কমিউনিকেশন ডিভাইস: আইসিটি ইকোসিস্টেমের সংযোগ
NIC, মডেম, রাউটার, সুইচ, ব্লুটুথ এবং 4G/5G মোবাইল নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন কমিউনিকেশন ডিভাইস সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।
কমিউনিকেশন ডিভাইস: আইসিটি ইকোসিস্টেমের সংযোগ
- কমিউনিকেশন ডিভাইস: আইসিটি ইকোসিস্টেমের সংযোগ
- ইন্টারনেট ছাড়া স্মার্টফোন: একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ?
- কমিউনিকেশন হার্ডওয়্যারের প্রয়োজনীয়তা
- কীভাবে ডেটা চলাচল করে?
- নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড (NIC)
- MAC Address: ডিভাইসের ডিজিটাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট
- ওয়াই-ফাই স্ট্যান্ডার্ডস-এর বিবর্তন
- মডেম (Modem): ভাষার অনুবাদক
- সুইচ (Switch): একই নেটওয়ার্কের ট্রাফিক পুলিশ
- রাউটার (Router): ভিন্ন নেটওয়ার্কের সেতুবন্ধন
- বাসার 'ওয়াই-ফাই রাউটার' আসলে কী?
- মোবাইল কমিউনিকেশন হার্ডওয়্যার
- মোবাইল জেনারেশন: 2G থেকে 5G
- সিম কার্ড (SIM Card): তোমার ডিজিটাল পরিচয়পত্র
- স্বল্প-পাল্লার যোগাযোগ: ব্লুটুথ (Bluetooth)
- সারসংক্ষেপ
কমিউনিকেশন ডিভাইস: আইসিটি ইকোসিস্টেমের সংযোগ
বর্তমান ডিজিটাল যুগে আমরা প্রতিদিন নানা ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। সকালে ঘুম থেকে উঠে স্মার্টফোনে খবর পড়া, বাসা থেকে অনলাইনে জুম বা গুগল মিটে ক্লাস করা, কিংবা বন্ধুকে ইমেইল বা মেসেজ পাঠানো—আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের এই কাজগুলো এখন চোখের পলকেই সম্পন্ন হচ্ছে। কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, আপনার হাতের ছোট মোবাইল ফোনটি কীভাবে শত শত মাইল দূরের কোনো সার্ভার বা অন্য কোনো ডিভাইসের সাথে নিরবচ্ছিন্নভাবে যোগাযোগ স্থাপন করছে? এই পুরো জাদুকরী প্রক্রিয়ার পেছনে কাজ করছে কিছু অদৃশ্য কারিগর, যাদেরকে আমরা কমিউনিকেশন ডিভাইস বা যোগাযোগের যন্ত্রপাতি বলে থাকি।
আইসিটি বা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মূলত একটি বিশাল ইকোসিস্টেম। এই ইকোসিস্টেমে বিভিন্ন হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার এবং নেটওয়ার্কিং প্রোটোকল একত্রে কাজ করে। এই পুরো ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখতে এবং বিভিন্ন ডিভাইসের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে কমিউনিকেশন ডিভাইসগুলো অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। যেহেতু আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ডেটা আদান-প্রদান এসব ডিভাইসের মাধ্যমেই ঘটে, তাই একজন আইসিটি শিক্ষার্থী হিসেবে এসব যন্ত্রের কার্যপ্রণালী সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা অত্যন্ত জরুরি।
