হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার: একটি সিস্টেমের দুই অর্ধাংশ

কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার এর ধারণা, এদের মধ্যকার সম্পর্ক, ড্রাইভার এবং ফার্মওয়্যার সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।

শেখা শুরু করুন

হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার: একটি সিস্টেমের দুই অর্ধাংশ

  1. হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার: একটি সিস্টেমের দুই অর্ধাংশ
  2. ১ লক্ষ টাকার স্মার্টফোন!
  3. হার্ডওয়্যার কী?
  4. সফটওয়্যার কী?
  5. হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সম্পর্ক (The Partnership)
  6. যোগাযোগ কীভাবে হয়?
  7. অপারেটিং সিস্টেম (OS): মাঝখানের সেতু
  8. ডিভাইস ড্রাইভার: ডিজিটাল দোভাষী
  9. ফার্মওয়্যার (Firmware) কী?
  10. সারাংশ (Summary)
  11. প্রশ্ন ও উত্তর

হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার: একটি সিস্টেমের দুই অর্ধাংশ

এই লেকচার শেষে আমরা-

১। হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার এর সংজ্ঞা ও পার্থক্য নির্ণয় করতে পারব।
২। হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করতে পারব।
৩। অপারেটিং সিস্টেম কীভাবে হার্ডওয়্যার ও ব্যবহারকারীর মাঝে কাজ করে তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
৪। ডিভাইস ড্রাইভার এবং ফার্মওয়্যার এর কাজ ও প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন করতে পারব。

হ্যালো এভরিওয়ান, আজকের ক্লাসে তোমাদের সবাইকে স্বাগতম! আশা করি তোমরা সবাই ভালো আছো। এই লেকচার শেষে আমরা- ১। হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার এর সংজ্ঞা ও পার্থক্য নির্ণয় করতে পারব। ২। হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করতে পারব। ৩। অপারেটিং সিস্টেম কীভাবে হার্ডওয়্যার ও ব্যবহারকারীর মাঝে কাজ করে তা ব্যাখ্যা করতে পারব। এবং ৪। ডিভাইস ড্রাইভার এবং ফার্মওয়্যার এর কাজ ও প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন করতে পারব।

১ লক্ষ টাকার স্মার্টফোন!

ভেবে দেখো:
- সফটওয়্যার ছাড়া হার্ডওয়্যার শুধুই ধাতু আর প্লাস্টিকের টুকরো।
- নির্জীব বস্তুতে সফটওয়্যার প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে।

কল্পনা করো, তুমি ১ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি দারুণ নতুন স্মার্টফোন কিনলে। কিন্তু সেটিতে কোনো অপারেটিং সিস্টেম বা সফটওয়্যার দেওয়া নেই! এবার তুমি ভিডিওটা একটু পজ করে ভাবো তো, তুমি কি এটা দিয়ে একটা সেলফিও তুলতে পারবে? না! প্রাণহীন দেহের মতো, সফটওয়্যার ছাড়া এই দামি স্মার্টফোন শুধুই কিছু ধাতু আর প্লাস্টিক। আজ আমরা জানবো কীভাবে এই নির্জীব বস্তুতে সফটওয়্যার প্রাণ দেয়।

হার্ডওয়্যার কী?

সংজ্ঞা:
কম্পিউটারের যে সব ভৌত (Physical) অংশ স্পর্শ করা যায় এবং চোখে দেখা যায়, সেগুলোই হলো হার্ডওয়্যার।

উদাহরণ:
- মনিটর
- কীবোর্ড
- মাদারবোর্ড
- মাউস

এখন আসি মূল বিষয়ে। হার্ডওয়্যার কী? সোজা কথায়, কম্পিউটারের যে অংশগুলো তুমি হাত দিয়ে ছুঁতে পারবে, সেটাই হার্ডওয়্যার। তোমার সামনে থাকা মনিটর, কীবোর্ড, বা তোমার ফোনের স্ক্রিন—এগুলো সবই হার্ডওয়্যার। এটা বোঝা কিন্তু খুবই সহজ, তাই না?

সফটওয়্যার কী?

সংজ্ঞা:
কম্পিউটারের বোধগম্য নির্দেশমালা বা প্রোগ্রাম, যা হার্ডওয়্যারকে কাজ করতে নির্দেশ দেয়।

উদাহরণ:
- উইন্ডোজ
- এমএস ওয়ার্ড
- গুগল ক্রোম
- অ্যান্ড্রয়েড

আগের স্লাইডে আমরা হার্ডওয়্যার দেখলাম। কিন্তু এই হার্ডওয়্যার একা কিছুই করতে পারে না। তাকে বলে দিতে হয় সে কী করবে। আর এই নির্দেশ দেওয়ার কাজটাই করে সফটওয়্যার! তুমি যে স্ক্রিনে এই ক্লাসটা দেখছো, সেটাও কোনো না কোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করেই দেখছো।

হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সম্পর্ক (The Partnership)

পারস্পরিক নির্ভরতা:
একে অপরের পরিপূরক।

  • হার্ডওয়্যার হলো কম্পিউটারের ক্ষমতা (Capability)।
  • সফটওয়্যার হলো সেই ক্ষমতার উদ্দেশ্য (Purpose)।

আমাদের মানবদেহের কথা চিন্তা করো। দেহ ছাড়া যেমন প্রাণ অর্থহীন, আবার প্রাণ ছাড়াও দেহ শুধুই একটি মৃত শরীর। ঠিক তেমনি, হার্ডওয়্যার হলো কম্পিউটারের দেহ, আর সফটওয়্যার হলো তার প্রাণ। হার্ডওয়্যারের কাজ করার ক্ষমতা আছে, কিন্তু সফটওয়্যার তাকে উদ্দেশ্য বা ডিরেকশন দেয়।

যোগাযোগ কীভাবে হয়?

