সংখ্যা পদ্ধতির রূপান্তর - ২: বাইনারি, অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেল থেকে ডেসিমেল

এইচএসসি আইসিটি অধ্যায় ৩: বাইনারি, অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেল সংখ্যাকে দশমিক সংখ্যায় রূপান্তরের পূর্ণাঙ্গ নিয়ম। পজিশনাল ওয়েট বা স্থানীয় মান পদ্ধতির বিস্তারিত ব্যাখ্য

শেখা শুরু করুন

সংখ্যা পদ্ধতির রূপান্তর - ২: বাইনারি, অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেল থেকে ডেসিমেল

  1. সংখ্যা পদ্ধতির রূপান্তর - ২
  2. এলিয়েনের বয়স রহস্য!
  3. সাধারণ নিয়ম (Power Series Method)
  4. বাইনারি থেকে দশমিক (পূর্ণসংখ্যা)
  5. ভগ্নাংশের রহস্য: নেগেটিভ পাওয়ার
  6. বাইনারি থেকে দশমিক (ভগ্নাংশ)
  7. অক্টাল থেকে দশমিক (মিশ্র সংখ্যা)
  8. হেক্সাডেসিমেল: A, B, C এর মান
  9. হেক্সাডেসিমেল থেকে দশমিক উদাহরণ
  10. সতর্কতা: সাধারণ ভুলসমূহ (Common Mistakes)
  11. ব্রেইন টিজার: কোনটি বড়?
  12. শর্টকাট টেকনিক (MCQ স্পেশাল)
  13. আজকের সারাংশ
  14. বাড়ির কাজ (Homework)

সংখ্যা পদ্ধতির রূপান্তর - ২

এই লেকচার শেষে আমরা-

১। বাইনারি, অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেল পূর্ণসংখ্যাকে দশমিক সংখ্যায় রূপান্তর করতে পারব।
২। বাইনারি, অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেল ভগ্নাংশকে দশমিক সংখ্যায় রূপান্তর করতে পারব।
৩। স্থানীয় মান (Positional Value) ব্যবহার করে যেকোনো বেস থেকে দশমিকে রূপান্তরের গাণিতিক সমস্যা সমাধান করতে পারব।

সবাইকে স্বাগতম আজকের ক্লাসে। আজ আমরা আইসিটি ৩য় অধ্যায়ের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক শিখব—কীভাবে বাইনারি, অক্টাল বা হেক্সাডেসিমেল সংখ্যাকে আমাদের পরিচিত দশমিক সংখ্যায় রূপান্তর করা যায়। আজকের লেকচারটি একটু মনোযোগ দিয়ে দেখলে এই টপিক নিয়ে আর কখনো কনফিউশন থাকবে না। এই লেকচার শেষে আমরা- ১। যেকোনো বেসের পূর্ণসংখ্যাকে দশমিক সংখ্যায় রূপান্তর করতে পারব, ২। ভগ্নাংশ সংখ্যাকেও দশমিকে নিতে পারব এবং ৩। স্থানীয় মান ব্যবহার করে যেকোনো জটিল সংখ্যার রূপান্তর করতে পারব। চলো শুরু করা যাক!

এলিয়েনের বয়স রহস্য!

গল্প:
- এলিয়েন বলল: "আমার বয়স (১০০)₂ বছর!"
- মানুষ ভাবল: ১০০ বছর।
- আসলে বয়স: মাত্র বছর!

কেন এমন হলো?
উত্তর লুকিয়ে আছে 'বেস' (Base) এর মধ্যে। বাইনারিতে '১০০' মানে দশমিকে '৪'!

চলো একটা মজার গল্প দিয়ে শুরু করি। ধরো, একদিন এক এলিয়েন পৃথিবীতে এসে বলল, 'আমার বয়স ১০০ বছর'। আমরা ভাবলাম, ওরে বাবা! ১০০ বছর! কিন্তু সে আসলে বাইনারি ভাষায় কথা বলছিল। বাইনারিতে যাকে ১-শূন্য-শূন্য বা (১০০)২ বলা হয়, আমাদের দশমিক বা ডেসিমেল সিস্টেমে তার মান মাত্র ৪! তার মানে এলিয়েনটির বয়স মাত্র ৪ বছর। এখন প্রশ্ন হলো, ভিন্ন ভিন্ন গ্রহের বা ভিন্ন ভিন্ন বেসের এই সংখ্যাগুলোকে আমরা কীভাবে আমাদের পরিচিত দশমিক ভাষায় বুঝব? এই রহস্যটি লুকিয়ে আছে 'পাওয়ার' বা 'ঘাত' এর মধ্যে।

সাধারণ নিয়ম (Power Series Method)

যেকোনো বেস থেকে দশমিকে রূপান্তর:
$$Sum = \sum (Digit \times Base^{Power})$$

পাওয়ার বসানোর নিয়ম:
১. রেডিক্স পয়েন্ট (.) এর বামে: $0, 1, 2, 3...$ (ডান থেকে বামে)
২. রেডিক্স পয়েন্ট (.) এর ডানে: $-1, -2, -3...$ (বাম থেকে ডানে)

যেকোনো সংখ্যা পদ্ধতি থেকে দশমিকে আসার নিয়ম একটাই—একে বলা হয় 'পাওয়ার সিরিজ মেথড'। নিয়মটা খুব সহজ। তোমাকে শুধু দুটি কাজ করতে হবে। প্রথমত, প্রতিটি অঙ্ক বা ডিজিটকে সেই সংখ্যা পদ্ধতির 'বেস' দিয়ে গুণ করতে হবে। আর দ্বিতীয়ত, বেসের ওপর সঠিক 'পাওয়ার' বা ঘাত বসাতে হবে। পাশের চিত্রটি খেয়াল করো। পূর্ণসংখ্যার ক্ষেত্রে আমরা ডান দিক থেকে বাম দিকে পাওয়ার বসাব ০, ১, ২, ৩ এভাবে। আর যদি দশমিক বিন্দু বা রেডিক্স পয়েন্ট থাকে, তবে তার পরের অংশ অর্থাৎ ভগ্নাংশের জন্য পাওয়ার হবে -১, -২, -৩ এভাবে।

বাইনারি থেকে দশমিক (পূর্ণসংখ্যা)

উদাহরণ: $(১১০১)_২ \rightarrow (?)_১_০$

ধাপ ১: পজিশন বা পাওয়ার বসানো
$১ \rightarrow ৩, ১ \rightarrow ২, ০ \rightarrow ১, ১ \rightarrow ০$

