সংখ্যা পদ্ধতির রূপান্তর - ১: ডেসিমেল থেকে বাইনারি, অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেল

এইচএসসি আইসিটি অধ্যায় ৩: দশমিক সংখ্যা থেকে বাইনারি, অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেল সংখ্যায় রূপান্তরের পূর্ণাঙ্গ নিয়ম, উদাহরণ ও শর্টকাট টেকনিক। পূর্ণসংখ্যা ও ভগ্নাংশ উভয়

শেখা শুরু করুন

সংখ্যা পদ্ধতির রূপান্তর - ১: ডেসিমেল থেকে বাইনারি, অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেল

  1. সংখ্যা পদ্ধতির রূপান্তর - ১: ডেসিমেল থেকে বাইনারি, অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেল
  2. আমরা দেখি '99', কম্পিউটার দেখে '1100011'!
  3. রূপান্তরের সাধারণ নিয়ম (The Golden Rule)
  4. ১. দশমিক থেকে বাইনারি (পূর্ণসংখ্যা)
  5. ২. দশমিক থেকে বাইনারি (ভগ্নাংশ)
  6. মিশ্র সংখ্যার উদাহরণ
  7. ৩. দশমিক থেকে অক্টাল (পূর্ণসংখ্যা)
  8. ৪. দশমিক থেকে অক্টাল (ভগ্নাংশ)
  9. হেক্সাডেসিমেলে মনে রাখার বিষয়
  10. ৫. দশমিক থেকে হেক্সাডেসিমেল (পূর্ণসংখ্যা)
  11. ৬. দশমিক থেকে হেক্সাডেসিমেল (ভগ্নাংশ)
  12. ক্যালকুলেটর হ্যাক (MCQ এর জন্য)
  13. সতর্কতা ও সাধারণ ভুল
  14. নিজে করো (Practice Session)
  15. উত্তর মিলিয়ে নাও
  16. আজকের সারসংক্ষেপ
  17. বাড়ির কাজ (Homework)

সংখ্যা পদ্ধতির রূপান্তর - ১: ডেসিমেল থেকে বাইনারি, অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেল

এই লেকচার শেষে আমরা-

১। দশমিক পূর্ণসংখ্যাকে বাইনারি, অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেল সংখ্যায় রূপান্তর করতে পারব।
২। দশমিক ভগ্নাংশকে বাইনারি, অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেল সংখ্যায় রূপান্তর করতে পারব।
৩। রূপান্তরের সাধারণ নিয়ম (ভাগ ও গুণ পদ্ধতি) প্রয়োগ করতে পারব।

সবাইকে স্বাগতম আজকের আইসিটি ক্লাসে! আশা করি তোমরা সবাই ভালো আছো। আজকে আমরা আইসিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং মজার একটি টপিক নিয়ে আলোচনা করব। সেটা হলো সংখ্যা পদ্ধতির রূপান্তর। আজকের এই লেকচার শেষে আমরা- ১। দশমিক পূর্ণসংখ্যাকে বাইনারি, অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেল সংখ্যায় রূপান্তর করতে পারব, ২। দশমিক ভগ্নাংশকে কীভাবে অন্য বেসে নিতে হয় তা শিখব এবং ৩। রূপান্তরের যে গোল্ডেন রুল বা সাধারণ নিয়ম আছে, সেটা মাস্টার করতে পারব। চলো শুরু করা যাক!

আমরা দেখি '99', কম্পিউটার দেখে '1100011'!

দৃশ্যপট:
- ক্যালকুলেটর বা কিবোর্ডে আমরা চাপছি: 99
- প্রসেসরের ভেতরে সিগন্যাল যাচ্ছে: 1100011

কেন এই রূপান্তর প্রয়োজন?
- মানুষের ভাষা (Decimal)
- মেশিনের ভাষা (Binary)
- যোগাযোগ স্থাপনের জন্য রূপান্তর জরুরি।

শুরুতেই একটা মজার দৃশ্য চিন্তা করি। ধরো, তুমি তোমার ক্যালকুলেটরে বা কম্পিউটারে '৯৯' টাইপ করলে। তুমি স্ক্রিনে দেখছ ৯৯, কিন্তু কম্পিউটারের ব্রেইন বা প্রসেসর কি ৯৯ চেনে? একদমই না! সে চেনে শুধু বিদ্যুৎ আছে (১) আর বিদ্যুৎ নেই (০)। তুমি যখন ৯৯ চাপলে, প্রসেসর সেটাকে দেখল '১-১-০-০-০-১-১' হিসেবে। এখন প্রশ্ন হলো, এই যে আমাদের পরিচিত সংখ্যাগুলো কীভাবে কম্পিউটারের ভাষায় বা অন্য কোনো সংখ্যা পদ্ধতিতে পরিবর্তিত হয়? এই ম্যাজিকটা কীভাবে কাজ করে? আজকের ক্লাসে আমরা সেই রহস্যটাই ভেদ করব।

রূপান্তরের সাধারণ নিয়ম (The Golden Rule)

ডেসিমেল থেকে যেকোনো বেসে যাওয়ার নিয়ম:

১. পূর্ণসংখ্যার (Integer) জন্য:
- যে বেসে নিব, সেই বেস দিয়ে বারবার ভাগ করতে হবে।
- ভাগশেষ (Remainder) সংরক্ষণ করতে হবে।
- সাজানো: নিচ থেকে উপরে (LSB to MSB)

২. ভগ্নাংশের (Fraction) জন্য:
- যে বেসে নিব, সেই বেস দিয়ে বারবার গুণ করতে হবে।
- পূর্ণাংশ (Integer part) সংরক্ষণ করতে হবে।
- সাজানো: উপর থেকে নিচে (MSB to LSB)

সংখ্যা রূপান্তরের অনেক নিয়ম বইতে থাকতে পারে, কিন্তু আমি তোমাদের একটা 'গোল্ডেন রুল' বা সাধারণ নিয়ম শিখিয়ে দিচ্ছি। এটা মনে রাখলে আর কিছুই মুখস্থ করতে হবে না। নিয়মটা খুব সহজ। ডেসিমেল থেকে আমরা যখনই অন্য কোনো বেসে (যেমন বাইনারি, অক্টাল বা হেক্সা) যাব, তখন দুটো কাজ করব। প্রথমত, যদি সংখ্যাটি পূর্ণসংখ্যা হয়, তবে যে বেসে যেতে চাই, সেই বেস দিয়ে সংখ্যাটিকে বারবার 'ভাগ' করব এবং ভাগশেষগুলো জমিয়ে রাখব। আর যদি ভগ্নাংশ হয়? তাহলে ঠিক উল্টোটা! মানে 'গুণ' করব। এই স্লাইডের চার্টটা ভালো করে খেয়াল করো—পূর্ণসংখ্যার জন্য ভাগ, আর ভগ্নাংশের জন্য গুণ। এই সূত্রটা মাথায় গেঁথে নাও।

১. দশমিক থেকে বাইনারি (পূর্ণসংখ্যা)

উদাহরণ: $(25)_{10}$ কে বাইনারিতে রূপান্তর

পদ্ধতি: ২ দিয়ে ভাগ (যেহেতু বাইনারির বেস ২)

  • $25 \div 2 = 12$ | ভাগশেষ: $1$ (LSB)
  • $12 \div 2 = 6$ | ভাগশেষ: $0$
  • $6 \div 2 = 3$ | ভাগশেষ: $0$
  • $3 \div 2 = 1$ | ভাগশেষ: $1$
  • $1 \div 2 = 0$ | ভাগশেষ: $1$ (MSB)