কমিউনিকেশন প্রসেস:
- হার্ডওয়্যার আমাদের ভাষা বোঝে না, সে বোঝে ইলেকট্রিক্যাল সিগন্যাল
- সফটওয়্যার আমাদের নির্দেশকে বাইনারি কোডে ($0$ এবং $1$) রূপান্তর করে।
- এর মাধ্যমে হার্ডওয়্যার বুঝতে পারে তাকে কী করতে হবে।

এখন প্রশ্ন হলো, সফটওয়্যার তো নির্দেশ দিচ্ছে, কিন্তু মাদারবোর্ড বা প্রসেসর সেই নির্দেশ বুঝবে কীভাবে? ওরা তো আমাদের মতো বাংলা বা ইংরেজি বোঝে না! ওরা বোঝে শুধু ইলেকট্রিক্যাল সিগন্যাল। সফটওয়্যার আমাদের নির্দেশকে বাইনারি কোডে অর্থাৎ শূন্য (০) এবং এক (১) এর ভাষায় রূপান্তর করে হার্ডওয়্যারকে পাঠায়। এটা কিন্তু খুবই interesting একটা প্রক্রিয়া!

অপারেটিং সিস্টেম (OS): মাঝখানের সেতু

অপারেটিং সিস্টেম (OS):
এটি হলো প্রধান সফটওয়্যার যা হার্ডওয়্যার ও ব্যবহারকারীর মাঝে অনুবাদক হিসেবে কাজ করে।

কাজের ধারা:
ব্যবহারকারী $\rightarrow$ অ্যাপ $\rightarrow$ অপারেটিং সিস্টেম $\rightarrow$ হার্ডওয়্যার

এবার আমরা একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দেখবো—অপারেটিং সিস্টেম। স্ক্রিনের ডায়াগ্রামটার দিকে একটু লক্ষ্য করো। তুমি যখন কম্পিউটারে কোনো গেম খেলো বা অ্যাপ চালাও, তুমি সরাসরি হার্ডওয়্যারকে নির্দেশ দাও না। তুমি নির্দেশ দাও অ্যাপকে, অ্যাপ বলে অপারেটিং সিস্টেমকে, আর অপারেটিং সিস্টেম সেই কথা বুঝিয়ে বলে হার্ডওয়্যারকে। অর্থাৎ, OS হলো মাঝখানের এক বিশাল সেতু!

ডিভাইস ড্রাইভার: ডিজিটাল দোভাষী

ডিভাইস ড্রাইভার:
এটি এক বিশেষ ধরনের সফটওয়্যার।

প্রধান কাজ:
অপারেটিং সিস্টেমকে নির্দিষ্ট কোনো হার্ডওয়্যার (যেমন প্রিন্টার) কীভাবে চালাতে হয় তা শেখানো।

এনালজি: ভিনদেশে দোভাষীর (Translator) সাহায্য নেওয়া।

ধরো, তুমি এমন এক দেশে গেলে যেখানে কেউ তোমার ভাষা বোঝে না। তখন তোমার কী লাগবে? একজন দোভাষী বা ট্রান্সলেটর, তাই অমর্যাদা না? একইভাবে, কম্পিউটারে যখন নতুন একটি প্রিন্টার বা ডিভাইস লাগানো হয়, অপারেটিং সিস্টেম হয়তো তার ভাষা বুঝতে পারে না। তখন এই ডিভাইস ড্রাইভার সেই দোভাষীর কাজ করে, এবং OS কে প্রিন্টারের ভাষা বুঝিয়ে দেয়।

ফার্মওয়্যার (Firmware) কী?

ফার্মওয়্যার:
হার্ডওয়্যারের ভেতরে স্থায়ীভাবে থাকা সফটওয়্যার।

  • সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যারের মাঝামাঝি একটি স্তর।
  • উদাহরণ: পিসির BIOS, রাউটার বা মাইক্রোওয়েভ ওভেনের ভেতরের প্রোগ্রাম।

এতক্ষণ আমরা জানলাম সফটওয়্যার হার্ডওয়্যারকে নির্দেশ দেয়। কিন্তু কিছু সফটওয়্যার আছে যেগুলো হার্ডওয়্যার বানানোর সময়ই ভেতরে স্থায়ীভাবে দিয়ে দেওয়া হয়। এদের বলে ফার্মওয়্যার! যেমন তোমার বাসার মাইক্রোওয়েভ ওভেন কীভাবে বুঝবে কতক্ষণ খাবার গরম করতে হবে? এর ভেতরেও একটা ছোট ফার্মওয়্যার দেওয়া থাকে। এটা হার্ডওয়্যার আর সাধারণ সফটওয়্যারের মাঝামাঝি একটা জিনিস।

সারাংশ (Summary)

আজকে আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখেছি! স্ক্রিনের এই ফ্লোচার্টটি একটু দেখো বা প্রয়োজনে পজ করে স্ক্রিনশট নিয়ে নাও। হার্ডওয়্যার হলো কাঠামো, সফটওয়্যার হলো নির্দেশ। আর এদের মাঝে সেতু হিসেবে কাজ করে অপারেটিং সিস্টেম। সাথে আছে ড্রাইভার আর ফার্মওয়্যার। এই concept টা খুব ভালো করে বুঝলে তোমাদের পরবর্তী চ্যাপ্টারগুলো বুঝতে অনেক সুবিধা হবে।

প্রশ্ন ও উত্তর

নিচের বিষয়গুলো নিশ্চিত করো:

১। হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের পার্থক্য বুঝতে পেরেছ?
২। অপারেটিং সিস্টেমের কাজ কী তা বলতে পারবে?

