সিস্টেম ইউনিটের উপাদানসমূহ: কম্পিউটারের ভেতরের অংশ
মাদারবোর্ড, সিপিইউ (CPU), র্যাম (RAM), স্টোরেজ (HDD, SSD), বাস এবং পাওয়ার সাপ্লাই-সহ কম্পিউটারের সিস্টেম ইউনিটের মূল অংশগুলোর কাজ ও পরিচিতি।
সিস্টেম ইউনিটের উপাদানসমূহ: কম্পিউটারের ভেতরের অংশ
- সিস্টেম ইউনিটের উপাদানসমূহ
- কম্পিউটারের ভেতরের এক নিখুঁত শহর!
- সিস্টেম ইউনিট বা কেসিং কী?
- মাদারবোর্ড (The Motherboard): সিস্টেমের ভিত্তি
- প্রসেসর বা CPU: কম্পিউটারের মস্তিষ্ক
- CPU এর ভেতরের অংশসমূহ
- মেমোরি বা RAM (The Working Space)
- স্টোরেজ ডিভাইস (স্থায়ী মেমোরি)
- বাস (Buses): যোগাযোগের মহাসড়ক
- পাওয়ার সাপ্লাই (PSU)
- পুরো সিস্টেমের সমন্বয় (IPC এর সাথে ম্যাপিং)
- সারসংক্ষেপ
সিস্টেম ইউনিটের উপাদানসমূহ: কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণ জগতের বিস্তারিত পরিচিতি
লেকচারে আমরা কম্পিউটারের ভেতরের অংশগুলোকে একটি 'নিখুঁত শহরের' সাথে তুলনা করেছি, যেখানে প্রসেসর হলো সেই শহরের মেয়র, বাস হলো যোগাযোগ ব্যবস্থার রাস্তা এবং র্যাম হলো মেয়রের অস্থায়ী কাজের টেবিল। এই স্টাডি ম্যাটেরিয়ালে আমরা সেই শহরটির প্রতিটি উপাদানকে তাত্ত্বিক এবং পরীক্ষাকেন্দ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করব। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি পরীক্ষায় সিস্টেম ইউনিটের অভ্যন্তরীণ অংশ (বিশেষ করে CPU-এর গঠন, RAM ও ROM-এর পার্থক্য, এবং HDD ও SSD-এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ) থেকে প্রায়শই ব্রড এবং শর্ট প্রশ্ন আসে। এই রিডিং ম্যাটেরিয়ালটি লেকচারের প্রাথমিক ধারণাকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং পরীক্ষার খাতায় কীভাবে পয়েন্ট আকারে গুছিয়ে উত্তর লিখতে হবে, তার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেবে।
সিস্টেম ইউনিট এবং কেসিং (System Unit and Casing)
অনেকেই কম্পিউটারের বাহ্যিক বড় বাক্সটিকে ভুলবশত 'CPU' বলে থাকেন। কিন্তু বাস্তবে এটি CPU নয়, বরং একে বলা হয় 'সিস্টেম ইউনিট' বা কেসিং (Casing)। এটি মূলত প্লাস্টিক বা মেটালের তৈরি একটি খোলস, যার ভেতরে কম্পিউটারের সব গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সুরক্ষিত থাকে। একটি ভালো কেসিং শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং ভেতরের পার্টসগুলোর দীর্ঘস্থায়ীত্বও নিশ্চিত করে।
সংজ্ঞা (Definition): সিস্টেম ইউনিট (System Unit) হলো কম্পিউটারের বাহ্যিক কাঠামো বা কেসিং, যা মাদারবোর্ড, প্রসেসর, র্যাম, হার্ডডিস্ক এবং পাওয়ার সাপ্লাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ইলেকট্রনিক উপাদানগুলোকে ধারণ করে এবং ধুলোবালি ও যান্ত্রিক আঘাত থেকে সুরক্ষিত রাখে।
