হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার: একটি সিস্টেমের দুই অর্ধাংশ
কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার এর ধারণা, এদের মধ্যকার সম্পর্ক, ড্রাইভার এবং ফার্মওয়্যার সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।
হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার: একটি সিস্টেমের দুই অর্ধাংশ
- হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার: একটি সিস্টেমের দুই অর্ধাংশ
- ১ লক্ষ টাকার স্মার্টফোন!
- হার্ডওয়্যার কী?
- সফটওয়্যার কী?
- হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সম্পর্ক (The Partnership)
- যোগাযোগ কীভাবে হয়?
- অপারেটিং সিস্টেম (OS): মাঝখানের সেতু
- ডিভাইস ড্রাইভার: ডিজিটাল দোভাষী
- ফার্মওয়্যার (Firmware) কী?
- সারাংশ (Summary)
- প্রশ্ন ও উত্তর
হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার: একটি সিস্টেমের দুই অর্ধাংশ
কম্পিউটার সিস্টেমের একটি চমৎকার উপমা হতে পারে ‘মানুষের দেহ এবং আত্মা’। একটি মানবদেহ যত শক্তিশালী বা নিখুঁত হোক না কেন, আত্মা ছাড়া সেটি যেমন সম্পূর্ণ প্রাণহীন এবং অচল, ঠিক তেমনি কম্পিউটারের বাহ্যিক যন্ত্রপাতি বা হার্ডওয়্যারগুলো সফটওয়্যারের নির্দেশ ছাড়া একটি বোকা বাক্সের বেশি কিছু নয়। আবার, আত্মা যেমন দেহ ছাড়া পৃথিবীতে কোনো কাজ করতে পারে না, তেমনি সফটওয়্যারও হার্ডওয়্যারের ভৌত কাঠামো ছাড়া তার নির্দেশনার বাস্তবায়ন করতে পারে না। অর্থাৎ, একটি পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটার সিস্টেম তৈরি হতে গেলে এই দুটির নিখুঁত সমন্বয় অপরিহার্য।
এই অধ্যায়ে আমরা শিখব কীভাবে একটি কম্পিউটারের ভৌত যন্ত্রাংশ বা হার্ডওয়্যারগুলো লজিক্যাল নির্দেশনাবলি বা সফটওয়্যারের সাথে মিলিত হয়ে একটি শক্তিশালী যন্ত্রে পরিণত হয়। আমরা জানব কীভাবে অপারেটিং সিস্টেম, ডিভাইস ড্রাইভার এবং ফার্মওয়্যার এই দুই বিপরীতধর্মী উপাদানের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। এই টপিকের ধারণাগুলো শুধুমাত্র দৈনন্দিন প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্যই নয়, বরং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হার্ডওয়্যার (Hardware): কম্পিউটারের ভৌত কাঠামো
কম্পিউটারের যেসব অংশ আমাদের সামনে দৃশ্যমান থাকে এবং যা আমরা খালি চোখে দেখতে ও হাত দিয়ে স্পর্শ করতে পারি, তার সবই হার্ডওয়্যারের অন্তর্ভুক্ত। এগুলো মূলত বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক এবং মেকানিক্যাল যন্ত্রাংশের সমন্বয়ে তৈরি হয়। একটি কম্পিউটারে ইনপুট দেওয়ার জন্য কীবোর্ড, ডেটা প্রসেস করার জন্য মাদারবোর্ড ও প্রসেসর, এবং ফলাফল দেখার জন্য মনিটরের মতো যেসব উপাদান ব্যবহার করা হয়, তার সবই হার্ডওয়্যার।