কোনো প্রশ্ন থাকলে কোর্সের Q&A সেকশনে জানাতে পারো।

যেহেতু এটি একটি অনলাইন কোর্স, তোমাদের মনে কোনো প্রশ্ন থাকলে কোর্সের Q&A সেকশনে অবশ্যই জানাবে। প্রয়োজনে এই ভিডিওটি আবার দেখো এবং রিডিং মেটেরিয়ালগুলো পড়ে নাও। তোমরা সবাই খুব ভালো করবে। আজ এ পর্যন্তই, পরের লেকচারে আবার দেখা হবে!

হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার: একটি সিস্টেমের দুই অর্ধাংশ

পড়তে প্রায় 10 মিনিট

কম্পিউটার সিস্টেমের একটি চমৎকার উপমা হতে পারে ‘মানুষের দেহ এবং আত্মা’। একটি মানবদেহ যত শক্তিশালী বা নিখুঁত হোক না কেন, আত্মা ছাড়া সেটি যেমন সম্পূর্ণ প্রাণহীন এবং অচল, ঠিক তেমনি কম্পিউটারের বাহ্যিক যন্ত্রপাতি বা হার্ডওয়্যারগুলো সফটওয়্যারের নির্দেশ ছাড়া একটি বোকা বাক্সের বেশি কিছু নয়। আবার, আত্মা যেমন দেহ ছাড়া পৃথিবীতে কোনো কাজ করতে পারে না, তেমনি সফটওয়্যারও হার্ডওয়্যারের ভৌত কাঠামো ছাড়া তার নির্দেশনার বাস্তবায়ন করতে পারে না। অর্থাৎ, একটি পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটার সিস্টেম তৈরি হতে গেলে এই দুটির নিখুঁত সমন্বয় অপরিহার্য।

এই অধ্যায়ে আমরা শিখব কীভাবে একটি কম্পিউটারের ভৌত যন্ত্রাংশ বা হার্ডওয়্যারগুলো লজিক্যাল নির্দেশনাবলি বা সফটওয়্যারের সাথে মিলিত হয়ে একটি শক্তিশালী যন্ত্রে পরিণত হয়। আমরা জানব কীভাবে অপারেটিং সিস্টেম, ডিভাইস ড্রাইভার এবং ফার্মওয়্যার এই দুই বিপরীতধর্মী উপাদানের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। এই টপিকের ধারণাগুলো শুধুমাত্র দৈনন্দিন প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্যই নয়, বরং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হার্ডওয়্যার (Hardware): কম্পিউটারের ভৌত কাঠামো

কম্পিউটারের যেসব অংশ আমাদের সামনে দৃশ্যমান থাকে এবং যা আমরা খালি চোখে দেখতে ও হাত দিয়ে স্পর্শ করতে পারি, তার সবই হার্ডওয়্যারের অন্তর্ভুক্ত। এগুলো মূলত বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক এবং মেকানিক্যাল যন্ত্রাংশের সমন্বয়ে তৈরি হয়। একটি কম্পিউটারে ইনপুট দেওয়ার জন্য কীবোর্ড, ডেটা প্রসেস করার জন্য মাদারবোর্ড ও প্রসেসর, এবং ফলাফল দেখার জন্য মনিটরের মতো যেসব উপাদান ব্যবহার করা হয়, তার সবই হার্ডওয়্যার।

হার্ডওয়্যার নিজে থেকে কোনো কাজ করতে পারে না; এর নিজস্ব কোনো বুদ্ধিমত্তা বা চিন্তাশক্তি নেই। এটি শুধুমাত্র বিদ্যুৎ শক্তির সাহায্যে ইলেকট্রনিক সিগন্যাল গ্রহণ করতে পারে এবং সেই অনুযায়ী যান্ত্রিক কাজ সম্পন্ন করতে পারে। তাই একে সঠিকভাবে পরিচালিত করার জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার প্রয়োজন হয়। কাজের ধরন অনুযায়ী হার্ডওয়্যারকে সাধারণত ইনপুট ডিভাইস, আউটপুট ডিভাইস, প্রসেসিং ইউনিট এবং মেমোরি বা স্টোরেজ ডিভাইস—এই চারটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়।

সংজ্ঞা (Definition): কম্পিউটারের যে সকল ভৌত (Physical) বা স্পর্শযোগ্য যন্ত্রপাতি দেখা যায় এবং যাদের সুনির্দিষ্ট আকার, ওজন ও আকৃতি আছে, তাদের সমষ্টিকে হার্ডওয়্যার (Hardware) বলে। উদাহরণস্বরূপ: কীবোর্ড, মাউস, মাদারবোর্ড, হার্ডডিস্ক এবং মনিটর।

গুরুত্বপূর্ণ (Important):
- ভৌত অস্তিত্ব (Physical presence): হার্ডওয়্যার হলো কম্পিউটারের বাস্তব কাঠামো, যা আমরা সরাসরি ধরতে বা ছুঁতে পারি। এর সুনির্দিষ্ট ওজন এবং জায়গা দখল করার ক্ষমতা রয়েছে, যা একে সফটওয়্যার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে।
- গঠন ও উপাদান: এটি মূলত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, ইলেকট্রিক্যাল এবং মেকানিক্যাল যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি হয়। সিলিকন চিপ, সার্কিট বোর্ড, তার এবং প্লাস্টিক বা ধাতব কেসিং এর প্রধান উৎপাদন সামগ্রী। এসব উপাদানের মিলিত কাজের ফলেই ডেটা আদান-প্রদান সম্ভব হয়।
- স্থায়িত্ব এবং মেরামত: হার্ডওয়্যার সহজে পরিবর্তনযোগ্য নয় এবং একবার তৈরি হয়ে গেলে এর ভেতরে কাঠামোগত পরিবর্তন আনা কঠিন। এটি নষ্ট হলে সরাসরি মেকানিক্যাল মেরামত করতে হয় অথবা নতুন হার্ডওয়্যার যন্ত্রাংশ দিয়ে প্রতিস্থাপন (Replace) করতে হয়।

