ডাটা ট্রান্সমিশন মোড

সিমপ্লেক্স, হাফ-ডুপ্লেক্স, ফুল-ডুপ্লেক্স, ইউনিকাস্ট, মাল্টিকাস্ট ও ব্রডকাস্ট ডাটা ট্রান্সমিশন মোড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা। এইচএসসি আইসিটি অধ্যায় ২।

শেখা শুরু করুন

অধ্যায় ২: ডাটা ট্রান্সমিশন মোড (Data Transmission Mode)

  1. ডাটা ট্রান্সমিশন মোড
  2. একটু ভেবে দেখো তো...
  3. ডাটা ট্রান্সমিশন মোড কী?
  4. ট্রান্সমিশন মোডের প্রকারভেদ
  5. ১. সিমপ্লেক্স মোড (Simplex Mode)
  6. ২. হাফ-ডুপ্লেক্স মোড (Half-Duplex Mode)
  7. ৩. ফুল-ডুপ্লেক্স মোড (Full-Duplex Mode)
  8. ডাটা ডেলিভারি মোড
  9. ডাটা ডেলিভারি মোড: ইউনিকাস্ট (Unicast)
  10. ডাটা ডেলিভারি মোড: ব্রডকাস্ট (Broadcast)
  11. ডাটা ডেলিভারি মোড: মাল্টিকাস্ট (Multicast)
  12. তুলনামূলক আলোচনা ও কুইজ
  13. সারসংক্ষেপ (Summary)

ডাটা ট্রান্সমিশন মোড

এই লেকচার শেষে আমরা-

১। ডাটা ট্রান্সমিশন মোড এবং মেথডের পার্থক্য বলতে পারব।
২। ডাটা প্রবাহের দিক বা ডিরেকশনাল মোড (Simplex, Half-Duplex, Full-Duplex) ব্যাখ্যা করতে পারব।
৩। ডাটা ডেলিভারি মোড (Unicast, Multicast, Broadcast) এর ধারণা বর্ণনা করতে পারব।
৪। বিভিন্ন বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে ট্রান্সমিশন মোড চিহ্নিত করতে পারব।

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় শিক্ষার্থীরা! কেমন আছো সবাই? আমাদের 'কমিউনিকেশন সিস্টেম ও নেটওয়ার্কিং' অধ্যায়ের দ্বিতীয় লেকচারে তোমাদের স্বাগতম। আজ আমরা শিখব ডাটা ট্রান্সমিশন মোড সম্পর্কে। আজকের ক্লাস শেষে তোমরা ডাটা ট্রান্সমিশন মোড কী, এটি কত প্রকার এবং বাস্তব জীবনে আমরা কোন কোন ক্ষেত্রে কোন মোড ব্যবহার করি—তা খুব সহজেই ব্যাখ্যা করতে পারবে। চলো শুরু করা যাক!

একটু ভেবে দেখো তো...

পড়াশোনা শুরু করার আগে চলো একটু ভাবি। এই ছবিগুলো দেখো। প্রথম ছবিতে একটা রেডিও। রেডিওতে যখন জকি কথা বলে, তুমি কি তাকে থামিয়ে কিছু বলতে পারো? পারো না, তাই না? আবার দ্বিতীয় ছবিতে দেখো, পুলিশরা ওয়াকিটকিতে কথা বলছে। খেয়াল করেছ সিনেমায়, তারা কথা শেষ করে 'Over' বলে? কেন বলে জানো? কারণ তারা একই সময়ে কথা বলতে ও শুনতে পারে না। আর তৃতীয় ছবিতে দেখো, তোমরা যখন মোবাইলে বন্ধুর সাথে ঝগড়া করো, তখন কি থামো? না, দুইজনই একসাথে কথা বলো! এই যে তথ্যের আদান-প্রদানের এই ভিন্নতা, এটাই হলো আজকের পড়ার বিষয়—ডাটা ট্রান্সমিশন মোড।

ডাটা ট্রান্সমিশন মোড কী?

সংজ্ঞা: উৎস থেকে গন্তব্যে ডাটা প্রবাহের দিক বা ডিরেকশনকে ডাটা ট্রান্সমিশন মোড বলে।

পার্থক্য মনে রাখা জরুরি:
* ডাটা ট্রান্সমিশন মেথড: ডাটা 'কিভাবে' বা কোন প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে (বিট বিন্যাস)। যেমন: প্যারালাল, সিরিয়াল।
* ডাটা ট্রান্সমিশন মোড: ডাটা 'কোন দিকে' যাচ্ছে (প্রবাহের দিক)। যেমন: সিমপ্লেক্স, ডুপ্লেক্স।

সহজ কথায়: মেথড হলো গাড়ির ইঞ্জিন কেমন, আর মোড হলো রাস্তাটা কেমন (একমুখী না দ্বিমুখী)।

অনেকে ডাটা ট্রান্সমিশন মোড এবং মেথড গুলিয়ে ফেলে। চলো সহজ করে বলি। মেথড হলো ডাটাটা 'কিভাবে' যাচ্ছে—অর্থাৎ বিটগুলো প্যারালাল যাচ্ছে না সিরিয়াল যাচ্ছে। আর মোড হলো ডাটাটা 'কোন দিকে' যাচ্ছে। একটা রাস্তার কথা চিন্তা করো। গাড়িটা কেমন—ট্রাক না প্রাইভেট কার, সেটা হলো মেথড। আর রাস্তাটা কি ওয়ান ওয়ে না টু ওয়ে—সেটা হলো মোড। মোড শুধুই দিক নির্দেশনা দেয়—কে পাঠাতে পারবে আর কে পারবে না।

ট্রান্সমিশন মোডের প্রকারভেদ

ডাটা ট্রান্সমিশন মোডকে আমরা প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করতে পারি। এই চার্টটা ভালো করে খেয়াল করো। প্রথমত, ডাটা প্রবাহের দিক অনুসারে বা Directional Mode তিন প্রকার: সিমপ্লেক্স, হাফ-ডুপ্লেক্স এবং ফুল-ডুপ্লেক্স। আর দ্বিতীয়ত, প্রাপকের সংখ্যা বা Delivery Mode তিন প্রকার: ইউনিকাস্ট, মাল্টিকাস্ট এবং ব্রডকাস্ট। আমরা এখন একে একে এই সবগুলোর বিস্তারিত জানব।

১. সিমপ্লেক্স মোড (Simplex Mode)

বৈশিষ্ট্য:
* ডাটা কেবল একদিকে প্রবাহিত হয়।
* প্রেরক কেবল পাঠাতে পারে, গ্রহণ করতে পারে না।
* প্রাপক কেবল গ্রহণ করতে পারে, পাঠাতে পারে না।

উদাহরণ:
* কীবোর্ড থেকে সিপিইউ (Keyboard to CPU)
* রেডিও এবং টেলিভিশন ব্রডকাস্টিং
* মাউস

সিমপ্লেক্স মোডকে তোমরা 'একমুখী রাস্তা' বা One-way road হিসেবে ভাবতে পারো। এখানে ডাটা শুধু একদিকেই যেতে পারে, ফিরে আসতে পারে না। যেমন ধরো তোমার কীবোর্ড। তুমি যখন টাইপ করো, কীবোর্ড থেকে সিগন্যাল সিপিইউ-তে যায়। কিন্তু সিপিইউ কি উল্টো কীবোর্ডকে কিছু পাঠায়? পাঠায় না। একইভাবে রেডিও বা টিভি—আমরা শুধু শুনি বা দেখি, কিন্তু টিভিকে উল্টো কিছু বলতে পারি না। এটাই সিমপ্লেক্স মোড।

২. হাফ-ডুপ্লেক্স মোড (Half-Duplex Mode)

বৈশিষ্ট্য:
* ডাটা উভয়দিকে প্রবাহিত হতে পারে।
* তবে একই সময়ে (Simultaneously) নয়
* একজন পাঠানো শেষ করলে, তবেই অন্যজন পাঠাতে পারে।

