কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও আধুনিক প্রযুক্তি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কী, প্রকারভেদ (মেশিন লার্নিং, ডিপ লার্নিং), নিউরাল নেটওয়ার্ক, এক্সপার্ট সিস্টেম এবং ChatGPT-এর মতো আধুনিক প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা।

শেখা শুরু করুন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও আধুনিক প্রযুক্তি

  1. লেকচার ৪: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence)
  2. যন্ত্র কি চিন্তা করতে পারে?
  3. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কী?
  4. মানুষ বনাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
  5. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রকারভেদ
  6. এআই-এর প্রধান শাখাসমূহ
  7. মেশিন লার্নিং ও ডিপ লার্নিং
  8. এক্সপার্ট সিস্টেম (Expert System)
  9. এক্সপার্ট সিস্টেমের উপাদান
  10. এক্সপার্ট সিস্টেমের উদাহরণ
  11. আধুনিক এআই ও জেনারেটিভ এআই
  12. এআই ব্যবহারের সুবিধা ও অসুবিধা
  13. সারসংক্ষেপ

লেকচার ৪: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence)

এই লেকচার শেষে আমরা-

১। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI এর ধারণা ও ইতিহাস ব্যাখ্যা করতে পারব।
২। মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পার্থক্য নির্ণয় করতে পারব।
৩। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রকারভেদ ও প্রধান শাখাগুলো বর্ণনা করতে পারব।
৪। এক্সপার্ট সিস্টেম (Expert System) এর কাজ ও উপাদান বিশ্লেষণ করতে পারব।
৫। প্রাত্যহিক জীবনে ও আধুনিক বিশ্বে AI এর প্রভাব মূল্যায়ন করতে পারব।

সবাইকে স্বাগতম আজকের ক্লাসে! আজ আমরা এমন একটি টপিক নিয়ে কথা বলব যা বর্তমান বিশ্বকে পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে। সেটি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা Artificial Intelligence। চলো দেখে নিই, আজকের ক্লাস শেষে আমরা ঠিক কী কী শিখতে পারব। এই লেকচার শেষে আমরা- ১। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI এর ধারণা ও ইতিহাস ব্যাখ্যা করতে পারব। ২। মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পার্থক্য নির্ণয় করতে পারব। ৩। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রকারভেদ ও প্রধান শাখাগুলো বর্ণনা করতে পারব। ৪। এক্সপার্ট সিস্টেম (Expert System) এর কাজ ও উপাদান বিশ্লেষণ করতে পারব। এবং ৫। প্রাত্যহিক জীবনে ও আধুনিক বিশ্বে AI এর প্রভাব মূল্যায়ন করতে পারব।

যন্ত্র কি চিন্তা করতে পারে?

দৃশ্যপট:
  • তুমি ইউটিউবে একটি ভিডিও দেখলে, পরের দিন ইউটিউব তোমাকে ঠিক তোমার পছন্দের আরেকটি ভিডিও সাজেস্ট করল।
  • তুমি চ্যাটজিপিটিকে বললে 'একটি ছুটির দরখাস্ত লিখে দাও', সে ২ সেকেন্ডে লিখে দিল।

প্রশ্ন: এই যন্ত্রগুলো কীভাবে বুঝল তোমার কী দরকার? এদের কি মগজ আছে?

ক্লাস শুরুর আগে একটা প্রশ্ন করি। ধরো, তুমি ইউটিউবে ক্রিকেট খেলার একটা ভিডিও দেখলে। খেয়াল করেছ, এরপর ইউটিউব নিজে থেকেই তোমাকে ক্রিকেটের আরও ভিডিও সাজেস্ট করতে থাকে? অথবা ধরো, তুমি গুগল ম্যাপ ব্যবহার করছ, সে তোমাকে ট্রাফিক জ্যাম এড়িয়ে শর্টকাট রাস্তা দেখিয়ে দিচ্ছে। আচ্ছা, এই সফটওয়্যারগুলো কি করে জানল তোমার কী পছন্দ বা কোন রাস্তাটা ভালো? এদের তো মানুষের মতো মগজ নেই, তাই না? তাহলে এরা 'চিন্তা' বা 'সিদ্ধান্ত' নিচ্ছে কীভাবে? এই জাদুটাই হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কী?

সংজ্ঞা:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো কম্পিউটার বিজ্ঞানের একটি শাখা, যেখানে মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তাশক্তিকে কম্পিউটার বা যন্ত্রের মাধ্যমে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

ইতিহাস:
* ১৯৫০: অ্যালান টুরিং (Alan Turing) 'টুরিং টেস্ট' এর ধারণা দেন।
* ১৯৫৬: জন ম্যাকার্থি (John McCarthy) প্রথম 'Artificial Intelligence' শব্দটি ব্যবহার করেন। তাকে AI এর জনক বলা হয়।

তাহলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI আসলে কী? সহজ কথায়, মানুষের চিন্তাভাবনা, বুদ্ধি বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা যখন আমরা কোনো যন্ত্র বা সফটওয়্যারের মধ্যে ঢুকিয়ে দিই, তখন তাকে বলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। অর্থাৎ, যন্ত্র যখন মানুষের মতো আচরণ করার চেষ্টা করে। এই শব্দটা প্রথম কে ব্যবহার করেন জানো? ১৯৫৬ সালে জন ম্যাকার্থি (John McCarthy) প্রথম এই নাম দেন। এজন্য তাঁকে AI-এর জনক বলা হয়। এর আগে ১৯৫০ সালে অ্যালান টুরিং একটি টেস্টের কথা বলেছিলেন, যাকে 'টুরিং টেস্ট' বলা হয়—যা দিয়ে বোঝা যায় একটি যন্ত্র কতটা বুদ্ধিমান।

মানুষ বনাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

মানুষের বুদ্ধিমত্তা (Natural Intelligence)
  • সৃজনশীলতা ও আবেগ আছে।
  • ধীরে কাজ করে কিন্তু নতুন পরিস্থিতিতে খাপ খাওয়াতে পারে।
  • মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়।
  • অভিজ্ঞতা থেকে শেখে।

এখন প্রশ্ন হলো, মানুষের বুদ্ধি আর যন্ত্রের বুদ্ধির মধ্যে আসল পার্থক্যটা কোথায়? দেখো, মানুষের আবেগ আছে, কষ্ট আছে, আনন্দ আছে। আমরা সৃজনশীল—নতুন কিছু ভাবতে পারি। কিন্তু একটা রোবট বা AI-এর কোনো আবেগ নেই। সে শুধু লজিক বা যুক্তি বোঝে। অন্যদিকে, মানুষ কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যায়, ভুল করে। কিন্তু AI ক্লান্তিহীনভাবে দিনের পর দিন কাজ করতে পারে এবং তার ভুলের সম্ভাবনা খুবই কম যদি প্রোগ্রামিং ঠিক থাকে। তবে মনে রাখবে, AI নিজে থেকে কিছু 'অনুভব' করতে পারে না, যা মানুষ পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রকারভেদ

ক্ষমতা অনুযায়ী ৩ প্রকার:

