সংখ্যা পদ্ধতির রূপান্তর - ১: ডেসিমেল থেকে বাইনারি, অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেল
এইচএসসি আইসিটি অধ্যায় ৩: দশমিক সংখ্যা থেকে বাইনারি, অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেল সংখ্যায় রূপান্তরের পূর্ণাঙ্গ নিয়ম, উদাহরণ ও শর্টকাট টেকনিক। পূর্ণসংখ্যা ও ভগ্নাংশ উভয়
সংখ্যা পদ্ধতির রূপান্তর - ১: ডেসিমেল থেকে বাইনারি, অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেল
- সংখ্যা পদ্ধতির রূপান্তর - ১: ডেসিমেল থেকে বাইনারি, অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেল
- আমরা দেখি '99', কম্পিউটার দেখে '1100011'!
- রূপান্তরের সাধারণ নিয়ম (The Golden Rule)
- ১. দশমিক থেকে বাইনারি (পূর্ণসংখ্যা)
- ২. দশমিক থেকে বাইনারি (ভগ্নাংশ)
- মিশ্র সংখ্যার উদাহরণ
- ৩. দশমিক থেকে অক্টাল (পূর্ণসংখ্যা)
- ৪. দশমিক থেকে অক্টাল (ভগ্নাংশ)
- হেক্সাডেসিমেলে মনে রাখার বিষয়
- ৫. দশমিক থেকে হেক্সাডেসিমেল (পূর্ণসংখ্যা)
- ৬. দশমিক থেকে হেক্সাডেসিমেল (ভগ্নাংশ)
- ক্যালকুলেটর হ্যাক (MCQ এর জন্য)
- সতর্কতা ও সাধারণ ভুল
- নিজে করো (Practice Session)
- উত্তর মিলিয়ে নাও
- আজকের সারসংক্ষেপ
- বাড়ির কাজ (Homework)
সংখ্যা পদ্ধতির রূপান্তর - ১: ডেসিমেল থেকে বাইনারি, অক্টাল ও হেক্সাডেসিমেল
লেকচারে আমরা দেখেছি কীভাবে আমরা কীবোর্ডে '৯৯' টাইপ করলে কম্পিউটার সেটাকে '১১০১...' হিসেবে গ্রহণ করে। এই রূপান্তর প্রক্রিয়াটি কেবল তাত্ত্বিক নয়, বরং ডিজিটাল ডিভাইসের কার্যপদ্ধতি বোঝার মূল ভিত্তি। এইচএসসি আইসিটি (HSC ICT) পরীক্ষায় ৩য় অধ্যায় থেকে প্রতি বছরই গাণিতিক সমস্যা বা 'ম্যাথ' আসে। বিশেষ করে 'গ' এবং 'ঘ' অংশের জন্য সংখ্যা পদ্ধতির রূপান্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই পাঠে আমরা ডেসিমেল (১০ ভিত্তিক) সংখ্যাকে কীভাবে বাইনারি (২), অক্টাল (৮) এবং হেক্সাডেসিমেল (১৬) সংখ্যায় রূপান্তর করা যায়, তা ধাপে ধাপে শিখব। লেকচারে শেখা 'গোল্ডেন রুল' বা সাধারণ নিয়মটিকে এখানে আমরা বিস্তারিত অ্যালগরিদম আকারে দেখব, যাতে পরীক্ষার খাতায় ভুল হওয়ার কোনো সুযোগ না থাকে।
রূপান্তরের মৌলিক পরিভাষা: MSB ও LSB
রূপান্তর অংক শুরু করার আগে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা জানা জরুরি। পূর্ণসংখ্যার ক্ষেত্রে আমরা ভাগশেষগুলোকে নিচ থেকে উপরে সাজাই, আর ভগ্নাংশের ক্ষেত্রে পূর্ণাংশগুলোকে উপর থেকে নিচে। এর কারণ হলো পজিশনাল ভ্যালু বা স্থানীয় মান।
