সৃজনশীল প্রশ্ন
সৃজনশীল প্রশ্ন ১
উদ্দীপক:
রহিমা বেগম গ্রামের একজন সাধারণ গৃহিণী। আগে তিনি শহরে অধ্যায়নরত তার ছেলেকে টাকা পাঠানোর জন্য অনেক দূরে ব্যাংকে যেতেন। বর্তমানে তিনি বাড়ির পাশের মুদি দোকানে গিয়ে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যেই টাকা পাঠাতে পারেন। অন্যদিকে, তার ছেলে ঢাকা থেকে অনলাইনে তার কলেজের বেতন পরিশোধ করে।
ক) ই-কমার্স কী?
খ) "আইসিটি বেকারত্ব দূর করার পাশাপাশি বেকারত্ব সৃষ্টিও করে"—ব্যাখ্যা কর।
গ) উদ্দীপকে রহিমা বেগমের টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে আইসিটির কোন সেবার প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
(ক) ই-কমার্স বা ইলেকট্রনিক কমার্স হলো ইন্টারনেট বা অন্য কোনো কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে পণ্য বা সেবা ক্রয়-বিক্রয় করার আধুনিক পদ্ধতি।
(খ) আইসিটির প্রসারের ফলে সমাজে একদিকে যেমন নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে কিছু সনাতনী পেশা বিলুপ্ত হওয়ায় বেকারত্বও সৃষ্টি হচ্ছে। যেমন—কম্পিউটার ও রোবটিক্সের ব্যবহারের ফলে কায়িক শ্রমনির্ভর অনেক কাজ এখন যন্ত্রের সাহায্যে দ্রুত করা সম্ভব হচ্ছে, ফলে ওইসব কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়ছে। আবার একই সাথে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ফ্রিল্যান্সিং, ই-কমার্স ইত্যাদি খাতে লাখ লাখ মানুষের নতুন কর্মসংস্থান হচ্ছে। তাই বলা যায়, আইসিটি বেকারত্ব সৃষ্টি ও দূরীকরণ—উভয় ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলে।
(গ) উদ্দীপকে রহিমা বেগমের টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে আইসিটির 'মোবাইল ব্যাংকিং' বা 'ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (EFT)' সেবার প্রতিফলন ঘটেছে।
মোবাইল ব্যাংকিং হলো এমন একটি সেবা, যার মাধ্যমে গ্রাহকরা তাদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আর্থিক লেনদেন করতে পারে। আগে মানুষকে টাকা পাঠানোর জন্য সরাসরি ব্যাংকে বা পোস্ট অফিসে যেতে হতো, যা ছিল সময়সাপেক্ষ এবং কষ্টকর। কিন্তু বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (যেমন: বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি) মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্তে মুহূর্তের মধ্যে নিরাপদে টাকা পাঠানো সম্ভব। উদ্দীপকে রহিমা বেগমও ব্যাংকে যাওয়ার ঝামেলা এড়িয়ে তার বাড়ির পাশের মুদি দোকান থেকে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে তার ছেলের কাছে দ্রুত টাকা পাঠাতে সক্ষম হয়েছেন, যা আইসিটির এই যুগান্তকারী সেবারই একটি বাস্তব উদাহরণ।
(ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন পেমেন্ট প্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রথমত, এটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি (Financial Inclusion) বৃদ্ধি করেছে। আগে গ্রামের সাধারণ মানুষের ব্যাংকিং সেবায় প্রবেশাধিকার ছিল সীমিত। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এখন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও মূল ধারার অর্থনীতির সাথে যুক্ত হয়েছে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ এবং গতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
দ্বিতীয়ত, এই প্রযুক্তি সময় ও যাতায়াত খরচ অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে। উদ্দীপকের রহিমা বেগমের মতো লাখো মানুষকে এখন আর ব্যাংকে গিয়ে সময় নষ্ট করতে হয় ঘন। সেই সময় তারা অন্য উৎপাদনশীল কাজে ব্যয় করতে পারেন। এছাড়া, অনলাইনে ফি পরিশোধের ফলে প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা বাড়ে এবং দুর্নীতি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস পায়।
তৃতীয়ত, মোবাইল ব্যাংকিং এবং অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম দেশের ই-কমার্স খাতকে ত্বরান্বিত করেছে। মানুষ এখন ঘরে বসেই পণ্য কিনে ডিজিটাল পেমেন্ট করতে পারছে, যা ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে আরও প্রসারিত করছে। সার্বিকভাবে, এই ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থা দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত, নিরাপদ এবং আধুনিক করার মাধ্যমে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ২
উদ্দীপক:
জনাব করিম একজন শিক্ষিত কৃষি উদ্যোক্তা। তিনি ইন্টারনেট ব্যবহার করে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন। নিজের উৎপাদিত রাসায়নিকমুক্ত সবজি তিনি সরাসরি একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে রাজধানীর ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন। এতে তার মুনাফা যেমন বেড়েছে, তেমনি ক্রেতারাও পাচ্ছেন সতেজ ও নিরাপদ সবজি।
ক) আউটসোর্সিং কী?
