কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং ও এর প্রকারভেদ

কম্পিউটার নেটওয়ার্কের প্রকারভেদ: PAN, LAN, MAN, WAN এবং ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্ক নিয়ে আলোচনা। এইচএসসি আইসিটি অধ্যায় ২।

শেখা শুরু করুন

কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং ও এর প্রকারভেদ

  1. কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং ও এর প্রকারভেদ
  2. সবকিছুই কি এক সুতায় গাঁথা?
  3. কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কী?
  4. নেটওয়ার্কের প্রকারভেদ (ভৌগোলিক বিস্তৃতি অনুসারে)
  5. PAN (Personal Area Network)
  6. LAN (Local Area Network)
  7. MAN (Metropolitan Area Network)
  8. WAN (Wide Area Network)
  9. এক নজরে তুলনা
  10. নেটওয়ার্কের প্রকারভেদ (মালিকানা অনুসারে)
  11. নেটওয়ার্কের প্রকারভেদ (নিয়ন্ত্রণ কাঠামো অনুসারে)
  12. পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্ক (P2P)
  13. ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্ক
  14. নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড (NIC)
  15. নিজেকে যাচাই করি
  16. আজকের সারসংক্ষেপ

কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং ও এর প্রকারভেদ

এই লেকচার শেষে আমরা-

১। কম্পিউটার নেটওয়ার্কের ধারণা ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
২। ভৌগোলিক বিস্তৃতি অনুসারে নেটওয়ার্কের প্রকারভেদ (PAN, LAN, MAN, WAN) বর্ণনা করতে পারব।
৩। মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো অনুসারে নেটওয়ার্কের শ্রেণিবিভাগ করতে পারব।
৪। ক্লায়েন্ট-সার্ভার ও পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্কের পার্থক্য নিরূপণ করতে পারব।

সবাইকে স্বাগতম। আজকে আমরা কমিউনিকেশন সিস্টেম ও নেটওয়ার্কিং অধ্যায়ের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি টপিক নিয়ে আলোচনা করব। আমাদের আজকের টপিক 'কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং ও এর প্রকারভেদ'। চলো দেখে নিই, এই লেকচার শেষে আমরা কী কী শিখতে পারব। এই লেকচার শেষে আমরা- ১। কম্পিউটার নেটওয়ার্কের ধারণা ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে পারব, ২। ভৌগোলিক বিস্তৃতি অনুসারে নেটওয়ার্কের প্রকারভেদ যেমন PAN, LAN, MAN, WAN বর্ণনা করতে পারব, ৩। মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো অনুসারে নেটওয়ার্কের শ্রেণিবিভাগ করতে পারব এবং ৪। ক্লায়েন্ট-সার্ভার ও পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্কের পার্থক্য নিরূপণ করতে পারব।

সবকিছুই কি এক সুতায় গাঁথা?

মাকড়সার জাল (Spider Web) vs গ্লোবাল ইন্টারনেট

প্রশ্ন: আপনার বাসার ওয়াইফাই আর পুরো শহরের ইন্টারনেট কি একই ধরণের নেটওয়ার্ক?

  • সংযোগ বা কানেকশন: মাকড়সার জালের মতো সব যুক্ত।
  • ভিন্ন ভিন্ন পরিসর: ব্যক্তিগত থেকে বিশ্বব্যাপী।

শুরুতেই একটা দৃশ্য কল্পনা করো। একটা মাকড়সার জাল বা Spider Web। মাকড়সার জালের যেকোনো এক প্রান্তে একটু কম্পন হলে পুরো জালের সুতোগুলো নড়ে ওঠে, তাই না? কম্পিউটার নেটওয়ার্কও অনেকটা এমনই। এটি সারা বিশ্বকে অদৃশ্য সুতায় বেঁধে রেখেছে। কিন্তু এখানে একটা প্রশ্ন আছে। তুমি তোমার রুমে বসে যে ব্লুটুথ স্পিকার বা ওয়াইফাই ব্যবহার করছ, আর একটা ব্যাংক যে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তাদের হাজার হাজার শাখার সাথে যোগাযোগ রাখছে—এই দুটো কি এক? নিশ্চয়ই না। এদের কাজের ধরণ আর পরিধি আলাদা। আজকের লেকচারে আমরা এই রহস্যটাই ভেদ করব।

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কী?

সংজ্ঞা: রিসোর্স শেয়ার করার উদ্দেশ্যে দুই বা ততোধিক কম্পিউটারের আন্তঃসংযোগ।

উদ্দেশ্য:
- হার্ডওয়্যার শেয়ারিং: প্রিন্টার, স্ক্যানার, স্টোরেজ।
- সফটওয়্যার/তথ্য শেয়ারিং: ডেটাবেজ, ফাইল।
- যোগাযোগ: ইমেইল, মেসেজিং, ভিডিও কনফারেন্স।

প্রথমে আসি সংজ্ঞায়। সহজ কথায়, যখন দুই বা ততোধিক কম্পিউটার কোনো মাধ্যম (যেমন তার বা বেতার) দিয়ে একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে তথ্য বা রিসোর্স শেয়ার করে, তখন তাকে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বলে। এখানে 'রিসোর্স শেয়ারিং' কথাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। রিসোর্স হতে পারে কোনো হার্ডওয়্যার, যেমন একটা প্রিন্টার অফিসের দশজন ব্যবহার করছে। আবার হতে পারে কোনো সফটওয়্যার বা জরুরি ফাইল। অর্থাৎ, একা একা কাজ না করে মিলেমিশে কাজ করাই হলো নেটওয়ার্কিংয়ের মূল উদ্দেশ্য।

নেটওয়ার্কের প্রকারভেদ (ভৌগোলিক বিস্তৃতি অনুসারে)

দূরত্ব বা ভৌগোলিক অবস্থান অনুসারে নেটওয়ার্ক ৪ প্রকার:

১। PAN (Personal Area Network)
২। LAN (Local Area Network)
৩। MAN (Metropolitan Area Network)
৪। WAN (Wide Area Network)

নেটওয়ার্ক কত বড় এলাকাজুড়ে বিস্তৃত, তার ওপর ভিত্তি করে নেটওয়ার্ককে প্রধানত চারটি ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো- প্যান (PAN), ল্যান (LAN), ম্যান (MAN) এবং ওয়ান (WAN)। নামগুলো শুনেই হয়তো কিছুটা আঁচ করতে পারছ। চলো, এবার এক এক করে এদের বিস্তারিত জেনে নিই।

PAN (Personal Area Network)

  • বিস্তৃতি: ব্যক্তিগত পর্যায়ে (সাধারণত ১০ মিটারের মধ্যে)।
  • উদাহরণ: ব্লুটুথ (Bluetooth), ল্যাপটপের সাথে ফোনের ইউএসবি সংযোগ।
  • বৈশিষ্ট্য: ব্যক্তিগত ডিভাইসের মধ্যে ডেটা আদান-প্রদান। একে WPAN (Wireless PAN) ও বলা হয়।

প্রথমেই আসি PAN বা Personal Area Network-এ। নামেই পরিচয়—এটা একদম ব্যক্তিগত। এর পরিসীমা খুবই কম, সাধারণত ১০ মিটারের মধ্যে। ধরো, তুমি তোমার ফোন থেকে ব্লুটুথ দিয়ে বন্ধুর ফোনে একটা ছবি পাঠাচ্ছ, বা ল্যাপটপের সাথে ব্লুটুথ হেডফোন কানেক্ট করে গান শুনছ—এগুলোই হলো PAN। আমরা যেটাকে WPAN বা Wireless PAN বলি, ব্লুটুথ তার সেরা উদাহরণ।

LAN (Local Area Network)

  • বিস্তৃতি: একটি নির্দিষ্ট বিল্ডিং, অফিস বা ক্যাম্পাসের মধ্যে (সাধারণত ১-১০ কিমি)।
  • উদাহরণ: স্কুল/কলেজের কম্পিউটার ল্যাব, অফিসের নেটওয়ার্ক, বাসার ওয়াইফাই।
  • বৈশিষ্ট্য: ডেটা ট্রান্সফার রেট (Speed) অনেক বেশি, ভুলের হার কম।

এরপর আসি LAN বা Local Area Network-এ। এটা PAN-এর চেয়ে বড়। একটি নির্দিষ্ট বিল্ডিং, অফিস বা ক্যাম্পাসের মধ্যে যে নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়, তাকে LAN বলে। যেমন ধরো, তোমার কলেজের কম্পিউটার ল্যাবে সব কম্পিউটার একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে, তাই না? ওটা একটা ল্যান। ল্যানের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর স্পিড অনেক বেশি থাকে এবং ডেটা ট্রান্সফারে ভুলের হার বা Error Rate খুব কম থাকে।