হার্ডওয়্যার নিজে থেকে কোনো কাজ করতে পারে না; এর নিজস্ব কোনো বুদ্ধিমত্তা বা চিন্তাশক্তি নেই। এটি শুধুমাত্র বিদ্যুৎ শক্তির সাহায্যে ইলেকট্রনিক সিগন্যাল গ্রহণ করতে পারে এবং সেই অনুযায়ী যান্ত্রিক কাজ সম্পন্ন করতে পারে। তাই একে সঠিকভাবে পরিচালিত করার জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার প্রয়োজন হয়। কাজের ধরন অনুযায়ী হার্ডওয়্যারকে সাধারণত ইনপুট ডিভাইস, আউটপুট ডিভাইস, প্রসেসিং ইউনিট এবং মেমোরি বা স্টোরেজ ডিভাইস—এই চারটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়।
সংজ্ঞা (Definition): কম্পিউটারের যে সকল ভৌত (Physical) বা স্পর্শযোগ্য যন্ত্রপাতি দেখা যায় এবং যাদের সুনির্দিষ্ট আকার, ওজন ও আকৃতি আছে, তাদের সমষ্টিকে হার্ডওয়্যার (Hardware) বলে। উদাহরণস্বরূপ: কীবোর্ড, মাউস, মাদারবোর্ড, হার্ডডিস্ক এবং মনিটর।
গুরুত্বপূর্ণ (Important):
- ভৌত অস্তিত্ব (Physical presence): হার্ডওয়্যার হলো কম্পিউটারের বাস্তব কাঠামো, যা আমরা সরাসরি ধরতে বা ছুঁতে পারি। এর সুনির্দিষ্ট ওজন এবং জায়গা দখল করার ক্ষমতা রয়েছে, যা একে সফটওয়্যার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে।
- গঠন ও উপাদান: এটি মূলত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, ইলেকট্রিক্যাল এবং মেকানিক্যাল যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি হয়। সিলিকন চিপ, সার্কিট বোর্ড, তার এবং প্লাস্টিক বা ধাতব কেসিং এর প্রধান উৎপাদন সামগ্রী। এসব উপাদানের মিলিত কাজের ফলেই ডেটা আদান-প্রদান সম্ভব হয়।
- স্থায়িত্ব এবং মেরামত: হার্ডওয়্যার সহজে পরিবর্তনযোগ্য নয় এবং একবার তৈরি হয়ে গেলে এর ভেতরে কাঠামোগত পরিবর্তন আনা কঠিন। এটি নষ্ট হলে সরাসরি মেকানিক্যাল মেরামত করতে হয় অথবা নতুন হার্ডওয়্যার যন্ত্রাংশ দিয়ে প্রতিস্থাপন (Replace) করতে হয়।
সফটওয়্যার (Software): কম্পিউটারের প্রাণশক্তি
হার্ডওয়্যার যদি কম্পিউটারের দেহ হয়, তবে সফটওয়্যার হলো তার প্রাণশক্তি। একটি হার্ডওয়্যারকে দিয়ে কখন, কীভাবে এবং কী কাজ করিয়ে নিতে হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে সফটওয়্যারের মাধ্যমে বলে দেওয়া হয়। এটি মূলত হাজার হাজার লাইনের কোড বা নির্দেশের একটি সুশৃঙ্খল সমষ্টি, যা কোনো একটি নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান করতে বা বিশেষ কোনো কাজ সম্পন্ন করতে তৈরি করা হয়।
কম্পিউটার মানুষের সাধারণ ভাষা বোঝে না, এটি কেবল ০ এবং ১ (বাইনারি কোড) এর সমন্বয়ে তৈরি মেশিনের ভাষা বুঝতে পারে। সফটওয়্যার হলো এমন একটি মাধ্যম, যা আমাদের দেওয়া কাজগুলোকে কম্পিউটারের বোধগম্য বাইনারি সিগন্যালে রূপান্তর করে হার্ডওয়্যারের কাছে পাঠায়। সফটওয়্যারকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়—সিস্টেম সফটওয়্যার (যা কম্পিউটারের নিজস্ব কাজ পরিচালনা করে) এবং অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (যা ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট প্রয়োজন মেটায়, যেমন- এমএস ওয়ার্ড, গুগল ক্রোম)।
