৬.৭ ডেটা সিকিউরিটি ও এনক্রিপশন (Data Security and Encryption)

এইচএসসি আইসিটি অধ্যায় ৬: ডেটা সিকিউরিটি ও এনক্রিপশন। প্লেইন টেক্সট, সাইফার টেক্সট, সিমেট্রিক ও অ্যাসিমেট্রিক এনক্রিপশন (পাবলিক-প্রাইভেট কী) এবং ডেটা সুরক্ষার উ

শেখা শুরু করুন

HSC ICT: Data Security and Encryption (ডেটা সিকিউরিটি ও এনক্রিপশন)

  1. ডেটা সিকিউরিটি ও এনক্রিপশন (Data Security and Encryption)
  2. একটি পরিচিত দৃশ্য!
  3. ডেটা সিকিউরিটি (Data Security) কী?
  4. ডেটা এনক্রিপশন (Encryption) কী?
  5. ক্রিপ্টোগ্রাফির মৌলিক পরিভাষা
  6. কী (Key) এবং অ্যালগরিদম
  7. উদাহরণ: সিজার সাইফার (Caesar Cipher)
  8. এনক্রিপশনের প্রকারভেদ
  9. ১. সিমেট্রিক এনক্রিপশন (Symmetric)
  10. ২. অ্যাসিমেট্রিক এনক্রিপশন (Asymmetric)
  11. সিমেট্রিক বনাম অ্যাসিমেট্রিক এনক্রিপশন
  12. বাস্তব জীবনে এনক্রিপশনের ব্যবহার
  13. সারসংক্ষেপ

ডেটা সিকিউরিটি ও এনক্রিপশন (Data Security and Encryption)

এই লেকচার শেষে আমরা-

১। ডেটা সিকিউরিটি বা ডেটা নিরাপত্তার ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব।
২। এনক্রিপশন ও ডিক্রিপশন প্রক্রিয়া বর্ণনা করতে পারব।
৩। প্লেইন টেক্সট ও সাইফার টেক্সটের মধ্যে পার্থক্য করতে পারব।
৪। সিমেট্রিক ও অ্যাসিমেট্রিক এনক্রিপশনের তুলনা করতে পারব।

হ্যালো লার্নার্স! স্বাগতম আজকের আইসিটি ক্লাসে। আজ আমরা ডাটাবেজের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ নিয়ে কথা বলব। আজকালকার দিনে ডেটা বা তথ্যের নিরাপত্তা যে কতটা জরুরি, তা আমরা সবাই বুঝি। এই লেকচার শেষে আমরা- ১। ডেটা সিকিউরিটি বা ডেটা নিরাপত্তার ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব, ২। এনক্রিপশন ও ডিক্রিপশন প্রক্রিয়া বর্ণনা করতে পারব, ৩। প্লেইন টেক্সট ও সাইফার টেক্সটের মধ্যে পার্থক্য করতে পারব এবং ৪। সিমেট্রিক ও অ্যাসিমেট্রিক এনক্রিপশনের তুলনা করতে পারব। চলো তাহলে শুরু করা যাক!

একটি পরিচিত দৃশ্য!

তোমরা কি কখনো খেয়াল করেছ?

হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) চ্যাটের শুরুতে একটি মেসেজ দেখা যায়:

Messages to this chat and calls are now secured with end-to-end encryption.

এর মানে কী?
* গোপনীয়তা (Privacy): তোমার মেসেজ কেউ পড়ছে না।
* নিরাপত্তা (Security): হ্যাকাররা এটি চুরি করতে পারবে না।
* End-to-End Encryption: প্রেরক ও প্রাপক ছাড়া আর কেউ দেখবে না।

তোমরা সবাই নিশ্চয়ই হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করো। কখনো কি খেয়াল করেছ, নতুন কারো সাথে চ্যাট শুরু করার সময় হলুদ রঙের একটা বক্সে লেখা থাকে- Messages are end-to-end encrypted? এর মানে আসলে কী? এর মানে হলো, তুমি আর তোমার বন্ধু ছাড়া এই মেসেজ পৃথিবীর আর কেউ পড়তে পারবে না, এমনকি খোদ হোয়াটসঅ্যাপ কোম্পানিও না! কিন্তু এটা কীভাবে সম্ভব? চলো, আজ আমরা সেই জাদুর প্রযুক্তিটিই শিখব, যার নাম এনক্রিপশন।

ডেটা সিকিউরিটি (Data Security) কী?

ডেটাবেজের অননুমোদিত ব্যবহার, পরিবর্তন বা ধ্বংস থেকে ডেটাকে রক্ষা করার উপায়ই হলো ডেটা সিকিউরিটি

সিকিউরিটির প্রধান ৩টি লক্ষ্য (CIA Triad):
১. Confidentiality (গোপনীয়তা): শুধু অনুমোদিত ব্যক্তিই তথ্য দেখবে।
২. Integrity (অখণ্ডতা): তথ্য কেউ পরিবর্তন করলে তা ধরা পড়বে।
৩. Availability (প্রাপ্যতা): প্রয়োজনের সময় তথ্য পাওয়া যাবে।

শুরুতেই আমাদের বুঝতে হবে ডেটা সিকিউরিটি আসলে কী। সহজ কথায়, তোমার বা তোমার প্রতিষ্ঠানের তথ্য যেন এমন কেউ না দেখে বা নষ্ট না করে যার সেই অনুমতি নেই, সেটাই নিশ্চিত করা। সিকিউরিটির মূল মন্ত্র তিনটি, যাকে আমরা সংক্ষেপে CIA বলি। C তে Confidentiality বা গোপনীয়তা, মানে গোপন কথা গোপনই থাকবে। I তে Integrity বা নির্ভুলতা, মানে কেউ ডেটা চেঞ্জ করলে যেন বোঝা যায়। আর A তে Availability, মানে যখন দরকার তখন যেন ডেটা হাতের কাছে পাওয়া যায়।

ডেটা এনক্রিপশন (Encryption) কী?

সংজ্ঞা:
ডেটা বা তথ্যকে বিশেষ গাণিতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাঠ অযোগ্য বা দুর্বোধ্য ফরম্যাটে রূপান্তর করাকে এনক্রিপশন বলে।

উদ্দেশ্য:
* হ্যাকারদের হাত থেকে রক্ষা করা।
* তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখা।
* ইন্টারনেটে নিরাপদে তথ্য আদান-প্রদান করা।

এখন প্রশ্ন হলো, আমরা কীভাবে ডেটা সিকিউর করব? এর সবচেয়ে শক্তিশালী উপায় হলো এনক্রিপশন। এনক্রিপশন মানে হলো সাধারণ ডেটাকে এমন এক হিজিবিজি ফরম্যাটে বদলে ফেলা, যেটা মানুষ পড়তে পারে না। ধরো তুমি লিখলে 'HELLO', এনক্রিপশনের পর সেটা হয়ে গেল 'Xy7#9k'। হ্যাকার যদি এই ডেটা চুরিও করে, সে কিছুই বুঝবে না। অনেকটা গোয়েন্দাদের কোড ল্যাঙ্গুয়েজের মতো।

ক্রিপ্টোগ্রাফির মৌলিক পরিভাষা

  1. প্লেইন টেক্সট (Plaintext): মানুষের পাঠযোগ্য মূল মেসেজ (যেমন: Hello)।
  2. এনক্রিপশন (Encryption): প্লেইন টেক্সটকে সাইফার টেক্সটে রূপান্তর।
  3. সাইফার টেক্সট (Ciphertext): এনক্রিপ্ট করা অপাঠ্য মেসেজ (যেমন: Xy#7b)।
  4. ডিক্রিপশন (Decryption): সাইফার টেক্সটকে পুনরায় প্লেইন টেক্সটে রূপান্তর।

