ডাটা কমিউনিকেশন মাধ্যম: তারবিহীন মাধ্যম
রেডিও ওয়েভ, মাইক্রোওয়েভ, স্যাটেলাইট এবং ইনফ্রারেড কমিউনিকেশন নিয়ে আলোচনা। তারবিহীন মাধ্যমের বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহার। এইচএসসি আইসিটি অধ্যায় ২।
Lecture 4: Wireless Communication Media (তারবিহীন মাধ্যম)
- ডাটা কমিউনিকেশন মাধ্যম: তারবিহীন মাধ্যম (Wireless Media)
- একটি প্রশ্ন এবং অদৃশ্য তরঙ্গের জাদুকরী জগত
- তারবিহীন মাধ্যম (Wireless Media) কী?
- রেডিও ওয়েভ (Radio Wave)
- মাইক্রোওয়েভ (Microwave)
- টেরেস্ট্রিয়াল মাইক্রোওয়েভ (Terrestrial Microwave)
- স্যাটেলাইট মাইক্রোওয়েভ (Satellite Microwave)
- জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট (Geostationary Satellite)
- ইনফ্রারেড (Infrared)
- একনজরে তুলনা: রেডিও, মাইক্রোওয়েভ ও ইনফ্রারেড
- নিজে যাচাই করো (Self Assessment)
- আজকের সারসংক্ষেপ
অধ্যায় ২: কমিউনিকেশন সিস্টেম - তারবিহীন মাধ্যম (Wireless Media) ও তাদের বৈশিষ্ট্য
আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় তারবিহীন মাধ্যম বা ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন (Wireless Communication) একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই—মোবাইল ফোনে কথা বলা থেকে শুরু করে, ওয়াইফাই ব্যবহার করে ইন্টারনেট ব্রাউজিং, টেলিভিশনের রিমোট কন্ট্রোল, এমনকি জিপিএস নেভিগেশন—সবকিছুই এই তারবিহীন প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল।
তারবিহীন মাধ্যমে কোনো প্রকার ভৌত তার (Physical Cable) ব্যবহার না করে তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গের (Electromagnetic Wave) সাহায্যে ডাটা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রেরণ করা হয়। যেহেতু এই মাধ্যমে ডাটা চলাচলের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বা নির্ধারিত পথ (Guide) থাকে না, বরং এটি বায়ুমণ্ডল বা মহাশূন্যের মধ্য দিয়ে সবদিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে, তাই একে আনগাইডেড মিডিয়া (Unguided Media) বলা হয়।
সংজ্ঞা (Definition): তারবিহীন মাধ্যম
যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় কোনো প্রকার ভৌত তার (Physical Cable) ব্যবহার না করে তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গের (Electromagnetic Wave) মাধ্যমে প্রেরক ও গ্রাহক যন্ত্রের মধ্যে ডাটা আদান-প্রদান করা হয়, তাকে তারবিহীন মাধ্যম বা আনগাইডেড মিডিয়া বলে।
ডাটা কমিউনিকেশনে ব্যবহৃত এই তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গগুলো তাদের কম্পাঙ্ক বা ফ্রিকোয়েন্সি (Frequency) অনুযায়ী বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত। এই সম্পূর্ণ পরিসরকে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম (Electromagnetic Spectrum) বলা হয়। ফ্রিকোয়েন্সির ওপর ভিত্তি করে তারবিহীন মাধ্যমকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:
১. রেডিও ওয়েভ (Radio Wave)
২. মাইক্রোওয়েভ (Microwave)
৩. ইনফ্রারেড (Infrared)
ফ্রিকোয়েন্সি চার্ট: একনজরে তারবিহীন মাধ্যম
