: গ) রিপিটার

ব্যাখ্যা: রিং টপোলজিতে প্রতিটি নোড বা কম্পিউটার সিগন্যাল গ্রহণ করে এবং পরবর্তী নোডে পাঠানোর আগে সিগন্যালকে শক্তিশালী করে। অর্থাৎ প্রতিটি নোড রিপিটার (Repeater) হিসেবে কাজ করে।


৭। টোকেন পাসিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় কোন টপোলজিতে?

ক) স্টার
খ) বাস
গ) রিং
ঘ) হাইব্রিড

সঠিক উত্তর: গ) রিং

ব্যাখ্যা: রিং টপোলজিতে ডেটা আদান-প্রদানের জন্য টোকেন পাসিং (Token Passing) মেথড ব্যবহার করা হয়। যার কাছে টোকেন থাকে, কেবল সেই ডেটা পাঠাতে পারে।


৮। রিং টপোলজির ক্ষেত্রে—
i. একটি কম্পিউটার নষ্ট হলে সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক অচল হয়
ii. নেটওয়ার্কের গতি কম হয়
iii. ইন্সটলেশন খরচ খুব বেশি

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ক) i ও ii

ব্যাখ্যা: রিং টপোলজিতে একটি নোড অচল হলে পুরো লুপ ভেঙে যায়, তাই নেটওয়ার্ক অচল হয়। ডেটা প্রতিটি নোড ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছায় বলে গতি ধীর হয়। তবে খরচ মেশ টপোলজির চেয়ে কম।


৯। স্টার টপোলজির কেন্দ্রীয় ডিভাইসের নাম কী?

ক) মডেম
খ) হাব বা সুইচ
গ) রিপিটার
ঘ) গেটওয়ে

সঠিক উত্তর: খ) হাব বা সুইচ

ব্যাখ্যা: স্টার টপোলজিতে সব নোড একটি কেন্দ্রীয় ডিভাইস বা সেন্ট্রাল কন্ট্রোলারের সাথে যুক্ত থাকে, যা সাধারণত হাব (Hub) বা সুইচ (Switch) হয়ে থাকে।


১০। কোন টপোলজিতে একটি কম্পিউটার নষ্ট হলে বাকি নেটওয়ার্ক সচল থাকে?

ক) রিং
খ) বাস (ব্যাকবোন নষ্ট হলে)
গ) স্টার
ঘ) সম্পূর্ণ মেশ (কিছু সংযোগ নষ্ট হলে)

সঠিক উত্তর: গ) স্টার

ব্যাখ্যা: স্টার টপোলজিতে প্রতিটি পিসি আলাদা তার দিয়ে হাবে যুক্ত থাকে। তাই একটি পিসি বা তার সংযোগ নষ্ট হলেও বাকি নেটওয়ার্কের কাজে কোনো বাধা সৃষ্টি হয় না।


১১। বর্তমানে লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কে (LAN) সবচেয়ে জনপ্রিয় টপোলজি কোনটি?

ক) বাস
খ) রিং
গ) স্টার
ঘ) মেশ

সঠিক উত্তর: গ) স্টার

ব্যাখ্যা: স্টার টপোলজি স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ সহজ, ত্রুটি শনাক্তকরণ দ্রুত এবং একটি নোড নষ্ট হলেও পুরো নেটওয়ার্ক সচল থাকে বলে এটি LAN-এ সর্বাধিক ব্যবহৃত ও জনপ্রিয়।


১২। স্টার টপোলজির সুবিধা হলো—
i. কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়
ii. ডেটা কলিশন হয় না (সুইচ ব্যবহারে)
iii. হাব নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক অচল হয়

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ক) i ও ii

ব্যাখ্যা: স্টার টপোলজি কেন্দ্রীয়ভাবে হাব বা সুইচ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। সুইচ ইন্টেলিজেন্ট ডিভাইস হওয়ায় ডেটা কলিশন এড়ায়। হাব নষ্ট হলে নেটওয়ার্ক অচল হওয়া একটি অসুবিধা, সুবিধা নয়।


নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং ১৩ ও ১৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
'ক' কলেজের কম্পিউটার ল্যাবে ১৫টি কম্পিউটার একটি কেন্দ্রীয় সুইচের সাথে যুক্ত। হঠাৎ সুইচটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ল্যাবের সব কাজ বন্ধ হয়ে গেল।

১৩। উদ্দীপকে বর্ণিত নেটওয়ার্কটি কোন টপোলজির?