সিস্টেম ইউনিটের প্রধান কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো যন্ত্রাংশের সুরক্ষা দেওয়া, ক্যাবল ম্যানেজমেন্ট সহজ করা এবং বায়ুপ্রবাহ বা কুলিং সিস্টেম ঠিক রাখা। কাজের ধরন ও আকৃতি অনুযায়ী সিস্টেম ইউনিটকে প্রধানত ডেস্কটপ (টেবিলের ওপর শোয়ানো অবস্থায় থাকে) এবং টাওয়ার (খাড়া অবস্থায় থাকে) কেসিং—এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়। বর্তমানে টাওয়ার কেসিং সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।
গুরুত্বপূর্ণ (Important):
- কুলিং সিস্টেম (Cooling System): কম্পিউটারের পার্টসগুলো (বিশেষ করে প্রসেসর ও গ্রাফিক্স কার্ড) কাজ করার সময় প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে।
- একটি ভালো কেসিং-এর গঠন এমন হয় যাতে সহজে বাইরের ঠান্ডা বাতাস প্রবেশ করতে পারে এবং ভেতরের গরম বাতাস এক্সস্ট ফ্যানের (Exhaust Fan) মাধ্যমে বেরিয়ে যেতে পারে।
- কুলিং ঠিকমতো না হলে 'থার্মাল থ্রটলিং' (Thermal Throttling) এর কারণে কম্পিউটারের পারফরম্যান্স মারাত্মকভাবে কমে যায়।
মাদারবোর্ড (Motherboard): সিস্টেমের স্নায়ুকেন্দ্র ও পোর্টসমূহ
মাদারবোর্ড হলো কম্পিউটারের ভেতরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রধান সার্কিট বোর্ড। কম্পিউটারের অন্যান্য সকল যন্ত্রাংশ, যেমন—প্রসেসর, র্যাম, হার্ডডিস্ক বা গ্রাফিক্স কার্ড, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই মাদারবোর্ডের সাথেই যুক্ত থাকে। এটি কম্পিউটারের সকল অংশের মধ্যে একটি নিখুঁত সমন্বয় সাধন করে এবং ডেটা চলাচলের পথ তৈরি করে দেয়।
সংজ্ঞা (Definition): মাদারবোর্ড (Motherboard) হলো কম্পিউটারের সবচেয়ে বড় এবং প্রধান প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড (PCB), যা প্রসেসর, মেমোরি এবং অন্যান্য পেরিফেরাল ডিভাইসের মধ্যে বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপন করে এবং ডেটা আদান-প্রদানের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
মাদারবোর্ডে বাইরের ডিভাইস যুক্ত করার জন্য থাকে বিভিন্ন ধরনের পোর্ট (Ports) এবং ভেতরের যন্ত্রাংশ বসানোর জন্য থাকে স্লট (Slots)।
* USB Port: মাউস, কীবোর্ড, পেনড্রাইভ ইত্যাদি যুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
* HDMI/VGA Port: মনিটর বা প্রজেক্টরের সাথে ভিডিও সিগন্যাল আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়।
* LAN Port (RJ45): তারযুক্ত ইন্টারনেট বা নেটওয়ার্ক সংযোগের জন্য।
* Audio Port: স্পিকার ও মাইক্রোফোন যুক্ত করার জন্য।
অন্যদিকে, মাদারবোর্ডের ভেতরের স্লটগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রসেসর বসানোর জন্য 'CPU Socket', র্যাম বসানোর জন্য 'RAM Slots' এবং গ্রাফিক্স কার্ড বা অন্যান্য এক্সপ্যানশন কার্ড লাগানোর জন্য 'PCIe (Peripheral Component Interconnect Express) Slots'।