সংজ্ঞা (Definitions):
MSB (Most Significant Bit/Digit): কোনো সংখ্যার সবচেয়ে বাম দিকের অঙ্ক, যার স্থানীয় মান বা গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি, তাকে MSB বা সর্বোচ্চ গুরুত্বের অঙ্ক বলে। পূর্ণসংখ্যার ক্ষেত্রে এটি সর্ববামদিকের অঙ্ক।
LSB (Least Significant Bit/Digit): কোনো সংখ্যার সবচেয়ে ডান দিকের অঙ্ক, যার স্থানীয় মান বা গুরুত্ব সবচেয়ে কম, তাকে LSB বা সর্বনিম্ন গুরুত্বের অঙ্ক বলে।
Radix Point (রেডিক্স পয়েন্ট): যে বিন্দুটি পূর্ণসংখ্যা এবং ভগ্নাংশকে পৃথক করে তাকে রেডিক্স পয়েন্ট বলে। ডেসিমেল সিস্টেমে একে আমরা দশমিক বিন্দু বলি।
গুরুত্বপূর্ণ (Important):
- পূর্ণসংখ্যার রূপান্তরে সর্বশেষ ভাগশেষটি হয় MSB (সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ)।
- ভগ্নাংশের রূপান্তরে প্রথম পূর্ণাংশটি হয় MSB (সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ)।
- উত্তর লেখার সময় সবসময় MSB থেকে LSB এর দিকে সাজাতে হয়।
পদ্ধতি ১: দশমিক পূর্ণসংখ্যাকে অন্য বেসে রূপান্তর (ভাগ প্রক্রিয়া)
যেকোনো ডেসিমেল পূর্ণসংখ্যাকে বাইনারি, অক্টাল বা হেক্সাডেসিমেলে রূপান্তর করার জন্য একটি সাধারণ নিয়ম বা 'গোল্ডেন রুল' রয়েছে। সেটি হলো Successive Division বা ক্রমান্বয়ে ভাগ পদ্ধতি।
অ্যালগরিদম (ধাপসমূহ)
পরীক্ষায় যদি বর্ণনা চায়, তবে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে লিখবে:
- ধাপ ১: দশমিক পূর্ণসংখ্যাটিকে কাঙ্ক্ষিত বেস (২, ৮ বা ১৬) দিয়ে ভাগ করতে হবে।
- ধাপ ২: ভাগফলের পূর্ণাংশটি নিচে লিখতে হবে এবং ভাগশেষটি (Remainder) ডানপাশে সংরক্ষণ করতে হবে।
- ধাপ ৩: প্রাপ্ত ভাগফলকে পুনরায় বেস দিয়ে ভাগ করতে হবে এবং একইভাবে ভাগশেষ সংরক্ষণ করতে হবে।
- ধাপ ৪: এই প্রক্রিয়াটি ততক্ষণ চলবে যতক্ষণ না ভাগফল ০ (শূন্য) হয়।
- ধাপ ৫: সংরক্ষিত ভাগশেষগুলোকে নিচ থেকে উপরের দিকে (MSB to LSB) সাজিয়ে লিখলেই কাঙ্ক্ষিত সংখ্যাটি পাওয়া যাবে।

উদাহরণ ১: ডেসিমেল থেকে বাইনারি (বেস ২)
প্রশ্ন: $(99)_{10}$ কে বাইনারিতে রূপান্তর করো।
সমাধান:
এখানে সংখ্যাটি ৯৯ এবং টার্গেট বেস ২। তাই আমরা ৯৯ কে বারবার ২ দিয়ে ভাগ করব।
$$
\begin{array}{l|c|r}
\text{বেস (২)} & \text{সংখ্যা / ভাগফল} & \text{ভাগশেষ} \\
\hline
2 & 99 & 1 \quad (\text{LSB}) \\
2 & 49 & 1 \\
2 & 24 & 0 \\
2 & 12 & 0 \\
2 & 6 & 0 \\
2 & 3 & 1 \\
2 & 1 & 1 \\
& 0 & 1 \quad (\text{MSB})
