মোবাইল যোগাযোগ ও এর প্রজন্ম

মোবাইল কমিউনিকেশনের বিবর্তন, ১জি থেকে ৫জি প্রজন্মের বৈশিষ্ট্য, জিএসএম ও সিডিএমএ প্রযুক্তি। এইচএসসি আইসিটি অধ্যায় ২।

শেখা শুরু করুন

HSC ICT: মোবাইল যোগাযোগ ও এর প্রজন্ম

  1. মোবাইল যোগাযোগ ও এর প্রজন্ম
  2. একটু ভেবে দেখো...
  3. মোবাইল যোগাযোগ কী?
  4. সেলুলার নেটওয়ার্ক (Cellular Network)
  5. ফ্রিকোয়েন্সি রি-ইউজ (Frequency Reuse)
  6. মোবাইল প্রজন্মের বিবর্তন (Generations)
  7. প্রথম প্রজন্ম বা 1G (১৯৭৯-১৯৯০)
  8. দ্বিতীয় প্রজন্ম বা 2G (১৯৯১-২০০০)
  9. 2G এর দুটি স্ট্যান্ডার্ড: GSM ও CDMA
  10. তৃতীয় প্রজন্ম বা 3G (২০০১-২০০৮)
  11. চতুর্থ প্রজন্ম বা 4G (২০০৯-২০২০)
  12. পঞ্চম প্রজন্ম বা 5G (২০২০-বর্তমান)
  13. এক নজরে সকল প্রজন্ম
  14. যা শিখলাম ও নিজেকে যাচাই

মোবাইল যোগাযোগ ও এর প্রজন্ম

এই লেকচার শেষে আমরা-

১। মোবাইল কমিউনিকেশনের মৌলিক ধারণা ও সেলুলার নেটওয়ার্ক ব্যাখ্যা করতে পারব।
২। মোবাইল ফোনের বিভিন্ন প্রজন্মের (1G থেকে 5G) বিবর্তন বর্ণনা করতে পারব।
৩। GSM এবং CDMA প্রযুক্তির পার্থক্য নিরূপণ করতে পারব।
৪। বিভিন্ন প্রজন্মের মূল বৈশিষ্ট্য (যেমন: SMS, ইন্টারনেট, ভিডিও কল) চিহ্নিত করতে পারব।

হ্যালো এবং স্বাগতম এইচএসসি আইসিটি কোর্সের আজকের লেকচারে। আমি তোমাদের সাথে আছি এই পুরো জার্নিতে। আজকের টপিকটা আমাদের সবার খুব পরিচিত, কিন্তু এর পেছনের টেকনোলজিটা দারুণ ইন্টারেস্টিং। আজ আমরা কথা বলব মোবাইল যোগাযোগ এবং এর প্রজন্ম নিয়ে। এই লেকচার শেষে তোমরা মোবাইল নেটওয়ার্ক কীভাবে কাজ করে তা বুঝতে পারবে, 1G থেকে 5G পর্যন্ত বিবর্তনের গল্পটা জানবে, এবং GSM ও CDMA এর পার্থক্য পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে পারবে। চলো শুরু করা যাক।

একটু ভেবে দেখো...

প্রশ্ন:
  • আজকের ফোনে আমরা গেমিং, স্ট্রিমিং, অফিস সব করছি।
  • কিন্তু প্রথম মোবাইল ফোনটি কেমন ছিল?
  • 'G' বা Generation আসলে কী?

আমরা আজ জানব কীভাবে বিশাল আকৃতির ফোন থেকে আজকের স্লিম স্মার্টফোনে রূপান্তর হলো এবং এর পেছনের প্রযুক্তিগুলো কী।

একটু স্লাইডের ছবিটার দিকে তাকাও। বাম পাশে দেখছো একটা বিশাল ইটের মতো যন্ত্র? ওটাই ছিল মোবাইল ফোনের আদি রূপ! আর ডান পাশে আজকের স্লিম, স্মার্টফোন। মাত্র কয়েক দশকের মধ্যে এই পরিবর্তনটা কীভাবে হলো? আমরা যে কথায় কথায় বলি 4G বা 5G স্পিড, এই 'G' বা জেনারেশন আসলে কী মিন করে? আজকের ক্লাসে আমরা এই fascinating জার্নিটাই দেখব। আমরা দেখব কীভাবে শুধু কথা বলার যন্ত্র থেকে ফোন এখন আমাদের পুরো পৃথিবী হয়ে উঠেছে।

মোবাইল যোগাযোগ কী?

মোবাইল যোগাযোগ (Mobile Communication):
মোবাইল যোগাযোগ হলো এমন এক ব্যবস্থা যেখানে তারবিহীনভাবে (Wireless) ও চলাফেরা করা অবস্থায় (Mobile) তথ্য আদান-প্রদান করা যায়।

প্রধান বৈশিষ্ট্য:
  • ফুল ডুপ্লেক্স (Full Duplex): একই সময়ে উভয় পক্ষ কথা বলতে ও শুনতে পারে (যেমন মোবাইল ফোন)। ওয়াকি-টকির মতো একপক্ষ থামলে অন্যপক্ষ কথা বলে না।
  • দ্বিমুখী যোগাযোগ: প্রেরক ও প্রাপক উভয়েই ডেটা পাঠাতে পারে।
  • নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সি: প্রতিটি সংযোগের জন্য নির্দিষ্ট বেতার তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়।

প্রথমে আসি সংজ্ঞায়। 'মোবাইল' শব্দটার অর্থই হলো যা নড়াচড়া করতে পারে বা ভ্রাম্যমাণ। তাই মোবাইল কমিউনিকেশন মানে হলো, তুমি এক জায়গায় স্থির না থেকেও যে যোগাযোগ করতে পারো। এটা তারবিহীন বা Wireless। তবে এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে—এটা হলো 'ফুল ডুপ্লেক্স' সিস্টেম। মানে, মোবাইলে কথা বলার সময় তুমি এবং তোমার বন্ধু একই সাথে কথা বলতে পারো এবং শুনতেও পারো। ওয়াকি-টকির মতো 'ওভার' বলে থামতে হয় না। এটাই মোবাইল কমিউনিকেশনের ম্যাজিক।

সেলুলার নেটওয়ার্ক (Cellular Network)

সেল (Cell):
পুরো কভারেজ এলাকাকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করা হয়। এই ক্ষুদ্রতম অংশগুলোকে বলা হয় 'সেল'

গঠন:
* প্রতিটি সেলের মাঝখানে একটি টাওয়ার বা Base Transceiver Station (BTS) থাকে।
* সেলগুলো সাধারণত ষড়ভুজাকৃতি (Hexagonal) হয়।

কেন ষড়ভুজাকৃতি?
* বৃত্তাকার হলে মাঝখানে ফাঁকা জায়গা (Gap) থেকে যেত।
* চতুর্ভুজ বা ত্রিভুজের চেয়ে ষড়ভুজ বা মৌচাকের আকৃতিতে টাওয়ার থেকে সবদিকের দূরত্ব প্রায় সমান থাকে এবং কভারেজ নিখুঁত হয়।

তোমরা কি কখনো মৌচাক দেখেছো? মোবাইল নেটওয়ার্কের ম্যাপটা ঠিক মৌচাকের মতো দেখতে। বিশাল একটা এলাকাকে ছোট ছোট টুকরোয় ভাগ করা হয়, এই টুকরোগুলোকে বলে 'সেল'। আর একারণেই মোবাইল ফোনকে 'সেলফোন' বা 'সেলুলার ফোন' বলা হয়। প্রতিটি সেলের মাঝখানে একটা টাওয়ার থাকে, যাকে আমরা বলি BTS। এখন প্রশ্ন হলো, সেলগুলো গোল না হয়ে ষড়ভুজ বা Hexagonal কেন? গোল হলে পাশাপাশি বসালে মাঝখানে ফাঁকা জায়গা থেকে যেত, তখন কল ড্রপ হতো। কিন্তু ষড়ভুজ বসালে কোনো ফাঁক থাকে না, পুরো এলাকা পারফেক্টলি কভার করা যায়।

ফ্রিকোয়েন্সি রি-ইউজ (Frequency Reuse)

ধারণা:
একই ফ্রিকোয়েন্সি বা কম্পাঙ্ক বারবার ব্যবহার করার পদ্ধতিকে ফ্রিকোয়েন্সি রি-ইউজ বলে।

কেন প্রয়োজন?
* বাতাসে ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জ সীমিত (Limited Spectrum)।
* একই ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে দূরবর্তী দুটি সেলে একাধিক কল চালানো সম্ভব।
* এতে নেটওয়ার্কের ধারণক্ষমতা (Capacity) বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

উদাহরণ:
চিত্রে লক্ষ্য করো, একই রঙের সেলগুলো একই ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করছে, কিন্তু তারা একে অপরের সাথে লেগে নেই।

আচ্ছা, চিন্তা করো তো, একটা ক্লাসরুমে যদি সবাই চিৎকার করে কথা বলে, কেউ কি কিছু শুনবে? না। কিন্তু যদি দুই কোণায় দুইজন ফিসফিস করে কথা বলে, তবে সমস্যা নেই। মোবাইল নেটওয়ার্কেও তাই। আমাদের ফ্রিকোয়েন্সি বা চ্যানেল সংখ্যা সীমিত। তাই ইঞ্জিনিয়াররা একটা বুদ্ধি বের করেছেন—'ফ্রিকোয়েন্সি রি-ইউজ'। মানে হলো, ঢাকা আর চট্টগ্রামে একই ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করা যাবে কারণ তারা অনেক দূরে, সিগন্যাল মিক্স হবে না। পাশের স্লাইডে দেখো, লাল রঙের সেলগুলো একে অপরের থেকে দূরে, তাই তারা একই ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করছে। এভাবেই কোটি কোটি মানুষ একসাথে কথা বলতে পারে।

