আইসিটির সাম্প্রতিক প্রবণতা: মহাকাশ, উৎপাদন ও প্রতিরক্ষা

আইসিটির সাম্প্রতিক প্রবণতা: মহাকাশ অভিযান (বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট), আইসিটি নির্ভর উৎপাদন (CAD/CAM) এবং প্রতিরক্ষা (ড্রোন, সাইবার যুদ্ধ) নিয়ে আলোচনা। HSC ICT Chapt

শেখা শুরু করুন

আইসিটির সাম্প্রতিক প্রবণতা: মহাকাশ, উৎপাদন ও প্রতিরক্ষা

  1. আইসিটির সাম্প্রতিক প্রবণতা: মহাকাশ, উৎপাদন ও প্রতিরক্ষা
  2. কল্পনা ও বাস্তবতা
  3. মহাকাশ অভিযান (Space Exploration)
  4. বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১
  5. আইসিটি নির্ভর উৎপাদন (ICT in Production)
  6. কম্পিউটার এইডেড ডিজাইন (CAD)
  7. কম্পিউটার এইডেড ম্যানুফ্যাকচারিং (CAM)
  8. CAD ও CAM এর সম্পর্ক
  9. প্রতিরক্ষায় আইসিটি (ICT in Defense)
  10. ড্রোন বা UAV (Unmanned Aerial Vehicle)
  11. স্মার্ট অস্ত্র ও সাইবার যুদ্ধ
  12. সারসংক্ষেপ (Summary)
  13. ধন্যবাদ

আইসিটির সাম্প্রতিক প্রবণতা: মহাকাশ, উৎপাদন ও প্রতিরক্ষা

এই লেকচার শেষে আমরা-

১। মহাকাশ অভিযানে আইসিটির ভূমিকা ও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব।
২। আইসিটি নির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা এবং CAD ও CAM এর ব্যবহার ব্যাখ্যা করতে পারব।
৩। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আইসিটি, ড্রোন এবং সাইবার যুদ্ধের ধারণা বিশ্লেষণ করতে পারব।

স্বাগতম সবাইকে! এইচএসসি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কোর্সের আজকের ক্লাসে তোমাদের স্বাগত জানাচ্ছি। আজ আমরা প্রথম অধ্যায়ের খুবই চমৎকার একটি টপিক নিয়ে আলোচনা করব। সেটা হলো—আইসিটির সাম্প্রতিক প্রবণতা, বিশেষ করে মহাকাশ, উৎপাদন এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে। আজকের ক্লাস শেষে তোমরা মহাকাশ অভিযান এবং আমাদের গর্ব বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সম্পর্কে জানতে পারবে। এরপর আমরা দেখব কল-কারখানায় কীভাবে কম্পিউটার ডিজাইন এবং রোবট কাজ করে। এবং সবশেষে জানব, কীভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা যুদ্ধক্ষেত্রও বদলে যাচ্ছে। চলো তাহলে শুরু করা যাক!

কল্পনা ও বাস্তবতা

দৃশ্যপট:
- মহাকাশে রকেট বা স্যাটেলাইট ছুটে চলেছে।
- কারখানায় মানুষ ছাড়াই রোবট কাজ করছে।
- পাইলট ছাড়াই আকাশে বিমান (ড্রোন) উড়ছে।

প্রশ্ন: মানুষ সেখানে উপস্থিত না থেকেও কীভাবে এই জটিল কাজগুলো নিখুঁতভাবে করছে?

উত্তর: রিমোট কন্ট্রোলিং, অটোমেশন এবং নিখুঁত যোগাযোগ ব্যবস্থা।

একটু কল্পনা করো তো—পৃথিবী থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে মহাকাশে একটা স্পেস স্টেশন ঘুরছে, আর পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা নিচ থেকে সেটা কন্ট্রোল করছেন। আবার ধরো, একটা বিশাল কারখানায় আগুনের ফুলকি উড়ছে, কিন্তু কোনো মানুষ সেখানে নেই, রোবটরা গাড়ি বানাচ্ছে। অথবা আকাশে যুদ্ধবিমান উড়ছে, কিন্তু ভেতরে কোনো পাইলট নেই! শুনতে সায়েন্স ফিকশন মনে হলেও এটাই এখন বাস্তবতা। প্রশ্ন হলো, মানুষ সেখানে না থেকেও কীভাবে এই কাজগুলো এত নিখুঁতভাবে করছে? এর উত্তর হলো—তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা আইসিটি।

মহাকাশ অভিযান (Space Exploration)

আইসিটির ভূমিকা:
- মহাকাশ যান নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা।
- পৃথিবী থেকে মহাকাশে এবং মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে যোগাযোগ (Telemetry)।
- গ্রহ-নক্ষত্রের ছবি ও ডেটা বিশ্লেষণ।

মূল প্রযুক্তি:
- স্যাটেলাইট (Satellite)
- স্পেস স্টেশন (Space Station)
- রিমোট সেন্সিং (Remote Sensing)

শুরুতেই আসি মহাকাশ অভিযানে। তোমরা কি জানো, মহাকাশে একটা রকেট পাঠানো যতটা না জ্বালানির ব্যাপার, তার চেয়ে বেশি হলো সঠিক ডেটা বা তথ্যের ব্যাপার? পৃথিবী থেকে যখন কোনো মহাকাশ যান পাঠানো হয়, তার প্রতিটি মুহূর্ত কন্ট্রোল করা হয় কম্পিউটার দিয়ে। এই যে পৃথিবী থেকে সংকেত পাঠানো এবং মহাকাশ যান থেকে তথ্য বা ছবি পৃথিবীতে আসা—এই পুরো প্রক্রিয়াটাকে বলা হয় টেলিমেট্রি (Telemetry)। আইসিটি ছাড়া মহাকাশ অভিযানের কথা চিন্তাই করা যায় না। কারণ, এক সেকেন্ডের হাজার ভাগের এক ভাগ সময়ের ভুলেও পুরো মিশন ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

পরিচিতি:
- বাংলাদেশের প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ (Communication Satellite)।
- উৎক্ষেপণ তারিখ: ১২ মে, ২০১৮ (বাংলাদেশ সময়)।
- কক্ষপথ: জিওস্টেশনারি (Geostationary)।
- অবস্থান: ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।

সুবিধা:
- নিজস্ব টিভি চ্যানেল সম্প্রচার।
- দুর্গম ও চরাঞ্চলে ইন্টারনেট সেবা।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ।

মহাকাশ নিয়ে কথা বললে আমাদের গর্বের জায়গা—বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর কথা বলতেই হয়। ২০১৮ সালের ১২ই মে বাংলাদেশ ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠায়। এটি একটি জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট, মানে হলো এটি পৃথিবীর গতির সাথে তাল মিলিয়ে ঘোরে, তাই পৃথিবী থেকে মনে হয় এটি স্থির আছে। এর অবস্থান ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। এর ফলে আমরা এখন বিদেশি স্যাটেলাইট ভাড়া না করেই নিজেদের টিভি চ্যানেল চালাতে পারছি। আর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, ঝর-বৃষ্টি বা দুর্যোগের সময় যখন সব নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায়, তখনো স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ রাখা সম্ভব হয়।