ধাপ ২: মান নির্ণয়
$= ১ \times ২^৩ + ১ \times ২^২ + ০ \times ২^১ + ১ \times ২^০$
$= ৮ + ৪ + ০ + ১$
$= (১৩)_১_০$

প্রথমে আমরা একটি পূর্ণসংখ্যা দেখি। (১১০১)২। একে দশমিকে নেব। প্রথমে সংখ্যাটির ওপর ছোট করে পাওয়ার লিখে ফেলবে। একদম ডানের ১ এর ওপর ০, তার বামের ০ এর ওপর ১, এরপর ২, এরপর ৩। এবার হিসাব শুরু। ১ গুণ ২ এর পাওয়ার ৩, যোগ ১ গুণ ২ এর পাওয়ার ২, যোগ ০ গুণ ২ এর পাওয়ার ১, যোগ ১ গুণ ২ এর পাওয়ার ০। এখানে খেয়াল রাখবে, ০ দিয়ে যাই গুণ করো তা ০ হয়ে যাবে। আর কোনো কিছুর পাওয়ার ০ হলে তার মান ১ হয়। তাহলে আমরা পাচ্ছি ৮ যোগ ৪ যোগ ০ যোগ ১। অর্থাৎ ১৩। খুব সহজ, তাই না?

ভগ্নাংশের রহস্য: নেগেটিভ পাওয়ার

ভগ্নাংশের ক্ষেত্রে বেসের পাওয়ার ঋণাত্মক হয়।

বাইনারি বেস (২) এর ঋণাত্মক মান:
- $২^{-১} = ১/২ = ০.৫$
- $২^{-২} = ১/৪ = ০.২৫$
- $২^{-৩} = ১/৮ = ০.১২৫$
- $২^{-৪} = ১/১৬ = ০.০৬২৫$

পূর্ণসংখ্যা তো বুঝলাম, কিন্তু ভগ্নাংশ? ভগ্নাংশের জন্য আমাদের 'ঋণাত্মক পাওয়ার' বা নেগেটিভ পাওয়ার ব্যবহার করতে হবে। বাইনারির ক্ষেত্রে বেস যেহেতু ২, তাই দশমিকের পরের প্রথম ঘরের মান হবে ২ ইনভার্স ১, বা ১ ভাগ ২, যা হলো ০.৫। পরেরটা ২ ইনভার্স ২, বা ১ ভাগ ৪, যা হলো ০.২৫। এই চার্টটি দেখো। এই মানগুলো—বিশেষ করে ০.৫, ০.২৫ এবং ০.১২৫—একটু মনে রাখলে তোমাদের অঙ্ক করতে অনেক সময় বাঁচবে।

বাইনারি থেকে দশমিক (ভগ্নাংশ)

উদাহরণ: $(০.১০১)_২ \rightarrow (?)_১_০$

হিসাব:
$= ১ \times ২^{-১} + ০ \times ২^{-২} + ১ \times ২^{-৩}$
$= ১ \times ০.৫ + ০ + ১ \times ০.১২৫$
$= ০.৫ + ০ + ০.১২৫$
$= (০.৬২৫)_১_০$

এবার এসো একটি বাইনারি ভগ্নাংশ করি। (০.১০১)২। এখানে রেডিক্স পয়েন্টের ঠিক পরের ১ এর পাওয়ার হবে -১। তারপরের ০ এর পাওয়ার -২, এবং শেষের ১ এর পাওয়ার -৩। তাহলে সমীকরণটি দাঁড়াচ্ছে: ১ গুণ ২ ইনভার্স ১, যোগ ০, যোগ ১ গুণ ২ ইনভার্স ৩। আমরা জানি ২ ইনভার্স ১ মানে ০.৫ এবং ২ ইনভার্স ৩ মানে ০.১২৫। এগুলো যোগ করলেই পেয়ে যাবে ০.৬২৫। দেখছ? নিয়ম কিন্তু সেই একই, শুধু পাওয়ারটা নেগেটিভ।

অক্টাল থেকে দশমিক (মিশ্র সংখ্যা)

উদাহরণ: $(২৩.৪)_৮ \rightarrow (?)_১_০$

পূর্ণাংশ (২৩): $২ \times ৮^১ + ৩ \times ৮^০$
$= ১৬ + ৩ = ১৯$

ভগ্নাংশ (.৪): $৪ \times ৮^{-১}$
$= ৪ \times (১/৮) = ৪/৮ = ০.৫$

ফলাফল: $১৯ + ০.৫ = (১৯.৫)_১_০$

বাইনারি তো হলো, এবার চল অক্টাল দেখি। ধরো সংখ্যাটি (২৩.৪)৮। নিয়ম কি বদলাবে? একদম না! শুধু বেস ২ এর জায়গায় ৮ বসবে। পূর্ণাংশ ২৩ এর জন্য: ২ গুণ ৮ এর পাওয়ার ১, যোগ ৩ গুণ ৮ এর পাওয়ার ০। মনে রেখো, ৮ এর পাওয়ার ০ মানে কিন্তু ১। তাহলে পেলাম ১৬ যোগ ৩, অর্থাৎ ১৯। এবার ভগ্নাংশ .৪ এর পালা। এটা হবে ৪ গুণ ৮ ইনভার্স ১। মানে ৪ ভাগ ৮, যা হলো ০.৫। তাহলে উত্তর কত? ১৯.৫। সিম্পল!

হেক্সাডেসিমেল: A, B, C এর মান

A-F এর মান:
- $A = ১০$
- $B = ১১$
- $C = ১২$
- $D = ১৩$
- $E = ১৪$
- $F = ১৫$

টিপস: অঙ্কের সময় A, B দেখলে পাশে ছোট করে (১০), (১১) লিখে নেবে।

হেক্সাডেসিমেল থেকে দশমিকে যাওয়ার আগে একটা জায়গায় সবাই ভুল করে। হেক্সাডেসিমেলে আমরা A, B, C, D, E, F ব্যবহার করি। কিন্তু গুণের সময় তো আর তুমি A দিয়ে গুণ করতে পারবে না! তাই এদের মানগুলো মনে রাখতে হবে। A মানে ১০, B মানে ১১... এভাবে F মানে ১৫। পাশের চার্টটি দেখো। অঙ্কের সময় যখনই A বা B দেখবে, সাথে সাথে পেন্সিল দিয়ে পাশে ছোট করে ১০ বা ১১ লিখে রাখবে, যাতে ভুল না হয়।

