৬.৮ রিলেশনাল ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (RDBMS) ও এর ব্যবহার
এইচএসসি আইসিটি অধ্যায় ৬: রিলেশনাল ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (RDBMS)। ACID প্রপার্টি, কর্পোরেট ও সরকারি পর্যায়ে (যেমন NID, ভূমি রেকর্ড) ডেটাবেজের ব্যবহার ও
৬.৮ রিলেশনাল ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (RDBMS) ও এর ব্যবহার
- ৬.৮ রিলেশনাল ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (RDBMS) ও এর ব্যবহার
- চলো একটু চিন্তা করি: এটিএম (ATM) এর রহস্য
- RDBMS কী?
- RDBMS এর গঠন ও বৈশিষ্ট্য
- RDBMS এর প্রাণভোমরা: ACID প্রপার্টি
- A for Atomicity: সব হবে, নয়তো কিছুই হবে না
- C for Consistency & I for Isolation
- D for Durability: স্থায়িত্ব
- কর্পোরেট জগতে ডেটাবেজের ব্যবহার
- বাংলাদেশে ই-গভর্ন্যান্স ও ডেটাবেজ
- ব্যাংকিং ও শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রয়োগ
- ডিস্ট্রিবিউটেড ডেটাবেজ (Distributed Database)
- RDBMS ব্যবহারের চ্যালেঞ্জসমূহ
- সারসংক্ষেপ
৬.৮ রিলেশনাল ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (RDBMS) ও এর ব্যবহার
লেকচারের শুরুতে আমরা একটি এটিএম বুথের উদাহরণ দেখেছিলাম। মনে আছে? আপনি যখন এটিএম থেকে টাকা তুলছেন, তখন একই সময়ে অন্য একটি ব্রাঞ্চ থেকে যদি আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়, তবে ব্যালেন্স কী হবে? এই যে নিখুঁত হিসাব-নিকাশ, তথ্যের নিরাপত্তা এবং একাধিক স্থান থেকে একই সময়ে ডেটা ব্যবহারের সুবিধা—এসব কিছুই সম্ভব হয়েছে রিলেশনাল ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা RDBMS-এর কারণে। আধুনিক বিশ্বে ব্যাংকিং, টেলিকম, ই-কমার্স থেকে শুরু করে জাতীয় পরিচয়পত্র পর্যন্ত সব কিছুই এই প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। এই পাঠে আমরা RDBMS-এর খুঁটিনাটি, এর পেছনের বিজ্ঞান এবং পরীক্ষার খাতায় কীভাবে উত্তর লিখলে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া যায়, তা বিস্তারিত শিখব।
রিলেশনাল ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (RDBMS) পরিচিতি
RDBMS-এর পূর্ণরূপ হলো Relational Database Management System। এটি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ডেটাবেজ মডেল। ১৯৭০ সালে আইবিএম-এর গবেষক ড. ই.এফ. কড (E.F. Codd) এই মডেলের ধারণা প্রবর্তন করেন, যা ডেটাবেজ জগতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসে। সাধারণ ফাইল সিস্টেমে ডেটাগুলো এলোমেলো বা বিচ্ছিন্নভাবে সংরক্ষিত থাকে, কিন্তু রিলেশনাল মডেলে ডেটাগুলো সুশৃঙ্খল টেবিল বা রিলেশন (Relation) আকারে সংরক্ষিত থাকে।
