নেটওয়ার্ক ডিভাইস: হাব, সুইচ, রাউটার ও অন্যান্য

মডেম, হাব, সুইচ, রাউটার, গেটওয়ে এবং অন্যান্য নেটওয়ার্ক ডিভাইসের কাজ ও পার্থক্য। এইচএসসি আইসিটি অধ্যায় ২।

শেখা শুরু করুন

নেটওয়ার্ক ডিভাইস: হাব, সুইচ, রাউটার ও অন্যান্য

  1. নেটওয়ার্ক ডিভাইস পরিচিতি
  2. নেটওয়ার্কের ট্রাফিক পুলিশ কে?
  3. মডেম (Modem): সংযোগের সেতু
  4. এনআইসি (NIC): কম্পিউটারের আইডি কার্ড
  5. হাব (Hub): বোকা ডিভাইস?
  6. সুইচ (Switch): বুদ্ধিমান ডিভাইস
  7. পার্থক্য: হাব বনাম সুইচ
  8. রাউটার (Router): পথের দিশারী
  9. গেটওয়ে (Gateway): প্রোটোকল কনভার্টার
  10. রিপিটার ও ব্রিজ
  11. চলো যাচাই করি: কোন ডিভাইস লাগবে?
  12. আজকের সারাংশ

নেটওয়ার্ক ডিভাইস পরিচিতি

এই লেকচার শেষে আমরা-

১। বিভিন্ন নেটওয়ার্ক ডিভাইসের (Modem, Hub, Switch, Router, Gateway, Repeater, NIC) কাজ বর্ণনা করতে পারব।
২। হাব ও সুইচের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে পারব।
৩। রাউটার ও গেটওয়ের কার্যপদ্ধতি বিশ্লেষণ করতে পারব।
৪। নেটওয়ার্ক স্থাপনে সঠিক ডিভাইস নির্বাচন করতে পারব।

স্বাগতম সবাইকে! <break time='0.5s' /> আজকে আমরা আইসিটি বা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি টপিক নিয়ে আলোচনা করব, আর সেটি হলো 'নেটওয়ার্ক ডিভাইস'। <break time='1.0s' /> আমরা ইন্টারনেট ব্যবহার করি, কিন্তু এর পেছনে কোন যন্ত্রগুলো কাজ করে তা জানা জরুরি। এই লেকচার শেষে আমরা- ১। বিভিন্ন নেটওয়ার্ক ডিভাইসের কাজ বর্ণনা করতে পারব, ২। হাব ও সুইচের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে পারব, ৩। রাউটার ও গেটওয়ের কার্যপদ্ধতি বিশ্লেষণ করতে পারব, এবং ৪। নেটওয়ার্ক স্থাপনে সঠিক ডিভাইস নির্বাচন করতে পারব।

নেটওয়ার্কের ট্রাফিক পুলিশ কে?

তুলনামূলক চিত্র:
* ট্রাফিক পুলিশ: রাস্তার গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করে।
* নেটওয়ার্ক ডিভাইস: ইন্টারনেটের ডাটা বা তথ্য নিয়ন্ত্রণ করে।

প্রশ্ন:
তোমার পাঠানো মেসেজটি ভুল কম্পিউটারে না গিয়ে সঠিক বন্ধুর কাছেই পৌঁছায় কীভাবে?

চলো শুরুতেই একটা দৃশ্য কল্পনা করি। <break time='0.5s' /> একটি ব্যস্ত চৌরাস্তায় যদি ট্রাফিক পুলিশ বা সিগন্যাল না থাকে, তবে কী হবে? গাড়িগুলো এলোমেলো চলবে, এক্সিডেন্ট হবে, তাই না? <break time='1.0s' /> ঠিক তেমনি, ইন্টারনেটের জগতেও কোটি কোটি ডাটা বা তথ্যের প্যাকেট প্রতি মুহূর্তে যাতায়াত করছে। রাস্তায় যেমন ট্রাফিক পুলিশ গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করে, ইন্টারনেটের রাস্তায় ডাটার প্যাকেটগুলো কে নিয়ন্ত্রণ করে? <break time='0.5s' /> ভুল রাস্তায় না গিয়ে ঠিক কম্পিউটারেই বা ডাটা পৌঁছায় কীভাবে? এই কাজটিই করে আমাদের আজকের আলোচ্য নেটওয়ার্ক ডিভাইসগুলো।

মডেম (Modem): সংযোগের সেতু

সংজ্ঞা: যে ডিভাইস কম্পিউটার এবং নেটওয়ার্ক মাধ্যমের (যেমন টেলিফোন লাইন) মধ্যে সিগন্যাল রূপান্তর করে।

পূর্ণরূপ: Modulator + Demodulator

কাজ:
১. Modulation: ডিজিটাল সিগন্যাল $\rightarrow$ এনালগ সিগন্যাল (প্রেরক প্রান্তে)।
২. Demodulation: এনালগ সিগন্যাল $\rightarrow$ ডিজিটাল সিগন্যাল (প্রাপক প্রান্তে)।

সবার আগে আমরা জানব মডেম বা Modem সম্পর্কে। ইন্টারনেট সংযোগের ক্ষেত্রে এটি খুব পরিচিত নাম। 'Modem' শব্দটি এসেছে দুটি শব্দের সমন্বয় থেকে- Modulator এবং Demodulator। <break time='1.0s' /> আমরা জানি কম্পিউটার কাজ করে ডিজিটাল সিগন্যালে (0 এবং 1), কিন্তু টেলিফোন লাইন কাজ করে এনালগ সিগন্যালে। মডেমের কাজ হলো এই দুইয়ের মধ্যে সেতু বন্ধন করা। <break time='0.5s' /> যখন তুমি ডাটা পাঠাও, মডেম ডিজিটালকে এনালগ করে, একে বলে মডুলেশন। আর যখন তুমি ডাটা রিসিভ করো, তখন সে এনালগ সিগন্যালকে আবার ডিজিটালে রূপান্তর করে, একে বলে ডিমডুলেশন।

এনআইসি (NIC): কম্পিউটারের আইডি কার্ড

পূর্ণরূপ: Network Interface Card (একে ল্যান কার্ডও বলা হয়)।

কাজ:
* কম্পিউটারকে নেটওয়ার্কের সাথে ভৌতভাবে (Physically) যুক্ত করা।
* ডাটা আদান-প্রদান নিয়ন্ত্রণ করা।

MAC Address:
* প্রতিটি NIC-এর একটি অনন্য (Unique) ৪৮ বিটের নম্বর থাকে, যাকে MAC Address বলে।
* এটি ডিভাইসের স্থায়ী ঠিকানা।

এখন প্রশ্ন হলো, মডেম তো সিগন্যাল আনল, কিন্তু তোমার কম্পিউটারের ভেতরে সেই সংযোগটা ঢোকে কীভাবে? এর জন্য লাগে এনআইসি বা Network Interface Card। <break time='0.5s' /> সহজ কথায়, এটি তোমার কম্পিউটারের সেই পোর্ট বা ছিদ্র যেখানে তুমি ইন্টারনেটের তারটি ঢোকাও। বর্তমানে এটি মাদারবোর্ডের সাথেই বিল্ট-ইন থাকে। <break time='1.0s' /> এনআইসির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এর 'ম্যাক এড্রেস' (MAC Address)। যেমন আমাদের প্রত্যেকের একটি ইউনিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা এনআইডি নম্বর থাকে, তেমনি পৃথিবীর প্রতিটি এনআইসি কার্ডের একটি ইউনিক ৪৮ বিটের নম্বর থাকে। একে মিডিয়া এক্সেস কন্ট্রোল বা ম্যাক এড্রেস বলে।

হাব (Hub): বোকা ডিভাইস?