সংজ্ঞা (Definition): কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারকে সচল ও কার্য উপযোগী করার জন্য এবং নির্দিষ্ট কোনো সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে লেখা প্রোগ্রাম বা নির্দেশাবলির (Set of instructions) সমষ্টিকে সফটওয়্যার (Software) বলে। যেমন: উইন্ডোজ ১১, মাইক্রোসফট অফিস, ফটোশপ ইত্যাদি।
গুরুত্বপূর্ণ (Important):
- লজিক্যাল অস্তিত্ব: সফটওয়্যারের কোনো ভৌত আকার বা আকৃতি নেই, তাই এটিকে খালি চোখে দেখা বা হাত দিয়ে স্পর্শ করা যায় না। এটি কেবল মেমোরিতে সংরক্ষিত একটি যৌক্তিক ধারণা যা হার্ডওয়্যারকে চালিত করার জন্য লজিক হিসেবে কাজ করে।
- উন্নয়ন ও বিকাশ: এটি কোনো কারখানায় যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি করা হয় না, বরং বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ভাষার (যেমন- C, Java, Python) সাহায্যে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বা প্রোগ্রামারদের দ্বারা ডেভেলপ করা হয়। এর জন্য প্রচুর মেধা এবং লজিক্যাল চিন্তার প্রয়োজন হয়।
- পরিবর্তনশীলতা ও আপডেট: সফটওয়্যার খুব সহজেই পরিবর্তন, পরিবর্ধন এবং আপডেট করা যায়। এতে কোনো ত্রুটি বা বাগ (Bug) ধরা পড়লে কোড পরিবর্তনের মাধ্যমে তা ঘরে বসেই দ্রুত সমাধান করা সম্ভব, যার জন্য কোনো ফিজিক্যাল পার্টস বদলাতে হয় না।
হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সম্পর্ক এবং পার্থক্য
একটি কম্পিউটার সিস্টেমে হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় এবং একে অপরের পরিপূরক। আপনি হাজার হাজার টাকা খরচ করে সবচেয়ে আধুনিক প্রসেসর এবং বিশাল র্যাম যুক্ত একটি কম্পিউটার কিনলেন, কিন্তু তাতে যদি কোনো অপারেটিং সিস্টেম (সফটওয়্যার) ইন্সটল করা না থাকে, তবে সেটি কেবল এক টুকরো লোহা বা প্লাস্টিকের বাক্স হিসেবে পড়ে থাকবে। আবার, বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত সফটওয়্যার তৈরি করার পরও সেটি চালানোর জন্য যদি উপযুক্ত ক্ষমতাসম্পন্ন হার্ডওয়্যার না থাকে, তবে সেই সফটওয়্যারের কোনো অস্তিত্বই বা দাম থাকে না।

এই দুটির মিলিত কাজের মাধ্যমেই ব্যবহারকারী তার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পায়। স্তরবিন্যাস অনুযায়ী চিন্তা করলে—সবচেয়ে নিচের স্তরে থাকে হার্ডওয়্যার, তার উপর বসে সিস্টেম সফটওয়্যার বা অপারেটিং সিস্টেম, অপারেটিং সিস্টেমের উপর চলে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার, আর সবার উপরে থাকে ব্যবহারকারী বা ইউজার।
পরীক্ষার টিপস (Exam Tip): জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় "হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য লিখ" প্রশ্নটি প্রায়ই রচনামূলক বা সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন হিসেবে আসে। এই প্রশ্নের উত্তরে কখনোই কেবল ঢালাওভাবে বর্ণনা লিখবেন না। নিচে দেওয়া ছকটির মতো স্পষ্ট ৫-৬টি পয়েন্ট দিয়ে পার্থক্য লিখলে পূর্ণ নম্বর পাওয়া নিশ্চিত হবে।