MAN (Metropolitan Area Network)

  • বিস্তৃতি: একটি পুরো শহরজুড়ে বিস্তৃত।
  • গঠন: একাধিক LAN-এর সমন্বয়ে গঠিত।
  • উদাহরণ: শহরের ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক, একটি ব্যাংকের শহরের বিভিন্ন শাখার সংযোগ।

এবার একটু বড় পরিসরে চিন্তা করো। ধরো, পুরো ঢাকা বা চট্টগ্রাম শহর। একটি শহরের বিভিন্ন স্থানের কম্পিউটার বা ল্যানগুলোকে নিয়ে যে নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে, তাকে বলে MAN বা Metropolitan Area Network। মেট্রোপলিটন মানেই মহানগর। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় শহরের ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কের কথা। অথবা ধরো, একটি ব্যাংকের শহরের ভেতরের সব শাখার যে নিজস্ব সংযোগ ব্যবস্থা, সেটাও ম্যান-এর উদাহরণ।

WAN (Wide Area Network)

  • বিস্তৃতি: দেশজুড়ে বা বিশ্বজুড়ে।
  • গঠন: বিভিন্ন ল্যান ও ম্যান-এর সমষ্টি।
  • উদাহরণ: ইন্টারনেট (Internet)।
  • বৈশিষ্ট্য: ডেটা ট্রান্সফার রেট সাধারণত ল্যানের চেয়ে কম।

আর সবশেষে সবচেয়ে বড় যেটা, সেটা হলো WAN বা Wide Area Network। এর কোনো ভৌগোলিক সীমানা নেই—এটা দেশ থেকে দেশ, এমনকি পুরো পৃথিবীজুড়ে বিস্তৃত হতে পারে। এর সবচেয়ে বড় এবং পরিচিত উদাহরণ হলো 'ইন্টারনেট'। তুমি যে এখন এই ভিডিওটা দেখছ, এটা WAN-এর কারণেই সম্ভব হচ্ছে। তবে মনে রাখবে, ল্যানের তুলনায় ওয়ানের স্পিড সাধারণত একটু কম হয় কারণ একে অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়।

এক নজরে তুলনা

নেটওয়ার্কের ব্যাপ্তি:

$PAN < LAN < MAN < WAN$

  • PAN: ১০ মিটারের মধ্যে।
  • LAN: ১-১০ কিলোমিটার।
  • MAN: পুরো শহর।
  • WAN: পুরো বিশ্ব।

এই স্লাইডটা ভালো করে খেয়াল করো। এখানে আমরা চারটি নেটওয়ার্কের পরিধি দেখতে পাচ্ছি। সবচেয়ে ছোট বৃত্তটা হলো PAN, এরপর LAN, তারপর MAN এবং সবশেষে পৃথিবীকে ঘিরে আছে WAN। এই ছবিটা মনে রাখলে তোমাদের এদের পার্থক্য বুঝতে আর ভুল হবে না।

নেটওয়ার্কের প্রকারভেদ (মালিকানা অনুসারে)

১। প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (Private Network):
- মালিকানাধীন, নির্দিষ্ট ব্যক্তির/প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ।
- নিরাপত্তা বেশি।
- উদাহরণ: ব্যাংকের নিজস্ব নেটওয়ার্ক, অফিসের ল্যান।

২। পাবলিক নেটওয়ার্ক (Public Network):
- সাধারণ জনগণের ব্যবহারের জন্য।
- ফি দিয়ে বা বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়।
- উদাহরণ: টেলিফোন নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট।

এবার আসি মালিকানার ভিত্তিতে নেটওয়ার্ক কত প্রকার। এটা অনেকটা 'প্রাইভেট কার' আর 'পাবলিক বাস'-এর মতো। ১। প্রাইভেট নেটওয়ার্ক: এটা কারো ব্যক্তিগত বা কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সম্পত্তি। বাইরে থেকে কেউ এতে ঢুকতে পারে না। নিরাপত্তা খুব কড়াকড়ি থাকে। যেমন একটা ব্যাংকের ভেতরের নেটওয়ার্ক। ২। পাবলিক নেটওয়ার্ক: এটা সবার জন্য উন্মুক্ত। যেমন টেলিফোন নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট। আমরা নির্দিষ্ট ফি দিয়ে বা অনেক সময় ফ্রিতেও এটা ব্যবহার করতে পারি।

নেটওয়ার্কের প্রকারভেদ (নিয়ন্ত্রণ কাঠামো অনুসারে)

কম্পিউটারগুলোর মধ্যে নিয়ন্ত্রণ বা কাজের ধরণ অনুসারে ৩ প্রকার:

১। পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্ক (Peer-to-Peer / P2P)
২। ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্ক (Client-Server)
৩। হাইব্রিড নেটওয়ার্ক (Hybrid)

নেটওয়ার্কের কম্পিউটারগুলো একে অপরের সাথে কীভাবে কাজ করে বা কে কাকে নিয়ন্ত্রণ করে, তার ওপর ভিত্তি করে নেটওয়ার্ককে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়: পিয়ার-টু-পিয়ার, ক্লায়েন্ট-সার্ভার এবং হাইব্রিড। চলো, পিয়ার-টু-পিয়ার এবং ক্লায়েন্ট-সার্ভার সম্পর্কে বিস্তারিত জানি, কারণ এখান থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।

পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্ক (P2P)

  • গঠন: প্রতিটি কম্পিউটারের মর্যাদা সমান। কোনো কেন্দ্রীয় সার্ভার নেই।
  • সুবিধা: খরচ কম, সেটআপ সহজ।
  • অসুবিধা: নিরাপত্তা কম, ব্যাকআপ রাখা কঠিন।
  • ব্যবহার: ছোট অফিস বা বাসায়।

পিয়ার-টু-পিয়ার বা P2P নেটওয়ার্কে কোনো 'বস' বা 'লিডার' নেই। সব কম্পিউটার সমান মর্যাদার। সবাই সবার সাথে সরাসরি ডেটা শেয়ার করতে পারে। ধরো, তুমি আর তোমার বন্ধুরা গোল হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছ—কেউ প্রধান না, সবাই সমান—ব্যাপারটা ঠিক তেমন। ছোট অফিসের জন্য এটা ভালো কারণ এতে খরচ কম। কিন্তু সমস্যা হলো, এখানে নিরাপত্তা কম থাকে এবং সেন্ট্রাল কোনো স্টোরেজ না থাকায় ডেটা ব্যাকআপ রাখা কঠিন।

ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্ক

  • সার্ভার (Server): কেন্দ্রীয় শক্তিশালী কম্পিউটার যা সেবা প্রদান করে।
  • ক্লায়েন্ট (Client): সাধারণ ব্যবহারকারীর কম্পিউটার যা সেবা গ্রহণ করে।
  • সুবিধা: উচ্চ নিরাপত্তা, সেন্ট্রালাইজড ব্যাকআপ।
  • অসুবিধা: সার্ভার নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক অচল, খরচ বেশি।

এবার আসি ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্কে। এখানে একজন 'বস' থাকে, যাকে আমরা বলি সার্ভার। আর বাকিরা হলো 'ক্লায়েন্ট'। সার্ভার হলো শক্তিশালী কম্পিউটার যা সব রিসোর্স ও ডেটা জমা রাখে এবং ক্লায়েন্টদের প্রয়োজনমতো সেবা দেয়। যেমন, তুমি যখন জিমেইল ব্যবহার করো, গুগল হলো সার্ভার, আর তুমি ক্লায়েন্ট। এর সুবিধা হলো—নিরাপত্তা অনেক বেশি এবং সব ডেটা এক জায়গায় থাকে বলে ব্যাকআপ নেওয়া সহজ। তবে সার্ভার যদি কোনো কারণে নষ্ট হয়ে যায়, তবে পুরো নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়তে পারে।

নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড (NIC)

  • কাজ: কম্পিউটারকে নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করা।
  • MAC Address: প্রতিটি NIC-এর একটি অনন্য পরিচিতি নম্বর (Unique ID) থাকে।
  • প্রকারভেদ: তারযুক্ত (Wired) বা তারবিহীন (Wireless) হতে পারে।

নেটওয়ার্ক নিয়ে তো অনেক কথা হলো, কিন্তু একটা কম্পিউটার নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে কীভাবে? এর জন্য হার্ডওয়্যার লাগে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো NIC বা Network Interface Card। এটা ছাড়া কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ঢুকতে পারে না। মনে রাখবে, প্রতিটি NIC-এর একটা ইউনিক নম্বর থাকে, যাকে MAC Address বলে। এটা অনেকটা তোমার রোল নম্বরের মতো, যা দিয়ে নেটওয়ার্কে ডিভাইসটিকে চেনা যায়।

নিজেকে যাচাই করি

নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

১। তোমার কলেজের কম্পিউটার ল্যাবটি কোন ধরণের নেটওয়ার্ক?
২। তুমি যখন ইউটিউবে ভিডিও দেখো, তখন তুমি কি ক্লায়েন্ট নাকি সার্ভার?
৩। ব্লুটুথ কোন ধরণের নেটওয়ার্কের উদাহরণ?

