আউটপুট ডিভাইস: কীভাবে কম্পিউটার উত্তর দেয়
কম্পিউটারের বিভিন্ন আউটপুট ডিভাইস যেমন মনিটর (LED, OLED), প্রিন্টার (লেজার, থার্মাল), থ্রিডি প্রিন্টিং, স্পিকার এবং ভিআর প্রযুক্তি সম্পর্কে জানুন।
আউটপুট ডিভাইস: কীভাবে কম্পিউটার উত্তর দেয়
- আউটপুট ডিভাইস: কীভাবে কম্পিউটার উত্তর দেয়
- কম্পিউটারের ভাষা থেকে আমাদের জগতে!
- আউটপুট ডিভাইসের মূল কাজ কী?
- ভিজ্যুয়াল আউটপুট: মনিটরের বিবর্তন
- স্মার্টফোনের স্ক্রিন: OLED এবং AMOLED
- মনিটর কেনার আগে: রেজোলিউশন ও রিফ্রেশ রেট
- বড় পর্দার ম্যাজিক: প্রজেক্টর
- ফিজিক্যাল আউটপুট: ইঙ্কজেট (Inkjet) প্রিন্টার
- অফিসের কাজের রাজা: লেজার (Laser) প্রিন্টার
- কালি ছাড়া প্রিন্ট: থার্মাল (Thermal) প্রিন্টার
- ডিজিটাল থেকে বাস্তব: থ্রিডি (3D) প্রিন্টার
- অডিও আউটপুট: স্পিকার ও হেডফোন
- টেক্সট থেকে শব্দ: Text-to-Speech (TTS)
- আধুনিক প্রযুক্তি: ভার্চুয়াল এবং অগমেন্টেড রিয়্যালিটি
- স্পর্শের অনুভূতি: হ্যাপটিক্স এবং ব্রেইল ডিসপ্লে
- আজকের লেকচারের সারসংক্ষেপ
আউটপুট ডিভাইস: কীভাবে কম্পিউটার উত্তর দেয়
কল্পনা করুন, আপনি একটি এটিএম বুথ থেকে টাকা তুললেন এবং সাথে সাথে একটি ছোট্ট রশিদে আপনার ব্যালেন্সের তথ্য প্রিন্ট হয়ে বেরিয়ে এল। কিংবা একটি ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি (VR) হেডসেট পরে আপনি আপনার ঘরে বসেই অন্য কোনো গ্রহে ঘুরে বেড়ানোর বাস্তব অনুভূতি পেলেন। আবার ইন্টারনেটে কিছু খুঁজলে এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট আপনার হয়ে সেটি পড়ে শোনাচ্ছে। এই যে কম্পিউটার বা ডিজিটাল যন্ত্র আমাদের নির্দেশ গ্রহণ করে তার একটি ফলাফল আমাদের সামনে তুলে ধরছে—এটিই হলো আউটপুট। মূলত কম্পিউটার কীভাবে আমাদের সাথে কথা বলে বা আমাদের কাজের উত্তর দেয়, সেটিই এই অধ্যায়ের মূল আলোচ্য বিষয়।
সংজ্ঞা (Definition): আউটপুট ডিভাইস (Output Device) — যে হার্ডওয়্যার ডিভাইসের মাধ্যমে কম্পিউটার প্রসেস করা ডেটা বা ফলাফল ব্যবহারকারীর বোধগম্য আকারে (দৃশ্যমান, শ্রবণযোগ্য বা স্পর্শযোগ্য) প্রকাশ করে, তাকে আউটপুট ডিভাইস বলে।
একটি কম্পিউটার কীভাবে কাজ করে তা পুরোপুরি বুঝতে হলে 'ইনফরমেশন প্রসেসিং সাইকেল' (Information Processing Cycle) বোঝা অত্যন্ত জরুরি। আমরা যখন কিবোর্ড বা মাউস দিয়ে কোনো নির্দেশ দিই (যা ইনপুট হিসেবে পরিচিত), তখন সিপিইউ (CPU) সেই ডেটা বা 0 এবং 1-এর ইলেকট্রনিক সিগন্যালকে বিশ্লেষণ বা প্রসেস করে। কিন্তু মানুষ তো আর 0 এবং 1 বুঝতে পারে না। তাই সেই প্রসেসকৃত ডেটাকে মানুষের বোধগম্য ছবি, শব্দ, টেক্সট বা ভিডিওতে রূপান্তর করার চূড়ান্ত এবং অপরিহার্য কাজটি করে এই আউটপুট ডিভাইসগুলো।
গুরুত্বপূর্ণ (Important):
- ইনফরমেশন প্রসেসিং সাইকেলে আউটপুট হলো চূড়ান্ত ধাপ।
- ডেটা প্রবাহের সাধারণ ক্রম: ইনপুট (যেমন- কিবোর্ড/মাউস) $\rightarrow$ প্রসেসিং (যেমন- সিপিইউ) $\rightarrow$ আউটপুট (যেমন- মনিটর/প্রিন্টার)।