পরীক্ষার টিপস (Exam Tip): পরীক্ষায় 'মাদারবোর্ডের উপাদানসমূহ' নিয়ে প্রশ্ন এলে অবশ্যই পোর্ট (যেমন- USB, HDMI) এবং স্লট (যেমন- RAM Slot, PCIe Slot) এই দুটি ভাগে ভাগ করে পয়েন্ট আকারে উত্তর লিখবেন। এতে পরীক্ষক সহজেই আপনার পরিচ্ছন্ন ধারণার প্রমাণ পাবেন এবং বেশি নম্বর পাওয়া যাবে।
সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট (CPU): গঠন ও কার্যপ্রণালী
সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট বা প্রসেসর হলো কম্পিউটারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা কম্পিউটারকে যত নির্দেশ বা কমান্ড দিই, তার সবকিছুই এই প্রসেসরের ভেতরে গিয়ে প্রসেস বা প্রক্রিয়াজাত হয়। এটি প্রতি সেকেন্ডে কোটি কোটি গাণিতিক হিসাব সম্পন্ন করতে পারে। প্রসেসরের স্পিড বা কার্যক্ষমতা মাপা হয় ক্লক স্পিড (Clock Speed) দিয়ে, যার একক হলো গিগাহার্টজ (GHz)। উদাহরণস্বরূপ, একটি 3.0 GHz প্রসেসর প্রতি সেকেন্ডে ৩ বিলিয়ন সাইকেল বা কাজ সম্পন্ন করতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ (Important):
- অনুধাবনমূলক প্রশ্ন: 'CPU-কে কম্পিউটারের মস্তিষ্ক বলা হয় কেন?'
- মানুষের মস্তিষ্ক যেমন শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করে এবং সিদ্ধান্ত নেয়, তেমনি CPU কম্পিউটারের সকল অংশের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে।
- এটি গাণিতিক ও যুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেয় এবং ব্যবহারকারীর দেওয়া ডেটা প্রসেসিং করে আউটপুট তৈরি করে। এসব কারণেই প্রসেসরকে কম্পিউটারের মস্তিষ্ক বলা হয়।
কার্যপ্রণালীর সুবিধার জন্য একটি প্রসেসরকে প্রধান তিনটি অংশে ভাগ করা যায়: ALU, Control Unit, এবং Registers। কন্ট্রোল ইউনিট (CU) অনেকটা ট্রাফিক পুলিশের মতো কাজ করে; এটি ডেটা কখন কোথায় যাবে তা নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে ALU হলো একটি অতি-উন্নত ক্যালকুলেটরের মতো, যা আসল হিসাব-নিকাশ করে। আর রেজিস্টার হলো প্রসেসরের ভেতরের নিজস্ব অতি-দ্রুত মেমোরি, যা প্রসেসিংয়ের সময় সাময়িকভাবে ডেটা ধরে রাখে।
সংজ্ঞা (Definition):
- ALU (Arithmetic Logic Unit): CPU-এর যে অংশ যাবতীয় গাণিতিক (যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ) এবং যুক্তিমূলক (তুলনামূলক সিদ্ধান্ত যেমন- ছোট, বড়, সমান) কাজ সম্পন্ন করে, তাকে ALU বলে।
- CU (Control Unit): এটি কম্পিউটারের সকল হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে এবং নির্দেশনার প্রবাহ (Data Flow) নিয়ন্ত্রণ করে।
প্রাইমারি মেমোরি: RAM এবং ROM এর বিস্তারিত ধারণা