সংজ্ঞা (Definition): রিলেশনাল ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (RDBMS) হলো এমন এক ধরণের ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম যেখানে ডেটাগুলো পরস্পর সম্পর্কযুক্ত (Relational) একাধিক টেবিলে দ্বিমাত্রিক সারি (Row) ও কলাম (Column) আকারে সংরক্ষিত থাকে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী টেবিলগুলোর মধ্যে রিলেশন বা সম্পর্ক তৈরি করে ডেটা আদান-প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
সহজ কথায়, RDBMS হলো এমন একটি সফটওয়্যার যা ব্যবহারকারীকে ডেটাবেজ তৈরি, ডেটা সংরক্ষণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং একাধিক টেবিলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ দেয়। জনপ্রিয় কিছু RDBMS সফটওয়্যার হলো: Oracle, MySQL, Microsoft SQL Server, PostgreSQL, এবং MariaDB।
সাধারণ DBMS ও RDBMS-এর মধ্যে পার্থক্য
পরীক্ষায় প্রায়ই অনুধাবনমূলক প্রশ্নে সাধারণ ডেটাবেজ এবং রিলেশনাল ডেটাবেজের পার্থক্য জানতে চাওয়া হয়। নিচের ছকটি ভালোভাবে লক্ষ্য করুন:
| বৈশিষ্ট্য | সাধারণ DBMS (Flat File) | RDBMS (Relational) |
|---|---|---|
| ডেটা সংরক্ষণ | ডেটা সাধারণত একটি ফাইলে বা ফ্ল্যাট ফাইল আকারে সংরক্ষিত থাকে। | ডেটা একাধিক টেবিলে (Table) সারি ও কলাম আকারে সুশৃঙ্খলভাবে থাকে। |
| সম্পর্ক (Relation) | টেবিলগুলোর মধ্যে কোনো লজিক্যাল সম্পর্ক বা রিলেশন থাকে না। | প্রাইমারি ও ফরেন কি (Key) ব্যবহার করে টেবিলগুলোর মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করা যায়। |
| ডেটা রিডান্ডেন্সি | একই ডেটা বারবার সংরক্ষিত হতে পারে (Redundancy বেশি)। | নরমালাইজেশনের মাধ্যমে ডেটার পুনরাবৃত্তি বা Redundancy কমানো হয়। |
| ব্যবহারকারী | সাধারণত একজন ব্যবহারকারী এট-এ-টাইম কাজ করতে পারে। | বহু ব্যবহারকারী (Multi-user) একই সময়ে ডেটা এক্সেস করতে পারে। |
| উদাহরণ | Microsoft Excel, XML, FoxPro. | MySQL, Oracle, SQL Server. |
গুরুত্বপূর্ণ (Important):
RDBMS-এর মূল ভিত্তি হলো 'রিলেশন' বা টেবিল। প্রতিটি টেবিলের একটি অনন্য নাম থাকে। টেবিলে উলম্বভাবে থাকে কলাম বা অ্যাট্রিবিউট (Attribute/Field) এবং অনুভূমিকভাবে থাকে সারি বা টাপল (Tuple/Record)। পরীক্ষার খাতায় 'ফাইল' না লিখে 'টেবিল' শব্দটি ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়।
RDBMS এর বৈশিষ্ট্য এবং 'কি' (Key) এর ব্যবহার
একটি রিলেশনাল ডেটাবেজের প্রধান শক্তি হলো এর 'কি' (Key) বা চাবি। একাধিক টেবিলের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করতে এবং প্রতিটি রেকর্ডকে আলাদাভাবে শনাক্ত করতে এই কি-গুলো ব্যবহৃত হয়। পরীক্ষার উদ্দীপকে প্রায়ই দুটি টেবিল দিয়ে প্রশ্ন করা হয়—"টেবিল দুটির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন সম্ভব কি না?" এর উত্তর দিতে হলে আপনাকে প্রাইমারি কি এবং ফরেন কি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখতে হবে।
নিচের চিত্রটি লক্ষ্য করুন যেখানে দুটি টেবিলের মধ্যে সম্পর্ক দেখানো হয়েছে:

১. প্রাইমারি কি (Primary Key)
