ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেম: ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই ও ওয়াইম্যাক্স

ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই এবং ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তির বিস্তারিত তুলনা। IEEE স্ট্যান্ডার্ড, রেঞ্জ এবং ব্যবহার। এইচএসসি আইসিটি অধ্যায় ২।

শেখা শুরু করুন

ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেম: ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই ও ওয়াইম্যাক্স

  1. ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেম: ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই ও ওয়াইম্যাক্স
  2. সবই তো তারবিহীন, পার্থক্য কোথায়?
  3. ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন কেন প্রয়োজন?
  4. ব্লুটুথ (Bluetooth): ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক
  5. ব্লুটুথ আর্কিটেকচার: পিকোনেট ও স্ক্যাটারনেট
  6. ওয়াই-ফাই (Wi-Fi): লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক
  7. হটস্পট (Hotspot) ও এক্সেস পয়েন্ট
  8. ওয়াইম্যাক্স (WiMAX): মেট্রোপলিটন নেটওয়ার্ক
  9. তুলনামূলক বিশ্লেষণ: ব্লুটুথ vs ওয়াই-ফাই vs ওয়াইম্যাক্স
  10. কোনটি কোথায় ব্যবহার করব?
  11. সাধারণ জিজ্ঞাসা (Q&A)
  12. আজকের সারসংক্ষেপ
  13. ধন্যবাদ

ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেম: ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই ও ওয়াইম্যাক্স

এই লেকচার শেষে আমরা-

১। ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই এবং ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তির ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব।
২। প্রতিটি প্রযুক্তির স্ট্যান্ডার্ড (IEEE Standards) এবং রেঞ্জ মনে রাখতে পারব।
৩। পিকোনেট (Piconet) ও স্ক্যাটারনেট (Scatternet) এর ধারণা বর্ণনা করতে পারব।
৪। বিভিন্ন প্রয়োজনে সঠিক ওয়্যারলেস প্রযুক্তি নির্বাচন করতে পারব।

স্বাগতম সবাইকে আজকের আইসিটি ক্লাসে! আশা করি তোমরা সবাই ভালো আছো। গত ক্লাসে আমরা মোবাইল যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রজন্মগুলো নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ আমরা এমন কিছু প্রযুক্তির গভীরে যাবো যা তোমরা প্রতিনিয়ত ব্যবহার করছো। এই লেকচার শেষে আমরা ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই এবং ওয়াইম্যাক্স সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাবো। বিশেষ করে, এদের মধ্যে পার্থক্য কী এবং কখন কোনটা ব্যবহার করা উচিত, সেটা আমরা জানবো। চলো শুরু করা যাক!

সবই তো তারবিহীন, পার্থক্য কোথায়?

দৃশ্যকল্প:

  • ব্লুটুথ: হেডফোন (ব্যক্তিগত ব্যবহার)
  • ওয়াই-ফাই: বাসার রাউটার (লোকাল এরিয়া)
  • ওয়াইম্যাক্স: দূরের টাওয়ার (শহরের সংযোগ)

প্রশ্ন: তিনটিই তারবিহীন, কিন্তু কেন আমরা ব্লুটুথ দিয়ে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ইন্টারনেট পাঠাতে পারি না?

মূল পার্থক্য:
* ভিন্ন ভিন্ন রেঞ্জ (Range)
* ভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সি ও পাওয়ার (Frequency & Power)
* ভিন্ন উদ্দেশ্য (Purpose)

একটু চিন্তা করো তো। তোমার পকেটে থাকা ফোনটা ব্লুটুথ দিয়ে হেডফোনে গান শোনাচ্ছে। আবার ওই একই ফোন ওয়াই-ফাই দিয়ে ইন্টারনেটে ভিডিও লোড করছে। আবার রাস্তায় বের হলে হয়তো মোবাইলে ফোর-জি পাচ্ছো। সবই তো তারবিহীন বা Wireless, তাই না? তাহলে এদের আলাদা আলাদা নাম কেন? কেন আমরা ব্লুটুথ দিয়ে এক বিল্ডিং থেকে অন্য বিল্ডিং এ ইন্টারনেট পাঠাতে পারি না? কারণটা হলো এদের ক্ষমতা বা রেঞ্জ। এই ছবিতে দেখো—ব্লুটুথ কাজ করে একদম কাছে, ওয়াই-ফাই একটা বাড়ি বা অফিসের মধ্যে, আর ওয়াইম্যাক্স বা টাওয়ারগুলো কাজ করে পুরো শহর জুড়ে। আজকের ক্লাসে আমরা এই স্কেল বা পরিধিটাই ভালো করে বুঝবো।

ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন কেন প্রয়োজন?

১. দুর্গম স্থানে যোগাযোগ: পাহাড়, জঙ্গল বা সাগর যেখানে তার টানা অসম্ভব বা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

২. মোবিলিটি (Mobility): চলাফেরা করার সময় নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ রক্ষা করা।

৩. দ্রুত স্থাপন: জরুরি অবস্থায় বা দুর্যোগ মুহূর্তে দ্রুত নেটওয়ার্ক তৈরি করা।

৪. খরচ সাশ্রয়: অনেক ডিভাইসের জন্য আলাদা আলাদা তারের খরচ কমে যায়।

এখন প্রশ্ন হলো, আমরা কেন তারবিহীন প্রযুক্তি ব্যবহার করবো? তার বা ক্যাবল তো অনেক স্টেবল, তাই না? কিন্তু ভেবে দেখো, একটা পাহাড়ি এলাকায় বা দ্বীপের মধ্যে তুমি কীভাবে তার টেনে নিয়ে যাবে? সেটা প্রায় অসম্ভব। তাছাড়া সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো 'Mobility' বা সচলতা। তুমি যদি ল্যাপটপ নিয়ে পার্কে বসে কাজ করতে চাও, বা গাড়িতে যেতে যেতে কথা বলতে চাও—তখন তারবিহীন প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। জরুরি প্রয়োজনে, যেমন কোনো দুর্যোগের সময়, তার ছিঁড়ে যেতে পারে, কিন্তু ওয়্যারলেস সিগন্যাল ঠিকই কাজ চালিয়ে নিতে পারে।

ব্লুটুথ (Bluetooth): ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক

সংজ্ঞা: স্বল্প দূরত্বের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহৃত তারবিহীন প্রযুক্তি।

টেকনিক্যাল তথ্য:
* স্ট্যান্ডার্ড: IEEE 802.15
* নেটওয়ার্ক টাইপ: WPAN (Wireless Personal Area Network)
* ফ্রিকোয়েন্সি: ২.৪ GHz (গিগাহার্টজ)
* রেঞ্জ: ১০-১০০ মিটার (সাধারণত ১০ মি.)
* স্পিড: ১-৩ Mbps (মেগাবিট পার সেকেন্ড)

উদ্ভাবক: ১৯৯৪ সালে এরিকসন (Ericsson) কোম্পানি এটি উদ্ভাবন করে।

চলো প্রথমে সবচেয়ে ছোট পরিসর দিয়ে শুরু করি—ব্লুটুথ। একে বলা হয় WPAN বা Wireless Personal Area Network। কেন 'Personal'? কারণ এটা তোমার ব্যক্তিগত ডিভাইসগুলো—যেমন ফোন, ঘড়ি, হেডফোন—এদের মধ্যে সংযোগ ঘটায়। এর স্ট্যান্ডার্ড নম্বরটা খুব ভালো করে মনে রাখবে: IEEE 802.15। এটা ২.৪ গিগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করে। ব্লুটুথের মূল কনসেপ্ট হলো এটা তার বা ক্যাবলের বিকল্প। আগে মাউস বা কিবোর্ড লাগাতে তার লাগতো, এখন ব্লুটুথ দিয়ে সেটাই তারবিহীন হয়ে গেছে। এর রেঞ্জ খুব কম, সাধারণত ১০ মিটারের মতো, মানে এক রুমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

ব্লুটুথ আর্কিটেকচার: পিকোনেট ও স্ক্যাটারনেট

পিকোনেট (Piconet):
* ব্লুটুথ নেটওয়ার্কের মূল একক।
* ১টি মাস্টার নোড (Master Node) এবং সর্বোচ্চ ৭টি অ্যাক্টিভ স্লেভ নোড (Active Slave Node) থাকে।
* মোট ২৫৫টি পার্কড (Parked) স্লেভ থাকতে পারে।