আইসিটি নির্ভর উৎপাদন (ICT in Production)

মূল ধারণা: কাঁচামাল থেকে চূড়ান্ত পণ্য তৈরিতে প্রযুক্তির ব্যবহার।

বৈশিষ্ট্য:
- অটোমেশন (Automation): স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের ব্যবহার।
- ২৪/৭ কর্মক্ষমতা: বিরামহীন উৎপাদন।
- ঝুঁকি হ্রাস: বিপজ্জনক কাজে (যেমন: ওয়েল্ডিং, রাসায়নিক মিশ্রণ) রোবটের ব্যবহার।
- মান নিয়ন্ত্রণ: পণ্যের ত্রুটি কমানো।

মহাকাশ থেকে এবার আমরা মাটিতে নেমে আসি, সোজা কারখানায়। আগেকার দিনের কারখানার কথা মনে আছে? ধোঁয়া, শব্দ, আর শত শত শ্রমিকের ঘাম। কিন্তু আধুনিক আইসিটি নির্ভর কারখানাগুলো একদম অন্যরকম। এখানে ব্যবহার করা হয় অটোমেশন। অর্থাৎ, কাঁচামাল ঢোকানো থেকে শুরু করে প্যাকেটজাত করা পর্যন্ত সব কাজ করে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র। এর সুবিধা কী? মানুষ ক্লান্ত হয়, কিন্তু যন্ত্র ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে পারে। আর যেসব কাজ মানুষের জন্য বিপদজনক, যেমন আগুনের কাজ বা বিষাক্ত কেমিক্যালের কাজ, সেগুলো এখন রোবট করে দিচ্ছে।

কম্পিউটার এইডেড ডিজাইন (CAD)

পূর্ণরূপ: Computer Aided Design

কাজ:
- কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে পণ্যের দ্বিমাত্রিক (2D) বা ত্রিমাত্রিক (3D) নকশা তৈরি।
- ভার্চুয়ালি পণ্যের ত্রুটি পরীক্ষা করা।
- সহজে নকশা পরিবর্তন ও সংরক্ষণ করা।

উদাহরণ:
- গাড়ির মডেল ডিজাইন।
- আর্কিটেকচারাল (ভবন) নকশা।

এখন আমরা জানব দুটি খুব গুরুত্বপূর্ণ শব্দ—CAD এবং CAM। প্রথমে আসি CAD বা Computer Aided Design-এ। কোনো একটা গাড়ি বা বড় বিল্ডিং তৈরির আগে সেটা দেখতে কেমন হবে, তা কি আমরা সরাসরি বানিয়ে ফেলি? না। প্রথমে কম্পিউটারে তার একটা ডিজাইন করা হয়। এই ছবিতে দেখো, কম্পিউটারের স্ক্রিনে একটা যন্ত্রের থ্রি-ডি মডেল দেখা যাচ্ছে। এটাই CAD। এর মাধ্যমে ইঞ্জিনিয়াররা ভার্চুয়ালি দেখে নিতে পারেন যে ডিজাইনে কোনো ভুল আছে কিনা। এতে সময় এবং খরচ—দুটোই বাঁচে।

কম্পিউটার এইডেড ম্যানুফ্যাকচারিং (CAM)

পূর্ণরূপ: Computer Aided Manufacturing

কাজ:
- CAD-এ তৈরি করা নকশা অনুযায়ী মেশিনের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন।
- কম্পিউটার সরাসরি মেশিনকে নির্দেশ দেয় কোথায় কাটতে বা জোড়া লাগাতে হবে।

সুবিধা:
- অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিখুঁত উৎপাদন।
- অপচয় রোধ (Less waste)।
- মানুষের চেয়ে দ্রুতগতিতে কাজ সম্পন্ন।

ডিজাইন তো হলো, এবার সেটা বানাবে কে? এখানেই আসে CAM বা Computer Aided Manufacturing। CAD-এর ডিজাইনটি সরাসরি মেশিনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ছবিতে ডানপাশে দেখো, একটা রোবোটিক আর্ম বা মেশিন ঠিক সেই ডিজাইন অনুযায়ী কাজ করছে। এখানে মানুষের হাত দেওয়ার কোনো দরকার নেই। মেশিনটি মিলিমিটারের ভগ্নাংশ পর্যন্ত নিখুঁতভাবে লোহা কাটতে বা জোড়া লাগাতে পারে। এর ফলে অপচয় কমে যায় এবং উৎপাদন অনেক দ্রুত হয়।

CAD ও CAM এর সম্পর্ক

CAD (Design)
- এটি ইনপুট হিসেবে কাজ করে।
- এখানে পণ্যের ভার্চুয়াল রূপ তৈরি হয়।
- সফটওয়্যার: AutoCAD, SolidWorks ইত্যাদি।

তাহলে সহজ কথায় CAD এবং CAM-এর সম্পর্কটা কী? CAD হলো মস্তিষ্কের কল্পনার মতো, যেখানে আমরা ডিজাইনটা তৈরি করি বা ইনপুট দেই। আর CAM হলো হাতের কাজের মতো, যা সেই ডিজাইনটাকে বাস্তবে রূপ দেয় বা আউটপুট দেয়। আধুনিক গার্মেন্টস শিল্পে বা গাড়ি তৈরির কারখানায় এই দুটি প্রযুক্তি একসাথেই ব্যবহার করা হয়। প্রথমে ডিজাইনার কম্পিউটারে শার্টের নকশা করেন (CAD), আর তারপর অটোমেটিক মেশিন সেই নকশা অনুযায়ী কাপড় কাটে (CAM)।

প্রতিরক্ষায় আইসিটি (ICT in Defense)

আধুনিক যুদ্ধের ধারণা:
- যুদ্ধ এখন শুধু অস্ত্রের নয়, তথ্যের লড়াই (Information Warfare)।
- লক্ষ্যভেদ ও যোগাযোগে আইসিটির ব্যবহার।

প্রধান ক্ষেত্রসমূহ:
১. যোগাযোগ ও নিয়ন্ত্রণ (C4I): Command, Control, Communications, Computers, and Intelligence.
২. আধুনিক সমরাস্ত্র: ড্রোন, গাইডেড মিসাইল।
৩. সাইবার নিরাপত্তা: তথ্য সুরক্ষা।

এবার আমরা আসব তৃতীয় টপিকে—প্রতিরক্ষা বা ডিফেন্স। যুদ্ধের ময়দানেও এখন আইসিটির রাজত্ব। আগের দিনে যুদ্ধ হতো শুধু তলোয়ার বা বন্দুক দিয়ে। আর এখনকার যুদ্ধকে বলা হয় 'ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার' বা তথ্যের যুদ্ধ। যার কাছে যত সঠিক তথ্য আছে, সে তত শক্তিশালী। সৈন্যরা এখন জিপিএস, স্যাটেলাইট ফোন এবং নাইট ভিশন চশমা ব্যবহার করে একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে। একে বলা হয় C4I সিস্টেম।