কাজ: নেটওয়ার্কের একাধিক ডিভাইসকে একটি কেন্দ্রীয় পয়েন্টে যুক্ত করা।

বৈশিষ্ট্য (ব্রডকাস্টিং):
* প্রেরক কম্পিউটার থেকে প্রাপ্ত ডাটা হাব তার সাথে যুক্ত সকল পোর্টে পাঠিয়ে দেয়।
* ডাটা ফিল্টার করার ক্ষমতা নেই।

অসুবিধা:
* নেটওয়ার্ক ট্রাফিক বৃদ্ধি পায় (Data Collision)।
* নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকে (সবাই ডাটা দেখতে পায়)।

এবার আসি 'হাব' (Hub) এর কথায়। ধরো, তোমার ল্যাবে ৫টি কম্পিউটার আছে এবং তুমি চাও এদের একসাথে যুক্ত করতে। তখন তুমি হাব ব্যবহার করতে পারো। <break time='0.5s' /> কিন্তু হাবকে নেটওয়ার্কিংয়ের ভাষায় একটু 'বোকা' ডিভাইস বলা হয়। কেন জানো? <break time='0.5s' /> কারণ, হাবের কোনো বুদ্ধি নেই যে কে ডাটা পাঠাল আর কাকে পাঠাতে হবে। ধরো কম্পিউটার 'ক' কম্পিউটার 'খ'-কে একটি মেসেজ পাঠাল। হাব সেই মেসেজটি পেয়ে বাছবিচার না করে তার সাথে যুক্ত 'গ', 'ঘ', 'ঙ'—সবাইকে পাঠিয়ে দেবে! একে বলে ব্রডকাস্টিং। এর ফলে নেটওয়ার্কে অপ্রয়োজনীয় ট্রাফিক বা জ্যাম তৈরি হয় এবং নিরাপত্তাও কমে যায়।

সুইচ (Switch): বুদ্ধিমান ডিভাইস

কাজ: হাবের মতোই ডিভাইস যুক্ত করে, কিন্তু এটি প্রাপকের ঠিকানা চিনতে পারে।

বৈশিষ্ট্য (ইউনিকাস্টিং):
* ম্যাক এড্রেস (MAC Address) ব্যবহার করে নির্দিষ্ট প্রাপককে চিহ্নিত করে।
* শুধুমাত্র উদ্দিষ্ট পোর্টে ডাটা পাঠায় (Unicast)।

সুবিধা:
* নেটওয়ার্ক দ্রুত থাকে।
* ডাটা কলিশন হয় না।
* নিরাপত্তা বজায় থাকে।

হাবের এই সমস্যা সমাধানের জন্যই এসেছে 'সুইচ' (Switch)। দেখতে হাবের মতো হলেও, সুইচ অনেক 'বুদ্ধিমান'। <break time='0.5s' /> সুইচ তার সাথে যুক্ত প্রতিটি ডিভাইসের ম্যাক এড্রেস মনে রাখতে পারে। তাই যখন কম্পিউটার 'ক' কম্পিউটার 'খ'-কে ডাটা পাঠায়, সুইচ চেক করে দেখে যে 'খ' কোন পোর্টে আছে। সে তখন ডাটাটি শুধুমাত্র 'খ'-এর কাছেই পাঠায়, বাকিদের বিরক্ত করে না। <break time='0.5s' /> একে বলা হয় ইউনিকাস্টিং। ফলে নেটওয়ার্ক অনেক ফাস্ট হয় এবং ডাটাও নিরাপদ থাকে। বর্তমানে নেটওয়ার্ক তৈরিতে হাবের বদলে সুইচই বেশি ব্যবহার করা হয়।

পার্থক্য: হাব বনাম সুইচ

বৈশিষ্ট্য হাব (Hub) সুইচ (Switch)
বুদ্ধিমত্তা বোকা (Intelligent নয়) বুদ্ধিমান (Intelligent)
ডাটা প্রেরণ ব্রডকাস্ট (সবার কাছে) ইউনিকাস্ট (নির্দিষ্ট প্রাপকের কাছে)
ঠিকানা ব্যবহার ঠিকানা পড়তে পারে না ম্যাক (MAC) এড্রেস ব্যবহার করে
ট্রাফিক ট্রাফিক জ্যাম বেশি হয় ট্রাফিক কম হয়, দ্রুতগতি
নিরাপত্তা কম (সবাই ডাটা পায়) বেশি (শুধু প্রাপক ডাটা পায়)

চলো এক নজরে হাব এবং সুইচের পার্থক্যটা দেখে নিই, কারণ এটা বোঝা খুব জরুরি। <break time='1.0s' /> ১। হাব ডাটা সবার কাছে পাঠিয়ে দেয় অর্থাৎ ব্রডকাস্ট করে, কিন্তু সুইচ শুধু নির্দিষ্ট প্রাপকের কাছে পাঠায় বা ইউনিকাস্ট করে। <break time='0.5s' /> ২। হাব ডাটার ভেতরের ঠিকানা পড়তে পারে না, কিন্তু সুইচ ম্যাক এড্রেস পড়ে সঠিক গন্তব্য চিনতে পারে। <break time='0.5s' /> ৩। হাবে ট্রাফিক জ্যাম বেশি হয় ও নিরাপত্তা কম, অন্যদিকে সুইচ দ্রুতগতির এবং নিরাপদ।

রাউটার (Router): পথের দিশারী

কাজ: এক নেটওয়ার্কের সাথে অন্য নেটওয়ার্ককে (যেমন: লোকাল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট) যুক্ত করে।

বৈশিষ্ট্য:
* এটি ডাটা চলাচলের 'সেরা পথ' (Best Path) বা রুট ঠিক করে দেয়।
* আইপি এড্রেস (IP Address) ব্যবহার করে কাজ করে।
* ভিন্ন ভিন্ন নেটওয়ার্ককে সংযুক্ত করতে পারে।

এবার আসি 'রাউটার'-এর কথায়। নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে, যে 'রুট' (Route) বা পথ দেখায়, সেই রাউটার। <break time='0.5s' /> সুইচ একই নেটওয়ার্কের কম্পিউটারগুলোকে যুক্ত করে, কিন্তু রাউটার ভিন্ন ভিন্ন নেটওয়ার্ককে যুক্ত করে। যেমন—তোমার বাসার ওয়াইফাই রাউটারটি তোমার ঘরের লোকাল নেটওয়ার্ককে বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত করেছে। <break time='1.0s' /> ডাটা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার সময় অনেকগুলো পথ থাকে। রাউটার ঠিক করে দেয় কোন পথে গেলে ডাটাটি সবচেয়ে দ্রুত এবং নিরাপদে পৌঁছাবে। একে বলা হয় 'রাউটিং'। রাউটার চেনার জন্য আইপি এড্রেস (IP Address) ব্যবহার করে।

গেটওয়ে (Gateway): প্রোটোকল কনভার্টার

কাজ: সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রোটোকল বা আর্কিটেকচার বিশিষ্ট নেটওয়ার্ককে যুক্ত করে।

কেন প্রয়োজন?
* যখন দুটি নেটওয়ার্কের ভাষা (Protocol) আলাদা হয়, তখন তাদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য গেটওয়ে লাগে।

উদাহরণ:
* উইন্ডোজ নেটওয়ার্কের সাথে লিনাক্স নেটওয়ার্কের সংযোগ।
* মোবাইল নেটওয়ার্কের সাথে ইন্টারনেটের সংযোগ।

রাউটার আর গেটওয়ের মধ্যে অনেকে গুলিয়ে ফেলে। সহজ করে বলি—রাউটার একই ধরণের নিয়ম মানা ভিন্ন নেটওয়ার্ককে যুক্ত করে। কিন্তু যদি এমন হয় যে, দুটি নেটওয়ার্কের নিয়ম বা প্রোটোকল সম্পূর্ণ আলাদা? <break time='0.5s' /> তখন লাগে 'গেটওয়ে'। একে আমরা 'অনুবাদক' বা 'Translator' বলতে পারি। ধরো, একটি নেটওয়ার্ক কথা বলে উইন্ডোজের ভাষায়, আরেকটি লিনাক্সের ভাষায়। এদের মধ্যে যোগাযোগ করিয়ে দেয় গেটওয়ে। অর্থাৎ, ভিন্ন আর্কিটেকচারের নেটওয়ার্ক জুড়তে গেটওয়ে অপরিহার্য।

রিপিটার ও ব্রিজ

১. রিপিটার (Repeater):
* কাজ: দুর্বল সিগন্যালকে শক্তিশালী (Amplify) করে দূরে পাঠানো।
* ব্যবহার: তারের দৈর্ঘ্য বেশি হলে ডাটা লস কমানোর জন্য।

২. ব্রিজ (Bridge):
* কাজ: একাধিক ছোট নেটওয়ার্ক বা ল্যান (LAN) সেগমেন্টকে যুক্ত করে একটি বড় নেটওয়ার্ক তৈরি করা।
* বৈশিষ্ট্য: এটি ম্যাক এড্রেস ফিল্টার করতে পারে।

আমাদের লিস্টের শেষ দুটি ডিভাইস হলো রিপিটার এবং ব্রিজ। নামের সাথেই এদের কাজের মিল আছে। <break time='0.5s' /> ১। রিপিটার: ডাটা যখন তারের মধ্য দিয়ে অনেক দূর যায়, তখন সিগন্যাল দুর্বল হয়ে পড়ে। রিপিটার সেই দুর্বল সিগন্যাল রিসিভ করে, তাকে আবার শক্তিশালী বা এমপ্লিফাই করে সামনের দিকে পাঠিয়ে দেয়। <break time='1.0s' /> ২। ব্রিজ: ধরো তোমার কলেজে দুটি ছোট ল্যাব আছে। এই দুটি ল্যাবের নেটওয়ার্ককে জোড়া লাগিয়ে একটি বড় নেটওয়ার্ক বানাতে আমরা 'ব্রিজ' ব্যবহার করি। এটি অনেকটা কালভার্টের মতো দুই পারকে যুক্ত করে।

চলো যাচাই করি: কোন ডিভাইস লাগবে?