পরীক্ষার এমসিকিউ (MCQ) অংশের জন্য নিচের চার্টটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জগুলো ভালোভাবে মনে রাখতে হবে। মনে রাখবে, ফ্রিকোয়েন্সি যত কম হয়, তরঙ্গদৈর্ঘ্য (Wavelength) তত বেশি হয় এবং সিগন্যাল তত বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ চার্ট (মুখস্থ রাখতে হবে):
- রেডিও ওয়েভ: ৩ KHz থেকে ৩০০ MHz (সবচেয়ে বড় তরঙ্গদৈর্ঘ্য)
- মাইক্রোওয়েভ: ৩০০ MHz থেকে ৩০০ GHz (মাঝারি তরঙ্গদৈর্ঘ্য)
- ইনফ্রারেড: ৩০০ GHz থেকে ৪০০ THz (সবচেয়ে ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্য, দৃশ্যমান আলোর ঠিক নিচে)
১. রেডিও ওয়েভ (Radio Wave): সর্বমুখী যোগাযোগ
রেডিও ওয়েভ হলো এমন এক ধরনের তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ যার ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জ ৩ কিলোহার্টজ (KHz) থেকে ৩০০ মেগাহার্টজ (MHz) পর্যন্ত। এই তরঙ্গের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি সর্বমুখী (Omni-directional)। অর্থাৎ, ট্রান্সমিটার থেকে সিগন্যাল চারদিকে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে প্রেরক ও গ্রাহক এন্টেনাকে একে অপরের দিকে মুখ করে (Line of Sight) থাকার প্রয়োজন হয় না।
সংজ্ঞা (Definition): রেডিও ওয়েভ
৩ কিলোহার্টজ থেকে ৩০০ মেগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সির তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ, যা সর্বদিকে (Omni-directional) ছড়িয়ে পড়ে এবং বিল্ডিং বা দেওয়াল ভেদ করে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে, তাকে রেডিও ওয়েভ বলে।
রেডিও ওয়েভ সহজে বিল্ডিং বা দেয়াল ভেদ করতে পারে, তাই এটি ইনডোর এবং আউটডোর উভয় যোগাযোগের জন্যই উপযোগী। এছাড়া, এই তরঙ্গ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের আয়নোস্ফিয়ার (Ionosphere) স্তর দ্বারা প্রতিফলিত হয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারে, যার ফলে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দীর্ঘ দূরত্বের যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়।
রেডিও ওয়েভের সুবিধা ও অসুবিধা:
সুবিধা:
- কোনো লাইসেন্সের প্রয়োজন হয় না (স্বল্প পরিসরে ওয়াকিটকির ক্ষেত্রে)।
- বিল্ডিং বা বাধা ভেদ করতে পারে, তাই ঘরের ভেতরেও সিগন্যাল পাওয়া যায়।
- ট্রান্সমিটার ও রিসিভারের মধ্যে সরলরেখা বা লাইন-অফ-সাইট (Line of Sight) থাকার প্রয়োজন নেই।
- বায়ুমণ্ডলের দ্বারা শোষিত হয় না, ফলে অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে।
অসুবিধা:
- ফ্রিকোয়েন্সি কম হওয়ায় ডাটা ট্রান্সমিশন রেট বা গতি তুলনামূলক কম।
- অন্য কোনো রেডিও সিগন্যাল দ্বারা সহজেই বাধাগ্রস্ত (Interference) হতে পারে।
- নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল কারণ সিগন্যাল সবদিকে ছড়িয়ে পড়ে, তাই যে কেউ রিসিভ করতে পারে।
ব্যবহার: রেডিও ও টেলিভিশন ব্রডকাস্টিং, মোবাইল যোগাযোগ, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর ওয়াকিটকি।
২. মাইক্রোওয়েভ (Microwave): একমুখী ও দূরপাল্লার যোগাযোগ