আজকে আমরা অনেক কিছু জানলাম। এবার দেখি তোমরা কেমন শিখলে। ভিডিওটা একটু পজ করো এবং এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ভাবো। ১। কলেজের ল্যাব কোন নেটওয়ার্ক? উত্তর হলো LAN। ২। ইউটিউব দেখার সময় তুমি কে? তুমি ক্লায়েন্ট, আর ইউটিউব হলো সার্ভার। ৩। ব্লুটুথ? এটা অবশ্যই PAN। আশা করি সবগুলোর উত্তর তোমরা সঠিকভাবে দিতে পেরেছ।

আজকের সারসংক্ষেপ

আমরা যা শিখলাম:
- নেটওয়ার্কের উদ্দেশ্য (রিসোর্স শেয়ারিং)
- ভৌগোলিক প্রকারভেদ: PAN, LAN, MAN, WAN
- ক্লায়েন্ট-সার্ভার ও P2P এর পার্থক্য

পরবর্তী লেকচার: নেটওয়ার্ক টপোলজি

আজকে আমরা নেটওয়ার্কিংয়ের বেসিক এবং এর প্রকারভেদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলাম। আমরা জানলাম প্যান, ল্যান, ম্যান, ওয়ান সম্পর্কে এবং ক্লায়েন্ট-সার্ভার মডেল কীভাবে কাজ করে। এই কনসেপ্টগুলো কিন্তু পরবর্তী টপিকগুলো বোঝার জন্য খুব কাজে লাগবে। আমাদের পরের লেকচারে আমরা 'নেটওয়ার্ক টপোলজি' নিয়ে কথা বলব, যেটা খুবই ইন্টারেস্টিং একটা বিষয়। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থেকো, ধন্যবাদ।

কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং: ধারণা, প্রকারভেদ ও ব্যবহারিক প্রয়োগ

পড়তে প্রায় 15 মিনিট

আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে আমরা সবাই একটি অদৃশ্য জালের মধ্যে বসবাস করছি। লেকচারে যেমনটি মাকড়সার জালের (Spider Web) সাথে তুলনা করা হয়েছে, কম্পিউটার নেটওয়ার্কও ঠিক তেমনই একটি বিশাল ও জটিল সংযোগ ব্যবস্থা। সকালে ঘুম থেকে উঠে সোশ্যাল মিডিয়া চেক করা থেকে শুরু করে অনলাইন ক্লাস, ব্যাংকিং লেনদেন কিংবা অফিসের কাজ—সবকিছুই সম্ভব হচ্ছে এই কম্পিউটার নেটওয়ার্কের কারণে।

লেকচারে আমরা স্লাইডের মাধ্যমে নেটওয়ার্কের প্রকারভেদগুলো সংক্ষেপে দেখেছি। এই রিডিং ম্যাটেরিয়ালে আমরা সেই ধারণাগুলোকে আরও গভীরভাবে জানব, বিশেষ করে পরীক্ষার খাতায় কীভাবে সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় এবং নেটওয়ার্কের কারিগরি দিকগুলো (যেমন: ডেটা ট্রান্সফার রেট, মাধ্যম, সুবিধা-অসুবিধা) বিস্তারিত আলোচনা করব।

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ও এর উদ্দেশ্য

সহজ কথায়, নেটওয়ার্ক হলো সংযোগ। যখন একাধিক কম্পিউটার একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে তথ্য আদান-প্রদান করে, তখন তাকে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বলা হয়। তবে পরীক্ষার খাতায় লেখার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞার প্রয়োজন।

সংজ্ঞা (Computer Network): রিসোর্স শেয়ারিং (Resource Sharing) এবং তথ্য আদান-প্রদানের উদ্দেশ্যে দুই বা ততোধিক কম্পিউটারের মধ্যে তারযুক্ত বা তারবিহীন মাধ্যম ব্যবহার করে যে সংযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়, তাকে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বলে।

একটি নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পেছনে মূল উদ্দেশ্য থাকে তিনটি:
১. রিসোর্স শেয়ারিং (Resource Sharing): এটি নেটওয়ার্কের প্রধান সুবিধা।
- হার্ডওয়্যার: একটি প্রিন্টার বা স্ক্যানার নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকলে অফিসের সব কম্পিউটার সেটি ব্যবহার করতে পারে।
- সফ্টওয়্যার: একটি সফটওয়্যার সার্ভারে ইন্সটল করে সবাই ব্যবহার করতে পারে, ফলে খরচ কমে।
- তথ্য: ফাইল বা ডেটাবেস শেয়ার করা যায়।
২. তথ্য সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা: কেন্দ্রীয়ভাবে (Centralized) তথ্য সংরক্ষণ করা যায়, ফলে ডেটা হারিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে না।
৩. দ্রুত যোগাযোগ: ইমেইল বা মেসেজিংয়ের মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়।

নেটওয়ার্কের মৌলিক উপাদান (Essential Elements):
একটি নেটওয়ার্ক কার্যকর হতে হলে ৪টি মূল উপাদান অবশ্যই থাকতে হবে:
- প্রেরক (Sender): যে ডেটা বা তথ্য পাঠায় (যেমন: কম্পিউটার, মোবাইল)।
- গ্রাহক (Receiver): যে ডেটা গ্রহণ করে।
- মাধ্যম (Medium): যার মধ্য দিয়ে ডেটা প্রবাহিত হয় (যেমন: তার, অপটিক্যাল ফাইবার, বা বাতাস/তরঙ্গ)।
- প্রটোকল (Protocol): যোগাযোগের নিয়মকানুন বা ভাষা, যা নিশ্চিত করে প্রাপক সঠিকভাবে তথ্য বুঝতে পারছে।

ভৌগোলিক বিস্তৃতি অনুসারে নেটওয়ার্কের প্রকারভেদ

নেটওয়ার্কের কম্পিউটারগুলো একে অপরের থেকে কত দূরে অবস্থিত, তার ওপর ভিত্তি করে কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে প্রধানত ৪ ভাগে ভাগ করা যায়: PAN, LAN, MAN, এবং WAN।

PAN, LAN, MAN, এবং WAN এর তুলনা

১. পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (PAN)

ব্যক্তির নিজস্ব ব্যবহারের জন্য খুব অল্প দূরত্বের মধ্যে (সাধারণত ১০ মিটার বা ৩০ ফুটের মধ্যে) যে নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়, তাকে PAN বা Personal Area Network বলে।
- উদাহরণ: ব্লুটুথ (Bluetooth) ব্যবহার করে মোবাইলের সাথে হেডফোন বা ল্যাপটপের সংযোগ।
- বৈশিষ্ট্য: এটি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহৃত হয় এবং এর গতি সাধারণত কম।

২. লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (LAN)

সাধারণত একটি নির্দিষ্ট ভবন, অফিস, ল্যাবরেটরি বা খুব কাছাকাছি অবস্থিত কয়েকটি ভবনের কম্পিউটারগুলোর মধ্যে যে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়, তাকে LAN বা Local Area Network বলে। এর বিস্তৃতি সাধারণত ১ থেকে ১০ কিলোমিটারের মধ্যে হতে পারে (তবে সাধারণত ১ কি.মি. এর কম হয়)।
- উদাহরণ: স্কুল বা কলেজের কম্পিউটার ল্যাব, কোনো অফিসের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক।
- প্রযুক্তি: এতে সাধারণত ইথারনেট (Ethernet) বা ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
- বৈশিষ্ট্য: এর ডেটা ট্রান্সফার স্পিড বা ব্যান্ডউইথ অনেক বেশি (10 Mbps থেকে 1000 Mbps বা তার বেশি)। এখানে ভুলের হার (Error Rate) খুব কম।