এই প্রক্রিয়ায় আমরা কিছু বিশেষ শব্দ বা টার্ম ব্যবহার করি যা তোমাদের মনে রাখতে হবে। ১. প্লেইন টেক্সট: এটা হলো আমাদের আসল মেসেজ যা পড়া যায়। ২. সাইফার টেক্সট: এনক্রিপ্ট করার পর যে হিজিবিজি লেখা তৈরি হয়, যা পড়া যায় না। আর প্লেইন টেক্সট থেকে সাইফার টেক্সট বানানোর কাজটাই এনক্রিপশন। উল্টোটা, অর্থাৎ সাইফার টেক্সট থেকে আবার প্লেইন টেক্সট ফিরে পাওয়ার নাম ডিক্রিপশন। পাশের ডায়াগ্রামটি খেয়াল করো, পুরো প্রসেসটা এখানে দেখানো হয়েছে।

কী (Key) এবং অ্যালগরিদম

Key (চাবি):
* এটি একটি গোপন কোড বা পাসওয়ার্ড।
* এটি ছাড়া এনক্রিপ্ট বা ডিক্রিপ্ট করা সম্ভব নয়।

Algorithm (অ্যালগরিদম):
* এটি গাণিতিক সূত্র বা নিয়ম।
* এই নিয়ম মেনেই ডেটা পরিবর্তন হয় (যেমন: AES, RSA)।

এনক্রিপশন করার জন্য আমাদের দুটো জিনিস লাগে। একটা হলো অ্যালগরিদম, বা নিয়ম। আরেকটা হলো Key বা চাবি। সহজ উদাহরণ দিই—তালা বানানোর কৌশলটা হলো অ্যালগরিদম, যেটা সবাই জানে। কিন্তু তোমার তালার চাবিটা (Key) শুধু তোমার কাছেই থাকে। চাবি ছাড়া যেমন তালা খোলা যায় না, তেমনি সঠিক Key ছাড়া সাইফার টেক্সট পড়া যায় না। অ্যালগরিদম হলো সেই গণিত যা ডেটাকে লক করে, আর চাবি হলো সেই কোড যা দিয়ে লক খোলা হয়।

উদাহরণ: সিজার সাইফার (Caesar Cipher)

রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার ব্যবহৃত প্রাচীন পদ্ধতি।

নিয়ম: প্রতিটি অক্ষরকে ৩ ঘর পরের অক্ষর দিয়ে বদলানো।

উদাহরণ:
* Plaintext: APPLE
* Shift (+3):
* A $\rightarrow$ D
* P $\rightarrow$ S
* L $\rightarrow$ O
* E $\rightarrow$ H
* Ciphertext: DSSOH

চলো একটা মজার ঐতিহাসিক উদাহরণ দেখি। রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার তার সৈন্যদের কাছে গোপন খবর পাঠাতে একটা বুদ্ধি করতেন। তিনি প্রতিটি অক্ষরকে ৩ ঘর পরের অক্ষর দিয়ে লিখে পাঠাতেন। যেমন A-এর বদলে D, B-এর বদলে E। একে বলা হয় সিজার সাইফার। এখানে 'APPLE' শব্দটি হয়ে যায় 'DSSOH'। শত্রুরা ভাবত এটা অর্থহীন শব্দ, কিন্তু সৈন্যরা জানত ৩ ঘর পিছিয়ে নিলেই আসল কথা বোঝা যাবে। এটাই এনক্রিপশনের সবচেয়ে সহজ উদাহরণ।

এনক্রিপশনের প্রকারভেদ

কী (Key) ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে এনক্রিপশন প্রধানত ২ প্রকার:

১। সিমেট্রিক (Symmetric) এনক্রিপশন
২। অ্যাসিমেট্রিক (Asymmetric) এনক্রিপশন

আধুনিক যুগে ইন্টারনেটে এই দুই ধরনের এনক্রিপশনই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

সিজার সাইফার তো অনেক পুরনো। আধুনিক যুগে কম্পিউটারে আমরা প্রধানত দুই ধরনের এনক্রিপশন ব্যবহার করি। ১. সিমেট্রিক এনক্রিপশন এবং ২. অ্যাসিমেট্রিক এনক্রিপশন। এই দুটির মূল পার্থক্য হলো চাবির ব্যবহারে। চলো বিস্তারিত দেখি, কারণ এখান থেকেই আমরা বুঝব কীভাবে আমাদের পাসওয়ার্ড বা ব্যাংকের তথ্য সুরক্ষিত থাকে।

১. সিমেট্রিক এনক্রিপশন (Symmetric)

বৈশিষ্ট্য:
* একটি মাত্র চাবি (Key) ব্যবহৃত হয়।
* লক (Encrypt) এবং আনলক (Decrypt) করার জন্য একই চাবি লাগে।

সুবিধা: খুব দ্রুত কাজ করে।
অসুবিধা: চাবিটি নিরাপদে প্রাপকের কাছে পৌঁছানো কঠিন (Key Distribution Problem)।
উদাহরণ: DES, AES।

সিমেট্রিক বা গোপন চাবি এনক্রিপশনে মাত্র একটি চাবি থাকে। ধরো, তোমার ঘরের দরজায় তালা দিলে, সেই তালার চাবি একটাই। তুমি সেই চাবি দিয়ে তালা লাগালে, আবার তোমার বন্ধু সেই একই চাবি দিয়ে তালা খুলবে। এটি খুব ফাস্ট কাজ করে। কিন্তু সমস্যা হলো, এই গোপন চাবিটা তুমি বন্ধুর কাছে পাঠাবে কীভাবে? যদি পাঠানোর সময় কেউ চাবিটা কপি করে ফেলে? একে বলা হয় 'কি ডিস্ট্রিবিউশন প্রবলেম'।

২. অ্যাসিমেট্রিক এনক্রিপশন (Asymmetric)

বৈশিষ্ট্য:
* দুটি ভিন্ন চাবি ব্যবহৃত হয়।
১. পাবলিক কী (Public Key): সবার জন্য উন্মুক্ত (এনক্রিপ্ট করতে)।
২. প্রাইভেট কী (Private Key): গোপন (ডিক্রিপ্ট করতে)।

সুবিধা: চাবি শেয়ার করার ঝুঁকি নেই। বেশি নিরাপদ।
অসুবিধা: প্রক্রিয়াটি ধীর গতির।
উদাহরণ: RSA।

সিমেট্রিকের সমস্যা সমাধানে এলো অ্যাসিমেট্রিক এনক্রিপশন। এখানে চাবি থাকে দুটো। একটা 'পাবলিক কী', যেটা সবার কাছে থাকে। আরেকটা 'প্রাইভেট কী', যা শুধু তোমার কাছে থাকে। ধরো একটা মেইলবক্স, যার ঢাকনা সবাই খুলে চিঠি ফেলতে পারে (পাবলিক কী), কিন্তু চিঠি বের করার জন্য তালা খোলার চাবি (প্রাইভেট কী) শুধু তোমার কাছেই আছে। অর্থাৎ, কেউ পাবলিক কী দিয়ে লক করলে, একমাত্র তুমিই প্রাইভেট কী দিয়ে তা খুলতে পারবে। তাই এটা অনেক বেশি নিরাপদ।

সিমেট্রিক বনাম অ্যাসিমেট্রিক এনক্রিপশন

বৈশিষ্ট্য সিমেট্রিক (Symmetric) অ্যাসিমেট্রিক (Asymmetric)
চাবির সংখ্যা ১টি (একই চাবি) ২টি (পাবলিক ও প্রাইভেট)
গতি দ্রুত (Fast) ধীর (Slow)
নিরাপত্তা কম নিরাপদ (চাবি শেয়ারিং ঝুঁকি) অধিক নিরাপদ
ব্যবহার বড় ডেটা ট্রান্সফারে পাসওয়ার্ড বা ছোট ডেটা আদান-প্রদানে