১. ন্যারো বা উইক এআই (ANI):
* নির্দিষ্ট একটি কাজ করতে পারে।
* উদাহরণ: দাবা খেলার সফটওয়্যার, সিরি (Siri)।

২. জেনারেল বা স্ট্রং এআই (AGI):
* মানুষের মতো সব ধরনের কাজ বোঝার ক্ষমতা (গবেষণাধীন)।

৩. সুপার এআই (ASI):
* মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে অতিক্রমকারী ক্ষমতা (ভবিষ্যতের ধারণা)।

AI কত ধরণের হতে পারে? ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে একে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমে আসে 'Narrow AI' বা 'Weak AI'। এটা শুধু একটা নির্দিষ্ট কাজ খুব ভালো পারে। যেমন, তোমার ফোনের সিরি (Siri) বা দাবা খেলার কম্পিউটার। সে দাবা ভালো খেলে, কিন্তু লুডু খেলতে পারবে না। বর্তমানে আমরা যা দেখি সবই আসলে Narrow AI। এরপর আসে 'General AI', যা মানুষের মতো সব কাজ করতে পারবে—এটা নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। আর শেষে 'Super AI', যা মানুষের চেয়েও বুদ্ধিমান হবে—এটা এখনো কল্পবিজ্ঞানের পর্যায়ে আছে।

এআই-এর প্রধান শাখাসমূহ

AI আসলে অনেকগুলো প্রযুক্তির সমষ্টি। এর প্রধান শাখাগুলো হলো—মেশিন লার্নিং, ডিপ লার্নিং, আর NLP। তোমরা স্লাইডে দেখতে পাচ্ছ, AI-এর ছাতার নিচে কতগুলো বিষয় আছে। মেশিন লার্নিং হলো যখন কম্পিউটার নিজে নিজে ডেটা থেকে শেখে। ডিপ লার্নিং হলো মানুষের মস্তিষ্কের নিউরনের আদলে তৈরি জটিল নেটওয়ার্ক। আর NLP হলো যার মাধ্যমে কম্পিউটার আমাদের ভাষা বুঝতে ও বলতে পারে—যেমন গুগল ট্রান্সলেট। চলো পরের স্লাইডগুলোতে এগুলো একটু বিস্তারিত দেখি।

মেশিন লার্নিং ও ডিপ লার্নিং

মেশিন লার্নিং (Machine Learning):
* কম্পিউটারকে সরাসরি প্রোগ্রাম না করে ডেটা থেকে শেখানো।
* উদাহরণ: স্প্যাম ইমেইল ফিল্টার করা।

ডিপ লার্নিং ও নিউরাল নেটওয়ার্ক:
* মানুষের মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্র বা নিউরনের আদলে তৈরি।
* অনেকগুলো লেয়ার (Layer) ব্যবহার করে জটিল তথ্য বিশ্লেষণ করে।
* উদাহরণ: ফেস রিকগনিশন (Face Recognition)।

মেশিন লার্নিং ব্যাপারটা খুব মজার। ধরো, তুমি কম্পিউটারকে হাজার হাজার বিড়ালের ছবি দেখালে। কম্পিউটার সেই ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে শিখে নিল বিড়াল দেখতে কেমন। এরপর নতুন কোনো বিড়ালের ছবি দিলে সে বলে দিতে পারবে এটা বিড়াল। এটাই মেশিন লার্নিং। আর ডিপ লার্নিং হলো এর আরও গভীর রূপ, যেখানে 'আর্টিফিশিয়াল নিউরাল নেটওয়ার্ক' ব্যবহার করা হয়। আমাদের মস্তিষ্কে যেমন নিউরন তথ্য আদান-প্রদান করে, এখানেও তেমনি কৃত্রিম নিউরনের অনেকগুলো স্তর বা লেয়ার থাকে। ফেসলক খোলার সময় যে প্রযুক্তি কাজ করে, তা মূলত এই ডিপ লার্নিং।

এক্সপার্ট সিস্টেম (Expert System)

সংজ্ঞা:
এক্সপার্ট সিস্টেম হলো এমন একটি কম্পিউটার সিস্টেম যা নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে মানুষের মতোই দক্ষ বা বিশেষজ্ঞের মতো সিদ্ধান্ত দিতে পারে।

বৈশিষ্ট্য:
* এটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে (যেমন: চিকিৎসা, মহাকাশ বিজ্ঞান) কাজ করে।
* এতে প্রচুর তথ্য বা জ্ঞান জমা থাকে।
* এটি 'যদি-তবে' (If-Then) রুল ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত নেয়।

তোমাদের সিলেবাসের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক হলো 'এক্সপার্ট সিস্টেম'। নাম শুনেই বুঝতে পারছ, এটা এমন একটা সিস্টেম যা কোনো একটা বিষয়ে 'এক্সপার্ট' বা বিশেষজ্ঞ। যেমন ধরো, একজন ডাক্তার তার জ্ঞান দিয়ে যেভাবে রোগ নির্ণয় করেন, এক্সপার্ট সিস্টেমও ঠিক সেভাবে তার মধ্যে জমানো জ্ঞান ব্যবহার করে রোগ নির্ণয় করতে পারে। অর্থাৎ, এটি কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে মানুষের মতোই বা তার চেয়েও নিখুঁত পরামর্শ দিতে পারে।

এক্সপার্ট সিস্টেমের উপাদান

একটি এক্সপার্ট সিস্টেম কীভাবে কাজ করে? এর মূলত তিনটি প্রধান অংশ থাকে। ১. ইউজার ইন্টারফেস—যার মাধ্যমে তুমি প্রশ্ন করবে। ২. নলেজ বেস—এটা হলো বিশাল একটা লাইব্রেরির মতো, যেখানে সব তথ্য জমা থাকে। এবং ৩. ইনফারেন্স ইঞ্জিন—এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ইনফারেন্স ইঞ্জিন হলো সেই লাইব্রেরিয়ান বা বুদ্ধিমান অংশ, যে তোমার প্রশ্ন শুনে লাইব্রেরি (নলেজ বেস) থেকে সঠিক তথ্যটা খুঁজে বের করে সিদ্ধান্ত দেয়। পরীক্ষায় এই তিনটি অংশের নাম মনে রাখা খুব জরুরি।

এক্সপার্ট সিস্টেমের উদাহরণ

উদাহরণ:
* MYCIN: ব্যাক্টেরিয়া জনিত রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।
* DENDRAL: রাসায়নিক বিশ্লেষণ বা কেমিক্যাল অ্যানালাইসিসে ব্যবহৃত হয়।
* Deep Blue: দাবা খেলার কম্পিউটার।

ব্যবহার ক্ষেত্র:
* চিকিৎসাবিজ্ঞান (রোগ নির্ণয়)
* মহাকাশ গবেষণা
* শিল্প কারখানায় ত্রুটি নির্ণয়