সফটওয়্যার (Software): কম্পিউটারের প্রাণশক্তি

হার্ডওয়্যার যদি কম্পিউটারের দেহ হয়, তবে সফটওয়্যার হলো তার প্রাণশক্তি। একটি হার্ডওয়্যারকে দিয়ে কখন, কীভাবে এবং কী কাজ করিয়ে নিতে হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে সফটওয়্যারের মাধ্যমে বলে দেওয়া হয়। এটি মূলত হাজার হাজার লাইনের কোড বা নির্দেশের একটি সুশৃঙ্খল সমষ্টি, যা কোনো একটি নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান করতে বা বিশেষ কোনো কাজ সম্পন্ন করতে তৈরি করা হয়।

কম্পিউটার মানুষের সাধারণ ভাষা বোঝে না, এটি কেবল ০ এবং ১ (বাইনারি কোড) এর সমন্বয়ে তৈরি মেশিনের ভাষা বুঝতে পারে। সফটওয়্যার হলো এমন একটি মাধ্যম, যা আমাদের দেওয়া কাজগুলোকে কম্পিউটারের বোধগম্য বাইনারি সিগন্যালে রূপান্তর করে হার্ডওয়্যারের কাছে পাঠায়। সফটওয়্যারকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়—সিস্টেম সফটওয়্যার (যা কম্পিউটারের নিজস্ব কাজ পরিচালনা করে) এবং অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (যা ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট প্রয়োজন মেটায়, যেমন- এমএস ওয়ার্ড, গুগল ক্রোম)।

সংজ্ঞা (Definition): কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারকে সচল ও কার্য উপযোগী করার জন্য এবং নির্দিষ্ট কোনো সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে লেখা প্রোগ্রাম বা নির্দেশাবলির (Set of instructions) সমষ্টিকে সফটওয়্যার (Software) বলে। যেমন: উইন্ডোজ ১১, মাইক্রোসফট অফিস, ফটোশপ ইত্যাদি।

গুরুত্বপূর্ণ (Important):
- লজিক্যাল অস্তিত্ব: সফটওয়্যারের কোনো ভৌত আকার বা আকৃতি নেই, তাই এটিকে খালি চোখে দেখা বা হাত দিয়ে স্পর্শ করা যায় না। এটি কেবল মেমোরিতে সংরক্ষিত একটি যৌক্তিক ধারণা যা হার্ডওয়্যারকে চালিত করার জন্য লজিক হিসেবে কাজ করে।
- উন্নয়ন ও বিকাশ: এটি কোনো কারখানায় যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি করা হয় না, বরং বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ভাষার (যেমন- C, Java, Python) সাহায্যে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বা প্রোগ্রামারদের দ্বারা ডেভেলপ করা হয়। এর জন্য প্রচুর মেধা এবং লজিক্যাল চিন্তার প্রয়োজন হয়।
- পরিবর্তনশীলতা ও আপডেট: সফটওয়্যার খুব সহজেই পরিবর্তন, পরিবর্ধন এবং আপডেট করা যায়। এতে কোনো ত্রুটি বা বাগ (Bug) ধরা পড়লে কোড পরিবর্তনের মাধ্যমে তা ঘরে বসেই দ্রুত সমাধান করা সম্ভব, যার জন্য কোনো ফিজিক্যাল পার্টস বদলাতে হয় না।

হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সম্পর্ক এবং পার্থক্য

একটি কম্পিউটার সিস্টেমে হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় এবং একে অপরের পরিপূরক। আপনি হাজার হাজার টাকা খরচ করে সবচেয়ে আধুনিক প্রসেসর এবং বিশাল র‍্যাম যুক্ত একটি কম্পিউটার কিনলেন, কিন্তু তাতে যদি কোনো অপারেটিং সিস্টেম (সফটওয়্যার) ইন্সটল করা না থাকে, তবে সেটি কেবল এক টুকরো লোহা বা প্লাস্টিকের বাক্স হিসেবে পড়ে থাকবে। আবার, বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত সফটওয়্যার তৈরি করার পরও সেটি চালানোর জন্য যদি উপযুক্ত ক্ষমতাসম্পন্ন হার্ডওয়্যার না থাকে, তবে সেই সফটওয়্যারের কোনো অস্তিত্বই বা দাম থাকে না।

Computer System Hierarchy

এই দুটির মিলিত কাজের মাধ্যমেই ব্যবহারকারী তার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পায়। স্তরবিন্যাস অনুযায়ী চিন্তা করলে—সবচেয়ে নিচের স্তরে থাকে হার্ডওয়্যার, তার উপর বসে সিস্টেম সফটওয়্যার বা অপারেটিং সিস্টেম, অপারেটিং সিস্টেমের উপর চলে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার, আর সবার উপরে থাকে ব্যবহারকারী বা ইউজার।

পরীক্ষার টিপস (Exam Tip): জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় "হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য লিখ" প্রশ্নটি প্রায়ই রচনামূলক বা সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন হিসেবে আসে। এই প্রশ্নের উত্তরে কখনোই কেবল ঢালাওভাবে বর্ণনা লিখবেন না। নিচে দেওয়া ছকটির মতো স্পষ্ট ৫-৬টি পয়েন্ট দিয়ে পার্থক্য লিখলে পূর্ণ নম্বর পাওয়া নিশ্চিত হবে।