হেক্সাডেসিমেল থেকে দশমিক উদাহরণ

উদাহরণ: $(1A.8)_{১৬} \rightarrow (?)_১_০$

বিশ্লেষণ:
- $১ \times ১৬^১ \rightarrow ১ \times ১৬ = ১৬$
- $A \times ১৬^০ \rightarrow ১০ \times ১ = ১০$ [A=১০]
- $৮ \times ১৬^{-১} \rightarrow ৮/১৬ = ০.৫$

ফলাফল: $১৬ + ১০ + ০.৫ = (২৬.৫)_১_০$

চলো একটি হেক্সাডেসিমেল সংখ্যা (1A.8)১৬ কে দশমিকে নেই। প্রথমে ১ এর সাথে ১৬ পাওয়ার ১। এরপর A... থামো! A মানে কত? ১০। ঠিক। তাহলে ১০ গুণ ১৬ পাওয়ার ০। আর শেষে ৮ গুণ ১৬ ইনভার্স ১। হিসাব করলে পাই: ১৬, যোগ ১০ (কারণ ১৬ পাওয়ার ০ মানে ১), যোগ ৮ ভাগ ১৬ মানে ০.৫। সব মিলিয়ে ২৬.৫। দেখেছ? A এর মান ১০ না বসালে অঙ্কটা মিলত না।

সতর্কতা: সাধারণ ভুলসমূহ (Common Mistakes)

১. ভুল বেস দিয়ে গুণ করা:
❌ বাইনারি অঙ্ক $\times ১০$
✅ বাইনারি অঙ্ক $\times ২$

২. পাওয়ার ০ এর মান ভুল করা:
❌ $৫ \times ৮^০ = ৫ \times ০ = ০$
✅ $৫ \times ৮^০ = ৫ \times ১ = ৫$

এই অঙ্কগুলো করতে গিয়ে তোমরা সাধারণত ৩-৪টি ভুল করো। ১ নম্বর: বেস দিয়ে গুণ না করে ভুলে ১০ দিয়ে গুণ করে ফেলো। এটা করা যাবে না। ২ নম্বর এবং সবচেয়ে কমন ভুল: কোনো কিছুর পাওয়ার ০ হলে তোমরা পুরো মানটা ০ বসিয়ে দাও। যেমন ৫ গুণ ৮ পাওয়ার ০ কে তোমরা ০ লেখো। কিন্তু ৮ পাওয়ার ০ মানে ১! তাই ওটা ৫ হবে। আর ৩ নম্বর: ভগ্নাংশের পাওয়ার -১ এর বদলে ০ বা ১ থেকে শুরু করা। এই ভুলগুলো এড়িয়ে চললে ফুল মার্কস নিশ্চিত।

ব্রেইন টিজার: কোনটি বড়?

সমস্যা: $(F9)_{১৬}$ এবং $(11111001)_২$

প্রশ্ন: এই দুটি সংখ্যা কি সমান?

হিন্টস:
- $F9 \rightarrow ১৫ \times ১৬ + ৯ = ২৪৯$
- $১১১১১০০১ \rightarrow ১২৮+৬৪+৩২+১৬+৮+১ = ২৪৯$

সিদ্ধান্ত: উভয়ই সমান!

এবার তোমাদের পালা। ভিডিওটা এখন একটু পজ করো। স্ক্রিনে দুটি সংখ্যা দেখতে পাচ্ছ—হেক্সাডেসিমেলে F9 এবং বাইনারিতে 11111001। তোমাদের বের করতে হবে এই দুটি সংখ্যা কি সমান না ভিন্ন? খাতায় ঝটপট করে ফেলো। (একটু পজ)... করেছ? চলো মিলাই। F9 কে দশমিকে নিলে হয় ২৪৯। আবার বাইনারি সংখ্যাটিকে দশমিকে নিলেও হয় ২৪৯। অর্থাৎ, দেখতে ভিন্ন হলেও মান আসলে একই। যারা পেরেছ, তাদের অভিনন্দন!

শর্টকাট টেকনিক (MCQ স্পেশাল)

বাইনারি থেকে দশমিকে দ্রুত রূপান্তর:
ধারা: $...১২৮, ৬৪, ৩২, ১৬, ৮, ৪, ২, ১$

উদাহরণ: $১০১০১ = ?$

  • যেগুলোর নিচে আছে সেগুলো যোগ করো:
  • $১৬ + ৪ + ১ = ২১$

এমসিকিউ বা অবজেকটিভ পরীক্ষার জন্য কি এত বড় অঙ্ক করার সময় আছে? নেই। তাই এখন শিখব 'ম্যাজিক সিরিজ' টেকনিক। বাইনারি থেকে দশমিকে আসার জন্য ডান থেকে বামে দ্বিগুণ করে সিরিজটি লিখবে: ১, ২, ৪, ৮, ১৬, ৩২...। এবার তোমার বাইনারি সংখ্যাটি এই সিরিজের নিচে বসাও। যাদের নিচে '১' আছে, শুধু সেই সংখ্যাগুলো যোগ করো। যেমন ১০১০১। এখানে ১৬, ৪ আর ১ এর নিচে ১ আছে। ১৬+৪+১ কত হয়? ২১। ক্যালকুলেটর ছাড়াই ৫ সেকেন্ডে উত্তর!

আজকের সারাংশ

  1. রূপান্তর সূত্র: $\sum (অঙ্ক \times বেস^{পাওয়ার})$
  2. পূর্ণসংখ্যার পাওয়ার: $০, ১, ২...$ (ডান থেকে বামে)
  3. ভগ্নাংশের পাওয়ার: $-১, -২, -৩...$ (বাম থেকে ডানে)
  4. হেক্সাডেসিমেল: $A-F$ এর মান $(১০-১৫)$ বসাতে ভুলবে না।

আজকে আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখলাম। মনে রাখার মূলমন্ত্র হলো—অন্য বেস থেকে দশমিকে আসতে হলে আমাদের 'গুণ ও যোগ' করতে হবে। পূর্ণসংখ্যার জন্য পাওয়ার ০ থেকে শুরু করে বাড়াব, আর ভগ্নাংশের জন্য -১ থেকে শুরু করব। আর হ্যাঁ, হেক্সাডেসিমেলের A থেকে F এর মানগুলো ভুলবে না কিন্তু! এই নিয়মটা বুঝলে সংখ্যা পদ্ধতির অর্ধেক ভয়ই কেটে যাবে।

বাড়ির কাজ (Homework)

নিজেরা চেষ্টা করো:

প্র্যাকটিস ছাড়া অঙ্ক শেখা অসম্ভব। তাই তোমাদের জন্য ছোট তিনটি বাড়ির কাজ রইল। স্ক্রিনে দেওয়া এই তিনটি সংখ্যাকে দশমিকে রূপান্তর করবে। উত্তরগুলো বের করে তোমরা চাইলে ক্যালকুলেটরের 'Base Mode' এ গিয়ে মিলিয়ে দেখতে পারো তোমারটা হয়েছে কিনা। পরের ক্লাসে আমরা উল্টোটা শিখব, মানে দশমিক থেকে কীভাবে বাইনারিতে যাওয়া যায়। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থেকো, আল্লাহ হাফেজ!