| পার্থক্যের বিষয় | হার্ডওয়্যার (Hardware) | সফটওয়্যার (Software) |
|---|---|---|
| ১. সংজ্ঞা | কম্পিউটারের ভৌত বা স্পর্শযোগ্য অংশগুলোকে হার্ডওয়্যার বলে। | হার্ডওয়্যারকে পরিচালিত করার জন্য ব্যবহৃত নির্দেশাবলি বা প্রোগ্রামকে সফটওয়্যার বলে। |
| ২. স্পর্শযোগ্যতা | এটি দৃশ্যমান, এর সুনির্দিষ্ট আকার আছে এবং একে হাত দিয়ে স্পর্শ করা যায়। | এটি অদৃশ্য, এর কোনো ভৌত আকার নেই এবং একে হাত দিয়ে স্পর্শ করা যায় না। |
| ৩. উৎপাদন বা তৈরি | এটি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও মেকানিক্যাল যন্ত্রাংশ দিয়ে কারখানায় উৎপাদন (Manufacture) করা হয়। | এটি বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ভাষার সাহায্যে প্রোগ্রামারদের দ্বারা উন্নয়ন (Develop) করা হয়। |
| ৪. স্থায়িত্ব ও পরিবর্তন | হার্ডওয়্যার নষ্ট হলে তা মেরামত বা নতুন করে প্রতিস্থাপন করতে হয়। এটি সহজে আপডেট করা যায় না। | সফটওয়্যারে ত্রুটি দেখা দিলে তা পুনরায় ইনস্টল বা আপডেট করা যায়। এটি খুব সহজেই পরিবর্তনযোগ্য। |
| ৫. ভাইরাসের আক্রমণ | কম্পিউটার ভাইরাস দ্বারা হার্ডওয়্যার সরাসরি আক্রান্ত বা নষ্ট হয় না। | কম্পিউটার ভাইরাস দ্বারা সফটওয়্যার সহজেই আক্রান্ত হয় এবং কাজের বিঘ্ন ঘটে। |
| ৬. উদাহরণ | কীবোর্ড, মাউস, হার্ডডিস্ক, মাদারবোর্ড ইত্যাদি। | উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম, এমএস ওয়ার্ড, গুগল ক্রোম ইত্যাদি। |
অপারেটিং সিস্টেম ও ডিভাইস ড্রাইভার: সংযোগকারী সেতু
যেহেতু হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি জিনিস, তাই এদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করার জন্য একজন 'ম্যানেজার' বা 'অনুবাদক'-এর প্রয়োজন হয়। এই ম্যানেজারের কাজটি করে অপারেটিং সিস্টেম (OS), যেমন- Windows, Linux, বা Android। অপারেটিং সিস্টেম নিজে একটি সফটওয়্যার হলেও, এর প্রধান কাজ হলো অন্যান্য সকল সফটওয়্যার এবং কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করা। এটি নিশ্চিত করে যে, হার্ডওয়্যারের রিসোর্সগুলো যেন সঠিকভাবে বিভিন্ন সফটওয়্যারের মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী বণ্টিত হয়।
অপারেটিং সিস্টেম ছাড়াও আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার রয়েছে, যাকে বলা হয় 'ডিভাইস ড্রাইভার'। এটি নির্দিষ্ট কোনো একটি হার্ডওয়্যার যন্ত্রের জন্য তৈরি করা বিশেষ অনুবাদক। বাজারে হাজারো কোম্পানির হাজারো রকমের হার্ডওয়্যার পাওয়া যায়। অপারেটিং সিস্টেম আগে থেকে সব হার্ডওয়্যারের ভাষা বুঝতে পারে না। তখন ডিভাইস ড্রাইভার অপারেটিং সিস্টেমকে সেই নতুন হার্ডওয়্যারটি ব্যবহার করার নিয়মকানুন শিখিয়ে দেয়।
সংজ্ঞা (Definition): ডিভাইস ড্রাইভার (Device Driver) হলো এক ধরনের বিশেষ সিস্টেম সফটওয়্যার, যা অপারেটিং সিস্টেমকে নির্দিষ্ট কোনো সংযুক্ত হার্ডওয়্যার ডিভাইসের সাথে যোগাযোগ করতে এবং সেটিকে নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