একটি টেবিলের লক্ষ লক্ষ রেকর্ডের মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো রেকর্ডকে খুঁজে বের করার জন্য যে ফিল্ডটি ব্যবহার করা হয়, সেটিই প্রাইমারি কি।
সংজ্ঞা (Definition): প্রাইমারি কি (Primary Key) হলো টেবিলের এমন একটি ফিল্ড বা অ্যাট্রিবিউট, যার মান দ্বারা প্রতিটি রেকর্ডকে অদ্বিতীয়ভাবে (Uniquely) শনাক্ত করা যায়। এই ফিল্ডের মান কখনো নাল (Null) বা ফাঁকা হতে পারে না এবং একই মান দুবার (Duplicate) থাকতে পারে না।
উদাহরণ: উপরের চিত্রে 'Student' টেবিলে Roll হলো প্রাইমারি কি। কারণ একই রোল নম্বর একাধিক ছাত্রের হতে পারে না।
২. ফরেন কি (Foreign Key)
দুটি ভিন্ন টেবিলের মধ্যে সম্পর্ক বা রিলেশন তৈরির জন্য ফরেন কি অপরিহার্য। এটি মূলত এক টেবিলের চাবি যা অন্য টেবিলে গিয়ে তালা খোলার কাজ করে।
সংজ্ঞা (Definition): কোনো টেবিলের একটি ফিল্ড বা অ্যাট্রিবিউট যদি অন্য কোনো টেবিলের প্রাইমারি কি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে প্রথম টেবিলের ওই ফিল্ডটিকে ফরেন কি (Foreign Key) বলা হয়। এটি রিলেশনাল ডেটাবেজে টেবিলগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী হিসেবে কাজ করে।
উদাহরণ: উপরের চিত্রে 'Result' টেবিলে Roll ফিল্ডটি হলো ফরেন কি, কারণ এটি আসলে 'Student' টেবিলের প্রাইমারি কি। এই Roll এর মাধ্যমেই জানা যাবে কোন রেজাল্টটি কোন ছাত্রের।
৩. কম্পোজিট কি (Composite Key)
কখনো কখনো একটি মাত্র ফিল্ড দিয়ে কোনো রেকর্ডকে ইউনিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। তখন একাধিক ফিল্ড মিলিয়ে প্রাইমারি কি তৈরি করা হয়।
সংজ্ঞা (Definition): যখন টেবিলের দুই বা ততোধিক অ্যাট্রিবিউট বা ফিল্ড একত্রে মিলে একটি প্রাইমারি কি গঠন করে, তখন তাকে কম্পোজিট প্রাইমারি কি (Composite Primary Key) বলা হয়।
উদাহরণ: একটি কলেজের রেজাল্ট শিটে একই রোল নম্বরের ছাত্র বিভিন্ন ক্লাসে থাকতে পারে। তাই শুধু Roll দিয়ে তাকে চেনা যাবে না। সেখানে Class এবং Roll—এই দুটি ফিল্ড মিলিয়ে ইউনিক আইডি তৈরি করতে হবে। এখানে (Class + Roll) হলো কম্পোজিট কি।
পরীক্ষার টিপস (Exam Tip):
উদ্দীপকে দুটি টেবিল দেওয়া থাকলে প্রথমেই খুঁজবেন কোন ফিল্ডটি উভয় টেবিলে আছে (Common Field)। যদি দেখেন কমন ফিল্ডটি এক টেবিলে ইউনিক (প্রাইমারি কি) এবং অন্য টেবিলে সাধারণ ফিল্ড হিসেবে আছে, তবে বুঝবেন দ্বিতীয় টেবিলে সেটি ফরেন কি। সম্পর্ক তৈরির শর্তই হলো—দুটি টেবিলের মধ্যে অন্তত একটি কমন ফিল্ড থাকতে হবে।
RDBMS এর প্রাণ: ACID প্রপার্টি
কোনো ব্যাংকিং লেনদেন বা ট্রানজেকশন সফল হলো কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য RDBMS চারটি মূলনীতি মেনে চলে, যাকে সংক্ষেপে ACID প্রপার্টি বলা হয়। এটি ডেটাবেজের বিশ্বস্ততা ও নির্ভুলতা বজায় রাখার রক্ষাকবচ।
কেস স্টাডি (Case Study): মোবাইল ব্যাংকিং
ধরুন, আপনি আপনার বন্ধুকে ৫০০ টাকা পাঠাচ্ছেন। এই প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়:
১. আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে ৫০০ টাকা মাইনাস হবে।
২. বন্ধুর অ্যাকাউন্টে ৫০০ টাকা প্লাস হবে।
যদি প্রথম ধাপটি হওয়ার পর হঠাৎ সার্ভার ডাউন হয়ে যায় এবং দ্বিতীয় ধাপটি না হয়, তবে আপনার টাকা কাটা গেল কিন্তু বন্ধু পেল না—এটি একটি ভুল ট্রানজেকশন। RDBMS-এর ACID প্রপার্টি নিশ্চিত করে যে, হয় পুরো কাজটি হবে, নাহলে কিছুই হবে না (টাকা ফেরত আসবে)।
চলুন ACID এর প্রতিটি অংশের বিস্তারিত জেনে নিই:
১. Atomicity (অবিভাজ্যতা)
এটি নিশ্চিত করে যে, একটি ট্রানজেকশনের প্রতিটি কাজ একটি একক ইউনিট হিসেবে গণ্য হবে।
সংজ্ঞা (Definition): Atomicity হলো ট্রানজেকশনের এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা নিশ্চিত করে যে, ট্রানজেকশনের কাজ সম্পূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে, অথবা কিছুই হবে না (All or Nothing)। মাঝপথে কোনো ত্রুটি হলে সিস্টেম পূর্বের অবস্থায় (Rollback) ফিরে আসবে।
২. Consistency (সংগতিপূর্ণতা)
ট্রানজেকশনের আগে ও পরে ডেটাবেজের অবস্থা সঠিক বা ভ্যালিড থাকতে হবে।
সংজ্ঞা (Definition): Consistency নিশ্চিত করে যে, একটি সফল ট্রানজেকশনের পর ডেটাবেজ এক সঠিক অবস্থা (Valid State) থেকে অন্য সঠিক অবস্থায় পরিবর্তিত হবে। ডেটাবেজের কোনো নিয়ম বা শর্ত (Constraint) লঙ্ঘিত হবে না।
৩. Isolation (স্বতন্ত্রীকরণ)
একই সময়ে হাজার হাজার মানুষ লেনদেন করতে পারে। আইসোলেশন নিশ্চিত করে যে একজনের লেনদেন অন্যজনের ওপর প্রভাব ফেলবে না।
সংজ্ঞা (Definition): Isolation প্রপার্টি নিশ্চয়তা দেয় যে, একাধিক ট্রানজেকশন একই সময়ে (Concurrently) চললেও একটি আরেকটির কাজে বাধা সৃষ্টি করবে না। প্রতিটি ট্রানজেকশন এমনভাবে সম্পন্ন হবে যেন মনে হয় সেটি একাই চলছে।
৪. Durability (স্থায়িত্ব)
লেনদেন সফল হওয়ার পর যদি সিস্টেম ক্র্যাশও করে, তবুও সেই তথ্য মুছে যাবে না।
সংজ্ঞা (Definition): Durability হলো এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা নিশ্চিত করে যে, একবার ট্রানজেকশন সম্পন্ন (Commit) হলে সেই ডেটা স্থায়ীভাবে ডেটাবেজে সংরক্ষিত হবে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা হার্ডওয়্যার ত্রুটিতেও সেই ডেটা হারাবে না।
ডিস্ট্রিবিউটেড ডেটাবেজ: ধারণা ও সুবিধা
আমরা এতক্ষণ যা আলোচনা করলাম, তা সাধারণত একটি কেন্দ্রীয় কম্পিউটারে (Centralized) থাকা ডেটাবেজ নিয়ে। কিন্তু বড় বড় প্রতিষ্ঠানের ডেটা একটি জায়গায় না রেখে বিভিন্ন শাখা বা লোকেশনে ভাগ করে রাখা হয়। একেই বলা হয় ডিস্ট্রিবিউটেড ডেটাবেজ।

সংজ্ঞা (Definition): ডিস্ট্রিবিউটেড ডেটাবেজ (Distributed Database) হলো এমন একটি ডেটাবেজ ব্যবস্থা যেখানে ডেটাবেজগুলো লজিক্যালি বা যৌক্তিকভাবে এক থাকলেও ফিজিক্যালি বা বাহ্যিকভাবে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে (ভিন্ন ভিন্ন সার্ভারে) ছড়িয়ে থাকে।