পার্থক্যের বিষয় হার্ডওয়্যার (Hardware) সফটওয়্যার (Software)
১. সংজ্ঞা কম্পিউটারের ভৌত বা স্পর্শযোগ্য অংশগুলোকে হার্ডওয়্যার বলে। হার্ডওয়্যারকে পরিচালিত করার জন্য ব্যবহৃত নির্দেশাবলি বা প্রোগ্রামকে সফটওয়্যার বলে।
২. স্পর্শযোগ্যতা এটি দৃশ্যমান, এর সুনির্দিষ্ট আকার আছে এবং একে হাত দিয়ে স্পর্শ করা যায়। এটি অদৃশ্য, এর কোনো ভৌত আকার নেই এবং একে হাত দিয়ে স্পর্শ করা যায় না।
৩. উৎপাদন বা তৈরি এটি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও মেকানিক্যাল যন্ত্রাংশ দিয়ে কারখানায় উৎপাদন (Manufacture) করা হয়। এটি বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ভাষার সাহায্যে প্রোগ্রামারদের দ্বারা উন্নয়ন (Develop) করা হয়।
৪. স্থায়িত্ব ও পরিবর্তন হার্ডওয়্যার নষ্ট হলে তা মেরামত বা নতুন করে প্রতিস্থাপন করতে হয়। এটি সহজে আপডেট করা যায় না। সফটওয়্যারে ত্রুটি দেখা দিলে তা পুনরায় ইনস্টল বা আপডেট করা যায়। এটি খুব সহজেই পরিবর্তনযোগ্য।
৫. ভাইরাসের আক্রমণ কম্পিউটার ভাইরাস দ্বারা হার্ডওয়্যার সরাসরি আক্রান্ত বা নষ্ট হয় না। কম্পিউটার ভাইরাস দ্বারা সফটওয়্যার সহজেই আক্রান্ত হয় এবং কাজের বিঘ্ন ঘটে।
৬. উদাহরণ কীবোর্ড, মাউস, হার্ডডিস্ক, মাদারবোর্ড ইত্যাদি। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম, এমএস ওয়ার্ড, গুগল ক্রোম ইত্যাদি।

অপারেটিং সিস্টেম ও ডিভাইস ড্রাইভার: সংযোগকারী সেতু

যেহেতু হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি জিনিস, তাই এদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করার জন্য একজন 'ম্যানেজার' বা 'অনুবাদক'-এর প্রয়োজন হয়। এই ম্যানেজারের কাজটি করে অপারেটিং সিস্টেম (OS), যেমন- Windows, Linux, বা Android। অপারেটিং সিস্টেম নিজে একটি সফটওয়্যার হলেও, এর প্রধান কাজ হলো অন্যান্য সকল সফটওয়্যার এবং কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করা। এটি নিশ্চিত করে যে, হার্ডওয়্যারের রিসোর্সগুলো যেন সঠিকভাবে বিভিন্ন সফটওয়্যারের মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী বণ্টিত হয়।

অপারেটিং সিস্টেম ছাড়াও আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার রয়েছে, যাকে বলা হয় 'ডিভাইস ড্রাইভার'। এটি নির্দিষ্ট কোনো একটি হার্ডওয়্যার যন্ত্রের জন্য তৈরি করা বিশেষ অনুবাদক। বাজারে হাজারো কোম্পানির হাজারো রকমের হার্ডওয়্যার পাওয়া যায়। অপারেটিং সিস্টেম আগে থেকে সব হার্ডওয়্যারের ভাষা বুঝতে পারে না। তখন ডিভাইস ড্রাইভার অপারেটিং সিস্টেমকে সেই নতুন হার্ডওয়্যারটি ব্যবহার করার নিয়মকানুন শিখিয়ে দেয়।

সংজ্ঞা (Definition): ডিভাইস ড্রাইভার (Device Driver) হলো এক ধরনের বিশেষ সিস্টেম সফটওয়্যার, যা অপারেটিং সিস্টেমকে নির্দিষ্ট কোনো সংযুক্ত হার্ডওয়্যার ডিভাইসের সাথে যোগাযোগ করতে এবং সেটিকে নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

উদাহরণ (Example):
ধরা যাক, আপনি বাজার থেকে একটি নতুন মডেলের ক্যানন (Canon) প্রিন্টার কিনে এনে কম্পিউটারের সাথে যুক্ত করলেন। কম্পিউটার সাথে সাথে প্রিন্টারটিকে চিনতে পারবে না এবং আপনি প্রিন্ট কমান্ড দিলেও সেটি প্রিন্ট করবে না। কারণ আপনার কম্পিউটারের উইন্ডোজ (অপারেটিং সিস্টেম) জানে না ওই প্রিন্টারের সাথে কীভাবে কথা বলতে হয়।
এই অবস্থায় আপনাকে প্রিন্টারের সাথে দেওয়া একটি সিডি থেকে বা ইন্টারনেট থেকে একটি ছোট সফটওয়্যার ইনস্টল করতে হয়। এটিই হলো প্রিন্টারের 'ড্রাইভার'। ড্রাইভার ইনস্টল করার পর অপারেটিং সিস্টেম প্রিন্টারের ভাষা বুঝতে পারে এবং প্রিন্ট করার নির্দেশটি সঠিকভাবে প্রিন্টারে পাঠাতে সক্ষম হয়।

ফার্মওয়্যার (Firmware): হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মাঝামাঝি স্তর