৩. মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক (MAN)

একটি বড় শহর বা মেট্রোপলিটন এলাকার বিভিন্ন স্থানের কম্পিউটার বা ল্যানগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য যে নেটওয়ার্ক ব্যবহৃত হয়, তাকে MAN বা Metropolitan Area Network বলে। এটি মূলত একাধিক LAN-এর সমষ্টি।
- উদাহরণ: শহরের কেবল টিভি নেটওয়ার্ক (Cable TV Network), শহরের বিভিন্ন ব্যাংকের শাখাগুলোর সংযোগ।
- বিস্তৃতি: সাধারণত ৫০-৬০ কিলোমিটার বা একটি পূর্ণাঙ্গ শহর।
- মাধ্যম: এখানে ফাইবার অপটিক ক্যাবল বা মাইক্রোওয়েভ লিঙ্ক ব্যবহার করা হয়।

৪. ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (WAN)

বিশাল ভৌগোলিক এলাকা—যেমন পুরো দেশ, মহাদেশ বা সমগ্র বিশ্বজুড়ে যে নেটওয়ার্ক বিস্তৃত থাকে, তাকে WAN বা Wide Area Network বলে।
- উদাহরণ: ইন্টারনেট (Internet) হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় WAN।
- বৈশিষ্ট্য: এর গঠন ও নিয়ন্ত্রণ বেশ জটিল। এতে পাবলিক টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থা (যেমন: টেলিফোন লাইন, স্যাটেলাইট) ব্যবহৃত হয়।
- গতি: সাধারণত LAN বা MAN এর তুলনায় এর গতি কম হয়।

তুলনামূলক বিশ্লেষণ (Comparison):

বৈশিষ্ট্য LAN MAN WAN
পূর্ণরূপ Local Area Network Metropolitan Area Network Wide Area Network
বিস্তৃতি ছোট এলাকা (১ কি.মি.) একটি শহর (৫০-৬০ কি.মি.) দেশ বা বিশ্ব
মালিকানা সাধারণত ব্যক্তিগত (Private) প্রাইভেট বা পাবলিক সাধারণত পাবলিক বা কনসোর্টিয়াম
খরচ কম মাঝারি অনেক বেশি
গতি খুব বেশি (উচ্চ ব্যান্ডউইথ) মাঝারি তুলনামূলক কম
উদাহরণ অফিস নেটওয়ার্ক কেবল টিভি নেটওয়ার্ক ইন্টারনেট

মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো অনুসারে শ্রেণিবিভাগ

ভৌগোলিক অবস্থান ছাড়াও মালিকানা এবং নিয়ন্ত্রণের ওপর ভিত্তি করে নেটওয়ার্ককে ভাগ করা যায়।

মালিকানা অনুসারে (Ownership)
  1. প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (Private Network): এই নেটওয়ার্কের মালিকানা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকে। বাইরের কেউ চাইলেই এতে প্রবেশ করতে পারে না। উদাহরণ: কোনো অফিসের নিজস্ব LAN। নিরাপত্তা এখানে প্রধান বিষয়।
  2. পাবলিক নেটওয়ার্ক (Public Network): এটি সাধারণ জনগণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত। নির্দিষ্ট ফি দিয়ে বা বিনামূল্যে যে কেউ এটি ব্যবহার করতে পারে। উদাহরণ: টেলিফোন নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট।
নিয়ন্ত্রণ কাঠামো বা আর্কিটেকচার অনুসারে (Architecture)

নেটওয়ার্কের প্রতিটি কম্পিউটার বা নোড (Node) একে অপরের সাথে কীভাবে কাজ করবে, তার ওপর ভিত্তি করে একে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়:

১. ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্ক (Client-Server Network)

এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় ও নিরাপদ নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা। এখানে একটি শক্তিশালী কম্পিউটার থাকে যাকে সার্ভার (Server) বলা হয়, যা কেন্দ্রীয়ভাবে নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করে এবং অন্যান্য কম্পিউটারগুলোকে সেবা প্রদান করে। সেবা গ্রহণকারী কম্পিউটারগুলোকে ক্লায়েন্ট (Client) বা ওয়ার্কস্টেশন বলা হয়।

সংজ্ঞা: যে নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় একটি কেন্দ্রীয় কম্পিউটার (Server) থাকে যা অন্যান্য কম্পিউটারকে (Client) রিসোর্স ও সেবা প্রদান করে এবং নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্ক বলে।

  • সুবিধা: উচ্চ নিরাপত্তা, কেন্দ্রীয়ভাবে ডেটা ব্যাকআপ নেওয়া যায়, সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য।
  • অসুবিধা: সার্ভার নষ্ট হয়ে গেলে পুরো নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ে। এটি স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়বহুল এবং দক্ষ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের প্রয়োজন হয়।
২. পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্ক (Peer-to-Peer / P2P)

এখানে কোনো কেন্দ্রীয় সার্ভার থাকে না। প্রতিটি কম্পিউটার একই সাথে সার্ভার এবং ক্লায়েন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। অর্থাৎ, প্রতিটি কম্পিউটারের ক্ষমতা ও অধিকার সমান।
- ব্যবহার: ছোট অফিস বা বাসাবাড়িতে যেখানে নিরাপত্তা খুব একটা জরুরি নয়।
- সুবিধা: খরচ কম, সেটআপ করা সহজ, সার্ভারের প্রয়োজন নেই।
- অসুবিধা: নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল, ডেটা ব্যাকআপ নেওয়া কঠিন (কারণ ডেটা বিভিন্ন কম্পিউটারে ছড়িয়ে থাকে)।

৩. হাইব্রিড নেটওয়ার্ক (Hybrid Network)

ক্লায়েন্ট-সার্ভার এবং পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে গঠিত নেটওয়ার্ককে হাইব্রিড নেটওয়ার্ক বলে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজের ভিন্নতার কারণে এই ধরনের নেটওয়ার্ক দেখা যায়।

সৃজনশীল প্রশ্নের সমাধান কৌশল (Exam Strategy)

পরীক্ষায় প্রায়ই একটি উদ্দীপক (Scenario) দেওয়া থাকে এবং সেখান থেকে নেটওয়ার্কের ধরন শনাক্ত করতে বলা হয়। নিচের টিপসগুলো মনে রাখলে সহজেই উত্তর করা যাবে:

উদ্দীপক চেনার উপায় (Key Identification Tips):
- যদি বলা হয় "১০ মিটার দূরত্ব", "ব্লুটুথ", বা "ব্যক্তিগত" — তবে উত্তর হবে PAN
- যদি বলা হয় "একটি বহুতল ভবন", "একই অফিসের বিভিন্ন তলা", বা "ক্যাম্পাস" — তবে উত্তর হবে LAN
- যদি বলা হয় "শহরের বিভিন্ন শাখা", "জেলা সদরের সাথে উপজেলার সংযোগ", বা "কেবল টিভি" — তবে উত্তর হবে MAN
- যদি বলা হয় "ভিন্ন দেশ", "সমগ্র বিশ্ব", বা "ইন্টারনেট" — তবে উত্তর হবে WAN

নমুনা সমস্যা ও সমাধান:
প্রশ্ন: 'ক' ব্যাংক তাদের প্রধান কার্যালয় ঢাকার মতিঝিলে স্থাপন করেছে। কিন্তু তাদের একটি শাখা গুলশানে এবং আরেকটি শাখা চট্টগ্রামে অবস্থিত। মতিঝিলের সাথে গুলশানের এবং মতিঝিলের সাথে চট্টগ্রামের সংযোগ কোন ধরণের নেটওয়ার্ক?