স্ক্যাটারনেট (Scatternet):
* একাধিক পিকোনেট মিলে গঠিত নেটওয়ার্ক।
* একটি পিকোনেটের মাস্টার অন্যটির স্লেভ হতে পারে, বা একটি স্লেভ দুটি পিকোনেটের সদস্য হতে পারে।

ব্লুটুথের সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো এর আর্কিটেকচার। যখন তুমি ফোনের সাথে হেডফোন কানেক্ট করো, তখন একটা ছোট নেটওয়ার্ক তৈরি হয়, একে বলে 'পিকোনেট'। পিকোনেটে একজন বস থাকে, যাকে বলি 'মাস্টার' (যেমন তোমার ফোন), আর বাকিরা হলো 'স্লেভ' (যেমন হেডফোন, ওয়াচ)। একটা মাস্টারের আন্ডারে সর্বোচ্চ ৭টা অ্যাক্টিভ স্লেভ থাকতে পারে। এখন ধরো, তোমার ক্লাসরুমে পাশাপাশি দুইটা পিকোনেট কাজ করছে এবং তারা একে অপরের সাথে কানেক্টেড—তখন সেটা হয়ে যায় 'স্ক্যাটারনেট'। অর্থাৎ, পিকোনেট হলো একক পরিবার, আর স্ক্যাটারনেট হলো কয়েকটা পরিবারের সমষ্টি। এই কনসেপ্টটা ক্লিয়ার থাকা খুব জরুরি।

ওয়াই-ফাই (Wi-Fi): লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক

পূর্ণরূপ: Wireless Fidelity

টেকনিক্যাল তথ্য:
* স্ট্যান্ডার্ড: IEEE 802.11 (বিভিন্ন ভার্সন: a, b, g, n, ac, ax)
* নেটওয়ার্ক টাইপ: WLAN (Wireless Local Area Network)
* ফ্রিকোয়েন্সি: ২.৪ GHz এবং ৫ GHz
* রেঞ্জ: ৫০-১০০ মিটার (ইনডোর)
* মোড: হাফ-ডুপ্লেক্স (Half-Duplex)

কাজ: হাই-স্পিড ইন্টারনেট শেয়ারিংয়ের জন্য বাসা, অফিস বা ক্যাম্পাসে ব্যবহৃত হয়।

এবার আসি আমাদের সবার পরিচিত ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) নিয়ে। এর পূর্ণরূপ 'Wireless Fidelity'। এটা মূলত WLAN বা Wireless Local Area Network তৈরি করে। এর স্ট্যান্ডার্ড হলো IEEE 802.11। খেয়াল করো, ব্লুটুথ ছিল 15, আর এটা 11। ওয়াই-ফাই এর রেঞ্জ ব্লুটুথের চেয়ে বেশি—একটা পুরো বাসা বা অফিস কভার করতে পারে। এটা সাধারণত ২.৪ গিগাহার্টজ বা ৫ গিগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করে। একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওয়াই-ফাই সাধারণত 'হাফ-ডুপ্লেক্স' মোডে কাজ করে, মানে ওয়াকি-টকির মতো—একই সময়ে হয় ডেটা পাঠাবে অথবা গ্রহণ করবে, দুটো একসাথে পূর্ণ গতিতে করে না, যদিও এত দ্রুত করে যে আমরা বুঝতে পারি না।

হটস্পট (Hotspot) ও এক্সেস পয়েন্ট

হটস্পট (Hotspot):
* একটি নির্দিষ্ট এলাকা যেখানে ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট এক্সেস পাওয়া যায়।
* উদাহরণ: বিমানবন্দর, ক্যাফে, হোটেলের লবি বা তোমার মোবাইলের 'পার্সোনাল হটস্পট'।

এক্সেস পয়েন্ট (Access Point - WAP):
* যে হার্ডওয়্যার ডিভাইসটি (যেমন: রাউটার) তারযুক্ত নেটওয়ার্ককে তারবিহীন সিগন্যালে রূপান্তর করে এবং ডিভাইসে পৌঁছে দেয়।

আমরা প্রায়ই বলি, 'দোস্ত, তোর হটস্পটটা অন কর'। এই হটস্পট আসলে কী? হটস্পট হলো এমন একটা জায়গা বা এলাকা যেখানে তুমি ইন্টারনেট পাচ্ছো। এটা কোনো টেকনোলজি না, এটা একটা লোকেশন বা সুবিধা। আর এই সুবিধাটা যে যন্ত্র দিয়ে তৈরি করা হয়, তাকে বলে এক্সেস পয়েন্ট বা WAP। যেমন তোমার ফোনের ডেটা অন করে যখন 'হটস্পট' চালু করো, তখন তোমার ফোনটা একটা ছোটখাটো রাউটার বা এক্সেস পয়েন্টের মতো আচরণ করে, আর আশেপাশের বন্ধুরা সেই এরিয়া বা হটস্পটের মধ্যে থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে।

ওয়াইম্যাক্স (WiMAX): মেট্রোপলিটন নেটওয়ার্ক

পূর্ণরূপ: Worldwide Interoperability for Microwave Access

টেকনিক্যাল তথ্য:
* স্ট্যান্ডার্ড: IEEE 802.16
* নেটওয়ার্ক টাইপ: WMAN (Wireless Metropolitan Area Network)
* রেঞ্জ: ১০ থেকে ৫০ কিলোমিটার (শহরব্যাপী)
* স্পিড: ৭০ Mbps থেকে ১ Gbps পর্যন্ত
* মোড: ফুল-ডুপ্লেক্স (Full-Duplex)

ব্যবহার: ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রত্যন্ত অঞ্চলে বা পুরো শহরে পৌঁছে দিতে ব্যবহৃত হয়।

এখন ধরো, এমন একটা গ্রাম যেখানে মাটির নিচ দিয়ে অপটিক্যাল ফাইবার নেওয়া খুব কঠিন। সেখানে আমরা কী করবো? সেখানে আমরা ব্যবহার করবো WiMAX। এর পূর্ণরূপটা একটু বড়—Worldwide Interoperability for Microwave Access। সোজা কথায়, এটা হলো 'শক্তিশালী ওয়াই-ফাই'। এর স্ট্যান্ডার্ড IEEE 802.16। এটা WMAN বা মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক তৈরি করে। এর রেঞ্জ অনেক বিশাল—১০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে! অর্থাৎ, একটা টাওয়ার দিয়েই পুরো একটা ছোট শহর বা কয়েকটা গ্রাম কভার করা সম্ভব। আর এর একটা বড় সুবিধা হলো এটা 'ফুল-ডুপ্লেক্স' মোডে কাজ করতে পারে, মানে একই সাথে ডেটা আসা এবং যাওয়া সম্ভব।

তুলনামূলক বিশ্লেষণ: ব্লুটুথ vs ওয়াই-ফাই vs ওয়াইম্যাক্স

বৈশিষ্ট্য ব্লুটুথ (Bluetooth) ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) ওয়াইম্যাক্স (WiMAX)
স্ট্যান্ডার্ড IEEE 802.15 IEEE 802.11 IEEE 802.16
ধরন WPAN (Personal) WLAN (Local) WMAN (Metropolitan)
ফ্রিকোয়েন্সি ২.৪ GHz ২.৪ GHz, ৫ GHz ২-৬৬ GHz
রেঞ্জ ১০-১০০ মিটার ৫০-১০০ মিটার ১০-৫০ কিমি
গতি ১-৩ Mbps ১০-১০০০+ Mbps ৭০ Mbps - ১ Gbps
খরচ কম মাঝারি বেশি

এই স্লাইডটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আমরা তিনটি প্রযুক্তির তুলনা একসাথে দেখছি। ভিডিওটা একটু পজ করে এই চার্টটা খাতায় তুলে নিতে পারো। দেখো, স্ট্যান্ডার্ডগুলো মনে রাখার সহজ উপায়—১১ (Wi-Fi), ১৫ (Bluetooth), ১৬ (WiMAX)। রেঞ্জ এবং টাইপগুলো খেয়াল করো। ব্লুটুথ একদম ব্যক্তিগত, ওয়াই-ফাই লোকাল বা স্থানীয়, আর ওয়াইম্যাক্স হলো বিশাল এলাকা বা মেট্রোপলিটন। এই পার্থক্যগুলো বুঝলে তুমি সহজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে কোন কাজের জন্য কোন প্রযুক্তি দরকার।

কোনটি কোথায় ব্যবহার করব?