মোবাইল প্রজন্মের বিবর্তন (Generations)

প্রজন্ম বা Generation কী?
মোবাইল প্রযুক্তির ধাপে ধাপে উন্নয়ন বা বড় ধরণের পরিবর্তনকে প্রজন্ম বলা হয়। 'G' দিয়ে Generation বোঝানো হয়।

সংক্ষিপ্ত ইতিহাস:
* 1G (১৯৮০): এনালগ ভয়েস (শুধু কথা)।
* 2G (১৯৯০): ডিজিটাল ভয়েস ও SMS।
* 3G (২০০০): ভিডিও কল ও মোবাইল ইন্টারনেট।
* 4G (২০১০): হাই-স্পিড ব্রডব্যান্ড।
* 5G (২০২০): স্মার্ট কানেক্টিভিটি ও IoT।

আমরা যেমন মানুষের ক্ষেত্রে দাদা, বাবা, ছেলে—এভাবে প্রজন্ম হিসাব করি, মোবাইলেও তাই। প্রযুক্তির এক একটা বড় লাফ বা jump কে আমরা এক একটা Generation বলি। আশির দশকে শুরু হয়েছিল 1G দিয়ে, আর এখন আমরা 5G এর যুগে। স্লাইডের টাইমলাইনটা দেখো। প্রতি ১০ বছর পর পর প্রায় নতুন প্রজন্ম এসেছে। 1G তে শুধু কথা বলা যেত, 2G তে টেক্সট এল, 3G তে ইন্টারনেট, 4G তে স্পিড, আর 5G তে এখন সব স্মার্ট ডিভাইসের কানেকশন। চলো এখন প্রত্যেকটা সম্পর্কে বিস্তারিত জানি।

প্রথম প্রজন্ম বা 1G (১৯৭৯-১৯৯০)

প্রযুক্তি: এনালগ সিগন্যাল (Analog Signal)।
স্ট্যান্ডার্ড: AMPS, TACS।

বৈশিষ্ট্য:
* শুধুমাত্র ভয়েস কল করা যেত।
* শব্দ ও সেবার মান নিম্নমানের ছিল, প্রায়ই ক্রস-কানেকশন হতো।
* কোনো রোমিং সুবিধা ছিল না।
* ফোনের আকার বড় ও ভারী ছিল (Brick Phone)।
* ব্যাটারি লাইফ অত্যন্ত কম ছিল।

তোমরা কি পুরোনো দিনের সিনেমায় ভিলেনদের হাতে বড় ইটের মতো ফোন দেখেছ? ওগুলোই ছিল 1G ফোন। তখন সিগন্যাল ছিল এনালগ। মানে রেডিওর মতো। শুধু কথা বলা যেত, কিন্তু সাউন্ড ক্লিয়ার ছিল না। প্রায়ই অন্যের কথা শোনা যেত, যাকে বলে ক্রস-কানেকশন। আর ফোনের যা সাইজ ছিল! পকেটে নেওয়া তো দূরের কথা, হাতে নিয়ে ঘোরাই ছিল ব্যায়ামের মতো। সিকিউরিটিও ছিল না, যে কেউ ফ্রিকোয়েন্সি টিউন করে কথা শুনে ফেলতে পারত।

দ্বিতীয় প্রজন্ম বা 2G (১৯৯১-২০০০)

প্রযুক্তি: ডিজিটাল সিগন্যাল (Digital Signal)।
স্ট্যান্ডার্ড: GSM, CDMA।

বৈপ্লবিক পরিবর্তন:
* SMS (Short Message Service): টেক্সট মেসেজ চালু।
* MMS: ছবি পাঠানোর সুবিধা।
* রোমিং: এক দেশ থেকে অন্য দেশে ব্যবহারের সুবিধা।
* নিরাপত্তা: ডিজিটাল এনক্রিপশন (Encryption) এর ফলে কথা শোনা যেত না।
* সীমিত ইন্টারনেট: WAP, GPRS, EDGE প্রযুক্তিতে ধীরগতির ইন্টারনেট।

নব্বইয়ের দশকে এল সত্যিকারের বিপ্লব—2G। সিগন্যাল হলো ডিজিটাল। নয়েজ বা হট্টগোল কমে গেল। আর সবচেয়ে বড় ধামাকা—SMS! আমরা লিখে মেসেজ পাঠানো শিখলাম। 'শুভ নববর্ষ' বা 'ঈদ মোবারক' লিখে মেসেজ পাঠানোর কালচার এখান থেকেই শুরু। নোকিয়া ১১০০ বা ৩৩১০ মডেলগুলো এই সময়েরই সুপারস্টার। এই সময়েই প্রি-পেইড সিস্টেম চালু হলো, মানে আগে টাকা রিচার্জ করো, তারপর কথা বলো। ইন্টারনেট এল, তবে খুব ধীরগতির, যাকে আমরা GPRS বা EDGE নামে চিনতাম।

2G এর দুটি স্ট্যান্ডার্ড: GSM ও CDMA

GSM (Global System for Mobile)
  • সিম কার্ড: এতে সিম (SIM) কার্ড খোলা ও পরিবর্তন করা যায়।
  • জনপ্রিয়তা: বিশ্বের ৮০% এর বেশি দেশে ব্যবহৃত হয় (যেমন: গ্রামীণফোন, রবি)।
  • সুবিধা: হ্যান্ডসেট পরিবর্তনের স্বাধীনতা থাকে।
  • নিরাপত্তা: তুলনামূলক সাধারণ।

2G তে দুই ধরণের প্রযুক্তি বা দল ছিল। এক দলের নাম GSM, আরেক দলের নাম CDMA। GSM হলো আমাদের গ্রামীণফোন বা বাংলালিংকের মতো—যেখানে একটা ছোট সিম কার্ড থাকে। তুমি চাইলেই সিম খুলে অন্য ফোনে লাগাতে পারো। এটা সারা বিশ্বে খুব জনপ্রিয়। অন্যদিকে CDMA ছিল একটু কড়া। বাংলাদেশে একসময় 'সিটিসেল' (Citycell) ছিল, মনে আছে? তাদের ফোনে সিম খোলা যেত না, নম্বরটা ফোনেই সেট করা থাকত। CDMA এর সিকিউরিটি বা নিরাপত্তা বেশি ছিল, কিন্তু সিম পরিবর্তনের স্বাধীনতা ছিল না বলে এটি আস্তে আস্তে হারিয়ে গেছে।

তৃতীয় প্রজন্ম বা 3G (২০০১-২০০৮)

মূল মন্ত্র: উচ্চগতির ডেটা বা ইন্টারনেট।
স্ট্যান্ডার্ড: UMTS, HSPA+।

নতুন সুবিধা:
* ভিডিও কল (Video Calling): সরাসরি ছবি দেখে কথা বলা।
* মোবাইল টিভি ও স্ট্রিমিং: ফোনে টিভি দেখা।
* ব্রাউজিং: দ্রুতগতির ওয়েব ব্রাউজিং ও ইমেইল।
* প্যাকেট সুইচিং: ডেটা স্থানান্তরের জন্য প্যাকেট সুইচিং এর ব্যাপক ব্যবহার।

2G তে ইন্টারনেট ছিল কচ্ছপের মতো ধীর। 3G এসে সেটাকে বানিয়ে দিল খরগোশ! 3G আসার পরেই আমরা ফোনে ভিডিও কল করা শুরু করলাম। আগে যেটা সায়েন্স ফিকশন মনে হতো, সেটাই সত্যি হলো। ইউটিউব দেখা, গান ডাউনলোড করা, বা বড় ইমেইল পাঠানো—সব সহজ হয়ে গেল। বাংলাদেশে 3G আসার পর স্মার্টফোনের ব্যবহার হু হু করে বেড়ে গিয়েছিল। মূলত ডেটা বা ইন্টারনেটের গতির জন্যই 3G বিখ্যাত।

চতুর্থ প্রজন্ম বা 4G (২০০৯-২০২০)

প্রযুক্তি: সম্পূর্ণ আইপি (IP) ভিত্তিক নেটওয়ার্ক।
স্ট্যান্ডার্ড: LTE (Long Term Evolution), WiMAX।

বৈশিষ্ট্য:
* আল্ট্রা ব্রডব্যান্ড: ল্যাপটপ বা ডেস্কটপের ব্রডব্যান্ডের সমান গতি।
* এইচডি স্ট্রিমিং: বাফারিং ছাড়া হাই-ডেফিনিশন ভিডিও।
* 3D গেমিং ও কনফারেন্সিং।
* গতি: ১০০ Mbps থেকে ১ Gbps পর্যন্ত।