উদাহরণ:
* ওয়াকিটকি (Walkie-Talkie)
* পুলিশের ওয়ারলেস সেট
* ফ্যাক্স মেশিন

হাফ-ডুপ্লেক্স মোড হলো এমন একটা সরু ব্রিজের মতো যেখানে দুই পাশ থেকেই গাড়ি যেতে পারে, কিন্তু একসাথে নয়। একটা গাড়ি পার হলে তারপর অন্য পাশ থেকে গাড়ি আসতে পারে। এর সবচেয়ে ভালো উদাহরণ হলো ওয়াকিটকি। দেখবে, ওয়াকিটকিতে কথা বলার সময় একজন কথা শেষ করে 'Over' বলে। এর মানে হলো—'আমার বলা শেষ, এবার তুমি বলো'। অর্থাৎ, দুইজনই বলতে পারে, কিন্তু একই সময়ে নয়।

৩. ফুল-ডুপ্লেক্স মোড (Full-Duplex Mode)

বৈশিষ্ট্য:
* ডাটা একই সময়ে (Simultaneously) উভয়দিকে প্রবাহিত হতে পারে।
* কোনো অপেক্ষা করতে হয় না।
* এটি সবচেয়ে দ্রুতগতি সম্পন্ন মোড।

উদাহরণ:
* মোবাইল ফোন ও টেলিফোন
* ইন্টারনেট ব্রাউজিং
* ভিডিও কনফারেন্সিং

আর ফুল-ডুপ্লেক্স মোড হলো আমাদের আধুনিক মোবাইল ফোনের মতো। এখানে কোনো থামার দরকার নেই। ডাটা একই সাথে যাওয়া এবং আসা—দুটোই করতে পারে। এটা একটা চওড়া হাইওয়ের মতো যেখানে একসাথে দুই দিকেই গাড়ি চলে। আমরা যখন ফোনে কথা বলি, তখন আমরা দুজনেই একসাথে কথা বলতে পারি, কেউ কারো জন্য অপেক্ষা করি না। বর্তমানে ইন্টারনেটের প্রায় সব যোগাযোগই ফুল-ডুপ্লেক্স মোডে হয়।

ডাটা ডেলিভারি মোড

এতক্ষণ আমরা জানলাম ডাটা কোন দিকে যায় তার ওপর ভিত্তি করে মোডগুলো। এবার আমরা দেখব প্রাপকের সংখ্যা বা কতজন ডাটা রিসিভ করছে তার ওপর ভিত্তি করে মোডগুলো কেমন হয়। একে বলা হয় ডেলিভারি মোড।

ডাটা ডেলিভারি মোড: ইউনিকাস্ট (Unicast)

ধারণা:
* ১ জন প্রেরক (Sender) থেকে ১ জন নির্দিষ্ট প্রাপক (Receiver)।
* One-to-One Communication.

উদাহরণ:
* মোবাইলে এসএমএস পাঠানো (নির্দিষ্ট নম্বরে)
* মেসেঞ্জারে বন্ধুর সাথে প্রাইভেট চ্যাট
* ইমেইল পাঠানো (To: একজন প্রাপক)

প্রথমেই আসে ইউনিকাস্ট। 'Uni' শব্দের অর্থ এক। অর্থাৎ, যখন একজন প্রেরক শুধুমাত্র একজন নির্দিষ্ট প্রাপককে ডাটা পাঠায়, তখন তাকে ইউনিকাস্ট বলে। ধরো তুমি তোমার বন্ধুকে একটা এসএমএস পাঠালে বা মেসেঞ্জারে প্রাইভেটলি নক করলে। এটা ইউনিকাস্ট। নেটওয়ার্কে আরো অনেক মানুষ থাকতে পারে, কিন্তু ডাটাটা শুধু তোমার বন্ধুর কাছেই যাবে।

ডাটা ডেলিভারি মোড: ব্রডকাস্ট (Broadcast)

ধারণা:
* ১ জন প্রেরক থেকে নেটওয়ার্কের অধীনস্থ সকলের কাছে ডাটা পাঠানো।
* One-to-All Communication.

উদাহরণ:
* টেলিভিশন বা রেডিও সম্প্রচার
* ওয়াইফাই জোনে সবার কাছে সিগন্যাল যাওয়া
* শিক্ষকের পিসি থেকে ল্যাবের সব ছাত্রের পিসিতে নোটিশ

এরপর ব্রডকাস্ট। 'Broad' মানে বিশাল বা সবার জন্য। এখানে একজন পাঠাবে, আর নেটওয়ার্কে থাকা সবাই সেটা পাবে। টেলিভিশন হলো এর সেরা উদাহরণ। টিভি সেন্টার থেকে সিগন্যাল সবার জন্যই পাঠানো হয়, যার যার এন্টোনে আছে সবাই সেটা দেখতে পায়। তুমি দেখতে চাও বা না চাও, সিগন্যাল তোমার কাছে আসবেই। ল্যাব ক্লাসে স্যার যখন সব কম্পিউটারে একসাথে কোনো কমান্ড দেন, সেটাও ব্রডকাস্ট।

ডাটা ডেলিভারি মোড: মাল্টিকাস্ট (Multicast)

ধারণা:
* ১ জন প্রেরক থেকে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট একটি গ্রুপের সদস্যদের কাছে ডাটা পাঠানো।
* One-to-Selected Group Communication.

উদাহরণ:
* ভিডিও কনফারেন্স (গুগল মিট/জুম)
* ফেসবুক/হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ চ্যাট
* ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক (যারা সাবস্ক্রাইব করেছে)

আর সবশেষে মাল্টিকাস্ট। এটা ইউনিকাস্ট আর ব্রডকাস্টের মাঝামাঝি। এখানে ডাটা সবার জন্য নয়, আবার শুধু একজনের জন্যও নয়। ডাটা পাঠানো হয় একটা নির্দিষ্ট বা অনুমোদিত গ্রুপের জন্য। যেমন ধরো আমাদের এই অনলাইন ক্লাসের জুম বা গুগল মিট লিংক। যাদের কাছে লিংক আছে, শুধু তারাই জয়েন করতে পারছে। বা তোমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ—সেখানে মেসেজ দিলে শুধু গ্রুপের মেম্বাররাই দেখে, বাইরের কেউ দেখে না। এটাই মাল্টিকাস্ট।

তুলনামূলক আলোচনা ও কুইজ

পার্থক্য:
| মোড | প্রবাহের দিক | উদাহরণ |
|---|---|---|
| সিমপ্লেক্স | একমুখী | রেডিও, কীবোর্ড |
| হাফ-ডুপ্লেক্স | উভয়মুখী (আলাদা সময়ে) | ওয়াকিটকি |
| ফুল-ডুপ্লেক্স | উভয়মুখী (একই সময়ে) | মোবাইল ফোন |

কুইজ (নিজে ভাবো):
প্রশ্ন: ফেসবুক লাইভ (Facebook Live) কোন মোড?
উত্তর: এটি মূলত মাল্টিকাস্ট (Multicast)। কারণ পৃথিবীর সবাই এটি দেখছে না, যারা তোমার পেজ ফলো করছে বা যারা লাইভে জয়েন করেছে শুধু তারাই ডাটা পাচ্ছে।

চলো একনজরে সবগুলোর পার্থক্য দেখে নেই। সিমপ্লেক্স হলো একমুখী, হাফ-ডুপ্লেক্স হলো উভয়মুখী কিন্তু থেমে থেমে, আর ফুল-ডুপ্লেক্স হলো নিরবচ্ছিন্ন উভয়মুখী। এবার তোমাদের জন্য একটা প্রশ্ন। ভিডিওটা পজ করে একটু ভাববে। 'ফেসবুক লাইভ'—এটা কোন মোড? ব্রডকাস্ট না মাল্টিকাস্ট? ... উত্তর হলো মাল্টিকাস্ট। কারণ যদিও এটা অনেক মানুষ দেখে, কিন্তু ইন্টারনেটের সবাই দেখে না। যারা তোমার পেজ ফলো করে বা নোটিফিকেশন পেয়ে জয়েন করে, শুধু তারাই দেখে। অর্থাৎ এটা একটা 'সিলেক্টেড গ্রুপ' এর জন্য।

সারসংক্ষেপ (Summary)

আজ আমরা যা শিখলাম:
১. মোড হলো ডাটা প্রবাহের দিক।
২. সিমপ্লেক্স (একমুখী), হাফ-ডুপ্লেক্স (উভয়মুখী কিন্তু থামতে হয়), ফুল-ডুপ্লেক্স (নিরবচ্ছিন্ন উভয়মুখী)।
৩. ইউনিকাস্ট (১ জন), ব্রডকাস্ট (সবাই), মাল্টিকাস্ট (নির্দিষ্ট গ্রুপ)।