  1. ব্লুটুথ:
    * মাউস, কিবোর্ড, স্মার্টওয়াচ, হেডফোন কানেক্ট করতে।
    * খুবই অল্প দূরত্বে ফাইল ট্রান্সফার করতে।

  2. ওয়াই-ফাই:
    * বাসা, অফিস, স্কুল বা ক্যাম্পাসে ইন্টারনেট শেয়ার করতে।
    * স্মার্ট টিভি, ল্যাপটপ বা গেমিং কনসোল কানেক্ট করতে।

  3. ওয়াইম্যাক্স:
    * গ্রামে বা দুর্গম এলাকায় ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে।
    * ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার মধ্যে নিজস্ব নেটওয়ার্ক বা ক্যাম্পাসের দুই ভবনের সংযোগে।

বাস্তব জীবনে আমরা কখন কোনটা ব্যবহার করি? যখন তুমি টেবিলের ওপর ল্যাপটপের সাথে মাউস কানেক্ট করছো, তখন ব্লুটুথ সেরা—কারণ এতে ব্যাটারি কম খরচ হয়। যখন তুমি লাইব্রেরিতে বসে রিসার্চ পেপার ডাউনলোড করছো, তখন তোমার দরকার ওয়াই-ফাই এর হাই স্পিড। আর যদি তুমি এমন কোনো প্রজেক্টে কাজ করো যেখানে গ্রামের একটা স্কুলের সাথে শহরের অফিসের ভিডিও কনফারেন্স করতে হবে এবং সেখানে ব্রডব্যান্ড লাইন নেই, তখন ওয়াইম্যাক্সই হতে পারে একমাত্র সমাধান। প্রযুক্তির এই সঠিক ব্যবহার জানাটাই একজন আইসিটি স্টুডেন্ট হিসেবে তোমার আসল দক্ষতা।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (Q&A)

প্রশ্ন ১: ওয়াই-ফাই কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
* উত্তর: না। ওয়াই-ফাই সিগন্যাল হলো 'নন-আয়োনাইজিং' রেডিয়েশন। এর শক্তি এতই কম যে এটি মানবদেহের টিস্যু বা ডিএনএ-র কোনো ক্ষতি করতে পারে না।

প্রশ্ন ২: ব্লুটুথ ও ওয়াই-ফাই কি একসাথে কাজ করতে পারে?
* উত্তর: হ্যাঁ। যদিও উভয়েই ২.৪ GHz ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে, তবুও আধুনিক ডিভাইসগুলো স্মার্টভাবে ফ্রিকোয়েন্সি হপিং (Frequency Hopping) ব্যবহার করে সংঘর্ষ এড়ায়।

প্রশ্ন ৩: Li-Fi কী?
* উত্তর: এটি আলোর মাধ্যমে ডেটা ট্রান্সফার প্রযুক্তি (Light Fidelity), যা ওয়াই-ফাই এর চেয়েও দ্রুত এবং ভবিষ্যতে হয়তো জনপ্রিয় হবে।

তোমাদের মনে কিছু প্রশ্ন জাগতে পারে। অনেকেই ভাবে, সারাদিন ওয়াই-ফাই এর মধ্যে থাকলে কি স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়? উত্তর হলো, না। এটা নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন, মানে এর শক্তি খুবই কম, সূর্যের আলোর চেয়েও কম ক্ষতিকর। আরেকটা প্রশ্ন আসে—ব্লুটুথ আর ওয়াই-ফাই কি একসাথে চালালে সমস্যা হয়? আগে হতো, কিন্তু এখনকার ডিভাইসগুলো অনেক স্মার্ট, তারা নিজেদের মধ্যে চ্যানেল ভাগ করে নেয় তাই সমস্যা হয় না। আর Li-Fi বা লাইট-ফিডেলিটি হলো একদম নতুন প্রযুক্তি যেখানে লাইট বাল্ব দিয়ে ইন্টারনেট ছড়ানো হয়, এটা নিয়ে আমরা পরে বিস্তারিত জানবো।

আজকের সারসংক্ষেপ

আজকে আমরা যা শিখলাম:

  • ব্লুটুথ (IEEE 802.15): পিকোনেট ও স্ক্যাটারনেট তৈরি করে, ব্যক্তিগত (WPAN) ব্যবহারের জন্য।
  • ওয়াই-ফাই (IEEE 802.11): লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (WLAN) তৈরি করে, উচ্চগতির ইন্টারনেটের জন্য।
  • ওয়াইম্যাক্স (IEEE 802.16): শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বা দুর্গম এলাকায় সংযোগের জন্য WMAN তৈরি করে।

ক্লাস শেষ করার আগে চলো ঝটপট রিভাইজ দিয়ে নেই। আমরা তিনটি প্রধান ওয়্যারলেস প্রযুক্তি দেখলাম। ব্লুটুথ—যা আমাদের পকেটের ডিভাইসের জন্য। ওয়াই-ফাই—যা আমাদের ঘরের বা অফিসের জন্য। এবং ওয়াইম্যাক্স—যা আমাদের শহরের বা দূরের যোগাযোগের জন্য। এদের স্ট্যান্ডার্ড নম্বরগুলো আর রেঞ্জগুলো মনে রাখা কিন্তু খুব জরুরি। এই তিনটি প্রযুক্তির সমন্বয়ই আমাদের আধুনিক জীবনকে এত গতিশীল করেছে।

ধন্যবাদ

আইসিটি সম্পর্কিত যেকোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট সেকশনে জানাতে পারো। নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাও!

আজ এ পর্যন্তই। আশা করি ওয়্যারলেস প্রযুক্তির এই বিষয়গুলো এখন তোমাদের কাছে পানির মতো পরিষ্কার। আগামী ক্লাসে আমরা কথা বলবো মোবাইল ফোন নিয়ে—যে যন্ত্রটা ছাড়া আমাদের এক মুহূর্ত চলে না, সেটা আসলে কীভাবে কাজ করে? সেই ক্লাসটা মিস করো না কিন্তু! সবাই ভালো থেকো, দেখা হবে আগামী ক্লাসে।

লেকচার ৫: ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেম - ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই ও ওয়াইম্যাক্স

পড়তে প্রায় 15 মিনিট

বর্তমান বিশ্বে যোগাযোগ প্রযুক্তির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে তারবিহীন বা ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেম। এটি এমন এক ব্যবস্থা যেখানে কোনো প্রকার ভৌত সংযোগ বা তার ছাড়াই তথ্যের আদান-প্রদান করা সম্ভব হয়। আধুনিক জীবনে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ থেকে শুরু করে স্যাটেলাইট পর্যন্ত সবখানেই এই প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে। এইচএসসি আইসিটি অধ্যায় ২-এর এই অংশে আমরা তিনটি প্রধান ওয়্যারলেস প্রযুক্তি—ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই এবং ওয়াইম্যাক্স নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এখান থেকে বোর্ড পরীক্ষায় প্রায়ই সৃজনশীল এবং বহুনির্বাচনী প্রশ্ন এসে থাকে।

সংজ্ঞা (Definition): ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেম (Wireless Communication System) হলো এমন এক ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা যেখানে কোনো প্রকার ভৌত মাধ্যম (যেমন- তার বা অপটিক্যাল ফাইবার) ছাড়াই ইলেকট্রোম্যাগনেটিক বা তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গের মাধ্যমে দুই বা ততোধিক ডিভাইসের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করা হয়।

ব্লুটুথ (Bluetooth): ব্যক্তিগত পরিমন্ডলে যোগাযোগ

ব্লুটুথ হলো একটি স্বল্প দূরত্বের তারবিহীন যোগাযোগ প্রযুক্তি যা পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা WPAN (Wireless Personal Area Network) তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। ১৯৯৪ সালে টেলিকম ভেন্ডর এরিকসন (Ericsson) এটি উদ্ভাবন করেন। ডেনমার্কের রাজা হারাল্ড ব্লুটুথ (Harald Bluetooth)-এর নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। ব্লুটুথ ২.৪ গিগাহার্টজ (GHz) ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডের রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে এবং ফ্রিকোয়েন্সি হপিং স্প্রেড স্পেকট্রাম (FHSS) প্রযুক্তিতে কাজ করে, যা সিগন্যালকে সুরক্ষিত রাখে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (Key Facts):
- স্ট্যান্ডার্ড: IEEE 802.15
- ফ্রিকোয়েন্সি: ২.৪ GHz থেকে ২.৪৮৫ GHz
- নেটওয়ার্ক ধরন: WPAN
- রেঞ্জ বা পাল্লা: সাধারণত ১০ মিটার (তবে ব্লুটুথ ৫.০-এ এটি ২৪০ মিটার পর্যন্ত হতে পারে)
- ডাটা ট্রান্সফার রেট: ১ থেকে ২৪ Mbps পর্যন্ত (ভার্সন ভেদে ভিন্ন হয়)