উদাহরণ (Example):
ধরা যাক, আপনি বাজার থেকে একটি নতুন মডেলের ক্যানন (Canon) প্রিন্টার কিনে এনে কম্পিউটারের সাথে যুক্ত করলেন। কম্পিউটার সাথে সাথে প্রিন্টারটিকে চিনতে পারবে না এবং আপনি প্রিন্ট কমান্ড দিলেও সেটি প্রিন্ট করবে না। কারণ আপনার কম্পিউটারের উইন্ডোজ (অপারেটিং সিস্টেম) জানে না ওই প্রিন্টারের সাথে কীভাবে কথা বলতে হয়।
এই অবস্থায় আপনাকে প্রিন্টারের সাথে দেওয়া একটি সিডি থেকে বা ইন্টারনেট থেকে একটি ছোট সফটওয়্যার ইনস্টল করতে হয়। এটিই হলো প্রিন্টারের 'ড্রাইভার'। ড্রাইভার ইনস্টল করার পর অপারেটিং সিস্টেম প্রিন্টারের ভাষা বুঝতে পারে এবং প্রিন্ট করার নির্দেশটি সঠিকভাবে প্রিন্টারে পাঠাতে সক্ষম হয়।
ফার্মওয়্যার (Firmware): হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মাঝামাঝি স্তর
প্রযুক্তির আধুনিকায়নে হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের ধারণা ছাড়াও আমাদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ সম্পর্কে জানতে হবে, তা হলো 'ফার্মওয়্যার'। নাম শুনেই বোঝা যায় এটি সফটওয়্যারের মতোই কিছু একটা, কিন্তু এর কাজের ধরন একটু ভিন্ন। ফার্মওয়্যারকে আপনি হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের একটি মিশ্রণ বা মাঝামাঝি অবস্থা বলতে পারেন। এটি মূলত এমন একটি সফটওয়্যার প্রোগ্রাম যা কোনো হার্ডওয়্যার যন্ত্র তৈরি করার সময়ই তার ভেতরের মেমোরিতে একদম স্থায়ীভাবে লিখে দেওয়া হয়।
সাধারণ সফটওয়্যারগুলো আমরা কম্পিউটারের হার্ডডিস্কে ইনস্টল করি, যা চাইলে যেকোনো সময় মুছে ফেলা (Uninstall) যায়। কিন্তু ফার্মওয়্যার থাকে হার্ডওয়্যারের একদম গভীরে, সাধারণত ROM (Read Only Memory) বা ফ্ল্যাশ মেমোরিতে। এটি হার্ডওয়্যারের মৌলিক কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করে এবং ব্যবহারকারী চাইলেও একে সাধারণ সফটওয়্যারের মতো সহজে মুছে ফেলতে পারে না।

সংজ্ঞা (Definition): ফার্মওয়্যার (Firmware) হলো এক ধরনের স্থায়ী সফটওয়্যার প্রোগ্রাম বা নির্দেশাবলির সমষ্টি, যা কোনো হার্ডওয়্যার যন্ত্র তৈরি করার সময়ই ওই যন্ত্রের নিজস্ব মেমোরিতে (সাধারণত ROM-এ) স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করে দেওয়া হয়। এটি ওই নির্দিষ্ট হার্ডওয়্যারটির মৌলিক কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে।
উদাহরণ (Example):
১. ওয়াশিং মেশিন বা মাইক্রোওয়েভ ওভেন: আপনি যখন ওয়াশিং মেশিনের বাটন চেপে 'হেভি ওয়াশ' সিলেক্ট করেন, তখন মেশিনটি নিজে থেকেই জানে কতক্ষণ পানি নিতে হবে এবং কত স্পিডে ঘুরতে হবে। এই নির্দেশগুলো একটি ছোট চিপের মধ্যে ফার্মওয়্যার হিসেবে স্থায়ীভাবে সেভ করা থাকে।