- আউটপুট ডিভাইস ছাড়া কম্পিউটারের কোনো কাজের ফলাফলই আমরা জানতে বা দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করতে পারব না।
ভিজ্যুয়াল আউটপুট: মনিটর ও ডিসপ্লে প্রযুক্তি
ভিজ্যুয়াল বা দৃশ্যমান আউটপুটের প্রধান এবং সর্বাধিক ব্যবহৃত মাধ্যম হলো মনিটর এবং প্রজেক্টর। প্রজেক্টরের মাধ্যমে বড় পর্দার সাহায্যে অনেক মানুষের সামনে তথ্য বা ভিডিও উপস্থাপন করা যায়, যার আলোর উজ্জ্বলতা মাপা হয় 'লুমেন্স' (Lumens) এককে। অন্যদিকে, ব্যক্তিগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারের জন্য ডেস্কটপ বা ল্যাপটপের মনিটর সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।
প্রাচীনকালের ভারী এবং বড় আকারের সিআরটি (CRT - Cathode Ray Tube) মনিটরের যুগ পেরিয়ে আমরা এখন পাতলা এবং উন্নত প্রযুক্তির ফ্ল্যাট প্যানেল ডিসপ্লে ব্যবহার করছি। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হলো এলসিডি (LCD - Liquid Crystal Display) এবং এলইডি (LED - Light Emitting Diode)। এলসিডি মনিটরে প্যানেল তৈরি করতে তরল স্ফটিক ব্যবহার করা হয় এবং এর পেছনে আলো দেওয়ার জন্য একটি সাধারণ আলোর উৎস বা ব্যাকলাইট (Backlight) থাকে। এলইডি মনিটরেও ব্যাকলাইট থাকে, তবে সেখানে সাধারণ লাইটের বদলে ছোট ছোট এলইডি লাইট ব্যবহৃত হয়, যা এলসিডির তুলনায় অনেক বেশি উন্নত, উজ্জ্বল এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী।
তবে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে যুগান্তকারী এবং অত্যাধুনিক ডিসপ্লে প্রযুক্তি হলো ওলেড (OLED - Organic Light Emitting Diode)।
গুরুত্বপূর্ণ (Important):
- OLED বা স্মার্টফোনে ব্যবহৃত AMOLED ডিসপ্লেতে কোনো ব্যাকলাইটের প্রয়োজন হয় না।
- এর স্ক্রিনের প্রতিটি পিক্সেল নিজেই স্বাধীনভাবে নিজের আলো তৈরি করতে পারে।
- স্ক্রিনের কোনো অংশ কালো দেখাতে হলে, সেই অংশের পিক্সেলগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে 'পারফেক্ট ব্ল্যাক (Perfect Black)' বা নিখুঁত কালো রঙ পাওয়া যায় এবং এই কারণে প্রচুর বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়।
যেকোনো ডিসপ্লের গুণগত মান ও ছবির স্পষ্টতা প্রধানত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর নির্ভর করে—রেজোলিউশন এবং রিফ্রেশ রেট।
সংজ্ঞা (Definition):
- রেজোলিউশন (Resolution): স্ক্রিনে আনুভূমিক (Horizontal) এবং উল্লম্বভাবে (Vertical) থাকা মোট পিক্সেলের (Pixel) সংখ্যাই হলো রেজোলিউশন।
- রিফ্রেশ রেট (Refresh Rate): প্রতি সেকেন্ডে একটি মনিটর কতবার নতুন ছবি বা ফ্রেম রেন্ডার করে পর্দায় আপডেট করতে পারে, তার হারকে রিফ্রেশ রেট বলে। এর একক হলো হার্জ (Hz)।
$$Total Pixels = Width \times Height$$
যেখানে Width হলো আনুভূমিক পিক্সেলের সংখ্যা এবং Height হলো উল্লম্ব পিক্সেলের সংখ্যা। যেমন- Full HD বা 1920x1080 রেজোলিউশনের একটি স্ক্রিনে মোট পিক্সেল সংখ্যা হবে $1920 \times 1080 = 2,073,600$ টি পিক্সেল। পিক্সেল যত বেশি হবে, ছবির মান তত নিখুঁত হবে।