এখন আমরা যে যুগে আছি, বা বেশিরভাগ সময় যে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছি, সেটা হলো 4G। 3G তে ভিডিও কল হতো, কিন্তু মাঝে মাঝে আটকে যেত। 4G তে সেই সমস্যা নেই। আমরা এখন বাফারিং ছাড়াই মুভি দেখি, অনলাইনে ক্লাস করছি, বা হাই-গ্রাফিক্স গেম খেলছি। 4G এর মূল কারিগরি দিক হলো এটা পুরোপুরি IP ভিত্তিক, মানে ইন্টারনেটের নিয়মে চলে। তোমরা ফোনের স্ক্রিনে প্রায়ই 'LTE' বা 'VoLTE' লেখা দেখো, ওটাই আসলে 4G এর টেকনিক্যাল নাম।

পঞ্চম প্রজন্ম বা 5G (২০২০-বর্তমান)

মূল মন্ত্র: Connecting Everything (সবকিছুর সংযোগ)।

বৈশিষ্ট্য:
* অবিশ্বাস্য গতি: ১০ Gbps এর বেশি (4G এর চেয়ে ১০০ গুণ বেশি)।
* লো ল্যাটেন্সি (Low Latency): সিগন্যাল পাঠাতে সময় লাগে নগণ্য (১ মিলিসেকন্ড)।
* IoT (Internet of Things): ফ্রিজ, টিভি, এসি, গাড়ি সব ইন্টারনেটে যুক্ত থাকবে।

ব্যবহার:
* চালকবিহীন গাড়ি (Driverless Car)।
* স্মার্ট সিটি।
* রিমোট সার্জারি (দূর থেকে অপারেশন)।

5G মানে কি শুধুই স্পিড? না। 5G আসলে এক নতুন পৃথিবী। চিন্তা করো, ডাক্তার আমেরিকায় বসে বাংলাদেশে একটা রোবট দিয়ে নিখুঁত অপারেশন করছেন—একটুও দেরি হচ্ছে না। বা রাস্তায় গাড়ি নিজের বুদ্ধিতে চলছে, এক্সিডেন্ট হচ্ছে না। এসব সম্ভব হবে 5G এর 'লো ল্যাটেন্সি' বা দ্রুত রেসপন্সের কারণে। 5G শুধু ফোনের জন্য না, এটা আমাদের শহরের সব ডিভাইসকে কানেক্ট করবে। একেই বলে IoT বা ইন্টারনেট অফ থিংস।

এক নজরে সকল প্রজন্ম

প্রজন্ম সময়কাল প্রযুক্তি মূল বৈশিষ্ট্য
1G ১৯৮০+ এনালগ শুধু ভয়েস
2G ১৯৯০+ ডিজিটাল SMS, রোমিং, GSM
3G ২০০০+ ব্রডব্যান্ড ভিডিও কল, ইন্টারনেট
4G ২০১০+ আইপি (IP) এইচডি ভিডিও, LTE
5G ২০২০+ স্মার্ট IoT, আল্ট্রা স্পিড

এতক্ষণ যা পড়লাম, তার একটা সামারি বা সারাংশ এই টেবিলে দেওয়া আছে। এই টেবিলটা তোমাদের পরীক্ষার জন্য এবং মনে রাখার জন্য সুপার ইম্পর্ট্যান্ট। ভিডিওটা এখানে একটু পজ করো। খেয়াল করো মূল পার্থক্যগুলো—এনালগ থেকে ডিজিটাল, তারপর ডেটা, তারপর স্পিড, আর শেষে স্মার্ট কানেক্টিভিটি। এই চার্টটা মাথায় থাকলে এখান থেকে যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সহজ হবে।

যা শিখলাম ও নিজেকে যাচাই

সারাংশ:
* মোবাইল নেটওয়ার্ক সেল বা ষড়ভুজাকৃতি এলাকায় বিভক্ত।
* ফ্রিকোয়েন্সি রি-ইউজ এর মাধ্যমে বেশি মানুষকে সেবা দেওয়া হয়।
* প্রতি ১০ বছরে প্রযুক্তির জেনারেশন পরিবর্তন হয়েছে।

নিজে চেষ্টা করো (Quiz):
১। কোন প্রজন্মে প্রথম SMS চালু হয়?
২। ভিডিও কল কোন প্রজন্মের অবদান?
৩। GSMCDMA এর একটি মূল পার্থক্য কী?
৪। BTS এর পূর্ণরূপ কী?

আজকের ক্লাস শেষ করার আগে চলো একটু নিজেকে যাচাই করি। স্ক্রিনে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর কি তোমরা দিতে পারছ? যেমন, প্রথম প্রশ্নটা—কোন প্রজন্মে SMS চালু হয়? মনে আছে নোকিয়া ফোনের কথা? হ্যাঁ, সেটা 2G। ভিডিও কল? 3G। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যদি পারো, তারমানে লেকচারটি তোমরা দারুণভাবে বুঝতে পেরেছ। মোবাইল কমিউনিকেশন নিয়ে আর কোনো ভয় নেই। দেখা হবে পরবর্তী লেকচারে নতুন কোনো টপিক নিয়ে। ভালো থেকো সবাই!

মোবাইল যোগাযোগ ও এর প্রজন্ম: বিস্তারিত পাঠ (HSC ICT)

পড়তে প্রায় 15 মিনিট

মোবাইল ফোন এখন আর শুধু কথা বলার যন্ত্র নয়; এটি আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একসময় যে যন্ত্রটি ছিল ইটের মতো ভারী এবং শুধুমাত্র ধনাঢ্য ব্যক্তিদের ব্যবহারের সামগ্রী, আজ তা হাতের মুঠোয় পুরো বিশ্বকে এনে দিয়েছে। এইচএসসি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) বিষয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ের জন্য এই অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সৃজনশীল প্রশ্নে (CQ) উদ্দীপক দেখে মোবাইল প্রজন্ম শনাক্ত করা এবং বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে তুলনা করা—এই ধরনের প্রশ্ন প্রায় প্রতি বছরই বোর্ড পরীক্ষায় আসে। এই পাঠটিতে আমরা মোবাইল যোগাযোগের মৌলিক ধারণা থেকে শুরু করে ৫জি (5G) পর্যন্ত বিবর্তনের ইতিহাস এবং কারিগরি খুঁটিনাটি এমনভাবে শিখব, যাতে পরীক্ষার খাতায় সর্বোচ্চ নম্বর নিশ্চিত করা যায়।

মোবাইল যোগাযোগ ও সেলুলার নেটওয়ার্কের কারিগরি দিক

মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা বুঝতে হলে প্রথমে আমাদের জানতে হবে এটি আসলে কীভাবে কাজ করে। আমরা যখন মোবাইলে কথা বলি, তখন আমাদের কণ্ঠস্বর বাতাসে ভেসে অন্য প্রান্তে পৌঁছায় না; এটি একটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়।

সংজ্ঞা (Definition): মোবাইল কমিউনিকেশন বা মোবাইল যোগাযোগ হলো এমন এক ধরণের তারবিহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা, যেখানে ব্যবহারকারী চলাফেরা করা অবস্থায় বা স্থির থেকেও অন্য ব্যবহারকারীর সাথে ফুল-ডুপ্লেক্স (Full-Duplex) মোডে অর্থাৎ একই সময়ে উভয়মুখী তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে।

সেলুলার নেটওয়ার্কের গঠন (Architecture)

একটি মোবাইল নেটওয়ার্ককে অনেকগুলো ছোট ছোট ভৌগোলিক এলাকায় ভাগ করা হয়, যাকে সেল (Cell) বলে। প্রতিটি সেলের কেন্দ্রে একটি টাওয়ার থাকে। এই সেলগুলো সাধারণত ষড়ভুজাকৃতির (Hexagonal) হয়, যাতে কোনো ফাঁকা জায়গা না থাকে এবং ফ্রিকোয়েন্সি পুনর্ব্যবহার (Frequency Reuse) করা যায়।

সেলুলার নেটওয়ার্ক আর্কিটেকচার ডায়াগ্রাম

একটি সেলুলার নেটওয়ার্কের প্রধান তিনটি অংশ থাকে:

  1. মোবাইল স্টেশন (Mobile Station - MS): এটি হলো গ্রাহকের ব্যবহৃত মোবাইল হ্যান্ডসেট এবং সিম (SIM) কার্ড। এটি একটি রেডিও ট্রান্সমিটার ও রিসিভার হিসেবে কাজ করে।

  2. বেস ট্রান্সিভার স্টেশন (Base Transceiver Station - BTS): সহজ ভাষায় একে আমরা মোবাইল টাওয়ার বলি। প্রতিটি সেলের জন্য একটি বা একাধিক BTS থাকে। মোবাইল স্টেশন থেকে সিগন্যাল প্রথমে এই টাওয়ারে যায়। টাওয়ারের কাজ হলো মোবাইলের সাথে রেডিও লিংকের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করা।

  3. মোবাইল সুইচিং সেন্টার (Mobile Switching Center - MSC): এটি হলো পুরো মোবাইল নেটওয়ার্কের মস্তিষ্ক বা মেইন অফিস। যখন তুমি কাউকে কল করো, তখন তোমার টাওয়ার (BTS) সেই কলটি প্রথমে MSC-তে পাঠায়। MSC তখন সিদ্ধান্ত নেয় কলটি কোন নাম্বারে যাবে, গ্রাহক এখন কোথায় আছেন এবং কলটি সংযোগ করে দেয়। এছাড়াও বিলিং, কল রেকর্ড এবং রোমিং-এর হিসাব রাখা MSC-এর কাজ।