এক্সপার্ট সিস্টেম কোথায় ব্যবহার হয়? সবচেয়ে বিখ্যাত উদাহরণ হলো 'মাইসিন' (MYCIN)। এটি সত্তর দশকে তৈরি হয়েছিল রক্তে ব্যাক্টেরিয়া জনিত রোগ নির্ণয় করার জন্য। ডাক্তারদের মতোই এটি অ্যান্টিবায়োটিক সাজেস্ট করতে পারত। এছাড়া 'ডেনড্রাল' (DENDRAL) রসায়ন গবেষণায় ব্যবহৃত হয়। আর দাবা খেলার 'ডিপ ব্লু' কম্পিউটারের নাম তো তোমরা শুনেছ, যে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন গ্যারি কাসপারভকে হারিয়েছিল—সেটিও এক ধরণের এক্সপার্ট সিস্টেম।

আধুনিক এআই ও জেনারেটিভ এআই

বর্তমান যুগের বিপ্লব:
* জেনারেটিভ এআই (Generative AI): নতুন টেক্সট, ছবি বা অডিও তৈরি করতে পারে।
* উদাহরণ: ChatGPT, Gemini, Claude।

লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (LLM):
* বিশাল পরিমাণ টেক্সট ডেটা থেকে শিখে মানুষের মতো ভাষায় কথা বলার প্রযুক্তি।
* ব্যবহার: কন্টেন্ট লেখা, কোডিং, কাস্টমার সার্ভিস, ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট।

এবার আসি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ে—জেনারেটিভ এআই। তোমরা নিশ্চয়ই ChatGPT বা Gemini এর নাম শুনেছ। এগুলোকে বলা হয় লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা LLM। এরা ইন্টারনেটের বিশাল তথ্যভাণ্ডার থেকে শিখেছে কীভাবে মানুষের মতো কথা বলতে হয়। আগের AI শুধু তথ্য বিশ্লেষণ করত, কিন্তু এই জেনারেটিভ AI নতুন কবিতা লিখতে পারে, কোড করতে পারে, এমনকি ছবিও আঁকতে পারে। এটা প্রযুক্তির জগতে এক বিশাল বিপ্লব নিয়ে এসেছে।

এআই ব্যবহারের সুবিধা ও অসুবিধা

সুবিধা
  • কাজের গতি ও নির্ভুলতা বৃদ্ধি।
  • ঝুঁকিপূর্ণ কাজে (যেমন: মাইন অপসারণ) রোবট ব্যবহার।
  • চিকিৎসা ও গবেষণায় নতুন দিগন্ত।
  • ২৪/৭ সেবা প্রদান।

প্রতিটি প্রযুক্তিরই ভালো ও মন্দ দিক থাকে। AI-এর সুবিধা হলো এটি আমাদের জীবনকে অনেক সহজ ও দ্রুত করে দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজ, যেমন বোম ডিসপোজাল বা মহাকাশে যাওয়া—মানুষের বদলে এখন রোবট করছে। কিন্তু এর অসুবিধাও আছে। অনেক মানুষের কাজ এখন যন্ত্র করে দিচ্ছে, ফলে বেকারত্বের ভয় বাড়ছে। এছাড়া আমাদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা এবং AI-এর ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি নিয়েও আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

সারসংক্ষেপ

১। জন ম্যাকার্থি AI এর জনক।
২। ন্যারো, জেনারেল ও সুপার—এই তিন ধরণের AI হয়।
৩। এক্সপার্ট সিস্টেমের তিনটি অংশ: ইউজার ইন্টারফেস, নলেজ বেস, ইনফারেন্স ইঞ্জিন।
৪। মেশিন লার্নিং ও ডিপ লার্নিং হলো AI এর মূল প্রযুক্তি।
৫। আধুনিক বিশ্বে ChatGPT-এর মতো জেনারেটিভ এআই-এর ব্যবহার।

চলো আজকের পুরো ক্লাসটা একটু ঝালাই করে নিই। আমরা জানলাম, জন ম্যাকার্থি হলেন AI-এর জনক। আমরা দেখলাম AI তিন ধরণের হতে পারে। এক্সপার্ট সিস্টেমের তিনটি অংশের নাম আমরা শিখেছি—নলেজ বেস, ইনফারেন্স ইঞ্জিন ও ইউজার ইন্টারফেস। আর সবশেষে আমরা আধুনিক জেনারেটিভ এআই নিয়ে কথা বললাম। আশা করি আজকের ক্লাস থেকে তোমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছ। এই টপিকটি কিন্তু খুবই মজার এবং ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেখা হবে পরের ক্লাসে, নতুন কোনো টপিক নিয়ে। ধন্যবাদ সবাইকে!

লেকচার ৪: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) - বিস্তারিত পাঠ ও পরীক্ষার প্রস্তুতি

পড়তে প্রায় 25 মিনিট

লেকচারে আমরা ইউটিউবের ভিডিও সাজেশন বা চ্যাটজিপিটির উদাহরণ দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রাথমিক ধারণা পেয়েছি। দৈনন্দিন জীবনে আমরা অজান্তেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নানা প্রয়োগ ব্যবহার করছি—স্মার্টফোনের ফেস আনলক থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ার নিউজ ফিড পর্যন্ত। এই পাঠে আমরা সেই ধারণাগুলোকে পরীক্ষার খাতার উপযোগী করে সাজাব। এখানে এআই-এর তাত্ত্বিক সংজ্ঞা, ইতিহাস, প্রকারভেদ এবং এক্সপার্ট সিস্টেমের গঠন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে, যা সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর প্রদানে এবং এমসিকিউ (MCQ) সঠিক উত্তর নির্বাচনে সহায়ক হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: সংজ্ঞা ও ইতিহাস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) হলো কম্পিউটার বিজ্ঞানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখা। সহজ কথায়, মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তাশক্তিকে যখন কৃত্রিম উপায়ে কোনো যন্ত্র বা কম্পিউটারের মধ্যে সিমুলেট (Simulate) করা হয়, তখন তাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলে।

সংজ্ঞা (Definition): কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) হলো কম্পিউটার বিজ্ঞানের একটি শাখা, যেখানে মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তাশক্তিকে কম্পিউটার বা যন্ত্রের মাধ্যমে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অর্থাৎ, মানুষের মতো চিন্তা করা, সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা সম্পন্ন যন্ত্র তৈরি করাই হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মূল লক্ষ্য।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিহাস ও মাইলফলক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধারণাটি নতুন নয়। ১৯৫০ সালে বিখ্যাত গণিতবিদ অ্যালান টুরিং (Alan Turing) প্রথম যন্ত্রের চিন্তা করার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং একটি পরীক্ষার প্রস্তাব করেন যা "টুরিং টেস্ট" (Turing Test) নামে পরিচিত।

