আইসিটি পরিচিতি: মূল ধারণা এবং পরিভাষা
আইসিটি কী? হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, ডেটা, নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট, ক্লাউড, সার্ভার এবং প্রোটোকলের মতো আইসিটির মৌলিক পরিভাষাগুলোর সহজ ব্যাখ্যা।
আইসিটি পরিচিতি: মূল ধারণা এবং পরিভাষা
- আইসিটি পরিচিতি: মূল ধারণা এবং পরিভাষা
- মেঘের আড়ালে কী আছে?
- আইসিটি (ICT) কী?
- আইসিটির বিল্ডিং ব্লকস: হার্ডওয়্যার (Hardware)
- আইসিটির বিল্ডিং ব্লকস: সফটওয়্যার (Software)
- ডেটা বনাম ইনফরমেশন
- কানেক্টিভিটি: নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট
- ক্লাউড (Cloud) কী?
- যোগাযোগের নিয়ম: প্রটোকল ও ব্যান্ডউইডথ
- সার্ভার (Server) এবং ক্লায়েন্ট (Client)
- বাস্তব প্রয়োগ: একটি আইসিটি সিস্টেম কীভাবে কাজ করে?
- সারসংক্ষেপ ও পরবর্তী লেকচার
আইসিটি পরিচিতি: মূল ধারণা এবং পরিভাষা (Introduction to ICT: Basic Concepts and Terminology)
সাম্প্রতিক লেকচারে আমরা গুগল ড্রাইভ এবং মেঘের একটি চমৎকার রূপক দিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (আইসিটি) ধারণা পেয়েছি। দৈনন্দিন জীবনে সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত আমরা প্রতিটি পদক্ষেপে আইসিটি এবং কম্পিউটার সিস্টেমের ওপর নির্ভরশীল। স্মার্টফোন ব্যবহার, অনলাইনে ক্লাস করা, বা গুগল ড্রাইভের মতো ক্লাউড স্টোরেজে ছবি সংরক্ষণ—এ সবই আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে।
তবে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য কেবল এই বাস্তব জীবনের উদাহরণগুলো জানাই যথেষ্ট নয়। পরীক্ষার খাতায় 'ক' এবং 'খ' বিভাগের প্রশ্নের জন্য আমাদের প্রতিটি পরিভাষার আনুষ্ঠানিক বা অ্যাকাডেমিক সংজ্ঞা এবং তাদের মধ্যকার পার্থক্যগুলো গুছিয়ে লিখতে হবে। লেকচারে আমরা বেসিক ধারণা পেলেও, এই স্টাডি গাইডটিতে সেই ধারণাগুলোকে পরীক্ষার উপযোগী করে সাজানো হয়েছে। এটি মনোযোগ দিয়ে পড়লে আইসিটির মূল ধারণাগুলো সম্পূর্ণ স্পষ্ট হবে এবং পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর নিশ্চিত করা যাবে।
আইসিটি (ICT)-এর আনুষ্ঠানিক ধারণা
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা আইসিটি (ICT) মূলত দুটি ভিন্ন কিন্তু একে অপরের পরিপূরক প্রযুক্তির সমন্বয়ে গঠিত। একটি হলো তথ্য প্রযুক্তি (IT - Information Technology) যা মূলত ডেটা প্রসেসিং ও স্টোরেজের সাথে জড়িত। অন্যটি হলো যোগাযোগ প্রযুক্তি (CT - Communication Technology) যা সেই প্রক্রিয়াজাত ডেটাকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিরাপদে ও দ্রুত আদান-প্রদান করতে সাহায্য করে।
$$ICT = IT + CT$$
যেখানে,
- ICT: Information and Communication Technology
- IT: Information Technology (তথ্য প্রযুক্তি - ডেটা প্রসেসিং ও স্টোরেজ)
- CT: Communication Technology (যোগাযোগ প্রযুক্তি - ডেটা ট্রান্সমিশন বা আদান-প্রদান)