পরীক্ষার টিপস (Exam Tip): স্মার্টফোনের ডিসপ্লে প্রযুক্তিতে OLED/AMOLED কেন সাধারণ LCD বা LED এর চেয়ে উত্তম, তা নিয়ে সৃজনশীল (Creative) বা ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন আসতে পারে। উত্তরে 'পারফেক্ট ব্ল্যাক (Perfect Black)', 'প্রতিটি পিক্সেল নিজে আলো দেয়' এবং 'অত্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী'—এই তিনটি পয়েন্ট অবশ্যই উদাহরণসহ হাইলাইট করবেন।
LCD, LED এবং OLED এর তুলনামূলক পার্থক্য
| বৈশিষ্ট | LCD (Liquid Crystal Display) | LED (Light Emitting Diode) | OLED (Organic Light Emitting Diode) |
|---|---|---|---|
| ব্যাকলাইট | কোল্ড ক্যাথোড ফ্লুরোসেন্ট ল্যাম্প (CCFL) ব্যবহৃত হয়। | LED লাইট প্যানেল ব্যবহৃত হয়। | কোনো ব্যাকলাইট লাগে না। প্রতিটি পিক্সেল নিজেই আলো দেয়। |
| বিদ্যুৎ খরচ | বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয়। | তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ খরচ হয়। | সবচেয়ে কম বিদ্যুৎ খরচ হয় (কালো রঙে পিক্সেল বন্ধ থাকে)। |
| ছবির মান | সাধারণ মানের কন্ট্রাস্ট রেশিও পাওয়া যায়। | উন্নত কন্ট্রাস্ট রেশিও এবং উজ্জ্বলতা থাকে। | নিখুঁত কন্ট্রাস্ট রেশিও (Perfect Black) পাওয়া যায়। |
| দাম | তুলনামূলক সবচেয়ে সস্তা। | সাশ্রয়ী দামের মধ্যে পাওয়া যায়। | প্রযুক্তি জটিল হওয়ায় এর দাম অনেক বেশি। |
হার্ডকপি আউটপুট: প্রিন্টার এবং প্লটার
সফট কপি (ডিজিটাল রূপ) থেকে হার্ড কপিতে (কাগজে মুদ্রিত রূপ) রূপান্তরকারী প্রধান আউটপুট ডিভাইস হলো প্রিন্টার। কাজের পদ্ধতি অনুযায়ী প্রিন্টার প্রধানত দুই প্রকার: ইমপ্যাক্ট (Impact) এবং নন-ইমপ্যাক্ট (Non-impact)।
ইমপ্যাক্ট প্রিন্টারগুলো পুরনো টাইপরাইটারের মতো কাজ করে, যেখানে কালির ফিতার ওপর মেটালিক পিন দিয়ে সজোরে আঘাত করে কাগজে লেখা ফোটানো হয়। এর সবচেয়ে ভালো উদাহরণ হলো 'ডট ম্যাট্রিক্স (Dot Matrix) প্রিন্টার'। এগুলো প্রিন্ট করার সময় শব্দ বেশি করে এবং কাজের গতি ধীর হলেও, ব্যাংকের রসিদ, কার্বন কপি বা ইনভয়েস তৈরির কাজে এটি এখনো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় কারণ এর প্রিন্টিং খরচ খুব কম।
অন্যদিকে, নন-ইমপ্যাক্ট প্রিন্টার কাগজে সরাসরি কোনো আঘাত করে না, ফলে প্রিন্ট হয় একদম নিঃশব্দে। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ইঙ্কজেট (Inkjet) এবং লেজার (Laser) প্রিন্টার। ইঙ্কজেট প্রিন্টার তরল কালি (Liquid Ink) সূক্ষ্ম ফোঁটার মাধ্যমে কাগজের ওপর স্প্রে করে প্রিন্ট করে, যা হাই-রেজোলিউশন রঙিন ছবি প্রিন্ট করার জন্য দারুণ। আর লেজার প্রিন্টার লেজার রশ্মি ও শুকনো কালির পাউডার বা টোনার (Toner) ব্যবহার করে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে প্রিন্ট করে। অফিস-আদালতে যেখানে প্রচুর সাদাকালো টেক্সট ডকুমেন্ট প্রিন্ট করতে হয়, সেখানে লেজার প্রিন্টার সবচেয়ে বেশি উপযোগী।