ব্লুটুথ নেটওয়ার্কের গঠন: পিকোনেট ও স্ক্যাটারনেট

ব্লুটুথ প্রযুক্তিতে ডিভাইসগুলো একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মাধ্যমে একে অপরের সাথে যুক্ত হয়। এই কাঠামোকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়: পিকোনেট এবং স্ক্যাটারনেট।

ব্লুটুথ পিকোনেট এবং স্ক্যাটারনেট ডায়াগ্রাম

১. পিকোনেট (Piconet)

ব্লুটুথ নেটওয়ার্কের ক্ষুদ্রতম একক হলো পিকোনেট। একটি পিকোনেটে সর্বোচ্চ ৮টি সক্রিয় ডিভাইস থাকতে পারে। এর মধ্যে ১টি থাকে মাস্টার নোড (Master Node) এবং বাকি ৭টি থাকে স্লেভ নোড (Slave Node)
- মাস্টার নোড: এটি পুরো নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করে এবং যোগাযোগের সময় নির্ধারণ করে।
- স্লেভ নোড: মাস্টারের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে।
- পার্কড নোড (Parked Node): একটি পিকোনেটে ৭টি সক্রিয় স্লেভ ছাড়াও সর্বোচ্চ ২৫৫টি পার্কড বা নিষ্ক্রিয় নোড থাকতে পারে। এরা সচল থাকে কিন্তু ডাটা আদান-প্রদান করে না, তবে যেকোনো মুহূর্তে সক্রিয় হতে পারে।

পিকোনেট (Piconet): ব্লুটুথ প্রযুক্তির মাধ্যমে গঠিত এমন একটি নেটওয়ার্ক যেখানে একটি মাস্টার নোড এবং সর্বোচ্চ সাতটি সক্রিয় স্লেভ নোড পরস্পরের সাথে সংযুক্ত থাকে।

২. স্ক্যাটারনেট (Scatternet)

একাধিক পিকোনেটের সমন্বয়ে গঠিত নেটওয়ার্ককে স্ক্যাটারনেট বলে। যখন একটি পিকোনেটের কোনো নোড (মাস্টার বা স্লেভ) অন্য একটি পিকোনেটের সাথে সংযুক্ত হয়, তখন এই বৃহত্তর নেটওয়ার্কটি তৈরি হয়। এর মাধ্যমে ব্লুটুথের কাভারেজ এরিয়া কিছুটা বৃদ্ধি পায়।

পরীক্ষার টিপস (Exam Tip):
উদ্দীপকে যদি "পার্সোনাল", "ব্যক্তিগত ব্যবহার", "১০ মিটারের কম দূরত্ব", "মোবাইল থেকে হেডফোন" বা "মাউস থেকে কম্পিউটার" সংযোগের কথা বলা হয়, তবে উত্তর হবে ব্লুটুথ

ওয়াই-ফাই (Wi-Fi): তারবিহীন লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক

ওয়াই-ফাই বা Wireless Fidelity বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় তারবিহীন ইন্টারনেট প্রযুক্তি। এটি রেডিও ওয়েভ ব্যবহার করে কোনো নির্দিষ্ট এলাকা বা ভবনের মধ্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করে। এটি WLAN (Wireless Local Area Network) এর অন্তর্ভুক্ত। ওয়াই-ফাই প্রযুক্তি মূলত IEEE 802.11 স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে।

সংজ্ঞা (Definition): ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) হলো একটি জনপ্রিয় তারবিহীন নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি যা রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে ডিজিটাল ডিভাইসের মধ্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ এবং তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করে।

ওয়াই-ফাই এর প্রধান স্ট্যান্ডার্ডসমূহ

ওয়াই-ফাই প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে এর বিভিন্ন ভার্সন বা স্ট্যান্ডার্ড এসেছে। এমসিকিউ (MCQ) প্রশ্নের জন্য নিচের ছকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

স্ট্যান্ডার্ড (Standard) প্রকাশের সাল ফ্রিকোয়েন্সি (GHz) সর্বোচ্চ গতি (Speed)
802.11a ১৯৯৯ ৫ GHz ৫৪ Mbps
802.11b ১৯৯৯ ২.৪ GHz ১১ Mbps
802.11g ২০০৩ ২.৪ GHz ৫৪ Mbps
802.11n (Wi-Fi 4) ২০০৯ ২.৪/৫ GHz ৬০০ Mbps
802.11ac (Wi-Fi 5) ২০১৪ ৫ GHz ১.৩ Gbps+
802.11ax (Wi-Fi 6) ২০১৯ ২.৪/৫ GHz ১০-১২ Gbps
ওয়াই-ফাই এর কনফিগারেশন মোড

ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক প্রধানত দুটি মোডে কাজ করে:
1. ইনফ্রাস্ট্রাকচার মোড (Infrastructure Mode): এখানে সকল ডিভাইস একটি কেন্দ্রীয় এক্সেস পয়েন্ট (Access Point) বা রাউটারের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যুক্ত হয়। বাসা-বাড়ি বা অফিসের ওয়াই-ফাই সাধারণত এই মোডে চলে।
2. এড-হক মোড (Ad-hoc Mode): এখানে কোনো কেন্দ্রীয় রাউটার ছাড়াই ডিভাইসগুলো সরাসরি একে অপরের সাথে তথ্য আদান-প্রদান করে।

হটস্পট (Hotspot) বনাম এক্সেস পয়েন্ট (Access Point):
অনেকে এই দুটি বিষয় গুলিয়ে ফেলে।
- এক্সেস পয়েন্ট: এটি হলো একটি হার্ডওয়্যার ডিভাইস (যেমন- রাউটার) যা তারবিহীন সিগন্যাল তৈরি করে।
- হটস্পট: এটি হলো সেই নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকা যেখানে এক্সেস পয়েন্টের মাধ্যমে ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়া যায়। যেমন- টিএসসি চত্বর একটি হটস্পট।

ওয়াইম্যাক্স (WiMAX): মেট্রোপলিটন এলাকার সংযোগ

ওয়াইম্যাক্স বা Worldwide Interoperability for Microwave Access হলো একটি দীর্ঘ দূরত্বের তারবিহীন যোগাযোগ প্রযুক্তি। এটি WMAN (Wireless Metropolitan Area Network) তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়। একে অনেক সময় "DSL এর তারবিহীন বিকল্প" বলা হয় কারণ এটি ব্রডব্যান্ড গতির ইন্টারনেট তার ছাড়াই অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারে।

সংজ্ঞা (Definition): ওয়াইম্যাক্স (WiMAX) হলো একটি আইপি-ভিত্তিক তারবিহীন যোগাযোগ প্রযুক্তি যা IEEE 802.16 স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এবং ১০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রদান করে।

WiMAX নেটওয়ার্ক আর্কিটেকচার

ওয়াইম্যাক্স এর প্রকারভেদ

ওয়াইম্যাক্স প্রধানত দুই ধরনের হয়ে থাকে:
1. ফিক্সড ওয়াইম্যাক্স (Fixed WiMAX - 802.16d): এটি নির্দিষ্ট স্থানে স্থির গ্রাহকদের জন্য ইন্টারনেট সেবা দেয়। এর গ্রাহক প্রান্তে একটি অ্যান্টেনা বা রিসিভার বসানো থাকে (যেমন ডিশ অ্যান্টেনার মতো)। এর রেঞ্জ বেশি (প্রায় ৫০ কিমি)।
2. মোবাইল ওয়াইম্যাক্স (Mobile WiMAX - 802.16e): এটি চলমান অবস্থায় ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ দেয়। ল্যাপটপ বা মোবাইলের মতো ডিভাইসে এটি সরাসরি কাজ করতে পারে। এর রেঞ্জ ফিক্সড ওয়াইম্যাক্সের চেয়ে কম (৫-১৫ কিমি)।