প্রযুক্তির আধুনিকায়নে হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের ধারণা ছাড়াও আমাদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ সম্পর্কে জানতে হবে, তা হলো 'ফার্মওয়্যার'। নাম শুনেই বোঝা যায় এটি সফটওয়্যারের মতোই কিছু একটা, কিন্তু এর কাজের ধরন একটু ভিন্ন। ফার্মওয়্যারকে আপনি হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের একটি মিশ্রণ বা মাঝামাঝি অবস্থা বলতে পারেন। এটি মূলত এমন একটি সফটওয়্যার প্রোগ্রাম যা কোনো হার্ডওয়্যার যন্ত্র তৈরি করার সময়ই তার ভেতরের মেমোরিতে একদম স্থায়ীভাবে লিখে দেওয়া হয়।

সাধারণ সফটওয়্যারগুলো আমরা কম্পিউটারের হার্ডডিস্কে ইনস্টল করি, যা চাইলে যেকোনো সময় মুছে ফেলা (Uninstall) যায়। কিন্তু ফার্মওয়্যার থাকে হার্ডওয়্যারের একদম গভীরে, সাধারণত ROM (Read Only Memory) বা ফ্ল্যাশ মেমোরিতে। এটি হার্ডওয়্যারের মৌলিক কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করে এবং ব্যবহারকারী চাইলেও একে সাধারণ সফটওয়্যারের মতো সহজে মুছে ফেলতে পারে না।

Firmware Concept

সংজ্ঞা (Definition): ফার্মওয়্যার (Firmware) হলো এক ধরনের স্থায়ী সফটওয়্যার প্রোগ্রাম বা নির্দেশাবলির সমষ্টি, যা কোনো হার্ডওয়্যার যন্ত্র তৈরি করার সময়ই ওই যন্ত্রের নিজস্ব মেমোরিতে (সাধারণত ROM-এ) স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করে দেওয়া হয়। এটি ওই নির্দিষ্ট হার্ডওয়্যারটির মৌলিক কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে।

উদাহরণ (Example):
১. ওয়াশিং মেশিন বা মাইক্রোওয়েভ ওভেন: আপনি যখন ওয়াশিং মেশিনের বাটন চেপে 'হেভি ওয়াশ' সিলেক্ট করেন, তখন মেশিনটি নিজে থেকেই জানে কতক্ষণ পানি নিতে হবে এবং কত স্পিডে ঘুরতে হবে। এই নির্দেশগুলো একটি ছোট চিপের মধ্যে ফার্মওয়্যার হিসেবে স্থায়ীভাবে সেভ করা থাকে।
২. কম্পিউটারের BIOS: কম্পিউটারের মাদারবোর্ডে থাকা BIOS (Basic Input/Output System) হলো একটি বিখ্যাত ফার্মওয়্যার। আপনি যখন কম্পিউটারের পাওয়ার বাটন চাপেন, তখন হার্ডডিস্কে থাকা উইন্ডোজ চালু হওয়ার আগেই এই BIOS ফার্মওয়্যারটি কম্পিউটারের সবগুলো যন্ত্রাংশ ঠিকমতো কাজ করছে কিনা তা চেক করে।

পরীক্ষার টিপস (Exam Tip): পরীক্ষায় যদি "সফটওয়্যার এবং ফার্মওয়্যারের পার্থক্য" আসে, তবে এই পয়েন্টগুলো উল্লেখ করবেন: সফটওয়্যার হার্ডডিস্কে থাকে এবং এটি ঘন ঘন আপডেট বা মুছে ফেলা যায়। অন্যদিকে, ফার্মওয়্যার ROM-এ সংরক্ষিত থাকে, এটি হার্ডওয়্যারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করে এবং এটি সহজে মুছে ফেলা বা আপডেট করা যায় না (আপডেট করতে বিশেষ পদ্ধতির প্রয়োজন হয় যাকে ফ্ল্যাশিং বলা হয়)।

সংক্ষিপ্ত সারাংশ (Quick Revision):
- হার্ডওয়্যার হলো কম্পিউটারের ভৌত কাঠামো যা দৃশ্যমান এবং স্পর্শযোগ্য (যেমন- কীবোর্ড, মাদারবোর্ড)।
- সফটওয়্যার হলো লজিক্যাল নির্দেশাবলি যা হার্ডওয়্যারকে পরিচালনা করে, এটি অদৃশ্য এবং যৌক্তিক (যেমন- উইন্ডোজ, এমএস ওয়ার্ড)।
- হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার একে অপরের পরিপূরক; একটি ছাড়া অপরটি সম্পূর্ণ অর্থহীন এবং অচল।
- অপারেটিং সিস্টেম পুরো সিস্টেমের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করে, আর ডিভাইস ড্রাইভার অপারেটিং সিস্টেম এবং নির্দিষ্ট হার্ডওয়্যারের মাঝে অনুবাদক বা মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
- ফার্মওয়্যার হলো হার্ডওয়্যারের নিজস্ব মেমোরিতে স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত এক ধরনের বিশেষ নির্দেশাবলি, যা যন্ত্রের একদম মৌলিক কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করে (যেমন- BIOS বা ওয়াশিং মেশিনের প্রোগ্রাম)।

পরিভাষা (Glossary)

Term (শব্দ) Definition (সংজ্ঞা)
Hardware (হার্ডওয়্যার) কম্পিউটারের দৃশ্যমান, স্পর্শযোগ্য ভৌত অংশ বা ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি।
Software (সফটওয়্যার) কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারকে দিয়ে নির্দিষ্ট কাজ করানোর জন্য তৈরি প্রোগ্রাম বা নির্দেশাবলির সমষ্টি।
Firmware (ফার্মওয়্যার) হার্ডওয়্যার উৎপাদনের সময় তার ROM-এ স্থায়ীভাবে যুক্ত করে দেওয়া নির্দিষ্ট সফটওয়্যার, যা মৌলিক কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে।
Device Driver (ডিভাইস ড্রাইভার) যে বিশেষ সফটওয়্যার নির্দিষ্ট কোনো হার্ডওয়্যারকে কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেমের সাথে যুক্ত করে এবং তার ভাষা অনুবাদ করে।
Operating System (OS) সিস্টেম সফটওয়্যার যা পুরো কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনা করে।
Binary Code (বাইনারি কোড) ০ এবং ১ দ্বারা গঠিত মেশিনের বোধগম্য মৌলিক ভাষা, যা দিয়ে সফটওয়্যারের নির্দেশগুলো হার্ডওয়্যারের কাছে পৌঁছায়।