গুরুত্বপূর্ণ (Important):
- ক্লাস্টার (Cluster): কয়েকটি সেলের সমষ্টিকে ক্লাস্টার বলা হয় (সাধারণত ৭টি সেল)। একটি ক্লাস্টারের ফ্রিকোয়েন্সি অন্য ক্লাস্টারে পুনরায় ব্যবহার করা যায়, একে Frequency Reuse বলে।
- রোমিং (Roaming): হোম নেটওয়ার্কের বাইরে অন্য কোনো নেটওয়ার্ক বা কাভারেজ এলাকায় গিয়ে মোবাইল সেবা ব্যবহার করার সুবিধাকে রোমিং বলে।

হ্যান্ডওফ বা হ্যান্ডওভার (Handoff/Handover)

মোবাইল যোগাযোগের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো চলাফেরা করা। কিন্তু তুমি যখন গাড়িতে করে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাও, তখন তোমার ফোনটি একটি টাওয়ারের রেঞ্জ থেকে বের হয়ে অন্য টাওয়ারের রেঞ্জে প্রবেশ করে। এই সময় যদি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে কথা বলা সম্ভব হতো না।

হ্যান্ডওফ (Handoff): চলন্ত অবস্থায় কথা বলার সময় ব্যবহারকারী যখন এক সেল (Cell) থেকে অন্য সেলে প্রবেশ করে, তখন সংযোগ বিচ্ছিন্ন না হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুর্বল সিগন্যাল বিশিষ্ট টাওয়ার থেকে সবল সিগন্যাল বিশিষ্ট নতুন টাওয়ারের সাথে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে হ্যান্ডওফ বা হ্যান্ডওভার বলে।


মোবাইল প্রজন্মের বিবর্তন: ১জি থেকে ৫জি

মোবাইল ফোনের প্রযুক্তির ধাপে ধাপে উন্নয়নকে প্রজন্ম বা Generation বলা হয়। "G" দ্বারা Generation বোঝায়। প্রতিটি প্রজন্মের পরিবর্তনের সাথে সাথে মোবাইলের আকার, ব্যাটারি লাইফ, ডেটা স্পিড এবং নিরাপত্তায় আমূল পরিবর্তন এসেছে।

প্রথম প্রজন্ম (First Generation - 1G): ১৯৮০-১৯৯০

এটি ছিল মোবাইল ফোনের শুরুর যুগ। এই প্রজন্মের ফোনগুলো ছিল এনালগ সিগন্যাল নির্ভর।

  • বৈশিষ্ট্য: শুধুমাত্র ভয়েস কল করা যেত। কোনো এসএমএস (SMS) বা ইন্টারনেট সুবিধা ছিল না।
  • প্রযুক্তি: AMPS (Advanced Mobile Phone System), TACS।
  • সীমাবদ্ধতা: ভয়েস কোয়ালিটি খারাপ ছিল, কল ড্রপ হতো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না (কেউ রেডিও রিসিভার দিয়ে কথা শুনতে পারত)।
  • ফ্রিকোয়েন্সি: ৮০০-৯০০ মেগাহার্টজ।
দ্বিতীয় প্রজন্ম (Second Generation - 2G): ১৯৯১-২০০০

এটি মোবাইল যোগাযোগের ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এখান থেকেই ডিজিটাল যুগের সূচনা হয়।

  • বৈশিষ্ট্য: ভয়েস কলের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো SMS (Short Message Service) এবং MMS চালু হয়। সীমিত পরিসরে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যেত (WAP)।
  • প্রযুক্তি: GSM (Global System for Mobile Communications) এবং CDMA (Code Division Multiple Access)।
  • নিরাপত্তা: ডিজিটাল এনক্রিপশন থাকার ফলে কথা কেউ আড়ি পেতে শুনতে পারত না।
  • ডেটা রেট: সর্বোচ্চ ১৪.৪ কেবিপিএস (Kbps)।

মধ্যবর্তী প্রজন্ম (Intermediate Generations):
সরাসরি 2G থেকে 3G তে যাওয়ার আগে কিছু উন্নত প্রযুক্তি এসেছিল:
- 2.5G (GPRS): General Packet Radio Service। এতে ইন্টারনেটের গতি কিছুটা বাড়ে (৩০-১১৫ Kbps)।
- 2.75G (EDGE): Enhanced Data rates for GSM Evolution। এটি 3G এর ঠিক আগের ধাপ, যেখানে ৩ গুণ বেশি গতি পাওয়া যেত।

তৃতীয় প্রজন্ম (Third Generation - 3G): ২০০১-২০০৮

এই প্রজন্মে মোবাইল ফোন একটি মাল্টিমিডিয়া ডিভাইসে পরিণত হয়।

  • বৈশিষ্ট্য: উচ্চগতির ইন্টারনেট, ভিডিও কল, মোবাইল টিভি এবং ভিডিও কনফারেন্সিং সুবিধা।
  • প্রযুক্তি: UMTS, HSPA+।
  • সুইচিং: এখানে প্যাকেট সুইচিং (Packet Switching) পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যা ডেটা ট্রান্সমিশনের জন্য অত্যন্ত কার্যকর।
  • ডেটা রেট: ২ এমবিপিএস (Mbps) বা তার বেশি।
চতুর্থ প্রজন্ম (Fourth Generation - 4G): ২০০৯-২০১৯

একে বলা হয় আল্ট্রা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট যুগ। বর্তমানে আমরা অনেকেই এই প্রজন্ম ব্যবহার করছি।

  • বৈশিষ্ট্য: উচ্চ মানের ভিডিও স্ট্রিমিং (HD TV), 3D গেম, এবং আইপি টেলিফোনি (IP Telephony)।
  • প্রযুক্তি: LTE (Long Term Evolution), WiMAX।
  • মূল পার্থক্য: এটি সম্পূর্ণ আইপি (IP) ভিত্তিক নেটওয়ার্ক। অর্থাৎ ভয়েস কলও ডেটা হিসেবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যায় (যেমন: WhatsApp কল বা VoLTE)।
  • গতি: ১০০ এমবিপিএস থেকে ১ জিবিপিএস পর্যন্ত।
পঞ্চম প্রজন্ম (Fifth Generation - 5G): ২০২০-বর্তমান

এটি বর্তমান ও ভবিষ্যতের প্রযুক্তি।

  • বৈশিষ্ট্য: ৫জি শুধু মোবাইলের জন্য নয়; এটি IoT (Internet of Things), চালকবিহীন গাড়ি এবং স্মার্ট সিটির জন্য তৈরি।
  • সুবিধা: এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো লো ল্যাটেন্সি (Low Latency)—অর্থাৎ নির্দেশ দেওয়ার সাথে সাথে কাজ করবে, কোনো দেরি হবে না।
  • গতি: ১০ জিবিপিএস (Gbps) পর্যন্ত হতে পারে, যা ৪জি-র চেয়ে ১০-১০০ গুণ বেশি।
প্রজন্মসমূহের তুলনামূলক চার্ট (Comparison Table): | বৈশিষ্ট্য | 1G | 2G | 3G | 4G | 5G | |:---|:---|:---|:---|:---|:---| | **সময়কাল** | ১৯৮০-৯০ | ১৯৯০-০০ | ২০০০-০৯ | ২০০৯-১৯ | ২০২০+ | | **সিগন্যাল** | এনালগ | ডিজিটাল | ডিজিটাল | ডিজিটাল | ডিজিটাল | | **মূল সেবা** | শুধু কথা | কথা + SMS | ভিডিও কল | ব্রডব্যান্ড | IoT, স্মার্ট সিটি | | **সুইচিং** | সার্কিট | সার্কিট/প্যাকেট | প্যাকেট | প্যাকেট (IP) | প্যাকেট | | **উদাহরণ** | AMPS | GSM, CDMA | UMTS | LTE, WiMAX | MIMO |

GSM বনাম CDMA: পার্থক্য ও বৈশিষ্ট্য

দ্বিতীয় প্রজন্মে মোবাইল প্রযুক্তি প্রধানত দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল—GSM এবং CDMA। পরীক্ষায় এদের পার্থক্য প্রায়ই আসে।

পার্থক্য: GSM vs CDMA | পার্থক্যের বিষয় | GSM (Global System for Mobile) | CDMA (Code Division Multiple Access) | |:---|:---|:---| | **প্রযুক্তি** | এটি **TDMA** (Time Division Multiple Access) ও **FDMA** এর সংমিশ্রণ ব্যবহার করে। | এটি **CDMA** (Code Division) প্রযুক্তি ব্যবহার করে। | | **সিম কার্ড** | এতে **SIM** কার্ড থাকে যা সহজে খোলা ও পরিবর্তন করা যায়। | এতে সাধারণত **RIM** কার্ড থাকে বা সেট-এর ভেতরে ফিক্সড থাকে (যদিও এখন পরিবর্তন হয়েছে)। | | **ডেটা ট্রান্সমিশন** | নির্দিষ্ট সময় স্লটে (Time Slot) ভাগ করে ডেটা পাঠানো হয়। | কোডিং এর মাধ্যমে পুরো ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করে ডেটা পাঠানো হয়। | | **নিরাপত্তা** | এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা মাঝারি মানের। ক্লোন করা সম্ভব হতে পারে। | এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সিগন্যাল জ্যাম করা কঠিন। | | **জনপ্রিয়তা** | বিশ্বের অধিকাংশ দেশে (ইউরোপ, এশিয়া) এটি প্রচলিত। আন্তর্জাতিক রোমিং সহজ। | প্রধানত উত্তর আমেরিকা ও নির্দিষ্ট কিছু দেশে প্রচলিত। রোমিং কিছুটা জটিল। | | **রেডিয়েশন** | হ্যান্ডসেট থেকে রেডিয়েশন বা বিকিরণ তুলনামূলক বেশি হয়। | রেডিয়েশন বা বিকিরণ খুবই কম। |

পরীক্ষার প্রস্তুতি (Exam Corner)

এইচএসসি পরীক্ষার জন্য এই অংশটি কীভাবে পড়বে?