সিগন্যাল ট্রান্সমিশন পদ্ধতি

ওয়াইম্যাক্স দুটি পদ্ধতিতে সিগন্যাল পাঠায়:
- LOS (Line of Sight): ট্রান্সমিটার ও রিসিভারের মধ্যে কোনো বাধা থাকতে পারবে না। এতে ফ্রিকোয়েন্সি বেশি এবং গতিও বেশি হয়।
- NLOS (Non-Line of Sight): ট্রান্সমিটার ও রিসিভারের মাঝখানে পাহাড় বা ভবন থাকলেও সমস্যা নেই। এটি ওয়াই-ফাই এর মতোই কাজ করে তবে অনেক বড় পরিসরে।

তুলনামূলক বিশ্লেষণ: ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই ও ওয়াইম্যাক্স

বোর্ড পরীক্ষায় প্রায়ই "গ" বা "ঘ" নম্বর প্রশ্নে এই তিনটি প্রযুক্তির তুলনা করতে বলা হয়। নিচের ছকটি ভালোভাবে আয়ত্ত করলে যেকোনো তুলনামূলক প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সহজ হবে।

বৈশিষ্ট্য ব্লুটুথ (Bluetooth) ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) ওয়াইম্যাক্স (WiMAX)
স্ট্যান্ডার্ড (IEEE) 802.15 802.11 802.16
নেটওয়ার্ক ধরন WPAN (Personal) WLAN (Local) WMAN (Metropolitan)
ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড ২.৪ GHz ২.৪ GHz এবং ৫ GHz ২ - ৬৬ GHz
কভারেজ এরিয়া (Range) ১০ - ১০০ মিটার ৫০ - ২০০ মিটার ১০ - ৫০ কিলোমিটার
ডাটা ট্রান্সফার রেট ১ - ২৪ Mbps ৫৪ Mbps - ১ Gbps+ ৭০ Mbps - ১ Gbps
নিরাপত্তা ব্যবস্থা কম সুরক্ষিত WEP, WPA, WPA2 (উচ্চ) উচ্চ মানের এনক্রিপশন
খরচ খুব কম মাঝারি অনেক বেশি (ইনফ্রাস্ট্রাকচার)
প্রধান ব্যবহার ফাইল শেয়ারিং, অডিও ডিভাইস অফিস বা বাসায় ইন্টারনেট শহরজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ

সৃজনশীল প্রশ্নের উদাহরণ (Creative Question Example):


দৃশ্যকল্প ১: রফিক তার ল্যাপটপ থেকে তারবিহীন মাউস ব্যবহার করে কাজ করছে।


দৃশ্যকল্প ২: একটি কলেজ ক্যাম্পাসে সকল ছাত্রছাত্রীর জন্য তারবিহীন ইন্টারনেট সুবিধা চালু করা হলো।


দৃশ্যকল্প ৩: একটি পাহাড়ি এলাকায় যেখানে ক্যাবল লাইন নেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হলো।



বিশ্লেষণ:
- দৃশ্যকল্প ১-এ ব্লুটুথ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে (WPAN, স্বল্প দূরত্ব)।
- দৃশ্যকল্প ২-এ ওয়াই-ফাই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে (WLAN, ক্যাম্পাস এরিয়া)।
- দৃশ্যকল্প ৩-এ ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে (WMAN, দুর্গম এলাকা/বড় রেঞ্জ)।

সংক্ষিপ্ত সারাংশ (Quick Revision):
- ব্লুটুথ: IEEE 802.15, ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক (WPAN), পিকোনেট ও স্ক্যাটারনেট তৈরি করে।
- ওয়াই-ফাই: IEEE 802.11, লোকাল নেটওয়ার্ক (WLAN), হটস্পট ও এক্সেস পয়েন্ট ব্যবহার করে।
- ওয়াইম্যাক্স: IEEE 802.16, মেট্রোপলিটন নেটওয়ার্ক (WMAN), ফিক্সড ও মোবাইল ভার্সন আছে।

গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা (Glossary)

শব্দসংক্ষেপ পূর্ণরূপ ব্যাখ্যা
IEEE Institute of Electrical and Electronics Engineers আন্তর্জাতিক সংস্থা যা কমিউনিকেশন স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ করে।
WPAN Wireless Personal Area Network ব্যক্তিগত ডিভাইসের মধ্যে (১০ মিটারের কম) নেটওয়ার্ক।
WLAN Wireless Local Area Network স্থানীয় বা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে (যেমন অফিস/বাসা) তারবিহীন নেটওয়ার্ক।
WMAN Wireless Metropolitan Area Network একটি শহর বা বড় এলাকা জুড়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক।
Hotspot Hotspot একটি নির্দিষ্ট এলাকা যেখানে ওয়াই-ফাই এর মাধ্যমে ইন্টারনেট এক্সেস পাওয়া যায়।
SSID Service Set Identifier ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের নাম যা আমরা মোবাইলে দেখতে পাই।

অনুশীলনের প্রশ্ন

সৃজনশীল প্রশ্ন

সৃজনশীল প্রশ্ন ১

মি. রাতুল তার ল্যাপটপ, স্মার্টফোন এবং প্রিন্টারকে তারহীন প্রযুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত করে একটি ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক তৈরি করলেন। অন্যদিকে তার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পুরো এলাকা জুড়ে তারহীন ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরি, ক্যাফেটেরিয়া বা মাঠে বসেও ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে।

ক) হটস্পট কী?
খ) ব্লুটুথকে পিকোনেট বলা হয় কেন?
গ) মি. রাতুলের তৈরি করা নেটওয়ার্কটির ধরণ ব্যাখ্যা কর।
ঘ) ক্যাম্পাসে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি এবং রাতুলের ব্যবহৃত প্রযুক্তির মধ্যে কোনটি বেশি সুবিধাজনক? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

(ক) হটস্পট হলো একটি নির্দিষ্ট এলাকা যেখানে তারহীন ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইন্টারনেটে সংযুক্ত হওয়ার সুবিধা পাওয়া যায়।

(খ) ব্লুটুথ প্রযুক্তির মাধ্যমে গঠিত নেটওয়ার্ককে পিকোনেট (Piconet) বলা হয়। একটি পিকোনেটে সর্বোচ্চ ৮টি যন্ত্র সংযুক্ত থাকতে পারে, যার মধ্যে ১টি মাস্টার (Master) এবং বাকি ৭টি স্লেভ (Slave) হিসেবে কাজ করে। এই ক্ষুদ্র পরিসরের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার কারণেই একে পিকোনেট বলা হয়।

(গ) উদ্দীপকে মি. রাতুলের তৈরি করা নেটওয়ার্কটি হলো WPAN বা Wireless Personal Area Network, যা মূলত ব্লুটুথ (Bluetooth) প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
ব্লুটুথ হলো একটি স্বল্প দূরত্বের (১০-১০০ মিটার) তারহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা যা ২.৪ গিগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করে। এটি IEEE 802.15 স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলে। উদ্দীপকে রাতুল তার ল্যাপটপ, ফোন ও প্রিন্টারকে সংযুক্ত করে যে ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন, তা ব্লুটুথ প্রযুক্তির প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই প্রযুক্তিতে কোনো প্রকার তার বা ক্যাবল ছাড়াই স্বল্প পরিসরে ডেটা আদান-প্রদান করা যায়, যা পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা PAN তৈরির জন্য আদর্শ।

(ঘ) উদ্দীপকে ক্যাম্পাসে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো Wi-Fi (WLAN) এবং রাতুলের ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো Bluetooth (WPAN)। নিচে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:

  1. কভারেজ বা ব্যপ্তি: ব্লুটুথের কভারেজ খুবই কম (সাধারণত ১০ থেকে ১০০ মিটার), যা শুধুমাত্র একটি কক্ষ বা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য উপযোগী। অন্যদিকে, ওয়াই-ফাই এর কভারেজ ৫০ থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত হতে পারে এবং অ্যাক্সেস পয়েন্ট বাড়িয়ে পুরো ক্যাম্পাস কাভার করা সম্ভব।