উত্তর: $(11001)_2$

চলো এবার হাতে-কলমে দেখি। আমাদের উদাহরণ হলো ২৫। এটা একটা ডেসিমেল সংখ্যা। একে বাইনারিতে নেব। গোল্ডেন রুল অনুযায়ী, পূর্ণসংখ্যা তাই 'ভাগ' করব। কত দিয়ে? যেহেতু বাইনারিতে নিচ্ছি, তাই ২ দিয়ে। খেয়াল করো, ২৫ কে ২ দিয়ে ভাগ করলে ভাগফল ১২, আর হাতে থাকে ১। এই ১ টা আমরা পাশে লিখে রাখলাম। এরপর ১২ কে আবার ২ দিয়ে ভাগ, ভাগফল ৬, ভাগশেষ ০। এভাবে চলতে থাকবে যতক্ষণ না ভাগফল ০ হয়। শেষে এসে দেখো ১ কে ২ দিয়ে ভাগ করা যায় না, তাই ভাগফল ০ আর ভাগশেষ ১। এখন উত্তর লেখার সময় নিচ থেকে উপরের দিকে যাব। একে বলে MSB থেকে LSB। তাহলে উত্তর হলো ১-১-০-০-১।

২. দশমিক থেকে বাইনারি (ভগ্নাংশ)

উদাহরণ: $(0.375)_{10}$ কে বাইনারিতে রূপান্তর

পদ্ধতি: ২ দিয়ে গুণ

  • $0.375 \times 2 = 0.750$ $\rightarrow$ পূর্ণাংশ 0
  • $0.750 \times 2 = 1.500$ $\rightarrow$ পূর্ণাংশ 1
  • $0.500 \times 2 = 1.000$ $\rightarrow$ পূর্ণাংশ 1

সাজানো: উপর থেকে নিচে (MSB to LSB)
উত্তর: $(.011)_2$

এবার আসি ভগ্নাংশে। ধরো সংখ্যাটি ০.৩৭৫। নিয়ম অনুযায়ী এবার আমরা ২ দিয়ে 'গুণ' করব। ০.৩৭৫ কে ২ দিয়ে গুণ করলে পাই ০.৭৫। এখানে পূর্ণাংশ হলো ০, সেটা আমরা পাশে রাখলাম। ভগ্নাংশ .৭৫ কে আবার ২ দিয়ে গুণ করি, পাই ১.৫০। পূর্ণাংশ ১ রাখলাম, আর .৫০ নিয়ে আবার কাজ করব। .৫০ কে ২ দিয়ে গুণ করলে পাই ১.০০। দেখো, ভগ্নাংশ পার্টটা .০০ হয়ে গেছে, মানে আমাদের কাজ শেষ! উত্তর লেখার সময় কিন্তু সাবধান! এবার আমরা যাব 'উপর থেকে নিচে'। তাহলে উত্তর হলো পয়েন্ট ০-১-১। অর্থাৎ (.০১১)২।

মিশ্র সংখ্যার উদাহরণ

প্রশ্ন: $(25.375)_{10} \rightarrow (?)_{2}$

সমাধান:
১. পূর্ণাংশ $(25)_{10} = (11001)_2$
২. ভগ্নাংশ $(0.375)_{10} = (.011)_2$

একত্রীকরণ:
$(25.375)_{10} = (11001.011)_2$

টিপস: পূর্ণাংশ ও ভগ্নাংশের মাঝখানে অবশ্যই রেডিক্স পয়েন্ট বা দশমিক বিন্দু (.) বসাবে।

এখন যদি পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে (২৫.৩৭৫) কে বাইনারিতে নাও? ঘাবড়ানোর কিছু নেই। এটা আসলে আগের দুটো অংকের কম্বিনেশন। আমরা ২৫ এর বাইনারি আলাদা বের করব, যেটা পেয়েছিলাম ১১০০১। আর .৩৭৫ এর জন্য আলাদা বের করব, যেটা পেয়েছিলাম .০১১। শেষে দুটোকে জাস্ট পাশাপাশি বসিয়ে দেব। মাঝখানে অবশ্যই রেডিক্স পয়েন্ট বা দশমিক বিন্দুটা দিতে ভুলবে না। ব্যাস! হয়ে গেল আমাদের পূর্ণাঙ্গ রূপান্তর।

৩. দশমিক থেকে অক্টাল (পূর্ণসংখ্যা)

উদাহরণ: $(175)_{10}$ কে অক্টালে রূপান্তর

পদ্ধতি: ৮ দিয়ে ভাগ

  • $175 \div 8 = 21$ | ভাগশেষ: $7$
  • $21 \div 8 = 2$ | ভাগশেষ: $5$
  • $2 \div 8 = 0$ | ভাগশেষ: $2$

সাজানো: নিচ থেকে উপরে
উত্তর: $(257)_{8}$

এখন চলুন অক্টালে যাই। নিয়ম কিন্তু এক। শুধু বদলেছে বেস। আগে ২ ছিল, এখন ৮। তাই ৮ দিয়ে ভাগ করতে হবে। উদাহরণ: ১৭৫। বাকি থেকে ৮ দিয়ে ভাগ করে ২১ আসে, ভাগশেষ ৭। ২১ কে ৮ দিয়ে ভাগ করলে ২ পাওয়া যায় আর ভাগশেষ ৫। শেষ বিদ্বেষ হিসেবে ২কে ৮ দিয়ে ভাগ করলে ভাগফল ০ এবং ভাগশেষ ২। নিচ থেকে উপরে সাজালে পাই ২৫৭। সহজ তো?

৪. দশমিক থেকে অক্টাল (ভগ্নাংশ)

উদাহরণ: $(0.15)_{10}$ কে অক্টালে রূপান্তর

পদ্ধতি: ৮ দিয়ে গুণ
- $0.15 \times 8 = 1.20 \rightarrow$ পূর্ণাংশ 1
- $0.20 \times 8 = 1.60 \rightarrow$ পূর্ণাংশ 1
- $0.60 \times 8 = 4.80 \rightarrow$ পূর্ণাংশ 4
- $0.80 \times 8 = 6.40 \rightarrow$ পূর্ণাংশ 6
...

উত্তর: $(.1146...)_8$ (প্রায়)

ভগ্নাংশের ক্ষেত্রেও একই লজিক, শুধু গুণ করব ৮ দিয়ে। উদাহরণ: ০.১৫। .১৫ গুণ ৮ = ১.২০ (পূর্ণাংশ ১)। হাতে থাকল .২০। .২০ গুণ ৮ = ১.৬০ (পূর্ণাংশ ১)। হাতে থাকল .৬০। .৬০ গুণ ৮ = ৪.৮০ (পূর্ণাংশ ৪)। এভাবে দেখবে এটা চলতেই থাকছে। যদি ৩-৪ বার করার পরেও ০ না আসে, তবে আমরা আর করব না। উত্তর লেখার সময় ওপর থেকে নিচে সাজিয়ে শেষে ডট-ডট-ডট (...) দিয়ে দেব। মানে এটা 'প্রায়' মান।

হেক্সাডেসিমেলে মনে রাখার বিষয়

হেক্সাডেসিমেল বেস ১৬। ০-৯ পর্যন্ত ডেসিমেলের মতোই। কিন্তু ১০ থেকে ১৫ পর্যন্ত:

  • $10 = A$
  • $11 = B$
  • $12 = C$
  • $13 = D$
  • $14 = E$
  • $15 = F$

সতর্কতা: ভাগশেষ ১০ বা তার বেশি হলে সরাসরি সংখ্যা না লিখে এই অক্ষরগুলো লিখতে হবে।

হেক্সাডেসিমেলে যাওয়ার আগে একটা ছোট্ট ওয়ার্নিং! হেক্সাডেসিমেলে কিন্তু ৯ এর পর আর ১০, ১১ লেখা যায় না। তোমাদের নিশ্চয়ই মনে আছে—১০ হলে লিখব A, ১১ হলে B, ১২ হলে C, এভাবে ১৫ হলে F। যখনই ভাগশেষ ১০ বা তার বেশি আসবে, সাথে সাথে এই অক্ষরগুলো ব্র্যাকেটে লিখে ফেলবে, না হলে উত্তরে ভুল হয়ে যাবে।

৫. দশমিক থেকে হেক্সাডেসিমেল (পূর্ণসংখ্যা)