মাইক্রোওয়েভ হলো ৩০০ মেগাহার্টজ (MHz) থেকে ৩০০ গিগাহার্টজ (GHz) ফ্রিকোয়েন্সির তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ। রেডিও ওয়েভের সাথে এর মূল পার্থক্য হলো এটি সর্বমুখী নয়, বরং একমুখী (Uni-directional)। মাইক্রোওয়েভ সিগন্যালকে একটি সরু পথে ফোকাস করে পাঠানো হয়।
মাইক্রোওয়েভ বাঁকা পথে চলতে পারে না এবং কোনো বাধা ভেদ করতে পারে না। তাই মাইক্রোওয়েভ যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রেরক ও গ্রাহক এন্টেনার মধ্যে কোনো বাধা থাকা যাবে না এবং তাদের অবশ্যই একে অপরের দৃষ্টিসীমার মধ্যে বা লাইন-অফ-সাইট (Line of Sight - LOS) বরাবর থাকতে হবে।
সংজ্ঞা (Definition): মাইক্রোওয়েভ
৩০০ মেগাহার্টজ থেকে ৩০০ গিগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সির উচ্চ কম্পাঙ্কবিশিষ্ট তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ, যা উভমুখী বা সর্বমুখী না হয়ে একমুখী (Uni-directional) এবং সরলরেখায় গমন করে, তাকে মাইক্রোওয়েভ বলে।
মাইক্রোওয়েভ সিস্টেমকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
ক. টেরেস্ট্রিয়াল মাইক্রোওয়েভ (Terrestrial Microwave)
খ. স্যাটেলাইট মাইক্রোওয়েভ (Satellite Microwave)
ক. টেরেস্ট্রিয়াল মাইক্রোওয়েভ (Terrestrial Microwave)
'Terrestrial' শব্দের অর্থ হলো পৃথিবী সম্পর্কিত বা লৌকিক। এই পদ্ধতিতে ভূপৃষ্ঠে বসানো টাওয়ারের মাধ্যমে ডাটা আদান-প্রদান করা হয়। যেহেতু পৃথিবীর পৃষ্ঠ বক্রাকার (Curved), তাই অনেক দূরে সিগন্যাল পাঠাতে হলে লাইন-অফ-সাইট বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। একারণে সিগন্যালকে বাধাগ্রস্ত না করে দূরে পাঠানোর জন্য উঁচুতে টাওয়ার বসানো হয়।
সাধারণত ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর পর রিপিটার (Repeater) বসাতে হয়। রিপিটার হলো এমন একটি যন্ত্র যা দুর্বল সিগন্যাল গ্রহণ করে, তাকে শক্তিশালী (Amplify) করে এবং পরবর্তী গন্তব্যে বা টাওয়ারে পাঠিয়ে দেয়।
উদাহরণ (Example):
আমাদের মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক টেরেস্ট্রিয়াল মাইক্রোওয়েভের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। আপনি দেখবেন মোবাইল টাওয়ারগুলো অনেক উঁচুতে বসানো থাকে এবং একটি নির্দিষ্ট দূরত্বের পর পর টাওয়ার থাকে যাতে সিগন্যাল বাধাপ্রাপ্ত না হয়।
খ. স্যাটেলাইট মাইক্রোওয়েভ (Satellite Microwave)
স্যাটেলাইট মাইক্রোওয়েভ সিস্টেমে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে মহাকাশে অবস্থিত কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হয়। এটি মূলত অনেক দূরবর্তী বা আন্তঃমহাদেশীয় যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয় যেখানে টেরেস্ট্রিয়াল টাওয়ার বসানো সম্ভব নয় (যেমন: সমুদ্র বা পাহাড়ি এলাকা)।
স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনের প্রক্রিয়াটি তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়:
১. আপলিংক (Uplink): পৃথিবী থেকে শক্তিশালী সিগন্যাল স্যাটেলাইটে পাঠানো হয়।
২. প্রসেসিং: স্যাটেলাইটে থাকা ট্রান্সপন্ডার (Transponder) সিগন্যালটি রিসিভ করে, এর ফ্রিকোয়েন্সি পরিবর্তন করে এবং এমপ্লিফাই করে।