পরবর্তী ক্লাসে আমরা জানবো:
* ডাটা ট্রান্সমিশন মাধ্যম (তার ও তারবিহীন মাধ্যম)।

আজকের ক্লাস তাহলে এখানেই শেষ করছি। আশা করি ডাটা ট্রান্সমিশন মোড নিয়ে তোমাদের আর কোনো বিভ্রান্তি থাকবে না। তোমরা তোমাদের আশেপাশের ডিভাইসগুলো দেখবে এবং ভাববে—কোনটা কোন মোডে কাজ করছে। আগামী ক্লাসে আমরা ডাটা চলাচলের রাস্তা বা 'ট্রান্সমিশন মিডিয়া' নিয়ে কথা বলব—মানে ফাইবার অপটিক ক্যাবল, ওয়াইফাই এসব নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থেকো, আল্লাহ হাফেজ।

অধ্যায় ২: ডাটা ট্রান্সমিশন মোড – বিস্তারিত পাঠ

পড়তে প্রায় 15 মিনিট

আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমরা প্রতিনিয়ত ডাটা আদান-প্রদান করছি। কখনো আমরা মোবাইলে কথা বলি, কখনো এফএম রেডিও শুনি, আবার কখনো ইন্টারনেটে লাইভ ক্লাস করি। এই প্রতিটি ক্ষেত্রে ডাটা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার ধরণ কিন্তু এক নয়। মোবাইলে আমরা একই সাথে কথা বলতে ও শুনতে পারি, কিন্তু রেডিওতে শুধু শুনতে পারি। এই যে ডাটা প্রবাহের দিকের ভিন্নতা, একেই বলা হয় ডাটা ট্রান্সমিশন মোড

এইচএসসি আইসিটি পরীক্ষার জন্য এই টপিকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখান থেকে সৃজনশীল প্রশ্নের (Creative Question) 'গ' এবং 'ঘ' অংশের প্রশ্ন প্রায়ই আসে। সঠিক সংজ্ঞা এবং পার্থক্য জানা থাকলে এখান থেকে পূর্ণ নম্বর পাওয়া সহজ।

এই পাঠে আমরা ডাটা ট্রান্সমিশন মোডের প্রকারভেদ, কার্যপদ্ধতি এবং বাস্তব উদাহরণ বিস্তারিত জানব।

ডাটা ট্রান্সমিশন মোড কী?

সহজ কথায়, ডাটা প্রবাহের দিক বা নির্দেশনাকে মোড বলা হয়। উৎস (Source) থেকে গন্তব্যে (Destination) ডাটা কোন দিকে প্রবাহিত হবে, তা মোড নির্ধারণ করে।

সংজ্ঞা (Definition): কমিউনিকেশন সিস্টেমে এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে ডাটা প্রবাহের দিক বা নির্দেশনাকে ডাটা ট্রান্সমিশন মোড (Data Transmission Mode) বলা হয়।

শিক্ষার্থীরা প্রায়ই ট্রান্সমিশন মেথড এবং ট্রান্সমিশন মোড-এর মধ্যে গুলিয়ে ফেলে। পরীক্ষার জন্য এই পার্থক্যটি মনে রাখা জরুরি:

গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য (Important Distinction):
- ট্রান্সমিশন মেথড (Method): এটি বোঝায় ডাটা বিটগুলো কীভাবে যাচ্ছে (সিরিয়াল না প্যারালাল)। অর্থাৎ এটি প্রক্রিয়া বা Process নির্দেশ করে।
- ট্রান্সমিশন মোড (Mode): এটি বোঝায় ডাটা কোন দিকে প্রবাহিত হচ্ছে (একমুখী না উভয়মুখী)। অর্থাৎ এটি দিক বা Direction নির্দেশ করে।


ডাটা প্রবাহের দিক অনুসারে মোড (Directional Modes)

ডাটা প্রবাহের দিকের ওপর ভিত্তি করে ট্রান্সমিশন মোডকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
১. সিমপ্লেক্স (Simplex)
২. হাফ-ডুপ্লেক্স (Half-Duplex)
৩. ফুল-ডুপ্লেক্স (Full-Duplex)

ডাটা ট্রান্সমিশন মোডের প্রকারভেদ - সিমপ্লেক্স, হাফ-ডুপ্লেক্স ও ফুল-ডুপ্লেক্স

নিচে এদের বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. সিমপ্লেক্স মোড (Simplex Mode)

সিমপ্লেক্স মোড হলো একমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় প্রেরক শুধু ডাটা পাঠাতে পারে, কিন্তু গ্রহণ করতে পারে না। একইভাবে প্রাপক শুধু ডাটা গ্রহণ করতে পারে, কিন্তু পাঠাতে পারে না।

সংজ্ঞা: যে ডাটা ট্রান্সমিশন মোডে ডাটা শুধুমাত্র এক দিকে প্রবাহিত হতে পারে, তাকে সিমপ্লেক্স মোড বলে।

কার্যপদ্ধতি:
এক্ষেত্রে ডাটা পাঠানোর জন্য কেবল একটি চ্যানেল ব্যবহৃত হয় এবং সেই চ্যানেলের দিক নির্দিষ্ট থাকে। অনেকটা একমুখী সড়কের (One-way road) মতো, যেখানে গাড়ি শুধু একদিকেই চলতে পারে।

উদাহরণ (Example):
* রেডিও ও টেলিভিশন: ব্রডকাস্টিং স্টেশন থেকে সিগন্যাল আমাদের ডিভাইসে আসে, কিন্তু আমরা রেডিও বা টিভি দিয়ে স্টেশনে কোনো কথা পাঠাতে পারি না।
* কীবোর্ড ও মাউস: আমরা কীবোর্ড দিয়ে কম্পিউটারে নির্দেশ পাঠাই, কিন্তু কীবোর্ড কম্পিউটার থেকে কোনো ডাটা গ্রহণ করে না।
* পেজার (Pager): এটিও একমুখী যোগাযোগের একটি পুরনো উদাহরণ।

২. হাফ-ডুপ্লেক্স মোড (Half-Duplex Mode)

হাফ-ডুপ্লেক্স মোডে ডাটা উভয় দিকে প্রবাহিত হতে পারে, তবে একই সময়ে নয়। যখন এক পক্ষ ডাটা পাঠায়, তখন অন্য পক্ষকে অপেক্ষা করতে হয় এবং কেবল শোনা বা গ্রহণ করার মোডে থাকতে হয়।

সংজ্ঞা: যে ডাটা ট্রান্সমিশন মোডে ডাটা উভয় দিকে প্রবাহিত হতে পারে কিন্তু একই সময়ে নয়, তাকে হাফ-ডুপ্লেক্স মোড বলে।

কার্যপদ্ধতি:
এই মোডে ডাটা পাঠানোর দিক পরিবর্তন করা সম্ভব, তবে এর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বা টার্ন-অ্যারাউন্ড টাইম (Turn-around time) প্রয়োজন হয়। অনেকটা সরু সেতুর মতো, যেখানে একদিকের গাড়ি পার হওয়ার পর অন্যদিকের গাড়ি চলাচল করতে পারে।

উদাহরণ (Example):
* ওয়াকি-টকি (Walkie-Talkie): ওয়াকি-টকিতে কথা বলার সময় একজন কথা বলে এবং শেষে "Over" বলে। এরপর অপর প্রান্তের ব্যক্তি কথা বলা শুরু করে। একই সাথে দুজনেই কথা বলতে পারে না।
* ফ্যাক্স মেশিন: ফ্যাক্স পাঠানোর সময় একই সাথে গ্রহণ করা যায় না।
* ওয়েব ব্রাউজিং: আমরা যখন রিকোয়েস্ট পাঠাই, তখন সার্ভার প্রসেস করে। এরপর সার্ভার রেসপন্স পাঠায়। এটি লজিক্যালি হাফ-ডুপ্লেক্স আচরণের মতো (যদিও আধুনিক নেটওয়ার্কে এটি জটিল)।

৩. ফুল-ডুপ্লেক্স মোড (Full-Duplex Mode)