খ) 'পেপারলেস অফিস' বলতে কী বোঝায়?
গ) উদ্দীপকে জনাব করিমের পণ্য বিক্রির প্রক্রিয়াটি সমাজ জীবনে কোন ধরনের পরিবর্তন নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ) "জনাব করিমের মতো উদ্যোক্তারা আইসিটি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে"—বিশ্লেষণ কর।
উত্তর
(ক) আউটসোর্সিং হলো ইন্টারনেট ব্যবহার করে চুক্তির ভিত্তিতে নিজ প্রতিষ্ঠানের কাজ বাইরের কোনো দেশের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে করিয়ে নেওয়ার আধুনিক পদ্ধতি।
(খ) 'পেপারলেস অফিস' হলো এমন একটি ধারণা যেখানে অফিসের যাবতীয় কাজ, নথিপত্র সংরক্ষণ এবং যোগাযোগ কাগজের পরিবর্তে ডিজিটাল মাধ্যমে (যেমন- কম্পিউটার, সার্ভার, ইমেইল) সম্পন্ন করা হয়। এর ফলে ফাইলের স্তূপ কমে যায়, তথ্যের নিরাপত্তা বাড়ে, যেকোনো তথ্য দ্রুত খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয় এবং সর্বোপরি কাগজের ব্যবহার কমার কারণে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
(গ) উদ্দীপকে জনাব করিমের পণ্য বিক্রির প্রক্রিয়াটি সমাজ জীবনে ই-কমার্স বা অনলাইন ব্যবসার ইতিবাচক পরিবর্তন নির্দেশ করে।
ই-কমার্স বলতে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ঘরে বসে পণ্য বেচাকেনাকে বোঝায়। ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা পদ্ধতিতে উৎপাদক থেকে ক্রেতা পর্যন্ত পৌঁছাতে একাধিক মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের প্রয়োজন হতো, ফলে উৎপাদক ন্যায্যমূল্য পেত না এবং ক্রেতাকেও বেশি দামে পণ্য কিনতে হতো। কিন্তু আইসিটির প্রসারের ফলে সমাজ জীবনে এখন সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। উদ্দীপকে জনাব করিম তার ফেসবুক পেজের মাধ্যমে সরাসরি ক্রেতাদের সাথে যুক্ত হয়েছেন। এর ফলে তিনি যেমন মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য থেকে মুক্তি পেয়ে অধিক মুনাফা অর্জন করছেন, তেমনি সমাজের অন্য প্রান্তের মানুষজনও সহজে ঘরে বসে নিরাপদ ও সতেজ সবজি পাচ্ছে। এটি সমাজ জীবনে কেনাকাটা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ধারণায় একটি যুগান্তকারী ডিজিটাল রূপান্তর।
(ঘ) "জনাব করিমের মতো উদ্যোক্তারা আইসিটি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে"—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
বর্তমান যুগে কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রযুক্তি ছাড়া কল্পনা করা কঠিন। জনাব করিম আইসিটি ব্যবহার করে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়েছেন। তিনি ইন্টারনেটের সাহায্যে আধুনিক চাষাবাদ ও আবহাওয়ার তথ্য জেনে ফসলের উৎপাদন বাড়াচ্ছেন এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাচ্ছেন। এটি জাতীয় কৃষি অর্থনীতিতে সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তাছাড়া, তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে শুধু বিনোদনের জন্য ব্যবহার না করে এটিকে ব্যবসার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজে লাগিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি নিজের বেকারত্ব ঘুচিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। যখন জনাব করিমের মতো হাজারো তরুণ উদ্যোক্তা এভাবে ই-কমার্স এবং ই-এগ্রিকালচার ব্যবহার করে নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করবেন, তখন দেশে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। বেকারত্ব হ্রাস পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। মধ্যস্বত্বভোগীদের অপসারণের ফলে উৎপাদকের কাছে সরাসরি অর্থ পৌঁছাবে, যা দেশের সামগ্রিক জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তাই বলা যায়, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে আইসিটি নির্ভর এমন উদ্যোগগুলো অপরিহার্য।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৩