পাঠ ৩.২: সংখ্যা পদ্ধতির রূপান্তর - ২ (বাইনারি, অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেল থেকে দশমিক)

পড়তে প্রায় 12 মিনিট

সংখ্যা পদ্ধতির জগতে "এলিয়েনদের ভাষা" বা মেশিনের ভাষা (বাইনারি, অক্টাল, হেক্সাডেসিমেল) বোঝা মানুষের জন্য কঠিন। কারণ আমরা ছোটবেলা থেকে দশমিক বা ডেসিমেল (১০ ভিত্তিক) সংখ্যা পদ্ধতিতে অভ্যস্ত। কম্পিউটার যা কিছুই প্রসেস করুক না কেন—তা হতে পারে একটি ছবি, ভিডিও বা টেক্সট—সবই সে বাইনারি (0, 1) আকারে সংরক্ষণ করে। কিন্তু ফলাফল প্রদর্শনের সময় সেটিকে আমাদের বোধগম্য ডেসিমেল সংখ্যায় রূপান্তর করে দেখায়।

আইসিটি বা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে ভালো করতে হলে এই "মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজ" থেকে "হিউম্যান ল্যাঙ্গুয়েজ"-এ রূপান্তর করার গাণিতিক প্রক্রিয়াটি নখদর্পণে থাকা চাই। বিশেষ করে সৃজনশীল প্রশ্নের গাণিতিক সমস্যা সমাধানের জন্য এই পাঠটি ভিত্তিস্বরূপ কাজ করবে। এই পাঠে আমরা শিখব কীভাবে যেকোনো বেইজ বা ভিত্তির সংখ্যাকে দশমিকে রূপান্তর করা যায়।

রূপান্তরের মূলনীতি: স্থানীয় মান বা পজিশনাল ওয়েট

যেকোনো পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতিতে একটি সংখ্যার মান বের করার জন্য তিনটি উপাদানের প্রয়োজন হয়:
১. সংখ্যাটির নিজস্ব মান (Face Value)
২. সংখ্যাটির ভিত্তি (Base)
৩. সংখ্যাটির অবস্থান বা স্থানীয় মান (Positional Value)

এই পদ্ধতিতে প্রতিটি অংক বা Digit-এর একটি নির্দিষ্ট অবস্থান বা Index থাকে। এই অবস্থান নির্ধারণ করা হয় রেডিক্স পয়েন্ট (Radix Point) বা দশমিক বিন্দুর সাপেক্ষে।

Positional Number System Diagram showing MSD, LSD and Radix Point

উপরের চিত্রটি লক্ষ্য করো। রেডিক্স পয়েন্টের বাম দিকের অংশকে বলা হয় পূর্ণাংশ (Integer Part) এবং ডান দিকের অংশকে বলা হয় ভগ্নাংশ (Fractional Part)।

  • পূর্ণাংশের ক্ষেত্রে: পাওয়ার বা ঘাত ডান থেকে বামে বাড়ে। শুরু হয় ০ থেকে ($০, ১, ২, ৩...$)।
  • ভগ্নাংশের ক্ষেত্রে: পাওয়ার বা ঘাত বাম থেকে ডানে কমে। শুরু হয় -১ থেকে ($-১, -২, -৩...$)।

সংজ্ঞা (Definition): পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতি হলো এমন একটি পদ্ধতি যেখানে কোনো সংখ্যার প্রতিটি অংকের নিজস্ব মানের সাথে তার স্থানীয় মান (ভিত্তি ও অবস্থানের ঘাত) গুণ করে যে সমষ্টি পাওয়া যায়, তাই হলো ঐ সংখ্যার প্রকৃত মান।

এখানে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো MSD এবং LSD। পূর্ণসংখ্যার একদম বামের অংকটির স্থানীয় মান সবচেয়ে বেশি, তাই একে MSD (Most Significant Digit) বলা হয়। আর একদম ডানের অংকটির (বা ভগ্নাংশের ক্ষেত্রে সর্বডানের) স্থানীয় মান সবচেয়ে কম, তাই একে LSD (Least Significant Digit) বলা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ (Important):
- পূর্ণসংখ্যার পাওয়ার গণনা শুরু করবে ০ থেকে, ১ থেকে নয়।
- যেকোনো সংখ্যার পাওয়ার ০ হলে তার মান ১ হয়। অর্থাৎ $x^0 = 1$ (যেখানে $x \neq 0$)। যেমন: $2^0 = 1, 8^0 = 1, 16^0 = 1$।
- ভগ্নাংশের ক্ষেত্রে পাওয়ার সবসময় ঋণাত্মক হবে ($-1, -2...$)।

সাধারণ সূত্র (The General Formula)

যেকোনো বেইজ থেকে দশমিকে রূপান্তরের জন্য আমরা একটি সাধারণ সূত্র ব্যবহার করি। একে পলিনোমিয়াল এক্সপ্যানশন (Polynomial Expansion) বলা হয়।

$$(N)_{10} = \sum_{i=-m}^{n-1} (d_i \times B^i)$$
যেখানে,
- $N$ = দশমিক মান
- $d$ = অংক বা Digit
- $B$ = ভিত্তি বা Base
- $i$ = অংকের অবস্থান বা Index (পাওয়ার)

সহজ কথায়, প্রতিটি অংককে তার বেস এবং পজিশনাল পাওয়ার দিয়ে গুণ করে যোগ করলেই দশমিক মান পাওয়া যায়।


বাইনারি থেকে দশমিকে রূপান্তর (Binary to Decimal)

বাইনারি সংখ্যার বেস ২। তাই এখানে প্রতিটি বিটকে ২ এর পাওয়ার দিয়ে গুণ করতে হয়। পরীক্ষায় সাধারণত পূর্ণসংখ্যা এবং ভগ্নাংশ মিলিয়ে একটি মিশ্র সংখ্যা দেওয়া থাকে।