এই রিডিং ম্যাটেরিয়ালটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যা কমিউনিকেশন ডিভাইস সম্পর্কিত প্রতিটি বিষয়কে অত্যন্ত সহজ ও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবে। শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বরং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার কথা মাথায় রেখে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ টপিকের নিখুঁত সংজ্ঞা, পার্থক্য এবং উদাহরণ এখানে দেওয়া হয়েছে। এই একটি ম্যাটেরিয়াল পড়েই আপনি পরীক্ষার জন্য নিজেকে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত করতে পারবেন।
নেটওয়ার্কিং ও কমিউনিকেশন হার্ডওয়্যারের ধারণা
যে কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থায় মূলত তিনটি প্রধান উপাদান থাকে—প্রেরক (Sender), মাধ্যম (Medium) এবং প্রাপক (Receiver)। যখন আমরা কোনো কম্পিউটার নেটওয়ার্কের কথা চিন্তা করি, তখন প্রেরক এবং প্রাপক উভয় প্রান্তেই এমন কিছু বিশেষ যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়, যা ডেটাকে নির্দিষ্ট নিয়মে (Protocol) এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাঠাতে পারে। এই বিশেষ যন্ত্রপাতিগুলোকেই বলা হয় কমিউনিকেশন হার্ডওয়্যার।
সংজ্ঞা (Communication Device): কমিউনিকেশন ডিভাইস হলো এমন এক ধরনের হার্ডওয়্যার সরঞ্জাম যা এক বা একাধিক কম্পিউটার বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মধ্যে ডেটা, ইনস্ট্রাকশন বা ইনফরমেশন আদান-প্রদানে সহায়তা করে।
একটি আইসিটি ইকোসিস্টেমে এই হার্ডওয়্যারগুলোই হলো যোগাযোগের মূল ভিত্তি। যেমন ধরুন, আপনি আপনার কম্পিউটার থেকে একটি ছবি ইন্টারনেটে আপলোড করছেন। এই ছবিটি সরাসরি কোনো তার বা বেতার তরঙ্গের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করতে পারে না। প্রথমে ছবিটিকে বৈদ্যুতিক বা রেডিও সিগন্যালে রূপান্তর করতে হয়, তারপর সেই সিগন্যালকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঠাতে হয় এবং সবশেষে গন্তব্যে পৌঁছানোর পর সিগন্যালটিকে পুনরায় ছবিতে রূপান্তর করতে হয়। এই ডেটা ট্রান্সমিশন বা ডেটা স্থানান্তরের প্রতিটি ধাপে কোনো না কোনো কমিউনিকেশন ডিভাইস যুক্ত থাকে।
এনআইসি (NIC), ওয়্যারলেস অ্যাডাপ্টার এবং ম্যাক (MAC) অ্যাড্রেস
যে কোনো কম্পিউটার বা ডিভাইসকে নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করার জন্য সবচেয়ে প্রাথমিক এবং গুরুত্বপূর্ণ হার্ডওয়্যার হলো নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড (NIC)। সংক্ষেপে এটিকে ল্যান কার্ড (LAN Card) বা নেটওয়ার্ক অ্যাডাপ্টারও বলা হয়। মাদারবোর্ডের সাথে যুক্ত এই কার্ডটি না থাকলে কোনো ডিভাইস নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেটে প্রবেশ করতে পারে সমাধানে। বর্তমান সময়ের ল্যাপটপ বা স্মার্টফোনে সাধারণত ওয়্যারলেস অ্যাডাপ্টার বিল্ট-ইন থাকে, যা তারবিহীন বা ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হতে সাহায্য করে।