৩. ডাউনলিংক (Downlink): স্যাটেলাইট থেকে সিগন্যালটি আবার পৃথিবীতে নির্দিষ্ট রিসিভারে পাঠানো হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: আপলিংক ও ডাউনলিংক ফ্রিকোয়েন্সি
আপলিংক এবং ডাউনলিংক ফ্রিকোয়েন্সি কখনো এক হয় না। এদের ফ্রিকোয়েন্সি আলাদা রাখা হয় যাতে একটি সিগন্যাল অন্যটির সাথে মিশে গিয়ে বাধার সৃষ্টি (Interference) না করে। সাধারণত আপলিংক ফ্রিকোয়েন্সি ডাউনলিংক ফ্রিকোয়েন্সির চেয়ে বেশি হয়।
জিও-স্টেশনারি স্যাটেলাইট (Geo-stationary Satellite):
এই স্যাটেলাইটগুলো পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৬,০০০ কিলোমিটার (বা ২২,২৩০ মাইল) উচ্চতায় স্থাপন করা হয়। এরা পৃথিবীর ঘূর্ণন গতির সমান গতিতে ঘোরে, তাই পৃথিবী থেকে দেখলে এদের স্থির মনে হয়। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে এন্টেনা বারবার নাড়ানোর প্রয়োজন হয় না।
VSAT (Very Small Aperture Terminal):
VSAT হলো একটি খুব ছোট আকৃতির ডিশ এন্টেনা যা সরাসরি স্যাটেলাইটের সাথে যোগাযোগ করতে পারে। ব্যাংক, করপোরেট অফিস বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগের জন্য এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
সংজ্ঞা (Definition): ট্রান্সপন্ডার (Transponder)
স্যাটেলাইটে থাকা একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস যা পৃথিবী থেকে পাঠানো সিগন্যাল রিসিভ করে, একে ফিল্টার ও এমপ্লিফাই করে এবং ফ্রিকোয়েন্সি পরিবর্তন করে পুনরায় পৃথিবীতে ফেরত পাঠায়।
৩. ইনফ্রারেড (Infrared): স্বল্প দূরত্বের যোগাযোগ
ইনফ্রারেড হলো ৩০০ গিগাহার্টজ (GHz) থেকে ৪০০ টেরাহার্টজ (THz) ফ্রিকোয়েন্সির তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ। এটি খুবই স্বল্প দূরত্বের (সাধারণত ১০ মিটারের মধ্যে) যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়। ইনফ্রারেড রশ্মি কোনো অস্বচ্ছ বস্তু (যেমন: দেওয়াল, কাঠ) ভেদ করতে পারে না।
সংজ্ঞা (Definition): ইনফ্রারেড
৩০০ গিগাহার্টজ থেকে ৪০০ টেরাহার্টজ পর্যন্ত ফ্রিকোয়েন্সির তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ, যা খুব কাছাকাছি (১০ মিটারের মধ্যে) ডাটা আদান-প্রদানে ব্যবহৃত হয় এবং কোনো অস্বচ্ছ বস্তু ভেদ করতে পারে না।
ইনফ্রারেড দুই মোডে কাজ করতে পারে:
১. পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট: প্রেরক ও গ্রাহক সরাসরি মুখোমুখি থাকে (যেমন: রিমোট কন্ট্রোল)।
২. ব্রডকাস্টিং: একটি সিগন্যাল রুমের সবদিকে ছড়িয়ে পড়ে (তবে রুমের বাইরে যায় না)।
ইনফ্রারেডের সুবিধা ও অসুবিধা:
সুবিধা:
- খুবই সস্তা এবং কম বিদ্যুৎ খরচ করে।
- নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো (Secure), কারণ সিগন্যাল ঘর বা দেয়াল ভেদ করে বাইরে যেতে পারে না, তাই বাইরে থেকে কেউ হ্যাক করতে পারে না।
অসুবিধা:
- খুবই স্বল্প দূরত্বে কাজ করে।
- আলো বা রোদের প্রভাবে সিগন্যাল বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
- দেয়াল বা শক্ত বাধা ভেদ করতে পারে না।
ব্যবহার: টিভির রিমোট কন্ট্রোল, খেলনা গাড়ি, তারবিহীন মাউস ও কিবোর্ড, স্মার্ট হোমের সেন্সর।