সহজ কথায়, তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করে তা অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াই হলো আইসিটি। লেকচারে দেওয়া ধারণাটির উপর ভিত্তি করে পরীক্ষার জন্য এই পরিভাষার একটি আদর্শ সংজ্ঞা নিচে দেওয়া হলো:
সংজ্ঞা (Definition): আইসিটি (ICT) — যে প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, ব্যবস্থাপনা এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে আদান-প্রদান করা হয়, তাকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা আইসিটি বলে।
কম্পিউটার সিস্টেমের মৌলিক উপাদান: হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার
একটি কম্পিউটার সিস্টেম মূলত দুটি অপরিহার্য অংশ নিয়ে গঠিত: হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার। লেকচারে আমরা শরীর এবং প্রাণের একটি চমৎকার উদাহরণ দিয়েছিলাম। মানুষের শরীর যেমন প্রাণ ছাড়া অচল এবং কোনো কাজ করতে পারে না, ঠিক তেমনি হার্ডওয়্যার হলো কম্পিউটারের শরীর আর সফটওয়্যার হলো তার প্রাণ। হার্ডওয়্যার একা নিজে থেকে কোনো কাজ করতে পারেবিধা যতক্ষণ না তাকে সফটওয়্যার দ্বারা নির্দেশ দেওয়া হয়।
সংজ্ঞা (Definition): হার্ডওয়্যার (Hardware) — কম্পিউটারের যেসব ভৌত বা স্পর্শযোগ্য যন্ত্রাংশ দিয়ে কম্পিউটার তৈরি, তাকে হার্ডওয়্যার বলে। যেমন: কীবোর্ড, মাউস, মনিটর, মাদারবোর্ড ইত্যাদি।
সংজ্ঞা (Definition): সফটওয়্যার (Software) — কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারকে সচল ও কার্যোপযোগী করার জন্য ব্যবহৃত নির্দেশনাবলি বা প্রোগ্রামসমূহের সমষ্টিকে সফটওয়্যার বলে। যেমন: উইন্ডোজ, এমএস ওয়ার্ড, গুগল ক্রোম ইত্যাদি।
পরীক্ষার জন্য এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য বা সম্পর্ক বোঝা অত্যন্ত জরুরি। নিচে হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের মধ্যকার প্রধান সম্পর্ক ও পার্থক্যগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:
গুরুত্বপূর্ণ (Important):
- নির্ভরশীলতা: সফটওয়্যার ছাড়া হার্ডওয়্যার পুরোপুরি অর্থহীন এবং শুধুমাত্র কিছু প্লাস্টিক ও মেটালের টুকরো ছাড়া আর কিছুই নয়। একইভাবে, হার্ডওয়্যার ছাড়া সফটওয়্যার চালানো বা এর অস্তিত্ব কল্পনা করা অসম্ভব। এরা একে অপরের পরিপূরক।
- উন্নয়ন ও প্রস্তুতকরণ: হার্ডওয়্যার তৈরি হয় কারখানায় বা ফ্যাক্টরিতে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক উপাদান দিয়ে। অন্যদিকে, সফটওয়্যার তৈরি করেন প্রোগ্রামাররা কম্পিউটারের পর্দায় লজিক ও কোডিং লেখার মাধ্যমে।
- পরিবর্তনশীলতা: হার্ডওয়্যার সহজে বা দ্রুত পরিবর্তন করা যায় না, এটি পরিবর্তন করতে হলে পুরো যন্ত্রাংশটি পাল্টাতে হয়। কিন্তু সফটওয়্যার সহজেই আপডেট, ইনস্টল, আনইনস্টল বা পরিবর্তন করা যায় কয়েক ক্লিকের মাধ্যমেই।