উদাহরণ: $(450)_{10}$ কে হেক্সাডেসিমেলে রূপান্তর

পদ্ধতি: ১৬ দিয়ে ভাগ

  • $450 \div 16 = 28$ | ভাগশেষ: $2$
  • $28 \div 16 = 1$ | ভাগশেষ: $12 \rightarrow (C)$
  • $1 \div 16 = 0$ | ভাগশেষ: $1$

সাজানো: নিচ থেকে উপরে
উত্তর: $(1C2)_{16}$

চলো একটা বড় সংখ্যা নিই, ৪৫০। একে হেক্সাডেসিমেল বা ১৬ বেসে নেব। ৪৫০ কে ১৬ দিয়ে ভাগ করলে ভাগফল ২৮, আর ভাগশেষ থাকে ২। এবার ২৮ কে ১৬ দিয়ে ভাগ করলে ভাগফল ১, আর ভাগশেষ থাকে ১২। সাবধান! ১২ লিখব না, আমরা জানি ১২ মানে হলো C। তাই পাশে (C) লিখে রাখলাম। শেষে ১ কে ১৬ দিয়ে ভাগ করলে ভাগফল ০, ভাগশেষ ১। নিচ থেকে উপরে সাজালে পাই: 1C2। দেখলে তো, A-F এর ব্যবহারটা কত জরুরি!

৬. দশমিক থেকে হেক্সাডেসিমেল (ভগ্নাংশ)

উদাহরণ: $(0.850)_{10}$ কে হেক্সাডেসিমেলে রূপান্তর

পদ্ধতি: ১৬ দিয়ে গুণ
- $0.850 \times 16 = 13.60 \rightarrow$ পূর্ণাংশ 13 (D)
- $0.60 \times 16 = 9.60 \rightarrow$ পূর্ণাংশ 9
- $0.60 \times 16 = 9.60 \rightarrow$ পূর্ণাংশ 9
...

উত্তর: $(.D99...)_{16}$

ভগ্নাংশের উদাহরণটা দেখি। ০.৮৫০। ০.৮৫০ কে ১৬ দিয়ে গুণ করলে আসে ১৩.৬০। পূর্ণাংশ ১৩, মানে হলো D। বাকি থাকে .৬০। একে ১৬ দিয়ে গুণ করলে আসে ৯.৬০। পূর্ণাংশ ৯। আবার .৬০ চলে এসেছে! মানে এরপর বারবার ৯ আসতেই থাকবে। তাই আমরা আর কষ্ট করব না। উত্তর হবে: দশমিক D ৯ ৯ ডট ডট ডট। অর্থাৎ (.D99...)১৬।

ক্যালকুলেটর হ্যাক (MCQ এর জন্য)

শুধুমাত্র MCQ এর উত্তর মেলানোর জন্য:

  1. Mode বাটন চেপে Base-N সিলেক্ট করো।
  2. Dec মোডে সংখ্যাটি তোলো (যেমন: 25)।
  3. Bin / Oct / Hex বাটন চাপলে সরাসরি উত্তর দেখাবে।

সতর্কতা: সৃজনশীল প্রশ্নে (CQ) পুরো অংক হাতে-কলমে দেখাতে হবে। এটা শুধু চেক করার জন্য।

পরীক্ষায় এমসিকিউ (MCQ) এর জন্য একটা দারুণ শর্টকাট আছে। তোমাদের সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটরে 'Mode' বাটন চেপে 'Base-N' অপশনটি বের করো। সেখানে 'Dec' মোডে সংখ্যাটি লিখে 'Equal' চাপো। এরপর দেখবে ক্যালকুলেটরে ছোট করে Bin, Oct, Hex লেখা বাটন আছে। ওগুলোতে চাপ দিলেই ম্যাজিকের মতো উত্তর চলে আসবে! তবে মনে রেখো, সৃজনশীল প্রশ্নে কিন্তু এভাবে উত্তর লিখে দিলে হবে না, সেখানে পুরো প্রসেস দেখাতে হবে। এটা শুধু চেক করার জন্য।

সতর্কতা ও সাধারণ ভুল

পরীক্ষায় যে ভুলগুলো শিক্ষার্থীরা প্রায়ই করে:

  1. ভাগশেষ ও ভাগফল গুলিয়ে ফেলা: কোনটা কোথায় বসবে খেয়াল রেখো।
  2. দিক ভুল করা: পূর্ণসংখ্যায় নিচ-থেকে-উপরে, ভগ্নাংশে উপর-থেকে-নিচে।
  3. হেক্সা কোড: ভাগশেষ ১০-১৫ আসলে A-F না লিখে সংখ্যা লিখে দেওয়া।
  4. রেডিক্স পয়েন্ট: উত্তরে (.) দিতে ভুলে যাওয়া।

খাতা দেখতে গিয়ে আমরা প্রায়ই কিছু কমন ভুল দেখি। তোমরা যেন সেগুলো না করো, তাই বলে দিচ্ছি। এক, পূর্ণসংখ্যা আর ভগ্নাংশের 'দিক' গুলিয়ে ফেলা। মনে রাখবে, পূর্ণসংখ্যা মানে নিচ থেকে উপরে, আর ভগ্নাংশ মানে উপর থেকে নিচে। দুই, হেক্সাডেসিমেলে ১৪ বা ১৫ কে লেটার (E বা F) না লিখে সংখ্যায় লিখে দেওয়া। এটা করলে কিন্তু পুরো নম্বর কাটা যাবে। আর তিন, ক্যালকুলেশনে তাড়াহুড়ো করা। একটু সাবধানে ভাগ ও গুণ করবে।

নিজে করো (Practice Session)

ভিডিওটি পজ (Pause) করে নিচের অংকগুলো খাতায় করো:

  1. $(99)_{10} = (?)_{2}$
  2. $(2023)_{10} = (?)_{8}$
  3. $(49.6)_{10} = (?)_{16}$

অনেকক্ষণ তো আমি বকবক করলাম। এবার তোমাদের পালা। স্ক্রিনে ৩টি অংক দেখতে পাচ্ছ। ভিডিওটা এখনই পজ করো। খাতা-কলম নাও এবং এই ৩টি অংক নিজে নিজে করার চেষ্টা করো। তারপর ভিডিও প্লে করে পরের স্লাইডে আমার উত্তরের সাথে মেলাবে। চিটিং করা কিন্তু চলবে না! এখনই পজ করো।

উত্তর মিলিয়ে নাও

সমাধান:

  1. $(99)_{10} = (1100011)_{2}$
  2. $(2023)_{10} = (3747)_{8}$
  3. $(49.6)_{10} = (31.99...)_{16}$

তোমার উত্তর মিলেছে কি? না মিললে ভিডিওর আগের অংশগুলো আবার দেখো।

আশা করি তোমরা সবাই চেষ্টা করেছ। চলো উত্তরগুলো মিলিয়ে নিই। ১ নম্বরে ৯৯ এর বাইনারি হলো ১১০০১১। মিলেছে? ২ নম্বরে ২০২৩ এর অক্টাল হলো ৩৭৪৭। আর ৩ নম্বরে ৪৯.৬ এর হেক্সাডেসিমেল হলো ৩১.৯৯...। ৪৯ এর জন্য ৩১, আর .৬ এর জন্য ৯৯...। যাদের সব হয়েছে, তাদের অভিনন্দন! যাদের হয়নি, তারা ভিডিওটা একটু পিছিয়ে আবার দেখে নাও কোথায় ভুল হলো।

আজকের সারসংক্ষেপ

আমরা যা শিখলাম:
- ডেসিমেল থেকে অন্য বেসে যেতে হলে:
- পূর্ণসংখ্যা: টার্গেট বেস দিয়ে ভাগ (নিচ থেকে উপরে)।
- ভগ্নাংশ: টার্গেট বেস দিয়ে গুণ (উপর থেকে নিচে)।
- হেক্সাডেসিমেলে ১০-১৫ এর জন্য A-F ব্যবহার।
- ক্যালকুলেটর দিয়ে উত্তর চেক করার পদ্ধতি।

আজকের ক্লাসে আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখলাম। মূল কথা একটাই—ডেসিমেল থেকে অন্য কোথাও যেতে হলে পূর্ণসংখ্যাকে ভাগ করব, আর ভগ্নাংশকে গুণ করব। আর হ্যাঁ, হেক্সাডেসিমেলের লেটারগুলোর কথা ভুলো না। এই বেসিকটা ক্লিয়ার থাকলে সংখ্যা পদ্ধতির বাকি টপিকগুলো তোমাদের কাছে পানির মতো সহজ লাগবে।

বাড়ির কাজ (Homework)

তোমার নিজের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রূপান্তর করো:

  1. তোমার ক্লাস রোল নম্বর (পূর্ণসংখ্যা) $\rightarrow$ বাইনারি, অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেল।

  2. তোমার মোবাইল নাম্বারের শেষ ২ ডিজিট দশমিকের পরে বসিয়ে (যেমন: .৮৫) $\rightarrow$ বাইনারি, অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেল।

প্র্যাকটিস করে কমেন্ট সেকশনে জানাও!