উদাহরণ (Example): $(1101.101)_2$ কে দশমিকে রূপান্তর করো।

সমাধান:
প্রথমে আমরা প্রতিটি বিটের পজিশন বা পাওয়ার নির্ধারণ করি।
রেডিক্স পয়েন্টের বামে: $1(3) \quad 1(2) \quad 0(1) \quad 1(0)$
রেডিক্স পয়েন্টের ডানে: $1(-1) \quad 0(-2) \quad 1(-3)$

এখন সূত্র প্রয়োগ করি:
$$= 1 \times 2^3 + 1 \times 2^2 + 0 \times 2^1 + 1 \times 2^0 + 1 \times 2^{-1} + 0 \times 2^{-2} + 1 \times 2^{-3}$$
$$= 1 \times 8 + 1 \times 4 + 0 \times 2 + 1 \times 1 + 1 \times 0.5 + 0 \times 0.25 + 1 \times 0.125$$
$$= 8 + 4 + 0 + 1 + 0.5 + 0 + 0.125$$
$$= (13.625)_{10}$$

উত্তর: $(1101.101)_2 = (13.625)_{10}$

পরীক্ষার টিপস (Exam Tip):
এমসিকিউ (MCQ) প্রশ্নের জন্য দ্রুত করার একটি ট্রিক আছে। পূর্ণসংখ্যার জন্য ডান দিক থেকে ১, ২, ৪, ৮, ১৬, ৩২... ধারাটি মনে মনে বসিয়ে যেগুলোর নিচে ১ আছে শুধু সেগুলো যোগ করো।
যেমন: ১ ১০১ $\to$ (৮+৪+১) = ১৩।
আর ভগ্নাংশের জন্য ০.৫ ($2^{-1}$), ০.২৫ ($2^{-2}$), ০.১২৫ ($2^{-3}$) মানগুলো মুখস্থ রাখলে সময় বাঁচবে।


অক্টাল থেকে দশমিকে রূপান্তর (Octal to Decimal)

অক্টাল সংখ্যার বেস ৮। পদ্ধতি হুবহু বাইনারির মতো, শুধু গুণের ভিত্তি হবে ৮। শিক্ষার্থীদের এখানে সবচেয়ে বড় ভুল হয় ৮ এর নামতা বা পাওয়ার ভুল করায়।

উদাহরণ (Example): $(207.4)_8$ কে দশমিকে রূপান্তর করো।

সমাধান:
$$= 2 \times 8^2 + 0 \times 8^1 + 7 \times 8^0 + 4 \times 8^{-1}$$
$$= 2 \times 64 + 0 \times 8 + 7 \times 1 + 4 \times \frac{1}{8}$$
$$= 128 + 0 + 7 + 0.5$$
$$= (135.5)_{10}$$

উত্তর: $(207.4)_8 = (135.5)_{10}$

সতর্কতা (Caution):
অক্টাল সংখ্যায় কখনোই ৮ বা ৯ অংকটি থাকবে না। যদি প্রশ্নে $(78)_8$ বা $(19)_8$ দেওয়া থাকে, তবে বুঝবে প্রশ্নটি ভুল বা এটি একটি ট্রিক প্রশ্ন। এটি এমসিকিউতে 'নিচের কোনটি সঠিক নয়' টাইপের প্রশ্নে প্রায়ই আসে।


হেক্সাডেসিমেল থেকে দশমিকে রূপান্তর (Hexadecimal to Decimal)

এটি শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর অংশ কারণ এখানে ইংরেজি বর্ণ (A-F) থাকে। হেক্সাডেসিমেল থেকে দশমিকে নেওয়ার সময় বর্ণের মান বসিয়ে গুণ করতে হয়।

মনে রাখবে: হেক্সাডেসিমেল অংকগুলোর দশমিক মান:
A = 10, B = 11, C = 12, D = 13, E = 14, F = 15
অঙ্কে সরাসরি লেটার দিয়ে গুণ করা যাবে না, এই মানগুলো বসাতে হবে।

উদাহরণ (Example): $(2B.C)_{16}$ কে দশমিকে রূপান্তর করো।

সমাধান:
$$= 2 \times 16^1 + B \times 16^0 + C \times 16^{-1}$$
মান বসিয়ে পাই (B=11, C=12):
$$= 2 \times 16 + 11 \times 1 + 12 \times \frac{1}{16}$$
$$= 32 + 11 + \frac{12}{16}$$
$$= 43 + 0.75$$
$$= (43.75)_{10}$$

উত্তর: $(2B.C)_{16} = (43.75)_{10}$

হেক্সাডেসিমেল ভগ্নাংশের ক্ষেত্রে ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে ভাগফল বের করা সুবিধাজনক। যেমন $12 \div 16 = 0.75$। যদি আরও ঘর থাকে, যেমন $D \times 16^{-2}$, তবে $13 \div 256$ করতে হবে।


পরীক্ষায় সাধারণ ভুলসমূহ ও সমাধান

পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা যায় শিক্ষার্থীরা কিছু নির্দিষ্ট জায়গায় বারবার ভুল করে:

  1. পাওয়ার গণনায় ভুল: দশমিকের পরে অনেকে -১ এর বদলে ০ বা ১ থেকে পাওয়ার শুরু করে। মনে রাখবে, রেডিক্স পয়েন্টের ডানে সবসময় ঋণাত্মক পাওয়ার ($-১, -২...$) হবে।
  2. ০ পাওয়ারের মান: কোনো কিছুর পাওয়ার ০ হলে তার মান ০ বসিয়ে দেওয়া একটি কমন ভুল। সর্বদা $x^0 = 1$ বসাবে।
  3. হেক্সাডেসিমেল ভীতি: হেক্সাডেসিমেলের লেটার (A, B) দেখে অনেকে ঘাবড়ে যায় বা গুণ না করে পাশাপাশি বসিয়ে দেয়। যেমন $2B$ কে $211$ লিখে ফেলে, যা ভুল। সঠিক হলো $2 \times 16 + 11$।

সংক্ষিপ্ত সারাংশ (Quick Revision):
- সূত্র: $\sum (\text{অংক} \times \text{বেস}^{\text{পাওয়ার}})$
- পাওয়ার (পূর্ণসংখ্যা): ডান থেকে বামে $(০, ১, ২...)$
- পাওয়ার (ভগ্নাংশ): বাম থেকে ডানে $(-১, -২...)$
- বাইনারি: বেস ২, শর্টকাট (১, ২, ৪, ৮...)
- অক্টাল: বেস ৮, অংক ০-৭ পর্যন্ত।
- হেক্সাডেসিমেল: বেস ১৬, A=10 থেকে F=15।