সংজ্ঞা (Definition): থার্মাল প্রিন্টার (Thermal Printer) — যে প্রিন্টারে সাধারণ কালির পরিবর্তে বিশেষ তাপ-সংবেদনশীল (Heat-sensitive) কাগজ ব্যবহার করা হয় এবং প্রিন্টহেডের তাপের সাহায্যে কাগজের ওপর অক্ষর বা ছবি ফোটানো হয়, তাকে থার্মাল প্রিন্টার বলে। এটিএম বুথ, সুপারশপ এবং পস (POS) মেশিনের রসিদ প্রিন্ট করতে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
সাধারণ প্রিন্টারের পাশাপাশি বড় আকারের প্রফেশনাল কাজের জন্য প্লটার এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির জন্য থ্রিডি প্রিন্টার ব্যবহৃত হয়।
গুরুত্বপূর্ণ (Important):
- প্লটার (Plotter): সাধারণ সাইজের প্রিন্টার দিয়ে বড় মাপের ব্যানার, পোস্টার বা নিখুঁত ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রয়িং (যেমন- বাড়ির নকশা, মানচিত্র) প্রিন্ট করা যায় না। এর জন্য প্লটার ব্যবহার করা হয়। এটি পেন, পেন্সিল বা মার্কার ব্যবহার করে নিখুঁত ভেক্টর গ্রাফিক্স প্রিন্ট করতে পারে।
- থ্রিডি প্রিন্টার (3D Printer): ডিজিটাল ত্রিমাত্রিক মডেলকে লেয়ার বাই লেয়ার (Layer by Layer) প্লাস্টিক বা মেটাল গলিয়ে বাস্তব বস্তুতে রূপান্তরকারী যন্ত্র। চিকিৎসা বিজ্ঞানে কৃত্রিম অঙ্গ বা দাঁত তৈরিতে এবং ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোটোটাইপ বানাতে এর ব্যবহার যুগান্তকারী।
পরীক্ষার টিপস (Exam Tip): লেজার প্রিন্টার এবং ইঙ্কজেট প্রিন্টারের পার্থক্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় প্রায়ই আসে। লেজার প্রিন্টারে 'টোনার (শুকনো পাউডার)' এবং ইঙ্কজেটে 'তরল কালি' ব্যবহৃত হয়—এই বিষয়টি পয়েন্ট করে ছক আকারে লিখলে পুরো নম্বর পাওয়া সহজ হবে।
লেজার বনাম ইঙ্কজেট প্রিন্টারের পার্থক্য
| বৈশিষ্ট | লেজার প্রিন্টার (Laser Printer) | ইঙ্কজেট প্রিন্টার (Inkjet Printer) |
|---|---|---|
| কালির ধরন | শুষ্ক কালির পাউডার বা টোনার (Toner) ব্যবহৃত হয়। | কার্টিজে তরল কালি (Liquid Ink) ব্যবহৃত হয়। |
| কাজের পদ্ধতি | লেজার রশ্মি ও স্ট্যাটিক ইলেক্ট্রিসিটির মাধ্যমে ড্রামে কালি বসিয়ে কাজ করে। | প্রিন্টহেড দিয়ে কাগজের ওপর কালির ক্ষুদ্র ফোঁটা স্প্রে করে। |
| কাজের গতি | প্রিন্টিং গতি অনেক দ্রুত (প্রতি মিনিটে অনেক পেজ)। | প্রিন্টিং গতি তুলনামূলক ধীর। |
| ব্যবহার ক্ষেত্র | প্রচুর টেক্সট ডকুমেন্ট (অফিস আদালত) দ্রুত প্রিন্ট করতে সেরা। | উন্নত মানের রঙিন ছবি, ফটো পেপার বা গ্রাফিক্স প্রিন্ট করতে সেরা। |
অডিও আউটপুট এবং অ্যাক্সেসিবিলিটি প্রযুক্তি
ভিজ্যুয়াল এবং হার্ডকপি আউটপুটের পাশাপাশি শ্রুতিমধুর শব্দ প্রদানকারী আউটপুট ডিভাইসগুলোও আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অপরিহার্য। স্পিকার এবং হেডফোন হলো সবচেয়ে সাধারণ অডিও আউটপুট ডিভাইস। কম্পিউটার যখন কোনো অডিও ফাইল প্লে করে, তখন সেটি ডিজিটাল সিগন্যাল থেকে অ্যানালগ শব্দ তরঙ্গে (Sound Wave) রূপান্তরিত হয়। স্পিকারের ভেতরের ইলেক্ট্রোম্যাগনেট এবং ডায়াফ্রামের দ্রুত কম্পনের ফলেই আমরা গান শোনা বা কথা বলার স্পষ্ট শব্দ শুনতে পাই।