পরীক্ষার টিপস (Exam Tip): পরীক্ষায় অনুধাবনমূলক (খ) প্রশ্নে 'হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার একে অপরের পরিপূরক- ব্যাখ্যা করো' এমন প্রশ্ন আসতে পারে। তখন প্রথমে উভয়ের অ্যাকাডেমিক সংজ্ঞা দিয়ে তারপর ওপরের সম্পর্কগুলো নিজের ভাষায় পয়েন্ট করে লিখবেন। সাথে ইংরেজি টার্মগুলো ব্র্যাকেটে (যেমন Hardware, Software) ব্যবহার করলে খাতায় ভালো ইম্প্রেশন তৈরি হয়।
ডেটা বনাম ইনফরমেশন: কাঁচামাল থেকে চূড়ান্ত ফলাফল
আইসিটির জগতে ডেটা এবং ইনফরমেশন দুটি বহুল ব্যবহৃত শব্দ, কিন্তু এদের অর্থ সম্পূর্ণ আলাদা। অ্যাকাডেমিক দৃষ্টিকোণ থেকে, ডেটা হলো যেকোনো কিছুর কাঁচামাল বা ফ্যাক্টস, যা থেকে সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। লেকচারের 'কাচ্চি বিরিয়ানি' তৈরির উদাহরণটি মনে করুন—চাল, মাংস, মসলা হলো ডেটা। আর এগুলো রান্না বা প্রসেস করার পর যে সুস্বাদু বিরিয়ানি পাওয়া যায়, তা হলো ইনফরমেশন।
সংজ্ঞা (Definition): ডেটা (Data) — প্রক্রিয়াকরণের পূর্বে অগোছালো অবস্থায় থাকা যেকোনো কাঁচামাল বা ফ্যাক্টস-কে ডেটা বা উপাত্ত বলে।
সংজ্ঞা (Definition): ইনফরমেশন (Information) — ডেটাকে প্রক্রিয়াকরণ বা প্রসেস করার পর যে অর্থপূর্ণ এবং ব্যবহারযোগ্য ফলাফল পাওয়া যায়, তাকে ইনফরমেশন বা তথ্য বলে।

বাস্তব জীবনের আইসিটি ভিত্তিক একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। ধরা যাক, একটি মার্কশিট তৈরি করা হবে।
উদাহরণ (Example):
ধরা যাক, ৫০, ৬০, ৭০—এগুলো হলো এলোমেলো কিছু সংখ্যা বা অগোছালো 'ডেটা'। শুধু এই সংখ্যাগুলো দেখে কিছুই বোঝা যায় না। কিন্তু যখন এগুলোকে একটি সিস্টেমে ইনপুট দিয়ে প্রসেস করে বলা হয় 'ছাত্রটির বাংলায় প্রাপ্ত নম্বর ৫০, ইংরেজিতে ৬০ এবং আইসিটিতে ৭০, যার গড় ৬০'—তখন এটি একটি প্রক্রিয়াজাত, অর্থপূর্ণ ও ব্যবহারযোগ্য 'ইনফরমেশন'-এ পরিণত হয়, যা দেখে আমরা বুঝতে পারি ছাত্রটি পাস করেছে নাকি ফেল করেছে।
পরীক্ষার জন্য ডেটা এবং ইনফরমেশনের পার্থক্য নিচে ছক আকারে দেওয়া হলো:
| বিষয় | ডেটা (Data) | ইনফরমেশন (Information) |
|---|---|---|
| অর্থ | এটি একটি অগোছালো কাঁচামাল বা ফ্যাক্ট, যার কোনো সুনির্দিষ্ট অর্থ থাকে না। | এটি ডেটার প্রক্রিয়াজাত এবং অর্থপূর্ণ রূপ, যা সরাসরি কাজে লাগে। |
| নির্ভরশীলতা | ডেটা ইনফরমেশনের ওপর নির্ভর করে না, এটি স্বাধীনভাবে থাকতে পারে। | ইনফরমেশন সম্পূর্ণভাবে ডেটার ওপর নির্ভরশীল। ডেটা ছাড়া ইনফরমেশন তৈরি সম্ভব নয়। |
| সিদ্ধান্ত গ্রহণ | ডেটা দেখে সরাসরি কোনো সিদ্ধান্তে আসার জন্য বা পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা যায় না। | সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ইনফরমেশন সরাসরি ব্যবহার করা যায়। |
কানেক্টিভিটি: নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট এবং ক্লাউড কম্পিউটিং