চলো এক নজরে পার্থক্যটা দেখে নিই। সিমেট্রিকে চাবি একটা, অ্যাসিমেট্রিকে দুটো। সিমেট্রিক খুব ফাস্ট, তাই বড় বড় ফাইল এনক্রিপ্ট করতে এটা লাগে। আর অ্যাসিমেট্রিক একটু স্লো কিন্তু বেশি সিকিউর, তাই পাসওয়ার্ড বা ছোট তথ্য পাঠাতে এটা ব্যবহার হয়। বর্তমানে হাইব্রিড পদ্ধতিতে দুটোর সুবিধাই নেওয়া হয়—প্রথমে অ্যাসিমেট্রিক দিয়ে কানেকশন তৈরি হয়, তারপর সিমেট্রিক দিয়ে ডেটা পাঠানো হয়।

বাস্তব জীবনে এনক্রিপশনের ব্যবহার

আমরা প্রতিনিয়ত এনক্রিপশন ব্যবহার করছি:

  1. পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ: ডেটাবেজে পাসওয়ার্ড সরাসরি না রেখে এনক্রিপ্ট করে রাখা হয়।
  2. অনলাইন ব্যাংকিং: টাকার লেনদেন সুরক্ষিত রাখতে।
  3. ডিজিটাল সিগনেচার: তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে।
  4. HTTPS: ব্রাউজারে ওয়েবসাইটের (যেমন: Facebook, Google) নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

আমরা সারাদিন অজান্তেই এনক্রিপশন ব্যবহার করি। ফেসবুকে যখন পাসওয়ার্ড দাও, সেটা ডেটাবেজে সরাসরি সেভ হয় না, এনক্রিপ্ট হয়ে সেভ হয়। বিকাশে বা ব্যাংকে টাকা পাঠানোর সময়, এমনকি তোমরা যে ওয়েবসাইটের ঠিকানায় https দেখো—সেখানেও এই এনক্রিপশন কাজ করে তোমার তথ্যকে সুরক্ষিত রাখতে। তাই হ্যাকাররা চাইলেই তোমার পাসওয়ার্ড বা টাকার তথ্য চুরি করতে পারে না।

সারসংক্ষেপ

১। ডেটা সিকিউরিটি তথ্যের গোপনীয়তা ও অখণ্ডতা রক্ষা করে।
২। এনক্রিপশন প্লেইন টেক্সটকে সাইফার টেক্সটে পরিণত করে।
৩। সিমেট্রিক পদ্ধতিতে ১টি এবং অ্যাসিমেট্রিক পদ্ধতিতে ২টি চাবি লাগে।

পরবর্তী ক্লাসের বিষয়: ডেটাবেজ রিলেশন।

আজকে আমরা ডেটা সিকিউরিটির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখলাম। মনে রাখবে, ডিজিটাল যুগে তথ্যের নিরাপত্তাই সবচেয়ে বড় শক্তি। আশা করি তোমরা এনক্রিপশনের ধারণাটি বুঝতে পেরেছ। যদি কোনো প্রশ্ন থাকে, ভিডিওটি আবার দেখো বা কমেন্ট সেকশনে জানাও। পরের ক্লাসে আমরা ডেটাবেজ রিলেশন নিয়ে কথা বলব। ততক্ষণ সবাই ভালো থেকো! ধন্যবাদ।

এইচএসসি আইসিটি: ডেটা সিকিউরিটি ও এনক্রিপশন (HSC ICT: Data Security and Encryption)

পড়তে প্রায় 25 মিনিট

আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমরা প্রতিনিয়ত হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার বা ইমেইল ব্যবহার করে বার্তা আদান-প্রদান করি। খেয়াল করলে দেখবেন, হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট শুরু করার সময় লেখা থাকে "Messages and calls are end-to-end encrypted"। এর অর্থ হলো, প্রেরক এবং প্রাপক ছাড়া তৃতীয় কোনো ব্যক্তি, এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষও এই বার্তা পড়তে পারবে না। এটিই হলো ডেটা সিকিউরিটি বা তথ্যের নিরাপত্তার একটি বাস্তব উদাহরণ।

বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ব্যক্তিগত ছবি, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বা বড় প্রতিষ্ঠানের গোপনীয় নথিপত্র সবই ডিজিটাল ফরম্যাটে সংরক্ষিত থাকে। এই তথ্যগুলো যদি ভুল হাতে পড়ে বা হ্যাকারদের কবলে যায়, তবে বড় ধরণের আর্থিক বা সামাজিক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। তাই এইচএসসি আইসিটি সিলেবাসে ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম অধ্যায়ে ডেটা সিকিউরিটি ও এনক্রিপশন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পড়ানো হয়। আজকের এই নোটে আমরা তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপায় এবং এনক্রিপশনের গাণিতিক দিকগুলো বিস্তারিত আলোচনা করব।

ডেটা সিকিউরিটি বা তথ্যের নিরাপত্তা

কম্পিউটার সিস্টেম বা নেটওয়ার্কে সংরক্ষিত ডেটার অননুমোদিত অ্যাক্সেস, ব্যবহার, পরিবর্তন, প্রকাশ বা ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা করার সামগ্রিক প্রক্রিয়াকেই ডেটা সিকিউরিটি বলা হয়। একটি নিরাপদ সিস্টেম গড়ে তুলতে মূলত তিনটি প্রধান স্তম্ভ বা CIA Triad মেনে চলা হয়।

সংজ্ঞা (Definition): ডেটা সিকিউরিটি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ডেটার গোপনীয়তা (Confidentiality), অখণ্ডতা (Integrity) এবং প্রাপ্যতা (Availability) নিশ্চিত করা হয় এবং অননুমোদিত ব্যবহার থেকে ডেটাকে সুরক্ষিত রাখা হয়।

ডেটা সিকিউরিটির মূল উপাদানগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

  1. গোপনীয়তা (Confidentiality): এর অর্থ হলো তথ্য কেবল অনুমোদিত ব্যক্তিরাই দেখতে বা পড়তে পারবে। উদাহরণস্বরূপ, আপনার ফেসবুকের পাসওয়ার্ড কেবল আপনিই জানবেন, অন্য কেউ নয়।
  2. অখণ্ডতা (Integrity): তথ্যের সঠিকতা বজায় রাখা এবং অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া কেউ যেন তথ্য পরিবর্তন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স হ্যাকাররা পরিবর্তন করতে পারলে তা Integrity লঙ্ঘন হবে।
  3. প্রাপ্যতা (Availability): যখন প্রয়োজন তখন যেন অনুমোদিত ব্যবহারকারী তথ্যে প্রবেশ করতে পারে। সার্ভার ডাউন থাকলে বা নেটওয়ার্ক জ্যাম থাকলে তথ্যের প্রাপ্যতা নষ্ট হয়।

গুরুত্বপূর্ণ (Important):
CIA Triad ছাড়াও আধুনিক নিরাপত্তায় আরও দুটি বিষয় যুক্ত করা হয়:
- Authentication (প্রামাণিকতা): ব্যবহারকারীর পরিচয় নিশ্চিত করা (যেমন: পাসওয়ার্ড বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে লগ-ইন)।
- Non-repudiation (অস্বীকার না করা): তথ্য প্রেরক বা গ্রাহক কেউ যেন বার্তা পাঠানোর বা পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করতে না পারে। ডিজিটাল সিগনেচার এর একটি উদাহরণ।