কম্পিউটার নেটওয়ার্কে প্রতিটি ডিভাইসের একটি নিজস্ব পরিচিতি থাকতে হয়, ঠিক যেমন আমাদের প্রত্যেকের একটি বাড়ির ঠিকানা থাকে। নেটওয়ার্কিংয়ের ভাষায় এই ফিজিক্যাল বা হার্ডওয়্যার ঠিকানাকেই বলা হয় ম্যাক (MAC) অ্যাড্রেস। যখনই একটি NIC তৈরি করা হয়, প্রস্তুতকারক কোম্পানি এর ভেতর স্থায়ীভাবে একটি নম্বর বসিয়ে দেয়। এই নম্বরটি সারাজীবনেও পরিবর্তন করা যায় না। একটি ডিভাইসের আইপি অ্যাড্রেস (IP Address) পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু ম্যাক অ্যাড্রেস সবসময় অপরিবর্তিত থাকে।
সংজ্ঞা (MAC Address): MAC (Media Access Control) অ্যাড্রেস হলো নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ডের (NIC) একটি অদ্বিতীয় (Unique) ৪৮-বিট (6-byte) হার্ডওয়্যার শনাক্তকারী নম্বর, যা প্রস্তুতকারক কোম্পানি কর্তৃক স্থায়ীভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।
পরীক্ষার টিপস (Exam Tip): 'MAC অ্যাড্রেস কাকে বলে?'—এটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক-বিভাগের (জ্ঞানমূলক) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এর উত্তর লেখার সময় '৪৮-বিট' বা 'ছয় বাইট' এবং 'স্থায়ী হার্ডওয়্যার নম্বর' কথাগুলো অবশ্যই উল্লেখ করবেন। এতে পরীক্ষক সহজেই পূর্ণ নম্বর দেবেন।
মডেম, রাউটার এবং সুইচ: নেটওয়ার্কের প্রাণকেন্দ্র
নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় ডেটা ট্রান্সমিশনের ক্ষেত্রে তিনটি যন্ত্রের নাম সবচেয়ে বেশি শোনা যায়—মডেম, রাউটার এবং সুইচ। বাসা-বাড়ি বা অফিসের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগের ক্ষেত্রে এই ডিভাইসগুলো কীভাবে কাজ করে তা বোঝা খুবই জরুরি।
প্রথমে আসি মডেমের কথায়। আমাদের কম্পিউটারের ভেতরের সকল তথ্য থাকে ডিজিটাল ফর্মে (০ এবং ১)। কিন্তু এই ডিজিটাল ডেটা সরাসরি টেলিফোন লাইন বা অপটিক্যাল ফাইবারের মতো অ্যানালগ মাধ্যমের ভেতর দিয়ে অনেক দূরে যেতে পারে না। তাই প্রেরক প্রান্তে ডিজিটাল সিগন্যালকে অ্যানালগ সিগন্যালে রূপান্তর করতে হয়, যাকে বলা হয় মডুলেশন (Modulation)। আবার প্রাপক প্রান্তে পৌঁছানোর পর সেই অ্যানালগ সিগন্যালকে পুনরায় ডিজিটাল সিগন্যালে রূপান্তর করতে হয়, যাকে বলা হয় ডিমডুলেশন (Demodulation)।
সংজ্ঞা (Modem): মডেম (Modem) শব্দটি Modulator এবং Demodulator-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এর প্রধান কাজ হলো প্রেরক প্রান্তে ডিজিটাল সিগন্যালকে অ্যানালগ সিগন্যালে (Modulation) এবং প্রাপক প্রান্তে অ্যানালগ সিগন্যালকে পুনরায় ডিজিটাল সিগন্যালে (Demodulation) রূপান্তর করা।
মডেমের মাধ্যমে ইন্টারনেট সিগন্যাল আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করার পর সেই ইন্টারনেটকে বিভিন্ন ডিভাইসের মধ্যে বণ্টন করার কাজটি করে রাউটার (Router)। রাউটার হলো এমন একটি বুদ্ধিমান যন্ত্র, যা দুই বা ততোধিক ভিন্ন ভিন্ন নেটওয়ার্ককে যুক্ত করে। এটি আইপি (IP) অ্যাড্রেস ব্যবহার করে ইন্টারনেটের বিশাল জালের মধ্য দিয়ে ডেটা প্যাকেটগুলোকে সবচেয়ে ছোট ও দ্রুততম পথ (Route) দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়।