পরিভাষা (Glossary)

পরিভাষা (Term) সংজ্ঞা (Definition)
Radix Point সংখ্যা পদ্ধতির ভগ্নাংশ ও পূর্ণঅংশকে পৃথককারী বিন্দু (দশমিকে একে দশমিক বিন্দু বলে)।
MSD Most Significant Digit বা সর্বোচ্চ গুরুত্বের অংক, যা পূর্ণসংখ্যার একদম বামে থাকে। এর স্থানীয় মান সবচেয়ে বেশি।
LSD Least Significant Digit বা সর্বনিম্ন গুরুত্বের অংক, যা সংখ্যার একদম ডানে থাকে। এর স্থানীয় মান সবচেয়ে কম।
Positional Number System যে সংখ্যা পদ্ধতিতে অংকের মানের পাশাপাশি তার অবস্থানের (স্থানীয় মান) গুরুত্ব আছে। যেমন: বাইনারি, দশমিক, অক্টাল।

অনুশীলনের প্রশ্ন

সৃজনশীল প্রশ্ন

সৃজনশীল প্রশ্ন ১

রাইসা তার কম্পিউটারের আইপি অ্যাড্রেস চেক করার সময় দেখল একটি অংশ হলো (11000000)₂। তার ভাই বলল, এটি আসলে দশমিকে ১৯২। পরবর্তীতে সে একটি বইয়ের দামে (A5)₁₆ লেখা দেখল, যা তাকে অবাক করল।

ক) পজিশনাল ওয়েট বা স্থানীয় মান কী?
খ) বাইনারি সংখ্যাকে দশমিকে রূপান্তরের সময় ২-এর ঘাত কেন ব্যবহৃত হয়?
গ) উদ্দীপকের বাইনারি সংখ্যাটিকে দশমিকে রূপান্তরের প্রক্রিয়া দেখাও।
ঘ) উদ্দীপকের বইয়ের দাম (A5)₁₆ কে দশমিকে রূপান্তর করে দেখাও যে এটি একটি স্বাভাবিক সংখ্যা এবং এর মান কত।

উত্তর

(ক) কোনো সংখ্যার প্রতিটি অংক তার অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে যে মান প্রদান করে, তাকে ঐ অংকের পজিশনাল ওয়েট বা স্থানীয় মান বলে।

(খ) বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতির বেস বা ভিত্তি হলো ২। তাই বাইনারি থেকে অন্য যেকোনো সংখ্যা পদ্ধতিতে (যেমন: দশমিকে) রূপান্তরের সময় প্রতিটি অংককে তার অবস্থানের ভিত্তিতে ২-এর ঘাত (power) দিয়ে গুণ করে মান নির্ণয় করা হয়।

(গ) উদ্দীপকে প্রদত্ত বাইনারি সংখ্যাটি হলো (11000000)₂।
একে দশমিকে রূপান্তরের প্রক্রিয়া নিচে দেখানো হলো:

(11000000)₂ = 1 × 2⁷ + 1 × 2⁶ + 0 × 2⁵ + 0 × 2⁴ + 0 × 2³ + 0 × 2² + 0 × 2¹ + 0 × 2⁰
= 1 × 128 + 1 × 64 + 0 + 0 + 0 + 0 + 0 + 0
= 128 + 64
= 192

সুতরাং, (11000000)₂ = (192)₁₀।

(ঘ) উদ্দীপকে বইয়ের দাম দেওয়া আছে (A5)₁₆। এটি একটি হেক্সাডেসিমেল সংখ্যা।
একে দশমিকে রূপান্তরের ধাপসমূহ:

আমরা জানি, হেক্সাডেসিমেলে A = 10।

(A5)₁₆ = A × 16¹ + 5 × 16⁰
= 10 × 16 + 5 × 1
= 160 + 5
= 165

প্রাপ্ত দশমিক মান ১৬৫, যা একটি ধনাত্মক পূর্ণসংখ্যা বা স্বাভাবিক সংখ্যা।
সুতরাং, বইয়ের দাম ১৬৫ টাকা।


সৃজনশীল প্রশ্ন ২

একটি ল্যাবে দুটি ডিজিটাল যন্ত্রের রিডিং পাওয়া গেল যথাক্রমে (৫০.৪)₈ এবং (১০১.১১০)₂। ল্যাব সহকারীকে এই মানগুলো সাধারণ দশমিক স্কেলে রেকর্ড করতে হবে যাতে পরবর্তীতে তুলনা করা সহজ হয়।

ক) র‍্যাডিক্স পয়েন্ট কী?
খ) (২৭)₈ সঠিক হলেও (২৮)₈ কেন সঠিক নয়? ব্যাখ্যা কর।
গ) প্রথম যন্ত্রের রিডিং (৫০.৪)₈ কে দশমিকে রূপান্তর কর।
ঘ) দ্বিতীয় যন্ত্রের রিডিং (১০১.১১০)₂ কে দশমিকে রূপান্তর করে যন্ত্র দুটির মানের পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

(ক) পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতিতে পূর্ণাংশ ও ভগ্নাংশকে আলাদা করার জন্য যে বিন্দু (.) ব্যবহৃত হয়, তাকে র‍্যাডিক্স পয়েন্ট বলে।

(খ) অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতির বেস হলো ৮ এবং এতে ব্যবহৃত অংকগুলো হলো ০ থেকে ৭ পর্যন্ত। (২৭)₈ সংখ্যাটিতে ২ ও ৭ অংক দুটি ০-৭ সীমার মধ্যে থাকায় এটি সঠিক। কিন্তু (২৮)₈ সংখ্যাটিতে '৮' অংকটি রয়েছে, যা অক্টাল পদ্ধতিতে অগ্রহণযোগ্য। তাই (২৮)₈ সঠিক নয়।

(গ) প্রথম যন্ত্রের রিডিং: (50.4)₈
দশমিকে রূপান্তর:
(50.4)₈ = 5 × 8¹ + 0 × 8⁰ + 4 × 8⁻¹
= 5 × 8 + 0 × 1 + 4 × (1/8)
= 40 + 0 + 0.5
= 40.5

সুতরাং, (50.4)₈ = (40.5)₁₀

(ঘ) দ্বিতীয় যন্ত্রের রিডিং: (101.110)₂
দশমিকে রূপান্তর:
(101.110)₂ = 1 × 2² + 0 × 2¹ + 1 × 2⁰ + 1 × 2⁻¹ + 1 × 2⁻² + 0 × 2⁻³
= 1 × 4 + 0 + 1 × 1 + 1 × 0.5 + 1 × 0.25 + 0
= 4 + 1 + 0.5 + 0.25
= 5.75