বিশ্লেষণ ও উত্তর:
১. মতিঝিল ও গুলশান: দুটিই একই শহরের (ঢাকা) মধ্যে অবস্থিত। তাই এই সংযোগটি হবে MAN (Metropolitan Area Network)
২. মতিঝিল ও চট্টগ্রাম: দুটি ভিন্ন শহর এবং দূরত্ব অনেক বেশি। তাই এই সংযোগটি হবে WAN (Wide Area Network)

সংক্ষিপ্ত সারাংশ (Summary)

  • কম্পিউটার নেটওয়ার্ক: রিসোর্স শেয়ারিংয়ের জন্য একাধিক কম্পিউটারের সংযোগ।
  • PAN: ব্যক্তিগত, খুব অল্প দূরত্ব (ব্লুটুথ)।
  • LAN: একটি ভবন বা অফিস, উচ্চ গতি (ইথারনেট/ওয়াই-ফাই)।
  • MAN: একটি শহর, মাঝারি দূরত্ব (ক্যাবল টিভি)।
  • WAN: বিশ্বব্যাপী, অসীম দূরত্ব (ইন্টারনেট)।
  • Client-Server: কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ, উচ্চ নিরাপত্তা, বড় অফিসের জন্য উপযুক্ত।
  • P2P: কোনো কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ নেই, ছোট অফিসের জন্য উপযুক্ত, খরচ কম।

পরিভাষা (Glossary)

শব্দ (Term) সংজ্ঞা (Definition)
PAN Personal Area Network; ব্যক্তির নিজস্ব ব্যবহারের জন্য স্বল্প দূরত্বের নেটওয়ার্ক।
LAN Local Area Network; স্বল্প পরিসরে (যেমন অফিস বা ল্যাব) উচ্চগতির নেটওয়ার্ক।
MAN Metropolitan Area Network; একটি শহরের বিভিন্ন স্থানের মধ্যে সংযোগকারী নেটওয়ার্ক।
WAN Wide Area Network; দেশ বা বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক।
Server নেটওয়ার্কের কেন্দ্রীয় শক্তিশালী কম্পিউটার যা ক্লায়েন্টদের সেবা প্রদান করে।
Client নেটওয়ার্কের সাধারণ ব্যবহারকারী কম্পিউটার যা সার্ভার থেকে সেবা গ্রহণ করে।
Node নেটওয়ার্কে সংযুক্ত প্রতিটি ডিভাইসকে (কম্পিউটার, প্রিন্টার ইত্যাদি) নোড বলা হয়।
NIC Network Interface Card; কম্পিউটারকে নেটওয়ার্কে যুক্ত করার হার্ডওয়্যার কার্ড।

অনুশীলনের প্রশ্ন

সৃজনশীল প্রশ্ন

সৃজনশীল প্রশ্ন ১

একটি বহুজাতিক কোম্পানির প্রধান অফিস ঢাকায় এবং শাখা অফিস চট্টগ্রামে অবস্থিত। ঢাকার অফিসের ১০টি কম্পিউটার নিজেদের মধ্যে তারের (Cable) মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি নিজস্ব নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। কিন্তু চট্টগ্রাম অফিসের সাথে ঢাকার অফিসটি বিশেষ তারহীন ব্যবস্থায় বা টেলিফোন লাইনের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তথ্য আদান-প্রদান করে। কোম্পানির কর্মকর্তারা সহজেই এক অফিস থেকে অন্য অফিসের ফাইল ব্যবহার করতে পারেন।

ক. কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কী?
খ. প্যান (PAN) ও ল্যান (LAN) এর মধ্যে দুইটি পার্থক্য লিখ।
গ. উদ্দীপকে ঢাকার অফিসের নেটওয়ার্কটি কোন ধরণের? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকের ঢাকা ও চট্টগ্রাম অফিসের সংযোগটি কোন ধরণের নেটওয়ার্কের অন্তর্গত? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

(ক) দুই বা ততোধিক কম্পিউটার যখন কোনো যোগাযোগ মাধ্যম দ্বারা একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে তথ্য আদান-প্রদান বা রিসোর্স শেয়ার করে, তখন তাকে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বলে।

(খ) প্যান (PAN) ও ল্যান (LAN) এর মধ্যে পার্থক্য হলো:
১. প্যান (Personal Area Network) সাধারণত একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত ডিভাইসের (যেমন—ল্যাপটপ, ফোন, ব্লুটুথ) মধ্যে ১০ মিটারের সীমাবদ্ধ থাকে। অন্যদিকে ল্যান (Local Area Network) একটি ভবন বা ক্যাম্পাসের মধ্যে বিস্তৃত থাকে (সাধারণত ১-১০ কিমি পর্যন্ত)।
২. প্যান এর ডাটা ট্রান্সফার রেট ল্যানের তুলনায় কম। ল্যানের ডাটা ট্রান্সফার রেট অনেক বেশি (সাধারণত ১০-১০০০ Mbps)।

(গ) উদ্দীপকে ঢাকার অফিসের নেটওয়ার্কটি হলো ল্যান (LAN) বা লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক।

কারণ ব্যাখ্যা:
১. ভৌগোলিক বিস্তৃতি: উদ্দীপকে বলা হয়েছে ঢাকার অফিসের ১০টি কম্পিউটার নিজেদের মধ্যে তার দিয়ে যুক্ত। একটি নির্দিষ্ট অফিস বা ভবনের ভেতরে কম্পিউটারগুলোর সংযোগ ল্যান (LAN) এর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
২. মালিকানা: এটি কোম্পানির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত একটি প্রাইভেট নেটওয়ার্ক, যা ল্যানের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে যায়।
৩. উচ্চগতি: একই অফিসের মধ্যে তারের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকায় এই নেটওয়ার্কে ডাটা ট্রান্সফার রেট খুব বেশি এবং ভুলের হার কম থাকে।
সুতরাং, ঢাকার অফিসের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কটি একটি ল্যান।

(ঘ) উদ্দীপকের ঢাকা ও চট্টগ্রাম অফিসের সংযোগটি ওয়্যান (WAN) বা ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্কের অন্তর্গত।

বিশ্লেষণ:
১. বিশাল ভৌগোলিক দূরত্ব: ঢাকা ও চট্টগ্রাম দুটি ভিন্ন শহর। যখন দুটি ভিন্ন শহরের বা দেশের নেটওয়ার্ক বা কম্পিউটার পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়, তখন তাকে ওয়্যান বা Wide Area Network বলে।
২. সংযোগ মাধ্যম: উদ্দীপকে বলা হয়েছে তারা বিশেষ তারহীন ব্যবস্থা বা টেলিফোন লাইনের মাধ্যমে যুক্ত। ওয়্যান সাধারণত পাবলিক টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম (যেমন—টেলিফোন লাইন, ফাইবার অপটিক ব্যাকবোন, বা স্যাটেলাইট লিঙ্ক) ব্যবহার করে গড়ে ওঠে।
৩. উদ্দেশ্য: এই সংযোগের মূল উদ্দেশ্য হলো দূরবর্তী দুটি ল্যান-কে সংযুক্ত করে তথ্য আদান-প্রদান করা। ঢাকা অফিসের ল্যান এবং চট্টগ্রাম অফিসের নেটওয়ার্ককে যুক্ত করে এই ওয়্যান তৈরি হয়েছে।
৪. তুলনা: এটি ম্যান (MAN) নয় কারণ ম্যান সাধারণত একটি শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় এটি ম্যানের আওতাভুক্ত হতে পারে না।
অতএব, বিশাল ভৌগোলিক দূরত্ব এবং সংযোগের প্রকৃতি বিবেচনায় এটি নিশ্চিতভাবে একটি ওয়্যান (WAN) বা ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক।


সৃজনশীল প্রশ্ন ২

মি. এক্স তার ল্যাপটপ থেকে ব্লুটুথ প্রযুক্তির মাধ্যমে জরুরি কিছু ফাইল তার স্মার্টফোনে স্থানান্তর করলেন। অন্যদিকে, তিনি ব্যাংকে গিয়ে দেখলেন ব্যাংকের কর্মকর্তারা একটি কেন্দ্রীয় সার্ভারের সাথে সংযুক্ত কম্পিউটার ব্যবহার করে গ্রাহকদের সেবা দিচ্ছেন। একজন গ্রাহক টাকা জমা দিলে তা সাথে সাথে কেন্দ্রীয় সার্ভারে আপডেট হয়ে যাচ্ছে এবং অন্য শাখা থেকেও দেখা যাচ্ছে।

ক. রিসোর্স শেয়ারিং কী?
খ. পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্ক বলতে কী বুঝ?
গ. উদ্দীপকে মি. এক্স এর নেটওয়ার্কটি কোন ধরণের? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকের ব্যাংকের নেটওয়ার্ক স্ট্রাকচারটি কি মি. এক্স এর নেটওয়ার্কের মতো? তুলনামূলক আলোচনা কর।

উত্তর

(ক) নেটওয়ার্কভুক্ত কম্পিউটারগুলোর মধ্যে হার্ডওয়্যার (যেমন—প্রিন্টার, স্টোরেজ) বা সফটওয়্যার (ফাইল, ডাটাবেজ) ভাগাভাগি করে ব্যবহার করার পদ্ধতিকে রিসোর্স শেয়ারিং বলে।