ডেটা সিকিউরিটির হুমকি (Threats to Data Security)

ডেটা সিকিউরিটির জন্য বেশ কিছু হুমকি বা থ্রেট রয়েছে। পরীক্ষার এমসিকিউ বা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের জন্য এগুলো জানা জরুরি:

  • ম্যালওয়্যার (Malware): ক্ষতিকারক সফটওয়্যার যেমন ভাইরাস (Virus), ওয়ার্ম (Worm) বা ট্রোজান হর্স (Trojan Horse)। ওয়ার্ম নিজে নিজেই নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়তে পারে, কিন্তু ভাইরাস ছড়াতে মানুষের হস্তক্ষেপ বা ফাইল শেয়ারিং প্রয়োজন হয়।
  • ফিশিং (Phishing): বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠানের ভান করে ইমেইল বা মেসেজ পাঠিয়ে ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড বা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া। যেমন: "আপনি লটারি জিতেছেন" বলে কোনো লিংকে ক্লিক করতে বলা।
  • স্পুফিং (Spoofing): নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে অন্য কোনো বিশ্বস্ত উৎসের ছদ্মবেশ ধারণ করা।
  • স্প্যাম (Spam): অবাঞ্ছিত বা অপ্রয়োজনীয় ইমেইল যা ব্যবহারকারীর সময় নষ্ট করে এবং অনেক সময় ম্যালওয়্যার বহন করে।

পরীক্ষার টিপস (Exam Tip): উদ্দীপকে যদি বলা হয়, "মি. রফিক একটি ইমেইল পেলেন যেখানে ব্যাংকের লোগো ব্যবহার করে তার পাসওয়ার্ড চাওয়া হয়েছে"—তবে এটি নিশ্চিতভাবে 'ফিশিং' (Phishing)। আর যদি কোনো সফটওয়্যার নিজে নিজে কপি হয়ে পুরো নেটওয়ার্ক অচল করে দেয়, তবে তা 'ওয়ার্ম' (Worm)।

এনক্রিপশন ও ক্রিপ্টোগ্রাফি পরিচিতি

ডেটাকে নিরাপদে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাঠানোর জন্য যে কৌশলে ডেটার রূপ পরিবর্তন করা হয়, তাকেই ক্রিপ্টোগ্রাফি বলে। ক্রিপ্টোগ্রাফি শব্দটি গ্রিক শব্দ 'Kryptos' (লুকায়িত) এবং 'Graphein' (লেখা) থেকে এসেছে।

এই প্রক্রিয়ায় দুটি প্রধান অংশ থাকে:
১. এনক্রিপশন (Encryption): সাধারণ পাঠযোগ্য ডেটাকে অপাঠ্য বা দুর্বোধ্য ফরম্যাটে রূপান্তর করা।
২. ডিক্রিপশন (Decryption): সেই অপাঠ্য ডেটাকে পুনরায় মূল পাঠযোগ্য ডেটায় ফিরিয়ে আনা।

ক্রিপ্টোগ্রাফি প্রক্রিয়া

প্রক্রিয়াটি বোঝার জন্য কিছু পরিভাষা জানা প্রয়োজন:

প্লেইন টেক্সট (Plaintext): মানুষের পাঠযোগ্য মূল ডেটা বা মেসেজ। যেমন: "Hello World"।

সাইফার টেক্সট (Ciphertext): এনক্রিপশনের পর প্রাপ্ত দুর্বোধ্য বা হিজিবিজি ডেটা যা মানুষ পড়তে পারে না। যেমন: "Xy7#b9Qz"।

সিজার সাইফার (Caesar Cipher): গাণিতিক ব্যাখ্যা

জুলিয়াস সিজার তার গোপন বার্তা পাঠানোর জন্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করতেন। এটি একটি প্রতিস্থাপন পদ্ধতি (Substitution Cipher) যেখানে প্রতিটি অক্ষরকে নির্দিষ্ট সংখ্যক ঘর সরিয়ে নতুন অক্ষর বসানো হয়।

ধরি, ইংরেজি বর্ণমালা A থেকে Z পর্যন্ত সংখ্যায় প্রকাশ করা হলো (A=0, B=1, ... Z=25)। যদি আমরা ৩ ঘর শিফট করি (Key = 3), তবে A হয়ে যাবে D, B হয়ে যাবে E।

$$E_n(x) = (x + n) \pmod{26}$$
$$D_n(x) = (x - n) \pmod{26}$$

যেখানে:
- $x$ = মূল অক্ষরের অবস্থান সংখ্যা (যেমন A=0, B=1)
- $n$ = কী (Key) বা শিফট সংখ্যা
- mod 26 = ২৬ দিয়ে ভাগ করে ভাগশেষ নেওয়া (যাতে ২৬ এর বেশি হলে আবার শুরুতে ফিরে আসে)

উদাহরণ (Example):
প্রশ্ন: 'ICT' শব্দটিকে Key = 3 ব্যবহার করে সিজার সাইফারের মাধ্যমে এনক্রিপ্ট কর।

সমাধান:
ইংরেজি বর্ণমালার অবস্থান: I=8, C=2, T=19.

  1. I (8): $(8 + 3) \pmod{26} = 11 \rightarrow \text{L}$
  2. C (2): $(2 + 3) \pmod{26} = 5 \rightarrow \text{F}$
  3. T (19): $(19 + 3) \pmod{26} = 22 \rightarrow \text{W}$

উত্তর: সাইফার টেক্সট হবে LFW

এনক্রিপশন পদ্ধতি: সিমেট্রিক ও অ্যাসিমেট্রিক

এনক্রিপশন মূলত দুই প্রকার, যা চাবি বা Key ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে ভাগ করা হয়।

১. সিমেট্রিক এনক্রিপশন (Symmetric Encryption)

এই পদ্ধতিতে ডেটা এনক্রিপ্ট এবং ডিক্রিপ্ট করার জন্য একই গোপন চাবি (Private Key) ব্যবহার করা হয়। প্রেরক এবং প্রাপক উভয়ের কাছেই এই চাবিটি থাকতে হয়। একে 'সিক্রেট কি এনক্রিপশন'ও বলা হয়।
* উদাহরণ: DES (Data Encryption Standard), AES (Advanced Encryption Standard)।
* সুবিধা: এটি খুব দ্রুত কাজ করে।
* অসুবিধা: চাবিটি নিরাপদে প্রাপকের কাছে পৌঁছানো কঠিন। চাবি চুরি হলে পুরো সিস্টেম অরক্ষিত হয়ে যায়।

২. অ্যাসিমেট্রিক এনক্রিপশন (Asymmetric Encryption)

এই পদ্ধতিতে দুটি ভিন্ন চাবি ব্যবহার করা হয়—একটি পাবলিক কী (Public Key) এবং একটি প্রাইভেট কী (Private Key)। একে 'পাবলিক কি এনক্রিপশন' বলা হয়।
* পাবলিক কী: এটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে। এটি দিয়ে কেউ আপনাকে মেসেজ এনক্রিপ্ট করে পাঠাতে পারে।
* প্রাইভেট কী: এটি কেবল প্রাপকের কাছেই গোপন থাকে। পাবলিক কী দিয়ে লক করা মেসেজ কেবল এই প্রাইভেট কী দিয়েই খোলা সম্ভব।
* উদাহরণ: RSA (Rivest–Shamir–Adleman)।
* সুবিধা: এটি অনেক বেশি নিরাপদ কারণ গোপন চাবিটি কাউকে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
* অসুবিধা: গাণিতিক জটিলতার কারণে এটি সিমেট্রিক পদ্ধতির চেয়ে ধীরগতির।