ড্রোন বা UAV (Unmanned Aerial Vehicle)

সংজ্ঞা: চালকবিহীন বিমান যা রিমোট কন্ট্রোল বা কম্পিউটারের সাহায্যে চালানো হয়।

ব্যবহার:
- নজরদারি (Surveillance): শত্রুর এলাকার ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ।
- হামলা: দুর্গম স্থানে ঝুঁকি ছাড়া আক্রমণ।
- অনুসন্ধান: উদ্ধার ও ত্রাণ কাজে সহায়তা।

উদাহরণ: আধুনিক যুদ্ধে ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার পাইলটের জীবন রক্ষা করে।

প্রতিরক্ষায় আইসিটির সবচেয়ে আলোচিত আবিষ্কার হলো ড্রোন বা UAV। UAV মানে হলো Unmanned Aerial Vehicle—অর্থাৎ চালকবিহীন বিমান। তোমরা হয়তো বিয়ে বাড়িতে ভিডিও করার জন্য ছোট ড্রোন দেখেছ। কিন্তু সামরিক ড্রোনগুলো অনেক বড় এবং শক্তিশালী। ছবিতে দেখো, একটা ড্রোনে ক্যামেরা, সেন্সর এবং অ্যান্টেনা থাকে। হাজার মাইল দূর থেকে একজন পাইলট কম্পিউটারের সামনে বসে এটি নিয়ন্ত্রণ করেন। এর ফলে পাইলটের জীবনের ঝুঁকি ছাড়াই শত্রুর এলাকায় নজরদারি করা বা হামলা চালানো সম্ভব হয়।

স্মার্ট অস্ত্র ও সাইবার যুদ্ধ

স্মার্ট মিসাইল ও রাডার:
- গাইডেড মিসাইল: জিপিএস (GPS) ব্যবহার করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানে।
- রাডার: শত্রুর বিমান বা মিসাইল শনাক্ত করে।

সাইবার যুদ্ধ (Cyber Warfare):
- শত্রুর কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হ্যাক করা।
- বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ব্যাংক বা যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে দেওয়া।
- এটি 'অদৃশ্য যুদ্ধ' নামেও পরিচিত।

শুধু ড্রোন নয়, এখন মিসাইলগুলোও হয়ে গেছে 'স্মার্ট'। এগুলো জিপিএস ব্যবহার করে পিনপয়েন্ট একুরেসি বা নির্ভুলভাবে লক্ষ্যে আঘাত করতে পারে। আর আছে রাডার সিস্টেম, যা শত্রুর বিমান দেখামাত্রই সংকেত দেয়। তবে সবচেয়ে ভয়ংকর হলো 'সাইবার যুদ্ধ'। এখন কোনো দেশ দখল করতে হলে বোমা ফেলার দরকার হয় না। যদি হ্যাকাররা অন্য দেশের ব্যাংকিং সিস্টেম, বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা যোগাযোগ ব্যবস্থা হ্যাক করে অচল করে দিতে পারে, তবে সেই দেশ এমনিতেই দুর্বল হয়ে পড়ে। এটাই হলো আধুনিক যুগের অদৃশ্য যুদ্ধ।

সারসংক্ষেপ (Summary)

আজকের লেকচারে আমরা যা শিখলাম:

  1. মহাকাশ: স্যাটেলাইট ও স্পেস স্টেশন যোগাযোগ ও গবেষণায় বিপ্লব এনেছে। (উদাহরণ: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)
  2. উৎপাদন: CAD দিয়ে ডিজাইন এবং CAM দিয়ে নিখুঁত পণ্য তৈরি হচ্ছে, যা সময় ও খরচ বাঁচায়।
  3. প্রতিরক্ষা: ড্রোন এবং সাইবার প্রযুক্তি আধুনিক যুদ্ধব্যবস্থা ও নিরাপত্তার ধারণা বদলে দিয়েছে।

আমরা লেকচারের একদম শেষে চলে এসেছি। চলো একনজরে দেখে নিই আজ আমরা কী কী শিখলাম। আমরা দেখেছি মহাকাশ অভিযানে স্যাটেলাইটের ভূমিকা এবং আমাদের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গুরুত্ব। আমরা জেনেছি কারখানায় কীভাবে CAD এবং CAM প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিখুঁত পণ্য তৈরি হচ্ছে। এবং শেষে জানলাম, কীভাবে ড্রোন এবং সাইবার প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হচ্ছে। আইসিটি আসলে আমাদের জীবনকে শুধু সহজই করেনি, আমাদের নিরাপত্তা এবং সক্ষমতাকেও অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ধন্যবাদ

পড়াশোনা চালিয়ে যাও!
কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট বা Q&A সেকশনে জানাও।

আজকের ক্লাস এ পর্যন্তই। আশা করি তোমরা টপিকগুলো বুঝতে পেরেছ। এই বিষয়গুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত জানতে তোমাদের পাঠ্যবইটি অবশ্যই পড়বে। আমাদের পরবর্তী ক্লাসের টপিক 'বায়োমেট্রিক্স'—যেখানে আমরা ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস রিকগনিশন নিয়ে কথা বলব। সেই ক্লাসটি দেখার আমন্ত্রণ রইল। সবাই ভালো থেকো, ধন্যবাদ!

আইসিটির সাম্প্রতিক প্রবণতা: মহাকাশ, উৎপাদন ও প্রতিরক্ষা

পড়তে প্রায় 12 মিনিট

বর্তমান যুগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) শুধুমাত্র যোগাযোগ বা বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি মহাকাশ গবেষণা, শিল্প উৎপাদন এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। লেকচারে আমরা এই বিষয়গুলোর ভিজ্যুয়াল উদাহরণ দেখেছি। এই পাঠে আমরা তাত্ত্বিক ও পরীক্ষোপযোগী বিস্তারিত তথ্য জানব যা তোমাদের সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনী প্রশ্নের উত্তর প্রদানে সরাসরি সহায়তা করবে।

মহাকাশ অভিযানের জটিল গাণিতিক হিসাব থেকে শুরু করে কারখানার স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে নির্ভুল লক্ষ্যভেদ—সবকিছুই এখন আইসিটি নির্ভর। এইচএসসি আইসিটি প্রথম অধ্যায়ের এই অংশটি থেকে প্রায়ই উদ্দীপকভিত্তিক প্রশ্ন আসে, তাই প্রতিটি অংশের খুঁটিনাটি তথ্য মনে রাখা জরুরি।

মহাকাশ অভিযান (Space Exploration)