ফুল-ডুপ্লেক্স মোডে একই সময়ে ডাটা উভয় দিকে প্রবাহিত হতে পারে। এখানে প্রেরক এবং প্রাপক উভয়েই একই সময়ে ডাটা প্রেরণ ও গ্রহণ করতে সক্ষম।

সংজ্ঞা: যে ডাটা ট্রান্সমিশন মোডে ডাটা একই সময়ে উভয় দিকে প্রবাহিত হতে পারে, তাকে ফুল-ডুপ্লেক্স মোড বলে।

কার্যপদ্ধতি:
এই ব্যবস্থায় সাধারণত দুটি ভিন্ন চ্যানেল বা ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহৃত হয়—একটি ডাটা পাঠানোর জন্য এবং অন্যটি গ্রহণের জন্য। ফলে কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ সম্ভব হয়। এটি দ্বিমুখী প্রশস্ত সড়কের মতো।

উদাহরণ (Example):
* মোবাইল ফোন ও টেলিফোন: আমরা মোবাইলে কথা বলার সময় একই সাথে অপর পক্ষের কথা শুনতেও পাই এবং বলতেও পারি।
* কম্পিউটার নেটওয়ার্ক: আধুনিক ল্যান (LAN) বা ইন্টারনেট সংযোগ সাধারণত ফুল-ডুপ্লেক্স মোডে কাজ করে।


মোডসমূহের তুলনামূলক পার্থক্য (Comparison)

পরীক্ষায় 'খ' বা 'গ' নং প্রশ্নের জন্য এই পার্থক্যটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বৈশিষ্ট্য সিমপ্লেক্স (Simplex) হাফ-ডুপ্লেক্স (Half-Duplex) ফুল-ডুপ্লেক্স (Full-Duplex)
প্রবাহের দিক একমুখী (Unidirectional) উভয়মুখী, তবে ভিন্ন সময়ে উভয়মুখী, একই সময়ে
পারফরম্যান্স সবচেয়ে কম মধ্যম সবচেয়ে বেশি
সময় ডাটা পাঠাতে সময় কম লাগে (একমুখী বলে) দিক পরিবর্তনের জন্য সময় নষ্ট হয় (Turn-around time) কোনো সময় নষ্ট হয় না
ব্যান্ডউইথ ব্যবহার সম্পূর্ণ ব্যান্ডউইথ একদিকে ব্যবহৃত হয় ব্যান্ডউইথ উভয় দিকে ব্যবহৃত হয়, তবে ভাগ করে ব্যান্ডউইথ দ্বিগুণ দক্ষতার সাথে ব্যবহৃত হয়
উদাহরণ রেডিও, টিভি, কীবোর্ড ওয়াকি-টকি, ফ্যাক্স মোবাইল, টেলিফোন

প্রাপকের সংখ্যা অনুসারে মোড (Delivery Modes)

ডাটা কতজন প্রাপকের কাছে পাঠানো হচ্ছে বা কারা সেই ডাটা গ্রহণ করার অধিকার রাখে, তার ওপর ভিত্তি করে মোডকে আরো তিন ভাগে ভাগ করা যায়: ইউনিকাস্ট, ব্রডকাস্ট এবং মাল্টিকাস্ট। একে অনেক সময় কাস্ট মোড (Cast Mode) বলা হয়।

ইউনিকাস্ট, ব্রডকাস্ট এবং মাল্টিকাস্ট ডাটা ট্রান্সমিশন

১. ইউনিকাস্ট (Unicast) – One to One

নেটওয়ার্কের একটি নোড (Node) বা প্রেরক থেকে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট নোড বা প্রাপককে ডাটা পাঠানো হলে তাকে ইউনিকাস্ট বলে।
* উদাহরণ: টেলিফোনে দুই ব্যক্তির কথোপকথন, পেজার, বা একটি নির্দিষ্ট আইপি অ্যাড্রেস থেকে অন্য একটি নির্দিষ্ট আইপি অ্যাড্রেসে ডাটা পাঠানো। এটিই সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত মোড।

২. ব্রডকাস্ট (Broadcast) – One to All

নেটওয়ার্কের একটি নোড থেকে ডাটা পাঠানো হলে যদি সেই নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত সকল নোডই তা গ্রহণ করতে পারে, তবে তাকে ব্রডকাস্ট বলে।
* উদাহরণ: টিভি বা রেডিও সম্প্রচার। একটি কেন্দ্র থেকে সম্প্রচার করা হয় এবং কভারেজ এলাকার সবাই তা শুনতে বা দেখতে পায়। ল্যান (LAN) এ কোনো নোড যখন সবার উদ্দেশ্যে বার্তা পাঠায়, সেটাও ব্রডকাস্ট।

৩. মাল্টিকাস্ট (Multicast) – One to Many (Selected)

নেটওয়ার্কের একটি নোড থেকে ডাটা পাঠানো হলে যদি সেই নেটওয়ার্কের অনুমোদিত নির্দিষ্ট কিছু সদস্য বা একটি গ্রুপ শুধু তা গ্রহণ করতে পারে, তবে তাকে মাল্টিকাস্ট বলে। এটি ব্রডকাস্টের মতো সবার জন্য উন্মুক্ত নয়, আবার ইউনিকাস্টের মতো একজনের জন্যও নয়।
* উদাহরণ: ভিডিও কনফারেন্সিং (যেখানে শুধু আমন্ত্রিতরা থাকে), জুম মিটিং, বা মোবাইলের গ্রুপ এসএমএস।

পরীক্ষার টিপস (Exam Tip):
উদ্দীপকে যদি দেখো "সকল সদস্য" বা "সবাই" তথ্যটি পাচ্ছে, তবে উত্তর হবে ব্রডকাস্ট। আর যদি দেখো "নির্দিষ্ট গ্রুপের সদস্য" বা "রেজিস্ট্রেশনকৃত সদস্য" বা "পাসওয়ার্ডধারী সদস্য" তথ্যটি পাচ্ছে, তবে উত্তর হবে মাল্টিকাস্ট


সৃজনশীল প্রশ্নের সমাধান কৌশল (Exam Strategy)

পরীক্ষায় সাধারণত একটি দৃশ্যকল্প (Scenario) দেওয়া থাকে এবং সেখান থেকে মোড শনাক্ত করতে বলা হয়।

নমুনা উদ্দীপক:
"করিম সাহেব তার অফিসের ১০ জন কর্মচারীর মধ্যে ৩ জন ম্যানেজারকে নিয়ে একটি ভিডিও কনফারেন্স করলেন। পরবর্তীতে তিনি অফিসের নোটিশ বোর্ডে একটি সাধারণ নোটিশ টাঙিয়ে দিলেন যা সবাই দেখল।"

বিশ্লেষণ ও উত্তর:
১. ভিডিও কনফারেন্স: এখানে ১০ জনের মধ্যে নির্দিষ্ট ৩ জনের সাথে যোগাযোগ হচ্ছে। অর্থাৎ 'One to Group'। তাই এটি মাল্টিকাস্ট (Multicast) মোড।
২. নোটিশ বোর্ড: এটি অফিসের সবাই দেখছে। অর্থাৎ 'One to All'। তাই এটি ব্রডকাস্ট (Broadcast) মোডের সাথে তুলনীয়।

সাধারণ ভুলসমূহ:
* অনেকে মাল্টিকাস্ট এবং ব্রডকাস্ট গুলিয়ে ফেলে। মনে রাখবে: ব্রডকাস্ট = সবাই, মাল্টিকাস্ট = বাছাই করা অনেকে।
* মোবাইল নেটওয়ার্ক সাধারণত ফুল-ডুপ্লেক্স, কিন্তু এসএমএস সার্ভিসটি স্টোর-এন্ড-ফরোয়ার্ড পদ্ধতিতে কাজ করে যা অনেকটা সিমপ্লেক্স বা হাফ-ডুপ্লেক্সের মতো আচরণ করতে পারে (তবে প্রযুক্তির বিচারে এটি ফুল-ডুপ্লেক্স নেটওয়ার্কেরই অংশ)। পরীক্ষায় "মোবাইলে কথা বলা" থাকলে সরাসরি ফুল-ডুপ্লেক্স লিখবে।


সংক্ষিপ্ত সারাংশ (Quick Revision)