এখন, দুটি যন্ত্রের মানের পার্থক্য নির্ণয়:
প্রথম যন্ত্রের মান = 40.5
দ্বিতীয় যন্ত্রের মান = 5.75
পার্থক্য = 40.5 - 5.75 = 34.75

বিশ্লেষণ: উদ্দীপকের প্রথম যন্ত্রের মান দ্বিতীয় যন্ত্রের চেয়ে দশমিকে ৩৪.৭৫ বেশি।


সৃজনশীল প্রশ্ন ৩

আইসিটি ক্লাসে শিক্ষক বোর্ডে দুটি সংখ্যা লিখলেন: চিত্র-১ এ (2F)₁₆ এবং চিত্র-২ এ (101011)₂। তিনি বললেন, এই দুটি সংখ্যা যথাক্রমে ক্লাসের দুইজন ছাত্রের রোল নম্বর। তিনি ছাত্রদের সংখ্যা দুটিকে প্রচলিত দশমিক পদ্ধতিতে রূপান্তর করতে বললেন।

ক) বিট কী?
খ) পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতির তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখ।
গ) চিত্র-১ এর সংখ্যাটিকে দশমিকে রূপান্তর কর।
ঘ) চিত্র-২ এর সংখ্যাটিকে দশমিকে রূপান্তর করে উদ্দীপকের দুটি রোল নম্বরের ব্যবধান নির্ণয় কর।

উত্তর

(ক) বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতির মৌলিক অংক ০ এবং ১ কে বিট (Bit) বা বাইনারি ডিজিট বলে।

(খ) পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতির তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো:
১. এই পদ্ধতিতে সংখ্যার নিজস্ব মান থাকে।
২. সংখ্যার ভিত্তি বা বেস থাকে।
৩. প্রতিটি অংকের স্থানীয় মান (Local Value) থাকে।

(গ) চিত্র-১ এর সংখ্যাটি হলো (2F)₁₆।
হেক্সাডেসিমেলে F = 15।

দশমিকে রূপান্তর:
(2F)₁₆ = 2 × 16¹ + 15 × 16⁰
= 2 × 16 + 15 × 1
= 32 + 15
= 47

সুতরাং, চিত্র-১ এর রোল নম্বরটি দশমিকে ৪৭।

(ঘ) চিত্র-২ এর সংখ্যাটি হলো (101011)₂।

দশমিকে রূপান্তর:
(101011)₂ = 1 × 2⁵ + 0 × 2⁴ + 1 × 2³ + 0 × 2² + 1 × 2¹ + 1 × 2⁰
= 32 + 0 + 8 + 0 + 2 + 1
= 43

তাহলে, দ্বিতীয় রোল নম্বরটি দশমিকে ৪৩।
এখন, দুটি রোল নম্বরের ব্যবধান = ৪৭ - ৪৩ = ৪।

সুতরাং, উদ্দীপকের রোল নম্বর দুটির ব্যবধান হলো ৪।

এমসিকিউ

১। (১১১০)₂ এর দশমিক মান কত?

ক) ৮
খ) ১০
গ) ১২
ঘ) ১৪

সঠিক উত্তর: ঘ) ১৪

ব্যাখ্যা: (১১১০)₂ = ১×২³ + ১×২² + ১×২¹ + ০×২⁰ = ৮ + ৪ + ২ + ০ = ১৪।


২। (১০১)₂ সংখ্যাটিকে দশমিকে রূপান্তর করলে কত হবে?

ক) ২
খ) ৪
গ) ৫
ঘ) ৬

সঠিক উত্তর: গ) ৫

ব্যাখ্যা: (১০১)₂ = ১×২² + ০×২¹ + ১×২⁰ = ৪ + ০ + ১ = ৫।


৩। ৪ বিটের সর্বোচ্চ বাইনারি সংখ্যার সমতুল্য দশমিক মান কত?

ক) ১৫
খ) ১৬
গ) ৩১
ঘ) ৩২

সঠিক উত্তর: ক) ১৫

ব্যাখ্যা: ৪ বিটের সর্বোচ্চ বাইনারি সংখ্যা হলো (১১১১)₂। এর দশমিক মান = ৮+৪+২+১ = ১৫।


৪। (১০০১)₂ এর দশমিক সমতুল্য মান কোনটি?

ক) ৮
খ) ৯
গ) ১০
ঘ) ১১

সঠিক উত্তর: খ) ৯

ব্যাখ্যা: (১০০১)₂ = ১×২³ + ০ + ০ + ১×২⁰ = ৮ + ১ = ৯।


৫। (১০.১)₂ এর দশমিক মান কত?

ক) ২.১
খ) ২.২৫
গ) ২.৫
ঘ) ২.৭৫

সঠিক উত্তর: গ) ২.৫

ব্যাখ্যা: (১০.১)₂ = ১×২¹ + ০×২⁰ + ১×২⁻¹ = ২ + ০ + ০.৫ = ২.৫।


৬। দশমিক সংখ্যা ৮ এর বাইনারি রূপ কোনটি?

ক) ১০০
খ) ১০১
গ) ১১০
ঘ) ১০০০

সঠিক উত্তর: ঘ) ১০০০

ব্যাখ্যা: ৮ কে বাইনারিতে প্রকাশ করলে ১০০০ হয়। ১×২³ = ৮।


৭। (১১০১.১১)₂ সংখ্যাটিতে পূর্ণাংশের মান কত?

ক) ১১
খ) ১২
গ) ১৩
ঘ) ১৪

সঠিক উত্তর: গ) ১৩

ব্যাখ্যা: পূর্ণাংশ হলো (১১০১)₂। ১×২³ + ১×২² + ০ + ১ = ৮+৪+০+১ = ১৩।


৮। (০.১০১)₂ এর দশমিক মান কত?

ক) ০.১২৫
খ) ০.২৫০
গ) ০.৩৭৫
ঘ) ০.৬২৫

সঠিক উত্তর: ঘ) ০.৬২৫

ব্যাখ্যা: ১×২⁻¹ + ০×২⁻² + ১×২⁻³ = ০.৫ + ০ + ০.১২৫ = ০.৬২৫।


৯। (১২)₈ এর দশমিক মান কত?