সৃজনশীল প্রশ্নের টিপস (CQ Tips):
উদ্দীপক পড়ে প্রজন্ম চেনার উপায়:
১. যদি বলা হয় "এনালগ সিগন্যাল" বা "শুধু কথা বলা যেত" — উত্তর: ১ম প্রজন্ম (1G)
২. যদি বলা হয় "এসএমএস (SMS) সুবিধা চালু হলো" বা "সিম কার্ডের ব্যবহার শুরু" — উত্তর: ২য় প্রজন্ম (2G)
৩. যদি উদ্দীপকে "ভিডিও কল", "ভিডিও কনফারেন্সিং" বা "মোবাইল টিভি"র কথা বলা হয় — উত্তর: ৩য় প্রজন্ম (3G)
৪. যদি বলা হয় "ল্যাপটপের সমান গতির ইন্টারনেট", "বাফারিং ছাড়া ভিডিও" বা "আইপি (IP) নির্ভর নেটওয়ার্ক" — উত্তর: ৪র্থ প্রজন্ম (4G)

নমুনা প্রশ্ন ও উত্তর কৌশল:
উদ্দীপক: রাশেদ তার বাবার পুরনো ফোনটি দেখল যেটি আকারে বেশ বড় এবং তাতে শুধু কথা বলা যায়। অন্যদিকে রাশেদ তার ফোনে বন্ধুদের সাথে ভিডিও কলে কথা বলে এবং হাই-স্পিড ইন্টারনেট ব্যবহার করে।

গ) রাশেদের বাবার ফোনটি কোন প্রজন্মের? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: রাশেদের বাবার ফোনটি ১ম প্রজন্মের (First Generation) মোবাইল ফোন।
ব্যাখ্যা: উদ্দীপকে বলা হয়েছে ফোনটি আকারে বড় এবং তাতে শুধু কথা বলা যায়। ১ম প্রজন্মের ফোনগুলো (যেমন: মটোরোলা ডায়নাট্যাক) আকারে বড় ইটের মতো ছিল এবং এতে এনালগ সিগন্যাল ব্যবহার করে শুধুমাত্র ভয়েস কল করা যেত। কোনো এসএমএস বা ইন্টারনেট সুবিধা ছিল না।

ঘ) রাশেদের ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি কি বর্তমানের সর্বশেষ প্রযুক্তি? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: রাশেদ ভিডিও কল এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করছে, যা ৩য় প্রজন্মের (3G) বৈশিষ্ট্য। কিন্তু এটি বর্তমানের সর্বশেষ প্রযুক্তি নয়।
বিশ্লেষণ: বর্তমানে ৪র্থ (4G) এবং ৫ম (5G) প্রজন্ম চালু হয়েছে। রাশেদের ৩য় প্রজন্মের তুলনায় ৪জি বা ৫জি অনেক বেশি দ্রুতগতি সম্পন্ন। ৫জিতে ল্যাটেন্সি বা বিলম্ব নেই বললেই চলে এবং এটি দিয়ে স্মার্ট হোম বা চালকবিহীন গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা যায়, যা ৩জিতে সম্ভব নয়। তাই রাশেদের প্রযুক্তিটি আধুনিক হলেও সর্বশেষ নয়।


শব্দসংক্ষেপ ও পরিভাষা (Glossary)

এমসিকিউ (MCQ) এবং জ্ঞানমূলক প্রশ্নের (ক-নং) জন্য নিচের পূর্ণরূপগুলো মুখস্থ রাখা জরুরি।

শব্দসংক্ষেপ পূর্ণরূপ (Full Form)
AMPS Advanced Mobile Phone System
GSM Global System for Mobile Communications
CDMA Code Division Multiple Access
SIM Subscriber Identity Module
GPRS General Packet Radio Service
EDGE Enhanced Data rates for GSM Evolution
UMTS Universal Mobile Telecommunications System
LTE Long Term Evolution
VoLTE Voice over LTE
WiMAX Worldwide Interoperability for Microwave Access
IoT Internet of Things

সংক্ষিপ্ত সারাংশ (Quick Revision):
- মোবাইল যোগাযোগ হলো তারবিহীন দ্বিমুখী (Full-Duplex) যোগাযোগ ব্যবস্থা।
- এর প্রধান অংশ ৩টি: মোবাইল স্টেশন (MS), বেস স্টেশন (BTS), এবং মোবাইল সুইচিং সেন্টার (MSC)।
- এক টাওয়ার থেকে অন্য টাওয়ারের সংযোগ হস্তান্তরকে হ্যান্ডওফ বলে।
- 1G: এনালগ, শুধু ভয়েস।
- 2G: ডিজিটাল, SMS, রোমিং (GSM/CDMA)।
- 3G: ভিডিও কল, ইন্টারনেট।
- 4G: আইপি ভিত্তিক, ব্রডব্যান্ড গতি।
- 5G: IoT, স্মার্ট ডিভাইস, সুপার ফাস্ট স্পিড।

অনুশীলনের প্রশ্ন

সৃজনশীল প্রশ্ন

সৃজনশীল প্রশ্ন ১

উদ্দীপক: মি. জামান তার পুরোনো বাটন মোবাইল দিয়ে শুধু কথা বলতে পারতেন। পরবর্তীতে তিনি একটি নতুন ফোন কিনলেন যাতে ভিডিও কল করা ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়। বর্তমানে তিনি এমন একটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ফোন ব্যবহার করেন যা দিয়ে চোখের পলকে 4K মুভি ডাউনলোড করা যায় এবং তিনি অফিসের বাইরে থেকেও তার স্মার্ট হোমের এসি ও লাইট নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

(ক) মোবাইল প্রজন্ম কী?
(খ) আন্তর্জাতিক রোমিং (Roaming) সুবিধা বলতে কী বোঝায়?
(গ) উদ্দীপকে মি. জামানের ক্রয় করা দ্বিতীয় ফোনটি কোন প্রজন্মের হতে পারে? ব্যাখ্যা কর।
(ঘ) মি. জামানের বর্তমানে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি (স্মার্ট হোম নিয়ন্ত্রণ) ভবিষ্যতে আমাদের আর্থ-সামাজিক জীবনে কী প্রভাব ফেলবে? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

(ক) মোবাইল ফোনের ক্রমবিকাশ বা পরিবর্তনের একেকটি পর্যায় বা ধাপকে মোবাইল প্রজন্ম বা Mobile Generation বলা হয়।

(খ) আন্তর্জাতিক রোমিং হলো এমন একটি সুবিধা যার মাধ্যমে একটি দেশের মোবাইল গ্রাহক অন্য দেশে গিয়েও তার নিজের সিম কার্ড ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ভয়েস কল, এসএমএস ও ইন্টারনেট সেবা গ্রহণ করতে পারেন। এটি সম্ভব হয় বিভিন্ন দেশের মোবাইল অপারেটরদের মধ্যে পারস্পরিক চুক্তির মাধ্যমে।

(গ) উদ্দীপকে মি. জামানের ক্রয় করা দ্বিতীয় ফোনটি তৃতীয় প্রজন্মের (3G)

মোবাইল ফোনের যে প্রজন্মে ভয়েস কলের পাশাপাশি ভিডিও কল করা এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা প্রথম ব্যাপকভাবে চালু হয়, তা হলো তৃতীয় প্রজন্ম বা 3G। উদ্দীপকে বলা হয়েছে মি. জামানের দ্বিতীয় ফোনটিতে ভিডিও কল করা যেত। ১ম ও ২য় প্রজন্মে ভিডিও কলের সুবিধা ছিল না (২য় প্রজন্মে এমএমএস থাকলেও ভিডিও কল ছিল না)। ৩য় প্রজন্মে এইচএসপিএ (HSPA) ও এইচএসপিএ+ (HSPA+) প্রযুক্তির ফলে ডেটা ট্রান্সফার রেট ২ এমবিপিএস বা তার বেশি হয়, যা ভিডিও কলিং ও লাইভ স্ট্রিমিং সম্ভব করে। তাই তার ফোনটি তৃতীয় প্রজন্মের।

(ঘ) উদ্দীপকে মি. জামানের বর্তমানে ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি হলো পঞ্চম প্রজন্ম বা 5G, যা দিয়ে স্মার্ট হোম নিয়ন্ত্রণ ও আল্ট্রা-হাই স্পিড ডেটা ব্যবহার করা যাচ্ছে। এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে আমাদের জীবনযাত্রায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।