উদ্দীপক:
চিঠিপত্রের ব্যবহার কমে যাওয়ায় ডাকঘরের কর্মচারী শফিক সাহেব চাকরি হারান। তবে তিনি হতাশ না হয়ে একটি আইটি প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রাফিক্স ডিজাইনের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। বর্তমানে তিনি বাড়িতে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিদেশের বিভিন্ন কোম্পানির কাজ করে দিচ্ছেন এবং ভালো আয় করছেন। কাজের চাপ বাড়ায় তিনি এলাকার আরো দুজন বেকার তরুণকে তার সাথে কাজে যুক্ত করেছেন।
ক) ই-গভর্ন্যান্স কী?
খ) গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠায় ইন্টারনেটের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
গ) উদ্দীপকে শফিক সাহেবের বর্তমান পেশাটি আইসিটির কোন ধারণার সাথে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা কর।
ঘ) শফিক সাহেবের মতো তরুণদের উদ্যোগ কীভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে? মূল্যায়ন কর।
উত্তর
(ক) ই-গভর্ন্যান্স বা ইলেকট্রনিক গভর্ন্যান্স হলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবাসমূহ, তথ্য ও নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়া নাগরিকদের দোরগোড়ায় সহজে, দ্রুত ও স্বচ্ছতার সাথে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা।
(খ) গ্লোবাল ভিলেজ বা বিশ্বগ্রাম হলো এমন একটি ধারণা যেখানে সমগ্র বিশ্ব একটি গ্রামের মতো কাজ করে এবং বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষ একে অপরের সাথে সহজে যোগাযোগ ও তথ্যের আদান-প্রদান করতে পারে। এই বিশ্বগ্রাম প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি হলো ইন্টারনেট। ইন্টারনেটের কারণেই আজ মুহূর্তের মধ্যে ইমেইল, ভিডিও কল, বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এক দেশের মানুষ অন্য দেশের মানুষের সাথে যুক্ত হতে পারছে। ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা—সবকিছুই আজ ইন্টারনেটের বদৌলতে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে।
(গ) উদ্দীপকে শফিক সাহেবের বর্তমান পেশাটি আইসিটির 'আউটসোর্সিং' বা 'ফ্রিল্যান্সিং' ধারণার সাথে সম্পর্কিত।
ফ্রিল্যান্সিং হলো কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অধীনে স্থায়ীভাবে কাজ না করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজ চুক্তির ভিত্তিতে স্বাধীনভাবে সম্পন্ন করা। যারা এ কাজ করেন তাদের ফ্রিল্যান্সার বলা হয়। উদ্দীপকে শফিক সাহেব চাকরি হারানোর পর গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ শিখে ঘরে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিদেশের বিভিন্ন কোম্পানির কাজ করে দিচ্ছেন। এটি মূলত আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় ফ্রিল্যান্সিং পেশা। এর মাধ্যমে তিনি তার দক্ষতা ব্যবহার করে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের ক্লায়েন্টের কাজ করে দিতে পারছেন, যা আইসিটির একটি অন্যতম জনপ্রিয় ও সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক খাত হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত।
(ঘ) শফিক সাহেবের মতো তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং বা আইসিটি নির্ভর উদ্যোগ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বহুমুখীভাবে সমৃদ্ধ করছে।