কম্পিউটারের মেমোরি সিস্টেমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো প্রাইমারি মেমোরি। এটি সরাসরি প্রসেসরের সাথে সংযুক্ত থাকে। প্রাইমারি মেমোরি প্রধানত দুই প্রকার: RAM এবং ROM। প্রসেসর যখন কোনো কাজ করে, তখন তার যে ডেটাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজন হয়, সেগুলো হার্ডডিস্ক থেকে এনে RAM-এ রাখা হয়। RAM-কে একটি কাজের টেবিলের সাথে তুলনা করা যায়; টেবিল যত বড় হবে, আপনি তত বেশি ফাইল বা বই একসাথে খুলে কাজ করতে পারবেন।
সংজ্ঞা (Definition):
- RAM (Random Access Memory): এটি কম্পিউটারের প্রধান ও অস্থায়ী মেমোরি, যা প্রসেসিংয়ের সময় চলমান প্রোগ্রাম এবং ডেটা সংরক্ষণ করে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে এর ডেটা মুছে যায়, তাই একে Volatile মেমোরি বলা হয়।
- ROM (Read Only Memory): এটি স্থায়ী মেমোরি, যেখানে কম্পিউটারের বুট বা চালু হওয়ার প্রয়োজনীয় নির্দেশনাবলি (যেমন- BIOS) আগে থেকেই সংরক্ষিত থাকে। বিদ্যুৎ গেলেও এর ডেটা মুছে যায় না, তাই একে Non-volatile মেমোরি বলা হয়।
পরীক্ষায় প্রায়শই RAM এবং ROM এর পার্থক্য জানতে চাওয়া হয়। নিচে এদের মধ্যে একটি পরিষ্কার তুলনামূলক ছক দেওয়া হলো:
| পার্থক্যের ভিত্তি | RAM (Random Access Memory) | ROM (Read Only Memory) |
|---|---|---|
| ডেটার স্থায়িত্ব | এটি অস্থায়ী (Volatile) মেমোরি। বিদ্যুৎ গেলে ডেটা মুছে যায়। | এটি স্থায়ী (Non-volatile) মেমোরি। বিদ্যুৎ গেলেও ডেটা সুরক্ষিত থাকে। |
| কাজের ধরন | প্রসেসর এতে ডেটা লিখতে (Write) এবং পড়তে (Read) পারে। | এটি থেকে ডেটা সাধারণত শুধু পড়া (Read) যায়, সহজে লেখা যায় না। |
| গতি | এর ডেটা আদান-প্রদানের গতি অত্যন্ত দ্রুত। | RAM এর তুলনায় এর গতি কিছুটা ধীর। |
| ধারণক্ষমতা | এর ধারণক্ষমতা সাধারণত বেশি হয় (যেমন: 4GB, 8GB, 16GB)। | এর ধারণক্ষমতা তুলনামূলক অনেক কম হয় (কয়েক মেগাবাইট)। |
| ব্যবহার | চলমান প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার এবং সাময়িক ডেটা সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়। | কম্পিউটারের স্টার্টআপ বা বুটিং ইনস্ট্রাকশন (BIOS) সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়। |
পরীক্ষার টিপস (Exam Tip): RAM ও ROM এর পার্থক্য ব্রড বা শর্ট প্রশ্ন হিসেবে প্রায়ই আসে। ওপরে দেওয়া ছকের মতো পার্থক্যের 'ভিত্তি' উল্লেখ করে ছক আকারে উত্তর লিখলে পূর্ণ নম্বর পাওয়া অত্যন্ত সহজ হয়।
সেকেন্ডারি স্টোরেজ: HDD এবং SSD এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ
কম্পিউটারে স্থায়ীভাবে ডকুমেন্ট, ছবি, ভিডিও বা সফটওয়্যার সংরক্ষণের জন্য সেকেন্ডারি স্টোরেজ ব্যবহার করা হয়। বহুল ব্যবহৃত দুটি সেকেন্ডারি স্টোরেজ হলো হার্ডডিস্ক ড্রাইভ (HDD) এবং সলিড স্টেট ড্রাইভ (SSD)। HDD হলো পুরনো প্রযুক্তির ম্যাগনেটিক স্টোরেজ, যার ভেতরে একাধিক ঘূর্ণায়মান চাকতি বা প্ল্যাটার (Platter) থাকে। একটি মেকানিক্যাল রিড/রাইট হেড এই চাকতির ওপর থেকে ডেটা পড়ে। অন্যদিকে, আধুনিক কম্পিউটারে SSD এর ব্যবহার ব্যাপক হারে বাড়ছে।
সংজ্ঞা (Definition): SSD (Solid State Drive) হলো এক ধরনের আধুনিক, নন-ভোলাটাইল স্টোরেজ ডিভাইস যা ফ্ল্যাশ মেমোরি চিপ ব্যবহার করে ডেটা সংরক্ষণ করে। এতে কোনো ঘূর্ণায়মান বা মেকানিক্যাল অংশ (Moving parts) থাকে না বলে এটি প্রথাগত হার্ডডিস্কের তুলনায় বহুগুণ দ্রুত এবং টেকসই।
পরীক্ষায় HDD এবং SSD এর পার্থক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে পার্থক্যগুলো দেওয়া হলো:
| বৈশিষ্ট্য | HDD (Hard Disk Drive) | SSD (Solid State Drive) |
|---|---|---|
| গঠন ও মেকানিজম | এতে ঘূর্ণায়মান ম্যাগনেটিক চাকতি (Platter) এবং মুভিং পার্টস থাকে। | এতে কোনো মুভিং পার্টস থাকে না, ফ্ল্যাশ মেমোরি চিপ ব্যবহৃত হয়। |
| গতি (Speed) | ডেটা রিড/রাইট স্পিড তুলনামূলক অনেক ধীর। | ডেটা রিড/রাইট স্পিড অত্যন্ত দ্রুত (HDD এর চেয়ে ৫-১০ গুণ বেশি)। |
| স্থায়িত্ব | যান্ত্রিক আঘাত বা ঝাঁকুনিতে সহজেই নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। | কোনো ঘূর্ণায়মান অংশ না থাকায় এটি অনেক বেশি টেকসই ও নির্ভরযোগ্য। |
| শব্দ ও বিদ্যুৎ খরচ | কাজ করার সময় মোটর ঘোরার শব্দ হয় এবং বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে। | সম্পূর্ণ নিস্তব্ধভাবে কাজ করে এবং বিদ্যুৎ খরচ অত্যন্ত কম। |
| মূল্য (Cost) | প্রতি গিগাবাইট (GB) স্টোরেজের দাম তুলনামূলক অনেক কম। | প্রতি গিগাবাইট স্টোরেজের দাম তুলনামূলক বেশি। |
সিস্টেম বাস এবং পাওয়ার সাপ্লাই (Buses and PSU)
মাদারবোর্ডের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের মধ্যে ডেটা বা তথ্য চলাচলের জন্য যে সূক্ষ্ম বৈদ্যুতিক পরিবাহী পথ থাকে, তাকে বাস (Bus) বলা হয়। বাসকে রাস্তার সাথে তুলনা করা যেতে পারে। সিস্টেম বাস প্রধানত তিন ধরনের হয়ে থাকে।
সংজ্ঞা (Definition):
- ডেটা বাস (Data Bus): যে পথ দিয়ে মূল ডেটা বা তথ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে (যেমন প্রসেসর থেকে মেমোরিতে) স্থানান্তরিত হয়।
- অ্যাড্রেস বাস (Address Bus): যে পথ দিয়ে ডেটা কোথায় যাবে বা কোথা থেকে আসবে তার নির্দিষ্ট ঠিকানা (Memory Address) পরিবাহিত হয়।
- কন্ট্রোল বাস (Control Bus): যে পথ দিয়ে CPU থেকে বিভিন্ন অংশের কাজের নিয়ন্ত্রণমূলক সংকেত (Control Signals) বা নির্দেশাবলি পরিবাহিত হয়।