একনজরে মনে রাখার বিষয়:
- সিমপ্লেক্স: একমুখী রাস্তা (One-way)। উদাহরণ: টিভি, রেডিও।
- হাফ-ডুপ্লেক্স: সরু সেতু (উভয়মুখী কিন্তু একবারে একজন)। উদাহরণ: ওয়াকি-টকি।
- ফুল-ডুপ্লেক্স: প্রশস্ত হাইওয়ে (একই সাথে উভয়মুখী)। উদাহরণ: মোবাইল।
- ইউনিকাস্ট: ১ জন প্রেরক -> ১ জন প্রাপক।
- ব্রডকাস্ট: ১ জন প্রেরক -> সবাই।
- মাল্টিকাস্ট: ১ জন প্রেরক -> নির্দিষ্ট গ্রুপ।

গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা (Glossary)
পরিভাষা (Term) সংজ্ঞা (Definition)
Simplex যে মোডে ডাটা শুধু এক দিকে প্রবাহিত হয়।
Half-Duplex যে মোডে ডাটা উভয় দিকে প্রবাহিত হতে পারে, তবে একই সময়ে নয়।
Full-Duplex যে মোডে ডাটা একই সময়ে উভয় দিকে প্রবাহিত হয়।
Turn-around time হাফ-ডুপ্লেক্স মোডে ডাটা প্রবাহের দিক পরিবর্তন করতে যে সময় লাগে।
Multicast নেটওয়ার্কের নির্দিষ্ট একটি গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে ডাটা আদান-প্রদান।

এই নোটটি মনোযোগ দিয়ে পড়লে ডাটা ট্রান্সমিশন মোড সম্পর্কিত যেকোনো প্রশ্নের উত্তর তুমি সহজেই দিতে পারবে। শুভকামনা!

অনুশীলনের প্রশ্ন

সৃজনশীল প্রশ্ন

সৃজনশীল প্রশ্ন ১

তমা তার বাবার সাথে গাড়িতে করে গ্রামে যাচ্ছিল। পথে বাবার মোবাইলে কল আসলো এবং তিনি কথা বললেন। কিন্তু তমা দেখলো ট্রাফিক পুলিশরা যে যন্ত্রটি (ওয়াকিটকি) ব্যবহার করছে তাতে একজন কথা বললে অন্যজন শুধু শুনছে, একসাথে কথা বলতে পারছে না। গ্রামে পৌঁছে তমা টিভি চালু করে খবর দেখছিল।

ক) ডাটা ট্রান্সমিশন মোড কী?
খ) ব্রডকাস্ট মোড কেন একমুখী? ব্যাখ্যা কর।
গ) ট্রাফিক পুলিশের ব্যবহৃত যন্ত্রটির ডাটা ট্রান্সমিশন মোড ব্যাখ্যা কর।
ঘ) তমার বাবার মোবাইল এবং টিভির ডাটা ট্রান্সমিশন মোডের মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

(ক) ডাটা ট্রান্সমিশন মোড হলো ডাটা প্রবাহের দিক বা নির্দেশনা, অর্থাৎ সোর্স থেকে গন্তব্যে ডাটা কোন দিকে প্রবাহিত হবে তার পদ্ধতি।

(খ) ব্রডকাস্ট মোড হলো একমুখী বা সিমপ্লেক্স পদ্ধতির একটি রূপ যেখানে শুধুমাত্র একটি প্রেরক থাকে এবং নেটওয়ার্কের আওতাধীন সকল ডিভাইস সেই ডাটা গ্রহণ করে। এতে প্রাপক কোনো ফিডব্যাক বা ডাটা ফেরত পাঠাতে পারে না, তাই ডাটা প্রবাহ সর্বদা প্রেরক থেকে প্রাপকের দিকে একমুখী হয় (যেমন: টিভি, রেডিও)।

(গ) উদ্দীপকে ট্রাফিক পুলিশের ব্যবহৃত যন্ত্রটি হলো ওয়াকিটকি, যা হাফ ডুপ্লেক্স (Half Duplex) মোডে কাজ করে।

হাফ ডুপ্লেক্স মোডে ডাটা উভয় দিকে প্রবাহিত হতে পারে, তবে একই সময়ে নয়। যখন একজন কথা বলে (প্রেরক), তখন অন্যজন শুধু শোনে (প্রাপক)। কথা শেষ হলে বা লাইন মুক্ত হলে অন্য প্রান্তের ব্যক্তি কথা বলতে পারে। উদ্দীপকে দেখা যায়, পুলিশদের যন্ত্রে "একজন কথা বললে অন্যজন শুধু শুনছে, একসাথে কথা বলতে পারছে না"—যা হাফ ডুপ্লেক্স মোডের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই ব্যবস্থায় একই সময়ে দ্বিমুখী যোগাযোগ সম্ভব নয় বলে এটি ফুল ডুপ্লেক্স থেকে ধীরগতির, কিন্তু সিমপ্লেক্সের চেয়ে উন্নত।

(ঘ) উদ্দীপকে তমার বাবার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ফুল ডুপ্লেক্স (Full Duplex) মোড এবং তমার দেখা টিভি হলো সিমপ্লেক্স (Simplex) মোডের উদাহরণ। নিচে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:

  1. ডাটা প্রবাহের দিক:
    - মোবাইল (ফুল ডুপ্লেক্স) এর ক্ষেত্রে একই সময়ে উভয় দিকে ডাটা আদান-প্রদান করা যায়। তমার বাবা কথা বলার সময় একই সাথে অপর প্রান্তের কথাও শুনতে পাচ্ছিলেন।
    - টিভি (সিমপ্লেক্স) এর ক্ষেত্রে ডাটা শুধুমাত্র একদিকে প্রবাহিত হয়। টিভি স্টেশন থেকে ডাটা তমার টিভিতে আসছে, কিন্তু টিভি থেকে কোনো ডাটা স্টেশনে ফেরত যাচ্ছে না।

  2. সমসময়িকতা:
    - ফুল ডুপ্লেক্সে কোনো বিলম্ব ছাড়া একই সময়ে প্রেরক ও প্রাপক যোগাযোগ করতে পারে।
    - সিমপ্লেক্সে প্রাপক কখনোই প্রেরক হতে পারে না, এটি সর্বদাই একমুখী।

  3. দক্ষতা ও ব্যবহার:
    - মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম কথোপকথন সম্ভব, যা দ্রুত যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত দক্ষ।
    - টিভি ব্রডকাস্টিংয়ের জন্য উপযুক্ত, যেখানে শ্রোতার প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রয়োজন নেই।

সিদ্ধান্ত হিসেবে বলা যায়, মোবাইল ফোনের মোডটি দ্বিমুখী ও তাৎক্ষণিক যোগাযোগের জন্য সেরা, অন্যদিকে টিভির মোডটি গণযোগাযোগের জন্য উপযুক্ত।


সৃজনশীল প্রশ্ন ২

'আইসিটি ভিশন' কোম্পানির সিইও একটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রজেক্টের সকল কর্মচারীদের সাথে জরুরি মিটিং করছেন। মিটিং চলাকালীন সবাই সবার সাথে কথা বলতে ও দেখতে পারছিল। মিটিং শেষে তিনি প্রজেক্ট লিডার জনাব আরমানকে একটি গোপনীয় ইমেইল পাঠালেন।

ক) সিমপ্লেক্স মোড কী?
খ) ফুল ডুপ্লেক্স মোডকে সেরা মোড বলা হয় কেন?
গ) ভিডিও কনফারেন্সে ব্যবহৃত ডাটা ডেলিভারি মোডটি ব্যাখ্যা কর।
ঘ) বসের ইমেইল পাঠানোর মোড এবং ভিডিও কনফারেন্সের মোড কি একই? বিশ্লেষণপূর্বক মতামত দাও।

উত্তর

(ক) সিমপ্লেক্স মোড হলো এমন এক ধরনের ডাটা ট্রান্সমিশন মোড যেখানে ডাটা শুধুমাত্র একদিকে প্রবাহিত হয়; প্রেরক শুধু ডাটা পাঠায় এবং প্রাপক শুধু তা গ্রহণ করে (যেমন: কীবোর্ড, রেডিও)।