প্রথমত, এর মাধ্যমে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে। শফিক সাহেব বিদেশের কোম্পানির কাজ করে যে পারিশ্রমিক পাচ্ছেন, তা সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে যোগ হচ্ছে, যা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহকে শক্তিশালী করছে।
দ্বিতীয়ত, এটি বেকারত্ব দূরীকরণে এক বিরাট ভূমিকা পালন করছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, কাজের চাপ বাড়ায় শফিক সাহেব আরো দুজন বেকার তরুণকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন। বাংলাদেশে প্রচুর শিক্ষিত বেকার তরুণ রয়েছে, যারা আইসিটি প্রশিক্ষণ নিয়ে এ খাতে কাজ করলে দেশে বেকারত্বের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
তৃতীয়ত, এটি মেধা পাচার রোধ করছে। আগে অনেক তরুণ ভালো আয়ের আশায় বিদেশে পাড়ি জমাতো। এখন ঘরে বসেই তারা আন্তর্জাতিক মানের কাজ করে কাঙ্ক্ষিত অর্থ উপার্জন করতে পারছে। ফলে দেশের মেধা দেশেই কাজে লাগছে।
পরিশেষে, ফ্রিল্যান্সারদের অর্জিত অর্থ দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ব্যয় হওয়ার ফলে স্থানীয় ব্যবসাও চাঙ্গা হচ্ছে। তাই শফিক সাহেবের মতো তরুণদের এমন উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিকে স্বনির্ভর ও শক্তিশালী করার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।
এমসিকিউ
১। কোনটি ই-কমার্সের প্রধান সুবিধা?
ক) পণ্য ডেলিভারিতে সময় বেশি লাগে
খ) মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পায়
গ) ঘরে বসেই যেকোনো পণ্য কেনাকাটা করা যায়
ঘ) পণ্যের গুণগত মান যাচাই করা যায় না
সঠিক উত্তর: গ) ঘরে বসেই যেকোনো পণ্য কেনাকাটা করা যায়
ব্যাখ্যা: ই-কমার্সের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ক্রেতারা ঘরে বসেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে যেকোনো পণ্য বা সেবা অর্ডার করতে পারে এবং তা তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়, যা সময় ও শ্রম উভয়ই বাঁচায়।
২। আইসিটির প্রভাবে সমাজ জীবনে নিচের কোনটি ঘটছে?
ক) মানুষের মধ্যে শারীরিক দূরত্ব ও বিচ্ছিন্নতা কমছে
খ) তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত হচ্ছে
গ) বেকারত্ব শুধুমাত্র বৃদ্ধি পাচ্ছে
ঘ) শিক্ষার হার ও মান নিম্নগামী হচ্ছে
সঠিক উত্তর: খ) তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত হচ্ছে
ব্যাখ্যা: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রভাবে পুরো পৃথিবী একটি গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছে, যার ফলে যেকোনো স্থান থেকে মানুষ দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও যোগাযোগ করতে পারছে।
৩। ঘরে বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিদেশের কোনো প্রতিষ্ঠানের কাজ করে অর্থ উপার্জনকে কী বলে?
ক) ই-কমার্স
খ) আউটসোর্সিং বা ফ্রিল্যান্সিং
গ) ই-গভর্ন্যান্স
ঘ) ই-লার্নিং
সঠিক উত্তর: খ) আউটসোর্সিং বা ফ্রিল্যান্সিং
ব্যাখ্যা: ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে চুক্তির ভিত্তিতে ঘরে বসে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজ করে অর্থ উপার্জন করা যায়।
৪। নিচের কোনটি একটি জনপ্রিয় মোবাইল ব্যাংকিং সেবা?
ক) বিকাশ
খ) ফেসবুক
গ) গুগল মিট
ঘ) আমাজন
সঠিক উত্তর: ক) বিকাশ
ব্যাখ্যা: বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি হলো মোবাইল ব্যাংকিং সেবা, যার মাধ্যমে মোবাইল ফোনের সাহায্যে দ্রুত ও নিরাপদে অর্থ আদান-প্রদান করা যায়।
৫। আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে মূলত কোন ধরনের মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হয়?