তবে, "Artificial Intelligence" শব্দটি প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহার করা হয় ১৯৫৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ডার্টমাউথ কলেজে আয়োজিত এক সম্মেলনে। এই সম্মেলনের আয়োজক জন ম্যাকার্থি (John McCarthy) কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনক বলা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (Important for MCQ):
- AI এর জনক: জন ম্যাকার্থি (John McCarthy)।
- AI শব্দটি প্রথম ব্যবহার হয়: ১৯৫৬ সালে।
- টুরিং টেস্ট (১৯৫০): একটি যন্ত্র মানুষের মতো বুদ্ধিমান কি না তা যাচাইয়ের পরীক্ষা।
- ডিপ ব্লু (Deep Blue): আইবিএমের তৈরি সুপার কম্পিউটার যা ১৯৯৭ সালে তৎকালীন বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়ন গ্যারি কাসপারভকে পরাজিত করে।
- সোফিয়া (Sophia): হংকং-এর হ্যানসন রোবোটিক্স কর্তৃক তৈরি মানবাকৃতির রোবট (২০১৭ সালে সৌদি আরবের নাগরিকত্ব পায়)।

মানুষের বুদ্ধিমত্তা বনাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

মানুষের বুদ্ধিমত্তা (Natural Intelligence) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মধ্যে মৌলিক কিছু পার্থক্য রয়েছে। সৃজনশীল প্রশ্নের 'খ' অংশ বা অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য এই পার্থক্যগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তুলনার বিষয় মানুষের বুদ্ধিমত্তা (Natural Intelligence) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence)
প্রকৃতি সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত, প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত। মানুষ কর্তৃক সৃষ্ট, কৃত্রিম।
আবেগ ও অনুভূতি মানুষের নিজস্ব আবেগ, অনুভূতি ও সৃজনশীলতা আছে। যন্ত্রের আবেগ বা অনুভূতি নেই, সৃজনশীলতা প্রোগ্রামের ওপর নির্ভরশীল।
শেখার পদ্ধতি মানুষ অভিজ্ঞতা, ভুল এবং পরিবেশ থেকে শেখে। যন্ত্র ডেটা বা তথ্যের ইনপুট (Training Data) থেকে শেখে।
ক্লান্তি মানুষ দীর্ঘক্ষণ কাজ করলে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। যন্ত্র বা কম্পিউটার ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করতে পারে।
সিদ্ধান্ত গ্রহণ পরিস্থিতি অনুযায়ী যুক্তি ও আবেগ মিশিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। শুধুমাত্র লজিক, অ্যালগরিদম এবং পূর্বনির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়।

পরীক্ষার টিপস (Exam Tip): পার্থক্য লেখার সময় অবশ্যই বাম পাশের কলামে 'তুলনার বিষয়' বা 'পার্থক্যের ভিত্তি' উল্লেখ করবে। এতে পরীক্ষক সহজেই বুঝতে পারেন এবং পূর্ণ নম্বর পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রকারভেদ ও প্রধান ক্ষেত্রসমূহ

ক্ষমতা ও কার্যকারিতার ওপর ভিত্তি করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়:

  1. কৃত্রিম সংকীর্ণ বুদ্ধিমত্তা (Artificial Narrow Intelligence - ANI): এটি নির্দিষ্ট একটি কাজ করতে পারে। যেমন: অ্যাপলের সিরি (Siri), গুগলের সার্চ ইঞ্জিন বা দাবা খেলার সফটওয়্যার। বর্তমানে আমরা যেসব AI দেখি তার সবই এই ক্যাটাগরির।
  2. কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা (Artificial General Intelligence - AGI): এটি মানুষের মতোই যেকোনো বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ করতে সক্ষম হবে। এটি এখনো গবেষণার পর্যায়ে আছে।
  3. কৃত্রিম সুপার বুদ্ধিমত্তা (Artificial Super Intelligence - ASI): এটি মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যাবে এবং মানুষের চেয়েও অনেক গুণ বেশি শক্তিশালী হবে। এটিও এখন পর্যন্ত তাত্ত্বিক ধারণা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রধান শাখাসমূহ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি বিশাল ক্ষেত্র। এর অধীনে মেশিন লার্নিং, ডিপ লার্নিং ইত্যাদি কাজ করে। নিচের চিত্রটি লক্ষ্য করো:

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শ্রেণিবিন্যাস

গুরুত্বপূর্ণ শাখা:
- মেশিন লার্নিং (Machine Learning): কম্পিউটারকে স্পষ্টভাবে প্রোগ্রাম না করে ডেটা থেকে শেখার সক্ষমতা তৈরি করা। অর্থাৎ, অ্যালগরিদম ব্যবহার করে কম্পিউটার নিজেই ডেটা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেয়।
- ডিপ লার্নিং (Deep Learning): মেশিন লার্নিংয়ের একটি বিশেষ শাখা যা মানুষের মস্তিষ্কের নিউরনের মতো কাজ করে (Artificial Neural Network ব্যবহার করে)।
- ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং (NLP): মানুষের স্বাভাবিক ভাষা বোঝা, বলা ও লেখা। যেমন: Google Translate, Chatbots।
- ভিশন সিস্টেম (Vision System): ছবি বা ভিডিও বিশ্লেষণ করে তথ্য বের করা। যেমন: ফেস আনলক, ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার।

এক্সপার্ট সিস্টেম (Expert System): গঠন ও কার্যপ্রণালী

সৃজনশীল প্রশ্নের জন্য এক্সপার্ট সিস্টেম একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টপিক।

সংজ্ঞা (Definition): এক্সপার্ট সিস্টেম হলো এমন একটি কম্পিউটার সিস্টেম যা নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে মানুষের মতোই দক্ষ বা বিশেষজ্ঞের মতো সিদ্ধান্ত দিতে পারে এবং জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারে।

সহজ কথায়, একজন ডাক্তার যেমন তার অর্জিত জ্ঞান দিয়ে রোগীর রোগ নির্ণয় করেন, তেমনি একটি এক্সপার্ট সিস্টেম তার মধ্যে সংরক্ষিত তথ্য ব্যবহার করে সমস্যার সমাধান দেয়।

এক্সপার্ট সিস্টেমের উপাদানসমূহ

একটি এক্সপার্ট সিস্টেম প্রধানত তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত:

এক্সপার্ট সিস্টেমের ব্লক ডায়াগ্রাম

  1. নলেজ বেস (Knowledge Base): এটি এক্সপার্ট সিস্টেমের ভাণ্ডার। এখানে নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রচুর তথ্য (Facts) এবং নিয়মাবলি (Rules) জমা থাকে। এই তথ্যগুলো মানব বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়।
  2. ইনফারেন্স ইঞ্জিন (Inference Engine): এটি নলেজ বেস থেকে তথ্য নিয়ে যুক্তি (Logic) প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। একে সিস্টেমের 'মস্তিষ্ক' বা 'প্রসেসিং ইউনিট' বলা হয়। এটি ব্যবহারকারীর প্রশ্নের সাথে নলেজ বেসের তথ্যের মিল খুঁজে বের করে।
  3. ইউজার ইন্টারফেস (User Interface): যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী সিস্টেমের সাথে যোগাযোগ করে। ব্যবহারকারী এখানে তার সমস্যা বা প্রশ্ন ইনপুট দেয় এবং সিস্টেম তার সমাধান প্রদর্শন করে।

উদাহরণ (Example):
- MYCIN: ব্যাকটেরিয়াজনিত ও রক্তের রোগ নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত বিশ্বের প্রথম দিকের এক্সপার্ট সিস্টেম।
- DENDRAL: রাসায়নিক বিশ্লেষণ এবং মলিকিউলার গঠন নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়।