নিচের সিনারিওগুলো পড়ো এবং সঠিক ডিভাইসটি চিহ্নিত করো:

  1. সিনারিও ১: "অফিসে অনেক কম্পিউটার, আমি চাই আমার পাঠানো গোপন ফাইলটি শুধু বস-ই দেখুক, অন্য কেউ না।"
    $\rightarrow$ উত্তর: ?

  2. সিনারিও ২: "আমার ইন্টারনেটের তারটি অনেক লম্বা হওয়ায় সিগন্যাল মাঝপথে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।"
    $\rightarrow$ উত্তর: ?

  3. সিনারিও ৩: "আমি আমার বাসার ওয়াইফাই নেটওয়ার্ককে ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত করতে চাই।"
    $\rightarrow$ উত্তর: ?

এবার তোমাদের পালা! এতক্ষণ যা শিখলে তা দিয়ে এই ধাঁধাগুলোর উত্তর দাও তো। ভিডিওটি এখানে পজ করো এবং চিন্তা করো। <break time='2.0s' /> ১ নম্বর সিনারিও: গোপন ফাইল শুধু বসের কাছে পাঠাতে হবে—অর্থাৎ ইউনিকাস্ট করতে হবে। তার মানে এখানে লাগবে 'সুইচ' (Switch)। <break time='1.0s' /> ২ নম্বর সিনারিও: লম্বা তারে সিগন্যাল দুর্বল হলে তাকে শক্তি দিতে লাগবে 'রিপিটার' (Repeater)। <break time='1.0s' /> ৩ নম্বর সিনারিও: বাসার নেটওয়ার্ককে ইন্টারনেটের সাথে বা বাইরের দুনিয়ার সাথে যুক্ত করতে অবশ্যই লাগবে 'রাউটার' (Router)। <break time='0.5s' /> কি, সবগুলো পেরেছ তো?

আজকের সারাংশ

এক নজরে আজকের পাঠ:

  • মডেম: সিগন্যাল রূপান্তর করে (এনালগ $\leftrightarrow$ ডিজিটাল)।
  • হাব: ডাটা ব্রডকাস্ট করে (বোকা ডিভাইস)।
  • সুইচ: নির্দিষ্ট ঠিকানায় ডাটা পাঠায় (বুদ্ধিমান ডিভাইস)।
  • রাউটার: সেরা পথ (Route) নির্বাচন করে ভিন্ন নেটওয়ার্ক যুক্ত করে।
  • গেটওয়ে: ভিন্ন প্রোটোকলের নেটওয়ার্ক যুক্ত করে।
  • রিপিটার: সিগন্যাল শক্তিশালী করে।

আজকে আমরা নেটওয়ার্কিংয়ের অনেকগুলো হার্ডওয়্যার সম্পর্কে জানলাম। সংক্ষেপে মনে রাখার জন্য বলি— <break time='0.5s' /> মডেম সিগন্যাল বদলায়, হাব সবাইকে ডাটা দিয়ে ঝামেলা বাড়ায়, সুইচ বুদ্ধি করে শুধু প্রাপককে ডাটা দেয়, রাউটার পথের দিশারী হয়ে ইন্টারনেট দেখায়, আর গেটওয়ে ভিন্ন ভাষার নেটওয়ার্ককে এক করে। <break time='1.0s' /> এই কনসেপ্টগুলো ভালো করে বুঝলে তোমরা নেটওয়ার্কিং চ্যাপ্টারের বাকি অংশগুলো খুব সহজেই ধরতে পারবে। আজকের লেকচার এ পর্যন্তই, দেখা হবে পরের ক্লাসে!

নেটওয়ার্ক ডিভাইস: হাব, সুইচ, রাউটার ও অন্যান্য

পড়তে প্রায় 10 মিনিট

নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থায় হার্ডওয়্যারের গুরুত্ব অপরিসীম। একটি নেটওয়ার্ক শুধুমাত্র কম্পিউটার এবং তার (Cable) দিয়ে তৈরি হয় না; ডেটা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঠিকভাবে এবং নিরাপদে পৌঁছানোর জন্য বিশেষ কিছু যন্ত্র বা ডিভাইসের প্রয়োজন হয়। আমরা যদি নেটওয়ার্কের তারগুলোকে রাস্তার সাথে তুলনা করি, তবে এই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী ডেটা বা তথ্য হলো যানবাহন। আর এই যানবাহনকে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাতে এবং জ্যাম বা সংঘর্ষ এড়াতে রাস্তায় যেমন ট্রাফিক পুলিশ বা সিগন্যাল লাইটের প্রয়োজন হয়, ঠিক তেমনি নেটওয়ার্কেও হাব, সুইচ বা রাউটারের মতো ডিভাইসগুলো ট্রাফিক কন্ট্রোলারের ভূমিকা পালন করে।

নেটওয়ার্ক ডিভাইসগুলো মূলত প্রেরক এবং প্রাপকের মধ্যে সংযোগ স্থাপন, ডেটা প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি ডিভাইসের নিজস্ব কার্যক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কিছু ডিভাইস কেবল ডেটা ছড়িয়ে দেয়, আবার কিছু ডিভাইস বুদ্ধিমত্তার সাথে নির্দিষ্ট গন্তব্যে ডেটা পৌঁছে দেয়। এই অধ্যায়ে আমরা বহুল ব্যবহৃত নেটওয়ার্ক ডিভাইসগুলোর কার্যপ্রণালী, প্রকারভেদ এবং এদের পারস্পরিক পার্থক্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানব যা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক হবে।

মডেম (Modem): এনালগ ও ডিজিটালের সেতুবন্ধন

মডেম (Modem) হলো বর্তমান ইন্টারনেট জগতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি যন্ত্র। কম্পিউটার সাধারণত ডিজিটাল সিগন্যাল (0 এবং 1) নিয়ে কাজ করে, কিন্তু টেলিফোন লাইন বা ক্যাবল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ডেটা আদান-প্রদানের সময় এনালগ সিগন্যাল ব্যবহৃত হয়। এই দুই ভিন্ন ধরনের সিগন্যালের মধ্যে সমন্বয় সাধন করাই মডেমের প্রধান কাজ।

সংজ্ঞা (Definition): মডেম (Modem) হলো এমন একটি নেটওয়ার্ক ডিভাইস যা মডুলেশন (Modulation)ডিমডুলেশন (Demodulation) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ডেটা আদান-প্রদান করে। এটি প্রেরক প্রান্তে ডিজিটাল সিগন্যালকে এনালগ সিগন্যালে এবং প্রাপক প্রান্তে এনালগ সিগন্যালকে ডিজিটাল সিগন্যালে রূপান্তর করে।

মডেম শব্দটি এসেছে দুটি ইংরেজি শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ থেকে:
1. Modulator (মডুলেটর): যা ডিজিটাল সিগন্যালকে এনালগ সিগন্যালে রূপান্তর করে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় মডুলেশন
2. Demodulator (ডিমডুলেটর): যা এনালগ সিগন্যালকে ডিজিটাল সিগন্যালে রূপান্তর করে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ডিমডুলেশন

মনে রাখতে হবে:
- মডেম সবসময় সোর্স (উৎস) এবং ডেস্টিনেশন (গন্তব্য)—উভয় প্রান্তেই থাকে।
- প্রেরক কম্পিউটারের মডেম ডিজিটাল ডেটাকে এনালগ করে টেলিফোন লাইনে পাঠায়।
- প্রাপক কম্পিউটারের মডেম সেই এনালগ ডেটাকে গ্রহণ করে পুনরায় ডিজিটালে রূপান্তর করে কম্পিউটারকে বুঝিয়ে দেয়।

অবস্থান ও ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে মডেমকে ইন্টারনাল (Internal) এবং এক্সটারনাল (External) এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়। বর্তমানে অবশ্য রাউটারের মধ্যেই মডেম বিল্ট-ইন অবস্থায় থাকে, যাকে আমরা ডিএসএল (DSL) মডেম বলি।

নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড (NIC) ও ম্যাক এড্রেস

কোনো কম্পিউটার বা ল্যাপটপকে নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করার জন্য যে হার্ডওয়্যারটি অপরিহার্য, তা হলো নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড বা NIC (Network Interface Card)। একে ল্যান কার্ড (LAN Card) বা নেটওয়ার্ক এডাপ্টারও বলা হয়। বর্তমানে মাদারবোর্ডের সাথেই বিল্ট-ইন অবস্থায় ল্যান পোর্ট থাকে।

NIC-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর অদ্বিতীয় পরিচিতি নম্বর, যাকে ম্যাক এড্রেস (MAC Address) বলা হয়।

ম্যাক এড্রেস (MAC Address): মিডিয়া এক্সেস কন্ট্রোল বা ম্যাক এড্রেস হলো ৪৮ বিটের (৬ বাইট) একটি অদ্বিতীয় কোড যা প্রতিটি নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ডের (NIC) রম (ROM)-এ প্রস্তুতকারক কোম্পানি কর্তৃক স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকে। এটি পরিবর্তন করা যায় না বলে একে ফিজিক্যাল এড্রেস (Physical Address) বলা হয়।