ক) কেবল স্থানীয় মুদ্রা
খ) বৈদেশিক মুদ্রা (রেমিট্যান্স)
গ) ভার্চুয়াল মুদ্রা বা গেম কয়েন
ঘ) ক্রিপ্টোকারেন্সি
সঠিক উত্তর: খ) বৈদেশিক মুদ্রা (রেমিট্যান্স)
ব্যাখ্যা: আউটসোর্সিংয়ের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ কাজই বিদেশের ক্লায়েন্টদের জন্য করা হয়, ফলে এর পারিশ্রমিক হিসেবে ডলার বা অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসে যা অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৬। ই-গভর্ন্যান্স বাস্তবায়িত হলে কোনটি ঘটে?
ক) সরকারি কাজে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়
খ) সেবাপ্রাপ্তিতে সময় ও খরচ বেশি লাগে
গ) সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়
ঘ) ফাইলের লাল ফিতার দৌরাত্ম্য বাড়ে
সঠিক উত্তর: গ) সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা: ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে সরকারি সকল কাজ ও সেবাদান প্রক্রিয়া ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালিত হয়, ফলে কাজ দ্রুত হয়, হয়রানি কমে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।
৭। টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে নিচের কোনটি করা সম্ভব?
ক) ঘরে বসে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা গ্রহণ
খ) অনলাইনে প্রয়োজনীয় খাবার অর্ডার করা
গ) দূরবর্তী স্থানে নিরাপদে টাকা পাঠানো
ঘ) অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস করা
সঠিক উত্তর: ক) ঘরে বসে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা গ্রহণ
ব্যাখ্যা: টেলিমেডিসিন হলো তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে দূর থেকে রোগীর চিকিৎসা সেবা প্রদান করার একটি আধুনিক পদ্ধতি।
৮। বাংলাদেশের বেকারত্ব দূরীকরণে আইসিটির কোন শাখাটি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে?
ক) ই-হেলথ
খ) ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি সেক্টর
গ) ই-বুক ও ডিজিটাল লাইব্রেরি
ঘ) ডিজিটাল বিনোদন
সঠিক উত্তর: খ) ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি সেক্টর
ব্যাখ্যা: বাংলাদেশের লাখো তরুণ বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং এবং বিভিন্ন আইটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার মাধ্যমে নিজেদের বেকারত্ব দূর করে স্বাবলম্বী হচ্ছে।
৯। ই-এগ্রিকালচার বা কৃষিতে আইসিটি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকরা কীভাবে সরাসরি লাভবান হচ্ছেন?
ক) ফসল বিক্রির ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়িয়ে ন্যায্যমূল্য পেয়ে
খ) কেবল রেডিওতে আবহাওয়ার খবর জেনে
গ) ইন্টারনেট থেকে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান দেখে
ঘ) ফসল সংরক্ষণের জন্য নতুন গুদামঘর পেয়ে
সঠিক উত্তর: ক) ফসল বিক্রির ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়িয়ে ন্যায্যমূল্য পেয়ে
ব্যাখ্যা: ইন্টারনেটের কারণে কৃষকরা এখন বাজারের প্রকৃত মূল্য জানতে পারেন এবং ই-কমার্সের মাধ্যমে সরাসরি ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রি করে অধিক মুনাফা অর্জন করতে পারেন।
১০। 'পেপারলেস অফিস' ধারণার মূল সুবিধা কী?