\end{array}
$$
উত্তর: $(99)_{10} = (1100011)_2$
(নিচ থেকে উপরে সাজিয়ে)
উদাহরণ ২: ডেসিমেল থেকে অক্টাল (বেস ৮)
প্রশ্ন: $(450)_{10}$ কে অক্টালে রূপান্তর করো।
সমাধান:
এখানে সংখ্যাটি ৪৫০ এবং টার্গেট বেস ৮।
$$
\begin{array}{l|c|r}
\text{বেস (৮)} & \text{সংখ্যা / ভাগফল} & \text{ভাগশেষ} \\
\hline
8 & 450 & 2 \quad (\text{LSB}) \\
8 & 56 & 0 \\
8 & 7 & 7 \quad (\text{MSB}) \\
& 0 &
\end{array}
$$
লক্ষ্য করো: শেষ ধাপে ৭ কে ৮ দিয়ে ভাগ করা যায় না, তাই ভাগফল ০ এবং ভাগশেষ ৭।
উত্তর: $(450)_{10} = (702)_8$
পদ্ধতি ২: দশমিক ভগ্নাংশকে অন্য বেসে রূপান্তর (গুণ প্রক্রিয়া)
ভগ্নাংশ (যেমন: ০.৩৭৫) রূপান্তরের নিয়মটি পূর্ণসংখ্যার ঠিক উল্টো। এখানে ভাগের পরিবর্তে গুণ করতে হয়। একে বলা হয় Successive Multiplication।
অ্যালগরিদম (ধাপসমূহ)
- ধাপ ১: দশমিক ভগ্নাংশটিকে কাঙ্ক্ষিত বেস দিয়ে গুণ করতে হবে।
- ধাপ ২: গুণফলের পূর্ণাংশটি (Radix point এর বামের অংশ) সংরক্ষণ করতে হবে। এটিই আমাদের কাঙ্ক্ষিত বিট বা অঙ্ক।
- ধাপ ৩: গুণফলের ভগ্নাংশ অংশটিকে পুনরায় বেস দিয়ে গুণ করতে হবে।
- ধাপ ৪: পূর্ণাংশগুলো উপর থেকে নিচের দিকে সাজিয়ে লিখতে হবে।
কখন থামবে? (Stopping Condition):
শিক্ষার্থীদের সাধারণ প্রশ্ন—কতক্ষণ গুণ করব? তিনটি অবস্থায় থামতে হবে:
১. যদি গুণফলের ভগ্নাংশ অংশটি শূন্য (০.০০) হয়ে যায়।
২. যদি একই ভগ্নাংশ বারবার ফিরে আসে (পৌনঃপুনিক)।
৩. যদি অসীম পর্যন্ত চলতে থাকে, তবে সাধারণত ৩ বা ৪ ধাপ পর্যন্ত করে ডট ডট (...) দিতে হবে।
উদাহরণ ৩: ডেসিমেল ভগ্নাংশ থেকে বাইনারি
প্রশ্ন: $(0.375)_{10}$ কে বাইনারিতে রূপান্তর করো।
সমাধান:
$$
\begin{array}{c|c|c}
\text{ভগ্নাংশ} \times \text{বেস} & \text{গুণফল} & \text{সংরক্ষিত পূর্ণাংশ} \\
\hline
0.375 \times 2 & 0.75 & 0 \quad (\text{MSB}) \\
0.75 \times 2 & 1.50 & 1 \\
0.50 \times 2 & 1.00 & 1 \quad (\text{LSB}) \\
\end{array}
$$
এখানে ৩য় ধাপে ভগ্নাংশ অংশ .০০ হয়ে গেছে, তাই অংক শেষ।
উত্তর: $(0.375)_{10} = (0.011)_2$
বিশেষ আলোচনা: হেক্সাডেসিমেল রূপান্তরে A-F এর ব্যবহার
হেক্সাডেসিমেল (বেস ১৬) রূপান্তরের সময় শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভুল করে যখন ভাগশেষ বা গুণফল ৯-এর চেয়ে বড় আসে। মনে রাখবে, হেক্সাডেসিমেলে ১০ থেকে ১৫ পর্যন্ত সংখ্যাগুলোকে ইংরেজি বর্ণমালা দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