ক) বাস
খ) স্টার
গ) রিং
ঘ) ট্রি

সঠিক উত্তর: খ) স্টার

ব্যাখ্যা: কেন্দ্রীয় ডিভাইস বা সুইচের সাথে সব কম্পিউটার যুক্ত থাকার বর্ণনাটি স্টার টপোলজির (Star Topology) বৈশিষ্ট্য।


১৪। উক্ত টপোলজির অসুবিধা কোনটি?

ক) কম্পিউটার নষ্ট হলে নেটওয়ার্ক অচল হয়
খ) ডেটা চলাচলের গতি কম
গ) কেন্দ্রীয় ডিভাইস নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক অচল হয়
ঘ) রক্ষণাবেক্ষণ জটিল

সঠিক উত্তর: গ) কেন্দ্রীয় ডিভাইস নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক অচল হয়

ব্যাখ্যা: স্টার টপোলজির প্রধান অসুবিধা হলো এর কেন্দ্রীয় হাব বা সুইচ নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক অকেজো হয়ে পড়ে, যা উদ্দীপকে ঘটেছে।


১৫। ট্রি টপোলজি মূলত কোন টপোলজির সম্প্রসারিত রূপ?

ক) বাস
খ) রিং
গ) স্টার
ঘ) মেশ

সঠিক উত্তর: গ) স্টার

ব্যাখ্যা: ট্রি টপোলজিকে বলা হয় 'স্টার অফ স্টারস'। এটি মূলত অনেকগুলো স্টার টপোলজিকে হায়ারার্কিক্যাল বা স্তরভিত্তিক বিন্যাসে সাজিয়ে গঠিত হয়।


১৬। কোন টপোলজিতে রুট সার্ভার (Root Server) থাকে?

ক) মেশ
খ) ট্রি
গ) হাইব্রিড
ঘ) বাস

সঠিক উত্তর: খ) ট্রি

ব্যাখ্যা: ট্রি টপোলজির একদম উপরের স্তরে থাকে রুট নোড বা সার্ভার। এর অধীনে অন্যান্য স্তরের নোডগুলো যুক্ত থাকে।


১৭। অফিস ব্যবস্থাপনার জন্য কোন টপোলজি বেশি উপযোগী?

ক) রিং
খ) মেশ
গ) ট্রি
ঘ) হাইব্রিড

সঠিক উত্তর: গ) ট্রি

ব্যাখ্যা: ট্রি টপোলজি শাখার মতো বিন্যস্ত থাকায় অফিসের বিভিন্ন বিভাগ বা ফ্লোরের কম্পিউটারগুলো স্তরভিত্তিক সাজানো সহজ হয়। তাই অফিস ব্যবস্থাপনায় এটি বেশ উপযোগী।


১৮। ট্রি টপোলজির বৈশিষ্ট্য—
i. শাখা-প্রশাখা সৃষ্টির সুযোগ থাকে
ii. নতুন নোড যুক্ত করা সহজ
iii. রুট নোড নষ্ট হলে নেটওয়ার্ক অচল হয়

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ঘ) i, ii ও iii

ব্যাখ্যা: ট্রি টপোলজিতে শাখা বাড়িয়ে নেটওয়ার্ক বড় করা যায় এবং নতুন নোড যোগ করা সহজ। তবে মূল রুট বা সার্ভার নষ্ট হলে সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ে।


১৯। ১০টি কম্পিউটার নিয়ে গঠিত মেশ টপোলজিতে তারের সংখ্যা কতটি হবে?

ক) ১০
খ) ৪৫
গ) ৯০
ঘ) ১০০

সঠিক উত্তর: খ) ৪৫

ব্যাখ্যা: মেশ টপোলজিতে তারের সংখ্যা নির্ণয়ের সূত্র হলো n(n-1)/2। এখানে n=10, তাই 10(10-1)/2 = 90/2 = 45 টি।


২০। কোন টপোলজিতে ডেটা ট্রান্সমিশনে কোনো ট্রাফিক জ্যাম বা ব্লকিং হয় না?