আধুনিক এআই ও ব্যবহারিক প্রয়োগ

বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ব্যাপক। সৃজনশীল প্রশ্নের 'গ' বা 'ঘ' অংশে প্রায়ই উদ্দীপক থেকে প্রযুক্তি শনাক্ত করে তার প্রভাব আলোচনা করতে বলা হয়।

ব্যবহারিক ক্ষেত্রসমূহ (Applications):

  • চিকিৎসাক্ষেত্র: রোগ নির্ণয়, নতুন ওষুধ আবিষ্কার এবং রোবোটিক সার্জারিতে AI ব্যবহৃত হচ্ছে। এক্সরে বা এমআরআই রিপোর্ট বিশ্লেষণে এটি চিকিৎসকদের চেয়েও দ্রুত ও নির্ভুল হতে পারে।
  • কৃষি: মাটির গুণাগুণ বিশ্লেষণ, আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং ফসলের রোগ শনাক্তকরণে ড্রোন ও AI প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে।
  • ব্যবসা-বাণিজ্য: শেয়ার বাজার বিশ্লেষণ, কাস্টমার সার্ভিসে চ্যাটবট (Chatbot) ব্যবহার এবং ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী পণ্য সাজেশন দেওয়া।
  • পরিবহন: চালকবিহীন গাড়ি (Self-driving cars) বা অটোপাইলট সিস্টেমে AI ব্যবহার করা হয়। ট্রাফিক জ্যাম নিয়ন্ত্রণেও এটি ভূমিকা রাখছে।
  • নিরাপত্তা: অপরাধী শনাক্তকরণে ফেস রিকগনিশন (Face Recognition) প্রযুক্তি এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক প্রভাব

AI ব্যবহারের কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। যেমন:
- বেকারত্ব: অটোমেশনের কারণে অনেক মানুষের কাজ যন্ত্র দখল করে নিচ্ছে।
- প্রাইভেসি: ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
- বায়াস (Bias): ভুল ডেটা দিয়ে শেখানো হলে AI ভুল বা পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত দিতে পারে।

সংক্ষিপ্ত সারাংশ (Quick Revision)

রিভিশন পয়েন্ট:
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো যন্ত্রের চিন্তা করার ক্ষমতা।
- ১৯৫৬ সালে জন ম্যাকার্থি এই প্রযুক্তির নামকরণ করেন এবং তাকে AI-এর জনক বলা হয়।
- এক্সপার্ট সিস্টেমের মূল অংশ তিনটি: নলেজ বেস (তথ্যভাণ্ডার), ইনফারেন্স ইঞ্জিন (যুক্তি প্রয়োগকারী) এবং ইউজার ইন্টারফেস (যোগাযোগ মাধ্যম)।
- মেশিন লার্নিং হলো ডেটা থেকে শেখার পদ্ধতি, আর ডিপ লার্নিং হলো নিউরাল নেটওয়ার্কের ব্যবহার।
- সৃজনশীল প্রশ্নে 'যন্ত্রের সিদ্ধান্ত নেওয়া', 'মানুষের মতো আচরণ' বা 'বিশেষজ্ঞের মতো পরামর্শ' উল্লেখ থাকলে তা নিঃসন্দেহে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এক্সপার্ট সিস্টেম নির্দেশ করে।

পরিভাষা (Glossary)

শব্দ (Term) সংজ্ঞা (Definition)
Artificial Intelligence (AI) মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তাশক্তিকে যন্ত্রের মাধ্যমে রূপ দেওয়ার প্রযুক্তি।
Turing Test যন্ত্রের বুদ্ধিমত্তা পরিমাপের জন্য অ্যালান টুরিং প্রবর্তিত একটি পরীক্ষা।
Expert System সুনির্দিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞের মতো সিদ্ধান্ত দিতে সক্ষম কম্পিউটার সিস্টেম।
Machine Learning (ML) অ্যালগরিদম ব্যবহার করে কম্পিউটারকে ডেটা থেকে শেখার ক্ষমতা প্রদান।
NLP (Natural Language Processing) মানুষের স্বাভাবিক ভাষা বোঝা ও প্রক্রিয়াকরণের প্রযুক্তি।
Robotics রোবট বা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের নকশা ও তৈরির বিজ্ঞান (এটি AI এর একটি প্রয়োগ ক্ষেত্র)।

অনুশীলনের প্রশ্ন

সৃজনশীল প্রশ্ন

সৃজনশীল প্রশ্ন ১

সম্প্রতি একটি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এমন একটি গাড়ি বাজারে এনেছে যা চালক ছাড়াই রাস্তায় চলতে পারে। গাড়িটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ট্রাফিক জ্যাম ও রাস্তার অবস্থা বুঝে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। অন্যদিকে, একটি হাসপাতালে এমন একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম ব্যবহার করা হচ্ছে যা এক্সপার্টদের মতো জ্ঞান ব্যবহার করে রোগীর রোগ নির্ণয় ও ঔষধের পরামর্শ দিতে পারে।

ক) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কী?
খ) এক্সপার্ট সিস্টেম কীভাবে কাজ করে? ব্যাখ্যা কর।
গ) উদ্দীপকের গাড়িটি তৈরিতে আইসিটির কোন প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ) "উদ্দীপকের হাসপাতালটিতে ব্যবহৃত প্রোগ্রামটি চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে?"—বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

(ক) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) হলো কম্পিউটার বিজ্ঞানের একটি শাখা, যেখানে মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তাশক্তিকে কম্পিউটার বা যন্ত্রের মাধ্যমে কৃত্রিম উপায়ে বাস্তবায়ন করা হয়।

(খ) এক্সপার্ট সিস্টেম হলো এমন একটি কম্পিউটার সিস্টেম যা নির্দিষ্ট বিষয়ে মানুষের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এটি মূলত দুটি প্রধান অংশের সমন্বয়ে কাজ করে: নলেজ বেস (Knowledge Base), যেখানে প্রচুর তথ্য ও নিয়ম জমা থাকে, এবং ইনফারেন্স ইঞ্জিন (Inference Engine), যা সেই তথ্য ব্যবহার করে নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান বা সিদ্ধান্ত প্রদান করে।

(গ) উদ্দীপকের গাড়িটি তৈরিতে রোবোটিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে।
রোবোটিক্স হলো প্রযুক্তির সেই শাখা যা রোবটের ডিজাইন, নির্মাণ ও ব্যবহার নিয়ে কাজ করে। উদ্দীপকের গাড়িটি একটি স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র বা রোবট যা মানুষের সাহায্য ছাড়াই কাজ করতে পারে। এতে বিভিন্ন ধরণের সেন্সর (যেমন ক্যামেরা, রাডার, লাইডার) ব্যবহার করা হয়েছে যা পরিবেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণ, ব্রেক করা বা গতি বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্ত নেয়। অর্থাৎ, এটি একটি স্মার্ট বা স্বয়ংচালিত গাড়ি (Autonomous Vehicle) যা রোবোটিক্স ও এআই-এর সমন্বিত রূপ।