অনুশীলনের প্রশ্ন

লিখিত প্রশ্ন

রচনামূলক প্রশ্ন (Written Questions)

১। ক) হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার কী? ২
[What are hardware and software?]
খ) সিস্টেম সফটওয়্যার এবং অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য করো। ৪
[Differentiate between system software and application software.]
গ) "হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার একে অপরের পরিপূরক"—উক্তিটি বাস্তব উদাহরণসহ বিশ্লেষণ করো। ৪
["Hardware and software are complementary to each other" — analyze the statement with real-world examples.]

উত্তর:

(ক) হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার:
হার্ডওয়্যার (Hardware): কম্পিউটারের যে সকল ভৌত (physical) বা স্পর্শযোগ্য অংশ রয়েছে, তাদের সমষ্টিকে হার্ডওয়্যার বলে। যেমন: কীবোর্ড, মাউস, মনিটর, মাদারবোর্ড ইত্যাদি।
সফটওয়্যার (Software): সফটওয়্যার হলো কিছু নির্দেশনার (instructions) বা প্রোগ্রামের সমষ্টি, যা হার্ডওয়্যারকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং নির্দিষ্ট কোনো কাজ সম্পন্ন করতে সাহায্য করে। যেমন: উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ইত্যাদি।

(খ) সিস্টেম সফটওয়্যার এবং অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের মধ্যে পার্থক্য:
সিস্টেম সফটওয়্যার এবং অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার উভয়ই কম্পিউটারের অপরিহার্য অংশ হলেও এদের কাজের পরিধি ও উদ্দেশ্যে ভিন্নতা রয়েছে। নিচে এদের পার্থক্য আলোচনা করা হলো:
১. সংজ্ঞা: সিস্টেম সফটওয়্যার হলো এমন প্রোগ্রাম যা কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে, অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার হলো ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট কোনো কাজ সম্পাদনের জন্য তৈরি প্রোগ্রাম।
২. নির্ভরশীলতা: অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার চলার জন্য সিস্টেম সফটওয়্যারের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু সিস্টেম সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের উপর নির্ভরশীল নয়।
৩. ব্যবহারকারীর সাথে সম্পর্ক: সিস্টেম সফটওয়্যার সাধারণত ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করে এবং ব্যবহারকারীর সরাসরি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয় না। তবে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার সরাসরি ব্যবহারকারীর সাথে ইন্টারঅ্যাক্ট করে।
৪. উদাহরণ: সিস্টেম সফটওয়্যারের উদাহরণ হলো— Windows, Linux, Android ইত্যাদি অপারেটিং সিস্টেম এবং ডিভাইস ড্রাইভার। অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের উদাহরণ হলো— MS Word, Google Chrome, WhatsApp ইত্যাদি।

(গ) "হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার একে অপরের পরিপূরক"—উক্তিটির বিশ্লেষণ:
একটি সম্পূর্ণ কম্পিউটার সিস্টেম মূলত দুটি প্রধান অংশের সমন্বয়ে গঠিত—হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার। এদের একটি ছাড়া অন্যটি অচল, তাই বলা হয় এরা একে অপরের পরিপূরক।
ভূমিকা ও সম্পর্ক: হার্ডওয়্যার হলো কম্পিউটারের দেহ, আর সফটওয়্যার হলো তার প্রাণ। একটি দামি কম্পিউটার বা স্মার্টফোন কেনা হলেও যদি তাতে অপারেটিং সিস্টেম (সফটওয়্যার) ইনস্টল করা না থাকে, তবে তা কেবল একটি প্লাস্টিক ও ধাতুর বাক্স ছাড়া আর কিছুই নয়। আবার, উন্নত মানের একটি সফটওয়্যার তৈরি করা হলো, কিন্তু তা চালানোর মতো উপযুক্ত প্রসেসর বা র‍্যাম (হার্ডওয়্যার) না থাকলে সেই সফটওয়্যারের কোনো মূল্য নেই।
বাস্তব উদাহরণ: ধরা যাক, একজন ব্যবহারকারী প্রিন্টার (হার্ডওয়্যার) দিয়ে একটি ডকুমেন্ট প্রিন্ট করতে চান। এর জন্য তার কম্পিউটারে প্রিন্ট করার কমান্ড দেওয়ার জন্য একটি অ্যাপ্লিকেশন (যেমন: MS Word) এবং প্রিন্টারটিকে কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত করে কাজ করানোর জন্য একটি ডিভাইস ড্রাইভার (সিস্টেম সফটওয়্যার) প্রয়োজন হবে। এখানে প্রিন্টারটি একা কোনো কাজ করতে পারবে না, যতক্ষণ না সফটওয়্যার তাকে নির্দেশ দিচ্ছে।
উপসংহার: সুতরাং, হার্ডওয়্যার কাজ করার ক্ষমতা প্রদান করে এবং সফটওয়্যার সেই ক্ষমতাকে কীভাবে ব্যবহার করতে হবে তার নির্দেশ দেয়। উভয় উপাদানের সঠিক সমন্বয় ছাড়া কোনো সিস্টেম সচল হতে পারে না। তাই উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।


২। ক) ফার্মওয়্যার কী? এর একটি উদাহরণ দাও। ১+২=৩
[What is firmware? Give an example of it.]
খ) একটি কম্পিউটার সিস্টেম চালু করার ক্ষেত্রে ফার্মওয়্যারের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো। ৩
[Explain the role of firmware in booting a computer system.]
গ) ডিভাইস ড্রাইভার কী? হার্ডওয়্যার সচল করতে ডিভাইস ড্রাইভারের প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করো। ১+৩=৪
[What is a device driver? Describe the necessity of device drivers in making hardware functional.]