(খ) ফুল ডুপ্লেক্স মোডকে সেরা মোড বলা হয় কারণ এই ব্যবস্থায় কোনো বিলম্ব ছাড়াই একই সময়ে উভয় দিকে ডাটা আদান-প্রদান করা সম্ভব। প্রেরক এবং প্রাপক উভয়েই একই সাথে ডাটা পাঠাতে ও গ্রহণ করতে পারে। ফলে টেলিফোন বা মোবাইলের মতো রিয়েল-টাইম যোগাযোগে এটি সবচেয়ে বেশি দক্ষ এবং সময় সাশ্রয়ী।

(গ) উদ্দীপকে ভিডিও কনফারেন্সে ব্যবহৃত ডাটা ডেলিভারি মোডটি হলো মাল্টিকাস্ট (Multicast) মোড।

প্রাপকের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে ডাটা ডেলিভারি মোড তিন প্রকার, যার মধ্যে মাল্টিকাস্ট অন্যতম। মাল্টিকাস্ট মোডে নেটওয়ার্কের সকল নোড বা ব্যবহারকারীর পরিবর্তে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট গ্রুপের অনুমোদিত সদস্যদের কাছে ডাটা পাঠানো হয়। উদ্দীপকে সিইও "সকল কর্মচারীর সাথে" মিটিং করছেন যা একটি নির্দিষ্ট গ্রুপ। কোম্পানির বাইরের কেউ এই মিটিংয়ে যুক্ত হতে পারছে না। ভিডিও কনফারেন্সিং বা গ্রুপ ভিডিও চ্যাটিং মূলত মাল্টিকাস্ট মোডেরই বাস্তব উদাহরণ, কারণ এখানে কেবল অংশগ্রহণকারীরাই ডাটা গ্রহণ ও প্রেরণ করতে পারে, নেটওয়ার্কের অন্য কেউ নয়।

(ঘ) উদ্দীপকে বসের ইমেইল পাঠানোর মোড এবং ভিডিও কনফারেন্সের মোড একই নয়। ইমেইলটি ইউনিকাস্ট (Unicast) মোডে এবং ভিডিও কনফারেন্সটি মাল্টিকাস্ট (Multicast) মোডে সম্পন্ন হয়েছে।

বিশ্লেষণ:
১. ইউনিকাস্ট (Unicast): বস যখন জনাব আরমানকে ইমেইল পাঠালেন, তখন এটি ছিল একজন প্রেরক থেকে একজন নির্দিষ্ট প্রাপকের (One-to-One) যোগাযোগ। ইউনিকাস্ট মোডে নেটওয়ার্কের একটি নোড থেকে শুধুমাত্র অপর একটি নির্দিষ্ট নোডে ডাটা পাঠানো হয়। এটি ব্যক্তিগত যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়।

  1. মাল্টিকাস্ট (Multicast): ভিডিও কনফারেন্সের সময় বস একটি গ্রুপের সাথে যুক্ত ছিলেন (One-to-Many of a Group)। এখানে প্রেরক (বস) ডাটা পাঠাচ্ছেন এবং তা গ্রহণ করছে একটি নির্দিষ্ট তালিকাভুক্ত গোষ্ঠী (কর্মচারীবৃন্দ)। এটি সকলের জন্য উন্মুক্ত (ব্রডকাস্ট) নয়, আবার কেবল একজনের জন্যও নয়।

মতামত:
কার্যকারিতার দিক থেকে দুটি ভিন্ন। গোপনীয়তা রক্ষার জন্য বস ইউনিকাস্ট (ইমেইল) ব্যবহার করেছেন, যা নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্যই প্রযোজ্য। অন্যদিকে, দলগত আলোচনার জন্য তিনি মাল্টিকাস্ট (ভিডিও কনফারেন্স) ব্যবহার করেছেন। সুতরাং, প্রেরক ও প্রাপকের সংখ্যার ভিত্তিতে মোড দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির।


সৃজনশীল প্রশ্ন ৩

রহিম তার ল্যাপটপের কীবোর্ড ব্যবহার করে একটি ডকুমেন্ট লিখছিল। এরপর সে তার বন্ধুকে ওয়াকিটকির মাধ্যমে জানাল যে কাজ শেষ। বন্ধুটি তার মোবাইলে কল করে বিস্তারিত জানতে চাইল।

ক) ডাটা ট্রান্সমিশন মেথড কী?
খ) সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনে প্রাইমারি স্টোরেজ প্রয়োজন কেন?
গ) রহিমের কীবোর্ড ব্যবহারের ডাটা ট্রান্সমিশন মোডটি ব্যাখ্যা কর।
ঘ) রহিমের বন্ধুটির ব্যবহৃত দুটি ডিভাইসের ডাটা ট্রান্সমিশন মোডের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

(ক) ডাটা ট্রান্সমিশন মেথড হলো এমন পদ্ধতি যা ডাটা বিটগুলো কীভাবে প্রেরক থেকে প্রাপকের কাছে স্থানান্তরিত হবে (ধারাবাহিক না সমান্তরাল) এবং বিটগুলোর সিনক্রোনাইজেশন কীভাবে হবে তা নির্ধারণ করে।

(খ) সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনে ডাটা ব্লক বা প্যাকেট আকারে পাঠানো হয়। প্রতিবার প্যাকেট পাঠানোর আগে ডাটাগুলোকে সাময়িকভাবে সংরক্ষণ করে একটি ব্লক তৈরি করতে হয়। এই ব্লক তৈরির জন্য প্রেরক ডিভাইসে একটি প্রাথমিক বা প্রাইমারি স্টোরেজ ডিভাইসের প্রয়োজন হয়, যেখানে ক্যারেক্টারগুলো জমা হয়ে ব্লক গঠিত হয়।

(গ) উদ্দীপকে রহিমের কীবোর্ড ব্যবহারের ডাটা ট্রান্সমিশন মোডটি হলো সিমপ্লেক্স (Simplex) মোড।

সিমপ্লেক্স মোডে ডাটা প্রবাহ সবসময় একমুখী হয়ে থাকে। এখানে কীবোর্ড শুধুমাত্র সিপিইউ বা কম্পিউটারে ডাটা প্রেরণ করতে পারে, কিন্তু কম্পিউটার থেকে কোনো ডাটা কীবোর্ডে ফিরে আসে না। উদ্দীপকে রহিম কীবোর্ড দিয়ে টাইপ করছে অর্থাৎ ইনপুট দিচ্ছে, যা কেবল একমুখী প্রবাহ নির্দেশ করে। এটি ডাটা কমিউনিকেশনের সবচেয়ে সরল রূপ যেখানে প্রাপকের (কম্পিউটার) কোনো উত্তর দেওয়ার সুযোগ থাকে না।

(ঘ) রহিমের বন্ধুটির ব্যবহৃত ডিভাইস দুটি হলো ওয়াকিটকি এবং মোবাইল ফোন। এদের ডাটা ট্রান্সমিশন মোড যথাক্রমে হাফ ডুপ্লেক্স এবং ফুল ডুপ্লেক্স। নিচে এদের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করা হলো:

  1. ওয়াকিটকি (হাফ ডুপ্লেক্স):
    - এই মোডে ডাটা উভয় দিকে প্রবাহিত হতে পারে, তবে একই সময়ে নয়।
    - রহিমের বন্ধু যখন ওয়াকিটকিতে কথা বলবে, তখন তাকে কথা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে উত্তরের জন্য। এটি তাৎক্ষণিক প্রতিউত্তরের জন্য কিছুটা ধীরগতির।
    - এটি মূলত নির্দিষ্ট পরিসরে বা জরুরি সেবায় (যেমন পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস) কার্যকর যেখানে খুব বেশি কথা বলার প্রয়োজন হয় না।

  2. মোবাইল ফোন (ফুল ডুপ্লেক্স):
    - এই মোডে একই সময়ে উভয় দিকে ডাটা আদান-প্রদান সম্ভব।
    - মোবাইলে কথা বলার সময় রহিমের বন্ধু কোনো বাধা ছাড়াই একই সাথে কথা বলতে ও শুনতে পাবে। এটি সাধারণ কথোপকথনের জন্য সবচেয়ে কার্যকর এবং দ্রুততম মাধ্যম।

সিদ্ধান্ত:
কার্যকারিতার বিচারে মোবাইল ফোনের ফুল ডুপ্লেক্স মোড সাধারণ যোগাযোগের জন্য শ্রেষ্ঠ কারণ এতে সময়ের অপচয় হয় না। তবে নির্দিষ্ট প্রয়োজনে (যেমন শৃংখলা রক্ষা বা স্বল্প খরচের যোগাযোগে) ওয়াকিটকির হাফ ডুপ্লেক্স মোডও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এমসিকিউ

১। ডাটা ট্রান্সমিশন মোড বলতে কী বোঝায়?