সিমেট্রিক বনাম অ্যাসিমেট্রিক এনক্রিপশন

পার্থক্য মনে রাখার সহজ উপায়:
সিমেট্রিক হলো আপনার ঘরের দরজার সাধারণ তালা-চাবি (একই চাবি দিয়ে লাগানো ও খোলা হয়)। অ্যাসিমেট্রিক হলো ব্যাংকের ড্রপ-বক্স বা মেইলবক্সের মতো (যে কেউ চিঠি ফেলতে পারে, কিন্তু খুলতে পারে কেবল যার কাছে চাবি আছে)।

সিমেট্রিক ও অ্যাসিমেট্রিক এনক্রিপশনের তুলনা
বৈশিষ্ট্য সিমেট্রিক এনক্রিপশন অ্যাসিমেট্রিক এনক্রিপশন
চাবির সংখ্যা ১টি (একই চাবি এনক্রিপশন ও ডিক্রিপশনে ব্যবহৃত হয়)। ২টি (পাবলিক ও প্রাইভেট কী)।
গতি দ্রুতগতির, কারণ গাণিতিক জটিলতা কম। ধীরগতির, কারণ গাণিতিক জটিলতা বেশি।
নিরাপত্তা চাবি শেয়ার করতে হয় বলে ঝুঁকি বেশি। গোপন চাবি শেয়ার করতে হয় না বলে অধিক নিরাপদ।
ব্যবহার বড় আকারের ডেটা ট্রান্সমিশনে ব্যবহৃত হয়। ডিজিটাল সিগনেচার, অথেনটিফিকেশন ও ছোট ডেটা আদান-প্রদানে ব্যবহৃত হয়।
অ্যালগরিদম DES, AES, RC4 RSA, Diffie-Hellman, ECC

পরীক্ষার টিপস (Exam Tip):
সৃজনশীল প্রশ্নে যদি উদ্দীপকে বলা হয় "মি. ক ও মি. খ একই চাবি ব্যবহার করে যোগাযোগ করছেন" - তবে এটি সিমেট্রিক। আর যদি বলা হয় "মি. ক এমন একটি ব্যবস্থায় বার্তা পাঠালেন যেখানে চাবিটি গোপন রাখার ঝুঁকি নেই বা দুটি ভিন্ন চাবি ব্যবহৃত হচ্ছে" - তবে এটি অ্যাসিমেট্রিক। সাধারণত 'নিরাপত্তা'র প্রশ্নে অ্যাসিমেট্রিক এবং 'গতি'র প্রশ্নে সিমেট্রিক এগিয়ে থাকে।

সংক্ষিপ্ত সারাংশ (Quick Revision):
- ডেটা সিকিউরিটি: তথ্যের গোপনীয়তা, অখণ্ডতা ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা।
- CIA Triad: Confidentiality, Integrity, Availability.
- এনক্রিপশন: প্লেইন টেক্সটকে সাইফার টেক্সটে রূপান্তর।
- সিমেট্রিক এনক্রিপশন: ১টি কী (দ্রুত কিন্তু কম নিরাপদ)। উদাহরণ: AES।
- অ্যাসিমেট্রিক এনক্রিপশন: ২টি কী (ধীর কিন্তু বেশি নিরাপদ)। উদাহরণ: RSA।
- ফিশিং: প্রতারণামূলক ইমেইল বা মেসেজ।

পরিভাষা (Glossary)
শব্দ পূর্ণরূপ / অর্থ
Cryptography গ্রিক শব্দ Kryptos (গোপন) থেকে আসা তথ্য লুকানোর বিদ্যা।
DES Data Encryption Standard (পুরানো সিমেট্রিক অ্যালগরিদম, ৫৬ বিট)।
AES Advanced Encryption Standard (আধুনিক সিমেট্রিক অ্যালগরিদম, ১২৮/১৯২/২৫৬ বিট)।
RSA Rivest–Shamir–Adleman (জনপ্রিয় অ্যাসিমেট্রিক অ্যালগরিদম)।
Plaintext এনক্রিপ্ট করার আগের মূল ডেটা।
Ciphertext এনক্রিপ্ট করার পরের দুর্বোধ্য ডেটা।

অনুশীলনের প্রশ্ন

সৃজনশীল প্রশ্ন

সৃজনশীল প্রশ্ন ১

একটি বহুজাতিক কোম্পানি তাদের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের জন্য একটি বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করত, যেখানে প্রেরক ও প্রাপক উভয়েই একই সিক্রেট কোড বা 'কী' (Key) ব্যবহার করে তথ্য আদান-প্রদান করত। কিন্তু সম্প্রতি হ্যাকিংয়ের ভয়ে কোম্পানিটি তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিবর্তন করেছে। নতুন ব্যবস্থায় তথ্য লক করার জন্য একটি 'কী' এবং খোলার জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন আরেকটি 'কী' ব্যবহার করা হয়।

ক. ডেটা এনক্রিপশন কী?
খ. প্লেইন টেক্সট ও সাইফার টেক্সটের মধ্যে পার্থক্য লিখ।
গ. উদ্দীপকে কোম্পানির ব্যবহৃত প্রথম পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকের নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি পূর্বের ব্যবস্থা অপেক্ষা অধিকতর নিরাপদ—উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

(ক) ডেটা এনক্রিপশন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে প্লেইন টেক্সট বা সাধারণ পাঠযোগ্য ডেটাকে বিশেষ অ্যালগরিদম ও কী (Key) ব্যবহার করে অপাঠযোগ্য ফরম্যাটে বা সাইফার টেক্সটে রূপান্তর করা হয়।

(খ) প্লেইন টেক্সট ও সাইফার টেক্সটের মধ্যে পার্থক্য:
১. মানুষের বা কম্পিউটারের স্বাভাবিকভাবে বোধগম্য বা পাঠযোগ্য ডেটাকে প্লেইন টেক্সট বলে। অন্যদিকে, এনক্রিপশন অ্যালগরিদম প্রয়োগের পর যে অপাঠযোগ্য ডেটা তৈরি হয়, তাকে সাইফার টেক্সট বলে।
২. প্লেইন টেক্সট সরাসরি ব্যবহার করা যায়, কিন্তু সাইফার টেক্সট ডিক্রিপ্ট না করে ব্যবহার করা যায় না।

(গ) উদ্দীপকে কোম্পানির ব্যবহৃত প্রথম পদ্ধতিটি হলো সিমেট্রিক এনক্রিপশন (Symmetric Encryption) বা গোপন চাবি এনক্রিপশন।

এই পদ্ধতিতে ডেটা এনক্রিপ্ট (লক) এবং ডিক্রিপ্ট (আনলক) করার জন্য একই সিক্রেট কী (Key) ব্যবহার করা হয়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে প্রেরক ও প্রাপক উভয়েই 'একই সিক্রেট কোড' ব্যবহার করত, যা সিমেট্রিক এনক্রিপশনের মূল বৈশিষ্ট্য। এই পদ্ধতির সুবিধা হলো এটি দ্রুত কাজ করে এবং কম প্রসেসিং ক্ষমতার প্রয়োজন হয়। উদাহরণস্বরূপ, DES (Data Encryption Standard) বা AES (Advanced Encryption Standard) এই ধরনের এনক্রিপশন ব্যবহার করে। তবে এর প্রধান সমস্যা হলো সিক্রেট কী-টি নিরাপদে প্রাপকের কাছে পৌঁছানো, কারণ যদি তৃতীয় কোনো পক্ষ এই কী জেনে যায়, তবে পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।

(ঘ) উদ্দীপকের নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি পূর্বের ব্যবস্থা অপেক্ষা অধিকতর নিরাপদ—উক্তিটি যথার্থ।