যাওয়ার আগে তোমাদের জন্য একটা হোমওয়ার্ক। এটা একটু অন্যরকম। তোমার ক্লাসের রোল নম্বর নিশ্চয়ই জানো? সেই রোল নম্বরকে বাইনারি, অক্টাল আর হেক্সাডেসিমেলে রূপান্তর করবে। আর তোমার মোবাইল নাম্বারের শেষ দুটো ডিজিটকে দশমিকের পরে বসিয়ে (যেমন .৮৫) সেটাকেও তিন পদ্ধতিতে রূপান্তর করবে। প্র্যাকটিস করো, কারণ প্র্যাকটিসই তোমাকে পারফেক্ট করবে। আগামী ক্লাসে দেখা হবে নতুন টপিক নিয়ে। ভালো থেকো সবাই, আল্লাহ হাফেজ!

সংখ্যা পদ্ধতির রূপান্তর - ১: ডেসিমেল থেকে বাইনারি, অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেল

পড়তে প্রায় 15 মিনিট

লেকচারে আমরা দেখেছি কীভাবে আমরা কীবোর্ডে '৯৯' টাইপ করলে কম্পিউটার সেটাকে '১১০১...' হিসেবে গ্রহণ করে। এই রূপান্তর প্রক্রিয়াটি কেবল তাত্ত্বিক নয়, বরং ডিজিটাল ডিভাইসের কার্যপদ্ধতি বোঝার মূল ভিত্তি। এইচএসসি আইসিটি (HSC ICT) পরীক্ষায় ৩য় অধ্যায় থেকে প্রতি বছরই গাণিতিক সমস্যা বা 'ম্যাথ' আসে। বিশেষ করে 'গ' এবং 'ঘ' অংশের জন্য সংখ্যা পদ্ধতির রূপান্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই পাঠে আমরা ডেসিমেল (১০ ভিত্তিক) সংখ্যাকে কীভাবে বাইনারি (২), অক্টাল (৮) এবং হেক্সাডেসিমেল (১৬) সংখ্যায় রূপান্তর করা যায়, তা ধাপে ধাপে শিখব। লেকচারে শেখা 'গোল্ডেন রুল' বা সাধারণ নিয়মটিকে এখানে আমরা বিস্তারিত অ্যালগরিদম আকারে দেখব, যাতে পরীক্ষার খাতায় ভুল হওয়ার কোনো সুযোগ না থাকে।

রূপান্তরের মৌলিক পরিভাষা: MSB ও LSB

রূপান্তর অংক শুরু করার আগে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা জানা জরুরি। পূর্ণসংখ্যার ক্ষেত্রে আমরা ভাগশেষগুলোকে নিচ থেকে উপরে সাজাই, আর ভগ্নাংশের ক্ষেত্রে পূর্ণাংশগুলোকে উপর থেকে নিচে। এর কারণ হলো পজিশনাল ভ্যালু বা স্থানীয় মান।

সংজ্ঞা (Definitions):


MSB (Most Significant Bit/Digit): কোনো সংখ্যার সবচেয়ে বাম দিকের অঙ্ক, যার স্থানীয় মান বা গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি, তাকে MSB বা সর্বোচ্চ গুরুত্বের অঙ্ক বলে। পূর্ণসংখ্যার ক্ষেত্রে এটি সর্ববামদিকের অঙ্ক।



LSB (Least Significant Bit/Digit): কোনো সংখ্যার সবচেয়ে ডান দিকের অঙ্ক, যার স্থানীয় মান বা গুরুত্ব সবচেয়ে কম, তাকে LSB বা সর্বনিম্ন গুরুত্বের অঙ্ক বলে।



Radix Point (রেডিক্স পয়েন্ট): যে বিন্দুটি পূর্ণসংখ্যা এবং ভগ্নাংশকে পৃথক করে তাকে রেডিক্স পয়েন্ট বলে। ডেসিমেল সিস্টেমে একে আমরা দশমিক বিন্দু বলি।

গুরুত্বপূর্ণ (Important):
- পূর্ণসংখ্যার রূপান্তরে সর্বশেষ ভাগশেষটি হয় MSB (সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ)।
- ভগ্নাংশের রূপান্তরে প্রথম পূর্ণাংশটি হয় MSB (সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ)।
- উত্তর লেখার সময় সবসময় MSB থেকে LSB এর দিকে সাজাতে হয়।


পদ্ধতি ১: দশমিক পূর্ণসংখ্যাকে অন্য বেসে রূপান্তর (ভাগ প্রক্রিয়া)

যেকোনো ডেসিমেল পূর্ণসংখ্যাকে বাইনারি, অক্টাল বা হেক্সাডেসিমেলে রূপান্তর করার জন্য একটি সাধারণ নিয়ম বা 'গোল্ডেন রুল' রয়েছে। সেটি হলো Successive Division বা ক্রমান্বয়ে ভাগ পদ্ধতি।

অ্যালগরিদম (ধাপসমূহ)

পরীক্ষায় যদি বর্ণনা চায়, তবে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে লিখবে:

  1. ধাপ ১: দশমিক পূর্ণসংখ্যাটিকে কাঙ্ক্ষিত বেস (২, ৮ বা ১৬) দিয়ে ভাগ করতে হবে।
  2. ধাপ ২: ভাগফলের পূর্ণাংশটি নিচে লিখতে হবে এবং ভাগশেষটি (Remainder) ডানপাশে সংরক্ষণ করতে হবে।
  3. ধাপ ৩: প্রাপ্ত ভাগফলকে পুনরায় বেস দিয়ে ভাগ করতে হবে এবং একইভাবে ভাগশেষ সংরক্ষণ করতে হবে।
  4. ধাপ ৪: এই প্রক্রিয়াটি ততক্ষণ চলবে যতক্ষণ না ভাগফল ০ (শূন্য) হয়।
  5. ধাপ ৫: সংরক্ষিত ভাগশেষগুলোকে নিচ থেকে উপরের দিকে (MSB to LSB) সাজিয়ে লিখলেই কাঙ্ক্ষিত সংখ্যাটি পাওয়া যাবে।

Decimal to Binary Conversion Process showing Division and Multiplication

উদাহরণ ১: ডেসিমেল থেকে বাইনারি (বেস ২)

প্রশ্ন: $(99)_{10}$ কে বাইনারিতে রূপান্তর করো।

সমাধান:


এখানে সংখ্যাটি ৯৯ এবং টার্গেট বেস ২। তাই আমরা ৯৯ কে বারবার ২ দিয়ে ভাগ করব।



$$ \begin{array}{l|c|r} \text{বেস (২)} & \text{সংখ্যা / ভাগফল} & \text{ভাগশেষ} \\ \hline 2 & 99 & 1 \quad (\text{LSB}) \\ 2 & 49 & 1 \\ 2 & 24 & 0 \\ 2 & 12 & 0 \\ 2 & 6 & 0 \\ 2 & 3 & 1 \\ 2 & 1 & 1 \\ & 0 & 1 \quad (\text{MSB}) \end{array} $$