(ঘ) উদ্দীপকের হাসপাতালটিতে ব্যবহৃত প্রোগ্রামটি একটি এক্সপার্ট সিস্টেম। চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রথমত, এটি দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয়ে সহায়তা করে। অনেক সময় জটিল রোগের লক্ষণগুলো বিশ্লেষণ করা মানুষের পক্ষে সময়সাপেক্ষ হয়, কিন্তু এক্সপার্ট সিস্টেম বিশাল ডেটাবেস থেকে মুহূর্তের মধ্যে লক্ষণের সাথে রোগের মিল খুঁজে বের করতে পারে।
দ্বিতীয়ত, এটি চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতেও প্রাথমিক চিকিৎসা বা পরামর্শ দিতে সক্ষম। গ্রামাঞ্চল বা দুর্গম এলাকায় যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই, সেখানে এই সিস্টেম ব্যবহার করে উন্নত সেবা প্রদান সম্ভব।
তৃতীয়ত, এটি চিকিৎসকদের সহায়ক হিসেবে কাজ করে ভুলের সম্ভাবনা কমায়। তবে, এটি মানুষের বিকল্প নয় বরং সহায়ক প্রযুক্তি। মানবিক আবেগ বা জটিল পরিস্থিতিতে নৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এর নেই।
পরিশেষে বলা যায়, এক্সপার্ট সিস্টেম চিকিৎসকের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, সহজলভ্য ও নির্ভুল করে তুলতে পারে।


সৃজনশীল প্রশ্ন ২

মি. রহমান তার অফিসে এমন একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করলেন যেখানে কর্মীদের কোনো চাবি বা কার্ড ব্যবহার করতে হয় না; দরজার সামনে দাঁড়ালেই ক্যামেরা তাদের মুখমণ্ডল স্ক্যান করে দরজা খুলে দেয়। এছাড়া অফিসের সার্ভারটি প্রতিদিনের কাজের ডাটা বিশ্লেষণ করে নিজে থেকেই শিখছে এবং কর্মীদের কাজের প্যাটার্ন বুঝে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রুটিন তৈরি করে দিচ্ছে।

ক) মেশিন লার্নিং কী?
খ) নিউরাল নেটওয়ার্ক বলতে কী বোঝ?
গ) মি. রহমানের অফিসের দরজায় ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি আইসিটির কোন ক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা কর।
ঘ) উদ্দীপকের সার্ভারটির কাজের ধরণ ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে কী ধরণের প্রভাব ফেলবে বলে তুমি মনে কর? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

(ক) মেশিন লার্নিং হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একটি শাখা, যেখানে কম্পিউটারকে স্পষ্টভাবে প্রোগ্রাম না করেই ডেটা থেকে শেখার এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়।

(খ) নিউরাল নেটওয়ার্ক বা আর্টিফিশিয়াল নিউরাল নেটওয়ার্ক (ANN) হলো মানুষের মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রের আদলে তৈরি এক ধরণের কম্পিউটার মডেল। মানুষের মস্তিষ্ক যেমন নিউরনের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান ও বিশ্লেষণ করে, নিউরাল নেটওয়ার্কও তেমনি অনেকগুলো নোড বা কৃত্রিম নিউরনের মাধ্যমে স্তরে স্তরে সজ্জিত থাকে। এটি প্যাটার্ন রিকগনিশন এবং জটিল ডেটা বিশ্লেষণে অত্যন্ত কার্যকরী।

(গ) মি. রহমানের অফিসের দরজায় ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো বায়োমেট্রিক্স, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার একটি প্রয়োগ।
নির্দিষ্টভাবে এটি ফেস রিকগনিশন (Face Recognition) সিস্টেম। বায়োমেট্রিক্স হলো এমন একটি প্রযুক্তি যা মানুষের শারীরিক বা আচরণগত বৈশিষ্ট্য (যেমন আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিস, মুখমণ্ডল) বিশ্লেষণ করে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্ত করতে পারে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, দরজার সামনে দাঁড়ালেই ক্যামেরা মুখমণ্ডল স্ক্যান করে দরজা খুলে দেয়। এখানে এআই অ্যালগরিদম ব্যবহার করে ক্যামেরায় ধারণকৃত ছবির সাথে ডাটাবেসে সংরক্ষিত ছবির মিল খোঁজা হয়। এটি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য কারণ চাবি বা কার্ডের মতো এটি হারিয়ে যাওয়ার বা চুরি হওয়ার ভয় নেই।

(ঘ) উদ্দীপকের সার্ভারটির কাজের ধরণ মেশিন লার্নিংডিপ লার্নিং প্রযুক্তির ইঙ্গিত দেয়, যা ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।
ইতিবাচক প্রভাব হিসেবে, এটি কর্মদক্ষতা ও গতি বাড়াবে। সার্ভারটি যেমন স্বয়ংক্রিয়ভাবে রুটিন তৈরি করছে, তেমনি ভবিষ্যতে অনেক রুটিন কাজ (যেমন ডাটা এন্ট্রি, শিডিউলিং) এআই দ্বারা সম্পন্ন হবে, ফলে মানুষ সৃজনশীল ও জটিল সমস্যা সমাধানে বেশি সময় দিতে পারবে। এটি ভুলের পরিমাণ কমাবে এবং প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করবে।
নেতিবাচক প্রভাব বা চ্যালেঞ্জ হিসেবে, এটি গতানুগতিক অনেক চাকরির সুযোগ কমিয়ে দিতে পারে। যারা কেবল রুটিন কাজ করেন, তাদের কাজ এআই দখল করে নিতে পারে। এছাড়া কর্মীদের সার্বক্ষণিক তদারকির ফলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
উপসংহারে বলা যায়, এই প্রযুক্তি কর্মক্ষেত্রের ধরণ পাল্টে দেবে। টিকে থাকার জন্য কর্মীদের নতুন প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং মানুষের সাথে যন্ত্রের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

এমসিকিউ

১। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) শব্দটি সর্বপ্রথম কে প্রবর্তন করেন?

ক) অ্যালান টুরিং
খ) জন ম্যাকার্থি
গ) চার্লস ব্যাবেজ
ঘ) বিল গেটস

সঠিক উত্তর: খ) জন ম্যাকার্থি

ব্যাখ্যা: ১৯৫৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ডার্টমাউথ কলেজে আয়োজিত এক কনফারেন্সে জন ম্যাকার্থি সর্বপ্রথম 'Artificial Intelligence' শব্দটি ব্যবহার করেন। তাই তাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনক বলা হয়।


২। মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তাশক্তিকে কম্পিউটার বা যন্ত্রের মাধ্যমে রূপ দেওয়ার প্রযুক্তিকে কী বলে?