কোম্পানির নতুন ব্যবস্থাটি হলো অ্যাসিনেট্রিক এনক্রিপশন (Asymmetric Encryption) বা পাবলিক কী এনক্রিপশন। এই পদ্ধতিতে দুটি ভিন্ন কী ব্যবহৃত হয়: একটি 'পাবলিক কী' (যা সবার জন্য উন্মুক্ত) এবং একটি 'প্রাইভেট কী' (যা শুধুমাত্র প্রাপকের কাছে গোপন থাকে)।

বিশ্লেষণ:
১. কী (Key) ব্যবস্থাপনা: পূর্বের সিমেট্রিক পদ্ধতিতে একই কী উভয় প্রান্তে শেয়ার করতে হতো, যা ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কিন্তু নতুন অ্যাসিনেট্রিক পদ্ধতিতে প্রাইভেট কী কারো সাথে শেয়ার করতে হয় না। প্রেরক প্রাপকের পাবলিক কী দিয়ে ডেটা এনক্রিপ্ট করে পাঠান, যা শুধুমাত্র প্রাপকের প্রাইভেট কী দিয়েই খোলা সম্ভব।
২. নিরাপত্তা: সিমেট্রিক পদ্ধতিতে 'কী' চুরি হলে হ্যাকার সহজেই ডেটা পড়ে ফেলতে পারে। কিন্তু অ্যাসিনেট্রিক পদ্ধতিতে পাবলিক কী সবাই জানলেও কোনো সমস্যা নেই, কারণ প্রাইভেট কী ছাড়া ডেটা ডিক্রিপ্ট করা অসম্ভব।
৩. প্রামাণ্যতা (Authentication): নতুন পদ্ধতিতে ডিজিটাল সিগনেচার ব্যবহারের সুযোগ থাকে, যা প্রেরকের পরিচয় নিশ্চিত করে।

পরিশেষে বলা যায়, যদিও অ্যাসিনেট্রিক এনক্রিপশন সিমেট্রিক এর চেয়ে ধীরগতির, কিন্তু 'কী' আদান-প্রদানের ঝুঁকি না থাকায় এবং উচ্চতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় উদ্দীপকের নতুন ব্যবস্থাটি অধিকতর নিরাপদ।


সৃজনশীল প্রশ্ন ২

মি. রফিক তার বন্ধুকে ইন্টারনেটে একটি গোপন মেসেজ পাঠাতে চান। তিনি এমন একটি পদ্ধতি ব্যবহার করলেন যেখানে মূল মেসেজের প্রতিটি বর্ণকে ইংরেজি বর্ণমালার পরবর্তী ৩য় বর্ণ দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়। যেমন 'A' এর পরিবর্তে 'D' এবং 'B' এর পরিবর্তে 'E' লেখা হয়। তার বন্ধু মেসেজটি পেয়ে বিপরীত প্রক্রিয়ায় মূল মেসেজটি উদ্ধার করেন।

ক. ক্রিপ্টোগ্রাফি কী?
খ. ডেটা সিকিউরিটির মূল উপাদানগুলো কী কী?
গ. মি. রফিকের ব্যবহৃত এনক্রিপশন পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা কর।
ঘ. ব্যাংকিং বা আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে মি. রফিকের পদ্ধতিটি কি গ্রহণযোগ্য? তোমার মতামত দাও।

উত্তর

(ক) ক্রিপ্টোগ্রাফি হলো ডেটা বা তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য তথ্যকে বিশেষ সংকেতে বা কোডে রূপান্তর করার বিজ্ঞান ও কলাকৌশল।

(খ) ডেটা সিকিউরিটির মূল উপাদান বা লক্ষ্য সাধারণত তিনটি, যা CIA Triad নামে পরিচিত:
১. গোপনীয়তা (Confidentiality): অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ যেন তথ্য দেখতে না পায়।
২. অখণ্ডতা (Integrity): ডেটা আদান-প্রদানের সময় বা সংরক্ষণের সময় যেন পরিবর্তিত বা নষ্ট না হয়।
৩. প্রাপ্যতা (Availability): প্রয়োজনের সময় অনুমোদিত ব্যবহারকারী যেন ডেটা বা সেবা পায়।

(গ) মি. রফিকের ব্যবহৃত পদ্ধতিটি হলো সিজার সাইফার (Caesar Cipher), যা প্রতিস্থাপন (Substitution) সাইফারের একটি ধরণ।

এই পদ্ধতিতে প্লেইন টেক্সটের প্রতিটি অক্ষরকে নির্দিষ্ট সংখ্যক ঘর সরিয়ে (Shift) সাইফার টেক্সটে রূপান্তর করা হয়। উদ্দীপকে মি. রফিক প্রতিটি বর্ণকে পরবর্তী ৩য় বর্ণ দ্বারা প্রতিস্থাপন করেছেন। একে 'Shift 3' বা 'ROT3' বলা হয়।
উদাহরণস্বরূপ:
- প্লেইন টেক্সট: CAT
- রূপান্তর প্রক্রিয়া: C (+3) -> F, A (+3) -> D, T (+3) -> W
- সাইফার টেক্সট: FDW

এটি ক্রিপ্টোগ্রাফির প্রাচীনতম এবং সহজতম পদ্ধতিগুলোর একটি। এখানে এনক্রিপশন এবং ডিক্রিপশন উভয় ক্ষেত্রেই অক্ষরের অবস্থানের এই নির্দিষ্ট পরিবর্তন সংখ্যাটি (এখানে ৩) 'কী' হিসেবে কাজ করে।

(ঘ) ব্যাংকিং বা আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে মি. রফিকের ব্যবহৃত সিজার সাইফার পদ্ধতিটি মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।

মতামত ও যুক্তি:
১. দুর্বল নিরাপত্তা: সিজার সাইফার একটি অত্যন্ত দুর্বল এনক্রিপশন পদ্ধতি। ইংরেজি বর্ণমালায় মাত্র ২৬টি অক্ষর থাকায়, একজন হ্যাকার সর্বোচ্চ ২৫ বার চেষ্টা করলেই (Brute Force Attack) মূল মেসেজটি উদ্ধার করে ফেলতে পারবে।
২. ফ্রিকোয়েন্সি অ্যানালাইসিস: কোনো ভাষায় কোন অক্ষর কতবার ব্যবহৃত হয় (যেমন ইংরেজিতে 'E' সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়), তা বিশ্লেষণ করে সহজেই প্রতিস্থাপিত বর্ণগুলো ধরে ফেলা সম্ভব।
৩. আধুনিক মানদণ্ড: ব্যাংকিং খাতে বর্তমানে AES-256 বা RSA-2048 এর মতো অত্যন্ত জটিল অ্যালগরিদম ব্যবহৃত হয়, যা সুপারকম্পিউটার দিয়েও ভাঙতে বিলিয়ন বছর সময় লাগবে। সে তুলনায় সিজার সাইফার মানুষের মস্তিষ্কের মাধ্যমেই কয়েক মিনিটে ভেঙে ফেলা যায়।

সুতরাং, আর্থিক লেনদেনের মতো সংবেদনশীল তথ্যের নিরাপত্তার জন্য গোপনীয়তা ও অখণ্ডতা নিশ্চিত করতে সিজার সাইফার সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত এবং আধুনিক এনক্রিপশন স্ট্যান্ডার্ডের প্রয়োজন।

এমসিকিউ

১। এনক্রিপশনের পূর্বে মূল মেসেজকে কী বলা হয়?

ক) সাইফার টেক্সট
খ) প্লেইন টেক্সট
গ) কোডেড টেক্সট
ঘ) ডিক্রিপ্টেড টেক্সট

সঠিক উত্তর: খ) প্লেইন টেক্সট

ব্যাখ্যা: মানুষের বোধগম্য সাধারণ টেক্সট বা ডেটাকে প্লেইন টেক্সট বলে। এনক্রিপশনের পর এটি সাইফার টেক্সটে পরিণত হয়।


২। "Caesar Cipher" কোন ধরনের এনক্রিপশন অ্যালগরিদম?