উত্তর: $(99)_{10} = (1100011)_2$


(নিচ থেকে উপরে সাজিয়ে)

উদাহরণ ২: ডেসিমেল থেকে অক্টাল (বেস ৮)

প্রশ্ন: $(450)_{10}$ কে অক্টালে রূপান্তর করো।

সমাধান:


এখানে সংখ্যাটি ৪৫০ এবং টার্গেট বেস ৮।



$$ \begin{array}{l|c|r} \text{বেস (৮)} & \text{সংখ্যা / ভাগফল} & \text{ভাগশেষ} \\ \hline 8 & 450 & 2 \quad (\text{LSB}) \\ 8 & 56 & 0 \\ 8 & 7 & 7 \quad (\text{MSB}) \\ & 0 & \end{array} $$


লক্ষ্য করো: শেষ ধাপে ৭ কে ৮ দিয়ে ভাগ করা যায় না, তাই ভাগফল ০ এবং ভাগশেষ ৭।


উত্তর: $(450)_{10} = (702)_8$


পদ্ধতি ২: দশমিক ভগ্নাংশকে অন্য বেসে রূপান্তর (গুণ প্রক্রিয়া)

ভগ্নাংশ (যেমন: ০.৩৭৫) রূপান্তরের নিয়মটি পূর্ণসংখ্যার ঠিক উল্টো। এখানে ভাগের পরিবর্তে গুণ করতে হয়। একে বলা হয় Successive Multiplication

অ্যালগরিদম (ধাপসমূহ)
  1. ধাপ ১: দশমিক ভগ্নাংশটিকে কাঙ্ক্ষিত বেস দিয়ে গুণ করতে হবে।
  2. ধাপ ২: গুণফলের পূর্ণাংশটি (Radix point এর বামের অংশ) সংরক্ষণ করতে হবে। এটিই আমাদের কাঙ্ক্ষিত বিট বা অঙ্ক।
  3. ধাপ ৩: গুণফলের ভগ্নাংশ অংশটিকে পুনরায় বেস দিয়ে গুণ করতে হবে।
  4. ধাপ ৪: পূর্ণাংশগুলো উপর থেকে নিচের দিকে সাজিয়ে লিখতে হবে।

কখন থামবে? (Stopping Condition):
শিক্ষার্থীদের সাধারণ প্রশ্ন—কতক্ষণ গুণ করব? তিনটি অবস্থায় থামতে হবে:
১. যদি গুণফলের ভগ্নাংশ অংশটি শূন্য (০.০০) হয়ে যায়।
২. যদি একই ভগ্নাংশ বারবার ফিরে আসে (পৌনঃপুনিক)।
৩. যদি অসীম পর্যন্ত চলতে থাকে, তবে সাধারণত ৩ বা ৪ ধাপ পর্যন্ত করে ডট ডট (...) দিতে হবে।

উদাহরণ ৩: ডেসিমেল ভগ্নাংশ থেকে বাইনারি

প্রশ্ন: $(0.375)_{10}$ কে বাইনারিতে রূপান্তর করো।

সমাধান:


$$ \begin{array}{c|c|c} \text{ভগ্নাংশ} \times \text{বেস} & \text{গুণফল} & \text{সংরক্ষিত পূর্ণাংশ} \\ \hline 0.375 \times 2 & 0.75 & 0 \quad (\text{MSB}) \\ 0.75 \times 2 & 1.50 & 1 \\ 0.50 \times 2 & 1.00 & 1 \quad (\text{LSB}) \\ \end{array} $$


এখানে ৩য় ধাপে ভগ্নাংশ অংশ .০০ হয়ে গেছে, তাই অংক শেষ।


উত্তর: $(0.375)_{10} = (0.011)_2$


বিশেষ আলোচনা: হেক্সাডেসিমেল রূপান্তরে A-F এর ব্যবহার

হেক্সাডেসিমেল (বেস ১৬) রূপান্তরের সময় শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভুল করে যখন ভাগশেষ বা গুণফল ৯-এর চেয়ে বড় আসে। মনে রাখবে, হেক্সাডেসিমেলে ১০ থেকে ১৫ পর্যন্ত সংখ্যাগুলোকে ইংরেজি বর্ণমালা দিয়ে প্রকাশ করা হয়।

ডেসিমেল মান হেক্সাডেসিমেল মান
১০ A
১১ B
১২ C
১৩ D
১৪ E
১৫ F
উদাহরণ ৪: জটিল হেক্সাডেসিমেল রূপান্তর

প্রশ্ন: $(2490)_{10}$ কে হেক্সাডেসিমেলে রূপান্তর করো।

সমাধান:


$$ \begin{array}{l|c|r} \text{বেস (১৬)} & \text{সংখ্যা / ভাগফল} & \text{ভাগশেষ} \\ \hline 16 & 2490 & 10 \rightarrow A \\ 16 & 155 & 11 \rightarrow B \\ 16 & 9 & 9 \\ & 0 & \end{array} $$


ব্যাখ্যা:
প্রথম ধাপে ভাগশেষ ১০, তাই লিখেছি A।
দ্বিতীয় ধাপে ভাগশেষ ১১, তাই লিখেছি B।
শেষ ধাপে ভাগশেষ ৯, যা সরাসরি বসেছে।


উত্তর: $(2490)_{10} = (9BA)_{16}$


পরীক্ষার টিপস ও সতর্কতা

পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য শুধু অংক পারলেই হবে না, উপস্থাপনাও সুন্দর হতে হবে।

পরীক্ষার টিপস (Exam Tips):

  • মিশ্র সংখ্যা: যদি প্রশ্ন হয় $(25.625)_{10}$ কে বাইনারিতে নাও, তবে পূর্ণসংখ্যা (২৫) এবং ভগ্নাংশ (.৬২৫) এর কাজ আলাদাভাবে দেখাবে। শেষে উত্তর একসাথে লিখবে: $(11001.101)_2$
  • বেস উল্লেখ: উত্তরের শেষে অবশ্যই বেস বা ভিত্তি উল্লেখ করবে। যেমন: $(....)_2$ বা $(....)_{16}$। বেস না লিখলে ১ নম্বর কাটা যেতে পারে।
  • ক্যালকুলেটর চেক: অংক শেষ করার পর সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটরের 'Base-N' মোড ব্যবহার করে উত্তরটি মিলিয়ে নেবে। তবে রাফ খাতায় ক্যালকুলেশনের ধাপগুলো অবশ্যই দেখাতে হবে, সরাসরি ক্যালকুলেটরের উত্তর বসালে নম্বর পাবে না।

সংক্ষিপ্ত সারাংশ (Quick Revision)

একনজরে মনে রাখার নিয়ম:
- পূর্ণসংখ্যা রূপান্তর: ডেসিমেল সংখ্যাকে কাঙ্ক্ষিত বেস দিয়ে ভাগ করতে হবে। ভাগশেষগুলো নিচ থেকে উপরে (MSB to LSB) সাজাতে হবে।
- ভগ্নাংশ রূপান্তর: ডেসিমেল ভগ্নাংশকে কাঙ্ক্ষিত বেস দিয়ে গুণ করতে হবে। পূর্ণাংশগুলো উপর থেকে নিচে (MSB to LSB) সাজাতে হবে।
- হেক্সাডেসিমেল: ভাগশেষ ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫ আসলে যথাক্রমে A, B, C, D, E, F বসাতে হবে।

পরিভাষা (Glossary)

পরিভাষা (Term) সংজ্ঞা (Definition)
MSB Most Significant Bit - সংখ্যার সবচেয়ে বামের বা সর্বোচ্চ স্থানীয় মানের অঙ্ক।
LSB Least Significant Bit - সংখ্যার সবচেয়ে ডানের বা সর্বনিম্ন স্থানীয় মানের অঙ্ক।
রেডিক্স পয়েন্ট যে বিন্দুটি পূর্ণসংখ্যা এবং ভগ্নাংশকে পৃথক করে।
বেস বা ভিত্তি কোনো সংখ্যা পদ্ধতিতে ব্যবহৃত মোট মৌলিক চিহ্নের সংখ্যা।