অন্যদিকে, সুইচ (Switch) হলো এমন একটি যন্ত্র যা একই নেটওয়ার্কের অধীনে থাকা বিভিন্ন ডিভাইসকে (যেমন অফিসের ১০টি কম্পিউটার) যুক্ত করে। সুইচ আইপি অ্যাড্রেসের পরিবর্তে ম্যাক (MAC) অ্যাড্রেস ব্যবহার করে। যখন কোনো ডেটা সুইচের কাছে আসে, তখন সে চেক করে দেখে ডেটাটি কোন ম্যাক অ্যাড্রেসের জন্য এসেছে এবং ঠিক সেই নির্দিষ্ট কম্পিউটারেই ডেটাটি ফরোয়ার্ড করে। এর ফলে নেটওয়ার্কে জ্যাম বা কলিশন কমে যায় এবং ডেটা ট্রান্সমিশন দ্রুত হয়।

গুরুত্বপূর্ণ (Difference Table): মডেম, রাউটার এবং সুইচের মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো:
| বৈশিষ্ট | মডেম (Modem) | রাউটার (Router) | সুইচ (Switch) |
|---|---|---|---|
| কাজের ধরন | অ্যানালগ ও ডিজিটাল সিগন্যালের মধ্যে রূপান্তর করে। | বিভিন্ন নেটওয়ার্কের মধ্যে ডেটা প্যাকেট চলাচলের পথ নির্ধারণ করে। | একই নেটওয়ার্কের বিভিন্ন ডিভাইসের মধ্যে ডেটা ফিল্টার ও ফরোয়ার্ড করে। |
| অ্যাড্রেস ব্যবহার | কোনো অ্যাড্রেসিং প্রোটোকল ব্যবহার করে না। | আইপি (IP) অ্যাড্রেস ব্যবহার করে। | ম্যাক (MAC) অ্যাড্রেস ব্যবহার করে। |
| কাজের পরিধি | ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (ISP) এবং ব্যবহারকারীর মাঝে কাজ করে। | দুই বা ততোধিক ভিন্ন ভিন্ন নেটওয়ার্ককে (যেমন- ল্যান ও ওয়ান) যুক্ত করে। | একটিমাত্র লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের (LAN) ভেতরে কাজ করে। |
| বুদ্ধিমত্তা | এটি একটি সিগন্যাল কনভার্টার, কোনো নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই। | এটি বেশ বুদ্ধিমান ডিভাইস, রাউটিং টেবিল ব্যবহার করে সেরা পথ বেছে নেয়। | এটি মোটামুটি বুদ্ধিমান, কারণ নির্দিষ্ট প্রাপকের কাছেই ডেটা পাঠায়। |
পরীক্ষার টিপস (Exam Tip): মডেম কীভাবে কাজ করে (মডুলেশন ও ডিমডুলেশন) এবং মডেম, রাউটার ও সুইচের পার্থক্য—এগুলো খ ও গ-বিভাগের প্রশ্ন হিসেবে প্রায়ই আসে। পার্থক্যগুলো অবশ্যই উপরের মতো ছক আকারে পয়েন্ট ভিত্তিক লিখবেন।
মোবাইল কমিউনিকেশন প্রযুক্তি: 3G, 4G, 5G এবং বেস স্টেশন
তারযুক্ত নেটওয়ার্কের পাশাপাশি তারবিহীন বা সেলুলার নেটওয়ার্ক আজ আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। মোবাইল কমিউনিকেশন প্রযুক্তির প্রতিটি নতুন পর্যায়কে আমরা 'প্রজন্ম' বা জেনারেশন (G) বলে থাকি। প্রথম প্রজন্মের (1G) অ্যানালগ ভয়েস কল থেকে শুরু করে আজ আমরা উচ্চগতির 5G যুগে প্রবেশ করেছি।
3G বা তৃতীয় প্রজন্মের প্রযুক্তি আমাদের মোবাইল ফোনে প্রথমবার ব্রডব্যান্ড গতির ইন্টারনেট এবং ভিডিও কলিংয়ের সুবিধা এনে দেয়। এরপর আসে 4G বা চতুর্থ প্রজন্ম, যা মূলত আইপি-ভিত্তিক এবং আগের চেয়ে অনেক বেশি গতির (Speed) ডেটা ট্রান্সমিশন নিশ্চিত করে। এর ব্যান্ডউইথ অনেক বেশি এবং ল্যাটেন্সি (ডেটা পৌঁছাতে যে দেরি হয়) বেশ কম। বর্তমানে 5G বা পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক এই ল্যাটেন্সিকে প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছে, যা সেলফ-ড্রাইভিং গাড়ি বা দূরনিয়ন্ত্রিত রোবোটিক সার্জারির মতো কাজগুলোকে সম্ভব করে তুলছে।