ইতিবাচক প্রভাব:
১. আইওটি (IoT) ও স্মার্ট সিটি: ৫জি প্রযুক্তির মূল শক্তি হলো 'ইন্টারনেট অফ থিংস'। এর মাধ্যমে ঘরের ফ্রিজ, এসি, টিভি থেকে শুরু করে রাস্তার ট্রাফিক লাইট পর্যন্ত সবকিছু ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত থাকবে। ফলে জীবনযাত্রা হবে অনেক সহজ ও স্বয়ংক্রিয়।
২. চিকিৎসা খাত: টেলিমেডিসিন ও রিমোট সার্জারির ক্ষেত্রে ৫জি এর লো-লেটেন্সি (কম সময়ক্ষেপণ) সুবিধা ব্যবহার করে বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে ডাক্তার অন্য প্রান্তের রোগীর অপারেশন করতে পারবেন।
৩. শিল্প বিপ্লব: চালকবিহীন গাড়ি, ড্রোন ডেলিভারি এবং অটোমেটেড ফ্যাক্টরি পরিচালনায় এই প্রযুক্তি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

নেতিবাচক ঝুঁকি:
তবে এই প্রযুক্তির ফলে অত্যধিক যান্ত্রিক নির্ভরতা তৈরি হতে পারে এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকি (Cyber Security) বাড়তে পারে।

পরিশেষে বলা যায়, মি. জামানের ব্যবহৃত ৫জি প্রযুক্তি শুধুমাত্র বিনোদন বা স্মার্ট হোমেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যাতায়াত ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনে আমাদের জীবনযাত্রাকে অনেক বেশি উন্নত ও গতিশীল করবে।


সৃজনশীল প্রশ্ন ২

উদ্দীপক: 'ক' দেশের টেলিকম কোম্পানিগুলো এতদিন এনালগ সিগন্যাল ব্যবহার করত, যেখানে কথা বলা ছাড়া অন্য কোনো সুবিধা ছিল না। সম্প্রতি তারা নেটওয়ার্ক আপগ্রেড করে ডিজিটাল সিগন্যালে রূপান্তর করেছে। এখন গ্রাহকরা কথা বলার পাশাপাশি খুদে বার্তা (SMS) পাঠাতে পারছেন এবং স্বচ্ছ ভয়েস কল উপভোগ করছেন। তবে কোম্পানিটি ঘোষণা দিয়েছে যে, আগামী বছর তারা এমন প্রযুক্তি আনবে যা সম্পূর্ণ আইপি (IP) ভিত্তিক এবং সেখানে বাফারিং ছাড়াই এইচডি টিভি দেখা যাবে।

(ক) জিএসএম (GSM) এর পূর্ণরূপ কী?
(খ) সিডিএমএ (CDMA) প্রযুক্তির সুবিধা লিখ।
(গ) উদ্দীপকে টেলিকম কোম্পানিগুলো প্রাথমিকভাবে কোন প্রজন্মে আপগ্রেড হলো? ব্যাখ্যা কর।
(ঘ) কোম্পানিটির ঘোষিত আগামী বছরের প্রযুক্তিটির সাথে উদ্দীপকের আপগ্রেডকৃত প্রজন্মের তুলনা কর।

উত্তর

(ক) GSM এর পূর্ণরূপ হলো Global System for Mobile Communications

(খ) সিডিএমএ (Code Division Multiple Access) প্রযুক্তির প্রধান সুবিধাগুলো হলো:
১. নিরাপত্তা: এতে প্রতিটি কলের জন্য আলাদা ইউনিক কোড ব্যবহার করা হয়, ফলে কথোপকথন ট্যাপ করা বা হ্যাক করা কঠিন।
২. নয়েজ কম: স্প্রেড স্পেকট্রাম প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এতে নয়েজ বা ইন্টারফেয়ারেন্স খুব কম হয় এবং ভয়েস কোয়ালিটি ভালো থাকে।
৩. ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার: একই ফ্রিকোয়েন্সি অনেক ব্যবহারকারী শেয়ার করতে পারে, ফলে স্পেকট্রাম বা তরঙ্গের অপচয় কম হয়।

(গ) উদ্দীপকে টেলিকম কোম্পানিগুলো প্রাথমিকভাবে দ্বিতীয় প্রজন্মে (2G) আপগ্রেড হয়েছে।

১ম প্রজন্ম (1G) ছিল এনালগ সিগন্যাল নির্ভর, যেখানে শুধুমাত্র ভয়েস কল করা যেত। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি এনালগ থেকে ডিজিটালে রূপান্তরিত হয়েছে এবং গ্রাহকরা এখন এসএমএস (SMS) পাঠাতে পারছেন। এসএমএস বা শর্ট মেসেজ সার্ভিস এবং ডিজিটাল সিগন্যালের ব্যবহার সর্বপ্রথম ২য় প্রজন্মে (2G) চালু হয়। ২য় প্রজন্মেই জিএসএম (GSM) ও সিডিএমএ (CDMA) প্রযুক্তির উদ্ভব ঘটে যা ভয়েস কলের গুণমান উন্নত করে এবং ডেটা বা টেক্সট পাঠানোর সুযোগ তৈরি করে। যেহেতু উদ্দীপকে এসএমএস এবং ডিজিটাল সিগন্যালের কথা বলা হয়েছে, তাই এটি নিঃসন্দেহে ২য় প্রজন্ম।

(ঘ) কোম্পানিটির ঘোষিত আগামী বছরের প্রযুক্তিটি হলো চতুর্থ প্রজন্ম বা 4G (যেহেতু সম্পূর্ণ আইপি ভিত্তিক এবং এইচডি টিভি/স্ট্রিমিং এর কথা বলা হয়েছে), এবং উদ্দীপকের আপগ্রেডকৃত প্রজন্মটি হলো 2G। নিচে এদের তুলনা করা হলো:

  1. প্রযুক্তি: ২য় প্রজন্ম (2G) ছিল সার্কিট সুইচিং নির্ভর নেটওয়ার্ক। অন্যদিকে, ৪র্থ প্রজন্ম (4G) হলো সম্পূর্ণ প্যাকেট সুইচিং বা আইপি (IP) ভিত্তিক নেটওয়ার্ক।
  2. ডেটা স্পিড: ২য় প্রজন্মের ডেটা স্পিড ছিল খুবই কম (Kbps লেভেলে, GPRS/EDGE)। কিন্তু ৪র্থ প্রজন্মের স্পিড অনেক বেশি (100 Mbps থেকে 1 Gbps পর্যন্ত), যা দিয়ে এইচডি ভিডিও স্ট্রিমিং সম্ভব।
  3. সুবিধাসমূহ: ২য় প্রজন্মে শুধু ভয়েস ও এসএমএস এবং সীমিত ইন্টারনেট ছিল। ৪র্থ প্রজন্মে ভিডিও কল, মোবাইল টিভি, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং থ্রিডি গেমিং এর সুবিধা রয়েছে।
  4. সিগন্যাল: ২য় প্রজন্ম ডিজিটাল সিগন্যাল ব্যবহার করলেও তা ছিল ন্যারোব্যান্ড। ৪র্থ প্রজন্ম ব্যবহার করে ব্রডব্যান্ড সিগন্যাল (LTE/WiMAX)।

সুতরাং, ঘোষিত প্রযুক্তিটি (4G) উদ্দীপকের বর্তমান প্রযুক্তি (2G) থেকে গতি, মান এবং সক্ষমতায় অনেক গুণ উন্নত।


সৃজনশীল প্রশ্ন ৩

উদ্দীপক: রফিক সাহেব তার বন্ধুকে বললেন, "দোস্ত, আগে তো মোবাইলে কথা বলতে গেলে প্রায়ই লাইন কেটে যেত এবং বিদেশে রোমিং করা যেত না। কিন্তু এখন আমি যে ফোন ব্যবহার করি তা দিয়ে ভিডিও কনফারেন্স করতে পারি।" তার বন্ধু উত্তর দিলেন, "আর কয়েকদিন পর এমন প্রযুক্তি আসছে যা ব্যবহার করে আমরা স্মার্ট সিটিতে বসবাস করব এবং মিলি-সেকেন্ডের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদান হবে।"

(ক) সিম (SIM) এর পূর্ণরূপ কী?
(খ) মোবাইল কনভারজেন্স (Mobile Convergence) বলতে কী বোঝায়?
(গ) রফিক সাহেবের আগের মোবাইল ফোনটি কোন প্রজন্মের সীমাবদ্ধতাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।
(ঘ) রফিক সাহেবের বন্ধুর ইঙ্গিত করা প্রযুক্তিটি কীভাবে বর্তমানের ৪জি প্রযুক্তি থেকে আলাদা হবে? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

(ক) SIM এর পূর্ণরূপ হলো Subscriber Identity Module

(খ) মোবাইল কনভারজেন্স হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে একই ডিভাইসে ফিক্সড ফোন, মোবাইল ফোন, এবং ডেটা বা ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের সুবিধাগুলো একত্রিত করা হয়। অর্থাৎ, একটি মাত্র ডিভাইস ব্যবহার করে ভয়েস, ডেটা, ভিডিও এবং মাল্টিমিডিয়া সেবা পাওয়া যায়। এটি মূলত ৩য় ও ৪র্থ প্রজন্মের নেটওয়ার্কে বেশি দেখা যায়।

(গ) রফিক সাহেবের আগের মোবাইল ফোনটি প্রথম প্রজন্মের (1G) সীমাবদ্ধতাকে নির্দেশ করে।