ক) বেশি পরিমাণে কাগজ ব্যবহার করা যায়
খ) তথ্যের ডিজিটাল সংরক্ষণ ও দ্রুত আদান-প্রদান সম্ভব হয়
গ) অফিসের আয়তন বৃদ্ধি করতে হয়
ঘ) কর্মচারীদের শারীরিক পরিশ্রম বাড়ে
সঠিক উত্তর: খ) তথ্যের ডিজিটাল সংরক্ষণ ও দ্রুত আদান-প্রদান সম্ভব হয়
ব্যাখ্যা: পেপারলেস অফিসে ফাইলের স্তূপ থাকে না, সবকিছু কম্পিউটারে বা ক্লাউডে সংরক্ষিত থাকে, ফলে যে কেউ যেকোনো সময় সহজে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পান।
১১। আইসিটির প্রভাবে আমাদের সমাজে—
i. প্রতিনিয়ত নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে
ii. কিছু সনাতনী কায়িক শ্রমনির্ভর পেশা বিলুপ্ত হচ্ছে
iii. জীবনযাত্রার মান ক্রমশ নিম্নমুখী হচ্ছে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: ক) i ও ii
ব্যাখ্যা: আইসিটির প্রসারে অনেক নতুন পেশার উদ্ভব হচ্ছে, তবে যন্ত্রের ব্যবহারের কারণে কিছু পুরনো পেশা হারিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে, নিম্নমুখী নয়।
১২। আউটসোর্সিং করার জন্য একজন ব্যক্তির মূলত কী কী প্রয়োজন?
i. উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ
ii. কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা উপযুক্ত স্মার্ট ডিভাইস
iii. সংশ্লিষ্ট কাজের ওপর যথাযথ দক্ষতা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: ঘ) i, ii ও iii
ব্যাখ্যা: আউটসোর্সিং করতে হলে প্রযুক্তিগত যন্ত্রপাতি এবং ইন্টারনেট সংযোগের পাশাপাশি কাজের দক্ষতা (যেমন: ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক্স ইত্যাদি) থাকা অত্যাবশ্যক।
১৩। ব্যবসা-বাণিজ্যে ই-কমার্স ব্যবহারের ফলে—
i. ক্রেতারা ঘরে বসেই তাদের পছন্দের পণ্য হাতে পায়
ii. বিক্রেতার শোরুম বা দোকান ভাড়ার বিশাল খরচ বেঁচে যায়
iii. পণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে সবসময় অনেক বেশি হয়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: ক) i ও ii
ব্যাখ্যা: ই-কমার্সের ফলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের সুবিধা হয় এবং অনেক সময় দোকান ভাড়া না থাকায় পণ্যের দাম তুলনামূলক কম হতে পারে, বেশি নয়।
১৪। দেশে ই-গভর্ন্যান্স কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে—
i. সাধারণ মানুষের সেবাপ্রাপ্তিতে হয়রানি লাঘব হয়
ii. সরকারি নথিপত্রের নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ সহজ হয়
iii. সরকারি অফিসের কাজের গতি পূর্বের চেয়ে ধীরগতির হয়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: ক) i ও ii
ব্যাখ্যা: ই-গভর্ন্যান্সের মূল লক্ষ্যই হলো সরকারি কাজকে স্বচ্ছ, দ্রুত এবং হয়রানিমুক্ত করা। তাই কাজের গতি ধীর হওয়ার সুযোগ নেই।
১৫। সমাজ জীবনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাবগুলো হলো—
i. মিথ্যা তথ্য ও গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়া
ii. সাইবার বুলিং ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নষ্ট হওয়া
iii. দূরে থাকা আত্মীয়-স্বজনের সাথে দ্রুত যোগাযোগ করা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: ক) i ও ii
ব্যাখ্যা: গুজব ছড়ানো এবং সাইবার বুলিং হলো নেতিবাচক প্রভাব। অন্যদিকে, দূরে থাকা আত্মীয়দের সাথে যোগাযোগ একটি ইতিবাচক দিক।
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ১৬ ও ১৭ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও:
শফিক সাহেব তার অফিসে একটি আধুনিক সফটওয়্যার সিস্টেম চালু করেছেন। এখন তার অফিসের সব নথিপত্র ডিজিটাল ফরম্যাটে সার্ভারে সংরক্ষিত থাকে। এর ফলে তাকে এখন আর পুরোনো ফাইলের স্তূপ খুঁজতে হয় না, কয়েক ক্লিকেই প্রয়োজনীয় তথ্য তার চোখের সামনে চলে আসে।
১৬। শফিক সাহেবের অফিসে মূলত কোন আধুনিক ব্যবস্থার প্রয়োগ ঘটেছে?