ম্যাক এড্রেস সাধারণত হেক্সাডেসিমেল সংখ্যা পদ্ধতিতে লেখা হয়। এর গঠনটি হলো: MM:MM:MM:SS:SS:SS
- প্রথম ২৪ বিট (৩ বাইট) হলো OUI (Organizationally Unique Identifier) বা ভেন্ডর আইডি, যা নির্দেশ করে কোন কোম্পানি কার্ডটি তৈরি করেছে।
- শেষ ২৪ বিট (৩ বাইট) হলো কার্ডটির সিরিয়াল নম্বর বা ডিভাইস আইডি।

পরীক্ষার টিপস (Exam Tip): ম্যাক এড্রেস এবং আইপি এড্রেসের পার্থক্য প্রায়ই পরীক্ষায় আসে। মনে রাখবে:
- ম্যাক এড্রেস = হার্ডওয়্যার বা ফিজিক্যাল এড্রেস (স্থায়ী)।
- আইপি এড্রেস = সফটওয়্যার বা লজিক্যাল এড্রেস (পরিবর্তনশীল)।

হাব (Hub): প্রকারভেদ ও সীমাবদ্ধতা

হাব হলো একটি নেটওয়ার্ক কানেক্টিভিটি ডিভাইস যা সাধারণত স্টার টপোলজিতে একাধিক কম্পিউটার বা ডিভাইসকে একত্রে যুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। এটি ওএসআই (OSI) মডেলের ফিজিক্যাল লেয়ারে কাজ করে।

হাবের কার্যপ্রণালী খুবই সরল কিন্তু অদক্ষ। যখন কোনো একটি কম্পিউটার হাবের মাধ্যমে ডেটা পাঠায়, হাব সেই ডেটা সিগন্যালটি তার সাথে সংযুক্ত বাকি সব পোর্টে পাঠিয়ে দেয়। একে বলা হয় ব্রডকাস্টিং (Broadcasting)। হাব ডেটা পড়ার বা বোঝার ক্ষমতা রাখে না, তাই এটি বুঝতে পারে না ডেটাটি কার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ কারণে হাবকে 'Non-intelligent' বা 'Dumb' ডিভাইস বলা হয়।

হাব ব্রডকাস্টিং মেকানিজম

উপরের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, একটি কম্পিউটার ডেটা পাঠাচ্ছে এবং হাব সেটি নেটওয়ার্কের অন্য সকল কম্পিউটারে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে অযাচিত ট্রাফিক তৈরি হয় এবং ডেটা কলিশন (Data Collision) বা সংঘর্ষের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

হাবের প্রকারভেদ (Types of Hub)

কার্যক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে হাবকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়:

  1. সক্রিয় হাব (Active Hub): এই হাবগুলোতে নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকে। এরা শুধু সিগন্যাল পাস করে না, বরং দুর্বল সিগন্যালকে শক্তিশালী (Amplify) করে পরবর্তী ডিভাইসে পাঠায়। তাই এরা একই সাথে রিপিটার (Repeater)-এর কাজও করে।
  2. নিষ্ক্রিয় হাব (Passive Hub): এই হাবগুলো শুধুমাত্র সিগন্যাল পাস করে। এরা সিগন্যালকে এমপ্লিফাই করতে পারে না এবং এদের নিজস্ব বিদ্যুৎ সংযোগের প্রয়োজন হয় না।
সক্রিয় (Active) বনাম নিষ্ক্রিয় (Passive) হাব: | বৈশিষ্ট্য | সক্রিয় হাব | নিষ্ক্রিয় হাব | |-----------|------------|---------------| | বিদ্যুৎ সংযোগ | প্রয়োজন হয় | প্রয়োজন হয় না | | সিগন্যাল প্রসেসিং | সিগন্যালকে শক্তিশালী করে (রিপিটার হিসেবে কাজ করে) | সিগন্যাল শক্তিশালী করতে পারে না | | দাম | তুলনামূলক বেশি | তুলনামূলক কম | | ব্যবহার | বড় নেটওয়ার্কে দূরত্ব বাড়ানোর জন্য | ছোট নেটওয়ার্কে সংযোগের জন্য |

সুইচ (Switch): বুদ্ধিমান সংযোগকারী

সুইচ হাবের মতোই দেখতে এবং একই ধরনের কাজ করে (ডিভাইস সংযুক্ত করা), কিন্তু এর কার্যপদ্ধতি অনেক উন্নত। সুইচকে বলা হয় ইন্টেলিজেন্ট ডিভাইস। এটি ওএসআই মডেলের ডেটা লিংক লেয়ারে কাজ করে।

সুইচের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি প্রেরক কম্পিউটার থেকে ডেটা গ্রহণ করে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট প্রাপক কম্পিউটারেই প্রেরণ করে। এই পদ্ধতিকে বলা হয় ইউনিকাস্টিং (Unicasting)

সুইচ ইউনিকাস্টিং মেকানিজম

উপরের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, সুইচ বুদ্ধিমত্তার সাথে ডেটা শুধুমাত্র কাঙ্ক্ষিত প্রাপকের কাছেই পাঠাচ্ছে। এটি করার জন্য সুইচ প্রতিটি সংযুক্ত ডিভাইসের ম্যাক এড্রেস (MAC Address) নিজের মেমোরিতে একটি টেবিল আকারে সংরক্ষণ করে রাখে। একে ম্যাক এড্রেস টেবিল বলা হয়। যখন কোনো ডেটা প্যাকেট আসে, সুইচ সেই ডেটার গন্তব্য ম্যাক এড্রেস দেখে ঠিক করে কোন পোর্টে ডেটাটি পাঠাতে হবে।

সংজ্ঞা (Definition): সুইচ (Switch) হলো একটি বুদ্ধিমান নেটওয়ার্ক ডিভাইস যা প্রতিটি পোর্টের ম্যাক এড্রেস সংরক্ষণ করে এবং প্রেরিত ডেটা বা সিগন্যালকে ব্রডকাস্ট না করে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট গন্তব্য পোর্টে প্রেরণ করে।

হাব বনাম সুইচ: তুলনামূলক বিশ্লেষণ

সৃজনশীল প্রশ্নের জন্য এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বৈশিষ্ট্য হাব (Hub) সুইচ (Switch)
বুদ্ধিমত্তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাহীন (Non-intelligent)। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (Intelligent)।
ডেটা প্রেরণ পদ্ধতি ব্রডকাস্ট (সবার কাছে পাঠায়)। ইউনিকাস্ট (নির্দিষ্ট প্রাপকের কাছে পাঠায়) বা মাল্টিকাস্ট।
অ্যাড্রেসিং ম্যাক এড্রেস চিনতে পারে না বা সংরক্ষণ করে না। ম্যাক এড্রেস টেবিল তৈরি ও সংরক্ষণ করে।
ডেটা কলিশন কলিশন বা সংঘর্ষের সম্ভাবনা খুব বেশি। কলিশন ডোমেইন আলাদা হওয়ায় সংঘর্ষ হয় না বললেই চলে।
ব্যান্ডউইথ ব্যান্ডউইথ সকল পোর্টের মধ্যে ভাগ হয়ে যায় (শেয়ারড ব্যান্ডউইথ)। প্রতিটি পোর্টে ডেডিকেটেড ব্যান্ডউইথ থাকে।
নিরাপত্তা ডেটা সবার কাছে যায় বলে নিরাপত্তা কম। ডেটা নির্দিষ্ট প্রাপক পায় বলে নিরাপত্তা বেশি।
OSI লেয়ার ফিজিক্যাল লেয়ারে কাজ করে। ডেটা লিংক লেয়ারে কাজ করে।

সৃজনশীল প্রশ্নের টিপস (CQ Tip): উদ্দীপকে যদি বলা হয় "নেটওয়ার্কের গতি কমে যাচ্ছে" বা "ডেটা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে" বা "ডিভাইসটি সবার কাছে ডেটা পাঠিয়ে দিচ্ছে"—তবে সেই ডিভাইসটি হবে হাব। আর যদি বলা হয় "নিরাপদ ডেটা ট্রান্সমিশন" বা "সুনির্দিষ্ট গন্তব্যে ডেটা প্রেরণ"—তবে উত্তর হবে সুইচ

রাউটার (Router): নেটওয়ার্কের ট্রাফিক কন্ট্রোলার

রাউটার (Router) শব্দটি এসেছে 'Route' বা 'পথ' থেকে। এর প্রধান কাজ হলো ডেটা প্যাকেটকে এক নেটওয়ার্ক থেকে অন্য নেটওয়ার্কে পৌঁছানোর জন্য সবচেয়ে সহজ ও সংক্ষিপ্ত পথ (Best Path) খুঁজে বের করা। রাউটার মূলত ভিন্ন ভিন্ন নেটওয়ার্ককে (যেমন: আপনার বাসার লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা LAN এবং বাইরের ইন্টারনেট বা WAN) সংযুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।