প্রথম প্রজন্মের মোবাইল ফোন ব্যবস্থায় এনালগ রেডিও সিগন্যাল ব্যবহার করা হতো। এই প্রজন্মের প্রধান সমস্যাগুলো ছিল—কল ড্রপ বা লাইন কেটে যাওয়া, লো-ব্যাটারি লাইফ, বড় আকৃতির সেট এবং বিশেষ করে আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধা না থাকা। ভিন্ন ভিন্ন দেশে ভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সি ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যবহারের কারণে ১জি ফোনে রোমিং সম্ভব ছিল না। উদ্দীপকে রফিক সাহেব উল্লেখ করেছেন যে তার আগের ফোনে লাইন কেটে যেত এবং রোমিং করা যেত না, যা ১জি এর বাটন ফোনের ক্লাসিক সীমাবদ্ধতা।

(ঘ) রফিক সাহেবের বন্ধুর ইঙ্গিত করা প্রযুক্তিটি হলো ৫ম প্রজন্ম বা 5G। বর্তমানের ৪জি প্রযুক্তির সাথে এর পার্থক্যগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

  1. ল্যাটেন্সি বা সময়ক্ষেপণ: ৪জি নেটওয়ার্কে ল্যাটেন্সি প্রায় ৫০-১০০ মিলিসেকেন্ড, কিন্তু ৫জি তে তা ১ মিলিসেকেন্ডের নিচে নেমে আসবে। একারণেই বন্ধুটি "মিলি-সেকেন্ডের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদান" এর কথা বলেছেন।
  2. গতি: ৪জি এর সর্বোচ্চ গতি যেখানে ১ জিবিপিএস এর কাছাকাছি, সেখানে ৫জি এর গতি ১০-২০ জিবিপিএস পর্যন্ত হতে পারে।
  3. সংযোগ ক্ষমতা: ৪জি তে প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ১ লাখ ডিভাইস যুক্ত হতে পারে, কিন্তু ৫জি তে প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ১০ লাখ ডিভাইস (IoT) যুক্ত হতে পারবে, যা স্মার্ট সিটি গড়ার জন্য অপরিহার্য।
  4. ব্যবহার: ৪জি মূলত স্মার্টফোন ও ভিডিও স্ট্রিমিং ফোকাসড। ৫জি ফোকাস করে মেশিন-টু-মেশিন যোগাযোগ, চালকবিহীন গাড়ি, এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশনের ওপর।

অর্থাৎ, ৫জি প্রযুক্তি ৪জি এর তুলনায় অনেক বেশি দ্রুত, শক্তিশালী এবং বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগী হবে।

এমসিকিউ

১. মোবাইল ফোনের কোন প্রজন্মে সর্বপ্রথম এসএমএস (SMS) সেবা চালু হয়?
ক) প্রথম প্রজন্ম (1G)
খ) দ্বিতীয় প্রজন্ম (2G)
গ) তৃতীয় প্রজন্ম (3G)
ঘ) চতুর্থ প্রজন্ম (4G)

সঠিক উত্তর: খ) দ্বিতীয় প্রজন্ম (2G)

ব্যাখ্যা: দ্বিতীয় প্রজন্মের (2G) মোবাইল ফোনে ডিজিটাল সিগন্যাল ব্যবহারের ফলে প্রথমবারের মতো ভয়েস কলের পাশাপাশি টেক্সট মেসেজ বা এসএমএস (Short Message Service) পাঠানোর সুবিধা চালু হয়।


২. জিএসএম (GSM) এর পূর্ণরূপ কী?
ক) Global System for Mobile Communications
খ) Global Standard for Mobile Communications
গ) General System for Mobile Communications
ঘ) General Standard for Mobile Communications

সঠিক উত্তর: ক) Global System for Mobile Communications

ব্যাখ্যা: GSM হলো বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় মোবাইল যোগাযোগ স্ট্যান্ডার্ড। এর পূর্ণরূপ Global System for Mobile Communications।


৩. কোন প্রজন্মের মোবাইল ফোনে সর্বপ্রথম ভিডিও কলিং সুবিধা যুক্ত হয়?
ক) প্রথম প্রজন্ম
খ) দ্বিতীয় প্রজন্ম
গ) তৃতীয় প্রজন্ম
ঘ) চতুর্থ প্রজন্ম

সঠিক উত্তর: গ) তৃতীয় প্রজন্ম

ব্যাখ্যা: তৃতীয় প্রজন্মের (3G) মোবাইল ফোনে ডেটা ট্রান্সফার রেট ২ এমবিপিএস বা তার বেশি হওয়ায় প্রথমবারের মতো ভিডিও কলিং ও ভিডিও কনফারেন্সিং সুবিধা সম্ভব হয়।


৪. "IP" বা ইন্টারনেট প্রটোকল ভিত্তিক নেটওয়ার্ক কোনটি?
ক) 2G
খ) 3G
গ) 4G
ঘ) 5G

সঠিক উত্তর: গ) 4G

ব্যাখ্যা: চতুর্থ প্রজন্মের (4G) মোবাইল নেটওয়ার্ককে সম্পূর্ণ আইপি (IP) ভিত্তিক নেটওয়ার্ক বলা হয়। এতে ভয়েস ও ডেটা উভয়ই প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতিতে স্থানান্তরিত হয়।


৫. সিডিএমএ (CDMA) প্রযুক্তিতে ডেটা পাঠানোর জন্য কী ব্যবহার করা হয়?
ক) টাইম স্লট
খ) ফ্রিকোয়েন্সি স্লট
গ) ইউনিক কোড
ঘ) প্যাকেট

সঠিক উত্তর: গ) ইউনিক কোড

ব্যাখ্যা: CDMA বা Code Division Multiple Access প্রযুক্তিতে প্রতিটি ট্রান্সমিশনের জন্য একটি অদ্বিতীয় বা ইউনিক কোড ব্যবহার করা হয়, যা একই ফ্রিকোয়েন্সিতে একাধিক ব্যবহারকারীকে ডেটা পাঠাতে সাহায্য করে।


৬. ১জি (1G) মোবাইল ফোনে কোন ধরনের সিগন্যাল ব্যবহৃত হতো?
ক) ডিজিটাল
খ) এনালগ
গ) অপটিক্যাল
ঘ) হাইব্রিড

সঠিক উত্তর: খ) এনালগ

ব্যাখ্যা: প্রথম প্রজন্মের (1G) মোবাইল ফোনগুলো ছিল এনালগ রেডিও সিগন্যাল ভিত্তিক। এতে ডিজিটাল ডেটা ট্রান্সমিশনের কোনো ব্যবস্থা ছিল না।


৭. মোবাইল ফোনে "রোমিং" (Roaming) সুবিধাটি কী?
ক) একই অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা
খ) ভিন্ন দেশে গিয়ে নিজের সিম ও নম্বর ব্যবহার করা
গ) ইন্টারনেট ব্রাউজিং করা
ঘ) ভিডিও কল করা

সঠিক উত্তর: খ) ভিন্ন দেশে গিয়ে নিজের সিম ও নম্বর ব্যবহার করা

ব্যাখ্যা: রোমিং হলো এমন একটি সুবিধা যার মাধ্যমে গ্রাহক তার নিজ দেশের মোবাইল অপারেটরের সীমানার বাইরে বা বিদেশে গিয়েও অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারেন।


৮. কোন প্রজন্মে সর্বপ্রথম প্রিপেইড (Prepaid) পদ্ধতি চালু হয়?
ক) প্রথম প্রজন্ম
খ) দ্বিতীয় প্রজন্ম
গ) তৃতীয় প্রজন্ম
ঘ) চতুর্থ প্রজন্ম

সঠিক উত্তর: খ) দ্বিতীয় প্রজন্ম

ব্যাখ্যা: দ্বিতীয় প্রজন্মের (2G) মোবাইল ফোন ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রিপেইড কলিং কার্ড বা প্রিপেইড সিস্টেমের প্রবর্তন।


৯. LTE (Long Term Evolution) প্রযুক্তিটি কোন প্রজন্মের সাথে সম্পর্কিত?
ক) 2G
খ) 3G
গ) 4G
ঘ) 5G

সঠিক উত্তর: গ) 4G

ব্যাখ্যা: LTE বা Long Term Evolution হলো চতুর্থ প্রজন্মের (4G) মোবাইল যোগাযোগের একটি স্ট্যান্ডার্ড, যা উচ্চগতির ডেটা ট্রান্সফার নিশ্চিত করে।


১০. ৫জি (5G) প্রযুক্তির প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
ক) এনালগ সিগন্যাল
খ) লো-স্পিড ডেটা
গ) ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT) ও স্মার্ট সিটি
ঘ) শুধু ভয়েস কল

সঠিক উত্তর: গ) ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT) ও স্মার্ট সিটি

ব্যাখ্যা: ৫জি প্রযুক্তির প্রধান লক্ষ্য হলো বিশাল সংখ্যক স্মার্ট ডিভাইসকে সংযুক্ত করা (IoT), চালকবিহীন গাড়ি নিয়ন্ত্রণ এবং স্মার্ট সিটি গড়ে তোলা।


১১. জিএসএম (GSM) প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হয়—
i. এফডিএমএ (FDMA)
ii. টিডিএমএ (TDMA)
iii. সিডিএমএ (CDMA)

নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ক) i ও ii

ব্যাখ্যা: জিএসএম প্রযুক্তিতে ফ্রিকোয়েন্সি ডিভিশন মাল্টিপল অ্যাক্সেস (FDMA) এবং টাইম ডিভিশন মাল্টিপল অ্যাক্সেস (TDMA) উভয়ের সংমিশ্রণ ব্যবহার করা হয়।