আধুনিক যুগে আউটপুট ডিভাইসগুলো শুধু সাধারণ বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (Specially-abled) মানুষদের জন্য দারুণ সব অ্যাক্সেসিবিলিটি (Accessibility) বা সহায়ক প্রযুক্তি তৈরি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো টেক্সট-টু-স্পিচ এবং ব্রেইল ডিসপ্লে প্রযুক্তি।
সংজ্ঞা (Definition): টেক্সট-টু-স্পিচ (Text-to-Speech বা TTS) — এটি এমন একটি সহায়ক প্রযুক্তি যা কম্পিউটারের স্ক্রিনে থাকা ডিজিটাল টেক্সটকে বিশ্লেষণ করে কৃত্রিম মানুষের কণ্ঠে বা ভয়েস আউটপুটে রূপান্তর করে পড়ে শোনায়।
উদাহরণ (Example):
- দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য: যারা চোখে দেখতে পান না, তারা স্ক্রিন রিডার সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্ক্রিনের সব লেখা বা মেসেজ এই TTS প্রযুক্তিতে শুনে কম্পিউটারের যাবতীয় কাজ করতে পারেন।
- এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট: গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট (Google Assistant) বা অ্যাপলের সিরি (Siri)-কে যখন আমরা কোনো প্রশ্ন করি, তখন তারা ইন্টারনেট থেকে ডেটা খুঁজে বের করে এবং এই TTS প্রযুক্তির মাধ্যমেই আমাদের মুখে মুখে স্বাভাবিক মানুষের মতো উত্তর পড়ে শোনায়।
এছাড়া ব্রেইল ডিসপ্লে (Braille Display) হলো আরেকটি চমৎকার ফিজিক্যাল আউটপুট ডিভাইস, যা স্ক্রিনের টেক্সটকে স্পর্শযোগ্য ব্রেইল অক্ষরে রূপান্তর করে। এই ডিভাইসের ছোট ছোট পিনগুলো লেখার ওপর ভিত্তি করে ওঠানামা করে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যবহারকারীরা এই ব্রেইল পিনগুলোতে আঙুল ছুঁইয়ে কম্পিউটারের তথ্য বা বই সহজে পড়ে নিতে পারেন।
ভবিষ্যতের আউটপুট: ভিআর, এআর এবং হ্যাপটিক্স
প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির কল্যাণে আউটপুট ডিভাইসগুলো এখন আর শুধু দেখা বা শোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এগুলো এখন আমাদের বাস্তব অনুভূতি দিতে সক্ষম। আধুনিক প্রজন্মের এই আউটপুটগুলোর মধ্যে ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি, অগমেন্টেড রিয়্যালিটি এবং হ্যাপটিক প্রযুক্তি সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলেছে।
সংজ্ঞা (Definition):
- ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি (VR): হার্ডওয়্যার (যেমন- ভিআর হেডসেট) ও সফটওয়্যারের সমন্বয়ে তৈরি এমন একটি সম্পূর্ণ কৃত্রিম ত্রিমাত্রিক পরিবেশ, যা ব্যবহারকারীর কাছে একদম বাস্তবের মতো মনে হয়।
- হ্যাপটিক ফিডব্যাক (Haptic Feedback): ভাইব্রেশন, ফোর্স বা গতির মাধ্যমে ব্যবহারকারীর স্পর্ষেন্দ্রিয়কে উদ্দীপিত করে কোনো কাজের বাস্তব অনুভূতি দেওয়ার প্রযুক্তিই হলো হ্যাপটিক ফিডব্যাক।