বর্তমান যুগে আইসিটির মূল শক্তিই হলো কানেক্টিভিটি বা সংযুক্ততা। যখন দুই বা ততোধিক ডিভাইস ডেটা আদান-প্রদানের জন্য একে অপরের সাথে যুক্ত হয়, তখন তাকে নেটওয়ার্ক বলে। আর এই ছোট ছোট নেটওয়ার্কগুলো মিলে যখন সারা বিশ্বব্যাপী একটি বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করে, তাকে ইন্টারনেট (Internet) বা 'নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ক' বলা হয়।
ইন্টারনেটের এই সুবিশাল জগতকে কাজে লাগিয়ে একটি আধুনিক এবং জনপ্রিয় সেবা হলো ক্লাউড কম্পিউটিং। লেকচারে গুগল ড্রাইভের কথা বলা হয়েছিল, যেখানে আমরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমাদের ডেটা মেঘের মতো কোনো অদৃশ্য স্থানে বা রিমোট সার্ভারে সংরক্ষণ করি।
সংজ্ঞা (Definition): ক্লাউড কম্পিউটিং (Cloud Computing) — ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন কম্পিউটিং সেবা (যেমন- সার্ভার, স্টোরেজ, ডাটাবেজ, নেটওয়ার্কিং, সফটওয়্যার) ব্যবহারকারীকে চাহিদা অনুযায়ী প্রদান করার ব্যবস্থাকে ক্লাউড কম্পিউটিং বলে।
গুরুত্বপূর্ণ (Important): ক্লাউড কম্পিউটিং এর মূল সুবিধাসমূহ:
- খরচ সাশ্রয়: ব্যবহারকারী বা কোম্পানির নিজস্ব কোনো দামি হার্ডওয়্যার বা বড় সার্ভার কেনার প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র যতটুকু সেবা ব্যবহার করবে, ততটুকুর জন্যই ভাড়া বা বিল প্রদান করতে হয়।
- সহজ লভ্যতা ও গতিশীলতা: ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের মাধ্যমে ডেটা বা সফটওয়্যার অ্যাক্সেস করা যায়। এর ফলে কাজের পরিধি অনেক বৃদ্ধি পায়।
- নিরাপত্তা ও ব্যাকআপ: বড় বড় ক্লাউড কোম্পানিগুলো (যেমন গুগল ড্রাইভ, আইক্লাউড, অ্যামাজন এডব্লিউএস) তাদের সার্ভারে অত্যন্ত উন্নত মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডেটার ব্যাকআপ রাখে। ফলে ডিভাইস নষ্ট হলেও ডেটা হারানোর কোনো ভয় থাকে না।
নেটওয়ার্কিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা: সার্ভার, ক্লায়েন্ট, প্রোটোকল ও ব্যান্ডউইডথ
নেটওয়ার্কিং বা ইন্টারনেটে ডিভাইসগুলো কীভাবে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে তা বোঝার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা জানা প্রয়োজন। লেকচারের 'রেস্টুরেন্ট' এবং 'রাস্তার চওড়া মাপ'-এর উদাহরণগুলো মাথায় রেখে এই প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যাগুলো পড়ুন।
রেস্টুরেন্টের উদাহরণে, আপনি হলেন ক্লায়েন্ট যিনি খাবারের অর্ডার দিচ্ছেন এবং ওয়েটার বা রান্নাঘর হলো সার্ভার যারা আপনার অর্ডার অনুযায়ী খাবার পরিবেশন করছে। ইন্টারনেটেও ঠিক একইভাবে কাজ হয়।

সংজ্ঞা (Definition): সার্ভার (Server) — সার্ভার হলো একটি শক্তিশালী কম্পিউটার বা সিস্টেম, যা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্যান্য কম্পিউটার বা ক্লায়েন্টকে বিভিন্ন ডেটা, ফাইল বা সেবা প্রদান করে। এটি সবসময় চালু থাকে এবং ক্লায়েন্টের রিকোয়েস্টের জন্য অপেক্ষা করে।