অনুশীলনের প্রশ্ন

সৃজনশীল প্রশ্ন

সৃজনশীল প্রশ্ন ১

মি. জামান আইসিটি ক্লাসে সংখ্যা পদ্ধতি পড়াচ্ছিলেন। তিনি বোর্ডে (৩৮.১২৫)₁₀ সংখ্যাটি লিখলেন এবং ছাত্রদের বললেন, "কম্পিউটার এই সংখ্যাটি সরাসরি বুঝতে পারে না, তাকে তার নিজস্ব ভাষায় বুঝিয়ে দিতে হয়।" এরপর তিনি অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেল পদ্ধতির সুবিধাও ব্যাখ্যা করলেন।

ক) সংখ্যা পদ্ধতির বেস বা ভিত্তি কী?
খ) (৩)₂ সংখ্যাটি সঠিক নয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত সংখ্যাটিকে বাইনারিতে রূপান্তর কর।
ঘ) উদ্দীপকের সংখ্যাটিকে অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেল সংখ্যায় রূপান্তর করে কোনটিতে প্রকাশ করা সুবিধাজনক? বিশ্লেষণপূর্বক মতামত দাও।

উত্তর

(ক) কোনো সংখ্যা পদ্ধতিতে ব্যবহৃত মোট মৌলিক চিহ্ন বা অঙ্কের সংখ্যাকে ঐ সংখ্যা পদ্ধতির বেস বা ভিত্তি বলে।

(খ) বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতির বেস হলো ২ এবং এতে ব্যবহৃত মৌলিক অঙ্ক দুটি হলো ০ এবং ১। যেকোনো বাইনারি সংখ্যা গঠনে শুধুমাত্র এই দুটি অঙ্কই ব্যবহার করা যায়। (৩)₂ সংখ্যাটিতে '৩' অঙ্কটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা বাইনারি পদ্ধতির মৌলিক অঙ্কের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই (৩)₂ সঠিক সংখ্যা নয়।

(গ) উদ্দীপকের সংখ্যাটি হলো (৩৮.১২৫)₁₀। এটিকে বাইনারিতে রূপান্তর করা হলো:

পূর্ণাংশের (৩৮) রূপান্তর:
২ | ৩৮ - ০
২ | ১৯ - ১
২ | ৯ - ১
২ | ৪ - ০
২ | ২ - ০
২ | ১ - ১
২ | ০ - ১
নিচ থেকে উপরে সাজিয়ে পাই: (১০০১১০)₂

ভগ্নাংশের (.১২৫) রূপান্তর:
.১২৫ × ২ = ০.২৫০ → পূর্ণাংশ ০
.২৫০ × ২ = ০.৫০০ → পূর্ণাংশ ০
.৫০০ × ২ = ১.০০০ → পূর্ণাংশ ১
উপর থেকে নিচে সাজিয়ে পাই: (.০০১)₂

সুতরাং, (৩৮.১২৫)₁₀ = (১০০১১০.০০১)₂

(ঘ) উদ্দীপকের সংখ্যাটি (৩৮.১২৫)₁₀।

অক্টালে রূপান্তর:
পূর্ণাংশ ৩৮:
৮ | ৩৮ - ৬
৮ | ৪ - ৪
৮ | ০ - ৪
সুতরাং (৩৮)₁₀ = (৪৬)₈

ভগ্নাংশ .১২৫:
.১২৫ × ৮ = ১.০০০ → পূর্ণাংশ ১
সুতরাং (.১২৫)₁₀ = (.১)₈
অর্থাৎ, (৩৮.১২৫)₁₀ = (৪৬.১)₈

হেক্সাডেসিমেলে রূপান্তর:
পূর্ণাংশ ৩৮:
১৬ | ৩৮ - ৬
১৬ | ২ - ২
১৬ | ০ - ২
সুতরাং (৩৮)₁₀ = (২৬)₁₆

ভগ্নাংশ .১২৫:
.১২৫ × ১৬ = ২.০০০ → পূর্ণাংশ ২
সুতরাং (.১২৫)₁₀ = (.২)₁₆
অর্থাৎ, (৩৮.১২৫)₁₀ = (২৬.২)₁₆

বিশ্লেষণ:
বাইনারিতে সংখ্যাটি (১০০১১০.০০১)₂ যা লিখতে মোট ৯টি বিট প্রয়োজন।
অক্টালে সংখ্যাটি (৪৬.১)₈ যা লিখতে ৩টি অঙ্ক প্রয়োজন।
হেক্সাডেসিমেলে সংখ্যাটি (২৬.২)₁₆ যা লিখতে ৩টি অঙ্ক প্রয়োজন।

যদিও অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেলে একই সংখ্যক অঙ্ক লাগছে, হেক্সাডেসিমেল পদ্ধতিতে বড় মানের সংখ্যাকে আরও কম ডিজিটে প্রকাশ করা সম্ভব হয় এবং মেমোরি অ্যাড্রেসিং-এ হেক্সাডেসিমেল বেশি প্রচলিত। তবে এই নির্দিষ্ট ছোট সংখ্যাটির ক্ষেত্রে উভয়ই সুবিধাজনক। ডিজিটের সংখ্যার বিচারে বাইনারির চেয়ে অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেল উভয়ই সুবিধাজনক।


সৃজনশীল প্রশ্ন ২

সোহেল ও রুবেল দুই বন্ধু বাজারে গিয়ে বই কিনল। সোহেলের বইয়ের দাম (৯৯)₁₀ টাকা এবং রুবেলের বইয়ের দাম (৬৩)₁₀ টাকা। সোহেল বলল, "আমার বইয়ের দামটি যদি হেক্সাডেসিমেলে প্রকাশ করা হয় তবে তা দেখতে ভিন্ন হবে।" রুবেল বলল, "আমার বইয়ের দাম অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেল উভয় পদ্ধতিতে একই অঙ্ক ব্যবহার করে লেখা যায়।"

ক) বিট (Bit) কী?
খ) দশমিক থেকে বাইনারিতে রূপান্তরের সময় পূর্ণাংশকে ভাগ এবং ভগ্নাংশকে গুণ করা হয় কেন?
গ) সোহেলের বইয়ের দাম হেক্সাডেসিমেল সংখ্যায় নির্ণয় কর।
ঘ) রুবেলের উক্তিটি সঠিক কি না? গাণিতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে যাচাই কর।

উত্তর

(ক) বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতির মৌলিক অঙ্ক ০ এবং ১ কে বিট (Bit) বলে। এটি 'Binary Digit' এর সংক্ষিপ্ত রূপ।

(খ) দশমিক পূর্ণাংশকে বাইনারিতে নিতে হলে বেস (২) দিয়ে বারবার ভাগ করে ভাগশেষ সংরক্ষণ করতে হয় কারণ পূর্ণাংশের মান বেসের গুণিতক আকারে বাড়ে (যেমন ১, ২, ৪, ৮...)। অন্যদিকে, ভগ্নাংশের মান বেসের ঋণাত্মক পাওয়ার অনুসারে কমে (যেমন ১/২, ১/৪...)। তাই ভগ্নাংশকে পূর্ণসংখ্যায় পরিণত করতে বেস দিয়ে বারবার গুণ করা হয় এবং পূর্ণাংশটি সংরক্ষণ করা হয়।

(গ) সোহেলের বইয়ের দাম (৯৯)₁₀।
হেক্সাডেসিমেলে রূপান্তর:
১৬ | ৯৯ - ৩
১৬ | ৬ - ৬
১৬ | ০ - ৬

নিচ থেকে উপরে সাজিয়ে পাই: (৬৩)₁₆
সুতরাং, সোহেলের বইয়ের দাম হেক্সাডেসিমেলে (৬৩)₁₆ টাকা।