| ডেসিমেল মান | হেক্সাডেসিমেল মান |
|---|---|
| ১০ | A |
| ১১ | B |
| ১২ | C |
| ১৩ | D |
| ১৪ | E |
| ১৫ | F |
উদাহরণ ৪: জটিল হেক্সাডেসিমেল রূপান্তর
প্রশ্ন: $(2490)_{10}$ কে হেক্সাডেসিমেলে রূপান্তর করো।
সমাধান:
$$
\begin{array}{l|c|r}
\text{বেস (১৬)} & \text{সংখ্যা / ভাগফল} & \text{ভাগশেষ} \\
\hline
16 & 2490 & 10 \rightarrow A \\
16 & 155 & 11 \rightarrow B \\
16 & 9 & 9 \\
& 0 &
\end{array}
$$
ব্যাখ্যা:
প্রথম ধাপে ভাগশেষ ১০, তাই লিখেছি A।
দ্বিতীয় ধাপে ভাগশেষ ১১, তাই লিখেছি B।
শেষ ধাপে ভাগশেষ ৯, যা সরাসরি বসেছে।
উত্তর: $(2490)_{10} = (9BA)_{16}$
পরীক্ষার টিপস ও সতর্কতা
পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য শুধু অংক পারলেই হবে না, উপস্থাপনাও সুন্দর হতে হবে।
পরীক্ষার টিপস (Exam Tips):
- মিশ্র সংখ্যা: যদি প্রশ্ন হয় $(25.625)_{10}$ কে বাইনারিতে নাও, তবে পূর্ণসংখ্যা (২৫) এবং ভগ্নাংশ (.৬২৫) এর কাজ আলাদাভাবে দেখাবে। শেষে উত্তর একসাথে লিখবে: $(11001.101)_2$
- বেস উল্লেখ: উত্তরের শেষে অবশ্যই বেস বা ভিত্তি উল্লেখ করবে। যেমন: $(....)_2$ বা $(....)_{16}$। বেস না লিখলে ১ নম্বর কাটা যেতে পারে।
- ক্যালকুলেটর চেক: অংক শেষ করার পর সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটরের 'Base-N' মোড ব্যবহার করে উত্তরটি মিলিয়ে নেবে। তবে রাফ খাতায় ক্যালকুলেশনের ধাপগুলো অবশ্যই দেখাতে হবে, সরাসরি ক্যালকুলেটরের উত্তর বসালে নম্বর পাবে না।
সংক্ষিপ্ত সারাংশ (Quick Revision)
একনজরে মনে রাখার নিয়ম:
- পূর্ণসংখ্যা রূপান্তর: ডেসিমেল সংখ্যাকে কাঙ্ক্ষিত বেস দিয়ে ভাগ করতে হবে। ভাগশেষগুলো নিচ থেকে উপরে (MSB to LSB) সাজাতে হবে।
- ভগ্নাংশ রূপান্তর: ডেসিমেল ভগ্নাংশকে কাঙ্ক্ষিত বেস দিয়ে গুণ করতে হবে। পূর্ণাংশগুলো উপর থেকে নিচে (MSB to LSB) সাজাতে হবে।
- হেক্সাডেসিমেল: ভাগশেষ ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫ আসলে যথাক্রমে A, B, C, D, E, F বসাতে হবে।
পরিভাষা (Glossary)
| পরিভাষা (Term) | সংজ্ঞা (Definition) |
|---|---|
| MSB | Most Significant Bit - সংখ্যার সবচেয়ে বামের বা সর্বোচ্চ স্থানীয় মানের অঙ্ক। |
| LSB | Least Significant Bit - সংখ্যার সবচেয়ে ডানের বা সর্বনিম্ন স্থানীয় মানের অঙ্ক। |
| রেডিক্স পয়েন্ট | যে বিন্দুটি পূর্ণসংখ্যা এবং ভগ্নাংশকে পৃথক করে। |
| বেস বা ভিত্তি | কোনো সংখ্যা পদ্ধতিতে ব্যবহৃত মোট মৌলিক চিহ্নের সংখ্যা। |