১২. ৩য় প্রজন্মের (3G) মোবাইল ফোনের বৈশিষ্ট্য হলো—
i. ভিডিও কল করা যায়
ii. উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়
iii. আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধা নেই

নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ক) i ও ii

ব্যাখ্যা: ৩য় প্রজন্মে ভিডিও কল এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সুবিধা রয়েছে। আন্তর্জাতিক রোমিং সুবিধাও এতে বিদ্যমান, তাই iii সঠিক নয়।


১৩. মোবাইল ফোনের হ্যান্ডঅফ (Handoff) বলতে বোঝায়—
i. কল চলাকালীন টাওয়ার পরিবর্তন
ii. কল কেটে যাওয়া
iii. নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ বজায় রাখা

নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: খ) i ও iii

ব্যাখ্যা: হ্যান্ডঅফ বা হ্যান্ডওভার হলো চলন্ত অবস্থায় এক বিটিএস (Base Transceiver Station) বা টাওয়ারের এরিয়া থেকে অন্য টাওয়ারের এরিয়ায় প্রবেশ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযোগ স্থানান্তরের প্রক্রিয়া, যাতে কল কেটে না যায়।


১৪. ৪র্থ প্রজন্মের (4G) মোবাইল নেটওয়ার্কের সুবিধা হলো—
i. থ্রিডি (3D) গেমিং
ii. মোবাইল টিভি
iii. ক্লাউড কম্পিউটিং

নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ঘ) i, ii ও iii

ব্যাখ্যা: ৪র্থ প্রজন্মের উচ্চগতির ব্যান্ডউইথ এবং লো-লেটেন্সির কারণে থ্রিডি গেমিং, হাই-ডেফিনিশন মোবাইল টিভি এবং ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা অত্যন্ত সহজলভ্য হয়েছে।


১৫. ৫জি (5G) প্রযুক্তি আমাদের জীবনে কী প্রভাব ফেলবে?
i. টেলিমেডিসিন সেবার উন্নয়ন ঘটবে
ii. চালকবিহীন গাড়ি চলাচল সম্ভব হবে
iii. ইন্টারনেটের গতি কমে যাবে

নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ক) i ও ii

ব্যাখ্যা: ৫জি প্রযুক্তিতে ইন্টারনেটের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে (কমে যাবে না), যা টেলিমেডিসিন এবং স্বয়ংক্রিয় যান চলাচলের জন্য অপরিহার্য।


১৬. মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সিম (SIM) কার্ডের কাজ হলো—
i. গ্রাহককে শনাক্ত করা
ii. নেটওয়ার্ক সংযোগ স্থাপন করা
iii. ফোনের মেমোরি বৃদ্ধি করা

নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ক) i ও ii

ব্যাখ্যা: সিম বা সাবস্ক্রাইবার আইডেন্টিটি মডিউল এর প্রধান কাজ হলো গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং নেটওয়ার্কের সাথে সংযোগ স্থাপন করা। এটি ফোনের মেমোরি বৃদ্ধি করে না (মেমোরি কার্ড আলাদা)।


১৭. ডেটা ট্রান্সমিশন মোড অনুসারে মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা হলো—
i. সিম্প্লেক্স
ii. হাফ-ডুপ্লেক্স
iii. ফুল-ডুপ্লেক্স

নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i
খ) ii
গ) iii
ঘ) i ও iii

সঠিক উত্তর: গ) iii

ব্যাখ্যা: মোবাইল ফোনে একই সময়ে কথা বলা এবং শোনা যায়, তাই এটি ফুল-ডুপ্লেক্স (Full-Duplex) মোডের উদাহরণ।


১৮. জিএসএম (GSM) এর তুলনায় সিডিএমএ (CDMA) প্রযুক্তিতে—
i. নয়েজ বা ইন্টারফেয়ারেন্স কম হয়
ii. ব্যাটারি লাইফ বেশি পাওয়া যায়
iii. নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল

নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ক) i ও ii

ব্যাখ্যা: সিডিএমএ প্রযুক্তিতে স্প্রেড স্পেকট্রাম ব্যবহার করায় নয়েজ কম হয় এবং পাওয়ার কন্ট্রোল ভালো থাকায় ব্যাটারি সাশ্রয় হয়। এর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জিএসএম এর চেয়ে শক্তিশালী।


নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং ১৯ ও ২০ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
আরিফ তার দাদাবাড়িতে গিয়ে দেখল সেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক থাকলেও ইন্টারনেট খুব ধীরগতির। সে তার বাবাকে জিজ্ঞেস করলে বাবা বললেন, "এখানে এখনো ৩জি নেটওয়ার্ক আসেনি, শুধু কথা বলা আর এসএমএস পাঠানো যায়।"

১৯. আরিফের দাদাবাড়িতে কোন প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু আছে?
ক) 1G
খ) 2G
গ) 3G
ঘ) 4G

সঠিক উত্তর: খ) 2G

ব্যাখ্যা: উদ্দীপকে বলা হয়েছে কথা বলা এবং এসএমএস (SMS) পাঠানো যায়, কিন্তু ৩জি আসেনি। এসএমএস সুবিধা ২য় প্রজন্ম (2G) থেকে শুরু হয়েছে। তাই এটি ২য় প্রজন্ম।

২০. উক্ত প্রজন্মের নেটওয়ার্কের বৈশিষ্ট্য হলো—
i. ডিজিটাল সিগন্যাল ব্যবহার
ii. এমএমএস (MMS) সুবিধা
iii. ভিডিও কলিং সুবিধা

নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ক) i ও ii

ব্যাখ্যা: ২য় প্রজন্মে (2.5G GPRS সহ) ডিজিটাল সিগন্যাল এবং মাল্টিমিডিয়া মেসেজ বা এমএমএস সুবিধা ছিল। কিন্তু ভিডিও কলিং সুবিধা ৩য় প্রজন্মে এসেছে।


নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং ২১ ও ২২ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
মি. রফিক জাপানে গিয়ে দেখলেন সেখানে মোবাইল ফোনেই টিভি দেখা যাচ্ছে এবং হাই-ডেফিনিশন ভিডিও কনফারেন্স করা যাচ্ছে। তিনি জানলেন এটি একটি সম্পূর্ণ আইপি (IP) নির্ভর নেটওয়ার্ক।

২১. জাপানে মি. রফিক কোন প্রজন্মের প্রযুক্তি দেখছেন?
ক) 2G
খ) 3G
গ) 4G
ঘ) 5G

সঠিক উত্তর: গ) 4G

ব্যাখ্যা: মোবাইল টিভি, এইচডি ভিডিও কনফারেন্স এবং সম্পূর্ণ আইপি (IP) নির্ভর নেটওয়ার্ক হলো ৪র্থ প্রজন্মের (4G) প্রধান বৈশিষ্ট্য।

২২. উক্ত প্রযুক্তির ডেটা ট্রান্সফার রেট কত হতে পারে?
ক) ১০-২০ কেবিপিএস
খ) ১৪৪ কেবিপিএস - ২ এমবিপিএস
গ) ১০০ এমবিপিএস - ১ জিবিপিএস
ঘ) ১ জিবিপিএস এর বেশি

সঠিক উত্তর: গ) ১০০ এমবিপিএস - ১ জিবিপিএস

ব্যাখ্যা: ৪র্থ প্রজন্মের (4G) ডেটা ট্রান্সফার রেট সাধারণত ১০০ এমবিপিএস থেকে ১ জিবিপিএস পর্যন্ত হয়ে থাকে। (চলন্ত অবস্থায় ১০০ এমবিপিএস, স্থির অবস্থায় ১ জিবিপিএস)।


২৩. VoLTE (Voice over LTE) প্রযুক্তিটি কোনটির সাথে সম্পর্কিত?
ক) 2G
খ) 3G
গ) 4G
ঘ) Wi-Fi

সঠিক উত্তর: গ) 4G

ব্যাখ্যা: VoLTE হলো 4G LTE নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এইচডি ভয়েস কল করার একটি প্রযুক্তি।


২৪. "AMPS" (Advanced Mobile Phone System) কোন প্রজন্মের স্ট্যান্ডার্ড ছিল?
ক) 1G
খ) 2G
গ) 3G
ঘ) 4G

সঠিক উত্তর: ক) 1G

ব্যাখ্যা: AMPS হলো প্রথম প্রজন্মের (1G) মোবাইল ফোনের একটি এনালগ স্ট্যান্ডার্ড যা উত্তর আমেরিকায় জনপ্রিয় ছিল।


২৫. মোবাইল ফোনের কোন প্রজন্মে সর্বপ্রথম "প্যাকেট সুইচিং" (Packet Switching) পদ্ধতির সূচনা হয়?
ক) 1G
খ) 2.5G (GPRS)
গ) 3G
ঘ) 4G

সঠিক উত্তর: খ) 2.5G (GPRS)

ব্যাখ্যা: ২য় প্রজন্মের উন্নত সংস্করণ বা 2.5G (GPRS) তে প্রথমবারের মতো সার্কিট সুইচিংয়ের পাশাপাশি প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ডেটা ট্রান্সমিশন শুরু হয়। তবে সম্পূর্ণ প্যাকেট সুইচিং ৪জি তে হয়। সূচনার কথা বললে 2.5G সঠিক।