সংজ্ঞা (Definition): রাউটার হলো একটি বুদ্ধিমান ইন্টার-নেটওয়ার্কিং ডিভাইস যা লজিক্যাল এড্রেস বা আইপি এড্রেস (IP Address) ব্যবহার করে ডেটা প্যাকেটকে উৎস থেকে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ও নিরাপদ পথ বা রুট (Route) নির্দেশ করে।

রাউটারের প্রধান কাজ ও বৈশিষ্ট্য:
  1. ডেটা ফিল্টারিং ও ফরোয়ার্ডিং: রাউটার ডেটা প্যাকেট বিশ্লেষণ করে দেখে এবং তার গন্তব্য অনুযায়ী সঠিক পথে পাঠিয়ে দেয়।
  2. রাউটিং টেবিল: রাউটার তার মেমোরিতে একটি 'রাউটিং টেবিল' সংরক্ষণ করে, যেখানে নেটওয়ার্কের বিভিন্ন পথের তথ্য থাকে। এই টেবিল ব্যবহার করেই সে সিদ্ধান্ত নেয় কোন পথে ডেটা পাঠালে দ্রুত পৌঁছাবে।
  3. ভিন্ন নেটওয়ার্ক সংযোগ: সুইচ বা হাব একই নেটওয়ার্কের মধ্যে কাজ করে, কিন্তু রাউটার ভিন্ন ভিন্ন আইপি সিরিজের নেটওয়ার্ককে সংযুক্ত করতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: রাউটার ওএসআই (OSI) মডেলের নেটওয়ার্ক লেয়ারে কাজ করে। এটি হার্ডওয়্যার ম্যাক এড্রেসের পরিবর্তে লজিক্যাল আইপি এড্রেস ব্যবহার করে ডেটা আদান-প্রদান করে।

গেটওয়ে (Gateway) ও রিপিটার (Repeater)

নেটওয়ার্কিং জগতে আরও দুটি বিশেষায়িত ডিভাইসের নাম শোনা যায়—গেটওয়ে এবং রিপিটার।

গেটওয়ে (Gateway)

গেটওয়ে হলো এমন একটি ডিভাইস যা ভিন্ন ভিন্ন প্রোটোকল (Protocol) বা আর্কিটেকচার বিশিষ্ট নেটওয়ার্ককে সংযুক্ত করে। একে অনেক সময় 'প্রোটোকল কনভার্টার'ও বলা হয়।

উদাহরণস্বরূপ, একটি লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (LAN) সাধারণত এক ধরনের নিয়ম বা প্রোটোকল মেনে চলে, আবার ইন্টারনেট বা WAN ভিন্ন প্রোটোকল মেনে চলে। এই দুই ভিন্ন পরিবেশের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য গেটওয়ে ব্যবহৃত হয়।

পার্থক্য: রাউটার বনাম গেটওয়ে - **রাউটার:** একই প্রোটোকল বিশিষ্ট ভিন্ন নেটওয়ার্ক যুক্ত করে (যেমন: এক অফিস থেকে অন্য অফিসে ইন্টারনেট সংযোগ)। এটি শুধু পথ দেখায়। - **গেটওয়ে:** ভিন্ন প্রোটোকল বিশিষ্ট নেটওয়ার্ক যুক্ত করে (যেমন: মোবাইল নেটওয়ার্ক থেকে ইন্টারনেটে ডেটা পাঠানো)। এটি ডেটার ফরম্যাট বা প্রোটোকল অনুবাদ (Translation) করতে পারে।
রিপিটার (Repeater)

নেটওয়ার্কের তারের মধ্য দিয়ে ডেটা সিগন্যাল যখন দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে, তখন পথের বাধায় সিগন্যালটি আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে পড়ে। এই ঘটনাকে বলা হয় অ্যাটেনুয়েশন (Attenuation)

দুর্বল হয়ে যাওয়া সিগন্যালকে পুনরায় শক্তিশালী করে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য যে ডিভাইস ব্যবহার করা হয়, তাকে রিপিটার বলে। রিপিটার সিগন্যালকে রিসিভ করে, এমপ্লিফাই (Amplify) বা শক্তিশালী করে এবং তারপর সামনের দিকে পাঠিয়ে দেয়। উল্লেখ্য, অ্যাক্টিভ হাব-ও এক ধরনের রিপিটার হিসেবে কাজ করে।

সংক্ষিপ্ত সারাংশ (Quick Revision)

পরীক্ষার আগের রাতে দ্রুত রিভিশনের জন্য নিচের পয়েন্টগুলো মনে রাখুন:

সারাংশ:
- মডেম: এনালগ ও ডিজিটাল সিগন্যালের রূপান্তরক (মডুলেশন/ডিমডুলেশন)।
- এনআইসি (NIC): কম্পিউটারকে নেটওয়ার্কে যুক্ত করে, এতে ৪৮ বিটের ম্যাক এড্রেস থাকে।
- হাব (Hub): 'বোকা' ডিভাইস, ডেটা সবার কাছে ব্রডকাস্ট করে, কলিশন বেশি হয়।
- সুইচ (Switch): 'বুদ্ধিমান' ডিভাইস, ম্যাক এড্রেস চিনে নির্দিষ্ট প্রাপককে (ইউনিকাস্ট) ডেটা দেয়, কলিশন নেই।
- রাউটার (Router): আইপি এড্রেস ব্যবহার করে সেরা পথ (Route) দেখায়, ভিন্ন নেটওয়ার্ক যুক্ত করে।
- গেটওয়ে (Gateway): ভিন্ন প্রোটোকল বা নিয়ম মেনে চলা নেটওয়ার্কগুলোকে যুক্ত করে (অনুবাদক)।
- রিপিটার (Repeater): দুর্বল সিগন্যালকে শক্তিশালী করে নেটওয়ার্কের দূরত্ব বাড়ায়।

পরিভাষা (Glossary)

পরিভাষা (Term) সংজ্ঞা (Definition)
Node (নোড) নেটওয়ার্কে সংযুক্ত প্রতিটি ডিভাইসকে (কম্পিউটার, প্রিন্টার ইত্যাদি) নোড বলে।
Attenuation দূরত্ব বাড়ার সাথে সাথে তারের মধ্য দিয়ে যাওয়া সিগন্যাল দুর্বল হয়ে যাওয়া বা শক্তি কমে যাওয়া।
Packet (প্যাকেট) নেটওয়ার্কে ডেটা স্থানান্তরের সময় ডেটাকে যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্লকে ভাগ করা হয়।
Protocol নেটওয়ার্কে ডেটা আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহৃত কিছু নিয়মাবলী (যেমন: TCP/IP)।
Broadcast নেটওয়ার্কের একটি নোড থেকে ডেটা পাঠিয়ে নেটওয়ার্কের অন্য সকল নোডে পৌঁছে দেওয়া।
Unicast একটি নির্দিষ্ট উৎস থেকে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট গন্তব্যে ডেটা পাঠানো।

এই রিডিং নোটটি ভালো করে আয়ত্ত করলে হাব, সুইচ ও রাউটার সম্পর্কিত যেকোনো সৃজনশীল বা এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া তোমার জন্য সহজ হবে। বিশেষ করে হাব ও সুইচের পার্থক্য এবং রাউটারের কাজের ধরনটি খুব মনোযোগ দিয়ে পড়বে। শুভকামনা!

অনুশীলনের প্রশ্ন

সৃজনশীল প্রশ্ন

সৃজনশীল প্রশ্ন ১

উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

মি. করিম তার ছোট অফিসের ৫টি কম্পিউটারকে একটি কেন্দ্রীয় ডিভাইসের সাথে যুক্ত করে একটি স্টার টপোলজি নেটওয়ার্ক তৈরি করলেন। কিন্তু তিনি লক্ষ্য করলেন, যখনই কেউ ডেটা পাঠায়, তা নেটওয়ার্কের সবার কাছে চলে যাচ্ছে এবং নেটওয়ার্ক ধীর হয়ে যাচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে তিনি ডিভাইসটি পরিবর্তন করে এমন একটি ইন্টেলিজেন্ট ডিভাইস লাগালেন যা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট প্রাপকের কাছেই ডেটা পাঠায়।

স্টার টপোলজি চিত্র

ক) ম্যাক অ্যাড্রেস (MAC Address) কী?
খ) ডেটা ট্রান্সমিশনে ব্রডকাস্টিং বলতে কী বোঝায়?
গ) উদ্দীপকে উল্লেখিত মি. করিমের প্রথমে ব্যবহৃত ডিভাইসটির কার্যপ্রণালী ব্যাখ্যা কর।
ঘ) উদ্দীপকে মি. করিমের পরবর্তীতে লাগানো ডিভাইসটি কি পূর্বের ডিভাইস অপেক্ষা সুবিধাজনক? বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

(ক) ম্যাক অ্যাড্রেস (MAC Address) হলো নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ডের (NIC) একটি অদ্বিতীয় বা ইউনিক আইডেন্টিফায়ার যা প্রতিটি ডিভাইসের জন্য নির্দিষ্ট থাকে এবং এটি হেক্সাডেসিমেল পদ্ধতিতে প্রকাশ করা হয়।