তুলনামূলক বিশ্লেষণ (পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ)
সৃজনশীল প্রশ্নের 'ঘ' অংশের (উচ্চতর দক্ষতা) জন্য নিচের তুলনাটি খুব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে।
| বৈশিষ্ট্য | রেডিও ওয়েভ | মাইক্রোওয়েভ | ইনফ্রারেড |
|---|---|---|---|
| ফ্রিকোয়েন্সি | ৩ KHz - ৩০০ MHz | ৩০০ MHz - ৩০০ GHz | ৩০০ GHz - ৪০০ THz |
| দূরত্ব | স্বল্প ও দীর্ঘ উভয়ই | দীর্ঘ দূরত্ব | খুবই স্বল্প (১০ মিটারের কম) |
| দিক | সর্বমুখী (Omni-directional) | একমুখী (Uni-directional) | একমুখী বা সর্বমুখী (রুমের মধ্যে) |
| বাধা ভেদ | দেয়াল ভেদ করতে পারে | দেয়াল ভেদ করতে পারে না | দেয়াল ভেদ করতে পারে না |
| লাইন-অফ-সাইট | প্রয়োজন নেই | অবশ্যই প্রয়োজন | প্রয়োজন (পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট হলে) |
| উদাহরণ | এফএম রেডিও, ওয়াকিটকি | মোবাইল নেটওয়ার্ক, ডিশ টিভি | রিমোট কন্ট্রোল |
সৃজনশীল প্রশ্নের প্রস্তুতি ও টিপস
পরীক্ষার উদ্দীপক (Stem) দেখে তোমাকে বুঝতে হবে কোন মাধ্যম সম্পর্কে বলা হচ্ছে।
উদ্দীপক চেনার উপায় (Exam Tips):
- যদি বলা হয় "বিশাল ভবন বা পাহাড়ের কারণে যোগাযোগে সমস্যা হচ্ছে" বা "টাওয়ারগুলো মুখোমুখি বসাতে হচ্ছে" — তবে উত্তর হবে মাইক্রোওয়েভ।
- যদি বলা হয় "বিশ্বকাপ খেলা সরাসরি দেখাচ্ছে" বা "দুর্গম পাহাড়ি/সমুদ্র এলাকায় যোগাযোগ" — তবে উত্তর হবে স্যাটেলাইট মাইক্রোওয়েভ।
- যদি বলা হয় "পাশের রুম থেকে গান শোনা যাচ্ছে কিন্তু রিমোট কাজ করছে না" — এখানে রেডিও ওয়েভ (যা দেয়াল ভেদ করে) ও ইনফ্রারেডের (যা দেয়াল ভেদ করে না) তুলনা করতে হবে।
- যদি বলা হয় "শহরের উঁচু উঁচু দালানের ভেতরেও সহজে সিগন্যাল পাওয়া যাচ্ছে" — তবে উত্তর হবে রেডিও ওয়েভ।
পরিভাষা (Glossary)
| শব্দ (Term) | সংজ্ঞা (Definition) |
|---|---|
| Spectrum (বর্ণালী) | ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফ্রিকোয়েন্সির সম্পূর্ণ পরিসর। |
| Repeater (রিপিটার) | সিগন্যাল দুর্বল হয়ে গেলে তাকে গ্রহণ করে শক্তিশালী করে পুনরায় প্রেরণ করার যন্ত্র। |
| Transponder (ট্রান্সপন্ডার) | স্যাটেলাইটে থাকা রিসিভার ও ট্রান্সমিটারের সমন্বয়কারী যন্ত্র যা সিগন্যাল প্রসেস করে। |
| VSAT | Very Small Aperture Terminal - ছোট ডিশ এন্টেনার মাধ্যমে স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা। |
| Line of Sight (LOS) | প্রেরক ও গ্রাহকের মধ্যে কোনো বাধা ছাড়া সোজাসুজি দৃষ্টিরেখা। |
| Footprint | স্যাটেলাইট থেকে নিক্ষিপ্ত সিগন্যাল পৃথিবীর যে এলাকা জুড়ে কাভার করে, তাকে ফুটপ্রিন্ট বলে। |
সংক্ষিপ্ত সারাংশ (Quick Revision):
- রেডিও ওয়েভ: সর্বমুখী, কম ফ্রিকোয়েন্সি, দেয়াল ভেদ করতে পারে। ব্যবহার: রেডিও, পুলিশ ওয়াকিটকি।
- মাইক্রোওয়েভ: একমুখী, উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি, লাইন-অফ-সাইট দরকার। ব্যবহার: মোবাইল, স্যাটেলাইট।
- ইনফ্রারেড: খুব স্বল্প দূরত্ব, দেয়াল ভেদ করতে পারে না। ব্যবহার: রিমোট, খেলনা।
- স্যাটেলাইট: পৃথিবীকে ঘিরে ঘোরে, ট্রান্সপন্ডার থাকে, জিপিএস ও টিভিতে ব্যবহৃত হয়।