মহাকাশ অভিযান বলতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে মহাকাশের রহস্য উদঘাটন এবং গ্রহ-নক্ষত্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য পরিচালিত বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত কার্যক্রমকে বোঝায়। এই অভিযানে আইসিটির ভূমিকা অনস্বীকার্য। মহাকাশ যান নিয়ন্ত্রণ, নভোচারীদের সাথে যোগাযোগ এবং সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ—সবই কম্পিউটার ও নেটওয়ার্ক প্রযুক্তির মাধ্যমে করা হয়।

জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট ও গ্রাউন্ড স্টেশনের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান

সংজ্ঞা (Definition): মহাকাশ অভিযান (Space Exploration) হলো মহাকাশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বহিঃবিশ্বের অনুসন্ধান ও গবেষণা কার্যক্রম। এর মূল লক্ষ্য হলো মহাবিশ্বের উৎপত্তি, গঠন এবং প্রাণের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানা।

মহাকাশ গবেষণায় কিছু বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়, যা পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ:

গুরুত্বপূর্ণ (Important):
- টেলিমেট্রি (Telemetry): এটি এমন একটি স্বয়ংক্রিয় যোগাযোগ প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে মহাকাশ যানের বা স্যাটেলাইটের বিভিন্ন সেন্সর থেকে ডেটা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে অবস্থিত গ্রাউন্ড স্টেশনে প্রেরণ করা হয়। মহাকাশ যানের গতি, তাপমাত্রা, বাতাসের চাপ ইত্যাদি তথ্য টেলিমেট্রির মাধ্যমে জানা যায়।
- জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট (Geostationary Satellite): এই ধরনের কৃত্রিম উপগ্রহ পৃথিবীর আবর্তনের গতির সাথে সমান গতিতে (২৪ ঘণ্টায় একবার) পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। ফলে পৃথিবী থেকে তাকালে একে স্থির মনে হয়। যোগাযোগ ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে এটি ব্যবহৃত হয়।
- SPARRSO: বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (Space Research and Remote Sensing Organization)। এটি বাংলাদেশের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১: বাংলাদেশের মহাকাশ জয়

বাংলাদেশ ২০১৮ সালে নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে স্যাটেলাইট ক্লাবে যুক্ত হয়। এই অংশটি থেকে জ্ঞানমূলক ও বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ) আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। নিচের তথ্যগুলো মুখস্থ রাখা জরুরি।

পরীক্ষার টিপস (Exam Tip) - বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর স্পেসিফিকেশন:
- নাম: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ (Bangabandhu Satellite-1)
- উৎক্ষেপণ তারিখ: ১২ মে ২০১৮ (বাংলাদেশ সময়), ১১ মে ২০১৮ (যুক্তরাষ্ট্র সময়)
- উৎক্ষেপণ স্থান: কেনেডি স্পেস সেন্টার, ফ্লোরিডা, যুক্তরাষ্ট্র
- রকেট: ফ্যালকন-৯ (Falcon-9), নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেস এক্স (SpaceX)
- কক্ষপথের অবস্থান: ১১৯.১° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ (119.1° East Longitude)
- ধরন: জিওস্টেশনারি কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট
- ট্রান্সপন্ডার: মোট ৪০টি (২৬টি কু-ব্যান্ড বা Ku-band এবং ১৪টি সি-ব্যান্ড বা C-band)
- মেয়াদকাল: ১৫ বছর

উদাহরণ (Example):
উদ্দীপক: মি. ক তার গ্রামের বাড়িতে ডিশ লাইন ছাড়াই সরাসরি টিভিতে ঝকঝকে ছবি ও অনুষ্ঠান দেখছেন। এটি কীভাবে সম্ভব হলো?
উত্তর: এটি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের DTH (Direct to Home) সেবার মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং এবং ভিডিও কনফারেন্সিং সেবা প্রদান সহজ হয়েছে।

আইসিটি নির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা (CAD, CAM ও CIM)

আধুনিক শিল্প কারখানায় মানুষের বদলে রোবট ও কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ছে। একে বলা হয় অটোমেশন (Automation)। উৎপাদন ব্যবস্থায় আইসিটির তিনটি প্রধান শাখা রয়েছে: CAD, CAM এবং CIM।

কম্পিউটার ইন্টিগ্রেটেড ম্যানুফ্যাকচারিং (CIM) প্রক্রিয়া

সংজ্ঞা (Definition):
- CAD (Computer Aided Design): কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো পণ্য বা কাঠামোর দ্বিমাত্রিক (2D) বা ত্রিমাত্রিক (3D) ভার্চুয়াল নকশা তৈরি করাকে CAD বলে। উদাহরণ: AutoCAD, SolidWorks.
- CAM (Computer Aided Manufacturing): কম্পিউটারের সহায়তায় বা নিয়ন্ত্রণে কারখানার যন্ত্রপাতি পরিচালনা করে সরাসরি পণ্য উৎপাদন করার প্রক্রিয়াকে CAM বলে। উদাহরণ: CNC Machine, 3D Printer.
- CIM (Computer Integrated Manufacturing): এটি এমন একটি সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থা যেখানে ডিজাইনিং (CAD) থেকে শুরু করে উৎপাদন (CAM), মান নিয়ন্ত্রণ এবং বিতরণ—পুরো প্রক্রিয়াটি কম্পিউটারের মাধ্যমে সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়।

CAD এবং CAM এর মধ্যে পার্থক্য প্রায়ই অনুধাবনমূলক প্রশ্নে আসে। নিচে এদের প্রধান পার্থক্যগুলো দেওয়া হলো:

বৈশিষ্ট্য CAD (Computer Aided Design) CAM (Computer Aided Manufacturing)
মূল কাজ পণ্যের ডিজাইন বা নকশা তৈরি করা। নকশা অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন বা তৈরি করা।
অবস্থান এটি মূলত সফটওয়্যার ভিত্তিক ভার্চুয়াল কাজ। এটি হার্ডওয়্যার ও মেশিন ভিত্তিক ভৌত কাজ।
সম্পর্ক এটি ইনপুট হিসেবে কাজ করে (CAM-এর জন্য)। এটি আউটপুট প্রদান করে (বাস্তব পণ্য)।
উদাহরণ ইঞ্জিনিয়াররা কম্পিউটারে গাড়ির মডেল ডিজাইন করছেন। রোবটিক হাত সেই ডিজাইন অনুযায়ী গাড়ির বডি ঝালাই করছে।

গুরুত্বপূর্ণ (Important): শিল্পে ব্যবহৃত রোবট (Industrial Robot) বা পিএলসি (PLC - Programmable Logic Controller) মূলত CAM এর অংশ। এগুলো বিপজ্জনক কাজ (যেমন: ওয়েল্ডিং, রঙ করা, ভারী বস্তু ওঠানো) মানুষের চেয়ে দ্রুত ও নিখুঁতভাবে করতে পারে।

প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আইসিটি (ICT in Defense)

আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন আর শুধু গোলাবারুদ বা সৈন্য সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না; এটি এখন তথ্য ও প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। একে বলা হয় 'স্মার্ট ওয়ারফেয়ার'।