ক) ন্যানোটেকনোলজি
খ) বায়োইনফরমেটিক্স
গ) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
ঘ) ভার্চুয়াল রিয়েলিটি

সঠিক উত্তর: গ) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

ব্যাখ্যা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো কম্পিউটার বিজ্ঞানের একটি শাখা, যেখানে মানুষের মতো চিন্তাভাবনা করার ক্ষমতা সম্পন্ন কম্পিউটার প্রোগ্রাম বা মেশিন তৈরি করা হয়।


৩। টুরিং টেস্ট (Turing Test) কীসের জন্য ব্যবহৃত হয়?

ক) কম্পিউটারের গতি পরিমাপ করতে
খ) যন্ত্রের বুদ্ধিমত্তা যাচাই করতে
গ) ইন্টারনেট স্পিড টেস্ট করতে
ঘ) রোবটের শক্তি পরীক্ষা করতে

সঠিক উত্তর: খ) যন্ত্রের বুদ্ধিমত্তা যাচাই করতে

ব্যাখ্যা: ১৯৫০ সালে অ্যালান টুরিং এই টেস্ট প্রবর্তন করেন। এটি একটি যন্ত্র বা কম্পিউটার মানুষের মতো চিন্তা করতে পারে কি না তা যাচাই করার একটি পদ্ধতি।


৪। এক্সপার্ট সিস্টেমের (Expert System) প্রধান দুটি অংশ কী কী?

ক) ইনপুট ও আউটপুট
খ) হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার
গ) নলেজ বেস ও ইনফারেন্স ইঞ্জিন
ঘ) সেন্সর ও অ্যাকচুয়েটর

সঠিক উত্তর: গ) নলেজ বেস ও ইনফারেন্স ইঞ্জিন

ব্যাখ্যা: এক্সপার্ট সিস্টেমের দুটি প্রধান অংশ হলো: নলেজ বেস (যেখানে তথ্য ও নিয়ম জমা থাকে) এবং ইনফারেন্স ইঞ্জিন (যা নলেজ বেস ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত নেয়)।


৫। কোনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ ক্ষেত্র নয়?

ক) এক্সপার্ট সিস্টেম
খ) ফাজি লজিক
গ) এমএস ওয়ার্ড (MS Word)
ঘ) নিউরাল নেটওয়ার্ক

সঠিক উত্তর: গ) এমএস ওয়ার্ড (MS Word)

ব্যাখ্যা: এমএস ওয়ার্ড একটি ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যার, এতে নিজস্ব কোনো বুদ্ধিমত্তা নেই। বাকিগুলো এআই-এর অংশ।


৬। রোবট (Robot) শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?

ক) গ্রিক
খ) ল্যাটিন
গ) চেক (Czech)
ঘ) স্প্যানিশ

সঠিক উত্তর: গ) চেক (Czech)

ব্যাখ্যা: চেক শব্দ 'Robota' থেকে রোবট শব্দটি এসেছে, যার অর্থ হলো বাধ্যতামূলক শ্রম বা দাস। ১৯২০ সালে নাট্যকার ক্যারেল ক্যাপেক এটি প্রথম ব্যবহার করেন।


৭। রোবটের হাত বা পা নড়াচড়া করার জন্য কোনটি ব্যবহৃত হয়?

ক) সেন্সর (Sensor)
খ) অ্যাকচুয়েটর (Actuator)
গ) প্রসেসর (Processor)
ঘ) ক্যামেরা (Camera)

সঠিক উত্তর: খ) অ্যাকচুয়েটর (Actuator)

ব্যাখ্যা: অ্যাকচুয়েটর হলো এক ধরণের মোটর বা যান্ত্রিক ব্যবস্থা যা রোবটের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নড়াচড়া করতে সাহায্য করে, অনেকটা মানুষের পেশির মতো।


৮। নিচের কোনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা?

ক) HTML
খ) LISP
গ) CSS
ঘ) SQL

সঠিক উত্তর: খ) LISP

ব্যাখ্যা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষণায় LISP (List Processing) এবং PROLOG (Programming in Logic) ভাষাগুলো বহুল ব্যবহৃত হয়।


৯। মানুষের মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রের আদলে তৈরি কম্পিউটার মডেলকে কী বলে?

ক) এক্সপার্ট সিস্টেম
খ) নিউরাল নেটওয়ার্ক
গ) ফাজি লজিক
ঘ) জেনেটিক অ্যালগরিদম

সঠিক উত্তর: খ) নিউরাল নেটওয়ার্ক

ব্যাখ্যা: আর্টিফিশিয়াল নিউরাল নেটওয়ার্ক (ANN) মানুষের মস্তিষ্কের নিউরনের গঠন ও কাজের ধরণ অনুসরণ করে তৈরি করা হয়, যা প্যাটার্ন রিকগনিশন ও মেশিন লার্নিংয়ে ব্যবহৃত হয়।


১০। ফাজি লজিক (Fuzzy Logic) এর প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?

ক) শুধুমাত্র ০ এবং ১ নিয়ে কাজ করে
খ) সত্য ও মিখ্যার মাঝামাঝি মান নিয়ে কাজ করে
গ) এটি সর্বদা নির্ভুল ফলাফল দেয়
ঘ) এটি কোনো লজিক মানে না

সঠিক উত্তর: খ) সত্য ও মিখ্যার মাঝামাঝি মান নিয়ে কাজ করে

ব্যাখ্যা: সাধারণ লজিক যেখানে শুধু সত্য (১) বা মিথ্যা (০) বোঝে, ফাজি লজিক সেখানে আংশিক সত্য বা আংশিক মিথ্যা (যেমন: একটু গরম, খুব ঠান্ডা) নিয়ে কাজ করতে পারে।


১১। ডিপ ব্লু (Deep Blue) কম্পিউটারটি কোন খেলার জন্য বিখ্যাত?

ক) ক্রিকেট
খ) দাবা
গ) ফুটবল
ঘ) লুডু

সঠিক উত্তর: খ) দাবা

ব্যাখ্যা: আইবিএম-এর তৈরি সুপারকম্পিউটার 'ডিপ ব্লু' ১৯৯৭ সালে বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়ন গ্যারি কাসপারভকে হারিয়েছিল। এটি এআই-এর একটি বড় সাফল্য।


১২। নলেজ বেস (Knowledge Base) থাকে কোন সিস্টেমে?

ক) অপারেটিং সিস্টেম
খ) এক্সপার্ট সিস্টেম
গ) ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম
ঘ) স্প্রেডশিট

সঠিক উত্তর: খ) এক্সপার্ট সিস্টেম

ব্যাখ্যা: এক্সপার্ট সিস্টেমের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো নলেজ বেস, যেখানে বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ জ্ঞান সংরক্ষিত থাকে।


১৩। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনক জন ম্যাকার্থি কোন সালে 'AI' শব্দটি প্রবর্তন করেন?

ক) ১৯৫০
খ) ১৯৫৬
গ) ১৯৬০
ঘ) ১৯৭১

সঠিক উত্তর: খ) ১৯৫৬

ব্যাখ্যা: ১৯৫৬ সালে ডার্টমাউথ কনফারেন্সে জন ম্যাকার্থি সর্বপ্রথম এই শব্দটি ব্যবহার করেন।


১৪। রোবট পরিবেশ থেকে তথ্য গ্রহণ করে কিসের মাধ্যমে?