(ঘ) রুবেলের বইয়ের দাম (৬৩)₁₀।

অক্টালে রূপান্তর:
৮ | ৬৩ - ৭
৮ | ৭ - ৭
৮ | ০ - ৭
সুতরাং, (৬৩)₁₀ = (৭৭)₈

হেক্সাডেসিমেলে রূপান্তর:
১৬ | ৬৩ - ১৫ (১৫ এর হেক্সাডেসিমেল মান F)
১৬ | ৩ - ৩
১৬ | ০ - ৩
সুতরাং, (৬৩)₁₀ = (৩F)₁₆

যাচাই:
রুবেল বলেছিল তার বইয়ের দাম অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেল উভয় পদ্ধতিতে একই অঙ্ক ব্যবহার করে লেখা যায়।
অক্টালে মান (৭৭)₈, যেখানে ব্যবহৃত অঙ্কগুলো '৭'।
হেক্সাডেসিমেলে মান (৩F)₁₆, যেখানে ব্যবহৃত অঙ্কগুলো '৩' এবং 'F'।

স্পষ্টতই, ৭৭ এবং ৩F একই অঙ্ক নয়। সুতরাং, রুবেলের উক্তিটি সঠিক নয়

এমসিকিউ

১. (২১)₁₀ এর সমকক্ষ বাইনারি মান কোনটি?

ক) ১০১০১
খ) ১১১০১
গ) ১০১১১
ঘ) ১১০০১

সঠিক উত্তর: ক) ১০১০১

ব্যাখ্যা:
২১ ÷ ২ = ১০, ভাগশেষ ১
১০ ÷ ২ = ৫, ভাগশেষ ০
৫ ÷ ২ = ২, ভাগশেষ ১
২ ÷ ২ = ১, ভাগশেষ ০
১ ÷ ২ = ০, ভাগশেষ ১
নিচ থেকে উপরে সাজিয়ে পাই ১০১০১।


২. (২৫.৩৭৫)₁₀ এর বাইনারি মান কত?

ক) ১১০০১.০১১
খ) ১১০০১.১০১
গ) ১১০০১.১১০
ঘ) ১১০০১.০০০

সঠিক উত্তর: ক) ১১০০১.০১১

ব্যাখ্যা:
২৫ এর বাইনারি: ১১০০১।
০.৩৭৫ × ২ = ০.৭৫ (০)
০.৭৫ × ২ = ১.৫ (১)
০.৫ × ২ = ১.০ (১)
সুতরাং, ১১০০১.০১১।


৩. দশমিক সংখ্যা ৯৯ এর বাইনারি রূপ কোনটি?

ক) ১১০০০০১
খ) ১১০০১০১
গ) ১১০০০১১
ঘ) ১১০০১১১

সঠিক উত্তর: গ) ১১০০০১১

ব্যাখ্যা:
৬৪+৩২+২+১ = ৯৯।
৬৪ (১), ৩২ (১), ১৬ (০), ৮ (০), ৪ (০), ২ (১), ১ (১) → ১১০০০১১।


৪. (০.১২৫)₁₀ কে বাইনারিতে প্রকাশ করলে কত হবে?

ক) ০.১
খ) ০.০১
গ) ০.০০১
ঘ) ০.১১১

সঠিক উত্তর: গ) ০.০০১

ব্যাখ্যা:
০.১২৫ × ২ = ০.২৫ (০)
০.২৫ × ২ = ০.৫ (০)
০.৫ × ২ = ১.০ (১)
উপর থেকে নিচে: .০০১।


৫. (১২৭)₁₀ এর বাইনারি মান কোনটি?

ক) ১১১১১১১
খ) ১০০০
গ) ১১১০০০০
ঘ) ১০০০০০০

সঠিক উত্তর: ক) ১১১১১১১

ব্যাখ্যা:
১২৮ = ১০০০০০০০, সুতরাং ১২৭ = ১১১১১১১ (৭টি ১)।


৬. দশমিক সংখ্যা ১ এর পরবর্তী বাইনারি সংখ্যা কোনটি?

ক) ২
খ) ১০
গ) ১১
ঘ) ১০০

সঠিক উত্তর: খ) ১০

ব্যাখ্যা:
দশমিক ১ = বাইনারি ১।
১ এর সাথে ১ যোগ করলে বাইনারিতে ১০ হয় (১+১=১০)।


৭. (০.৬২৫)₁₀ কে বাইনারিতে রূপান্তর করলে কী পাওয়া যায়?

ক) ০.১০১
খ) ০.১১০
গ) ০.০১১
ঘ) ০.১১১

সঠিক উত্তর: ক) ০.১০১

ব্যাখ্যা:
০.৬২৫ × ২ = ১.২৫ (১)
০.২৫ × ২ = ০.৫ (০)
০.৫ × ২ = ১.০ (১)
→ ১০১।


৮. (৩৭)₁₀ সংখ্যাটির অক্টাল মান কত?

ক) ৪৫
খ) ৪৩
গ) ৪৭
ঘ) ৫৩

সঠিক উত্তর: ক) ৪৫

ব্যাখ্যা:
৩৭ ÷ ৮ = ৪, ভাগশেষ ৫
৪ ÷ ৮ = ০, ভাগশেষ ৪
নিচ থেকে উপরে: ৪৫।


৯. (২০০)₁₀ কে অক্টাল সংখ্যায় রূপান্তর করলে কত হবে?

ক) ৩১০
খ) ২১০
গ) ৩২০
ঘ) ৩৩০

সঠিক উত্তর: ক) ৩১০

ব্যাখ্যা:
২০০ ÷ ৮ = ২৫, ভাগশেষ ০
২৫ ÷ ৮ = ৩, ভাগশেষ ১
৩ ÷ ৮ = ০, ভাগশেষ ৩
নিচ থেকে উপরে: ৩১০।


১০. দশমিক সংখ্যা ৬০ এর অক্টাল মান কোনটি?

ক) ৭২
খ) ৭৪
গ) ৭৬
ঘ) ৭০

সঠিক উত্তর: খ) ৭৪

ব্যাখ্যা:
৬০ ÷ ৮ = ৭, ভাগশেষ ৪
৭ ÷ ৮ = ০, ভাগশেষ ৭
নিচ থেকে উপরে: ৭৪।


১১. (০.৫৬২৫)₁₀ এর অক্টাল মান কত?

ক) ০.৪
খ) ০.৪৩
গ) ০.৪৫
ঘ) ০.৪৭

সঠিক উত্তর: গ) ০.৪৫

ব্যাখ্যা:
০.৫৬২৫ × ৮ = ৪.৫ (৪)
০.৫ × ৮ = ৪.০ (৪)
উপর থেকে নিচে: .৪৪। দুঃখিত, সঠিক উত্তর ০.৪৫ হবে না, ০.৪৪ হবে।
গণনা: ০.৫৬২৫ * ৮ = ৪.৫ -> ৪
.৫ * ৮ = ৪.০ -> ৪
সঠিক উত্তর ০.৪৪। অপশনে ভুল থাকলে নিকটতম বা সঠিকটি বাছতে হবে। এখানে অপশন গ) ০.৪৫ দেওয়া হয়েছে, যা ভুল। সঠিক উত্তর হবে ০.৪৪। তবে প্রচলিত প্রশ্নে অনেক সময় .৫৬২৫ কে .৪৫ ধরা হয় না।
আসুন আবার দেখি:
.৫৬২৫ * ৮ = ৪.৫। পূর্ণাংশ ৪।
রইল .৫। .৫ * ৮ = ৪.০। পূর্ণাংশ ৪।
সোজা .৪৪। অপশনে নেই।
আসুন প্রশ্নটি পরিবর্তন করি: (০.১২৫)₁₀ এর অক্টাল মান?
.১২৫ * ৮ = ১.০ -> .১
অপশন পরিবর্তন করে দিচ্ছি সঠিক উত্তরের জন্য।

সংশোধিত প্রশ্ন ১১. (০.১২৫)₁₀ এর অক্টাল মান কত?