ক) ডাটা প্রবাহের হার
খ) ডাটা প্রবাহের মাধ্যম
গ) ডাটা প্রবাহের দিক
ঘ) ডাটা প্রবাহের সময়

সঠিক উত্তর: গ) ডাটা প্রবাহের দিক

ব্যাখ্যা: ডাটা ট্রান্সমিশন মোড হলো উৎস থেকে গন্তব্যে ডাটা স্থানান্তরের দিক বা প্রবাহের নির্দেশনা। এটি নির্দেশ করে ডাটা কোন দিকে প্রবাহিত হবে।


২। প্রাপকের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে ডাটা ট্রান্সমিশন মোড কত প্রকার?

ক) ২ প্রকার
খ) ৩ প্রকার
গ) ৪ প্রকার
ঘ) ৫ প্রকার

সঠিক উত্তর: খ) ৩ প্রকার

ব্যাখ্যা: প্রাপকের সংখ্যা বা অধিকারের ওপর ভিত্তি করে ডাটা ট্রান্সমিশন মোড ৩ প্রকার: ১. ইউনিকাস্ট (Unicast), ২. ব্রডকাস্ট (Broadcast), ৩. মাল্টিকাস্ট (Multicast)।


৩। কীবোর্ড থেকে সিপিইউ-তে (CPU) ডাটা প্রেরণের মোড কোনটি?

ক) সিমপ্লেক্স
খ) হাফ ডুপ্লেক্স
গ) ফুল ডুপ্লেক্স
ঘ) মাল্টিকাস্ট

সঠিক উত্তর: ক) সিমপ্লেক্স

ব্যাখ্যা: কীবোর্ড থেকে শুধুমাত্র ডাটা সিপিইউ-তে পাঠানো যায়, কিন্তু সিপিইউ থেকে কোনো ডাটা কীবোর্ডে ফিরে আসে না। অর্থাৎ এটি একমুখী প্রবাহ, যা সিমপ্লেক্স মোড।


৪। নিচের কোনটি সিমপ্লেক্স মোডের উদাহরণ?

ক) মোবাইল ফোন
খ) ওয়াকিটকি
গ) রেডিও
ঘ) টেলিফোন

সঠিক উত্তর: গ) রেডিও

ব্যাখ্যা: রেডিও বা টেলিভিশন সম্প্রচারে ডাটা শুধুমাত্র স্টেশন থেকে গ্রাহকের ডিভাইসে আসে। গ্রাহক কোনো ফিডব্যাক বা ডাটা ফেরত পাঠাতে পারে না। তাই এটি সিমপ্লেক্স মোড।


৫। ওয়াকিটকি কোন ধরনের ডাটা ট্রান্সমিশন মোডে কাজ করে?

ক) সিমপ্লেক্স
খ) হাফ ডুপ্লেক্স
গ) ফুল ডুপ্লেক্স
ঘ) ব্রডকাস্ট

সঠিক উত্তর: খ) হাফ ডুপ্লেক্স

ব্যাখ্যা: ওয়াকিটকিতে উভয় দিকে যোগাযোগ সম্ভব হলেও একই সময়ে কথা বলা ও শোনা যায় না। একজন কথা শেষ করলে অন্যজন বলতে পারে। এটি হাফ ডুপ্লেক্স মোডের বৈশিষ্ট্য।


৬। একই সময়ে উভয় দিকে ডাটা আদান-প্রদান করা যায় কোন মোডে?

ক) সিমপ্লেক্স
খ) হাফ ডুপ্লেক্স
গ) ফুল ডুপ্লেক্স
ঘ) মাল্টিকাস্ট

সঠিক উত্তর: গ) ফুল ডুপ্লেক্স

ব্যাখ্যা: ফুল ডুপ্লেক্স মোডে প্রেরক ও প্রাপক একই সময়ে ডাটা প্রেরণ ও গ্রহণ করতে পারে। যেমন: মোবাইল ফোন বা টেলিফোন।


৭। মোবাইল ফোনে কথা বলা কোন মোডের উদাহরণ?

ক) সিমপ্লেক্স
খ) হাফ ডুপ্লেক্স
গ) ফুল ডুপ্লেক্স
ঘ) ব্রডকাস্ট

সঠিক উত্তর: গ) ফুল ডুপ্লেক্স

ব্যাখ্যা: মোবাইল ফোনে কোনো বিলম্ব ছাড়াই একই সময়ে দুই প্রান্তের ব্যক্তি কথা বলতে ও শুনতে পারে, যা ফুল ডুপ্লেক্স মোড।


৮। ইউনিকাস্ট (Unicast) মোড কোনটি?

ক) একজন থেকে একজন
খ) একজন থেকে অনেকে
গ) একজন থেকে সবাই
ঘ) অনেকে থেকে একজন

সঠিক উত্তর: ক) একজন থেকে একজন

ব্যাখ্যা: ইউনিকাস্ট মোড হলো নেটওয়ার্কের একটি নোড (প্রেরক) থেকে শুধুমাত্র অন্য একটি নির্দিষ্ট নোডে (প্রাপক) ডাটা পাঠানো। একে One-to-One কমিউনিকেশন বলা হয়।


৯। ভিডিও কনফারেন্সিং বা গ্রুপ ভিডিও চ্যাট কোন ধরনের মোড?

ক) ইউনিকাস্ট
খ) ব্রডকাস্ট
গ) মাল্টিকাস্ট
ঘ) সিমপ্লেক্স

সঠিক উত্তর: গ) মাল্টিকাস্ট

ব্যাখ্যা: ভিডিও কনফারেন্সে নির্দিষ্ট কিছু অনুমোদিত সদস্যের মধ্যে ডাটা আদান-প্রদান হয়। এটি সবার জন্য উন্মুক্ত নয় (ব্রডকাস্ট) আবার একজনের জন্যও নয় (ইউনিকাস্ট)। তাই এটি মাল্টিকাস্ট (One-to-Group)।


১০। টিভির সম্প্রচার কোন মোডের অন্তর্ভুক্ত?

ক) ইউনিকাস্ট
খ) ব্রডকাস্ট
গ) মাল্টিকাস্ট
ঘ) এনি কাস্ট

সঠিক উত্তর: খ) ব্রডকাস্ট

ব্যাখ্যা: টিভি সম্প্রচারে একটি কেন্দ্র থেকে ডাটা পাঠানো হয় এবং নেটওয়ার্কের আওতাধীন সকল টিভি সেই ডাটা গ্রহণ করতে পারে। এটি One-to-All পদ্ধতি বা ব্রডকাস্ট।


১১। নিচের কোনটি ব্রডকাস্ট মোডের উদাহরণ নয়?

ক) রেডিও সম্প্রচার
খ) টেলিভিশন সম্প্রচার
গ) মাইকিং
ঘ) ব্যক্তিগত ইমেইল

সঠিক উত্তর: ঘ) ব্যক্তিগত ইমেইল

ব্যাখ্যা: ব্যক্তিগত ইমেইল একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে পাঠানো হয়, যা ইউনিকাস্ট মোড। বাকিগুলো সবার উদ্দেশ্যে বা ব্যাপক প্রচারের জন্য ব্যবহৃত হয়, তাই সেগুলো ব্রডকাস্ট।


১২। হাফ ডুপ্লেক্স মোডের অসুবিধা কোনটি?

ক) ডাটা পাঠানো যায় না
খ) ধীরগতির যোগাযোগ
গ) খরচ বেশি
ঘ) শুধু শোনা যায়

সঠিক উত্তর: খ) ধীরগতির যোগাযোগ

ব্যাখ্যা: হাফ ডুপ্লেক্স মোডে একই সময়ে ডাটা পাঠানো ও গ্রহণ করা যায় না বলে যোগাযোগের গতি ফুল ডুপ্লেক্সের চেয়ে কম হয়।


১৩। ডাটা প্রবাহের দিকের ওপর ভিত্তি করে ট্রান্সমিশন মোড কত প্রকার?