(খ) যে নেটওয়ার্কে কোনো কেন্দ্রীয় সার্ভার থাকে না এবং প্রতিটি কম্পিউটার একে অপরের সাথে সমমর্যাদায় তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে, তাকে পিয়ার-টু-পিয়ার (Peer-to-Peer) নেটওয়ার্ক বলে। এই নেটওয়ার্কে প্রতিটি কম্পিউটারই একই সাথে সার্ভার এবং ক্লায়েন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। এটি ছোট পরিসরে এবং কম নিরাপত্তার প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়।

(গ) উদ্দীপকে মি. এক্স এর নেটওয়ার্কটি হলো প্যান (PAN) বা পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক।

ব্যাখ্যা:
১. ব্যক্তিগত পরিসর: মি. এক্স তার নিজের ল্যাপটপ ও ফোনের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছেন। এটি একান্তই ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য তৈরি নেটওয়ার্ক।
২. ক্ষুদ্র দূরত্ব: ব্লুটুথ প্রযুক্তির মাধ্যমে এই সংযোগ স্থাপিত হয়েছে, যা সাধারণত ১০ মিটারের মধ্যে কাজ করে। প্যান-এর প্রধান বৈশিষ্ট্যই হলো খুব অল্প দূরত্বের মধ্যে ব্যক্তিগত ডিভাইসের সংযোগ।
৩. প্রযুক্তি: ব্লুটুথ হলো প্যান তৈরির অন্যতম প্রধান মাধ্যম। যেহেতু তিনি ব্লুটুথ ব্যবহার করেছেন, তাই এটি নিঃসন্দেহে একটি প্যান।

(ঘ) না, উদ্দীপকের ব্যাংকের নেটওয়ার্ক স্ট্রাকচারটি মি. এক্স এর নেটওয়ার্কের (PAN) মতো নয়। ব্যাংকের নেটওয়ার্কটি মূলত ক্লায়েন্ট-সার্ভার (Client-Server) নেটওয়ার্ক এবং ভৌগোলিক বিস্তৃতিতে এটি সম্ভবত WAN বা Private WAN

তুলনামূলক আলোচনা:
১. নিয়ন্ত্রণ কাঠামো:
- মি. এক্সের নেটওয়ার্ক (PAN) সাধারণত পিয়ার-টু-পিয়ার বা সরাসরি সংযোগ ভিত্তিক। এখানে কোনো কেন্দ্রীয় সার্ভার নেই।
- ব্যাংকের নেটওয়ার্কটি ক্লায়েন্ট-সার্ভার ভিত্তিক। উদ্দীপকে বলা হয়েছে "কেন্দ্রীয় সার্ভারের সাথে সংযুক্ত কম্পিউটার"। এখানে সার্ভার সব ডাটা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ক্লায়েন্টরা (কর্মকর্তাদের পিসি) সেবা গ্রহণ করে।
২. নিরাপত্তা:
- মি. এক্সের প্যান-এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাধারণ মানের।
- ব্যাংকের নেটওয়ার্কে অত্যন্ত উচ্চমানের নিরাপত্তা বা সিকিউরিটি থাকে কারণ এখানে আর্থিক লেনদেন জড়িত। সার্ভার কেন্দ্রীয়ভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
৩. ভৌগোলিক বিস্তৃতি:
- মি. এক্সের নেটওয়ার্ক মাত্র কয়েক মিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
- ব্যাংকের নেটওয়ার্ক সারা দেশে বা বিভিন্ন শাখার মধ্যে বিস্তৃত (WAN), যা অনেক বড় এলাকা জুড়ে কাজ করে।
৪. ক্ষমতা ও ব্যবহার:
- মি. এক্সের নেটওয়ার্ক শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ফাইল ট্রান্সফারের জন্য।
- ব্যাংকের নেটওয়ার্ক হাজার হাজার গ্রাহকের ডাটা রিয়েল-টাইমে প্রসেস ও স্টোর করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

সুতরাং, মি. এক্সের নেটওয়ার্ক এবং ব্যাংকের নেটওয়ার্ক গঠন, উদ্দেশ্য এবং কার্যকারিতার দিক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।


সৃজনশীল প্রশ্ন ৩

রাজীবদের শহরের প্রায় প্রতিটি বাসায় কেবল টিভি নেটওয়ার্কের সংযোগ রয়েছে যার মাধ্যমে তারা টিভি দেখে। একদিন রাজীব তার বন্ধুকে ইমেইল পাঠানোর জন্য কম্পিউটারে ইন্টারনেট সংযোগ চালু করল। সে ভাবল, কেবল টিভির নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেটের নেটওয়ার্ক কি একই ধরণের?

ক. মডেম কী?
খ. ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্ক কেন সুবিধাজনক?
গ. উদ্দীপকে কেবল টিভি নেটওয়ার্কটি কোন ধরণের? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. রাজীবের ব্যবহৃত ইন্টারনেট এবং কেবল টিভি নেটওয়ার্কের মধ্যে কোনটি বেশি বিস্তৃত? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

(ক) মডেম (Modem) হলো এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস যা মডুলেশন ও ডিমডুলেশনের মাধ্যমে ডিজিটাল সংকেতকে এনালগ সংকেতে এবং এনালগ সংকেতকে ডিজিটাল সংকেতে রূপান্তর করে ডাটা কমিউনিকেশনে সাহায্য করে।

(খ) ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্ক সুবিধাজনক কারণ:
১. কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ: একটি কেন্দ্রীয় সার্ভার থেকে পুরো নেটওয়ার্ক ম্যানেজ করা যায়, ফলে নিরাপত্তা ও ব্যাকআপ নেওয়া সহজ হয়।
২. রিসোর্স শেয়ারিং: দামি প্রিন্টার বা হার্ডডিস্ক সার্ভারে যুক্ত করে সবাই ব্যবহার করতে পারে।
৩. নিরাপত্তা: ব্যবহারকারীদের এক্সেস কন্ট্রোল বা অনুমতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়, যা ডাটা চুরির ঝুঁকি কমায়।

(গ) উদ্দীপকে উল্লেখিত কেবল টিভি নেটওয়ার্কটি হলো ম্যান (MAN) বা মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক।

ব্যাখ্যা:
১. শহরভিত্তিক বিস্তৃতি: উদ্দীপকে বলা হয়েছে "শহরের প্রায় প্রতিটি বাসায়" এই সংযোগ রয়েছে। একটি সম্পূর্ণ শহর জুড়ে যে নেটওয়ার্ক বিস্তৃত থাকে তাকে ম্যান বলে।
২. উদাহরণ: কেবল টিভি নেটওয়ার্ক হলো ম্যান-এর সবচেয়ে উপযুক্ত বাস্তব উদাহরণ।
৩. গঠন: এটি সাধারণত অনেকগুলো ল্যান-এর সমষ্টি বা একটি বড় অবকাঠামো যা শহরের বিভিন্ন প্রান্তকে সংযুক্ত করে। এর বিস্তৃতি সাধারণত ১০-৫০ কিলোমিটারের মধ্যে হতে পারে।

(ঘ) রাজীবের ব্যবহৃত ইন্টারনেট (WAN) এবং কেবল টিভি নেটওয়ার্কের (MAN) মধ্যে ইন্টারনেট বেশি বিস্তৃত।

বিশ্লেষণ:
১. ধরণ: কেবল টিভি নেটওয়ার্ক হলো MAN (Metropolitan Area Network), আর ইন্টারনেট হলো WAN (Wide Area Network)-এর বৃহত্তম উদাহরণ।
২. ভৌগোলিক সীমানা:
- কেবল টিভি নেটওয়ার্ক (MAN) একটি নির্দিষ্ট শহর বা মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। রাজীবদের শহরের বাইরে এই নির্দিষ্ট কেবল নেটওয়ার্কটির অস্তিত্ব নাও থাকতে পারে।
- ইন্টারনেট (WAN) সমগ্র বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত। এটি মহাদেশ থেকে মহাদেশে, দেশ থেকে দেশে বিস্তৃত। এর কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা নেই।
৩. সংযোগ সংখ্যা:
- ম্যান-এ সংযুক্ত ডিভাইসের সংখ্যা সীমিত (শহরের জনসংখ্যা অনুযায়ী)।
- ইন্টারনেটে বিলিয়ন বিলিয়ন ডিভাইস যুক্ত থাকে।
৪. মালিকানা:
- কেবল নেটওয়ার্ক সাধারণত একটি নির্দিষ্ট কোম্পানি বা অপারেটরের মালিকানাধীন থাকে (Private/Public)।
- ইন্টারনেট কারো একক মালিকানাধীন নয়, এটি অসংখ্য নেটওয়ার্কের সমষ্টি।

সুতরাং, ভৌগোলিক বিস্তৃতি এবং পরিধির দিক থেকে ইন্টারনেট (WAN) কেবল টিভি নেটওয়ার্কের (MAN) চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত ও বিশাল।

এমসিকিউ

১। ভৌগোলিক বিস্তৃতি অনুসারে কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে প্রধানত কয়ভাগে ভাগ করা যায়?