(খ) নেটওয়ার্কের একটি প্রেরক কম্পিউটার থেকে ডেটা পাঠালে যদি তা নেটওয়ার্কের অন্য সকল কম্পিউটার বা নোডের কাছে পৌঁছে যায়, তবে সেই পদ্ধতিকে ব্রডকাস্টিং বলা হয়। হাবে এই পদ্ধতিতে ডেটা ট্রান্সমিশন হয়, ফলে নেটওয়ার্কে অযাচিত ট্রাফিক বাড়ে এবং ডেটা কলিশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

(গ) উদ্দীপকে মি. করিমের প্রথমে ব্যবহৃত ডিভাইসটি হলো হাব (Hub)। হাব একটি নেটওয়ার্ক কানেক্টিভিটি ডিভাইস যা স্টার টপোলজিতে কেন্দ্রীয় ডিভাইস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। হাবের কার্যপ্রণালী নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. হাব কোনো প্রেরক কম্পিউটার থেকে প্রাপ্ত ডেটা সিগন্যালকে নেটওয়ার্কে সংযুক্ত অন্য সকল কম্পিউটারে বা পোর্টে পাঠিয়ে দেয় (ব্রডকাস্ট করে)।
২. হাব ডেটা ফিল্টার করতে পারে না বা নির্দিষ্ট প্রাপককে চিনতে পারে না। এটি প্রেরক ও প্রাপকের ঠিকানা বুঝতে অক্ষম, তাই এটি একটি 'বোকা' বা 'ডামি' ডিভাইস হিসেবে কাজ করে।
৩. এর ফলে নেটওয়ার্কে ট্রাফিক জাম বা জটলা সৃষ্টি হয় এবং ডেটা কলিশনের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। উদ্দীপকেও বলা হয়েছে যে ডেটা সবার কাছে চলে যাচ্ছে এবং নেটওয়ার্ক ধীর হয়ে যাচ্ছে, যা হাবের বৈশিষ্ট্য।

(ঘ) উদ্দীপকে মি. করিমের পরবর্তীতে লাগানো ডিভাইসটি হলো সুইচ (Switch), যা পূর্বের ডিভাইস বা হাবের চেয়ে অনেক বেশি সুবিধাজনক। নিচে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
১. ডেটা ট্রান্সমিশন পদ্ধতি: হাব ডেটা ব্রডকাস্ট করে (সবার কাছে পাঠায়), কিন্তু সুইচ ডেটা ইউনিকাস্ট করে (শুধুমাত্র নির্দিষ্ট প্রাপকের কাছে পাঠায়)। সুইচ প্রেরক ও প্রাপকের ম্যাক অ্যাড্রেস (MAC Address) সংরক্ষণ করে রাখতে পারে এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে ডেটা আদান-প্রদান করে।
২. ব্যান্ডউইথ সাশ্রয়: যেহেতু সুইচ শুধুমাত্র নির্দিষ্ট পোর্টে ডেটা পাঠায়, তাই নেটওয়ার্কের ব্যান্ডউইথ অপচয় হয় না। হাবের ক্ষেত্রে ব্যান্ডউইথ ভাগ হয়ে যায়, ফলে নেটওয়ার্ক ধীর হয়ে পড়ে।
৩. নিরাপত্তা: হাবে ডেটা সবার কাছে চলে যাওয়ায় তথ্যের গোপনীয়তা থাকে না। সুইচে ডেটা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট প্রাপক পায় বলে নিরাপত্তা বজায় থাকে।
৪. কলিশন: হাবে ডেটা কলিশনের সম্ভাবনা বেশি, কিন্তু সুইচে কলিশন ডোমেইন আলাদা হওয়ায় কলিশনের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
অতএব, অফিসের নেটওয়ার্কের গতি বৃদ্ধি, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সুষ্ঠু ডেটা ব্যবস্থাপনার জন্য হাবের চেয়ে সুইচ ব্যবহার করা অধিকতর যুক্তিযুক্ত ও সুবিধাজনক।


সৃজনশীল প্রশ্ন ২

উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:

'এক্স' কোম্পানি তাদের ঢাকা ও চট্টগ্রাম অফিসের দুটি ভিন্ন প্রোটোকল বিশিষ্ট নেটওয়ার্ককে যুক্ত করতে চায়। এজন্য তারা একটি বিশেষ ডিভাইস (X) ব্যবহার করল। অন্যদিকে, অফিসের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে ডেটা চলাচলের সময় দূরত্বের কারণে সিগন্যাল দুর্বল হয়ে পড়ছিল, তাই আইটি অফিসার সিগন্যালকে শক্তিশালী করতে তারের মাঝখানে একটি ছোট যন্ত্র (Y) বসালেন।

ক) রাউটার (Router) কী?
খ) মডেমকে মডুলেটর-ডিমডুলেটর বলা হয় কেন?
গ) উদ্দীপকে সিগন্যাল শক্তিশালী করার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রটি (Y) কীভাবে কাজ করে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ) উদ্দীপকে ভিন্ন নেটওয়ার্ক যুক্ত করার ডিভাইসটির (X) সাথে একই প্রোটোকল বিশিষ্ট নেটওয়ার্ক যুক্ত করার ডিভাইসের (রাউটার/ব্রিজ) তুলনা কর এবং মতামত দাও।

উত্তর

(ক) রাউটার হলো একটি বুদ্ধিমান নেটওয়ার্কিং ডিভাইস যা একই বা ভিন্ন প্রোটোকল বিশিষ্ট একাধিক নেটওয়ার্ককে সংযুক্ত করে এবং ডেটা প্যাকেটকে উৎস থেকে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য সবচেয়ে কম দূরত্বের বা দ্রুততম পথ (Route) নির্ধারণ করে।

(খ) মডেম (Modem) শব্দটি মডুলেটর (Modulator) এবং ডিমডুলেটর (Demodulator) এর সংক্ষিপ্ত রূপ। মডেম ডেটা পাঠানোর সময় ডিজিটাল সিগন্যালকে এনালগ সিগন্যালে রূপান্তর করে (মডুলেশন) এবং ডেটা গ্রহণের সময় এনালগ সিগন্যালকে ডিজিটাল সিগন্যালে রূপান্তর করে (ডিমডুলেশন)। এই উভয় কাজ সম্পন্ন করে বলেই মডেমকে মডুলেটর-ডিমডুলেটর বলা হয়।

(গ) উদ্দীপকে সিগন্যাল শক্তিশালী করার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রটি (Y) হলো রিপিটার (Repeater)। নেটওয়ার্ক ক্যাবল দিয়ে ডেটা ট্রান্সমিশনের সময় দূরত্ব বাড়ার সাথে সাথে সিগন্যাল দুর্বল বা অ্যাটেনুয়েটেড (Attenuated) হয়ে পড়ে। রিপিটার এই সমস্যার সমাধান করে।
রিপিটার ওএসআই মডেলের ফিজিক্যাল লেয়ারে কাজ করে। এটি দুর্বল বা ক্ষয়প্রাপ্ত সিগন্যাল গ্রহণ করে, সেটিকে অ্যামপ্লিফাই (Amplify) বা শক্তিশালী করে এবং পুনরায় নতুন সিগন্যাল হিসেবে সামনের দিকে প্রেরণ করে। এটি সিগন্যালের নয়েজ বা অবাঞ্ছিত অংশ বাদ দিয়ে মূল সিগন্যালকে হুবহু পুনরুদ্ধার করে, ফলে ডেটা অনেক দূর পর্যন্ত নির্ভুলভাবে পৌঁছাতে পারে। উদ্দীপকে অফিসের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে দূরত্বের কারণে সিগন্যাল দুর্বল হওয়ার সমস্যাটি রিপিটার ব্যবহারের মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে।