সংজ্ঞা (Definition):
- UAV (Unmanned Aerial Vehicle): পাইলটবিহীন বিমান যা দূর থেকে রিমোট বা কম্পিউটারের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সাধারণ ভাষায় একে ড্রোন (Drone) বলা হয়। এটি গোয়েন্দা নজরদারি এবং নিখুঁত হামলায় ব্যবহৃত হয়।
- স্মার্ট বম্ব (Smart Bomb): জিপিএস (GPS) বা লেজার গাইডেন্স সিস্টেম যুক্ত বোমা বা মিসাইল, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্য খুঁজে আঘাত হানতে পারে।

প্রতিরক্ষায় আইসিটির একটি বড় অংশ হলো সাইবার নিরাপত্তা।

গুরুত্বপূর্ণ (Important) - সাইবার যুদ্ধ (Cyber Warfare):
কোনো দেশের ভৌত অবকাঠামো (যেমন: সেতু, ভবন) ধ্বংস না করে, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হ্যাক করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করা বা সিস্টেম অচল করে দেওয়াকে সাইবার যুদ্ধ বলে। আধুনিক বিশ্বে এটি একটি বড় হুমকি, কারণ এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ব্যাংক বা বিমান চলাচল ব্যবস্থা অকেজো করে দেওয়া সম্ভব।

সংক্ষিপ্ত সারাংশ (Quick Revision)

একনজরে যা মনে রাখতে হবে:
- মহাকাশ: টেলিমেট্রি হলো তথ্য প্রেরণের প্রযুক্তি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর অবস্থান ১১৯.১° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে এবং এতে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার আছে।
- উৎপাদন: CAD হলো ডিজাইন (ভার্চুয়াল), CAM হলো ম্যানুফ্যাকচারিং (বাস্তব)। CIM হলো দুটির সমন্বয়।
- প্রতিরক্ষা: ড্রোন বা UAV চালকবিহীন বিমান। স্মার্ট বম্ব জিপিএস ব্যবহার করে লক্ষ্যভেদ করে।
- তথ্য যুদ্ধ: তথ্যের সঠিক ব্যবহার এবং প্রতিপক্ষের তথ্য ব্যবস্থা অচল করে দেওয়াই আধুনিক যুদ্ধের কৌশল।

পরিভাষা (Glossary)

শব্দ (Term) ব্যাখ্যা (Definition)
Telemetry দূরবর্তী কোনো স্থান থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য পরিমাপ ও প্রেরণ করার প্রক্রিয়া।
Geo-stationary পৃথিবীর আবর্তনের গতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ঘোরা, ফলে পৃথিবী থেকে স্থির মনে হয়।
UAV Unmanned Aerial Vehicle বা চালকবিহীন আকাশযান (ড্রোন)।
CAD Computer Aided Design (কম্পিউটার সহায়তায় নকশা প্রণয়ন)।
CAM Computer Aided Manufacturing (কম্পিউটার সহায়তায় উৎপাদন)।
Smart Bomb গাইডেড মিসাইল যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্য খুঁজে আঘাত হানে।
CIM Computer Integrated Manufacturing (কম্পিউটার সমন্বিত উৎপাদন)।

অনুশীলনের প্রশ্ন

সৃজনশীল প্রশ্ন

সৃজনশীল প্রশ্ন ১

২০১৮ সালের ১২ মে বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন অধ্যায় রচনা করে। এদিন বাংলাদেশ নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে ‘স্যাটেলাইট ক্লাব’-এর গর্বিত সদস্য হয়। এই স্যাটেলাইটটি মহাকাশে নিজস্ব কক্ষপথে অবস্থান করে দেশের টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায়ও এটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে।

ক) জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট কী?
খ) "মহাকাশ অভিযানে আইসিটি অপরিহার্য"—ব্যাখ্যা কর।
গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত স্যাটেলাইটটি দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় কী ভূমিকা রাখছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ) "প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ গবেষণায় বাংলাদেশের অগ্রগতিতে উদ্দীপকের প্রযুক্তিটির অবদান অনস্বীকার্য"—উক্তিটি মূল্যায়ন কর।

উত্তর

(ক) জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট হলো এমন এক ধরনের কৃত্রিম উপগ্রহ যা পৃথিবীর আবর্তনের গতির সাথে তাল মিলিয়ে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে, ফলে পৃথিবী থেকে এটিকে সবসময় স্থির মনে হয়।

(খ) মহাকাশ অভিযানে নভযান পরিচালনা, নভোচারীদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা, মহাকাশ যান নিয়ন্ত্রণ এবং সংগৃহীত তথ্য ও ছবি পৃথিবীতে প্রেরণের জন্য আইসিটি বা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অপরিহার্য। শক্তিশালী কম্পিউটার, নেভিগেশন সিস্টেম এবং রাডার প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া মহাকাশ গবেষণা ও অভিযান অসম্ভব।

(গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত স্যাটেলাইটটি হলো 'বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১', যা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় অভাবনীয় ভূমিকা রাখছে। এর মাধ্যমে দুর্গম ও চরাঞ্চলে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যা আগে অত্যন্ত কঠিন ছিল। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো এখন বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া না দিয়েই দেশীয় স্যাটেলাইটের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে পারছে, যা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করছে। এছাড়া ভি-স্যাট (VSAT) প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাংক ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব নিরাপদ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারছে। সুতরাং, দেশের টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার ব্যবস্থাকে স্বনির্ভর ও আধুনিক করতে এই স্যাটেলাইটটি প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করছে।

(ঘ) উদ্দীপকের প্রযুক্তিটি অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ গবেষণায় বাংলাদেশের অগ্রগতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিজস্ব যোগাযোগ ব্যবস্থা বা মিলিটারি কমিউনিকেশনে এই স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হয়, যা তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এর ফলে দেশের জল, স্থল ও আকাশসীমার নিরাপত্তা নজরদারি আরও জোরদার হয়েছে। অন্যদিকে, মহাকাশ গবেষণায় বাংলাদেশ এখন নিজস্ব উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর নির্ভর করতে পারছে, যা আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখছে। নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকায় মহাকাশ প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। তাই বলা যায়, প্রতিরক্ষা সুসংহতকরণ ও মহাকাশ প্রযুক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে এই প্রযুক্তির অবদান অনস্বীকার্য।


সৃজনশীল প্রশ্ন ২

মিস্টার 'এক্স' তার তৈরি পোশাক কারখানায় পণ্যের মান ও উৎপাদন গতি বাড়াতে চান। এজন্য তিনি কারখানায় বিশেষ এক ধরনের যান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করলেন যা বিরামহীনভাবে এবং নিখুঁতভাবে কাজ করতে পারে। অন্যদিকে, দেশের সীমান্তে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য সেনাবাহিনী পাইলটবিহীন একটি বিশেষ বিমান ব্যবহার শুরু করেছে।