কম্পিউটারের আরেকটি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হলো পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট (PSU)। আমাদের বাসা-বাড়িতে যে বিদ্যুৎ থাকে তা হলো ২২০ ভোল্টের অল্টারনেটিং কারেন্ট (AC)। কিন্তু কম্পিউটারের ভেতরের স্পর্শকাতর ইলেকট্রনিক চিপগুলো এই সরাসরি কারেন্টে চলতে পারে ঘন ঘন।
গুরুত্বপূর্ণ (Important):
- PSU এর গুরুত্ব: পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট (PSU) বাইরের উচ্চ ভোল্টেজের AC কারেন্টকে কম্পিউটারের উপযোগী নিরাপদ এবং স্থিতিশীল ডাইরেক্ট কারেন্টে (DC) রূপান্তর করে।
- এটি মাদারবোর্ড এবং অন্যান্য কম্পোনেন্টের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন মাত্রার ভোল্টেজ (সাধারণত 3.3V, 5V, 12V) সরবরাহ করে। ভালো মানের PSU না থাকলে ভোল্টেজ ওঠা-নামার কারণে মাদারবোর্ড পুড়ে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে।
সারসংক্ষেপ ও রিভিশন (Summary & Revision)
সংক্ষিপ্ত সারাংশ (Quick Revision):
- সিস্টেম ইউনিট: কম্পিউটারের বাইরের খোলস যা ভেতরের সংবেদনশীল যন্ত্রাংশগুলোকে রক্ষা করে এবং কুলিং নিশ্চিত করে।
- মাদারবোর্ড: প্রধান সার্কিট বোর্ড, যা সকল যন্ত্রাংশকে একে অপরের সাথে যুক্ত রাখে এবং ডেটা চলাচলের পথ করে দেয়।
- CPU: কম্পিউটারের মস্তিষ্ক, যা তিনটি অংশে বিভক্ত: ALU (গাণিতিক কাজ), CU (নিয়ন্ত্রণ), এবং Registers (অতি-দ্রুত মেমোরি)।
- প্রাইমারি মেমোরি: RAM হলো অস্থায়ী কাজের টেবিল এবং ROM হলো স্থায়ী মেমোরি যা কম্পিউটারের বুটিং নির্দেশাবলি ধারণ করে।
- স্টোরেজ ডিভাইস: আধুনিক ও দ্রুতগতির ফ্ল্যাশ মেমোরি হলো SSD, আর পুরনো ও ধীরগতির ম্যাগনেটিক ডিস্ক হলো HDD।
- সিস্টেম বাস: তিন প্রকার—ডেটা, অ্যাড্রেস এবং কন্ট্রোল বাস, যা মাদারবোর্ডে ডেটা, ঠিকানা ও নির্দেশ পরিবহন করে।
- PSU: বাইরের AC বিদ্যুৎকে কম্পিউটারের উপযোগী নিরাপদ DC বিদ্যুতে রূপান্তর করে সব যন্ত্রাংশে সরবরাহ করে।
গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা (Glossary)
| পরিভাষা (Term) | সংজ্ঞা বা অর্থ (Definition) |
|---|---|
| CPU (Central Processing Unit) | কম্পিউটারের প্রধান প্রসেসর বা মস্তিষ্ক, যা যাবতীয় নির্দেশ পালন করে। |
| ALU (Arithmetic Logic Unit) | CPU-এর যে অংশ গাণিতিক ও যুক্তিমূলক কাজ করে। |
| RAM (Random Access Memory) | অস্থায়ী প্রাইমারি মেমোরি, যা প্রসেসিংয়ের সময় ডেটা ধারণ করে। |
| ROM (Read Only Memory) | স্থায়ী প্রাইমারি মেমোরি, যাতে সাধারণত BIOS সেভ করা থাকে। |
| SSD (Solid State Drive) | ফ্ল্যাশ মেমোরি ভিত্তিক অত্যন্ত দ্রুতগতির স্থায়ী স্টোরেজ ডিভাইস। |
| PSU (Power Supply Unit) | যে ডিভাইস কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। |
| Volatile Memory | যে মেমোরির ডেটা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে মুছে যায় (যেমন- RAM)। |