  2. ডেটা ট্রান্সফার স্পিড: ব্লুটুথের ডেটা ট্রান্সফার রেট তুলনামূলক কম (১-৩ Mbps)। কিন্তু ওয়াই-ফাই এর গতি অনেক বেশি (সাধারণত ১১ Mbps থেকে কয়েক Gbps পর্যন্ত), যা ইন্টারনেট ব্রাউজিং ও বড় ফাইল শেয়ারিংয়ের জন্য উপযোগী।

  3. নিরাপত্তা: ওয়াই-ফাই প্রযুক্তিতে WPA2/WPA3 এনক্রিপশন ব্যবহার করায় এটি ব্লুটুথের চেয়ে বেশি নিরাপদ।

  4. ব্যবহার: ব্লুটুথ মূলত ডিভাইস টু ডিভাইস (যেমন: ফোন থেকে প্রিন্টার) সংযোগে ব্যবহৃত হয়। আর ওয়াই-ফাই মূলত ইন্টারনেট সংযোগ এবং লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (LAN) তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

সিদ্ধান্ত: ক্যাম্পাসের মতো বড় এলাকায় বহু ব্যবহারকারীকে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়ার জন্য ওয়াই-ফাই প্রযুক্তিটি রাতুলের ব্লুটুথ প্রযুক্তির চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও সুবিধাজনক।


সৃজনশীল প্রশ্ন ২

একটি আধুনিক শহরের বিভিন্ন সরকারি অফিসের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য এমন একটি ওয়ারলেস প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলো যা ১০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকা কাভার করতে পারে। কিন্তু শহরের ভেতরের একটি কফি শপে গ্রাহকদের জন্য ছোট রেঞ্জের আরেকটি তারহীন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যার মাধ্যমে তারা ল্যাপটপ বা মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে।

ক) WiMAX কী?
খ) Wi-Fi এর পূর্ণরূপ এবং স্ট্যান্ডার্ড লিখ।
গ) কফি শপের প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
ঘ) শহরের অফিসের যোগাযোগের প্রযুক্তিটি (WiMAX) কি কফি শপের প্রযুক্তির (Wi-Fi) বিকল্প হতে পারে? মতামত দাও।

উত্তর

(ক) WiMAX (Worldwide Interoperability for Microwave Access) হলো একটি তারহীন যোগাযোগ প্রযুক্তি যা বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে (১০-৫০ কি.মি.) উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সুবিধা প্রদান করে।

(খ) Wi-Fi এর পূর্ণরূপ হলো Wireless Fidelity। এটি IEEE 802.11 স্ট্যান্ডার্ড মেনে কাজ করে।

(গ) উদ্দীপকে কফি শপে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো Wi-Fi (Wireless Fidelity)।
এটি একটি জনপ্রিয় তারহীন নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি যা রেডিও ওয়েভ ব্যবহার করে কোনো নির্দিষ্ট এলাকার (WLAN) মধ্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করে। এটি IEEE 802.11 স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এবং সাধারণত ৫০-১০০ মিটার এলাকার মধ্যে কার্যকর থাকে। কফি শপ, অফিস বা বাসাবাড়িতে রাউটার বা অ্যাক্সেস পয়েন্টের মাধ্যমে হটস্পট তৈরি করে একাধিক ডিভাইসকে ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত করতে এই প্রযুক্তি বহুল ব্যবহৃত হয়। এটি সস্তা এবং সেটআপ করা সহজ।

(ঘ) শহরের অফিসে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো WiMAX এবং কফি শপের প্রযুক্তিটি হলো Wi-Fi। যদিও উভয়ই তারহীন প্রযুক্তি, তবে WiMAX পুরোপুরি Wi-Fi এর বিকল্প হতে পারে না। নিচে এর কারণ বিশ্লেষণ করা হলো:

  1. রেঞ্জ ও ব্যবহার: WiMAX হলো একটি MAN (Metropolitan Area Network) প্রযুক্তি যা ১০-৫০ কি.মি. এলাকা কাভার করে, তাই এটি শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সংযোগের জন্য আদর্শ। অন্যদিকে Wi-Fi হলো LAN প্রযুক্তি যা মাত্র ৫০-১০০ মিটার কাভার করে, যা কফি শপের মতো ছোট জায়গার জন্য উপযুক্ত।

  2. খরচ ও জটিলতা: WiMAX এর অবকাঠামো স্থাপন এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেক বেশি এবং জটিল। কফি শপের মতো ছোট পরিসরে এত দামী প্রযুক্তি ব্যবহার করা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়। সেখানে Wi-Fi অনেক সাশ্রয়ী।

  3. পাওয়ার কনজাম্পশন: Wi-Fi রিসিভার বা ডিভাইসে ব্যাটারি খরচ তুলনামূলক কম, যা সাধারণ মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহারকারীদের জন্য সুবিধাজনক। WiMAX ডিভাইসে বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়।

মতামত: শহরের বড় পরিসরে সংযোগের জন্য WiMAX সেরা হলেও, কফি শপের মতো ছোট ও ব্যক্তিগত পরিসরে স্বল্প খরচে ইন্টারনেট বিতরণের জন্য Wi-Fi ই সর্বোৎকৃষ্ট। তাই ছোট পরিসরে WiMAX, Wi-Fi এর ব্যবহারিক বিকল্প নয় বরং একে অপরের পরিপূরক হতে পারে (যেমন: WiMAX ব্যাকবোন হিসেবে এবং Wi-Fi ডিস্ট্রিবিউশন হিসেবে)।


সৃজনশীল প্রশ্ন ৩

'এক্স' কোম্পানি তাদের প্রধান অফিসের বিভিন্ন তলার কম্পিউটারগুলোর মধ্যে তারহীন সংযোগ স্থাপনের জন্য একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে। কিছুদিন পর তারা শহরের দুই প্রান্তে অবস্থিত তাদের দুটি শাখার মধ্যে ডেটা আদান-প্রদানের জন্য ক্যাবল বা তারের ঝামেলা এড়াতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আরেকটি তারহীন প্রযুক্তি স্থাপন করল যা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াতেও মোটামুটি কাজ করে।

ক) স্ক্যাটারনেট (Scatternet) কী?
খ) ইনফ্রারেড প্রযুক্তির অসুবিধাগুলো লিখ।
গ) অফিসের ভেতরে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটির ধরণ বর্ণনা কর।
ঘ) দুটি শাখার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটির উপযোগিতা বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

(ক) একাধিক পিকোনেট (Piconet) যখন একে অপরের সাথে সংযুক্ত হয়ে একটি বৃহত্তর ব্লুটুথ নেটওয়ার্ক গঠন করে, তখন তাকে স্ক্যাটারনেট (Scatternet) বলে।

(খ) ইনফ্রারেড প্রযুক্তির অসুবিধাগুলো হলো:
১. এর সিগন্যাল কোনো বাধা (যেমন দেয়াল) ভেদ করতে পারে না।
২. ট্রান্সমিটার ও রিসিভারকে অবশ্যই সরলরেখায় (Line of Sight) থাকতে হয়।
৩. এর রেঞ্জ খুবই কম (সাধারণত ১০ মিটারের মধ্যে)।
৪. সূর্যরশ্মি বা অন্য তীব্র আলোতে এর সিগন্যাল বাধাপ্রাপ্ত হয়।

(গ) উদ্দীপকে অফিসের ভেতরে বিভিন্ন তলার কম্পিউটারগুলোর মধ্যে সংযোগের জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো Wi-Fi বা Wireless LAN (WLAN)
একটি বহুতল ভবনে বা অফিসের ভেতরে তারহীনভাবে লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য ওয়াই-ফাই সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রযুক্তি। এটি IEEE 802.11 স্ট্যান্ডার্ড ব্যবহার করে এবং এর মাধ্যমে কম্পিউটার, প্রিন্টার ও অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইস সহজে সংযুক্ত করা যায়। ক্যাবলিংয়ের ঝামেলা না থাকায় অফিসের ইন্টেরিয়র নষ্ট হয় না এবং ব্যবহারকারীরা অফিসের যেকোনো স্থানে বসে নেটওয়ার্ক অ্যাক্সেস করতে পারেন। এর গতি এবং ব্যান্ডউইথ অফিসের সাধারণ ফাইল শেয়ারিং ও যোগাযোগের জন্য যথেষ্ট।