ক) সিমেট্রিক
খ) অ্যাসিমেট্রিক
গ) হ্যাশ ফাংশন
ঘ) স্টেনোগ্রাফি

সঠিক উত্তর: ক) সিমেট্রিক

ব্যাখ্যা: সিজার সাইফারে এনক্রিপশন ও ডিক্রিপশনের জন্য একই 'শিফট কী' বা নিয়ম ব্যবহার করা হয়, তাই এটি সিমেট্রিক এনক্রিপশন।


৩। ডেটা এনক্রিপশন স্ট্যান্ডার্ড (DES) কত বিটের ব্লক ব্যবহার করে?

ক) ৩২ বিট
খ) ৬৪ বিট
গ) ১২৮ বিট
ঘ) ২৫৬ বিট

সঠিক উত্তর: খ) ৬৪ বিট

ব্যাখ্যা: DES বা Data Encryption Standard মূলত ৬৪ বিটের ব্লকে ডেটা এনক্রিপ্ট করে এবং ৫৬ বিটের কী ব্যবহার করে।


৪। নিচের কোনটি অ্যাসিমেট্রিক এনক্রিপশন অ্যালগরিদম?

ক) DES
খ) AES
গ) RSA
ঘ) RC4

সঠিক উত্তর: গ) RSA

ব্যাখ্যা: RSA (Rivest–Shamir–Adleman) একটি জনপ্রিয় পাবলিক-কী বা অ্যাসিমেট্রিক ক্রিপ্টোগ্রাফি অ্যালগরিদম। বাকিগুলো সিমেট্রিক।


৫। সাইফার টেক্সটকে পুনরায় প্লেইন টেক্সটে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে কী বলে?

ক) এনক্রিপশন
খ) ডিক্রিপশন
গ) ট্রান্সমিশন
ঘ) মডুলেশন

সঠিক উত্তর: খ) ডিক্রিপশন

ব্যাখ্যা: ডিক্রিপশন হলো এনক্রিপশনের বিপরীত প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে দুর্বোধ্য সাইফার টেক্সটকে মূল তথ্যে ফিরিয়ে আনা হয়।


৬। "AES" এর পূর্ণরূপ কী?

ক) Advanced Encryption Standard
খ) American Encryption Standard
গ) Automated Encryption System
ঘ) Advanced Encoding System

সঠিক উত্তর: ক) Advanced Encryption Standard

ব্যাখ্যা: AES হলো বর্তমান বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ সিমেট্রিক এনক্রিপশন স্ট্যান্ডার্ড।


৭। পাবলিক কী ও প্রাইভেট কী কোন এনক্রিপশন ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয়?

ক) সিমেট্রিক
খ) অ্যাসিমেট্রিক
গ) ক্লাসিকাল
ঘ) মনোজিনাইক

সঠিক উত্তর: খ) অ্যাসিমেট্রিক

ব্যাখ্যা: অ্যাসিমেট্রিক বা পাবলিক কী ক্রিপ্টোগ্রাফিতে দুটি ভিন্ন চাবি (পাবলিক ও প্রাইভেট) ব্যবহার করা হয়।


৮। ডেটা সিকিউরিটির মূল উপাদান কয়টি?

ক) ২টি
খ) ৩টি
গ) ৪টি
ঘ) ৫টি

সঠিক উত্তর: খ) ৩টি

ব্যাখ্যা: ডেটা সিকিউরিটির মূল তিনটি উপাদান হলো—গোপনীয়তা (Confidentiality), অখণ্ডতা (Integrity) এবং প্রাপ্যতা (Availability)। একে CIA Triad বলা হয়।


৯। ডেটার গোপনীয়তা নিশ্চিত করার প্রধান উপায় কোনটি?

ক) ব্যাকআপ রাখা
খ) এনক্রিপশন
গ) অ্যান্টিভাইরাস
ঘ) ফায়ারওয়াল

সঠিক উত্তর: খ) এনক্রিপশন

ব্যাখ্যা: এনক্রিপশন ডেটাকে এমনভাবে পরিবর্তন করে যেন অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া কেউ পড়তে না পারে, যা গোপনীয়তা নিশ্চিত করে।


১০। হ্যাকাররা সাধারণত কোন ধরনের আক্রমণ চালিয়ে পাসওয়ার্ড চুরি করে?

ক) ফিশিং (Phishing)
খ) ডিডশ (DDoS)
গ) স্প্যামিং
ঘ) ট্রোজান

সঠিক উত্তর: ক) ফিশিং (Phishing)

ব্যাখ্যা: ফিশিংয়ের মাধ্যমে হ্যাকাররা ভুয়া ওয়েবসাইট বা ইমেইল পাঠিয়ে ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড চুরি করার চেষ্টা করে।


১১। ডিজিটাল সিগনেচার কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি হয়?

ক) বায়োমেট্রিক্স
খ) পাবলিক কী এনক্রিপশন
গ) সিমেট্রিক এনক্রিপশন
ঘ) ফায়ারওয়াল

সঠিক উত্তর: খ) পাবলিক কী এনক্রিপশন

ব্যাখ্যা: ডিজিটাল সিগনেচার বা স্বাক্ষর যাচাইয়ের জন্য অ্যাসিমেট্রিক বা পাবলিক কী এনক্রিপশন ব্যবহার করা হয়।


১২। প্লেইন টেক্সটকে 'HELLO' -> 'KHOOR' তে রূপান্তর করা হলে কী পরিমাণ শিফট (Shift) ব্যবহৃত হয়েছে?

ক) ১
খ) ২
গ) ৩
ঘ) ৪

সঠিক উত্তর: গ) ৩

ব্যাখ্যা: H (8) -> K (11), E (5) -> H (8), L (12) -> O (15)। প্রতিটি ক্ষেত্রে ৩ ঘর করে সরে গেছে। এটি সিজার সাইফার।


১৩। কোনটি ডেটা ইন্টিগ্রিটি বা অখণ্ডতা নষ্ট হওয়ার উদাহরণ?

ক) সার্ভার ডাউন হওয়া
খ) ডেটা চুরি হওয়া
গ) ডেটা পরিবর্তন বা মডিফাই হওয়া
ঘ) পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়া

সঠিক উত্তর: গ) ডেটা পরিবর্তন বা মডিফাই হওয়া

ব্যাখ্যা: ডেটা অখণ্ডতা বা Integrity মানে হলো ডেটা সঠিক ও অবিকৃত থাকা। কেউ যদি অনুমতি ছাড়া ডেটা পরিবর্তন করে, তবে অখণ্ডতা নষ্ট হয়।


১৪। ব্রাউজার ও সার্ভারের মধ্যে নিরাপদ সংযোগ স্থাপনে কোনটি ব্যবহৃত হয়?

ক) HTTP
খ) SSL/TLS
গ) FTP
ঘ) SMTP

সঠিক উত্তর: খ) SSL/TLS

ব্যাখ্যা: HTTPS প্রটোকলে SSL (Secure Sockets Layer) বা TLS (Transport Layer Security) এনক্রিপশন ব্যবহার করে ডেটা আদান-প্রদান সুরক্ষিত করা হয়।


১৫। ব্রুট ফোর্স অ্যাটাক (Brute Force Attack) কী?