ক) অ্যাকচুয়েটর
খ) সেন্সর
গ) পাওয়ার সাপ্লাই
ঘ) চাকা

সঠিক উত্তর: খ) সেন্সর

ব্যাখ্যা: সেন্সর হলো রোবটের ইন্দ্রিয় (চোখ, কান ইত্যাদি), যার মাধ্যমে এটি আলো, শব্দ, তাপমাত্রা বা স্পর্শ অনুভব করে পরিবেশের তথ্য সংগ্রহ করে।


১৫। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দেখা যায়—
i. গুগল ম্যাপে ট্রাফিক প্রেডিকশনে
ii. স্মার্টফোনের ফেস আনলক সিস্টেমে
iii. সাধারণ ক্যালকুলেটরে

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ক) i ও ii

ব্যাখ্যা: গুগল ম্যাপ ও ফেস আনলক সিস্টেমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা মেশিন লার্নিং ব্যবহৃত হয়। সাধারণ ক্যালকুলেটরে এআই নেই, এটি নির্দিষ্ট গাণিতিক লজিক মেনে চলে।


১৬। এক্সপার্ট সিস্টেমের ব্যবহারের ক্ষেত্র কোনটি?
i. রোগ নির্ণয়
ii. খনিজ পদার্থ অনুসন্ধান
iii. জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধান

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ঘ) i, ii ও iii

ব্যাখ্যা: এক্সপার্ট সিস্টেম চিকিৎসা (যেমন MYCIN), ভূতত্ত্ব (যেমন Prospector) এবং জটিল গাণিতিক সমস্যা সমাধানে (যেমন DENDRAL) ব্যবহৃত হয়।


১৭। রোবটের উপাদান হলো—
i. মুভেবল বডি
ii. ইলেকট্রিক সার্কিট
iii. প্রোগ্রামিং বা মস্তিষ্ক

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ঘ) i, ii ও iii

ব্যাখ্যা: একটি রোবটের প্রধান তিনটি অংশ হলো যান্ত্রিক শরীর (body), বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা (power/circuit) এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা প্রোগ্রাম (brain)।


১৮। মেশিন লার্নিং (Machine Learning) এর ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
i. এটি ডেটা থেকে শেখে
ii. এটি স্পষ্টভাবে প্রোগ্রাম করার প্রয়োজন হয় না
iii. এটি সময়ের সাথে সাথে উন্নত হয়

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ঘ) i, ii ও iii

ব্যাখ্যা: মেশিন লার্নিং হলো এআই-এর একটি শাখা যেখানে কম্পিউটার অ্যালগরিদম ব্যবহার করে ডেটা থেকে নিজে নিজে শেখে এবং অভিজ্ঞতা বাড়ার সাথে সাথে এর কর্মদক্ষতা বাড়ে।


নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ১৯ ও ২০ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
মি. করিম একটি কারখানায় কাজ করেন যেখানে ভারী ভারী যন্ত্রাংশ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়ার কাজ মানুষের পরিবর্তে একটি বিশেষ যন্ত্র করে। যন্ত্রটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এবং ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করতে পারে।

১৯। উদ্দীপকে উল্লিখিত যন্ত্রটি কী?

ক) কম্পিউটার
খ) রোবট
গ) জেনারেটর
ঘ) টারবাইন

সঠিক উত্তর: খ) রোবট

ব্যাখ্যা: উদ্দীপকে বর্ণিত যন্ত্রটি মানুষের বিকল্প হিসেবে ভারী কাজ করছে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলছে, যা ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবটের বৈশিষ্ট্য।


২০। উদ্দীপকের যন্ত্রটির সুবিধা হলো—
i. এটি বিপজ্জনক পরিবেশে কাজ করতে পারে
ii. এটি ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে পারে
iii. এটির নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা মানুষের চেয়ে বেশি

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ক) i ও ii

ব্যাখ্যা: রোবট বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে পারে এবং বিশ্রাম ছাড়াই কাজ চালিয়ে যেতে পারে। তবে রোবটের নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা বা সৃজনশীলতা মানুষের চেয়ে বেশি নয় (সাধারণত)।


নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ২১ ও ২২ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
ডা. জামান তার চেম্বারে এমন একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করেন যেখানে রোগীর লক্ষণগুলো ইনপুট দিলে সেটি সম্ভাব্য রোগের নাম ও চিকিৎসার পরামর্শ দেয়।

২১। ডা. জামান কোন ধরণের প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন?

ক) ভার্চুয়াল রিয়েলিটি
খ) এক্সপার্ট সিস্টেম
গ) ন্যানোটেকনোলজি
ঘ) জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং

সঠিক উত্তর: খ) এক্সপার্ট সিস্টেম

ব্যাখ্যা: চিকিৎসাক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত এআই সফটওয়্যারকে মেডিকেল এক্সপার্ট সিস্টেম বলা হয়।


২২। উদ্দীপকের সফটওয়্যারটিতে থাকে—
i. অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের জ্ঞান
ii. সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা
iii. মানুষের মতো আবেগ

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ক) i ও ii

ব্যাখ্যা: এক্সপার্ট সিস্টেমে মানুষের জ্ঞান (Knowledge base) এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা (Inference engine) থাকে, কিন্তু এতে কোনো মানবিক আবেগ বা অনুভূতি থাকে না।


২৩। কোন প্রযুক্তির মাধ্যমে কম্পিউটার মানুষের ভাষা বুঝতে ও বলতে পারে?

ক) NLP (Natural Language Processing)
খ) DBMS
গ) CAD
ঘ) CAM

সঠিক উত্তর: ক) NLP (Natural Language Processing)

ব্যাখ্যা: ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং (NLP) হলো এআই-এর একটি শাখা যা কম্পিউটারকে মানুষের ভাষা বুঝতে, ব্যাখ্যা করতে এবং তৈরি করতে সাহায্য করে।


২৪। বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতিতে শনাক্তকরণের জন্য কোনটি ব্যবহার করা হয়?

ক) পাসওয়ার্ড
খ) পিন কোড
গ) শারীরিক ও আচরণগত বৈশিষ্ট্য
ঘ) স্মার্ট কার্ড

সঠিক উত্তর: গ) শারীরিক ও আচরণগত বৈশিষ্ট্য

ব্যাখ্যা: বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তিতে আঙুলের ছাপ, চোখের রেটিনা, মুখমণ্ডল, কণ্ঠস্বর বা স্বাক্ষর ইত্যাদি অদ্বিতীয় শারীরিক বা আচরণগত বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করা হয়।


২৫। 'সোফিয়া' (Sophia) রোবটটি কোন দেশের কোম্পানি তৈরি করেছে?

ক) জাপান
খ) হংকং
গ) আমেরিকা
ঘ) চীন

সঠিক উত্তর: খ) হংকং

ব্যাখ্যা: হংকং-ভিত্তিক কোম্পানি 'হ্যানসন রোবোটিক্স' সোফিয়া নামক হিউম্যানয়েড রোবটটি তৈরি করেছে। এটি মানুষের মতো কথা বলতে ও অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে পারে।