ক) বাস
খ) স্টার
গ) রিং
ঘ) মেশ

সঠিক উত্তর: ঘ) মেশ

ব্যাখ্যা: মেশ টপোলজিতে প্রতিটি নোড অন্য সব নোডের সাথে ডেডিকেটেড বা পৃথক তার দিয়ে যুক্ত থাকে (Point-to-Point)। ফলে একাধিক পথে ডেটা যেতে পারে এবং কোনো ট্রাফিক জ্যাম হয় না।


২১। সবচেয়ে ব্যয়বহুল টপোলজি কোনটি?

ক) বাস
খ) রিং
গ) মেশ
ঘ) স্টার

সঠিক উত্তর: গ) মেশ

ব্যাখ্যা: মেশ টপোলজিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যাবল ও সংযোগ পোর্ট প্রয়োজন হয়, যা অন্য যেকোনো টপোলজির চেয়ে অনেক বেশি। তাই এটি স্থাপন করা সবচেয়ে ব্যয়বহুল।


২২। ইন্টারনেট কোন ধরনের টপোলজির উদাহরণ?

ক) বাস
খ) রিং
গ) মেশ
ঘ) হাইব্রিড

সঠিক উত্তর: গ) মেশ

ব্যাখ্যা: ইন্টারনেটের বিশাল নেটওয়ার্ক বা WAN মূলত মেশ টপোলজির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, যেখানে রাউটারগুলো একে অপরের সাথে একাধিক পথে যুক্ত থাকে।


নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং ২৩ ও ২৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
একটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সার্ভারের সাথে শাখা অফিসগুলোর কম্পিউটার যুক্ত। শাখাগুলোর নিজেদের মধ্যেও সংযোগ আছে, আবার প্রয়োজনে তারা অন্য শাখার মাধ্যমেও তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে। এই ব্যবস্থায় খরচ বেশি হলেও নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা সর্বোচ্চ।

২৩। উদ্দীপকের নেটওয়ার্কটি কোন টপোলজির ইঙ্গিত দেয়?

ক) স্টার
খ) রিং
গ) মেশ
ঘ) বাস

সঠিক উত্তর: গ) মেশ

ব্যাখ্যা: উদ্দীপকে বলা হয়েছে শাখাগুলোর নিজেদের মধ্যে সংযোগ আছে এবং বিকল্প পথেও তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব, যা মেশ টপোলজির (Mesh Topology) বৈশিষ্ট্য। এছাড়া উচ্চ খরচ ও সর্বোচ্চ নির্ভরযোগ্যতার কথাও বলা হয়েছে।


২৪। উক্ত টপোলজি ব্যবহারের যৌক্তিকতা হলো—
i. গোপনীয়তা রক্ষা করা যায়
ii. নেটওয়ার্ক ফল্ট টলারেন্ট
iii. সংযোগ স্থাপন সহজ

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ক) i ও ii

ব্যাখ্যা: মেশ টপোলজিতে ডেডিকেটেড লাইন থাকায় ডেটা অন্য কেউ দেখতে পায় না (গোপনীয়তা) এবং একটি লাইন নষ্ট হলে বিকল্প পথে ডেটা যায় (ফল্ট টলারেন্ট)। তবে সংযোগ স্থাপন করা অত্যন্ত জটিল ও কঠিন (iii সঠিক নয়)।


২৫। হাইব্রিড টপোলজির মূল সুবিধা কী?

ক) কম খরচ
খ) প্রয়োজন অনুযায়ী নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ
গ) কম ক্যাবল লাগে
ঘ) হাব বা সুইচ লাগে না

সঠিক উত্তর: খ) প্রয়োজন অনুযায়ী নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ

ব্যাখ্যা: হাইব্রিড টপোলজিতে বিভিন্ন ধরনের টপোলজি (স্টার, রিং, বাস) একত্রে ব্যবহার করা যায়। ফলে প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন ও অবকাঠামো অনুযায়ী সুবিধাজনকভাবে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা সম্ভব হয়।