(ঘ) উদ্দীপকে ভিন্ন প্রোটোকল বিশিষ্ট নেটওয়ার্ক যুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত ডিভাইসটি (X) হলো গেটওয়ে (Gateway)। অন্যদিকে একই প্রোটোকল বিশিষ্ট নেটওয়ার্ক যুক্ত করার জন্য সাধারণত রাউটার বা ব্রিজ ব্যবহার করা হয়। নিচে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
১. প্রোটোকল সাপোর্ট: গেটওয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন আর্কিটেকচার ও ভিন্ন প্রোটোকল বিশিষ্ট নেটওয়ার্কের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে পারে এবং প্রোটোকল কনভার্সন বা অনুবাদক হিসেবে কাজ করে। কিন্তু রাউটার বা ব্রিজ সাধারণত একই বা সদৃশ প্রোটোকল বিশিষ্ট নেটওয়ার্কের মধ্যে কাজ করে (যদিও আধুনিক রাউটার কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন প্রোটোকল সাপোর্ট করে, তবে গেটওয়ের মতো শক্তিশালী অনুবাদ ক্ষমতা নেই)।
২. কাজের ধরণ: রাউটার নেটওয়ার্ক লেয়ারে কাজ করে এবং লজিক্যাল অ্যাড্রেস (IP Address) ব্যবহার করে পথ নির্ধারণ করে। ব্রিজ ডেটা লিংক লেয়ারে কাজ করে এবং ম্যাক অ্যাড্রেস ব্যবহার করে। কিন্তু গেটওয়ে ওএসআই মডেলের সব লেয়ানেই কাজ করতে পারে এবং এটি প্রোটোকল ট্রান্সলেটর হিসেবে কাজ করে।
৩. জটিলতা ও গতি: গেটওয়ে প্রোটোকল কনভার্সন করে বলে এটি রাউটার বা ব্রিজের তুলনায় ধীরগতির এবং এর কনফিগারেশন অনেক জটিল। অন্যদিকে রাউটার বা ব্রিজ দ্রুতগতিতে ডেটা ফরোয়ার্ড করতে পারে।
৪. ব্যবহার: গেটওয়ে সাধারণত ল্যান (LAN) এর সাথে মেইনফ্রেম কম্পিউটার বা ইন্টারনেটের ভিন্নধর্মী নেটওয়ার্ক সংযুক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। রাউটার ব্যবহৃত হয় ল্যান বা ওয়্যান (WAN) এর মধ্যে সংযোগ স্থাপনে।
মতামত: উদ্দীপকের কোম্পানি যেহেতু ভিন্ন প্রোটোকল বিশিষ্ট দুটি নেটওয়ার্ক (ঢাকা ও চট্টগ্রাম অফিস) যুক্ত করতে চাইছে, তাই তাদের জন্য রাউটার বা ব্রিজের চেয়ে গেটওয়ে ব্যবহার করাই অপরিহার্য এবং সঠিক সিদ্ধান্ত।

এমসিকিউ

১। হাব (Hub) কোন মোডে ডেটা আদান-প্রদান করে?

ক) সিমপ্লেক্স
খ) হাফ-ডুপ্লেক্স
গ) ফুল-ডুপ্লেক্স
ঘ) ব্রডকাস্ট

সঠিক উত্তর: খ) হাফ-ডুপ্লেক্স

ব্যাখ্যা: হাব সাধারণত হাফ-ডুপ্লেক্স মোডে কাজ করে, অর্থাৎ এক সময়ে শুধুমাত্র ডেটা পাঠানো বা গ্রহণ করা যায়, উভয় কাজ একসাথে করা যায় না। এটি ব্রডকাস্ট করে ঠিকই, কিন্তু ট্রান্সমিশন মোড হিসেবে হাফ-ডুপ্লেক্স সঠিক।


২। ইন্টেলিজেন্ট ডিভাইস বলা হয় কোনটিকে?

ক) হাব
খ) সুইচ
গ) রিপিটার
ঘ) ব্রিজ

সঠিক উত্তর: খ) সুইচ

ব্যাখ্যা: সুইচ প্রাপকের ম্যাক অ্যাড্রেস (MAC Address) মনে রাখতে পারে এবং শুধুমাত্র নির্দিষ্ট পোর্টে ডেটা পাঠাতে পারে বলে একে ইন্টেলিজেন্ট বা বুদ্ধিমান ডিভাইস বলা হয়।


৩। ওএসআই (OSI) মডেলের কোন লেয়ারে রাউটার কাজ করে?

ক) ফিজিক্যাল লেয়ার
খ) ডেটা লিংক লেয়ার
গ) নেটওয়ার্ক লেয়ার
ঘ) ট্রান্সপোর্ট লেয়ার

সঠিক উত্তর: গ) নেটওয়ার্ক লেয়ার

ব্যাখ্যা: রাউটার লজিক্যাল অ্যাড্রেস বা আইপি অ্যাড্রেস ব্যবহার করে এবং নেটওয়ার্ক লেয়ারে (Layer 3) কাজ করে ডেটা প্যাকেট রাউটিং বা পথ নির্ধারণ করে।


৪। ভিন্ন প্রোটোকল বিশিষ্ট নেটওয়ার্ক সংযোগকারী ডিভাইস কোনটি?

ক) রাউটার
খ) গেটওয়ে
গ) ব্রিজ
ঘ) সুইচ

সঠিক উত্তর: খ) গেটওয়ে

ব্যাখ্যা: গেটওয়ে ভিন্ন আর্কিটেকচার ও ভিন্ন প্রোটোকল বিশিষ্ট নেটওয়ার্কের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে পারে এবং প্রোটোকল অনুবাদক (Protocol Converter) হিসেবে কাজ করে।


৫। মডেমের (Modem) কাজ কী?

ক) ডেটা স্টোরেজ
খ) এনালগ ও ডিজিটাল সংকেত রূপান্তর
গ) ডেটা প্রসেসিং
ঘ) ভাইরাস স্ক্যানিং

সঠিক উত্তর: খ) এনালগ ও ডিজিটাল সংকেত রূপান্তর

ব্যাখ্যা: মডেমের প্রধান কাজ হলো মডুলেশন (ডিজিটাল টু এনালগ) এবং ডিমডুলেশন (এনালগ টু ডিজিটাল) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কম্পিউটার ও টেলিফোন লাইনের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা।


৬। ম্যাক অ্যাড্রেস (MAC Address) ব্যবহার করে ডেটা ফিল্টার করে কোনটি?

ক) হাব
খ) সুইচ ও ব্রিজ
গ) রিপিটার
ঘ) মডেম

সঠিক উত্তর: খ) সুইচ ও ব্রিজ

ব্যাখ্যা: সুইচ এবং ব্রিজ উভয়ই ওএসআই মডেলের ডেটা লিংক লেয়ারে কাজ করে এবং ফিজিক্যাল অ্যাড্রেস বা ম্যাক অ্যাড্রেস ব্যবহার করে ডেটা ফ্রেম ফিল্টার ও ফরওয়ার্ড করে।


৭। দুর্বল সিগন্যালকে শক্তিশালী করে দূরবর্তী স্থানে প্রেরণ করে কোন ডিভাইস?

ক) রিপিটার
খ) রাউটার
গ) গেটওয়ে
ঘ) হাব

সঠিক উত্তর: ক) রিপিটার

ব্যাখ্যা: রিপিটার ওএসআই মডেলের ফিজিক্যাল লেয়ারে কাজ করে এবং দুর্বল বা অ্যাটেনুয়েটেড সিগন্যালকে অ্যামপ্লিফাই বা রিনেজারেট (Regenerate) করে নেটওয়ার্কের পরিসীমা বৃদ্ধি করে।


৮। স্টার টপোলজিতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকারী ডিভাইস হিসেবে কোনটি ব্যবহৃত হয়?

ক) রাউটার ও গেটওয়ে
খ) হাব ও সুইচ
গ) মডেম ও রিপিটার
ঘ) ব্রিজ ও গেটওয়ে

সঠিক উত্তর: খ) হাব ও সুইচ

ব্যাখ্যা: স্টার টপোলজিতে সকল কম্পিউটার একটি কেন্দ্রীয় ডিভাইসের সাথে যুক্ত থাকে। এই কেন্দ্রীয় ডিভাইস হিসেবে সাধারণত হাব বা সুইচ ব্যবহৃত হয়।


৯। NIC এর পূর্ণরূপ কী?

ক) Network Interconnection Card
খ) Network Interface Card
গ) Network Internet Card
ঘ) National Interface Card

সঠিক উত্তর: খ) Network Interface Card

ব্যাখ্যা: NIC বা ল্যান কার্ড হলো কম্পিউটারকে নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করার হার্ডওয়্যার ইন্টারফেস।


১০। প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতিতে ডেটা আদান-প্রদান করে কোনটি?

ক) রাউটার
খ) সার্কিট সুইচিং
গ) মডেম
ঘ) হাব

সঠিক উত্তর: ক) রাউটার

ব্যাখ্যা: রাউটার ডেটাকে ছোট ছোট প্যাকেটে ভাগ করে এবং নেটওয়ার্কের মধ্য দিয়ে সেরা পথ (Best Path) নির্বাচন করে গন্তব্যে পৌঁছায়, যা প্যাকেট সুইচিং প্রযুক্তির অংশ।


১১। হাবের অসুবিধা কোনটি?