হ্যাপটিক প্রযুক্তির সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ হলো স্মার্টফোনে কিবোর্ডে টাইপ করার সময় বা গেম খেলার সময় কন্ট্রোলারের সূক্ষ্ম কাঁপুনি। তবে এর প্রফেশনাল ব্যবহার আরও চমকপ্রদ। চিকিৎসা বিজ্ঞানে ভার্চুয়াল সার্জারি শেখার সময় ডাক্তাররা হ্যাপটিক গ্লাভস পরে একদম বাস্তব অপারেশনের মতো অনুভূতি পান। এমনকি ফ্লাইট সিমুলেটরে পাইলটরাও এই প্রযুক্তির মাধ্যমে আসল বিমান চালানোর আউটপুট অনুভব করেন।
পরীক্ষার টিপস (Exam Tip): VR এবং AR-এর সুস্পষ্ট পার্থক্য মনে রাখা জরুরি। VR ব্যবহারকারীকে পুরোপুরি একটি নতুন ভার্চুয়াল জগতে নিয়ে যায় (যেমন- হেডসেট পরলে চারপাশের বাস্তব জগত আর দেখা যায় না, পুরোটাই কৃত্রিম)। অন্যদিকে, AR (Augmented Reality) বাস্তব জগতের ওপরেই ভার্চুয়াল জিনিসপত্র ভাসিয়ে তোলে (যেমন- মোবাইলের ক্যামেরায় পোকেমন গেম বা ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন ফেস ফিল্টার)।
সংক্ষিপ্ত সারাংশ (Quick Revision):
- আউটপুটের ভূমিকা: আউটপুট ডিভাইস প্রসেসকৃত ডেটাকে (০ এবং ১) মানুষের বোধগম্য রূপে (ছবি, শব্দ, লেখা বা ফিজিক্যাল ফিডব্যাক) প্রকাশ করে।
- OLED প্রযুক্তি: এই ডিসপ্লেতে পিক্সেল নিজেই আলো দেয়, কোনো ব্যাকলাইট লাগে না, তাই পারফেক্ট ব্ল্যাক পাওয়া যায় এবং ব্যাপক বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়।
- রেজোলিউশন ও রিফ্রেশ রেট: মনিটরের রেজোলিউশন (পিক্সেল ঘনত্ব) যত বেশি, ছবির মান তত নিখুঁত। রিফ্রেশ রেট (Hz) বেশি হলে স্ক্রলিং ও ভিডিও অনেক মসৃণ হয়।
- প্রিন্টারের ধরন: প্রচুর টেক্সট প্রিন্টের জন্য লেজার প্রিন্টার (টোনার বা শুকনো কালি নির্ভর) এবং রঙিন ছবির জন্য ইঙ্কজেট প্রিন্টার (তরল কালি) সবচেয়ে জনপ্রিয়।
- বিশেষ প্রিন্টার: থার্মাল প্রিন্টারে কালি লাগে না, এটিএম এবং সুপারশপে রসিদ প্রিন্টে ব্যবহৃত হয়। প্লটার দিয়ে বড় মাপের ইঞ্জিনিয়ারিং ড্রয়িং বা ব্যানার প্রিন্ট করা হয়।
- অ্যাক্সেসিবিলিটি: টেক্সট-টু-স্পিচ (TTS) এবং ব্রেইল ডিসপ্লে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও লেখাপড়া অত্যন্ত সহজ করে দিয়েছে।
- আধুনিক আউটপুট: VR একটি সম্পূর্ণ কৃত্রিম জগত তৈরি করে, আর AR বাস্তব জগতেই কৃত্রিম ছবি বা তথ্য যুক্ত করে। হ্যাপটিক ফিডব্যাক আমাদের স্পর্শের বাস্তব অনুভূতি (Touch Sensation) দেয়।
পরিভাষা (Glossary)
| পরিভাষা (Term) | সংজ্ঞা (Definition) |
|---|---|
| Output Device | কম্পিউটারের প্রসেসকৃত ফলাফল মানুষের বোধগম্য রূপে প্রকাশের হার্ডওয়্যার মাধ্যম। |
| Resolution | ডিসপ্লে বা স্ক্রিনে আনুভূমিক এবং উল্লম্ব পিক্সেলের মোট পরিমাণ। |
| Refresh Rate | প্রতি সেকেন্ডে স্ক্রিন কতবার নতুন ফ্রেম বা ছবি আপডেট করতে পারে তার হার। |
| Plotter | বড় আকারের ভেক্টর গ্রাফিক্স, ব্যানার ও নিখুঁত ইঞ্জিনিয়ারিং নকশা প্রিন্ট করার যন্ত্র। |
| Toner | লেজার প্রিন্টারে ব্যবহৃত শুষ্ক কালির পাউডার, যা লেজার রশ্মির সাহায্যে কাগজে বসে যায়। |
| Haptic Feedback | স্পর্শ, বল বা কম্পনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে শারীরিক বা বাস্তব অনুভূতি প্রদানকারী প্রযুক্তি। |