উত্তর:

(ক) ফার্মওয়্যার ও তার উদাহরণ:
ফার্মওয়্যার (Firmware): ফার্মওয়্যার হলো এক বিশেষ ধরনের সফটওয়্যার বা প্রোগ্রাম যা নির্দিষ্ট হার্ডওয়্যার ডিভাইসের মেমোরিতে (সাধারণত ROM বা ফ্লাশ মেমোরিতে) স্থায়ীভাবে যুক্ত বা প্রোথিত (embedded) থাকে। এটি ঐ হার্ডওয়্যারটি কীভাবে কাজ করবে তার প্রাথমিক এবং নিম্নস্তরের (low-level) নির্দেশনা প্রদান করে।
উদাহরণ: কম্পিউটারের মাদারবোর্ডে থাকা BIOS (Basic Input/Output System) বা UEFI হলো ফার্মওয়্যারের সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ। এছাড়া ডিজিটাল ক্যামেরা, রাউটার, স্মার্ট টিভি বা মাইক্রোওয়েভ ওভেনে যে প্রোগ্রামগুলো হার্ডওয়্যার নিয়ন্ত্রণের জন্য আগে থেকেই সেট করা থাকে, সেগুলোও ফার্মওয়্যার।

(খ) সিস্টেম চালু করার ক্ষেত্রে ফার্মওয়্যারের ভূমিকা:
একটি কম্পিউটার সিস্টেম চালু বা বুট (boot) করার ক্ষেত্রে ফার্মওয়্যার (যেমন: BIOS) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পোস্ট (POST) অপারেশন: কম্পিউটার চালু করার সাথে সাথে ফার্মওয়্যার সর্বপ্রথম POST (Power-On Self-Test) সম্পন্ন করে। এটি কম্পিউটারের সাথে যুক্ত সকল হার্ডওয়্যার (যেমন: র‍্যাম, প্রসেসর, কীবোর্ড, হার্ডডিস্ক) ঠিকমতো কাজ করছে কিনা তা পরীক্ষা করে।
বুটলোডার লোডিং: হার্ডওয়্যার সঠিকভাবে কাজ করলে ফার্মওয়্যার হার্ডডিস্ক বা স্টোরেজ ডিভাইস থেকে অপারেটিং সিস্টেমের বুটলোডার (Bootloader) খুঁজে বের করে এবং তা র‍্যামে (RAM) লোড করে।
সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর: বুটলোডার লোড হওয়ার পর ফার্মওয়্যার কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ অপারেটিং সিস্টেমের হাতে তুলে দেয়, যার ফলে ব্যবহারকারী স্ক্রিনে উইন্ডোজ বা অন্য কোনো ওএস-এর ইন্টারফেস দেখতে পান। ফার্মওয়্যার না থাকলে কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম লোড করতে পারতো না।

(গ) ডিভাইস ড্রাইভার ও এর প্রয়োজনীয়তা:
ডিভাইস ড্রাইভার (Device Driver): ডিভাইস ড্রাইভার হলো এক প্রকার সিস্টেম সফটওয়্যার যা কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম এবং নির্দিষ্ট কোনো হার্ডওয়্যার ডিভাইসের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম বা অনুবাদক হিসেবে কাজ করে।
হার্ডওয়্যার সচল করতে প্রয়োজনীয়তা:
১. ভাষাগত অনুবাদক: অপারেটিং সিস্টেম সরাসরি কোনো নতুন হার্ডওয়্যারের ভাষা বা কাজের ধরন বোঝে না। ডিভাইস ড্রাইভার অপারেটিং সিস্টেমের নির্দেশাবলিকে এমন ভাষায় রূপান্তর করে যা নির্দিষ্ট হার্ডওয়্যারটি বুঝতে পারে।
২. সমন্বয় সাধন: বাজারে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মডেলের গ্রাফিক্স কার্ড, প্রিন্টার বা সাউন্ড কার্ড তৈরি হচ্ছে। প্রতিটি হার্ডওয়্যারের নিজস্ব আর্কিটেকচার থাকে। ডিভাইস ড্রাইভার অপারেটিং সিস্টেমের সাথে এই নতুন হার্ডওয়্যারের সফল সমন্বয় সাধন করে।
৩. কর্মক্ষমতা নিশ্চিতকরণ: একটি হার্ডওয়্যার তার পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করার জন্য সঠিক এবং আপডেটেড ডিভাইস ড্রাইভারের প্রয়োজন। ড্রাইভার ছাড়া অপারেটিং সিস্টেম হার্ডওয়্যারটিকে চিনতে পারলেও এর স্পেশাল ফিচারগুলো ব্যবহার করতে পারে না।
৪. সমস্যা সমাধান: ড্রাইভার না থাকলে কম্পিউটার হার্ডওয়্যারটিকে "Unknown Device" হিসেবে দেখায় এবং তা ব্যবহার অযোগ্য থাকে। যেমন, প্রিন্টার কম্পিউটারের সাথে যুক্ত থাকলেও প্রিন্ট কমান্ড কাজ করবে না যতক্ষণ না সেই মডেলের প্রিন্টারের ড্রাইভার ইনস্টল করা হচ্ছে।