ক) দাম বেশি
খ) কনফিগারেশন জটিল
গ) ডেটা কলিশন ও ব্রডকাস্টিং
ঘ) নির্দিষ্ট পোর্টে ডেটা পাঠায়

সঠিক উত্তর: গ) ডেটা কলিশন ও ব্রডকাস্টিং

ব্যাখ্যা: হাব ডেটা ফিল্টার করতে পারে না এবং সবার কাছে পাঠিয়ে দেয় (ব্রডকাস্ট), ফলে নেটওয়ার্ক ট্রাফিক বাড়ে এবং ডেটা সংঘর্ষ বা কলিশনের সম্ভাবনা তৈরি হয়।


১২। রাউটারের বৈশিষ্ট্য হলো—
i. লজিক্যাল অ্যাড্রেস ব্যবহার করে
ii. একই প্রোটোকল বিশিষ্ট নেটওয়ার্ক যুক্ত করে
iii. ডেটা ফিল্টার ও ফরোয়ার্ড করে

নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ও ii
খ) i ও iii
গ) ii ও iii
ঘ) i, ii ও iii

সঠিক উত্তর: ঘ) i, ii ও iii

ব্যাখ্যা: রাউটার আইপি অ্যাড্রেস (লজিক্যাল) ব্যবহার করে, সাধারণত একই প্রোটোকল বা সদৃশ নেটওয়ার্কের মধ্যে কাজ করে এবং প্যাকেট ফিল্টারিং ও ফরোয়ার্ডিং করে।


১৩। মডেম কোথায় ব্যবহৃত হয়?

ক) ল্যান কার্ডে
খ) টেলিফোন লাইনে ইন্টারনেট সংযোগে
গ) পেনড্রাইভে
ঘ) মনিটরে

সঠিক উত্তর: খ) টেলিফোন লাইনে ইন্টারনেট সংযোগে

ব্যাখ্যা: প্রথাগত ডায়াল-আপ বা ডিএসএল ইন্টারনেট সংযোগে টেলিফোন লাইনের এনালগ সিগন্যালকে কম্পিউটারের ডিজিটাল সিগন্যালে রূপান্তর করতে মডেম অপরিহার্য।


১৪। ডেটা কলিশন কমানোর জন্য কোনটি উত্তম?

ক) হাব
খ) সুইচ
গ) রিপিটার
ঘ) কানেক্টর

সঠিক উত্তর: খ) সুইচ

ব্যাখ্যা: সুইচ কলিশন ডোমেইন ভাগ করে দেয়, অর্থাৎ প্রতিটি পোর্ট একটি আলাদা কলিশন ডোমেইন হিসেবে কাজ করে, যা নেটওয়ার্কে সংঘর্ষ বা কলিশন প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনে।


১৫। গেটওয়ে ও রাউটারের মূল পার্থক্য কোথায়?

ক) গতিতে
খ) প্রোটোকল কনভার্সনে
গ) তারের ধরনে
ঘ) ভোল্টেজে

সঠিক উত্তর: খ) প্রোটোকল কনভার্সনে

ব্যাখ্যা: গেটওয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রোটোকল অনুবাদ করতে পারে, যা রাউটার সাধারণত পারে না (রাউটার একই প্রোটোকলে কাজ করে)। এটিই তাদের মূল পার্থক্য।


১৬। হাবের প্রকারভেদ নয় কোনটি?

ক) সক্রিয় হাব (Active Hub)
খ) নিষ্ক্রিয় হাব (Passive Hub)
গ) ইন্টেলিজেন্ট হাব (Intelligent Hub)
ঘ) ডায়নামিক হাব (Dynamic Hub)

সঠিক উত্তর: ঘ) ডায়নামিক হাব (Dynamic Hub)

ব্যাখ্যা: হাব সাধারণত তিন ধরনের হয়: অ্যাক্টিভ, প্যাসিভ এবং ইন্টেলিজেন্ট। ডায়নামিক হাব নামে কোনো প্রকারভেদ নেই।


১৭। ব্রিজ (Bridge) কোন ধরনের নেটওয়ার্ক সংযোগ করে?

ক) ল্যান (LAN)
খ) ম্যান (MAN)
গ) ওয়ান (WAN)
ঘ) প্যান (PAN)

সঠিক উত্তর: ক) ল্যান (LAN)

ব্যাখ্যা: ব্রিজ সাধারণত একটি বড় লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ককে (LAN) ছোট ছোট সেগমেন্টে ভাগ করে বা দুটি ল্যান সেগমেন্টকে সংযুক্ত করে।


নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং ১৮ ও ১৯ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:

মি. এক্স একটি ডিভাইস কিনলেন যা তার অফিসের নেটওয়ার্কের ডেটা প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং ম্যাক অ্যাড্রেস রিড করে নির্দিষ্ট কম্পিউটারে ডেটা পাঠাতে পারে।

১৮। উদ্দীপকে উল্লেখিত ডিভাইসটি কী?

ক) হাব
খ) সুইচ
গ) রিপিটার
ঘ) মডেম

সঠিক উত্তর: খ) সুইচ

ব্যাখ্যা: সুইচ ম্যাক অ্যাড্রেস রিড করতে পারে এবং নির্দিষ্ট পোর্টে ডেটা পাঠাতে পারে (ইউনিকাস্ট), যা উদ্দীপকের বর্ণনার সাথে মিলে যায়।


১৯। ডিভাইসটি হাবের চেয়ে উন্নত কেন?

ক) ব্যান্ডউইথ সাশ্রয় করে
খ) দাম কম
গ) এটি তারবিহীন
ঘ) এটি এনালগ সিগন্যালে কাজ করে

সঠিক উত্তর: ক) ব্যান্ডউইথ সাশ্রয় করে

ব্যাখ্যা: সুইচ শুধুমাত্র নির্দিষ্ট পোর্টে ডেটা পাঠায় বলে অপ্রয়োজনীয় ট্রাফিক বাড়ে না, ফলে নেটওয়ার্কের ব্যান্ডউইথ সাশ্রয় হয় এবং গতি বাড়ে।


নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং ২০ ও ২১ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:

আবির ইন্টারনেটের জন্য একটি ডিভাইস ব্যবহার করছে যা এনালগ সংকেতকে ডিজিটাল করে এবং ডিজিটাল সংকেতকে এনালগ করে।

২০। ডিভাইসটির নাম কী?

ক) মডেম
খ) রাউটার
গ) সুইচ
ঘ) হাব

সঠিক উত্তর: ক) মডেম

ব্যাখ্যা: এনালগ টু ডিজিটাল এবং ডিজিটাল টু এনালগ রূপান্তর মডেমের প্রধান কাজ।


২১। ডিভাইসটি কম্পিউটারের কোথায় যুক্ত থাকে?

ক) ইউএসবি বা সিরিয়াল পোর্টে
খ) প্রসেসরে
গ) র‍্যামে
ঘ) হার্ডডিস্কের সাথে

সঠিক উত্তর: ক) ইউএসবি বা সিরিয়াল পোর্টে

ব্যাখ্যা: বাহ্যিক মডেম সাধারণত কম্পিউটারের সিরিয়াল পোর্ট বা ইউএসবি পোর্টে যুক্ত থাকে। অভ্যন্তরীণ মডেম মাদারবোর্ডের স্লটে থাকে।


২২। ওয়াইফাই রাউটার কী কাজ করে?

ক) তারের মাধ্যমে সংযোগ দেয়
খ) তারবিহীন ইন্টারনেট সংযোগ দেয়
গ) শুধুমাত্র প্রিন্ট করে
ঘ) ভাইরাস ডিলিট করে

সঠিক উত্তর: খ) তারবিহীন ইন্টারনেট সংযোগ দেয়

ব্যাখ্যা: ওয়াইফাই রাউটার বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ইত্যাদি ডিভাইসকে ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত করে।


২৩। অপটিক্যাল ফাইবারের সাথে কোন ডিভাইসটি বেশি ব্যবহৃত হয়?

ক) মিডিয়া কনভার্টার
খ) হাব
গ) কো-এক্সিয়াল ক্যাবল
ঘ) মডেম

সঠিক উত্তর: ক) মিডিয়া কনভার্টার

ব্যাখ্যা: অপটিক্যাল ফাইবারের আলোক সিগন্যালকে কপার ক্যাবল বা ইথারনেটের বৈদ্যুতিক সিগন্যালে রূপান্তর করতে মিডিয়া কনভার্টার বা ফাইবার অপটিক সুইচ/রাউটার ব্যবহৃত হয়।


২৪। ল্যান কার্ডের (NIC) অপর নাম কী?

ক) নেটওয়ার্ক অ্যাডাপ্টার
খ) গ্রাফিক্স কার্ড
গ) সাউন্ড কার্ড
ঘ) মেমোরি কার্ড

সঠিক উত্তর: ক) নেটওয়ার্ক অ্যাডাপ্টার

ব্যাখ্যা: ল্যান কার্ড বা NIC কে নেটওয়ার্ক অ্যাডাপ্টারও বলা হয় কারণ এটি কম্পিউটারকে নেটওয়ার্কের সাথে খাপ খাওয়াতে বা যুক্ত করতে সাহায্য করে।


২৫। রাউটিং টেবিল সংরক্ষণ করে কোন ডিভাইস?

ক) হাব
খ) সুইচ
গ) রাউটার
ঘ) রিপিটার

সঠিক উত্তর: গ) রাউটার

ব্যাখ্যা: রাউটার তার মেমোরিতে একটি রাউটিং টেবিল সংরক্ষণ করে, যেখানে বিভিন্ন নেটওয়ার্কের ঠিকানা এবং সেখানে পৌঁছানোর পথের তথ্য থাকে।