২. কম্পিউটারের BIOS: কম্পিউটারের মাদারবোর্ডে থাকা BIOS (Basic Input/Output System) হলো একটি বিখ্যাত ফার্মওয়্যার। আপনি যখন কম্পিউটারের পাওয়ার বাটন চাপেন, তখন হার্ডডিস্কে থাকা উইন্ডোজ চালু হওয়ার আগেই এই BIOS ফার্মওয়্যারটি কম্পিউটারের সবগুলো যন্ত্রাংশ ঠিকমতো কাজ করছে কিনা তা চেক করে।
পরীক্ষার টিপস (Exam Tip): পরীক্ষায় যদি "সফটওয়্যার এবং ফার্মওয়্যারের পার্থক্য" আসে, তবে এই পয়েন্টগুলো উল্লেখ করবেন: সফটওয়্যার হার্ডডিস্কে থাকে এবং এটি ঘন ঘন আপডেট বা মুছে ফেলা যায়। অন্যদিকে, ফার্মওয়্যার ROM-এ সংরক্ষিত থাকে, এটি হার্ডওয়্যারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করে এবং এটি সহজে মুছে ফেলা বা আপডেট করা যায় না (আপডেট করতে বিশেষ পদ্ধতির প্রয়োজন হয় যাকে ফ্ল্যাশিং বলা হয়)।
সংক্ষিপ্ত সারাংশ (Quick Revision):
- হার্ডওয়্যার হলো কম্পিউটারের ভৌত কাঠামো যা দৃশ্যমান এবং স্পর্শযোগ্য (যেমন- কীবোর্ড, মাদারবোর্ড)।
- সফটওয়্যার হলো লজিক্যাল নির্দেশাবলি যা হার্ডওয়্যারকে পরিচালনা করে, এটি অদৃশ্য এবং যৌক্তিক (যেমন- উইন্ডোজ, এমএস ওয়ার্ড)।
- হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার একে অপরের পরিপূরক; একটি ছাড়া অপরটি সম্পূর্ণ অর্থহীন এবং অচল।
- অপারেটিং সিস্টেম পুরো সিস্টেমের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করে, আর ডিভাইস ড্রাইভার অপারেটিং সিস্টেম এবং নির্দিষ্ট হার্ডওয়্যারের মাঝে অনুবাদক বা মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
- ফার্মওয়্যার হলো হার্ডওয়্যারের নিজস্ব মেমোরিতে স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত এক ধরনের বিশেষ নির্দেশাবলি, যা যন্ত্রের একদম মৌলিক কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করে (যেমন- BIOS বা ওয়াশিং মেশিনের প্রোগ্রাম)।
পরিভাষা (Glossary)
| Term (শব্দ) | Definition (সংজ্ঞা) |
|---|---|
| Hardware (হার্ডওয়্যার) | কম্পিউটারের দৃশ্যমান, স্পর্শযোগ্য ভৌত অংশ বা ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি। |
| Software (সফটওয়্যার) | কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারকে দিয়ে নির্দিষ্ট কাজ করানোর জন্য তৈরি প্রোগ্রাম বা নির্দেশাবলির সমষ্টি। |
| Firmware (ফার্মওয়্যার) | হার্ডওয়্যার উৎপাদনের সময় তার ROM-এ স্থায়ীভাবে যুক্ত করে দেওয়া নির্দিষ্ট সফটওয়্যার, যা মৌলিক কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে। |
| Device Driver (ডিভাইস ড্রাইভার) | যে বিশেষ সফটওয়্যার নির্দিষ্ট কোনো হার্ডওয়্যারকে কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেমের সাথে যুক্ত করে এবং তার ভাষা অনুবাদ করে। |
| Operating System (OS) | সিস্টেম সফটওয়্যার যা পুরো কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনা করে। |
| Binary Code (বাইনারি কোড) | ০ এবং ১ দ্বারা গঠিত মেশিনের বোধগম্য মৌলিক ভাষা, যা দিয়ে সফটওয়্যারের নির্দেশগুলো হার্ডওয়্যারের কাছে পৌঁছায়। |