বাংলাদেশে 4G নেটওয়ার্কের বিস্তারের ফলে আইসিটি ইকোসিস্টেমে এক বিশাল পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে মোবাইল ব্যাংকিং (যেমন- বিকাশ, নগদ, রকেট) এবং ই-কমার্সের (যেমন- অনলাইন শপিং, রাইড শেয়ারিং) অভাবনীয় প্রসারের পেছনে 4G নেটওয়ার্কের শক্তিশালী ভূমিকা রয়েছে।
সংজ্ঞা (4G LTE): 4G LTE (Long Term Evolution) হলো চতুর্থ প্রজন্মের ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন স্ট্যান্ডার্ড, যা উচ্চ গতির ইন্টারনেট ডেটা ট্রান্সমিশন নিশ্চিত করে এবং পূর্ববর্তী 3G এর তুলনায় অনেক কম ল্যাটেন্সি প্রদান করে।
এই বিশাল মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা সচল থাকে মূলত অসংখ্য বেস স্টেশনের (Base Station) মাধ্যমে, যাদেরকে আমরা সাধারণত সেলুলার টাওয়ার বলে থাকি। আমাদের মোবাইল ফোন প্রতিনিয়ত কাছের কোনো বেস স্টেশনের সাথে রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে যুক্ত থাকে। আপনি যখন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যান, তখন আপনার কল যেন কেটে না যায়, সেজন্য একটি বেস স্টেশন নীরবে আপনাকে পার্শ্ববর্তী অন্য একটি বেস স্টেশনের কাছে হস্তান্তর (Hand-off) করে। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় মোবাইল নেটওয়ার্কে আপনাকে শনাক্ত করার কাজটি করে সিম কার্ড।
সংজ্ঞা (SIM Card): SIM (Subscriber Identity Module) হলো একটি ছোট্ট ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) বা চিপ, যা মোবাইল নেটওয়ার্কের গ্রাহকদের পরিচয় (Identity) এবং প্রমাণীকরণ কী (Authentication key) নিরাপদে সংরক্ষণ করে রাখে।
ব্লুটুথ এবং অন্যান্য স্বল্প দূরত্বের যোগাযোগ মাধ্যম
বড় আকারের ইন্টারনেট বা মোবাইল নেটওয়ার্কের পাশাপাশি আমাদের অনেক সময় খুব কাছাকাছি থাকা ডিভাইসগুলোর মধ্যে ডেটা আদান-প্রদানের প্রয়োজন হয়। যেমন—ল্যাপটপের সাথে তারবিহীন মাউস যুক্ত করা, বা স্মার্টফোনের সাথে ওয়্যারলেস হেডফোন (Earbuds) কানেক্ট করা। এই ধরনের স্বল্প দূরত্বের যোগাযোগের (Short-range communication) জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রযুক্তি হলো ব্লুটুথ।
ব্লুটুথ মূলত কম ক্ষমতার রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে কাজ করে। এর মাধ্যমে সাধারণত ১০ থেকে ১০০ মিটারের মধ্যে থাকা একাধিক ফিক্সড বা মোবাইল ডিভাইসের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা যায়। যখন কয়েকটি ব্লুটুথ ডিভাইস একে অপরের সাথে যুক্ত হয়, তখন তারা একটি ছোট নেটওয়ার্ক তৈরি করে, যাকে পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা প্যান (PAN - Personal Area Network) বলা হয়।
সংজ্ঞা (Bluetooth): ব্লুটুথ (Bluetooth) হলো একটি ওয়্যারলেস প্রযুক্তি স্ট্যান্ডার্ড যা স্বল্প দূরত্বে (সাধারণত ১০-১০০ মিটার) ফিক্সড এবং মোবাইল ডিভাইসের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং এটি পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (PAN) তৈরি করতে সক্ষম।