ক) সার্ভারে অতিরিক্ত ট্রাফিক পাঠানো
খ) সম্ভাব্য সকল কম্বিনেশন চেষ্টা করে পাসওয়ার্ড ভাঙা
গ) ভাইরাসের মাধ্যমে কম্পিউটার অচল করা
ঘ) ফিশিং মেইল পাঠানো

সঠিক উত্তর: খ) সম্ভাব্য সকল কম্বিনেশন চেষ্টা করে পাসওয়ার্ড ভাঙা

ব্যাখ্যা: ব্রুট ফোর্স অ্যাটাকে হ্যাকার একটি পাসওয়ার্ড বা কী খুঁজে বের করতে সম্ভাব্য প্রতিটি অক্ষর বা সংখ্যার বিন্যাস পরীক্ষা করে।


১৬। ক্রিপ্টোগ্রাফির আলগরিদমগুলো প্রধানত কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
i. সিমেট্রিক
ii. অ্যাসিমেট্রিক
iii. হ্যাশ

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ঘ) i, ii ও iii

ব্যাখ্যা: ক্রিপ্টোগ্রাফিক অ্যালগরিদমগুলো সাধারণত তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত: সিমেট্রিক কী, অ্যাসিমেট্রিক কী এবং হ্যাশ ফাংশন।


১৭। সিমেট্রিক এনক্রিপশনের বৈশিষ্ট্য হলো—
i. এনক্রিপশন ও ডিক্রিপশনে একই কী ব্যবহৃত হয়
ii. এটি অ্যাসিমেট্রিক এনক্রিপশনের চেয়ে দ্রুত
iii. কী শেয়ার করা ঝুঁকিপূর্ণ

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ঘ) i, ii ও iii

ব্যাখ্যা: সিমেট্রিক এনক্রিপশনে একটিই গোপন চাবি থাকে যা উভয় পক্ষকে জানতে হয়, তাই এটি দ্রুত হলেও চাবি আদান-প্রদান ঝুঁকিপূর্ণ।


১৮। ডেটা সিকিউরিটিতে 'Non-repudiation' বা অস্বীকার রোধ নিশ্চিত করে—
i. ডিজিটাল সিগনেচার
ii. এনক্রিপশন
iii. বায়োমেট্রিক্স

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ক) i

ব্যাখ্যা: ডিজিটাল সিগনেচার ব্যবহার করলে প্রেরক পরবর্তীতে মেসেজ পাঠানোর কথা অস্বীকার করতে পারে না, একে Non-repudiation বলে।


১৯। শক্তিশালী পাসওয়ার্ডের বৈশিষ্ট্য হলো—
i. কমপক্ষে ৮টি ক্যারেক্টার থাকা
ii. ছোট ও বড় হাতের অক্ষর, সংখ্যা ও প্রতীকের সংমিশ্রণ
iii. অভিধানে থাকা কোনো শব্দ ব্যবহার করা

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ক) i ও ii

ব্যাখ্যা: শক্তিশালী পাসওয়ার্ডে জটিলতা থাকতে হয়। অভিধানের শব্দ সহজেই অনুমান করা যায়, তাই এটি বাদ দেওয়া উচিত।


২০। পাবলিক কী ক্রিপ্টোগ্রাফির সুবিধা হলো—
i. কী বিতরণের সমস্যা নেই
ii. প্রসেসিং স্পিড অনেক বেশি
iii. ডিজিটাল সিগনেচার ব্যবহার করা যায়

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: খ) i ও iii

ব্যাখ্যা: পাবলিক কী সিস্টেমে প্রাইভেট কী গোপন থাকে এবং পাবলিক কী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে, তাই কী বিতরণের ঝামেলা নেই। তবে এটি সিমেট্রিকের চেয়ে ধীরগতির।


নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ২১ ও ২২ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
একটি ব্যাংক তাদের অনলাইন লেনদেনের জন্য গ্রাহকদের একটি বিশেষ ডিভাইস দিয়েছে যা প্রতিবার লগইনের সময় একটি নতুন কোড জেনারেট করে। এই কোডটি মাত্র ৩০ সেকেন্ডের জন্য কার্যকর থাকে।

২১। উদ্দীপকে বর্ণিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি কী নামে পরিচিত?

ক) ফায়ারওয়াল
খ) ওটিপি (OTP)
গ) বায়োমেট্রিক্স
ঘ) ক্যাপচা

সঠিক উত্তর: খ) ওটিপি (OTP)

ব্যাখ্যা: ওটিপি বা One Time Password হলো এমন একটি কোড যা শুধুমাত্র একবার ব্যবহারের জন্য তৈরি হয় এবং নির্দিষ্ট সময় পর অকার্যকর হয়ে যায়।


২২। এই ব্যবস্থার প্রধান সুবিধা কী?

ক) এটি মনে রাখা সহজ
খ) হ্যাকাররা পুরনো পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে পারে না
গ) কোনো ইন্টারনেট সংযোগ লাগে না
ঘ) এটি বায়োমেট্রিক্সের চেয়ে সস্তা

সঠিক উত্তর: খ) হ্যাকাররা পুরনো পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে পারে না

ব্যাখ্যা: যেহেতু প্রতিবার নতুন কোড তৈরি হয় এবং পুরনোটি অচল হয়ে যায়, তাই হ্যাকার পুরনো পাসওয়ার্ড জেনে গেলেও কোনো লাভ হয় না।


নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ২৩ থেকে ২৫ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
মি. এক্স তার বন্ধু মি. ওয়াই-কে একটি গোপন ফাইল পাঠাতে চান। তিনি মি. ওয়াই-এর পাবলিক কী ব্যবহার করে ফাইলটি লক করলেন এবং পাঠালেন। মি. ওয়াই ফাইলটি পেয়ে তার নিজের প্রাইভেট কী দিয়ে আনলক করলেন।

২৩। উদ্দীপকে কোন ধরনের এনক্রিপশন ব্যবহৃত হয়েছে?

ক) সিমেট্রিক
খ) অ্যাসিমেট্রিক
গ) সিজার সাইফার
ঘ) হ্যাশিং

সঠিক উত্তর: খ) অ্যাসিমেট্রিক

ব্যাখ্যা: পাবলিক ও প্রাইভেট—দুটি ভিন্ন কী ব্যবহার করায় এটি অ্যাসিমেট্রিক এনক্রিপশন।


২৪। যদি মি. এক্স ভুল করে নিজের পাবলিক কী দিয়ে ফাইলটি লক করতেন, তবে কী হতো?

ক) মি. ওয়াই ফাইলটি খুলতে পারতেন
খ) মি. এক্স ফাইলটি খুলতে পারতেন না
গ) শুধুমাত্র মি. এক্স-এর প্রাইভেট কী দিয়ে খোলা যেত
ঘ) ফাইলটি নষ্ট হয়ে যেত

সঠিক উত্তর: গ) শুধুমাত্র মি. এক্স-এর প্রাইভেট কী দিয়ে খোলা যেত

ব্যাখ্যা: পাবলিক কী দিয়ে লক করা ফাইল শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রাইভেট কী দিয়েই খোলা যায়। মি. এক্স-এর পাবলিক কী দিয়ে লক করলে তা খুলতে মি. এক্স-এর প্রাইভেট কী লাগবে।


২৫। এই পদ্ধতিতে ডেটার কোন দিকটি নিশ্চিত হয়েছে?

ক) গোপনীয়তা (Confidentiality)
খ) অখণ্ডতা (Integrity)
গ) প্রাপ্যতা (Availability)
ঘ) প্রমাণীকরণ (Authentication)

সঠিক উত্তর: ক) গোপনীয়তা (Confidentiality)

ব্যাখ্যা: যেহেতু শুধুমাত্র প্রাপক (যার কাছে প্রাইভেট কী আছে) ফাইলটি খুলতে পারবে, তাই ডেটার গোপনীয়তা নিশ্চিত হয়েছে।