ক) ২
খ) ৩
গ) ৪
ঘ) ৫

সঠিক উত্তর: গ) ৪

ব্যাখ্যা: ভৌগোলিক বিস্তৃতি অনুসারে কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে প্রধানত ৪ ভাগে ভাগ করা যায়: PAN, LAN, MAN, এবং WAN।


২। ব্লুটুথ (Bluetooth) প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি নেটওয়ার্ক কোনটি?

ক) LAN
খ) MAN
গ) PAN
ঘ) WAN

সঠিক উত্তর: গ) PAN

ব্যাখ্যা: ব্যক্তিগত বা পার্সোনাল ডিভাইসের মধ্যে স্বল্প দূরত্বে (সাধারণত ১০ মিটার) ডেটা আদান-প্রদানের জন্য যে নেটওয়ার্ক তৈরি হয় তাকে পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা PAN বলে। ব্লুটুথ এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।


৩। একটি অফিসের বিভিন্ন তলায় অবস্থিত কম্পিউটারগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য কোন নেটওয়ার্ক সবচেয়ে উপযোগী?

ক) PAN
খ) LAN
গ) MAN
ঘ) WAN

সঠিক উত্তর: খ) LAN

ব্যাখ্যা: একই ভবন বা পাশাপাশি অবস্থিত কয়েকটি ভবনের কম্পিউটারগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা LAN ব্যবহৃত হয়। এর বিস্তৃতি সাধারণত ১-১০ কিলোমিটারের মধ্যে।


৪। কোন নেটওয়ার্কের ডাটা ট্রান্সফার রেট সাধারণত সবচেয়ে বেশি হয়?

ক) WAN
খ) MAN
গ) LAN
ঘ) PAN

সঠিক উত্তর: গ) LAN

ব্যাখ্যা: স্বল্প দূরত্বে তারের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকায় ল্যান (LAN)-এর ডাটা ট্রান্সফার রেট অন্যান্য নেটওয়ার্কের তুলনায় অনেক বেশি (সাধারণত ১০-১০০০ Mbps)।


৫। শহরের ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক (Cable TV Network) কোন ধরণের নেটওয়ার্কের উদাহরণ?

ক) LAN
খ) MAN
গ) WAN
ঘ) PAN

সঠিক উত্তর: খ) MAN

ব্যাখ্যা: একটি শহরের বিভিন্ন স্থানের কম্পিউটার বা ডিভাইসের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী নেটওয়ার্ককে মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক বা MAN বলে। ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক এর একটি বাস্তব উদাহরণ।


৬। সমগ্র বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্ককে কী বলা হয়?

ক) LAN
খ) MAN
গ) WAN
ঘ) PAN

সঠিক উত্তর: গ) WAN

ব্যাখ্যা: ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক বা WAN হলো এমন নেটওয়ার্ক যা সমগ্র দেশ বা পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃত থাকে। ইন্টারনেট হলো সবচেয়ে বড় WAN।


৭। মালিকানা অনুযায়ী নেটওয়ার্ক কত প্রকার?

ক) ২
খ) ৩
গ) ৪
ঘ) ৫

সঠিক উত্তর: ক) ২

ব্যাখ্যা: মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণের ভিত্তিতে নেটওয়ার্ক ২ প্রকার: প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (Private Network) এবং পাবলিক নেটওয়ার্ক (Public Network)।


৮। ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্কের মূল বৈশিষ্ট্য কী?

ক) সকল কম্পিউটার সমান ক্ষমতার অধিকারী
খ) একটি কেন্দ্রীয় শক্তিশালী কম্পিউটার থাকে যা রিসোর্স নিয়ন্ত্রণ করে
গ) কোনো নির্দিষ্ট সার্ভার থাকে না
ঘ) নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল থাকে

সঠিক উত্তর: খ) একটি কেন্দ্রীয় শক্তিশালী কম্পিউটার থাকে যা রিসোর্স নিয়ন্ত্রণ করে

ব্যাখ্যা: ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্কে একটি কেন্দ্রীয় কম্পিউটার বা সার্ভার থাকে যা নেটওয়ার্কের যাবতীয় রিসোর্স ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করে, এবং অন্যান্য কম্পিউটার বা ক্লায়েন্টরা সেই সেবা গ্রহণ করে।


৯। পিয়ার-টু-পিয়ার (Peer-to-Peer) নেটওয়ার্ক সম্পর্কে কোনটি সঠিক?

ক) এতে কেন্দ্রীয় সার্ভার থাকে
খ) প্রতিটি কম্পিউটার সার্ভার ও ক্লায়েন্ট উভয় হিসেবে কাজ করতে পারে
গ) এটি খুব উচ্চ নিরাপত্তা প্রদান করে
ঘ) এটি বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য উপযোগী

সঠিক উত্তর: খ) প্রতিটি কম্পিউটার সার্ভার ও ক্লায়েন্ট উভয় হিসেবে কাজ করতে পারে

ব্যাখ্যা: পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্কে কোনো কেন্দ্রীয় সার্ভার থাকে না। প্রতিটি নোড বা কম্পিউটার সমমর্যাদার এবং তারা একে অপরের সাথে সরাসরি রিসোর্স শেয়ার করতে পারে।


১০। হাইব্রিড নেটওয়ার্ক (Hybrid Network) কী?

ক) শুধুমাত্র ল্যান ও ম্যানের সমন্বয়
খ) ক্লায়েন্ট-সার্ভার ও পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্কের মিশ্রণ
গ) তারযুক্ত ও তারবিহীন মাধ্যমের মিশ্রণ
ঘ) এনালগ ও ডিজিটাল সিগন্যালের মিশ্রণ

সঠিক উত্তর: খ) ক্লায়েন্ট-সার্ভার ও পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্কের মিশ্রণ

ব্যাখ্যা: যখন কোনো নেটওয়ার্কে ক্লায়েন্ট-সার্ভার এবং পিয়ার-টু-পিয়ার উভয় ধরণের আর্কিটেকচার বা গঠনতন্ত্র একসাথে ব্যবহৃত হয়, তাকে হাইব্রিড নেটওয়ার্ক বলে।


১১। নিচের কোনটি নেটওয়ার্কের মূল উদ্দেশ্য নয়?

ক) হার্ডওয়্যার রিসোর্স শেয়ার করা
খ) সফটওয়্যার রিসোর্স শেয়ার করা
গ) তথ্য সংরক্ষণ করা
ঘ) ভাইরাসের বিস্তার ঘটানো

সঠিক উত্তর: ঘ) ভাইরাসের বিস্তার ঘটানো

ব্যাখ্যা: নেটওয়ার্কের উদ্দেশ্য হলো রিসোর্স শেয়ারিং, তথ্য আদান-প্রদান, এবং যোগাযোগ সহজ করা। ভাইরাসের বিস্তার কোনো উদ্দেশ্য নয় বরং এটি একটি নিরাপত্তা ঝুঁকি।


১২। LAN-এর পূর্ণরূপ কী?

ক) Live Area Network
খ) Local Area Network
গ) Large Area Network
ঘ) Long Area Network

সঠিক উত্তর: খ) Local Area Network

ব্যাখ্যা: LAN-এর পূর্ণরূপ হলো Local Area Network।


১৩। ব্যক্তিগত ল্যাপটপ থেকে প্রিন্টারে তারের মাধ্যমে সংযোগ কোন ধরণের নেটওয়ার্ক?

ক) PAN
খ) LAN
গ) MAN
ঘ) WAN

সঠিক উত্তর: ক) PAN

ব্যাখ্যা: যদিও তার ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু একজন ব্যক্তির নিজস্ব ব্যবহারের জন্য পিসি ও পেরিফেরাল ডিভাইসের (প্রিন্টার, মাউস) সংযোগ PAN বা Personal Area Network এর অন্তর্গত। (USB ক্যাবল দিয়ে যুক্ত থাকলে)। তবে যদি এটি অফিসের নেটওয়ার্ক প্রিন্টার হয় তবে তা LAN হতে পারে। এখানে ব্যক্তিগত ল্যাপটপ ও প্রিন্টার বলায় এটি PAN বা ক্ষুদ্র পরিসরের ব্যক্তিগত সংযোগ।


১৪। রিসোর্স শেয়ারিং-এর সুবিধা কোনটি?