ক) ড্রোন (Drone) কী?
খ) ঝুঁকিপূর্ণ কাজে রোবটের ব্যবহার সুবিধাজনক কেন?
গ) মিস্টার 'এক্স'-এর কারখানায় ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি কীভাবে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক? ব্যাখ্যা কর।
ঘ) সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি এবং মিস্টার 'এক্স'-এর কারখানার প্রযুক্তিটি কি একে অপরের পরিপূরক? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

(ক) ড্রোন বা UAV (Unmanned Aerial Vehicle) হলো এমন এক ধরনের বিমান যা পাইলট ছাড়াই রিমোট কন্ট্রোল বা জিপিএস (GPS) এর সাহায্যে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

(খ) যেসব কাজ মানুষের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক, যেমন—আগুন নেভানো, বোমা নিষ্ক্রিয় করা, বা তেজস্ক্রিয় পরিবেশে কাজ করা, সেখানে রোবট ব্যবহার করা সুবিধাজনক। রোবট ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করতে পারে এবং প্রতিকূল পরিবেশে মানুষের জীবনের ঝুঁকি কমিয়ে নিখুঁতভাবে কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম। এছাড়া মানুষের পক্ষে অগম্য স্থানেও রোবট সহজে পৌঁছাতে পারে।

(গ) উদ্দীপকে মিস্টার 'এক্স'-এর কারখানায় ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবোটিক্স বা অটোমেশন সিস্টেম। এই প্রযুক্তি মানুষের চেয়ে দ্রুতগতিতে এবং বিরামহীনভাবে কাজ করতে পারে, যা কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। রোবট নিখুঁতভাবে একই কাজ বারবার করতে পারে, ফলে পণ্যের মান বা কোয়ালিটি বজায় থাকে এবং অপচয় কমে। এছাড়া ভারী মালামাল বহন, ওয়েল্ডিং বা প্যাকেজিংয়ের মতো কায়িক পরিশ্রমের কাজগুলো রোবট দিয়ে করালে সময় সাশ্রয় হয়। ফলস্বরূপ, উৎপাদন খরচ কমে এবং স্বল্প সময়ে অধিক পণ্য উৎপাদন সম্ভব হয়, যা কারখানার সামগ্রিক উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরাসরি সহায়তা করে।

(ঘ) সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো ড্রোন এবং মিস্টার 'এক্স'-এর কারখানার প্রযুক্তিটি হলো রোবোটিক্স। যদিও এদের কার্যক্ষেত্রে ভিন্ন—একটি প্রতিরক্ষা ও নজরদারিতে এবং অন্যটি শিল্প উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়—তবুও এরা আইসিটির সাম্প্রতিক প্রবণতার আলোকে একে অপরের পরিপূরক হতে পারে। উভয় প্রযুক্তিতেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং অটোমেশন ব্যবহার করা হয়। ড্রোনের মূল মেকানিজম বা হার্ডওয়্যার মূলত এক ধরনের উড়ন্ত রোবট। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে বা নজরদারিতে 'রোবোটিক সোলজার' বা স্বয়ংক্রিয় যান যেমন ব্যবহৃত হচ্ছে, তেমনি কারখানায় পণ্য পরিবহনে 'ড্রোন' প্রযুক্তিও পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অর্থাৎ, রোবোটিক্সের যান্ত্রিক দক্ষতা এবং ড্রোনের রিমোট সেন্সিং ও অ্যারোডাইনামিক্স একে অপরের প্রযুক্তির উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। সুতরাং, প্রযুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে এরা ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হলেও, এদের মূল ভিত্তি এক এবং এরা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে আধুনিক বিশ্বব্যবস্থাকে এগিয়ে নিচ্ছে।


সৃজনশীল প্রশ্ন ৩

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্প্রতি তাদের আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর অবস্থান শনাক্ত করতে এবং নিখুঁতভাবে আক্রমণ চালাতে স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, দেশের কৃষি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এমন এক ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন যার মাধ্যমে মহাকাশ থেকে মাটির আর্দ্রতা ও ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে।

ক) স্পেস স্টেশন কী?
খ) স্মার্ট ফ্যাক্টরি বলতে কী বোঝায়?
গ) কৃষি গবেষণায় ব্যবহৃত প্রযুক্তিটির কার্যপ্রণালী ব্যাখ্যা কর।
ঘ) "আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে উদ্দীপকে উল্লিখিত সেনাবাহিনীর প্রযুক্তির ব্যবহার বিশ্বনিরাপত্তায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে"—বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

(ক) স্পেস স্টেশন বা মহাকাশ স্টেশন হলো মহাকাশে স্থাপিত এমন একটি বাসযোগ্য কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্থাপনা, যেখানে নভোচারীরা দীর্ঘসময় অবস্থান করে মহাকাশ নিয়ে গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে পারেন।

(খ) স্মার্ট ফ্যাক্টরি হলো এমন একটি আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা যেখানে সাইবার-ফিজিক্যাল সিস্টেম, ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT) এবং ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহার করে সম্পূর্ণ উৎপাদন প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় ও বুদ্ধিদীপ্ত করা হয়। এখানে যন্ত্রগুলো নিজেদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে এবং মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

(গ) উদ্দীপকে কৃষি গবেষণায় ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো জিওস্টেশনারি বা রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তিতে মহাকাশে অবস্থিত স্যাটেলাইটে শক্তিশালী সেন্সর ও ক্যামেরা থাকে যা পৃথিবীর ছবি তোলে এবং বিভিন্ন ডেটা সংগ্রহ করে। কৃষি ক্ষেত্রে এই স্যাটেলাইট মাটির আর্দ্রতা, ফসলের রং এবং তাপমাত্রা বিশ্লেষণ করে ফসলের স্বাস্থ্য সম্পর্কে তথ্য দেয়। রিমোট সেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিশাল কৃষি জমিতে পোকার আক্রমণ বা পানির অভাব আগে থেকেই শনাক্ত করা যায়। বিজ্ঞানীরা এই তথ্য বিশ্লেষণ করে কৃষকদের সঠিক পরামর্শ দিতে পারেন, ফলে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়।

(ঘ) আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে উদ্দীপকে উল্লিখিত সেনাবাহিনীর প্রযুক্তি, অর্থাৎ স্মার্ট অস্ত্র ও ড্রোন বা আইসিটি নির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা বিশ্বনিরাপত্তায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বর্তমানে প্রচলিত যুদ্ধের পরিবর্তে 'সাইবার যুদ্ধ' এবং 'ড্রোন হামলা'র প্রচলন বেড়েছে। আইসিটি ব্যবহারের ফলে এখন দূর থেকেই শত্রুর অবস্থান নিখুঁতভাবে শনাক্ত করে আক্রমণ চালানো সম্ভব হচ্ছে, যা নিজের সৈন্যদের প্রাণহানি কমায়। রাডার, জিপিএস এবং স্যাটেলাইট ইমেজিং ব্যবহার করে মিসাইল গাইডেন্স সিস্টেম অত্যন্ত নির্ভুল হয়েছে। তবে, এই প্রযুক্তির অপব্যবহার বা ভুল হাতে পড়লে তা বিশ্বশান্তির জন্য বড় হুমকি হতে পারে। একদিকে যেমন এটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে, অন্যদিকে এর মাধ্যমে গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং প্রাণঘাতী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের প্রসার ঘটছে। সার্বিকভাবে, এই প্রযুক্তি যুদ্ধের ধরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে এবং বিশ্বনিরাপত্তার ধারণাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছে।

এমসিকিউ

১। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ কত তারিখে উৎক্ষেপণ করা হয়?