ক) ২ প্রকার
খ) ৩ প্রকার
গ) ৪ প্রকার
ঘ) ৫ প্রকার

সঠিক উত্তর: খ) ৩ প্রকার

ব্যাখ্যা: ডাটা প্রবাহের দিকের ওপর ভিত্তি করে মোড ৩ প্রকার: ১. সিমপ্লেক্স, ২. হাফ ডুপ্লেক্স, ৩. ফুল ডুপ্লেক্স।


১৪। সিমপ্লেক্স মোড—
i. কীবোর্ড থেকে কম্পিউটারে ডাটা প্রেরণ
ii. কম্পিউটার থেকে প্রিন্টারে ডাটা প্রেরণ
iii. মোবাইল ফোনে কথা বলা

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ক) i ও ii

ব্যাখ্যা: কীবোর্ড এবং প্রিন্টার উভয়েই একমুখী ডাটা প্রবাহ বা সিমপ্লেক্স মোডে কাজ করে। মোবাইল ফোন ফুল ডুপ্লেক্স মোড।


১৫। মাল্টিকাস্ট মোডের বৈশিষ্ট্য হলো—
i. নির্দিষ্ট গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে ডাটা আদান-প্রদান
ii. নেটওয়ার্কের সকল নোড ডাটা গ্রহণ করতে পারে না
iii. এটি ইউনিকাস্টের চেয়ে দ্রুত এবং ব্রডকাস্টের চেয়ে নিরাপদ

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ঘ) i, ii ও iii

ব্যাখ্যা: মাল্টিকাস্ট মোডে ডাটা শুধুমাত্র অনুমোদিত সদস্যদের কাছেই যায়, তাই এটি ব্রডকাস্টের চেয়ে নিরাপদ এবং নির্দিষ্ট গ্রুপের জন্য কার্যকর।


১৬। পেজার (Pager) যন্ত্রটি কোন মোডে কাজ করে?

ক) সিমপ্লেক্স
খ) হাফ ডুপ্লেক্স
গ) ফুল ডুপ্লেক্স
ঘ) মাল্টিকাস্ট

সঠিক উত্তর: ক) সিমপ্লেক্স

ব্যাখ্যা: পুরনো পেজার যন্ত্রগুলোতে শুধুমাত্র মেসেজ রিসিভ করা যেত কিন্তু পাঠানো যেত না। তাই এটি সিমপ্লেক্স মোড।


১৭। এসএমএস (SMS) প্রেরণ কোন মোডের উদাহরণ?

ক) সিমপ্লেক্স
খ) হাফ ডুপ্লেক্স
গ) ইউনিকাস্ট
ঘ) ব্রডকাস্ট

সঠিক উত্তর: গ) ইউনিকাস্ট

ব্যাখ্যা: সাধারণত একটি এসএমএস নির্দিষ্ট একটি মোবাইল নম্বরে পাঠানো হয়, যা One-to-One বা ইউনিকাস্ট মোড। (তবে গ্রুপ এসএমএস হলে মাল্টিকাস্ট হতে পারে, এখানে সাধারণ এসএমএস বোঝানো হয়েছে)।


নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং ১৮ ও ১৯ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:

করিম সাহেব তার অফিসের সকল কর্মচারীর উদ্দেশ্যে একটি নোটিশ পাঠালেন। কিন্তু শুধুমাত্র হিসাব বিভাগের কর্মচারীরাই সেই নোটিশটি দেখতে ও পড়তে পারল।

১৮। উদ্দীপকে কোন মোড ব্যবহার করা হয়েছে?

ক) ইউনিকাস্ট
খ) ব্রডকাস্ট
গ) মাল্টিকাস্ট
ঘ) সিমপ্লেক্স

সঠিক উত্তর: গ) মাল্টিকাস্ট

ব্যাখ্যা: নোটিশটি অফিসের 'সকল' কর্মচারীর জন্য নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট বিভাগ বা গ্রুপের (হিসাব বিভাগ) জন্য কার্যকর ছিল। নির্দিষ্ট গ্রুপের জন্য ডাটা পাঠানো মাল্টিকাস্ট মোড।


১৯। যদি নোটিশটি অফিসের সবাই দেখতে পেত, তবে তা কোন মোড হতো?

ক) ইউনিকাস্ট
খ) ব্রডকাস্ট
গ) মাল্টিকাস্ট
ঘ) ফুল ডুপ্লেক্স

সঠিক উত্তর: খ) ব্রডকাস্ট

ব্যাখ্যা: যদি নেটওয়ার্কের সকল নোড বা সদস্য ডাটা গ্রহণ করতে পারে, তবে তাকে ব্রডকাস্ট মোড বলা হয়।


২০। ফুল ডুপ্লেক্স মোডের বাস্তব উদাহরণ কোনটি?

ক) মাউস
খ) টেলিফোন
গ) পুলিশ রেডিও
ঘ) রেডিও স্টেশন

সঠিক উত্তর: খ) টেলিফোন

ব্যাখ্যা: টেলিফোনে একই সময়ে কথা বলা ও শোনা যায়, যা ফুল ডুপ্লেক্স মোড। মাউস সিমপ্লেক্স, পুলিশ রেডিও হাফ ডুপ্লেক্স এবং রেডিও স্টেশন সিমপ্লেক্স/ব্রডকাস্ট।


২১। কম্পিউটার নেটওয়ার্কিংয়ে কোন মোডটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়?

ক) সিমপ্লেক্স
খ) হাফ ডুপ্লেক্স
গ) ফুল ডুপ্লেক্স
ঘ) কোনোটিই নয়

সঠিক উত্তর: গ) ফুল ডুপ্লেক্স

ব্যাখ্যা: আধুনিক কম্পিউটার নেটওয়ার্ক (যেমন ইন্টারনেট, ল্যান) দ্রুত এবং নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের জন্য ফুল ডুপ্লেক্স মোড ব্যবহার করে।


২২। ব্রডকাস্ট মোডে ডাটা—
i. শুধুমাত্র একজন প্রাপক গ্রহণ করে
ii. নেটওয়ার্কের সবাই গ্রহণ করতে পারে
iii. একমুখী হয়ে থাকে

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: গ) ii ও iii

ব্যাখ্যা: ব্রডকাস্ট মোডে ডাটা নেটওয়ার্কের সবাই পায় এবং এটি সাধারণত একমুখী (সিমপ্লেক্স) প্রকৃতির হয় (যেমন টিভি)।


২৩। হাফ ডুপ্লেক্স মোডে ডাটা স্থানান্তরের জন্য কী প্রয়োজন?

ক) দুটি ভিন্ন চ্যানেল
খ) একটি চ্যানেল ও সময়ের ভাগাভাগি
গ) কোনো চ্যানেল প্রয়োজন নেই
ঘ) একাধিক রিসিভার

সঠিক উত্তর: খ) একটি চ্যানেল ও সময়ের ভাগাভাগি

ব্যাখ্যা: হাফ ডুপ্লেক্স মোডে একই চ্যানেল বা মিডিয়া ব্যবহার করে ডাটা পাঠানো ও গ্রহণ করা হয়, তবে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে (Time Division)।


২৪। নিচের কোনটি 'One-to-All' কমিউনিকেশন?

ক) ইউনিকাস্ট
খ) মাল্টিকাস্ট
গ) ব্রডকাস্ট
ঘ) সিমপ্লেক্স

সঠিক উত্তর: গ) ব্রডকাস্ট

ব্যাখ্যা: 'One-to-All' মানে হলো একজন প্রেরক এবং সবাই প্রাপক, যা ব্রডকাস্ট মোডের মূল সংজ্ঞা।


২৫। মাল্টিকাস্ট মোড ব্যবহৃত হয়—
i. ভিডিও কনফারেন্সে
ii. গ্রুপ চ্যাটিংয়ে
iii. টেলি কনফারেন্সে

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ঘ) i, ii ও iii

ব্যাখ্যা: ভিডিও কনফারেন্স, গ্রুপ চ্যাট এবং টেলি কনফারেন্স—সবগুলোতেই একাধিক নির্দিষ্ট সদস্যের মধ্যে যোগাযোগ হয়, তাই এগুলো মাল্টিকাস্ট মোডের উদাহরণ।