সংজ্ঞা (Definition): ক্লায়েন্ট (Client) — যে ডিভাইস বা কম্পিউটার সার্ভারের কাছ থেকে কোনো সেবা বা ডেটা গ্রহণ করার জন্য রিকোয়েস্ট বা অনুরোধ পাঠায়, তাকে ক্লায়েন্ট বলে। যেমন: আমাদের ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন।
ক্লায়েন্ট এবং সার্ভার যে ভাষায় বা নিয়মে একে অপরের সাথে কথা বলে, তাকে প্রোটোকল বলে। যেমন রাস্তায় গাড়ি চালানোর জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট ট্রাফিক নিয়ম থাকে, তেমনি ইন্টারনেটে ডেটা আদান-প্রদানের জন্যও কিছু নিয়ম মানতে হয়।
সংজ্ঞা (Definition): প্রোটোকল (Protocol) — ইন্টারনেটে যুক্ত ডিভাইসগুলোর মধ্যে ডেটা আদান-প্রদান এবং একে অপরের সাথে ত্রুটিমুক্ত যোগাযোগের জন্য নির্ধারিত নিয়মকানুন বা স্ট্যান্ডার্ডকে প্রোটোকল বলে। যেমন: HTTP, TCP/IP।
অন্যদিকে, ব্যান্ডউইডথ হলো রাস্তার চওড়া মাপ। একটি রাস্তা যত বেশি চওড়া হবে, তত বেশি গাড়ি একসাথে চলতে পারবে। তেমনি ব্যান্ডউইডথ যত বেশি হবে, তত দ্রুত এবং বেশি পরিমাণ ডেটা ইন্টারনেটে আদান-প্রদান করা সম্ভব হবে।
সংজ্ঞা (Definition): ব্যান্ডউইডথ (Bandwidth) — নেটওয়ার্কের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সময়ে বা প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমাণ ডেটা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হতে পারে, তার সর্বোচ্চ সীমাকে ব্যান্ডউইডথ বলে।
পরীক্ষার টিপস (Exam Tip): ব্যান্ডউইডথের একক সাধারণত বিপিএস (bps - bits per second) এ মাপা হয়। ক-বিভাগের প্রশ্নে ব্যান্ডউইডথ কী, এর একক কী বা প্রোটোকলের একটি উদাহরণ (যেমন- HTTP - Hypertext Transfer Protocol) চাওয়া হতে পারে, তাই এগুলো ভালোভাবে মুখস্থ রাখুন।
অ্যালগরিদম এবং ইন্টারফেস: সিলেবাসের অপরিহার্য অংশ
লেকচারে সময়ের অভাবে অ্যালগরিদম এবং ইন্টারফেস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব হয়নি, কিন্তু সিলেবাস ও পরীক্ষার জন্য এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো একটি বড় কাজ বা সমস্যা সমাধান করার জন্য যখন আমরা সেটিকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে একটি যুক্তিসঙ্গত প্ল্যান তৈরি করি, কম্পিউটারের ভাষায় তাকে অ্যালগরিদম বলা হয়। এটি মূলত একটি রোডম্যাপ বা নির্দেশিকা।
সংজ্ঞা (Definition): অ্যালগরিদম (Algorithm) — কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধানের জন্য সসীম সংখ্যক (নির্দিষ্ট সংখ্যক) ধাপে যৌক্তিকভাবে সাজানো নির্দেশনার ক্রম বা ধারাকে অ্যালগরিদম বলে।
অন্যদিকে, ইন্টারফেস হলো দুটি ভিন্ন জিনিসের মধ্যে যোগাযোগের একটি মাধ্যম। মানুষ এবং কম্পিউটারের ভাষা আলাদা। মানুষ যাতে সহজে কম্পিউটারকে নির্দেশ দিতে পারে, সেজন্য একটি সহজবোধ্য মাধ্যম প্রয়োজন। এই মাধ্যমটিই হলো ইন্টারফেস।
সংজ্ঞা (Definition): ইন্টারফেস (Interface) — হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার, কিংবা ব্যবহারকারী এবং কম্পিউটারের মাঝে যোগাযোগের মাধ্যম বা সেতুবন্ধনকে ইন্টারফেস বলে।