ক) ১০ মে ২০১৮
খ) ১১ মে ২০১৮
গ) ১২ মে ২০১৮
ঘ) ১৩ মে ২০১৮

সঠিক উত্তর: গ) ১২ মে ২০১৮

ব্যাখ্যা: বাংলাদেশ সময় ১২ মে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করা হয়।


২। জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট পৃথিবী থেকে কত উচ্চতায় স্থাপন করা হয়?

ক) প্রায় ২০,০০০ কি.মি.
খ) প্রায় ৩৬,০০০ কি.মি.
গ) প্রায় ৪০,০০০ কি.মি.
ঘ) প্রায় ৫০,০০০ কি.মি.

সঠিক উত্তর: খ) প্রায় ৩৬,০০০ কি.মি.

ব্যাখ্যা: জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইটগুলো পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৬,০০০ কিলোমিটার উপরে নিরক্ষরেখা বরাবর স্থাপন করা হয়।


৩। মহাকাশ অভিযানে ব্যবহৃত শাটল বা যানের নাম কী?

ক) রোবট
খ) স্পেস স্টেশন
গ) স্পেস শাটল
ঘ) স্যাটেলাইট

সঠিক উত্তর: গ) স্পেস শাটল

ব্যাখ্যা: মহাকাশ অভিযানে নভোচারী ও সরঞ্জাম বহনের জন্য স্পেস শাটল ব্যবহৃত হয়, যা পুনরায় ব্যবহারযোগ্য।


৪। কোন প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্ষতিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ সহজে করা যায়?

ক) ন্যানোটেকনোলজি
খ) বায়োইনফরমেটিক্স
গ) রোবোটিক্স
ঘ) জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং

সঠিক উত্তর: গ) রোবোটিক্স

ব্যাখ্যা: রোবোটিক্স প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজ, যেমন বোমা নিষ্ক্রিয়করণ বা খনিতে কাজ করা, সহজে ও নিরাপদে করা যায়।


৫। স্মার্ট ফ্যাক্টরি বা অটোমেশন সিস্টেমে কোনটি অপরিহার্য?

ক) মানুষের কায়িক শ্রম
খ) ইন্টারনেট সংযোগ
গ) পিএলসি (PLC) বা মাইক্রোকন্ট্রোলার
ঘ) উচ্চবিত্ত মালিক

সঠিক উত্তর: গ) পিএলসি (PLC) বা মাইক্রোকন্ট্রোলার

ব্যাখ্যা: অটোমেশন সিস্টেমে যন্ত্রাংশ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রোগ্রামেবল লজিক কন্ট্রোলার (PLC) বা মাইক্রোকন্ট্রোলার অপরিহার্য।


৬। ড্রোন বা UAV এর পূর্ণরূপ কী?

ক) Unmanned Aerial Vehicle
খ) Universal Aerial Vehicle
গ) United Aerial Vehicle
ঘ) Unique Aerial Vehicle

সঠিক উত্তর: ক) Unmanned Aerial Vehicle

ব্যাখ্যা: ড্রোন হলো চালকবিহীন বিমান, তাই একে Unmanned Aerial Vehicle বা UAV বলা হয়।


৭। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে নিখুঁত লক্ষ্যভেদে কোনটি ব্যবহৃত হয়?

ক) সাধারণ রাডার
খ) স্মার্ট মিসাইল বা গাইডেড মিসাইল
গ) এনালগ কম্পিউটার
ঘ) ম্যানুয়াল টার্গেটিং

সঠিক উত্তর: খ) স্মার্ট মিসাইল বা গাইডেড মিসাইল

ব্যাখ্যা: স্মার্ট বা গাইডেড মিসাইল জিপিএস ও সেন্সর ব্যবহার করে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম।


৮। বাংলাদেশে মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান কোনটি?

ক) BTRC
খ) BUET
গ) SPARRSO
ঘ) NASA

সঠিক উত্তর: গ) SPARRSO

ব্যাখ্যা: SPARRSO (Space Research and Remote Sensing Organization) হলো বাংলাদেশের মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান।


৯। শিল্পকারখানায় রোবট ব্যবহারের প্রধান সুবিধা কী?

ক) খরচ বৃদ্ধি পায়
খ) উৎপাদন সময় বেশি লাগে
গ) নিখুঁত ও দ্রুত উৎপাদন সম্ভব হয়
ঘ) জনবল বেশি লাগে

সঠিক উত্তর: গ) নিখুঁত ও দ্রুত উৎপাদন সম্ভব হয়

ব্যাখ্যা: রোবট বিরামহীনভাবে কাজ করতে পারে, ফলে উৎপাদন দ্রুত হয় এবং ভুলের সম্ভাবনা কমে যায়।


১০। জিপিএস (GPS) প্রযুক্তির মূল কাজ কী?

ক) অবস্থান নির্ণয় করা
খ) ছবি তোলা
গ) গান শোনা
ঘ) টাইপ করা

সঠিক উত্তর: ক) অবস্থান নির্ণয় করা

ব্যাখ্যা: জিপিএস বা গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমের মূল কাজ হলো পৃথিবীর যেকোনো স্থানের সঠিক অবস্থান নির্ণয় করা।


১১। নিচের কোনটি মহাকাশ অভিযানের সাথে সম্পর্কিত নয়?

ক) ভয়েজার-১
খ) কিউরিওসিটি রোভার
গ) অপটিক্যাল ফাইবার
ঘ) হাবল টেলিস্কোপ

সঠিক উত্তর: গ) অপটিক্যাল ফাইবার

ব্যাখ্যা: অপটিক্যাল ফাইবার যোগাযোগ প্রযুক্তির অংশ, সরাসরি মহাকাশ অভিযানের যান বা যন্ত্র নয়। বাকিগুলো মহাকাশ যান বা টেলিস্কোপ।


১২। আধুনিক যুদ্ধবিমানে পাইলটের সাহায্যকারী হিসেবে কী থাকে?

ক) অতিরিক্ত পাইলট
খ) হেডস-আপ ডিসপ্লে (HUD) ও কম্পিউটার
গ) সাধারণ ম্যাপ
ঘ) কম্পাস

সঠিক উত্তর: খ) হেডস-আপ ডিসপ্লে (HUD) ও কম্পিউটার

ব্যাখ্যা: আধুনিক যুদ্ধবিমানে HUD এবং অনবোর্ড কম্পিউটার পাইলটকে রিয়েল-টাইম তথ্য ও নেভিগেশনে সাহায্য করে।


১৩। মহাকাশ স্টেশনে নভোচারীরা কতদিন পর্যন্ত থাকতে পারেন?