(ঘ) উদ্দীপকে শহরের দুই প্রান্তে অবস্থিত দুটি শাখার মধ্যে সংযোগ স্থাপনে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো WiMAX (IEEE 802.16)। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের উপযোগিতা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

  1. বিস্তীর্ণ কভারেজ: শহরের দুই প্রান্তের দূরত্ব কয়েক কিলোমিটার হতে পারে। Wi-Fi বা ব্লুটুথ দিয়ে এই দূরত্ব কাভার করা অসম্ভব। WiMAX ১০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বা তারও বেশি দূরত্বে উচ্চগতির সংযোগ দিতে সক্ষম।

  2. ক্যাবলবিহীন সংযোগ: শহরের মধ্যে অপটিক্যাল ফাইবার বা ক্যাবল টানা ব্যয়বহুল এবং অনেক সময় রাস্তায় খননকার্যের অনুমতি পাওয়া কঠিন। WiMAX তারহীন হওয়ায় এই ঝামেলা নেই এবং দ্রুত স্থাপন করা যায়।

  3. উচ্চগতি ও ব্যান্ডউইথ: অফিসের দুই শাখার মধ্যে বড় ডেটা ফাইল, ভিডিও কনফারেন্সিং বা সার্ভার সিঙ্ক করার জন্য উচ্চগতির প্রয়োজন, যা WiMAX (৭৫ Mbps বা তার বেশি) প্রদান করতে পারে।

  4. দুর্যোগ সহনশীলতা: উদ্দীপকে বলা হয়েছে এটি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াতেও কাজ করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে তারের লাইন ছিঁড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি থাকে, কিন্তু WiMAX তারহীন হওয়ায় সেই ঝুঁকি কম।

সিদ্ধান্ত: শহরের দূরবর্তী দুটি শাখার মধ্যে নির্ভরযোগ্য, দ্রুত এবং ঝামেলামুক্ত সংযোগ স্থাপনের জন্য WiMAX প্রযুক্তিটি অত্যন্ত উপযোগী এবং কার্যকর।

এমসিকিউ

১। ব্লুটুথ প্রযুক্তির স্ট্যান্ডার্ড কোনটি?

ক) IEEE 802.11
খ) IEEE 802.15
গ) IEEE 802.16
ঘ) IEEE 802.20

সঠিক উত্তর: খ) IEEE 802.15

ব্যাখ্যা: ব্লুটুথ হলো একটি ওয়্যারলেস পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (WPAN) প্রোটোকল যা IEEE 802.15 স্ট্যান্ডার্ডের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।


২। Wi-Fi এর পূর্ণরূপ কী?

ক) Wireless Fidelity
খ) Wired Fidelity
গ) Wireless Finance
ঘ) World Fidelity

সঠিক উত্তর: ক) Wireless Fidelity

ব্যাখ্যা: Wi-Fi বা Wireless Fidelity হলো তারহীন লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (WLAN) প্রযুক্তির একটি জনপ্রিয় নাম।


৩। WiMAX প্রযুক্তির কভারেজ এরিয়া সাধারণত কতটুকু?

ক) ১০-৩০ মিটার
খ) ৫০-১০০ মিটার
গ) ১০-৫০ কিলোমিটার
ঘ) ১০০-২০০ কিলোমিটার

সঠিক উত্তর: গ) ১০-৫০ কিলোমিটার

ব্যাখ্যা: WiMAX (Worldwide Interoperability for Microwave Access) হলো একটি মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক (MAN) প্রযুক্তি যা ১০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বা তার বেশি এলাকা কভার করতে পারে।


৪। পিকোনেট (Piconet) কোন প্রযুক্তির সাথে সম্পর্কিত?

ক) Wi-Fi
খ) Bluetooth
গ) WiMAX
ঘ) GPS

সঠিক উত্তর: খ) Bluetooth

ব্যাখ্যা: ব্লুটুথ প্রযুক্তিতে তৈরি ক্ষুদ্র নেটওয়ার্ককে পিকোনেট বলা হয়। একটি পিকোনেটে সর্বোচ্চ ৮টি সক্রিয় ডিভাইস সংযুক্ত থাকতে পারে।


৫। একাধিক পিকোনেট মিলে কী গঠিত হয়?

ক) ইন্টারনেট
খ) স্ক্যাটারনেট (Scatternet)
গ) লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক
ঘ) মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক

সঠিক উত্তর: খ) স্ক্যাটারনেট (Scatternet)

ব্যাখ্যা: একাধিক পিকোনেট একে অপরের সাথে সংযুক্ত হয়ে যে বৃহত্তর নেটওয়ার্ক গঠন করে তাকে স্ক্যাটারনেট বলা হয়।


৬। Wi-Fi প্রযুক্তিতে কোন ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড বেশি ব্যবহৃত হয়?

ক) ১.৫ GHz
খ) ২.৪ GHz ও ৫ GHz
গ) ১০ GHz
ঘ) ৫০ GHz

সঠিক উত্তর: খ) ২.৪ GHz ও ৫ GHz

ব্যাখ্যা: সাধারণ ওয়াই-ফাই রাউটার বা অ্যাক্সেস পয়েন্টগুলো ২.৪ গিগাহার্টজ (GHz) এবং ৫ গিগাহার্টজ (GHz) রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডে কাজ করে।


৭। IEEE 802.16 কোনটির স্ট্যান্ডার্ড?

ক) Bluetooth
খ) Wi-Fi
গ) WiMAX
ঘ) Mobile Network

সঠিক উত্তর: গ) WiMAX

ব্যাখ্যা: WiMAX প্রযুক্তি IEEE 802.16 স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে।


৮। ব্লুটুথ এর সর্বোচ্চ ডেটা ট্রান্সফার রেট কত হতে পারে (ভার্সন ৪.০ অনুযায়ী)?

ক) ১১ Mbps
খ) ২৪ Mbps
গ) ৫৪ Mbps
ঘ) ১ Gbps

সঠিক উত্তর: খ) ২৪ Mbps

ব্যাখ্যা: ব্লুটুথ ভার্সন ৩.০ এবং ৪.০ এর তাত্ত্বিক সর্বোচ্চ গতি ২৪ Mbps পর্যন্ত হতে পারে। তবে সাধারণ ব্লুটুথের গতি ১-৩ Mbps এর মধ্যে থাকে।


৯। নিচের কোনটি স্বল্প দূরত্বের (Short Range) তারহীন যোগাযোগ মাধ্যম?

ক) স্যাটেলাইট
খ) মাইক্রোওয়েভ
গ) ব্লুটুথ
ঘ) অপটিক্যাল ফাইবার

সঠিক উত্তর: গ) ব্লুটুথ

ব্যাখ্যা: ব্লুটুথ খুব স্বল্প দূরত্বে (সাধারণত ১০ মিটারের মধ্যে) ডেটা আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়। স্যাটেলাইট ও মাইক্রোওয়েভ দীর্ঘ দূরত্বের জন্য।


১০। হটস্পট (Hotspot) বলতে কী বোঝায়?

ক) একটি নির্দিষ্ট স্থান যেখানে তারযুক্ত ইন্টারনেট আছে
খ) একটি নির্দিষ্ট এলাকা যেখানে ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়া যায়
গ) মোবাইলের চার্জিং পয়েন্ট
ঘ) স্যাটেলাইট রিসিভার স্টেশন

সঠিক উত্তর: খ) একটি নির্দিষ্ট এলাকা যেখানে ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়া যায়

ব্যাখ্যা: হটস্পট হলো এমন একটি ভৌত অবস্থান যেখানে ওয়াই-ফাই রাউটার বা অ্যাক্সেস পয়েন্টের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তারহীন ইন্টারনেট সংযোগ পেতে পারেন।


১১। WiMAX প্রযুক্তির প্রধান সুবিধা কোনটি?

ক) খুব সস্তা ডিভাইস
খ) ব্যাটারি খরচ কম
গ) দুর্গম ও গ্রামীণ এলাকায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রদান
ঘ) শুধুমাত্র ঘরের ভেতরে কাজ করে

সঠিক উত্তর: গ) দুর্গম ও গ্রামীণ এলাকায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রদান

ব্যাখ্যা: WiMAX এর কভারেজ এরিয়া অনেক বড় হওয়ায় এটি ক্যাবল সংযোগবিহীন দুর্গম বা গ্রামীণ এলাকায় উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার জন্য অত্যন্ত কার্যকর।


১২। ব্লুটুথ নেটওয়ার্কে মাস্টার ডিভাইসের সংখ্যা কয়টি থাকে?