প্রকারভেদ: এটি মূলত দুই ধরণের হতে পারে—
১. সমজাতীয় (Homogeneous): সব লোকেশনে একই ধরণের ডেটাবেজ সফটওয়্যার (যেমন: সব জায়গায় Oracle) ব্যবহার করা হয়।
২. অসমজাতীয় (Heterogeneous): ভিন্ন ভিন্ন লোকেশনে ভিন্ন ভিন্ন সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার ব্যবহৃত হয়।
সুবিধা ও অসুবিধার তুলনা
| সুবিধা (Advantages) | অসুবিধা (Disadvantages) |
|---|---|
| ১. নির্ভরযোগ্যতা: একটি সাইট বা সার্ভার নষ্ট হয়ে গেলে পুরো সিস্টেম বন্ধ হয় না, অন্য সার্ভার থেকে কাজ চালানো যায়। | ১. জটিলতা: ডেটা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকায় পুরো সিস্টেম ডিজাইন ও ম্যানেজ করা বেশ জটিল। |
| ২. দ্রুতগতি: ব্যবহারকারী তার নিকটবর্তী লোকাল সার্ভার থেকে ডেটা এক্সেস করতে পারে, ফলে সময় কম লাগে। | ২. নিরাপত্তা ঝুঁকি: অনেকগুলো লোকেশন ও নেটওয়ার্ক সংযোগ থাকায় হ্যাকিং বা ডেটা চুরির ঝুঁকি কিছুটা বেড়ে যায়। |
| ৩. স্কেলেবিলিটি: প্রয়োজনে নতুন নতুন শাখা বা সার্ভার সহজেই সিস্টেমে যুক্ত করা যায়। | ৩. খরচ: একাধিক সার্ভার, উন্নত নেটওয়ার্ক এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য খরচ বেশি হয়। |
গুরুত্বপূর্ণ অনুধাবন (Important Concept):
"সব ডিম এক ঝুড়িতে না রাখা"—এই প্রবাদটি ডিস্ট্রিবিউটেড ডেটাবেজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সেন্ট্রালাইজড ডেটাবেজে সব ডেটা এক সার্ভারে থাকে, তাই সেই সার্ভার ক্র্যাশ করলে সব অচল। কিন্তু ডিস্ট্রিবিউটেড ব্যবস্থায় ঝুঁকি বিভিন্ন স্থানে বণ্টিত হয়ে যায়।
বাংলাদেশে ডেটাবেজের ব্যবহার ও প্রয়োগ
সৃজনশীল প্রশ্নের 'ঘ' অংশে (উচ্চতর দক্ষতা) প্রায়ই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ডেটাবেজের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করতে বলা হয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ডেটাবেজ প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র আলোচনা করা হলো:
১. সরকারি সেবা ও ই-গভর্ন্যান্স
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): বাংলাদেশের প্রায় ১২ কোটি নাগরিকের আঙুলের ছাপ, চোখের স্ক্যান এবং ব্যক্তিগত তথ্য একটি বিশাল ওরাকল (Oracle) ডেটাবেজে সংরক্ষিত আছে। এর ফলেই খুব সহজে সিম নিবন্ধন, পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন এবং অপরাধী শনাক্তকরণ সম্ভব হচ্ছে।
ভূমি রেকর্ড ডিজিটালাইজেশন: 'ই-পর্চা' বা ডিজিটাল ভূমি রেকর্ডের মাধ্যমে জমির মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা কমেছে। এখন দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে অনলাইনে খতিয়ান দেখা ও ডাউনলোড করা যায়।
২. ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত
দেশের প্রতিটি ব্যাংক এখন 'কোর ব্যাংকিং সলিউশন' (CBS) ব্যবহার করে, যা মূলত একটি শক্তিশালী RDBMS। এর ফলে আপনি ঢাকা থেকে টাকা জমা দিলে মুহূর্তেই তা চট্টগ্রাম বা অন্য যেকোনো শাখার গ্রাহক তুলতে পারেন। এটিএম বুথ, মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ)—সবই এই কেন্দ্রীয় ডেটাবেজের ওপর ভিত্তি করে চলছে।
৩. কৃষি ও শিক্ষা
কৃষি বাতায়ন এবং কৃষকের জানালা অ্যাপের মাধ্যমে ফসলের রোগবালাই ও সমাধান সংক্রান্ত তথ্য ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি, রেজিস্ট্রেশন এবং ফলাফল প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়াটি এখন ডেটাবেজ নির্ভর। এর ফলে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ফলাফল কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে।
প্রয়োগিক উদাহরণ (Real-world Example):
করোনাকালীন সময়ে 'সুরক্ষা' অ্যাপের মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষের টিকার নিবন্ধন ও সনদ প্রদান করা হয়েছিল। এটি একটি ক্লাউড-বেজড রিলেশনাল ডেটাবেজের চমৎকার উদাহরণ, যেখানে এনআইডি সার্ভারের সাথে সংযোগ স্থাপন করে তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হয়েছিল।
সারসংক্ষেপ ও পরীক্ষার প্রস্তুতি
আজকের পাঠ থেকে আমরা যা শিখলাম, তা এক নজরে দেখে নিই:
সংক্ষিপ্ত সারাংশ (Quick Revision):
- RDBMS: ডেটা টেবিল আকারে থাকে এবং টেবিলগুলোর মধ্যে সম্পর্ক থাকে।
- Keys: প্রাইমারি কি রেকর্ডকে ইউনিক করে, ফরেন কি রিলেশন তৈরি করে।
- ACID: ট্রানজেকশনের নির্ভুলতা নিশ্চিত করে (Atomicity, Consistency, Isolation, Durability)।
- Distributed DB: ডেটা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকে, যা সিস্টেমকে দ্রুত ও নিরাপদ করে।
- প্রয়োগ: এনআইডি, ব্যাংকিং, এবং ই-গভর্ন্যান্সে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
পরীক্ষার জন্য সম্ভাব্য প্রশ্ন
- জ্ঞানমূলক: RDBMS কী? প্রাইমারি কি কাকে বলে?
- অনুধাবনমূলক: RDBMS ও DBMS এর মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখ। ডিস্ট্রিবিউটেড ডেটাবেজ সুবিধাজনক কেন?
- প্রয়োগমূলক: উদ্দীপকের টেবিল দুটির মধ্যে রিলেশন তৈরির শর্ত ব্যাখ্যা কর।
- উচ্চতর দক্ষতা: "ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে ডেটাবেজের ভূমিকা অনস্বীকার্য"—উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
পরিভাষা (Glossary)
| পরিভাষা (Term) | ব্যাখ্যা (Definition) |
|---|---|
| RDBMS | Relational Database Management System; রিলেশনাল ডেটাবেজ পরিচালনার সফটওয়্যার। |
| Tuple | টেবিলের প্রতিটি সারি বা রেকর্ডকে টাপল বলা হয়। |
| Attribute | টেবিলের প্রতিটি কলাম বা ফিল্ডকে অ্যাট্রিবিউট বলা হয়। |
| Primary Key | যে ফিল্ড দিয়ে রেকর্ডকে অদ্বিতীয়ভাবে চেনা যায়। |
| Foreign Key | অন্য টেবিলের প্রাইমারি কি যা বর্তমান টেবিলে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়। |
| ACID | ট্রানজেকশন প্রসেসিংয়ের ৪টি মূলনীতি (Atomicity, Consistency, Isolation, Durability)। |