উদাহরণ (Example):
অ্যালগরিদমের উদাহরণ: চা বানানোর অ্যালগরিদম হতে পারে এমন-
ধাপ ১: পাত্রে পানি নিয়ে গরম করা।
ধাপ ২: ফুটন্ত পানিতে চা পাতা ও চিনি দেওয়া।
ধাপ ৩: নির্দিষ্ট সময় পর তা ছেঁকে নেওয়া।
ধাপ ৪: কাপে ঢেলে পরিবেশন করা।
ইন্টারফেসের উদাহরণ: আপনার কম্পিউটারের বা মোবাইলের স্ক্রিনে থাকা আইকন, বাটন ও মেনুগুলো হলো ইউজার ইন্টারফেস (UI), যা দিয়ে আপনি সহজেই কোডিং না জেনেই ডিভাইসের সাথে যোগাযোগ বা কাজ করতে পারেন।
পরীক্ষার পূর্বপ্রস্তুতি: সারসংক্ষেপ
সংক্ষিপ্ত সারাংশ (Quick Revision):
- আইসিটি: এটি IT (ডেটা প্রসেসিং) ও CT (কমিউনিকেশন) এর সমন্বিত রূপ, যা তথ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং আদান-প্রদানের কাজ করে।
- হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার: হার্ডওয়্যার হলো কম্পিউটারের ভৌত অংশ, আর সফটওয়্যার হলো তাকে সচল রাখার লজিক্যাল অংশ বা প্রোগ্রাম। উভয়েই একে অপরের পরিপূরক।
- ডেটা ও ইনফরমেশন: ডেটা হলো অগোছালো কাঁচামাল, অন্যদিকে ইনফরমেশন হলো ডেটাকে প্রসেস করার পর পাওয়া অর্থপূর্ণ ফলাফল।
- ক্লাউড কম্পিউটিং: এটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে রিমোট সার্ভার ব্যবহারের সুবিধা দেয়, যা অত্যন্ত সাশ্রয়ী, নিরাপদ এবং যেকোনো স্থান থেকে ব্যবহারযোগ্য।
- প্রোটোকল ও ব্যান্ডউইডথ: প্রোটোকল হলো যোগাযোগের নির্ধারিত নিয়ম, আর ব্যান্ডউইডথ হলো ডেটা ট্রান্সফারের হার বা ক্ষমতা।
- ক্লায়েন্ট ও সার্ভার: ক্লায়েন্ট হলো সেবা গ্রহণকারী যা রিকোয়েস্ট করে এবং সার্ভার হলো সেবা প্রদানকারী যা সেই রিকোয়েস্ট অনুযায়ী রেসপন্স করে।
- অ্যালগরিদম ও ইন্টারফেস: অ্যালগরিদম হলো কোনো সমস্যা সমাধানের ধাপভিত্তিক নির্দেশনা, আর ইন্টারফেস হলো ব্যবহারকারী ও কম্পিউটারের মধ্যকার সেতুবন্ধন।
গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা (Glossary)
পরীক্ষার 'ক' বিভাগের (জ্ঞানমূলক) প্রশ্নের জন্য এই টেবিলটির সংজ্ঞাগুলো মুখস্থ রাখা অত্যন্ত জরুরি।
| পরিভাষা (Term) | সংজ্ঞা (Definition) |
|---|---|
| Hardware | কম্পিউটারের স্পর্শযোগ্য ভৌত অংশ। |
| Software | কম্পিউটারকে পরিচালিত করার প্রোগ্রাম বা নির্দেশনাবলি। |
| Protocol | ইন্টারনেটে যোগাযোগের নির্ধারিত নিয়ম বা স্ট্যান্ডার্ড। |
| Server | যে শক্তিশালী কম্পিউটার নেটওয়ার্কে অন্যান্য ডিভাইসকে সেবা প্রদান করে। |
| Client | যে ডিভাইস সার্ভারের কাছ থেকে সেবা গ্রহণ করার জন্য রিকোয়েস্ট পাঠায়। |
| Bandwidth | নেটওয়ার্কে নির্দিষ্ট সময়ে ডেটা চলাচলের সর্বোচ্চ ক্ষমতা বা হার (একক: bps)। |
| Algorithm | কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধানের ধাপে ধাপে সাজানো যৌক্তিক নির্দেশনা। |
| Interface | ব্যবহারকারী এবং কম্পিউটারের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম বা সেতুবন্ধন। |