ক) পেপারলেস অফিস
খ) ই-কমার্স বা অনলাইন ব্যবসা
গ) ই-লার্নিং বা ডিজিটাল শিক্ষা
ঘ) আউটসোর্সিং বা ফ্রিল্যান্সিং
সঠিক উত্তর: ক) পেপারলেস অফিস
ব্যাখ্যা: যখন কোনো অফিসে কাগজের ব্যবহার কমিয়ে সকল নথিপত্র কম্পিউটারে বা ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হয়, তখন তাকে পেপারলেস অফিস বলে।
১৭। এই পেপারলেস ব্যবস্থার ফলে শফিক সাহেবের অফিসে—
i. কাজের সার্বিক গতি ও দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে
ii. তথ্যের নিরাপত্তা ও ব্যাকআপ নিশ্চিত করা সহজ হয়েছে
iii. অফিসের স্টেশনারি ও কাগজের খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: ক) i ও ii
ব্যাখ্যা: ডিজিটাল নথিপত্রের কারণে কাজ দ্রুত হয় এবং ব্যাকআপ রাখা যায়। তবে এতে কাগজের ব্যবহার কমে, তাই কাগজের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার তথ্যটি ভুল।
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ১৮ ও ১৯ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও:
রিতা একজন সাধারণ গৃহিণী। তিনি ইউটিউব থেকে বিভিন্ন ধরনের কেক বানানোর কৌশল শিখেছেন। এরপর তিনি ফেসবুকে একটি পেজ খুলে সেই কেকগুলো বিক্রি শুরু করেন। তার বানানো কেক খুব জনপ্রিয় হয়েছে এবং এখন তিনি প্রতি মাসে ঘরে বসেই ভালো পরিমাণ টাকা আয় করছেন।
১৮। রিতার কেক বিক্রি করার এই প্রক্রিয়াটি কোন ধরনের কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত?
ক) ই-লার্নিং
খ) ই-কমার্স (এফ-কমার্স)
গ) ই-গভর্ন্যান্স
ঘ) টেলিমেডিসিন
সঠিক উত্তর: খ) ই-কমার্স (এফ-কমার্স)
ব্যাখ্যা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ইন্টারনেট ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি করা ই-কমার্সের অন্তর্ভুক্ত। ফেসবুকে ব্যবসা পরিচালনা করাকে অনেক সময় এফ-কমার্সও বলা হয়।
১৯। রিতার এই চমৎকার উদ্যোগের ফলে সমাজ জীবনে—
i. নারীর ক্ষমতায়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ছে
ii. নতুন ধরনের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সৃষ্টি হচ্ছে
iii. নারী সমাজের বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: ক) i ও ii
ব্যাখ্যা: রিতার এই উদ্যোগ তাকে স্বাবলম্বী করেছে, যা নারীর ক্ষমতায়ন ও নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার উদাহরণ। এটি বেকারত্ব কমাচ্ছে, বাড়াচ্ছে না।
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ২০ ও ২১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও:
করিম মিয়া গ্রামের একজন প্রান্তিক কৃষক। তিনি তার স্মার্টফোনে একটি কৃষি তথ্যভিত্তিক অ্যাপ ব্যবহার করে ফসলের রোগবালাই সম্পর্কে দ্রুত সমাধান পান। শুধু তাই নয়, তিনি এখন মধ্যস্বত্বভোগীদের বাদ দিয়ে সরাসরি শহরের বড় পাইকারদের কাছে তার ফসল বিক্রি করেন।
২০। করিম মিয়ার কার্যক্রমে আইসিটির কোন বিশেষ সুবিধাটি প্রতিফলিত হয়েছে?