ক) ৮
খ) ১০
গ) ১২
ঘ) ১৬

সঠিক উত্তর: খ) ১০

ব্যাখ্যা: (১২)₈ = ১×৮¹ + ২×৮⁰ = ৮ + ২ = ১০।


১০। (২০)₈ সংখ্যাটির দশমিক সমতুল্য কত?

ক) ১৬
খ) ১৮
গ) ২০
ঘ) ২৪

সঠিক উত্তর: ক) ১৬

ব্যাখ্যা: (২০)₈ = ২×৮¹ + ০×৮⁰ = ১৬ + ০ = ১৬।


১১। (১০.৪)₈ এর দশমিক মান কোনটি?

ক) ৮.৪
খ) ৮.৫
গ) ১০.৪
ঘ) ১০.৫

সঠিক উত্তর: খ) ৮.৫

ব্যাখ্যা: (১০)₈ = ৮। ভগ্নাংশ (.৪)₈ = ৪×৮⁻¹ = ৪/৮ = ০.৫। মোট ৮.৫।


১২। অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতির ভিত্তি কত?

ক) ২
খ) ৮
গ) ১০
ঘ) ১৬

সঠিক উত্তর: খ) ৮

ব্যাখ্যা: অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতিতে ০-৭ পর্যন্ত মোট ৮টি অংক ব্যবহৃত হয়, তাই এর ভিত্তি ৮।


১৩। (৭৭)₈ এর পরবর্তী সংখ্যাটি দশমিকে কত?

ক) ৬৩
খ) ৬৪
গ) ৭৮
ঘ) ৮০

সঠিক উত্তর: খ) ৬৪

ব্যাখ্যা: (৭৭)₈ এর দশমিক মান = ৭×৮+৭ = ৫৬+৭ = ৬৩। পরবর্তী সংখ্যা ৬৩+১ = ৬৪।


১৪। ৩ অংকের ক্ষুদ্রতম অক্টাল সংখ্যার দশমিক মান কত?

ক) ৮
খ) ১৬
গ) ৬৪
ঘ) ৫১২

সঠিক উত্তর: গ) ৬৪

ব্যাখ্যা: ৩ অংকের ক্ষুদ্রতম অক্টাল সংখ্যা (১০০)₈। ১×৮² = ৬৪।


১৫। (A)₁₆ এর দশমিক মান কত?

ক) ১০
খ) ১১
গ) ১২
ঘ) ১৩

সঠিক উত্তর: ক) ১০

ব্যাখ্যা: হেক্সাডেসিমেলে A এর মান দশমিকে ১০।


১৬। (1F)₁₆ কে দশমিকে প্রকাশ করলে কত হয়?

ক) ১৫
খ) ১৬
গ) ৩১
ঘ) ৩২

সঠিক উত্তর: গ) ৩১

ব্যাখ্যা: ১×১৬¹ + ১৫×১৬⁰ = ১৬ + ১৫ = ৩১।


১৭। (B2)₁₆ এর সমতুল্য দশমিক মান কোনটি?

ক) ১৭২
খ) ১৭৮
গ) ১৮২
ঘ) ১৯২

সঠিক উত্তর: খ) ১৭৮

ব্যাখ্যা: B=১১। ১১×১৬¹ + ২×১৬⁰ = ১৭৬ + ২ = ১৭৮।


১৮। (0.8)₁₆ এর দশমিক মান কত?

ক) ০.২৫
খ) ০.৫০
গ) ০.৭৫
ঘ) ০.৮০

সঠিক উত্তর: খ) ০.৫০

ব্যাখ্যা: ৮×১৬⁻¹ = ৮/১৬ = ০.৫।


১৯। হেক্সাডেসিমেল সংখ্যা পদ্ধতির মোট অংক কয়টি?

ক) ৮
খ) ১০
গ) ১২
ঘ) ১৬

সঠিক উত্তর: ঘ) ১৬

ব্যাখ্যা: হেক্সাডেসিমেল পদ্ধতিতে ০-৯ এবং A-F মোট ১৬টি চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।


২০। (100)₁₆ এর দশমিক মান কত?

ক) ১০০
খ) ২৫৬
গ) ৫১২
ঘ) ১০২৪

সঠিক উত্তর: খ) ২৫৬

ব্যাখ্যা: ১×১৬² + ০ + ০ = ২৫৬।


২১। দশমিক সংখ্যা পদ্ধতিতে স্থানীয় মান বা ওয়েট কত গুণ করে বাড়ে?

ক) ২ গুণ
খ) ৮ গুণ
গ) ১০ গুণ
ঘ) ১৬ গুণ

সঠিক উত্তর: গ) ১০ গুণ

ব্যাখ্যা: দশমিক সংখ্যা পদ্ধতির বেস ১০, তাই ডান থেকে বামে প্রতি অবস্থানে মান ১০ গুণ করে বাড়ে।


২২। (111)₂ এবং (7)₈ এর মধ্যে সম্পর্ক কী?

ক) (111)₂ > (7)₈
খ) (111)₂ < (7)₈
গ) (111)₂ = (7)₈
ঘ) কোনোটিই নয়

সঠিক উত্তর: গ) (111)₂ = (7)₈

ব্যাখ্যা: (111)₂ = ৭ এবং (7)₈ = ৭। উভয়ই দশমিকে সমান।


২৩। কোন সংখ্যা পদ্ধতিতে ১৭ এর পরবর্তী সংখ্যা ২০ হতে পারে?

ক) বাইনারি
খ) অক্টাল
গ) দশমিক
ঘ) হেক্সাডেসিমেল

সঠিক উত্তর: খ) অক্টাল

ব্যাখ্যা: অক্টালে ১৭ এর পর ১৮ বা ১৯ নেই, সরাসরি ২০ আসে। (১৭)₈ = ১৫, (২০)₈ = ১৬।


২৪। নিচের কোনটি সঠিক?
i. (10)₂ = 2
ii. (10)₈ = 8
iii. (10)₁₆ = 16

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ঘ) i, ii ও iii

ব্যাখ্যা: যেকোনো বেসের সংখ্যায় ১০ এর মান ঐ বেসের সমান হয়।


২৫। (৪.৮)₁₆ সংখ্যাটি কি সঠিক?

ক) হ্যাঁ
খ) না
গ) আংশিক
ঘ) বলা সম্ভব নয়

সঠিক উত্তর: ক) হ্যাঁ

ব্যাখ্যা: হেক্সাডেসিমেলে ০-৯ এবং A-F ব্যবহৃত হয়। ৪ এবং ৮ উভয়ই এই সীমার মধ্যে, তাই এটি সঠিক।