ক) মাত্র ১ দিন
খ) কয়েক মাস থেকে ১ বছর
গ) আজীবন
ঘ) ১০ বছর

সঠিক উত্তর: খ) কয়েক মাস থেকে ১ বছর

ব্যাখ্যা: সাধারণত মিশন ভেদে নভোচারীরা মহাকাশ স্টেশনে ৬ মাস বা তার বেশি সময় (প্রায় ১ বছর) অবস্থান করেন।


১৪। শিল্পক্ষেত্রে CAD (Computer Aided Design) এর কাজ কী?

ক) পণ্য উৎপাদন করা
খ) পণ্যের নকশা তৈরি করা
গ) পণ্য বাজারজাত করা
ঘ) কাঁচামাল সংগ্রহ করা

সঠিক উত্তর: খ) পণ্যের নকশা তৈরি করা

ব্যাখ্যা: CAD সফটওয়্যার ব্যবহার করে কম্পিউটারে পণ্যের নিখুঁত নকশা বা ডিজাইন তৈরি করা হয়।


১৫। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সাইবার নিরাপত্তা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ক) গেম খেলার জন্য
খ) গোপন তথ্য চুরি রোধে
গ) দ্রুত টাইপ করার জন্য
ঘ) বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে

সঠিক উত্তর: খ) গোপন তথ্য চুরি রোধে

ব্যাখ্যা: প্রতিরক্ষা বাহিনীর যোগাযোগ ও পরিকল্পনার তথ্য অত্যন্ত গোপনীয়, তাই হ্যাকিং বা তথ্য চুরি রোধে সাইবার নিরাপত্তা অপরিহার্য।


১৬। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর অবস্থান কত ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশে?

ক) ১১৯.১° পূর্ব
খ) ১১৯.১° পশ্চিম
গ) ৯১.১° পূর্ব
ঘ) ৯১.১° পশ্চিম

সঠিক উত্তর: ক) ১১৯.১° পূর্ব

ব্যাখ্যা: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর অরবিটাল স্লট হলো ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।


১৭। উৎপাদন ব্যবস্থায় আইসিটির ব্যবহারে—
i. অপচয় হ্রাস পায়
ii. পণ্যের মান উন্নত হয়
iii. শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বাড়ে

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ক) i ও ii

ব্যাখ্যা: অটোমেশনের ফলে অপচয় কমে ও মান বাড়ে, কিন্তু কায়িক শ্রমের প্রয়োজনীয়তা কমায় অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ শ্রমিকদের কর্মসংস্থান কমে যেতে পারে।


১৮। ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়—
i. সীমানা পাহারায়
ii. কৃষিক্ষেত্রে কীটনাশক ছিটাতে
iii. মহাশূন্য ভ্রমণে

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ক) i ও ii

ব্যাখ্যা: ড্রোন বায়ুমণ্ডলের মধ্যে কাজ করে, মহাশূন্য ভ্রমণে ড্রোন ব্যবহার করা হয় না।


১৯। মহাকাশ গবেষণার ফলে উন্নত হয়েছে—
i. আবহাওয়ার পূর্বাভাস
ii. স্যাটেলাইট টেলিভিশন
iii. রাস্তার ট্রাফিক জ্যাম

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ক) i ও ii

ব্যাখ্যা: মহাকাশ গবেষণার ফলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে, কিন্তু ট্রাফিক জ্যাম সরাসরি এর সাথে সম্পর্কিত নয়।


নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ২০ ও ২১ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:

মি. 'ক' তার টেক্সটাইল মিলে এমন কিছু যন্ত্র বসালেন যা নিজেই কাপড়ের ত্রুটি শনাক্ত করতে পারে। ফলে তার কারখানার উৎপাদন বেড়ে গেল এবং কাপড়ের মান ভালো হলো।

২০। উদ্দীপকে মি. 'ক' কোন প্রযুক্তির সহায়তা নিয়েছেন?

ক) বায়োমেট্রিক্স
খ) অটোমেশন বা রোবোটিক্স
গ) ক্রায়োসার্জারি
ঘ) জেনেটিক্স

সঠিক উত্তর: খ) অটোমেশন বা রোবোটিক্স

ব্যাখ্যা: কারখানায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ত্রুটি শনাক্তকরণ ও উৎপাদন বৃদ্ধি অটোমেশন বা রোবোটিক্সের কাজ।


২১। উক্ত প্রযুক্তির ফলে—
i. উৎপাদন খরচ কমবে
ii. সময় সাশ্রয় হবে
iii. কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজন হবে

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ঘ) i, ii ও iii

ব্যাখ্যা: অটোমেশনের ফলে খরচ ও সময় কমে, তবে এই উন্নত যন্ত্র পরিচালনার জন্য কর্মীদেরও দক্ষ হতে হয়।


২২। প্রতিরক্ষা বাহিনীতে রাডার (RADAR) কেন ব্যবহার করা হয়?

ক) শত্রুর বিমানের অবস্থান নির্ণয়ে
খ) পানির নিচে সাবমেরিন খুঁজতে
গ) মাইন অপসারণে
ঘ) বার্তা পাঠাতে

সঠিক উত্তর: ক) শত্রুর বিমানের অবস্থান নির্ণয়ে

ব্যাখ্যা: রাডার বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে দূরবর্তী বস্তু যেমন বিমান বা মিসাইলের অবস্থান ও গতিবেগ নির্ণয় করে।


২৩। আইসিটির কোন শাখাটি মহাকাশ যানের গতিপথ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়?

ক) গ্রাফিক্স ডিজাইন
খ) কন্ট্রোল সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং
গ) ওয়েব ডেভেলপমেন্ট
ঘ) ডেটা এন্ট্রি

সঠিক উত্তর: খ) কন্ট্রোল সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং

ব্যাখ্যা: মহাকাশ যানের জটিল গতিপথ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কন্ট্রোল সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং অপরিহার্য।


২৪। 'স্মার্ট বোম্ব' (Smart Bomb) এর বৈশিষ্ট্য কী?

ক) এটি শব্দ করে ফাটে না
খ) এটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে
গ) এটি নিজে নিজে তৈরি হয়
ঘ) এটি পানিতে ভাসে

সঠিক উত্তর: খ) এটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে

ব্যাখ্যা: স্মার্ট বোম্ব গাইডেড সিস্টেম ব্যবহার করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত করতে পারে।


২৫। মহাকাশ গবেষণায় নাসা (NASA) কোন দেশের সংস্থা?

ক) রাশিয়া
খ) চীন
গ) যুক্তরাষ্ট্র
ঘ) ভারত

সঠিক উত্তর: গ) যুক্তরাষ্ট্র

ব্যাখ্যা: NASA (National Aeronautics and Space Administration) হলো যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।