ক) ই-গভর্ন্যান্স
খ) ই-এগ্রিকালচার
গ) ই-হেলথ
ঘ) ই-এডুকেশন
সঠিক উত্তর: খ) ই-এগ্রিকালচার
ব্যাখ্যা: কৃষিক্ষেত্রে আইসিটির ব্যবহার, যেমন অ্যাপের মাধ্যমে কৃষি তথ্য জানা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কৃষিপণ্য বিক্রি করা—এগুলো সবই ই-এগ্রিকালচার বা ই-কৃষির অংশ।
২১। আইসিটির এই সুবিধার ফলে করিম মিয়ার মতো কৃষকদের—
i. দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরশীলতা কমেছে
ii. উৎপাদিত ফসলের সঠিক ও ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়েছে
iii. কৃষিকাজে উৎপাদন খরচ অনেক গুণ বেড়ে গেছে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: ক) i ও ii
ব্যাখ্যা: প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কৃষকরা সরাসরি ক্রেতার সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন, যা দালালের দৌরাত্ম্য কমায় এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে। এর ফলে উৎপাদন খরচ কমে, বাড়ে না।
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ২২ ও ২৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও:
রহিম সাহেব একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী। আগে তাকে তার পেনশনের টাকা তোলার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট করতে হতো। কিন্তু বর্তমানে সরকার ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম চালু করায়, তিনি ঘরে বসেই প্রতি মাসে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পেনশনের টাকা পেয়ে যান।
২২। রহিম সাহেবের এই ঘরে বসে সুবিধা প্রাপ্তি মূলত কিসের ফল?
ক) ই-হেলথ
খ) ই-কমার্স
গ) ই-গভর্ন্যান্স
ঘ) ই-লার্নিং
সঠিক উত্তর: গ) ই-গভর্ন্যান্স
ব্যাখ্যা: সরকারি আর্থিক সুবিধা বা সেবাসমূহ ডিজিটাল মাধ্যমে নাগরিকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া ই-গভর্ন্যান্সের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
২৩। ডিজিটাল এই সেবার ফলে রহিম সাহেবের মতো বয়স্ক নাগরিকদের—
i. সময়, অর্থ ও শারীরিক শ্রমের ব্যাপক সাশ্রয় হয়েছে
ii. টাকা হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়ার আর্থিক ঝুঁকি কমেছে
iii. সেবাপ্রাপ্তিতে হয়রানি লাঘব হয়েছে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii
সঠিক উত্তর: ঘ) i, ii ও iii
ব্যাখ্যা: ই-পেমেন্ট বা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের ফলে যাতায়াতের কষ্ট নেই, পথে টাকা ছিনতাই হওয়ার ভয় নেই এবং লাইনে দাঁড়ানোর হয়রানি থেকেও মুক্তি পাওয়া গেছে।
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ২৪ ও ২৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও:
গ্রামের ছেলে রতন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় সে একটি আইটি ফার্মে খণ্ডকালীন কাজ করে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করে। পড়াশোনা শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে সে নিজেই একটি টেক-স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে, যেখানে ইতোমধ্যে তার এলাকার আরো ১০ জন তরুণের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।
২৪। রতনের এই স্টার্টআপ উদ্যোগের কারণে দেশের অর্থনীতিতে কোন ধরনের প্রভাব পড়ছে?
ক) বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে
খ) নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটছে
গ) দেশে মুদ্রাস্ফীতি চরম আকার ধারণ করছে
ঘ) প্রযুক্তিপণ্যের আমদানি অহেতুক বৃদ্ধি পাচ্ছে
সঠিক উত্তর: খ) নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটছে
ব্যাখ্যা: স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা শুধু নিজেদের নয়, বরং অন্যদের জন্যও কাজের সুযোগ তৈরি করেন, যা বেকারত্ব কমিয়ে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে।
২৫। রতনের মতো সফল আইটি উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য তরুণদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কোনটি?
ক) ব্যাংক থেকে নেওয়া বিপুল পরিমাণ ঋণ ও মূলধন
খ) আইসিটি বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাধারা
গ) শক্তিশালী রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
ঘ) শহরে প্রচুর পরিমাণে কৃষিজমি বা সম্পদ
সঠিক উত্তর: খ) আইসিটি বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাধারা
ব্যাখ্যা: আইটি সেক্টরে সফল হওয়ার মূল চাবিকাঠি হলো প্রযুক্তির সঠিক জ্ঞান, প্রোগ্রামিং বা কাজের দক্ষতা এবং নতুন কিছু উদ্ভাবন করার মানসিকতা। মূলধন বা রাজনৈতিক প্রভাব এখানে গৌণ।