ক) ১টি
খ) ২রি
গ) ৭টি
ঘ) ৮টি

সঠিক উত্তর: ক) ১টি

ব্যাখ্যা: একটি পিকোনেটে ১টি মাস্টার (Master) ডিভাইস এবং সর্বোচ্চ ৭টি স্লেভ (Slave) ডিভাইস থাকতে পারে।


১৩। Wi-Fi এর তুলনায় WiMAX এর গতি কেমন?

ক) কম
খ) সমান
গ) অনেক বেশি
ঘ) খুব ধীর

সঠিক উত্তর: গ) অনেক বেশি

ব্যাখ্যা: আধুনিক WiMAX (যেমন WiMAX 2+) প্রযুক্তির গতি সাধারণ Wi-Fi এর চেয়ে অনেক বেশি এবং এটি দীর্ঘ দূরত্বে স্থিতিশীল সংযোগ দিতে পারে।


১৪। তারহীন প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে-
i. ব্লুটুথ মাউস ও কিবোর্ড সংযোগে ব্যবহৃত হয়
ii. ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট শেয়ারিংয়ে ব্যবহৃত হয়
iii. ওয়াইম্যাক্স শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সংযোগ দেয়

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ঘ) i, ii ও iii

ব্যাখ্যা: তিনটি উক্তিই সঠিক। ব্লুটুথ পেরিফেরাল ডিভাইসে, ওয়াই-ফাই লোকাল নেটওয়ার্কিংয়ে এবং ওয়াইম্যাক্স মেট্রোপলিটন নেটওয়ার্কিংয়ে ব্যবহৃত হয়।


১৫। ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) প্রযুক্তির বৈশিষ্ট্য হলো-
i. এটি ল্যান (LAN) তৈরিতে ব্যবহৃত হয়
ii. এর কভারেজ এরিয়া ব্লুটুথের চেয়ে বেশি
iii. এটি বিদ্যুৎ খরচ ব্লুটুথের চেয়ে কম করে

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ক) i ও ii

ব্যাখ্যা: ওয়াই-ফাই ল্যান তৈরিতে এবং ব্লুটুথের চেয়ে বেশি কভারেজ দিতে সক্ষম। তবে ওয়াই-ফাই ডিভাইসে ব্লুটুথের তুলনায় বিদ্যুৎ খরচ বেশি হয়, তাই ৩য় উক্তিটি সঠিক নয়।


১৬। নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ১৬ ও ১৭ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
মি. রফিক তার ল্যাপটপে ইন্টারনেট সংযোগ নেওয়ার জন্য মোবাইলের একটি বিশেষ অপশন চালু করলেন। এতে তার মোবাইলটি একটি ছোট রাউটারের মতো কাজ শুরু করল এবং ল্যাপটপে ইন্টারনেট সংযোগ পেল।

মি. রফিক মোবাইলে কোন অপশনটি চালু করেছিলেন?

ক) ব্লুটুথ
খ) পোর্টেবল হটস্পট
গ) জিপিএস
ঘ) ইনফ্রারেড

সঠিক উত্তর: খ) পোর্টেবল হটস্পট

ব্যাখ্যা: মোবাইলের ডেটা বা ইন্টারনেট সংযোগকে ওয়াই-ফাই সিগন্যালের মাধ্যমে অন্য ডিভাইসে শেয়ার করার অপশনটিকে পোর্টেবল হটস্পট বা টেদারিং (Tethering) বলা হয়।


১৭। উদ্দীপকের প্রযুক্তিটি কোন স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলে?

ক) IEEE 802.15
খ) IEEE 802.11
গ) IEEE 802.16
ঘ) IEEE 802.20

সঠিক উত্তর: খ) IEEE 802.11

ব্যাখ্যা: হটস্পট মূলত ওয়াই-ফাই প্রযুক্তি ব্যবহার করে, আর ওয়াই-ফাই এর স্ট্যান্ডার্ড হলো IEEE 802.11।


১৮। WMAN বা Wireless Metropolitan Area Network এর উদাহরণ কোনটি?

ক) Bluetooth
খ) Wi-Fi
গ) WiMAX
ঘ) Infrared

সঠিক উত্তর: গ) WiMAX

ব্যাখ্যা: WiMAX প্রযুক্তিটি একটি মেট্রোপলিটন বা শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা কাভার করার জন্য তৈরি, তাই এটি WMAN এর উদাহরণ।


১৯। ব্লুটুথ (Bluetooth) প্রযুক্তির নামকরণের সাথে কোন দেশের রাজার নাম জড়িত?

ক) ডেনমার্ক
খ) সুইডেন
গ) নরওয়ে
ঘ) ফিনল্যান্ড

সঠিক উত্তর: ক) ডেনমার্ক

ব্যাখ্যা: দশম শতাব্দীর ডেনমার্কের রাজা 'হ্যারাল্ড ব্লুটুথ' (Harald Bluetooth) এর নামানুসারে এই প্রযুক্তির নামকরণ করা হয়।


২০। Wi-Fi এর নিরাপত্তা প্রটোকল কোনটি?

ক) HTML
খ) WPA2
গ) HTTP
ঘ) FTP

সঠিক উত্তর: খ) WPA2

ব্যাখ্যা: WPA2 (Wi-Fi Protected Access 2) হলো ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা বা এনক্রিপশন প্রটোকল।


২১। নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ২১ ও ২২ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
একটি বহুতল ভবনের প্রতিটি তলায় ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ এমন একটি প্রযুক্তি বেছে নিল যাতে তারের কোনো ঝামেলা নেই এবং ব্যবহারকারীরা অবাধে চলাফেরা করেও ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে।

উদ্দীপকে কোন প্রযুক্তির কথা বলা হয়েছে?

ক) অপটিক্যাল ফাইবার
খ) ওয়াই-ফাই (Wi-Fi)
গ) ইনফ্রারেড
ঘ) মাইক্রোওয়েভ

সঠিক উত্তর: খ) ওয়াই-ফাই (Wi-Fi)

ব্যাখ্যা: বহুতল ভবনের ভেতরে তারহীন ইন্টারনেট সংযোগ বা WLAN তৈরির জন্য ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) সবচেয়ে উপযুক্ত প্রযুক্তি।


২২। উক্ত প্রযুক্তিটির সুবিধা হলো-
i. সহজে নেটওয়ার্ক স্থাপন করা যায়
ii. একাধিক ব্যবহারকারী একসাথে যুক্ত হতে পারে
iii. এর গতি অপটিক্যাল ফাইবারের চেয়ে বেশি

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ক) i ও ii

ব্যাখ্যা: ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক স্থাপন সহজ এবং বহু ব্যবহারকারী সমর্থন করে। তবে এর গতি অপটিক্যাল ফাইবারের (তারযুক্ত) চেয়ে সাধারণত কম হয়।


২৩। কোন প্রযুক্তিতে 'Line of Sight' বা সরলরেখায় থাকার বাধ্যবাধকতা নেই?
i. Wi-Fi
ii. WiMAX
iii. Infrared

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ক) i ও ii

ব্যাখ্যা: ওয়াই-ফাই এবং ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তি রেডিও ওয়েভ ব্যবহার করে যা দেয়াল বা বাধা ভেদ করতে পারে, তাই সরলরেখায় থাকার প্রয়োজন নেই। ইনফ্রারেডে সরলরেখায় থাকা বাধ্যতামূলক।


২৪। WiMAX এর পূর্ণরূপ কী?

ক) Wireless Microwave Access
খ) Worldwide Interoperability for Microwave Access
গ) Wide Integration for Microwave Access
ঘ) World Internet for Microwave Access

সঠিক উত্তর: খ) Worldwide Interoperability for Microwave Access

ব্যাখ্যা: WiMAX এর পূর্ণরূপ হলো Worldwide Interoperability for Microwave Access।


২৫। পিকোনেটে 'স্লেভ' ডিভাইসগুলো কার নির্দেশে কাজ করে?

ক) রাউটার
খ) সার্ভার
গ) মাস্টার (Master)
ঘ) গেটওয়ে

সঠিক উত্তর: গ) মাস্টার (Master)

ব্যাখ্যা: একটি পিকোনেটে থাকা মাস্টার ডিভাইসটি অন্য সকল স্লেভ ডিভাইসের যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ করে।