ব্লুটুথ ছাড়াও বর্তমানে এনএফসি (NFC - Near Field Communication) এবং ইনফ্রারেড (Infrared) প্রযুক্তিও স্বল্প দূরত্বের যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়। যেমন- টেলিভিশনের রিমোট কন্ট্রোলে ইনফ্রারেড ব্যবহৃত হয় এবং আধুনিক স্মার্টফোন দিয়ে টাচ-লেস পেমেন্ট (যেমন- অ্যাপল পে বা গুগল পে) করার জন্য এনএফসি ব্যবহৃত হয়। তবে দৈনন্দিন ডেটা শেয়ারিং এবং গ্যাজেট কানেক্টিভিটিতে ব্লুটুথই সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য এবং বহুল ব্যবহৃত মাধ্যম।
সংক্ষিপ্ত সারাংশ (Quick Revision):
- কমিউনিকেশন ডিভাইস: এগুলো মূলত ডেটা বা তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে এবং নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে।
- MAC অ্যাড্রেস: এটি হলো নেটওয়ার্ক কার্ডের স্থায়ী এবং অপরিবর্তনযোগ্য ৪৮-বিট হার্ডওয়্যার ঠিকানা।
- মডেম, রাউটার ও সুইচ: মডেম অ্যানালগ ও ডিজিটাল সিগন্যালের রূপান্তর (মডুলেশন ও ডিমডুলেশন) করে। রাউটার ভিন্ন ভিন্ন নেটওয়ার্ক যুক্ত করে এবং আইপি অ্যাড্রেস ব্যবহার করে সেরা রুট নির্ধারণ করে। আর সুইচ একই নেটওয়ার্কের বিভিন্ন ডিভাইসের মধ্যে ম্যাক অ্যাড্রেস ব্যবহার করে ডেটা আদান-প্রদান করে।
- মোবাইল প্রযুক্তি (4G/5G): উচ্চ গতির ইন্টারনেট, কম ল্যাটেন্সি এবং বেশি ব্যান্ডউইথ নিশ্চিত করে, যা মোবাইল ব্যাংকিং ও ই-কমার্সের প্রসারে দারুণ ভূমিকা রেখেছে।
- ব্লুটুথ: এটি স্বল্প দূরত্বে (১০-১০০ মিটার) তারবিহীন যোগাযোগ স্থাপন করে পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (PAN) তৈরি করে।
পরিভাষা (Glossary)
পরীক্ষার জন্য নিচের ইংরেজি পরিভাষা এবং এদের অর্থ জানা থাকা অত্যন্ত জরুরি:
| পরিভাষা (Term) | সংজ্ঞা ও অর্থ (Definition) |
|---|---|
| Communication Device | ডেটা বা তথ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে আদান-প্রদানে ব্যবহৃত হার্ডওয়্যার। |
| NIC (Network Interface Card) | কম্পিউটার বা ডিভাইসকে নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত হার্ডওয়্যার উপাদান। |
| MAC Address | নেটওয়ার্ক ডিভাইসের স্থায়ী ও অদ্বিতীয় ৪৮-বিট ফিজিক্যাল বা হার্ডওয়্যার ঠিকানা। |
| Modem | মডুলেশন ও ডিমডুলেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অ্যানালগ ও ডিজিটাল সিগন্যাল রূপান্তরকারী যন্ত্র। |
| Router | একাধিক ভিন্ন নেটওয়ার্কের মধ্যে আইপি অ্যাড্রেস ব্যবহার করে ডেটা প্যাকেট আদান-প্রদানকারী বুদ্ধিমান ডিভাইস। |
| Switch | একই নেটওয়ার্কের (LAN) বিভিন্ন ডিভাইসের মধ্যে ম্যাক অ্যাড্রেস ব্যবহার করে ডেটা ফিল্টার ও ফরোয়ার্ডকারী যন্ত্র। |
| 4G LTE | চতুর্থ প্রজন্মের উচ্চ গতির মোবাইল ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট প্রযুক্তি। |
| Bluetooth | স্বল্প দূরত্বের তারবিহীন যোগাযোগ প্রযুক্তি, যা পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (PAN) তৈরি করে। |