ক) খরচ বৃদ্ধি পায়
খ) কাজের গতি কমে যায়
গ) এক যন্ত্র অনেকে ব্যবহার করতে পারে
ঘ) নিরাপত্তা কমে যায়

সঠিক উত্তর: গ) এক যন্ত্র অনেকে ব্যবহার করতে পারে

ব্যাখ্যা: রিসোর্স শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে একটি দামি যন্ত্র (যেমন প্রিন্টার, স্ক্যানার) নেটওয়ার্কের সকল ব্যবহারকারী শেয়ার করতে পারে, ফলে আলাদা আলাদা যন্ত্র কেনার প্রয়োজন হয় না এবং খরচ কমে।


১৫। সার্ভার কম্পিউটার মূলত কোথায় ব্যবহৃত হয়?

ক) পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্কে
খ) ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্কে
গ) শুধুমাত্র ল্যানে
ঘ) স্ট্যান্ড-এলন কম্পিউটারে

সঠিক উত্তর: খ) ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্কে

ব্যাখ্যা: ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্ক মডেলেই মূলত ডেডিকেটেড সার্ভার বা কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকারী কম্পিউটারের ধারণা রয়েছে।


১৬। নিচের কোনটি পাবলিক নেটওয়ার্কের উদাহরণ?

ক) ব্যাংকের নিজস্ব নেটওয়ার্ক
খ) টেলিফোন নেটওয়ার্ক
গ) পুলিশ বাহিনীর নেটওয়ার্ক
ঘ) কর্পোরেট অফিসের নেটওয়ার্ক

সঠিক উত্তর: খ) টেলিফোন নেটওয়ার্ক

ব্যাখ্যা: টেলিফোন নেটওয়ার্ক সাধারণ জনগণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত এবং নির্দিষ্ট ফি প্রদান করে যে কেউ এটি ব্যবহার করতে পারে, তাই এটি পাবলিক নেটওয়ার্ক। বাকিগুলো প্রাইভেট নেটওয়ার্ক।


১৭। নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আমরা কী শেয়ার করতে পারি?
i. ফাইল ও ফোল্ডার
ii. প্রিন্টার ও স্ক্যানার
iii. প্রসেসর ও র‍্যাম

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ঘ) i, ii ও iii

ব্যাখ্যা: আধুনিক নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থায় (যেমন ক্লাউড কম্পিউটিং বা গ্রিড কম্পিউটিং) স্টোরেজ ও পেরিফেরাল ডিভাইসের পাশাপাশি প্রসেসিং পাওয়ারও (CPU, RAM) শেয়ার করা সম্ভব।


১৮। WAN বা ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্কের বৈশিষ্ট্য হলো—
i. এটি পুরো দেশ বা বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত
ii. ডাটা ট্রান্সফার রেট সাধারণত ল্যানের চেয়ে কম
iii. এটি সাধারণত পাবলিক টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম ব্যবহার করে

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ঘ) i, ii ও iii

ব্যাখ্যা: WAN বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত থাকে, পাবলিক নেটওয়ার্ক (টেলিফোন, স্যাটেলাইট) ব্যবহার করে এবং দূরত্বের কারণে এর গতি ল্যানের চেয়ে কম হয়।


১৯। পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্কের অসুবিধা হলো—
i. কেন্দ্রীয় কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না
ii. নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল
iii. ডাটা ব্যাকআপ রাখা কঠিন

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ঘ) i, ii ও iii

ব্যাখ্যা: পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্কে সেন্ট্রাল সার্ভার না থাকায় সিকিউরিটি ম্যানেজমেন্ট এবং সেন্ট্রাল ব্যাকআপ সিস্টেম থাকে না, ফলে প্রতিটি পিসির ডাটা আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে হয়।


২০। MAN বা মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে—
i. অপটিক্যাল ফাইবার
ii. রেডিও ওয়েভ
iii. কো-এক্সিয়াল ক্যাবল

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ঘ) i, ii ও iii

ব্যাখ্যা: একটি শহরের মধ্যে নেটওয়ার্ক স্থাপনে এই তিন ধরণের মাধ্যমই ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন—ক্যাবল টিভির জন্য কো-এক্সিয়াল, দ্রুত গতির জন্য ফাইবার, এবং ওয়াইম্যাক্স বা অন্য প্রযুক্তিতে রেডিও ওয়েভ।


২১। নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড (NIC) এর কাজ কী?

ক) কম্পিউটারকে নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করা
খ) এনালগ সিগন্যালকে ডিজিটাল করা
গ) ডাটা স্টোর করা
ঘ) ভাইরাসমুক্ত রাখা

সঠিক উত্তর: ক) কম্পিউটারকে নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করা

ব্যাখ্যা: NIC বা ল্যান কার্ড হলো সেই হার্ডওয়্যার যা কম্পিউটারকে নেটওয়ার্ক মিডিয়ার (তার বা বাতাস) সাথে ভৌতভাবে সংযুক্ত করে এবং ডাটা আদান-প্রদান নিয়ন্ত্রণ করে।


নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং ২২ ও ২৩ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
একটি বহুজাতিক কোম্পানির প্রধান অফিস ঢাকায়। তাদের অফিসের নিজস্ব ১০টি কম্পিউটার একটি সার্ভারের মাধ্যমে যুক্ত। কিন্তু ঢাকার বাইরের শাখা অফিসগুলোর সাথে যোগাযোগের জন্য তারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে।

২২। ঢাকার অফিসের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কটি কোন ধরণের?

ক) PAN
খ) LAN
গ) MAN
ঘ) WAN

সঠিক উত্তর: খ) LAN

ব্যাখ্যা: একটি নির্দিষ্ট অফিসের ভেতরে ১০টি কম্পিউটারের সংযোগ লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা LAN এর উদাহরণ।


২৩। ঢাকার বাইরের শাখাগুলোর সাথে যোগাযোগের নেটওয়ার্কটি কোন শ্রেণীর?

ক) LAN
খ) MAN
গ) WAN
ঘ) PAN

সঠিক উত্তর: গ) WAN

ব্যাখ্যা: ভিন্ন ভিন্ন শহরে বা দূরে অবস্থিত শাখাগুলোর সাথে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করা হলে তা ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক বা WAN এর আওতাভুক্ত হয়।


নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং ২৪ ও ২৫ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
রিফাত তার বাসায় থাকা দুটি ল্যাপটপ এবং একটি স্মার্টফোনকে কোনো তার ছাড়াই একে অপরের সাথে যুক্ত করে ফাইল আদান-প্রদান করছে। কিন্তু তার বন্ধু সুমনের অফিসে ১০০টি কম্পিউটার একটি কেন্দ্রীয় কম্পিউটার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

২৪। রিফাতের নেটওয়ার্কটি কী ধরণের?

ক) WLAN
খ) WAN
গ) MAN
ঘ) Client-Server

সঠিক উত্তর: ক) WLAN

ব্যাখ্যা: তারহীন বা Wireless মাধ্যমে লোকাল বা ব্যক্তিগত পর্যায়ে ডিভাইস যুক্ত হলে তাকে WLAN (Wireless LAN) বা WPAN বলা যেতে পারে। অপশনগুলোর মধ্যে WLAN সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত কারণ এটি তারহীন লোকাল সংযোগ। (যদি PAN অপশন থাকত তবে সেটিও সঠিক হতো, তবে WLAN বা WPAN এখানে প্রযুক্তির ভিত্তিতে সঠিক)।


২৫। সুমনের অফিসের নেটওয়ার্ক সংগঠনটি হলো—
i. ল্যান (LAN)
ii. ক্লায়েন্ট-সার্ভার (Client-Server)
iii. পিয়ার-টু-পিয়ার (Peer-to-Peer)

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ক) i ও ii

ব্যাখ্যা: ১০০টি কম্পিউটার একটি অফিস বিল্ডিংয়ে থাকা মানে এটি LAN। আবার কেন্দ্রীয় কম্পিউটার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়া মানে এটি Client-Server আর্কিটেকচার। সুতরাং i ও ii সঠিক।