ক) ০.১
খ) ০.২
গ) ০.৩
ঘ) ০.৪

সঠিক উত্তর: ক) ০.১

ব্যাখ্যা:
০.১২৫ × ৮ = ১.০০০। পূর্ণাংশ ১। উত্তর .১।


১২. (৮৫)₁₀ এর অক্টাল মান কোনটি?

ক) ১০৫
খ) ১২৫
গ) ২১৫
ঘ) ১৫২

সঠিক উত্তর: খ) ১২৫

ব্যাখ্যা:
৮৫ ÷ ৮ = ১০, ভাগশেষ ৫
১০ ÷ ৮ = ১, ভাগশেষ ২
১ ÷ ৮ = ০, ভাগশেষ ১
নিচ থেকে উপরে: ১২৫।


১৩. (১২)₁₀ সংখ্যাটির অক্টাল রূপ কোনটি?

ক) ১২
খ) ১৪
গ) ১৬
ঘ) ২০

সঠিক উত্তর: খ) ১৪

ব্যাখ্যা:
১২ ÷ ৮ = ১, ভাগশেষ ৪
১ ÷ ৮ = ০, ভাগশেষ ১
→ ১৪।


১৪. (২৭)₁₀ এর হেক্সাডেসিমেল মান কত?

ক) ১A
খ) ১B
গ) ১C
ঘ) ১D

সঠিক উত্তর: খ) ১B

ব্যাখ্যা:
২৭ ÷ ১৬ = ১, ভাগশেষ ১১।
হেক্সাডেসিমেলে ১১ এর মান B।
সুতরাং ১B।


১৫. দশমিক সংখ্যা ২৫৫০ এর হেক্সাডেসিমেল মান কোনটি?

ক) ৯F৬
খ) ৯F৪
গ) ৯E৬
ঘ) ৮F৬

সঠিক উত্তর: ক) ৯F৬

ব্যাখ্যা:
২৫৫০ ÷ ১৬ = ১৫৯, ভাগশেষ ৬
১৫৯ ÷ ১৬ = ৯, ভাগশেষ ১৫ (F)
৯ ÷ ১৬ = ০, ভাগশেষ ৯
নিচ থেকে উপরে: ৯F৬।


১৬. (০.৮৫০)₁₀ এর হেক্সাডেসিমেল মান কত (তিন ঘর পর্যন্ত)?

ক) ০.D99
খ) ০.C99
গ) ০.D9
ঘ) ০.A99

সঠিক উত্তর: ক) ০.D99

ব্যাখ্যা:
.৮৫০ × ১৬ = ১৩.৬ (১৩=D)
.৬ × ১৬ = ৯.৬ (৯)
.৬ × ১৬ = ৯.৬ (৯)
→ .D99...


১৭. (৪৯)₁₀ এর হেক্সাডেসিমেল মান কত?

ক) ৩১
খ) ৩২
গ) ৩০
ঘ) ৩৩

সঠিক উত্তর: ক) ৩১

ব্যাখ্যা:
৪৯ ÷ ১৬ = ৩, ভাগশেষ ১
৩ ÷ ১৬ = ০, ভাগশেষ ৩
→ ৩১।


১৮. (১০)₁₀ এর হেক্সাডেসিমেল মান কোনটি?

ক) A
খ) B
গ) C
ঘ) D

সঠিক উত্তর: ক) A

ব্যাখ্যা:
দশমিক ১০ এর হেক্সাডেসিমেল প্রতীক হলো A।


১৯. (১৫)₁₀ সংখ্যাটিকে হেক্সাডেসিমেলে প্রকাশ করলে কী হবে?

ক) E
খ) F
গ) ১০
ঘ) ১৫

সঠিক উত্তর: খ) F

ব্যাখ্যা:
দশমিক ১৫ এর হেক্সাডেসিমেল প্রতীক হলো F।


২০. দশমিক পূর্ণসংখ্যাকে বাইনারিতে রূপান্তর করার নিয়ম কোনটি?

ক) সংখ্যাটিকে ২ দিয়ে গুণ করতে হয়
খ) সংখ্যাটিকে ২ দিয়ে ভাগ করতে হয়
গ) সংখ্যাটিকে ২ দিয়ে বিয়োগ করতে হয়
ঘ) সংখ্যাটিকে ১০ দিয়ে ভাগ করতে হয়

সঠিক উত্তর: খ) সংখ্যাটিকে ২ দিয়ে ভাগ করতে হয়

ব্যাখ্যা:
পূর্ণসংখ্যাকে যেকোনো বেসে নিতে হলে ঐ বেস দিয়ে বারবার ভাগ করে ভাগশেষ সংরক্ষণ করতে হয়।


২১. দশমিক ভগ্নাংশকে হেক্সাডেসিমেলে রূপান্তর করতে হলে কী করতে হয়?

ক) ১৬ দিয়ে ভাগ
খ) ১৬ দিয়ে গুণ
গ) ১০ দিয়ে গুণ
ঘ) ৮ দিয়ে ভাগ

সঠিক উত্তর: খ) ১৬ দিয়ে গুণ

ব্যাখ্যা:
ভগ্নাংশকে রূপান্তরের সময় ভিত্তি বা বেস দিয়ে গুণ করতে হয় এবং পূর্ণাংশ সংরক্ষণ করতে হয়।


২২. সংখ্যা পদ্ধতির বেস বা ভিত্তি বলতে কী বোঝায়?

ক) মোট ব্যবহৃত অঙ্ক বা চিহ্নের সংখ্যা
খ) শুধুমাত্র ১ ও ০ এর ব্যবহার
গ) সংখ্যার স্থানীয় মান
ঘ) সংখ্যার ধরণ

সঠিক উত্তর: ক) মোট ব্যবহৃত অঙ্ক বা চিহ্নের সংখ্যা

ব্যাখ্যা:
কোনো সংখ্যা পদ্ধতিতে ব্যবহৃত মোট মৌলিক চিহ্নের সংখ্যাই হলো ঐ পদ্ধতির বেস। যেমন বাইনারিতে ২, ডেসিমেলে ১০।


২৩. দশমিক থেকে বাইনারিতে রূপান্তরের জন্য -
i. পূর্ণাংশকে ২ দিয়ে ভাগ করতে হয়
ii. ভগ্নাংশকে ২ দিয়ে গুণ করতে হয়
iii. ভাগশেষকে নিচ থেকে উপরে সাজাতে হয়

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ঘ) i, ii ও iii

ব্যাখ্যা:
দশমিক থেকে বাইনারিতে রূপান্তরের তিনটি ধাপই সঠিক। পূর্ণাংশের ক্ষেত্রে ভাগ এবং ভগ্নাংশের ক্ষেত্রে গুণ করা হয়।


২৪. (১২)₁₀ সংখ্যাটি -
i. বাইনারিতে ১১০০
ii. অক্টালে ১৪
iii. হেক্সাডেসিমেলে C

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ঘ) i, ii ও iii

ব্যাখ্যা:
(১২)₁₀ = (১১০০)₂ (৮+৪=১২)
(১২)₁₀ = (১৪)₈ (১×৮+৪=১২)
(১২)₁₀ = (C)₁₆ (C এর মান ১২)


২৫. দশমিক সংখ্যা পদ্ধতির ভিত্তি ১০ হওয়ার কারণ -
i. এটি মানুষের আঙুলের সংখ্যার সাথে মিল রেখে তৈরি
ii. এতে ০ থেকে ৯ পর্যন্ত ১০টি অঙ্ক আছে
iii. এটি কম্পিউটারে সরাসরি ব্যবহৃত হয়

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ক) i ও ii

ব্যাখ্যা:
দশমিক পদ্ধতি মানুষের ব্যবহারের জন্য সহজ এবং এতে ১০টি অঙ্ক আছে। কম্পিউটার সরাসরি বাইনারি ব্যবহার করে, দশমিক নয়। তাই iii সঠিক নয়।